MIL HOMEO
প্রকৃতির সাথে থাকুন, সুস্থ থাকুন
  • মুল পাতা
  • প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য
    • আয়ুর্বেদ চিকিৎসা
    • ঘরোয়া চিকিৎসা
    • ভেষজ উপাদান
    • ভেষজ চিকিৎসা
  • রোগব্যাধি ও প্রতিকার
    • শারীরিক রোগ
      • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ
      • চর্মরোগ
        • আঁচিল বা তিল
      • জ্বর
        • টাইফয়েড জ্বর
        • ডেঙ্গু জ্বর
        • ম্যালেরিয়া
      • পায়ুপথের রোগ
      • কান পাকা রোগ
      • কৃমি রোগ
      • বন্ধ্যাত্ব রোগ
      • নাসা রোগ
      • শীতকালীন রোগব্যাধি
      • সংক্রামক রোগ
      • সাইনোসাইটিস
      • স্নায়ু রোগ
    • মনরোগ
    • শিশু রোগ
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • সুস্থ জীবনধারা
    • ক্ষতিকর অভ্যাস
    • খাদ্যাভ্যাস
    • তামাক ও মাদক বর্জন
    • পানীয় জল এবং হাইড্রেশন
    • ভালো ঘুমের অভ্যাস
    • রূপচর্চা ও চুলের যত্ন
    • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
    • স্বাস্থ্যকর শখ
  • ব্যায়াম ও ফিটনেস
    • ওজন প্রশিক্ষণ
    • ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা
    • ঘরে বসে ফিটনেস
    • বয়স্কদের ব্যায়াম
    • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
    • স্ট্রেচিং এবং মবিলিটি
  • মানসিক স্বাস্থ্য
    • অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা
    • আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে ভালোবাসা
    • ডিপ্রেশন ও প্রতিকার
    • মানসিক চাপ ও সমাধান
    • মেডিটেশন ও মননশীলতা
    • পরিবার ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য
  • খাদ্য ও পুষ্টি
    • আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
    • ওজন কমানোর খাদ্য পরিকল্পনা
    • ওজন বাড়ানোর পুষ্টি পরিকল্পনা
    • খাদ্য তালিকা এবং পরামর্শ
      • রোগের খাবার
    • পুষ্টিগুণ
      • শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
      • ফলের পুষ্টিগুণ
    • ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
    • স্বাস্থ্যকর রেসিপি
  • হোমিও চিকিৎসা
Author

Dr. Baby Akter

Baby-Akter
Dr. Baby Akter

ডা. বেবী আক্তার, একজন সরকারী রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথ ডাক্তার এবং স্বাস্থ্য, রোগব্যাধি ও পুষ্টি বিষয়ে একজন নিবেদিত লেখক। বিগত ১০ বছর ধরে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সম্পর্কে তথ্য প্রচারের লক্ষ্য নিয়ে আমি কাজ করছি। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে রোগীদের সুস্থতা নিশ্চিত করা এবং তাদের সুস্থ জীবনের জন্য সচেতন করে তোলাই আমার অন্যতম লক্ষ্য। milhomeo.com এ স্বাস্থ্য বিষয়ক নিয়মিত লেখালেখি করে যাচ্ছি, যেখানে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা, রোগ প্রতিরোধ, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা প্রক্রিয়া ও স্বাস্থ্য সচেতনতার উপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আপনারা আমার এই ওয়েবসাইটে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য জানতে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে পারেন।

শীতকালীন-শাকের-পুষ্টিগুণ-ও-উপকারিতা
শাক-সবজির পুষ্টিগুণ

শীতকালীন শাকের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

by Dr. Baby Akter 14/10/2023
written by Dr. Baby Akter

শীতের এই হিমেল আবহাওয়াতে বাজারে বাহারি ধরণের শাকের সমাহার। দেখতে যেমন সুন্দর, সতেজ তেমনি আছে পুষ্টিগুণও। শরীরের প্রয়োজনীয় যাবতীয় ভিটামিন ও মিনারেলস রয়েছে শীতকালীন সতেজ শাক-সবজিতে। দামে সস্তা, সহজলভ্য এবং খেতেও সুস্বাদু  শীতকালীন এইসব শাকে আছে রোগব্যাধি দূর করার অনেক ক্ষমতা। তাই জেনে নিন, শীতকালীন বিভিন্ন ধরণের শাকের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে।

স্বাস্থ্য সচেতনতায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে খাদ্য তালিকায় নিয়মিত রাখুন হরেক রকমের ভিটামিনসমৃদ্ধ শাক।

জেনে নিন, শীতে বিভিন্ন শাকের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

লালশাক 

শীতকালে একটি সহজলভ্য শাক হল লালশাক। যদিও সারা বছর এই শাক পাওয়া যায়। তবে শীতকালে অনেক বেশি সহজলভ্য এই লালশাক। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে হিমোগ্লোবিন এবং আয়রন যা অ্যানিমিয়া অর্থাৎ রক্তশূন্যতা, নিম্ন রক্তচাপ মানে লো-ব্লাড প্রেশার, দুর্বলতা, ক্রমশ শক্তি কমে যাওয়ার থেকে রক্ষা করে। তাছাড়া ডায়বেটিস রোগী, অস্টিও আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় লালশাক অত্যন্ত কার্যকরী। গর্ভবতী অবস্থা থেকে শিশুর জন্ম ও মাতৃদুগ্ধ পান পর্যন্ত লালশাক ভীষণ জরুরি। তাই এই শীতে লালশাক অবশ্যই খাওয়া উচিত।

পালংশাক

শীতকালীন শাকের মধ্যে পালংশাক খুব জনপ্রিয় এবং সুস্বাদু। বাজারে সহজলভ্য এই শাক ঝোল বা ভাজি যে কোন ভাবে রান্না করে খাওয়া যায়। পালংশাকে আছে উচ্চমাত্রায় ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন ‘এ’ যা রক্তচাপ কমায় এবং লিম্ফোসাইট বা রক্তের শ্বেত কণিকা দেহকে বিভিন্ন সংক্রমণ ও রোগ থেকে রক্ষা করে। এতে বিভিন্ন ধরণের ফ্ল্যাভোনয়েড থাকায় তা ক্যান্সার সহ বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে। তাছাড়া এতে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন এবং ফলিক এসিড যা চোখের ছানি পড়া, ত্বককে বাইরের আদ্রতা থেকে রক্ষা করে এবং হৃদ যন্ত্রের সুরক্ষা দেয়। তাই দৈনন্দিন রান্নায় এই শাক রেসিপিতে রাখতে পারেন।

সরিষা শাক

পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ শীতের আরেকটি শাক হল সরিষা শাক। এটি একটি সুস্বাদু শাক। সরিষা শাকের ভর্তা খুবই মুখরোচক। শীতের শুরুতে এই শাক বেশি পাওয়া যায়। এতে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সেলেনিয়াম, প্রোটিন ও ফাইবার যা আপনার হার্ট ভালো রাখে, রক্তের কোলস্টেরল কমায় এবং গর্ভবতী মায়েদের সুস্থ শিশু জন্মদানের সম্ভাবনা বাড়ায়।

সরিষা শাকে আছে শক্তিশালী এন্টি-অক্সিডেন্ট যা নানা রকম ভাইরাল অসুখ থেকে আপনাকে সুরক্ষা দেয়। এটি ভিটামিন ও মিনারেলের একটি সমৃদ্ধ উৎস। ভিটামিন এ, সি ও কে সৃমদ্ধ সরিষা শাক শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন ’এ‘ দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে, ভিটামিন ‘কে’ হাড়ের সুরক্ষা করে এবং মস্তিষ্ককে রাখে দারুণ সচল।

সরিষা শাক ঝোল, ভাঁজি, ভর্তা অনেক ভাবে খাওয়া যায়। তাই নিজেকে সুস্থ,সবল এবং স্বাস্থ্যবান রাখতে এটি নিয়মিত খেতে পারেন।  

মূলা শাক 

মুলা শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায় যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে দেহের রোগ প্রতিরোধ করে। এছাড়াও এতে  পটাসিয়াম, মলিবডেনাম, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স সমৃদ্ধ ফলিক এসিড রয়েছে। মূলা শাক অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান সমৃদ্ধ সবজি, মুলা শাক খেলে অ্যালার্জি ও হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। শীতকালীন হাতের নাগালে পাওয়া যায় এই শাক। মুক্তমূলক পরিষ্কারক এবং দেহের ব্লাড সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। মূলা শাক অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে অ্যালার্জি ও হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। তবে যাদের কিডনি বা পিত্তথলির বিভিন্ন সমস্যা আছে তাদের মুলা শাক কম খাওয়া উচিত। 

পুঁই শাক

শীতে বাজারে প্রচুর পরিমানে পুইশাঁক পাওয়া যায়। অন্যান্য অনেক শাকের মত এর মধ্যে অনেক ভিটামিন ‘এ’ ভিটামিন ‘সি’ লোহা, ও ক্যালসিয়াম আছে। এই শাক নানাভাবে রান্না করে খাওয়া যায়। ভাজিও খাওয়া যায়। আবার মাছ দিয়ে রান্না করে অনেকে। এছাড়া ক্যালরির ঘনত্ব কম। তদুপরি ক্যালরি-প্রতি আমিষের পরিমাণও বেশি। পুইশাঁক গনোরিয়া রোগে ও পাইলস রোগে খুব উপকারী। পুঁই শাকের পাতার রস ছোটদের সর্দি, কোষ্ঠবদ্ধতার জন্য অধিক কার্যকরী। 

পেঁয়াজ পাতা

শীতে পেঁয়াজপাতা একটি বেশ জনপ্রিয় শাক যা ভাজি বা বিভিন্ন তরকারির সাথে মিক্স করে রান্না করা যায়। আবার পেঁয়াজপাতার বড়াও খেতে অনেক মজাদার। এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকার বয়ে আনে। অ্যান্টি-ভাইরাল ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকায় পেঁয়াজ পাতা সাধারণ ঠাণ্ডা, ফ্লু ও ভাইরাল ইনফেকশনের ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বহুকাল ধরে। ভিটামিন ‘সি‘ ভিটামিন বি-১২ এবং থায়ামিন সমৃদ্ধ এই পাতা কোলেস্টেরল ও রক্ত চাপের উচ্চ মাত্রাকে কমাতে সাহায্য করে। উচ্চ মাত্রার ফাইবার থাকার কারণে যাদের খাবারের রুচিহীনতা এবং হজমের সমস্যা ভুগছেন তাদের জন্য পেঁয়াজপাতা খুব উপকারী। 

তাছাড়া উচ্চ মাত্রার ভিটামিন ‘সি’ কোলাজেনের সমন্বয় সাধনে কাজ করে যা হাড়কে শক্তিশালী করে এবং লুটেইন ও জেনান্থিন নামক ক্যারোটিনয়েডের উপস্থিতির জন্য চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং স্বাভাবিক দৃষ্টির রক্ষণাবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বথুয়া বা বেথো শাক

শীতকালীন শাকের মধ্যে খুব মজাদার ও সুস্বাদু এই বথুয়া বা বেথো শাক। এ শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফসফরাস, জিংক যা পিত্ত, লিভারের সমস্যা, মুখে ঘাঁ ও ত্বকে শ্বেতির মতো সমস্যা নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকরী! বেথো শাক বেটে তার সঙ্গে ২ চামচ জিরার গুঁড়ো, ২ চামচ পাতিলেবুর রস মিশিয়ে শরবত বানিয়ে দিনে দুইবার খেলে  প্রস্রাবের জ্বালা ভালো হয়ে যায়। প্রতিদিন ১ কাপ বেথো শাক রস খেলে কিডনি পাথুরি রোগে উপকার পাওয়া যায়। বেথো শাক ডাল বা চিংড়ী দিয়ে রান্না করলে খেতে বেশি মজাদার হয়।  

লাউ শাক

হরেক রকম শীতের শাকের মধ্যে লাউ শাক দেখতে যেমন লোভনীয় খেতেও তেমনি সুস্বাদু। অনেক ধরণের রেসিপি করে লাউ শাক খাওয়া যায়। মাজার বিষয় হল, বাচ্চারাও লাউশাক ভাঁজা খুব পছন্দ করে। লাউ শাকে প্রচুর আঁশ থাকার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং পাইলস প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। এছাড়া লাউ শাকে রয়েছে লুটেইন, বিটা-ক্যারোটিন এবং জিয়েজ্যান্থিন যা রোগ প্রতিরোধ করে। ক্যালরি কম থাকায় ওজন কমানোর জন্য লাউ শাক উপকারী এবং হার্টের পক্ষেও খুব ভালো।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
শীতে-চুলের-যত্ন-ও-ঘরোয়া-প্যাক
রূপচর্চা ও চুলের যত্ন

শীতে চুলের যত্ন ও চমৎকার কার্যকরী ঘরোয়া প্যাক

by Dr. Baby Akter 12/10/2023
written by Dr. Baby Akter

শীতেকালে হিমহিম বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায় ধুলা বালির প্রকোপ বেড়ে যায়। খুশকি, ড্রাই স্ক্যাল্পের সমস্যা ও অতিরিক্ত রুক্ষতাসহ দেখা চুলের নানারকম সমস্যা। তাই চুলের ধরন বুঝে চুলের যত্ন নিতে হবে। স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বক হয় দুই রকমের- শুষ্ক ও তৈলাক্ত। শুষ্ক ত্বকে খুশকির সমস্যা বেশি দেখা দেয় আর মাথার ত্বক তৈলাক্ত হলেও চুল শুষ্ক হয়ে যায়। তাছাড়া অনেক সময় শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে হওয়া খুশকি থেকে চুলের গোড়া আলগা হয়। ফলে চুল ঝরাও বেড়ে যায় অনেকগুণ। তবে সামান্য ঘরোয়া উপকরণ দিয়ে যত্ন নিলে অল্প খরচেই এই শীতেও চুল থাকবে ঝরঝরে, সুন্দর আর সতেজ।

স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বক হয় দুই রকমের শুষ্ক ও তৈলাক্ত। ত্বকের ধরন বুঝে যত্ন নিতে হয়, তেমনি চুলেরও ধরন বুঝে যত্ন নিতে হবে। তাহলে এই শীতেও  আপনার চুল থাকবে কোমল, ঝলমলে ও মসৃণ

শীতে চুলের যত্নের গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপায় ও ঘরোয়া প্যাক 

টি ট্রি এর সঙ্গে নারকেল তেল

নারকেল তেলের মধ্যে থাকে অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল অনেক উপাদান, আর টি ট্রির তো তুলনা নেই। ২ টেবিল চামচ নারিকেল তেলের সঙ্গে ব্যবহার করতে পারেন ৫-৬ ফোঁটা টি ট্রি এসেনশিয়াল ওয়েল। তাই এই ২ তেলের মিশ্রণ আপনার চুলের সুস্থ ত্বকের জন্য পর্যাপ্ত শক্তিশালী। স্ক্যাল্পে অনেক সময় খুশকি, স্ক্যাল্পের র‌্যাশ সহ অন্যান্য সমস্যা হতে পারে। সেজন্য টি ট্রি তেলের ব্যবহারে স্ক্যাল্পের সব সমস্যা দূর হবে।

বাদাম তেল

শীতে যদি চুলের রুক্ষতা বেশি অনুভব করেন, সেক্ষেত্রে বাদাম তেলের কোনো তুলনা নেই। ওমেগা থ্রী ফ্যাটি অ্যাসিড ও ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ এই তেল যে কেবল চুলের জন্য উপকারী তা নয়, স্বাস্থ্যকর স্ক্যাল্পের জন্যও বিশেষভাবে কার্যকর। তাই শীতের এই রুক্ষ সময়েও আপনার চুল  উজ্জ্বল ও মসৃণ রাখার জন্য চুলের গোঁড়ায় এই তেল দিতে পারেন সপ্তাহে ১ একদিন। 

মধু 

গোসলের সময় আধ কাপের চেয়ে একটু বেশি পরিমাণ মধু এক মগ জলে মিশিয়ে নিন। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহারের পরিবর্তে চুলে এই মিশ্রণ ঢেলে দিন। আঙুল চালিয়ে হালকা ম্যাসাজ করুন। চুল পানি দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিন। এই মিশ্রণ সব ধরনের চুলের জন্য উপকারী।

মৌরি 

মৌরি এবং সমপরিমাণ পানি সারা রাত ভিজিয়ে রেখে পরদিন ভালোমতো বেটে মাথার ত্বকে ১ ঘন্টা রাখুন। তারপর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেললে খুশকি দূর হবে। বিশেষ করে মাথার তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অর্থাৎ খুশকি ত্বকের সঙ্গে লেগে থাকে, এ সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে মৌরি বেশ উপকারী । 

মেথি ও তেলের মিশ্রণ

চুলকে অনেক বেশি সিল্কি আর স্মুথ করতে এবং চুলের উজ্জ্বলতা ফিরে পেতে এই তেল বেশ কার্যকরী। তেলের সঙ্গে মেথি গুড়া মিশিয়ে নিতে হবে। চুলের গোড়ায় আঙ্গুলের ডগা দিয়ে লাগাতে হবে। অপর পদ্ধতি হলো- আস্ত মেথি দানা নারকেল তেলের সঙ্গে ভিজিয়ে রাখা। দুটির যেকোনো একটি ব্যবহার শুরু করলে ভালো ফল পাবেন।

অ্যালোভেরা

চুল ও মাথার ত্বকে পি এইচ-এর ভারসাম্য রক্ষা করতে অ্যালোভেরা অত্যন্ত কার্যকর। বাজারের অ্যালোভেরা জেলগুলোতে রাসায়নিকের উপস্থিতি  তা অনেক সময় ক্ষতিকর হয় । তাই প্রাকৃতিক উপায়ে সে জেল হাতে এলে সেটাই ব্যবহার করা ভাল। অ্যালোভেরা পাতার শাঁসটা বার করে   শ্যাম্পুর পর চুলের আগা থেকে গোড়া এই শাঁস লাগান ও মাথার ত্বকে আঙুলের সাহায্যে মাসাজ করুন। তবে অনেকের এই শাঁস ত্বকে সহ্য হয় না তাঁরা ফুটিয়ে নিয়ে তবেই ব্যবহার করুন।

আমলকী, মেথি ও মধুর প্যাক 

২ টেবিল চামচ মেথি ও ২ টেবিল চামচ শুকনা আমলকী এক কাপ পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রাখার পর বেটে ফেলুন। এরপর এর সঙ্গে মেশান দুই-তিন চা-চামচ মধু। এই মিশ্রণ চুলের গোড়ায় লাগালে খুশকি যেমন দূর হবে তেমনি চুলে পুষ্টি জোগাতেও সাহায্য করবেও সেই সাথে খুশকি দূর হবে। এটি শীতকালে মাথার শুষ্ক ত্বকের জন্য বেশি উপযুক্ত।  

ডিম্ ও মধুর প্যাক 

২ টা ডিম ভেঙে তাতে ৩ চামচ মধু যোগ করে ফেটিয়ে তরপর গোসলের  আগে চুলে লাগিয়ে ১-২ ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর চুল ধুয়ে ফেলুন খুব ভাল করে। শ্যাম্পুর পর ক্ষারবিহীন বা খুব অল্প ক্ষারযুক্ত কোনও কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। রুক্ষ ও তেলতেলে  বিশেষ করে  শীতে যাদের  চুলে খুব জট পড়ে, উভয় প্রকার চুলের জন্যই বিশেষ কার্যকরী এই প্যাক।

জবা ও তেলের মিশ্রণ

চুল ঝরঝরে, সুন্দর আর সতেজ রাখতে আর  খুশকি ও রুক্ষতা  দূর করতে জবা ফুলের কার্যকরী ভেষজ গুণ রয়েছে। একটি ছোট পাত্রে  কয়েকটি পাতাসহ জবা ফুল কিছুটা নারকেল তেলের সঙ্গে দিয়ে দিন। ফুলের নির্জাস ভালোভাবে মেশার জন্য  অল্প আঁচে তেল গরম করুন। ঠাণ্ডা করে কোনো কাঁচের বোতলে সংরক্ষণ করুন। স্ক্যাল্পে গোসল করার ১ ঘণ্টা আগে এই তেল দিয়ে রাখুন। কয়েক মাসেই  মধ্যে ফলাফল পাওয়া যাবে।  

নিয়মিত চুল ধুতে হবে

ঠান্ডার একধরনের ভীতির কারণে অনেকে নিয়মিত গোসল করতে চায় না। কেউ কেউ আবার গোসল করলেও শরীরে গরম পানি ব্যবহার করেন। শরীরে গরম পানি ব্যবহার করলেও মাথায় গরম পানি ব্যবহার করা যায় না। এ জন্য অনেকে গোসলের সময় চুল ভেজান না। ফলে শ্যাম্পুও করা হয় না নিয়মিত। এটি একেবারেই করা উচিত নয়। বরং এ সময় বাইরে অনেক বেশি ধুলাবালু উড়ে বলে প্রতিদিন  চুল পরিষ্কার করা উচিত। এবং চুল অবশ্যই ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুতে হবে।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
শুষ্ক ত্বকের ঘরোয়া যত্ন
রূপচর্চা ও চুলের যত্ন

শীতে শুষ্ক ত্বকের ঘরোয়া যত্ন

by Dr. Baby Akter 12/10/2023
written by Dr. Baby Akter

শীতের হিমেল হাওয়া আরামদায়ক হলেও শরীরের ত্বকের উপযুক্ত নয়। ঋতু বদলের পালায় ত্বকে কিছু আলাদা আলাদা সমস্যা তৈরি হয়। শীতের মাসগুলিতে আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে শুষ্ক, চুলকানি এবং বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। শীত যত বাড়তে থাকে, ত্বকের সমস্যা ততই বেশি হতে শুরু করে। ত্বক তিন ধরনের হয়- তৈলাক্ত, শুষ্ক ও মিশ্র। তৈলাক্ত ত্বকও এ সময় মলিন হয়ে যায় এবং মুখ ধোয়ার পরপরই ত্বকে দেখা যায় শুষ্ক টান টান ভাব। আর শুষ্ক ত্বকের জন্য শীত যেন এক দুঃস্বপ্ন। তাই শীতের শুরু থেকে নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যা করলে আপনি থাকবেন সতেজ, তরতাজা।

বেশি করে পানি পান করুন । শীতে শুধু ত্বক নয়, শুষ্ক পরিবেশের কারণে গোটা শরীরে আদ্রতার অভাব দেখা যায়। তাই শীতে পানির পিপাসা না পেলেও সময় মেনে দৈনিক ৩-৪ লিটার পানি পান করুন ।

শীতে কি কি ঘরোয়া যত্নের মাধ্যমে শুষ্ক ত্বককে মসৃণ ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করা যায়?

পানি পান করা

যে কোন ধরনের ঋতুই হোক না কেন পানিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়া উচিত। শরীরে পানির গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। যেহেতু আমাদের শরীরের দুই-তৃতীয়াংশ পানি  দিয়ে তৈরি, তাই আমাদের নিয়মিত তা পূরণ করতে হবে, বিশেষ করে শীতের মাসগুলোতে ৭-৯ গ্লাস পানি পান করা আপনাকে হাইড্রেটেড রাখবে এবং আপনার ত্বককে সুস্থ দেখাবে।

নারিকেল তেল

শীতে নারিকেল তেলের ব্যবহার, ফেটে যাওয়া ত্বকের লাবণ্য ফিরিয়ে আনতে পারে। তেল ম্যাসাজ করলে ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগানোর প্রয়োজন হয় না। প্রতিদিন গোসলের আগে নারিকেল তেল দিয়ে মাসাজ করুন। 

জলপাই তেল/অলিভ অয়েল 

শীতে শুষ্ক ত্বকের জন্য জলপাই তেল বা অলিভ অয়েল অত্যন্ত কার্যকরী। অলিভ অয়েল রয়েছে ভিটামিন ‘এ’, ‘ই’ এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। যা ত্বককে সতেজ রাখে ও ময়েশ্চারাইজ করে।

ময়েশ্চারাইজার বা বডি বাটার ব্যবহার

ভাল মানের ময়েশ্চারাইজার শীতে ত্বকের যত্নে বিশেষভাবে সাহায্য করে। ত্বকের শুষ্কতা বজায় রাখতে অ্যাভোকাডো তেল, নারকেল তেল, এবং তিলের তেল খুবই উপকারী। অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে বডি লোশনের পরিবর্তে ক্রিম ব্যবহার করুন। গোসলের পর পরই ভেজা থাকা অবস্থাতেই তেল মেখে ফেলতে পারলে আর্দ্রতা বজায় থাকে অনেকটাই।

অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরা শুষ্ক ত্বকের যত্নে  জন্য অতুলনীয়। এক চামচ নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল, অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে মিশ্রণটি মুখে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। সাধারণত ত্বক থেকে দূষিত পদার্থ বের করার জন্য অ্যালোভেরা জেল ও নারিকেল তেল ত্বকে পরিশোধনের কাজ করে। 

পাকা কলা আর মধু

একটি পাকা কলা চটকে নিন, তাতে মেশান দুই টেবিল চামচ মধু। ভালো করে ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে ২০-২৫ মিনিট রেখে দিন, তারপর ধুয়ে ফেলুন। এটি শুষ্ক ত্বকের যত্নে অধিক উপকারী। 

দুধ-বেসন পেস্ট

ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে ও বয়সের ছাপ কমাতেও বেসন অতুলনীয়। দুধের ভিটামিন ও মিনারেল ত্বককে সতেজ করে তোলে। ত্বককে প্রাণবন্ত রাখার জন্য দুধ ও বেসনের পেস্টটি সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করুন।

পাকা পেঁপে

১/২  কাপ চটকানো পাকা পেঁপের সাথে ১ টেবিল চামচ মধু ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার মুখে ভালো করে লাগিয়ে রাখুন। আধ ঘণ্টা পরে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩-৪ বার এই মিশ্রণ ব্যবহারে শুষ্ক ত্বকের আর্দ্রতা ও মসৃণতা ফিরে আসবে।

গরম পানির ব্যবহার

গরম পানিতে গোসল করে আরাম লাগলেও শীতকালে কিন্তু গরম পানি ত্বকের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। বিশেষজ্ঞদের মতে গরম পানি ত্বকের উপরিভাগে থাকা প্রাকৃতিক তেলের স্তর নষ্ট করে। এ সময়ে  গরম পানির  ব্যবহার কম করার চেষ্টা করুন।

সাবান ব্যবহার কম

শীতকালে খেয়াল রাখতে হবে তা যেন, ত্বকে  অতিরিক্ত তরল সাবানের ব্যবহার না করা হয়। অতিরিক্ত সাবানের ব্যবহার শুষ্ক ত্বকে  ক্ষতিকর। 

অ্যালোভেরা আর মধু

 ১ চা চামচ মধু এবং ২ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল একসাথে মেশান। সারা মুখে, বিশেষ করে শুকনোভাব যেখানে বেশি সেই অংশে লাগান। আধঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন।

বাইরে যাওয়ার আগে যা করবেন 

শীতের রোদ গায়ে  আরাম দিলেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে ভুলবেন না। অন্তত ৩০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লোশন মেখে বাইরে বের হবেন। বেশি ময়েশ্চারাইজারযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন, প্রয়োজনে পানি মিশিয়ে ব্যবহার করুন। 

ক্লিনজার 

শুষ্ক ত্বকের জন্য স্ক্রাবিং বেশি ভালো নয়। চাইলে মুসুর ডাল বেটে ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন ক্লিনজার । ত্বকের মরা কোষ দূর করতে এটি খুব কার্যকরী। মুসুর ডাল বাটার সাথে কাচা দুধ মিশিয়ে নিলে অধিক কার্যকরী। এটি মুখের সাথে সাথে সারা গায়ে লাগান। শুষ্ক ত্বক মসৃণ ও প্রাণবন্ত থাকবে। 

শীতে শুষ্ক ত্বকের কিছু  উপসর্গ

  • গোসলের পর বা মুখ ধোয়ার পর ত্বক টান টান লাগবে।
  • লালচে ভাব থাকতে পারে।
  • ত্বকের রেখাগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং বলিরেখাও পড়ে যেতে পারে।চুলকানি ভাব থাকতে পারে।
  • চামড়া সাদাটে হয়ে উঠে যেতে পারে। অর্থাৎ মৃত কোষ বেড়ে যায়।
  • নরম ত্বকের পরিবর্তে ত্বকে রাফ এবং শুষ্ক ভাব দেখা যাবে।
  • ত্বক শুকনো ও মলিন লাগবে।
0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
শীতকালীন শাক-সবজির উপকারিতা
শাক-সবজির পুষ্টিগুণ

শক্তিশালী পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ শীতকালীন শাক-সবজির উপকারিতা

by Dr. Baby Akter 06/10/2023
written by Dr. Baby Akter

আমাদের দেশে শীতের সময় বাজারে বেশি দেখা যায় সবজি – ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, ব্রকলি, শালগম, পালংশাক, পেঁয়াজকলি, মটরশুঁটি, লাউ প্রভৃতি। এসব সবজি যেমন সুস্বাদু তেমনি এর পুষ্টিও বেশি। তাই শীতে পুষ্টিমান বাড়াতে প্রচুর শাকসবজি গ্রহণ করুন। পুষ্টিবিদদের মতে, শীতকালীন সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, বিটা-ক্যারোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ফলিক এসিড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন প্রভৃতি। শরীরে রক্তকণিকা বা প্লাটিলেড গঠনে ও অস্থিক্ষয় রোধে শীতকালীন শাকসবজির ভূমিকা অপরিসীম। শীতকালীন সবজিতে বিদ্যমান ভিটামিন-‘ই’ চুলপড়া রোধ করে এবং মুটিয়ে যাওয়ার সমস্যা থেকে রক্ষা করে। তাই সুস্থ ও সুন্দর থাকার জন্য প্রচুর পরিমাণে শীতকালীন শাকসবজি গ্রহণ করা উচিত। আসুন জেনে নিই কোন সবজিতে কী ধরনের পুষ্টি বেশি।

পুষ্টিবিদদের মতে, শীতকালীন সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, বিটা-ক্যারোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ফলিক এসিড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন প্রভৃতি তাই সুস্থ ও সুন্দর থাকার জন্য প্রচুর পরিমাণে শীতকালীন শাকসবজি গ্রহণ করা উচিত।

শীতের কয়েকটি সবজি ও তাদের পুষ্টিগুণ

ফুলকপি

ফুলকপির সালফারযুক্ত সালফোরাফেন উপাদান ক্যানসার কোষ ধ্বংস করে। ভিটামিন এ, বি, সি ও ভিটামিন কে আছে প্রচুর। এ ছাড়া আছে আয়রন, সালফার, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও ফাইবার। রক্তচাপ কমায়। হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে। ফুলকপির ভিটামিন এ ও সি  শীতকালীন ঠান্ডা, জ্বর, সর্দি, কাশি ও টনসিলের প্রদাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখে। ফাইবার ও সালফারসমৃদ্ধ ফুলকপি পরিপাকে সহায়তা করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। 

বাঁধাকপি 

ভিটামিন ‘সি’ ও ‘কে’ সহ বাঁধাকপির পাতার মোড়কে আছে নানা পুষ্টিগুণ। বাঁধাকপিতে বিদ্যমান গ্লুকোসিনোলেট নামের উপাদান ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক। এর ফলিক এসিড বা ফলট রক্ত বাড়ায়, গর্ভস্থ শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করে। গবেষণা বলছে, পাতা দিয়ে মোড়া এ ধরনের সবজি রক্তে চর্বি ও শর্করা কমায়। বাঁধাকপি আঁশেরও চমৎকার উৎস, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

গাজর

গাজরে থাকে ফাইবার, যা হজমক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বয়সের ছাপ দূর করে, ত্বককে করে উজ্জ্বল আর লাবণ্যময়।

যাঁরা নিয়মিত গাজর খান তাঁদের ব্রেস্ট ক্যান্সার, কোলন ও ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। গাজর খেলে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়। এতে পটাসিয়াম থাকে, যা রক্তপ্রবাহ ঠিক রাখে। হার্ট সুস্থ রাখতে, কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রোজকার খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন গাজর। এ ছাড়া বর্জ্যপদার্থ নিষ্কাশন করে লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়াতে গাজর বেশ উপকারী। 

শিম

যাঁরা নিরামিষভোজী এবং মাছ–মাংস যেকোনো কারণে খেতে পারছেন না, তাঁরা কিন্তু খুব সহজেই শিম, বরবটি, মটরশুঁটি, শিমের বিচি থেকে আমিষের চাহিদা পূরণ করতে পারেন। এটি আমিষের খুব ভালো উৎস। এতে আছে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পানি, যা রক্তে কোলেস্টেরল কমায়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। শিশুদের অপুষ্টি দূর করে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। 

তবে যাঁরা কিডনির রোগে ভুগছেন, তাঁরা বেশি শিম খাবেন না।

মুলা

মুলায় প্রচুর পানি থাকায় শরীরকে ডি-হাইড্রেট হওয়া থেকে রক্ষা করে। হজমশক্তি বাড়াতে, হার্ট ভালো রাখতে, শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে, এমনকি ক্যান্সার প্রতিরোধও করে থাকে এই মুলা। মুলার পাতায় ভিটামিন এ–এর পরিমাণ বেশি। প্রচুর বিটা ক্যারোটিন, আয়রন ও ভিটামিন সি আছে। ভিটামিন ‘সি’, জিংক ও ফসফরাস, যা ব্রণজনিত সমস্যা দূর করে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং র‌্যাশ ওঠা থেকে সুরক্ষা দেয়। যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁদের জন্য এটা বেশ ভালো খাবার। মুলায় খুব কম পরিমাণ ক্যালরি থাকে যাতে দীর্ঘ সময় পেট ভরার অনুভূতি জাগায়। 

টমেটো

টমেটো রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসও কমাতে সাহায্য করে। ত্বককে সতেজ রাখে। টমেটোতে লুটিন ও লাইকোপিন নামে কেরাটিনয়েড আছে, যা দৃষ্টি ও চোখের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে। প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে বলে ক্যানসার প্রতিহত করে। টমেটো ভালো করে ধুয়ে খেতে হবে। ম্যালিক ও সাইট্রিক অ্যাসিড বেশি থাকায় অনেক টমেটো একসঙ্গে খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।

ব্রকোলি

ব্রোকলিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ক্যালসিয়াম বিদ্যমান। শীতকালীন সবজি হিসেবে ব্রকোলি বর্তমানে দেশেও চাষ করা হচ্ছে। এটি চোখের রোগ, রাতকানা, অস্থি বিকৃতি প্রভৃতির উপসর্গ দূর করে ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

লাউ

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে লাউকে পথ্য হিসেবে ধরা হয়। লাউ খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে, অনিদ্রার সমস্যাতেও উপকারী এটি। এ ছাড়াও রয়েছে ভিটামিন ‘কে’, ভিটামিন ‘ই’ ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘এ’, ফাইবার,আয়রন, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম ও জিঙ্ক। লাউয়ের জিঙ্ক উপাদানটি আমাদের দেহকে হৃদরোগ থেকে রক্ষা করে। লাউ মূলত পানিপূর্ণ ঠাণ্ডাজাতীয় একটি সবজি। এতে সবচেয়ে বেশি রয়েছে পানি, যা আমাদের দেহকে সহজেই পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করে। 

পালংশাক

পালংশাক উচ্চমানের পুষ্টিগুণসম্পন্ন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এর ক্যারোটিনয়েডস ও শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রস্টেট ক্যানসার ও ওভারিয়ান ক্যানসার প্রতিরোধ করে। পালংশাকে থাকা  প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম ও আয়রন হৃদরোগ ও কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করে। 

যাঁদের ইউরিক অ্যাসিড এর সমস্যা রয়েছে, তাঁরা সপ্তাহে ১ দিন ৩০ গ্রাম করে খেতে পারবেন।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
টাইফয়েড-জ্বর-ও-চিকিৎসা
টাইফয়েড জ্বর

টাইফয়েড জ্বরের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

by Dr. Baby Akter 05/10/2023
written by Dr. Baby Akter

আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে গরমকালের শুরুতে বা শেষে সময়ে দেখা দেয় নানা অসুখ বিসুখ। যেগুলি মানুষ থেকে মানুষে, মশা থেকে মানুষে, জল থেকে মানুষে ছড়ায়। এগুলি বেশিরভাগই সংক্রামক ব্যাধি। এ সময়ে ছড়ায় এমনি একটি মারাত্মক রোগ হল টাইফয়েড। আজ আমরা টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা ও কীভাবে তার প্রতিরোধ করা যায় সে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করব।

সালমোনেলা টাইফি (Salmonella Typhi) ও প্যারাটাইফি জীবাণু থেকে টাইফয়েড রোগ হয়ে থাকে। টাইফয়েড পানিবাহিত রোগ। জ্বরের সময় তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রী থেকে ১০৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট অব্ধি হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই এই জ্বর প্রথম সপ্তাহে ধরা পড়ে না। ওষুধ চললেও সপ্তাহ খানেক থাকতে পারে এই জ্বর। দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে জ্বর ধরা পড়ে এবং মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। 

শরীরে জীবাণু প্রবেশ করলেই টাইফয়েড হয়ে যাবে এমন কোন কথা নেই, কারণ দেহে যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকে তাহলে অনেক সময়ই জীবাণু দেহে সংক্রমণ করতে পারেনা।

টাইফয়েড জ্বর কী?

টাইফয়েড একটি অত্যন্ত পরিচিত সংক্রামক অসুখ যা সালমোনেলা এন্টেরিকা (Salmonella Enterica)-র টাইফি, প্যারাটাইফি A, B, এবং C নামক বিভিন্ন প্রজাতির দ্বারা ঘটে। টাইফয়েড এবং প্যারাটাইফয়েড জ্বর একত্রে আন্ত্রিক জ্বর হিসাবে পরিচিত। এই অসুখটা প্রাক-বর্ষা, বর্ষা এবং বর্ষা শেষেই সাধারণত বেশি মাত্রায় ছড়ায়। মল এবং মৌখিক (ওরাল) পথের মাধ্যমে টাইফয়েডের সংক্রমণ ঘটে। যদি সঠিক চিকিৎসা না করা হয়, অবস্থা আরও গুরুতর দিকে চলে যেতে পারে এবং জীবাণুগুলি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। এতে  আভ্যন্তরীণ রক্তপাত, পচন বা সেপসিস অথবা বিরল ক্ষেত্রগুলিতে রোগীর মৃত্যু অব্ধি হতে পারে৷

টাইফয়েড জ্বরের কারণ 

টাইফয়েডকে পানিবাহিত রোগেগুলির মধ্যে একটি মারাত্মক রোগ হিসেবে ধরা হয় যা আমাদের দেহে সাধারণত দুই ধরনের জীবাণুর সংক্রমণে হয়ে থাকে।

(১) সালমোনেলা টাইফি এবং

(২) সালমোনেলা প্যারাটাইফি

সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে যে জ্বর হয় তাকে টাইফয়েড জ্বর বা এন্টারিক ফিভার বলে। আর যদি সালমোনেলা প্যারাটাইফি নামক জীবাণুর কারণে এ জ্বর হয় তখন তাকে প্যারা টাইফয়েড জ্বর বলে। প্রধানত দূষিত পানি ও খাবার গ্রহণের মাধ্যমেই শরীরে এই জীবাণু প্রবেশ করে তাছাড়া পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতি উদাসীনতার কারণেও এটি শরীরে প্রবেশ করতে পারে। টাইফয়েড জ্বর হতে আরোগ্য লাভ করেছেন কিন্তু এই ব্যাকটেরিয়া বহন করছেন এমন কিছু সংখ্যক ব্যক্তিও এই রোগের বাহক হতে পারে বলে মনে করা হয়। এই জীবাণু শরীরে যেভাবেই প্রবেশ করুক তা শরীরে প্রবেশের পর বৃহদান্ত্রকে আক্রমণ করে। এছাড়া মানব শরীরের পিত্তথলিতে সাধারণত এই ব্যাকটেরিয়া জমা থাকে এবং উপযুক্ত পরিবেশ পাওয়ার সাথে সাথে এটি দ্রুত গতিতে শরীরে আক্রমণ করে থাকে।

টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণগুলি কী কী?

অনেকাংশেই আর পাঁচটি জ্বরের মতই টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণগুলি তবে বেশ কিছু উপসর্গ আছে যেগুলি একেবারেই আলাদা এবং কোন অবস্থাতে তা অবহেলা করা উচিত নয়।

  • প্রবল জ্বর , তাপমাত্রা ১০২°- ১০৪° ফারেনহাইটের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। 
  • কাশি।
  • পেট খারাপ।
  • পেট ব্যথা।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য।
  • ক্ষুধামান্দ্য।
  • মানসিক অবসাদ।
  • বুক এবং তলপেটে লাল ফুসকুড়ি।
  • নাক দিয়ে রক্ত পড়া।
  • মস্তিষ্কের বিভ্রান্তি বা বিভ্রম।
  • মনোযোগে ঘাটতি।
  • প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের মধ্যে টাইফয়েড সংক্রমণের উপসর্গগুলি অপেক্ষাকৃত কম দেখা যায়।

টাইফয়েড হলে কী করবেন?

রক্ত পরীক্ষা

টাইফয়েড পানিবাহিত জীবাণুর মাধ্যমে ছড়ায়। তাই টাইফয়েড হয়েছে কি না, তা বুঝতে সবার আগে অসুস্থ ব্যক্তির রক্ত পরীক্ষা করতে হবে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা

নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। অবশ্যই হাত ভালোভাবে ধুতে হবে। সব সময় পরিষ্কার পোশাক পরতে হবে। ঘরের জিনিসপত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা করে রাখতে হবে।

খাবারে ও পানির সতর্কতা

বাইরের খাবার খেলে সব সময় সচেতন থাকতে হবে। পানি ফুটিয়ে পান করতে হবে। অপরিষ্কার শাক-সবজি ও কাঁচা-ফলমূল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। খাবার গরম করে খেতে হবে। 

স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও বাসস্থান  সুব্যবস্থা

আক্রান্ত ব্যক্তির টয়লেট নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে খোলামেলা ও পরিষ্কার বাসায় রাখতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে কোনোভাবেই যেন টয়লেটে ময়লা বা পানি জমে না থাকে। 

অবশ্যই রোগীকে একজন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে এবং টাইফয়েড হয়েছে কি না তা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে, সাথেসাথে ওষুধ খাওয়ার বিষয়টি ও নিশ্চিত করতে হবে। 

টাইফয়েডের চিকিৎসা কি কি উপায়ে করা যায়?

টাইফয়েডের প্রাথমিক উপসর্গগুলি দেখা দেওয়া মাত্র ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। সাধারণত যে যে পদ্ধতিতে টাইফয়েডে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা করা হয় তা হলো 

১. অ্যান্টিবায়োটিক

টাইফয়েড জ্বরের পরীক্ষায় রিপোর্ট অনুযায়ী, ৭ থেকে ১৪ দিনের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক এর প্রয়োগ করা হয়।

ডাক্তারের নির্দেশনা মোতাবেক নিয়ম অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স শেষ করতে হবে ৷ অনেক সময় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার শুরু করার পর ২-৩ দিনেই উপসর্গ গুলি হ্রাস পেতে শুরু করে, কিন্তু কোনোভাবেই অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়া বন্ধ করা যাবেনা।

২. টাইফয়েড ভ্যাক্সিন

সাধারণত দুই ধরনের ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টাইফয়েডের বাহক, বাহকের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়৷ একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের টাইফয়েড ভ্যাক্সিনের প্রয়োজন হয় না। তবে ডাক্তার মনে করলে ভ্যাক্সিন নেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন।

৩. হাইড্রেশন

বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওআরএস, ফলের রস খেতেই হবে৷ টাইফয়েডে আক্রান্ত হলে শরীর থেকে প্রচুর জল বেরিয়ে যায়। অনেক সময়ই রোগী ডিহাইড্রেটেড হয়ে অজ্ঞান পর্যন্ত হয়ে যায়। তাই এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

৪. গুরুতর ক্ষেত্রে

যদি রোগীর অবস্থা গুরুতর হয় অথবা ওষুধে কাজ না হলে, সেক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার দ্রুত কাজ করতে এবং উপসর্গগুলির তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে৷

৫. দ্বিতীয় বারের পরীক্ষা

রোগীর মলে বা রক্তে আর টাইফয়েডের জীবাণুগুলি বর্তমান নেই তা নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ চিকিৎসার পর দ্বিতীয়বার একটি মল বা রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। যদি পরীক্ষা রিপোর্ট পজিটিভ আসে সেক্ষেত্রে টাইফয়েড জীবাণুর একজন বাহক (কেরিয়ার) হিসাবে গণ্য করা হবে। এরকম ক্ষেত্রে ডাক্তার সাধারণত একটি ২৮ দিনের মৌখিক অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স সম্পূর্ণ করে পুনরায় পরীক্ষা করাতে বলেন।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
ম্যালেরিয়া-হলে-যা-খাবেন
রোগের খাবার

ম্যালেরিয়া হলে যা খাবেন

by Dr. Baby Akter 27/09/2023
written by Dr. Baby Akter

প্লাজমোডিয়াম নামের এক ধরনের পরজীবীর সংক্রমণে ম্যালেরিয়া রোগ হয়। মশার কামড় থেকে এ রোগ ছড়ায়। অ্যানোফিলিস জাতীয় স্ত্রী-মশা ম্যালেরিয়া জীবাণুর বাহক। এই রোগে সাধারণত কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে, সেইসঙ্গে মাথাব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি উপসর্গও দেখা দেয়। ম্যালেরিয়াকে মোটেও হালকাভাবে নেবেন না। ম্যালেরিয়ার ফলে শরীর ভেঙে যায়। ফলে সেরে ওঠার সময় পেশি পুনর্গঠন খুবই জরুরি।

ডাক্তারের কাছে তো অবশ্যই যাবেন, পাশাপাশি নিজের রোজকার ডায়েটে এমন কিছু খাবার রাখবেন যা আপনার শরীরকে শক্তি জোগাবে।

দেখে নিন ম্যালেরিয়া হলে কি কি খাওয়া উচিৎ

পুষ্টিকর খাবার

তরল খাবার বেশি করে খাবেন যেমন গ্লুকোজ পানি, আখের রস, ডাবের পানি, লেবুর রস। এমন খাবার যা হজম করতে তেমন সমস্যা হবে না অথচ শরীরে পুষ্টি জোগাবে।

ভেষজ গুণ সম্পন্ন মশলা

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হলুদেরও জুড়ি মেলা ভার। ম্যালেরিয়ার সময় আজওয়ান ভেজানো জল খেলে হজমের সমস্যা মেটে। দুধের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে খাওয়ার কথাও গুরুজনেরা বলে থাকেন। মেথি ভেজানো পানিও পেট ঠান্ডা করে। 

জাম্বুরা

জাম্বুরা সেদ্ধ করে এর রস খেলে ম্যালেরিয়া সেরে যাবে দ্রুতই। এটি ম্যালেরিযার জীবাণু ধ্বংস করে দ্রুত এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। ম্যালেরিযার অব্যর্থ ওষুধ কুইনিন প্রাকৃতিকভাবেই থাকে জাম্বুরায়।  

বাদাম

বাদামে রয়েছে নানা ঔষধি গুণ। ছোট্ট ছোট্ট বাদামে প্রচুর পরিমাণে শক্তির উপাদান থাকে, যা আপনার শরীরকে মজবুত করে।  ম্যালেরিয়ার মধ্যে বাদাম খেলে এটি শরীরকে শক্তি দেয়ার পাশাপাশি জ্বর কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।

দারুচিনি

দারুচিনিতে আছে সিনামেলডিহাইড নামের এক ধরনের উপাদান, যা শরীরের ব্যথাকে কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। ম্যালেরিয়ায় শরীরে যে অসহ্য ব্যথাবোধ হয় সেটি সারাতে সাহায্য করে দারুচিনির গুড়া। 

আদা

ম্যালেরিয়া হোক বা না হোক। রোজকার খাবারের তালিকায় পুষ্টিকর খাবার থাকলে আর নিয়ম মেনে তা খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। আদার রস ম্যালেরিযার ঘন ঘন বমি হওয়ার প্রবণতাকে কমিয়ে আনে। সেইসঙ্গে এটি রোগীর রুচিও বাড়ায়।

ভিটামিন ’এ’ ও ভিটামিন ’সি’ 

ম্যালেরিয়া থেকে সেরে উঠতে ভিটামিন ’এ’ ও ভিটামিন ’সি’ অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই পথ্য হিসেবে ওষুধের মতো করেই বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন খান। পেঁপে, বিট, গাজরের মতো সব্জিতে মেলে ভিটামিন এ। আর বিভিন্ন ধরনের লেবুতে পাওয়া যায় ভিটামিন সি। বিটের রস ম্যালেরিয়া রোগীদের জন্য বিশেষ উপযোগী।

প্রচুর পানি খাওয়া

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন লিটার পানি খাওয়া প্রয়োজন। ম্যালেরিয়ার সময় নিয়ম মেনে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। পানির কোন বিকল্প নেই। 

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
আমলকির পুষ্টি ও ঔষধি গুণাগুণ
ফলের পুষ্টিগুণ

আমলকির যত উপকারী পুষ্টি ও ঔষধি গুণাগুণ

by Dr. Baby Akter 24/09/2023
written by Dr. Baby Akter

আমলকি একপ্রকার ভেষজ ফল। টক আর তেতো স্বাদে ভরা আমলকী গুণে-মানে অতুলনীয়। ফলটি শুধু ভিটামিন আর খনিজ উপাদানেই ভরপুর নয়, বিভিন্ন রোগব্যাধি দূর করায়ও রয়েছে অসাধারণ গুণ। আমলকি গাছের পাতা ও ফল উভয়ই ওষুধরূপে ব্যবহার করা যায়। দেশীয় ফল হিসেবে আমলকি দামে যেমন সস্তা ও সহজলভ্য, তেমনি এর রয়েছে নানাবিধ উপকারিতা।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে, আমলকির  গুণ বর্ণনা করে বলা হয়েছে, দেহের বিভিন্ন রোগব্যাধি দূর করে শরীরের সব ধরনের ক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে

আমলকির পুষ্টি গুণাগুণ :

আমলকির অনেক ভেষজ গুণ রয়েছে। এই গাছের ফল ও পাতা দুটিই ওষুধরূপে ব্যবহার করা যায়। আমলকিতে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ থাকে যা পেয়ারার চেয়ে ৩ গুণ ও কাগজি লেবুর চেয়ে ১০ গুণ, কমলার চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি। একজন পুর্ণ বয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ দরকার। কেউ যদি দিনে দুটো আমলকি খায় তাহলে সে ঐ পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ পেতে পারে। আমলকি খেলে মুখে রুচিও বাড়ে। 

আমলকির বিভিন্ন ঔষধি গুণাগুণ সমুহ :

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। আমলকী কাঁচা অথবা আচার করে যেভাবেই খাওয়া হোক, এতে উপস্থিত ভিটামিন শরীরে ঠিকই প্রবেশ করে এবং ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে।

চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ করে

আমলকি চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে। আমাদের চুলের গঠনের ৯৯ শতাংশ প্রোটিন। আমলকীতে অ্যামিনো অ্যাসিড ও প্রোটিন আছে, যা চুলের বৃদ্ধিতে কাজ করে। চুলের যত্ন নেওয়ার জন্য এটি একটি অপরিহার্য উপাদান। আমলকীতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং ভিটামিন সি ত্বককে টানটান করতে সহায়তা করে। এক চামচ আমলকী গুঁড়ো নিয়ে গরম পানিতে মিশিয়ে নিন। আপনার মুখটি স্ক্রাব করতে এই পেস্টটি ব্যবহার করুন, পাঁচ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন। আপনি চাইলে পেস্টে কিছুটা হলুদ যোগ করতে পারেন।

ক্ষুধামন্দা দূর করতে আমলকি 

চিকিৎসকেরা বলেন, আমলকীর জুস খেলে পরিপাকতন্ত্র ভালো থাকে এবং হজম ভালো হয়। প্রতিবার খাওয়ার আগে মাখন ও মধুর সঙ্গে আমলকির গুঁড়া মিশিয়ে খেলে ক্ষুধামন্দা দূর হয়।

ব্রণের দাগ দূর করে

আমলকী প্রাকৃতিক উপায়ে ব্রণের দাগ এবং ত্বকের অনান্য কালচে দাগ দূর করতে সহায়তা করে। আমলকীর রস আপনার মুখে লাগান, এবং ৩০ মিনিটের জন্য রেখে দিন। এবার হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আপনার যদি সংবেদনশীল ত্বক থাকে তবে পানির সাথে রসটি মিশ্রণ করুন এবং প্রয়োগ করুন। আরো ভাল ফলাফলের জন্য এই চিকিৎসা মাসে কয়েকবার ব্যবহার করতে পারেন।

গলা ব্যথা এবং ঠান্ডা দূর করতে

আমলকির গুঁড়োর সাথে মধু মিশিয়ে দিনে ৩-৪ বার খেলে তা গলা ব্যথা এবং ঠান্ডা দূর করতে সাহায্য করে। দীর্ঘমেয়াদী কাশি-সর্দির জন্য আমলকির নির্যাস উপকারী।

কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস চিকিৎসায়

আমলকীতে থাকা সলিউবল ফাইবার শরীর থেকে টক্সিক উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে এবং হজমে সাহায্য করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং পাইলস রোগ থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে।

হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে

নিয়মিত আমলকীর জুস খেলে শরীরে কোলস্টেরলের মাত্রা কমে। অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় হৃদ্যন্ত্র ভালো থাকে। 

দেহের চর্বি কমাতে

আমলকীতে উপস্থিত প্রোটিন শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমাতে সাহায্য করে। এটি খেলে হজম শক্তি বেড়ে যায়। ফলে মানুষ মুটিয়ে যায় না। তাই ওজন কমাতে চাইলে প্রতিদিন আমলকি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

রক্ত পরিষ্কার করতে

রক্ত পরিষ্কার করতে আমলকি বেশ কার্যকর। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান যা শরীর থেকে টক্সিন উপাদান সব দূর করে দেয়। নিয়মিত আমলকি খেলে তা রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে।

গলা ব্যথা এবং ঠান্ডা দূর করতে

ভারতের ওজন ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গর্জি শর্মার মতে, মুখের ঘায়ের পাশাপাশি সর্দি-কাশি দূর করতে আমলকীর জুস দারুণ কাজ করে। দুই চা চামচ আমলকীর জুসের সঙ্গে সমপরিমাণ মধু প্রতিদিন খেলে গলা ব্যথা এবং ঠান্ডা-কাশি দূর হয়। এ ছাড়া মুখের ঘা দূর করতে কয়েক চামচ জুস পানির সঙ্গে মিশিয়ে দিনে দুইবার গড়গড়া করলে উপকার পাওয়া যায়। 

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে

গবেষণায় দেখা গেছে যে, আমলকিতে পলিফেনল রয়েছে যা রক্তে অক্সিডেটিভ শর্করা থেকে শরীরকে রক্ষা করে। এটি শরীরে ইনসুলিন শুষে নিতে সাহায্য করে যা ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
আখের রসের উপকারিতা
ফলের পুষ্টিগুণ

আখের রসের উপকারিতা

by Dr. Baby Akter 24/09/2023
written by Dr. Baby Akter

প্রচন্ড গরমের এ সময়ে পানির অভাবে শরীরের অনেক ক্ষতি হয়। তাই শরীরে প্রচুর পরিমাণে পানির প্রয়োজন হয়। শরীরে পানির ঘাটতি মেটাতে পান করতে পারেন আখের রস। আখের রস হল আখের সবচেয়ে বিশুদ্ধতম রূপ। আখের রস ভিটামিন ও মিনারেলের ভালো উৎস। ক্যালোরির পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন এবং ম্যাগনেসিয়াম মেলে এই রস থেকে। এতে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। দেহের টক্সিন নির্মূল করে প্রচুর এনার্জি বুস্ট করবে এই সুস্বাদু পানীয়।

ডায়াবেটিস রোগীরা অতিরিক্ত পরিমাণে খাবেন না আখের রস। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে তারপর খান।

আসুন জেনে নেওয়া যাক আখের রসের উপকারিতা কি

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা : 

আখে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। দেহের টক্সিন নির্মুল করে প্রচুর এনার্জি বুস্ট করে শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে, ফলে অনেক ধরনের অসুস্থতা থেকে শরীর রক্ষা পায়। 

হাড় শক্ত করে : 

আখের রসে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন এবং পটাশিয়াম রয়েছে এসব উপাদান হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। 

এনার্জির ঘাটতি দূর হয় : 

আখের ভেতরে থাকা কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, আয়রন, পটাশিয়াম এবং অন্যান্য উপকারী উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এনার্জির ঘাটতি দূর করে। যারা সারাদিন অফিস করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন তারা ঝটপট এক গ্লাস আখের রস খেয়ে ফেলুন। দেখবেন একেবারে চাঙ্গা হয়ে উঠবেন। 

কিডনির কর্মক্ষমতা : 

আখের রস কিডনি জটিলতা বা স্টোনের মতো সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। প্রসঙ্গত, কিডনি ফাংশনকে ঠিক রাখতেও আখের রসে উপস্থিত একাধিক উপকারী উপাদান এর কোন বিকল্প নেই বললেই চলে।  

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রোধ:

আখে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। দেহে দুর্বলভাবও কমায় আখের রস। ফাইবার কোলেস্টেরলের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

লিভার সুস্থ রাখে: 

লিভারকে সুস্থ রাখতে আখের রস দারুণ কাজে আসে। সেই কারণেই তো জন্ডিসের প্রকোপ কমাতে রোগীকে আখের রস খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। শুধু তাই নয়, শরীরের পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি প্রোটিনের চাহিদা মেটাতেও আখ বিশেষ ভূমিকা রাখে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে: 

ডায়াবেটিসের রোগীরা সাধারণত আখের রস এড়িয়ে চলেন। অথচ বিভিন্ন গবেষণা বলছে, আখের মধ্যে আইসোম্যাল্টোজ নামক উপাদানটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করে। টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার পরিমাণ হঠাৎ নেমে গেলে আখের রস পানে তাৎক্ষণিক উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া হাইপোগ্লাইসিমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে উপকারী আখের রস। তবে কী পরিমাণে আখের রস খেতে হবে তা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে নেয়া ভালো। 

ত্বকের যত্ন: 

আখের রস আমাদের হাইড্রেটেড রাখে। ফলে ভালো থাকে ত্বক ও চুল। এতে থাকা আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড ত্বক ভালো রাখার জন্য সহযোগিতা করে। এছাড়া ব্রণের সমস্যা দূর করণেও সহায়ক আখের রস।

ওজন কমায় : 

এটি শরীরের বিপজ্জনক কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হার্ট ভালো রাখে। আখের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। 

দাঁতের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে : 

আখ চিবিয়ে খেলে দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এছাড়া এতে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত মজবুত রাখে। 

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
জাম্বুরার পুষ্টিগুন ও খাওয়ার উপকারিতা
ফলের পুষ্টিগুণ

জাম্বুরার পুষ্টিগুন ও খাওয়ার উপকারিতা

by Dr. Baby Akter 23/09/2023
written by Dr. Baby Akter

বর্ষার শেষ পর্যায় থেকে শুরু করে শীত আসার আগ পর্যন্ত জাম্বুরার পূর্ণ মৌসুম। বাজারে এই সময়কালে প্রচুর পাওয়া যায় এই ফল। ভিটামিন আর খনিজ উপাদানে পরিপূর্ণ জাম্বুরা খাওয়ার উপকারিতা অনেক। একটি পরিপক্ব জাম্বুরা থেকে ভিটামিন-এ, ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-২, বায়োফ্লাভোনয়েডস, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, হেলদি ফ্যাট, প্রোটিন এবং এনজাইমসের মতো নানা পুষ্টিগুণ যেমন মিলে তেমনি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও এর জুড়ি নেই। জ্বর, ঠান্ডা কিংবা কাশির মতো সমস্যাতেও জাম্বুরা ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহায়তা করে।

জন্ডিসের রোগীকে জাম্বুরা বা তার রস খাওয়ানোর একটা প্রথা বহুদিন ধরে চালু আছে আমাদের দেশে। এ কথা আধুনিক বিজ্ঞানও প্রমাণ করেছে যে, জাম্বুরা জন্ডিসের সমস্যায় লিভার টনিক হিসেবে ভালো কাজ করে।

জাম্বুরার পুষ্টি উপাদান সমূহঃ

প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যযোগ্য জাম্বুরায় রয়েছে: খাদ্যশক্তি ৩৮ কিলোক্যালরি, প্রোটিন ০.৫ গ্রাম, স্নেহ ০.৩ গ্রাম, শর্করা ৮.৫ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ১ গ্রাম, থায়ামিন ০.০৩৪ মিলি গ্রাম, খনিজ লবণ ০.২০ গ্রাম, রিবোফ্লেভিন ০.০২৭ মিলি গ্রাম, নিয়াসিন ০.২২ মিলি গ্রাম, ভিটামিন বি-২ ০.০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি৬ ০.০৩৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ১০৫ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ১২০ মাইক্রোগ্রাম, আয়রন ০.২ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৭ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ৬ মিলিগ্রাম, ম্যাংগানিজ ০.০১৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৭ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ২১৬ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ১ মিলিগ্রাম,

জাম্বুরা খাওয়ার উপকারিতা

  • জাম্বুরায় থাকা প্রোটিন এবং ফাইবার দীর্ঘ সময়ের জন্য পেটে থাকে। ফলে বাড়তি ক্ষুধা লাগে না এবং ক্যালোরি গ্রহণ কম হয়। এছাড়া জাম্বুরায় কারনিটিন পামিটয়েলট্রানসফারেজ নামের এক ধরনের উৎসেচক আছে। এটা শরীরের ওজন কমাতে সহায়ক। 
  • আমাদের দৈনিক ফাইবারের চাহিদার বেশ বড় একটি অংশ পূরণ করতে পারে জাম্বুরা। ফাইবার খেলে হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। এছাড়া অন্ত্রে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে ফাইবার। 
  • জাম্বুরা খেলে রক্তে কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ কমে। এতে হৃদরোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব হয়।
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ জাম্বুরা ক্যানসারের মতো রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে। জাম্বুরায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। সেইসাথে অন্যান্য বেশ কয়েকটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগও মেলে ফলটি থেকে।
  • রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে জাম্বুরায় থাকা কিছু উপাদান।
  • জাম্বুরায় থাকা পটাশিয়াম রক্তনালি প্রসারিত করে ও রক্তচাপ কমায়। 
  • সাইট্রাস ফলটিতে থাকা ভিটামিন সি হুট ঘনঘন জ্বর আসা বা সর্দি লাগা প্রতিরোধ করতে সক্ষম। মুখের ঘা সারাতেও এর ভূমিকা রয়েছে। 
  • খাবারের রুচি বাড়াতে জাম্বুরা বেশ কার্যকর। 
  • জাম্বুরায় স্পারমেডিন নামের একটি বিশেষ উপাদান রয়েছে। এটি বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়তা করে।
  • জাম্বুরায় প্রচুর পরিমাণে পানি ও ভিটামিন সি থাকে। ফলে নিয়মিত ফলটি খেলে ভালো থাকে ত্বক। 
  • পেটের সমস্যা দূর করতে কিংবা যারা ডায়েটে আছেন তারাও বেছে নিতে পারেন এ ফলটি।
  • জাম্বুরাতে অন্য যেকোনো লেবুর মতোই প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। ভিটামিন সি-এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এই ছোটখাটো নানা অসুখ-বিসুখের সঙ্গে লড়াই করার শক্তি দেয়।
  • যাদের দাঁতের ব্যথার সমস্যা আছে তাদের জন্যও জাম্বুরা খুবই উপকারী একটি ফল।
  • ঠান্ডা, সর্দি-জ্বর ইত্যাদি সমস্যায় জাম্বুরা বেশ উপকারী। যাদের অল্পতেই ঠান্ডা লাগে, তারা প্রতিদিন জাম্বুরা খেতে পারেন।
  • যারা প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বক ভালো রাখতে চান। তাদের ক্ষেত্রে জাম্বুরা ত্বক উজ্জ্বল করতে, ব্রণের সমস্যা দূর করতে বেশ কার্যকর। 
  • ক্যানসারসহ যাদের ইউরিনের সমস্যা আছে তাদের জন্যও জাম্বুরা উপকারী একটি ফল।

একটু খেয়াল রাখা প্রয়োজন, জাম্বুরা বেশ টক, নিয়মিত খেলে আপনার দাঁতের এনামেলের ক্ষতি হতে পারে। তাই যাদের দাঁত খুব সেনসিটিভ, তারা জাম্বুরা খাওয়ার পর কুলকুচা করে দাঁত পরিষ্কার করে নেবেন । 

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
পেয়ারার পুষ্টিগুণ
ফলের পুষ্টিগুণ

পেয়ারার পুষ্টিগুণ ও খাওয়ার উপকারিতা

by Dr. Baby Akter 23/09/2023
written by Dr. Baby Akter

দেশীয় ফল দামে সস্তা ও সহজলভ্য সারা বছর পাওয়া যায়, এমন একটি ফল পেয়ারা। পেয়ারা ভর্তা, পেয়ারা জেলী নানাভাবে খাওয়া যায় মজাদার এই ফলটি। শুধু ফল নয়, পেয়ারা পাতায়ও রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যা আমলকী ছাড়া অন্য যে কোনো ফলে পাওয়া যায় না। অন্যান্য ফলের তুলনায় পেয়ারার পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরকে বিভিন্ন রোগের সঙ্গে যুদ্ধ করার শক্তি প্রদান করে। প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি ও লাইকোপেনসমৃদ্ধ পেয়ারা। 

পেয়ারার বিশেষ পাঁচটি গুণের মধ্যে রয়েছে, ১. ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী, ২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ৩. চোখের জন্য ভালো, ৪. পেটের জন্য উপকারী এবং ৫. ক্যানসার প্রতিরোধী।

পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা

ডায়াবেটিস রোধে

নিয়মিত পেয়ারা খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। কারণ পেয়ারায় যে আঁশ আছে, তা শরীরে চিনি শোষণ কমাতে পারে।

রোগ প্রতিরোধে

পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি রয়েছে। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরকে বিভিন্ন রোগের সাথে যুদ্ধ করার শক্তি প্রদান করে।

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে

ভিটামিন এ চোখের জন্য উপকারী। এতে থাকা ভিটামিন এ কর্নিয়াকে সুস্থ রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পেয়ারা রাখুন। কাঁচা পেয়ারা ভিটামিন এ এর ভাল উৎস।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পেয়ারা খেলে রক্তচাপ ও রক্তের লিপিড কমে আসে। পেয়ারাতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। লাইকোপিনসমৃদ্ধ গোলাপি পেয়ারা নিয়মিত খেলে তা কার্ডিওভাস্কুলার রোগের ঝুঁকিও কমিয়ে আনতে সহায়তা করে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস

পেয়ারাতে লাইকোপিন, ভিটামিন সি, কোয়ারসেটিন এর মত অনেকগুলো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে যা শরীরের ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধি রোধ করে। এটি প্রোসটেট ক্যান্সার এবং স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

ত্বক ও চুলের পরিচর্যায়

পেয়ারা ত্বকের রূক্ষ ভাব দূর করে ও শীতে পা ফাটা রোধ করে। এই ফলে প্রচুর পরিমাণ পানি থাকে, যা ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। দীর্ঘদিন তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।  

পেটের সমস্যায়

পেয়ারা ফলের রস কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয়সহ পেটের অসুখ সারাতে খুব ভালো কাজ করে। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ বা পেটের গোলযোগে সবচেয়ে কার্যকরী হলো এই ফল। পেয়ারা ওজন কমাতেও সাহায্য করে। 

স্ট্রেস দূর করে

পেয়ারা পেশি আর স্নায়ুর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। চাপ কমায়, শক্তি বাড়ায় ও স্ট্রেস দূর করতে দারুণ কাজ করে। ।

মাসিকের ব্যাথা নিরাময়

অনেক নারীরই মাসিককালিন পেট ব্যাথা হয়। এ সময় অনেকেই ব্যাথার ঔষধ খেয়ে থাকেন। কিন্তু এ সময় পেয়ারার পাতা চিবিয়ে বা রস খেলে মাসিককালিন ব্যাথা থেকে অধিকতর দ্রুত উপশম পাওয়া যায়।

ডায়রিয়া রোধে

ডায়রিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে পারে এই ফল। পেয়ারা খেলে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা কমে। এ ছাড়া এই ফলের রয়েছে ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা।

পেয়ারার ১০টি পুষ্টিগুণ

১. শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-সমৃদ্ধ পেয়ারা পাতার জুস গ্যাস্ট্রাইটিসের সমস্যায় উপকারী।
২. পেয়ারা ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং এই ফলের রস সর্দি-কাশি, কোষ্ঠকাঠিন্য ও আমাশয়সহ পেটের অসুখ সারাতে পারে।
৩. এটি রক্তসঞ্চালন ঠিক রাখে এবং কোলেস্টরেল নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা পেয়ারা খেতে পারেন ৷
৪. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেয়ারা বেশ কাজ দেয়।
৫. এতে আছে যথেষ্ট পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ফলিক অ্যাসিড ও নিকোট্রিন অ্যাসিড।
৬. জটিল শর্করা ও তন্তুসমৃদ্ধ পেয়ারা রক্তের চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক।
৭. অ্যাজমা, স্কার্ভি, স্থুলতা, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ইত্যাদি অসুখের ক্ষেত্রেও পেয়ারা বেশ উপকারী।
৮. এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়, যা কমলালেবুর চেয়েও কয়েক গুণ বেশি।
৯. পেয়ারায় আছে ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স।
১০. বয়সের সঙ্গে জড়িত নানা রোগ যেমন: স্মৃতিভ্রংশ (আলঝেইমার), চোখের ছানি, আর্থরাইটিস বা হাঁটুব্যথা প্রতিরোধে সহায়তা করে।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

Recent Posts

  • ইফতারের পর চা খেলে কি হয়
  • রমজানে পর্যাপ্ত না ঘুমালে কী হয়
  • মাথা ব্যথার কারন ও মুক্তির উপায়
  • এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 
  • এনাল ফিসার কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

Recent Comments

No comments to show.

আমাদের সম্পর্কে

banner

প্রকৃতির মাঝেই লুকিয়ে আছে নিরাময়ের সকল উপাদান। তাই সুস্থতা ও প্রশান্তির আরেক নাম প্রকৃতি। প্রকৃতির সাথে নিজেকে একাত্ম করুন, প্রাকৃতিক নিয়মেই আপনি সুস্থ থাকবেন প্রশান্ত থাকবেন। প্রকৃতির মাঝে ছড়িয়ে থাকা এই অসংখ্য উপাদান আর তার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সৃষ্টির আদি থেকে এখনো পর্যন্ত মানুষ সুস্থতার যে উপায়গুলি মানব কল্যানে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে সেসব তথ্য উপাত্তকে গুছিয়ে নতুন আঙ্গিকে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ

  • 1

    এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 

  • 2

    শীতকালীন বিভিন্ন রোগ এবং প্রাকৃতিক প্রতিকার

  • 3

    প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া উপায়ে বন্ধ্যাত্ব রোগ নিরাময় করুন

  • 4

    শারীরিক সুস্থতার জন্য শাক-সবজি খাওয়ার সঠিক নিয়ম

Back Next

প্রয়োজনীয় লিংক সমুহ

  • চিকিৎসার ইতিহাস ও গবেষণা
  • প্রসূতি এবং শিশু স্বাস্থ্য
  • গোপনীয়তার নীতি
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • Facebook
  • Twitter
  • Whatsapp

@2023 - All Right Reserved by MIL HOMEO


Back To Top
MIL HOMEO
  • মুল পাতা
  • প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য
    • আয়ুর্বেদ চিকিৎসা
    • ঘরোয়া চিকিৎসা
    • ভেষজ উপাদান
    • ভেষজ চিকিৎসা
  • রোগব্যাধি ও প্রতিকার
    • শারীরিক রোগ
      • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ
      • চর্মরোগ
        • আঁচিল বা তিল
      • জ্বর
        • টাইফয়েড জ্বর
        • ডেঙ্গু জ্বর
        • ম্যালেরিয়া
      • পায়ুপথের রোগ
      • কান পাকা রোগ
      • কৃমি রোগ
      • বন্ধ্যাত্ব রোগ
      • নাসা রোগ
      • শীতকালীন রোগব্যাধি
      • সংক্রামক রোগ
      • সাইনোসাইটিস
      • স্নায়ু রোগ
    • মনরোগ
    • শিশু রোগ
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • সুস্থ জীবনধারা
    • ক্ষতিকর অভ্যাস
    • খাদ্যাভ্যাস
    • তামাক ও মাদক বর্জন
    • পানীয় জল এবং হাইড্রেশন
    • ভালো ঘুমের অভ্যাস
    • রূপচর্চা ও চুলের যত্ন
    • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
    • স্বাস্থ্যকর শখ
  • ব্যায়াম ও ফিটনেস
    • ওজন প্রশিক্ষণ
    • ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা
    • ঘরে বসে ফিটনেস
    • বয়স্কদের ব্যায়াম
    • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
    • স্ট্রেচিং এবং মবিলিটি
  • মানসিক স্বাস্থ্য
    • অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা
    • আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে ভালোবাসা
    • ডিপ্রেশন ও প্রতিকার
    • মানসিক চাপ ও সমাধান
    • মেডিটেশন ও মননশীলতা
    • পরিবার ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য
  • খাদ্য ও পুষ্টি
    • আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
    • ওজন কমানোর খাদ্য পরিকল্পনা
    • ওজন বাড়ানোর পুষ্টি পরিকল্পনা
    • খাদ্য তালিকা এবং পরামর্শ
      • রোগের খাবার
    • পুষ্টিগুণ
      • শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
      • ফলের পুষ্টিগুণ
    • ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
    • স্বাস্থ্যকর রেসিপি
  • হোমিও চিকিৎসা