MIL HOMEO
প্রকৃতির সাথে থাকুন, সুস্থ থাকুন
  • মুল পাতা
  • প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য
    • আয়ুর্বেদ চিকিৎসা
    • ঘরোয়া চিকিৎসা
    • ভেষজ উপাদান
    • ভেষজ চিকিৎসা
  • রোগব্যাধি ও প্রতিকার
    • শারীরিক রোগ
      • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ
      • চর্মরোগ
        • আঁচিল বা তিল
      • জ্বর
        • টাইফয়েড জ্বর
        • ডেঙ্গু জ্বর
        • ম্যালেরিয়া
      • পায়ুপথের রোগ
      • কান পাকা রোগ
      • কৃমি রোগ
      • বন্ধ্যাত্ব রোগ
      • নাসা রোগ
      • শীতকালীন রোগব্যাধি
      • সংক্রামক রোগ
      • সাইনোসাইটিস
      • স্নায়ু রোগ
    • মনরোগ
    • শিশু রোগ
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • সুস্থ জীবনধারা
    • ক্ষতিকর অভ্যাস
    • খাদ্যাভ্যাস
    • তামাক ও মাদক বর্জন
    • পানীয় জল এবং হাইড্রেশন
    • ভালো ঘুমের অভ্যাস
    • রূপচর্চা ও চুলের যত্ন
    • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
    • স্বাস্থ্যকর শখ
  • ব্যায়াম ও ফিটনেস
    • ওজন প্রশিক্ষণ
    • ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা
    • ঘরে বসে ফিটনেস
    • বয়স্কদের ব্যায়াম
    • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
    • স্ট্রেচিং এবং মবিলিটি
  • মানসিক স্বাস্থ্য
    • অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা
    • আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে ভালোবাসা
    • ডিপ্রেশন ও প্রতিকার
    • মানসিক চাপ ও সমাধান
    • মেডিটেশন ও মননশীলতা
    • পরিবার ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য
  • খাদ্য ও পুষ্টি
    • আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
    • ওজন কমানোর খাদ্য পরিকল্পনা
    • ওজন বাড়ানোর পুষ্টি পরিকল্পনা
    • খাদ্য তালিকা এবং পরামর্শ
      • রোগের খাবার
    • পুষ্টিগুণ
      • শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
      • ফলের পুষ্টিগুণ
    • ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
    • স্বাস্থ্যকর রেসিপি
  • হোমিও চিকিৎসা

শাক-সবজির পুষ্টিগুণ

পালংশাকের গুনাগুন ও উপকারিতা
শাক-সবজির পুষ্টিগুণ

জেনে নিন পালংশাকের কিছু অসাধারণ গুণ ও উপকারিতা

by Dr. Baby Akter 15/10/2023
written by Dr. Baby Akter

সবুজ শাক-সবজির মধ্যে এক অতি পরিচিত নাম হলো পালংশাক। এর অধিক পুষ্টিগুণের কারণে সুদীর্ঘকাল ধরে পনির দিয়ে, আলু দিয়ে, মাছ দিয়ে, মাংস দিয়ে কিংবা এমনি খেয়ে আসছে।  প্রায় সারা বছর পাওয়া গেলেও শীতে পালংশাক বাজারে বেশী পাওয়া যায় এবং দামেও সাশ্রয়ী। পালংশাকের মধ্যে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা। তাই নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন এই পুষ্টিকর পালংশাক।

সুদীর্ঘকাল ধরে কিছু আলাদা পুষ্টিগুণ ও উপকারিতার কারণে মানুষের খাদ্য তালিকায় অধিক জনপ্রিয় পালংশাক, আছে রোগ প্রতিরোধের অসাধারণ ক্ষমতা।

পালংশাকের গুনাগুন ও উপকারিতা

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি 

পালংশাকে জেক্সানথিন, লুটিন ও ক্লোরোফিল উপাদান থাকার কারণে মানুষের দৃষ্টিশক্তি রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে।

হাড়ের গঠন মজবুত করে 

পালংশাকে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, আঁশ, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। পালংশাক ভিটামিন কে–এর বড় উৎস। এসবই হাড়ের গঠন মজবুত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়। এই ভিটামিন অস্টিওক্যালক নামের একটি প্রোটিন উৎপাদন করে থাকে। অস্টিওক্যালক হাড়ে ক্যালসিয়ামকে স্থিতিশীল রাখে। 

ক্যান্সার প্রতিরোধে

পালংশাকে ১৩ ধরনের ফাভোনয়েডস থাকার কারণে এটি ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে খুবই কার্যকর।

ভিটামিন সি–এর উৎস 

পালংশাকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকার কারণে এটিকে ভিটামিন সি–এর বড় উৎস বলা হয়। আমাদের শরীরে ভিটামিন সি এর প্রয়োজনীতা অত্যধিক। ভিটামিন সি মানুষের চোখের রোগ এবং কপালের বলিরেখা দূর করতে পারে, প্রসবপূর্ব সময়ে মায়েদের স্বাস্থ্যের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পালংশাকে লুটিন থাকে যা ধমনির গা মোটা হওয়া ঠেকিয়ে মানুষের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। এ ছাড়া এটি  কার্ডিওভাসকুলার রোগ দূর করতে সক্ষম। 

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

পালংশাক পেট পরিষ্কার রাখতে অপরিহার্য। পালংশাকে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ এবং বিটা কেরোটিন থাকায় তা মানুষের কোলনের কোষগুলোকে রক্ষা করে। পালং পাতার রস খেলে মেদ বৃদ্ধি কমে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে।  

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে

পালংশাকে থাকা জেক্সানথিন, লুটিন ও ক্লোরোফিল মানুষের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়, এবং এতে প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেলস থাকায় এটি মেয়েদের মাসিকজনিত সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।

ডায়াবেটিস রোগে 

ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য পালংশাক খুব উপকারী। এতে রয়েছে, ম্যাগনেশিয়াম তাই পালংশাক খেলে শরীরের শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। ফলে তরতাজা ও সতেজ থাকা যায়। 

কিডনিতে পাথর হলে 

যাদের কিডনিতে পাথর আছে তারা নিয়মিত পালং পাতার রস খেলে কিডনির পাথর গুঁড়ো হয়ে প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যাবে। তাছাড়া এই শাক দেহ ঠাণ্ডা ও স্নিগ্ধ রাখে ।

বাতের ব্যথা

পালংশাক মাইগ্রেন, মাথাব্যথা, অস্টিওপোরোসিস ও বাতের ব্যথা দূর করতে প্রদাহনাশক হিসেবে কাজ করে।

স্মৃতিশক্তি বাড়ায়

পালংশাকে প্রচুর আয়রন ও ভিটামিন ডি, আঁশ, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম এটি স্মৃতিশক্তি এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে খুবই উপকারী। তাছাড়া পালংশাক দাঁত ও হাড়ের ক্ষয়রোধে, রক্তস্বল্পতা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
শীতকালীন-শাকের-পুষ্টিগুণ-ও-উপকারিতা
শাক-সবজির পুষ্টিগুণ

শীতকালীন শাকের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

by Dr. Baby Akter 14/10/2023
written by Dr. Baby Akter

শীতের এই হিমেল আবহাওয়াতে বাজারে বাহারি ধরণের শাকের সমাহার। দেখতে যেমন সুন্দর, সতেজ তেমনি আছে পুষ্টিগুণও। শরীরের প্রয়োজনীয় যাবতীয় ভিটামিন ও মিনারেলস রয়েছে শীতকালীন সতেজ শাক-সবজিতে। দামে সস্তা, সহজলভ্য এবং খেতেও সুস্বাদু  শীতকালীন এইসব শাকে আছে রোগব্যাধি দূর করার অনেক ক্ষমতা। তাই জেনে নিন, শীতকালীন বিভিন্ন ধরণের শাকের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে।

স্বাস্থ্য সচেতনতায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে খাদ্য তালিকায় নিয়মিত রাখুন হরেক রকমের ভিটামিনসমৃদ্ধ শাক।

জেনে নিন, শীতে বিভিন্ন শাকের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

লালশাক 

শীতকালে একটি সহজলভ্য শাক হল লালশাক। যদিও সারা বছর এই শাক পাওয়া যায়। তবে শীতকালে অনেক বেশি সহজলভ্য এই লালশাক। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে হিমোগ্লোবিন এবং আয়রন যা অ্যানিমিয়া অর্থাৎ রক্তশূন্যতা, নিম্ন রক্তচাপ মানে লো-ব্লাড প্রেশার, দুর্বলতা, ক্রমশ শক্তি কমে যাওয়ার থেকে রক্ষা করে। তাছাড়া ডায়বেটিস রোগী, অস্টিও আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় লালশাক অত্যন্ত কার্যকরী। গর্ভবতী অবস্থা থেকে শিশুর জন্ম ও মাতৃদুগ্ধ পান পর্যন্ত লালশাক ভীষণ জরুরি। তাই এই শীতে লালশাক অবশ্যই খাওয়া উচিত।

পালংশাক

শীতকালীন শাকের মধ্যে পালংশাক খুব জনপ্রিয় এবং সুস্বাদু। বাজারে সহজলভ্য এই শাক ঝোল বা ভাজি যে কোন ভাবে রান্না করে খাওয়া যায়। পালংশাকে আছে উচ্চমাত্রায় ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন ‘এ’ যা রক্তচাপ কমায় এবং লিম্ফোসাইট বা রক্তের শ্বেত কণিকা দেহকে বিভিন্ন সংক্রমণ ও রোগ থেকে রক্ষা করে। এতে বিভিন্ন ধরণের ফ্ল্যাভোনয়েড থাকায় তা ক্যান্সার সহ বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে। তাছাড়া এতে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন এবং ফলিক এসিড যা চোখের ছানি পড়া, ত্বককে বাইরের আদ্রতা থেকে রক্ষা করে এবং হৃদ যন্ত্রের সুরক্ষা দেয়। তাই দৈনন্দিন রান্নায় এই শাক রেসিপিতে রাখতে পারেন।

সরিষা শাক

পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ শীতের আরেকটি শাক হল সরিষা শাক। এটি একটি সুস্বাদু শাক। সরিষা শাকের ভর্তা খুবই মুখরোচক। শীতের শুরুতে এই শাক বেশি পাওয়া যায়। এতে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সেলেনিয়াম, প্রোটিন ও ফাইবার যা আপনার হার্ট ভালো রাখে, রক্তের কোলস্টেরল কমায় এবং গর্ভবতী মায়েদের সুস্থ শিশু জন্মদানের সম্ভাবনা বাড়ায়।

সরিষা শাকে আছে শক্তিশালী এন্টি-অক্সিডেন্ট যা নানা রকম ভাইরাল অসুখ থেকে আপনাকে সুরক্ষা দেয়। এটি ভিটামিন ও মিনারেলের একটি সমৃদ্ধ উৎস। ভিটামিন এ, সি ও কে সৃমদ্ধ সরিষা শাক শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন ’এ‘ দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে, ভিটামিন ‘কে’ হাড়ের সুরক্ষা করে এবং মস্তিষ্ককে রাখে দারুণ সচল।

সরিষা শাক ঝোল, ভাঁজি, ভর্তা অনেক ভাবে খাওয়া যায়। তাই নিজেকে সুস্থ,সবল এবং স্বাস্থ্যবান রাখতে এটি নিয়মিত খেতে পারেন।  

মূলা শাক 

মুলা শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায় যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে দেহের রোগ প্রতিরোধ করে। এছাড়াও এতে  পটাসিয়াম, মলিবডেনাম, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স সমৃদ্ধ ফলিক এসিড রয়েছে। মূলা শাক অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান সমৃদ্ধ সবজি, মুলা শাক খেলে অ্যালার্জি ও হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। শীতকালীন হাতের নাগালে পাওয়া যায় এই শাক। মুক্তমূলক পরিষ্কারক এবং দেহের ব্লাড সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। মূলা শাক অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে অ্যালার্জি ও হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। তবে যাদের কিডনি বা পিত্তথলির বিভিন্ন সমস্যা আছে তাদের মুলা শাক কম খাওয়া উচিত। 

পুঁই শাক

শীতে বাজারে প্রচুর পরিমানে পুইশাঁক পাওয়া যায়। অন্যান্য অনেক শাকের মত এর মধ্যে অনেক ভিটামিন ‘এ’ ভিটামিন ‘সি’ লোহা, ও ক্যালসিয়াম আছে। এই শাক নানাভাবে রান্না করে খাওয়া যায়। ভাজিও খাওয়া যায়। আবার মাছ দিয়ে রান্না করে অনেকে। এছাড়া ক্যালরির ঘনত্ব কম। তদুপরি ক্যালরি-প্রতি আমিষের পরিমাণও বেশি। পুইশাঁক গনোরিয়া রোগে ও পাইলস রোগে খুব উপকারী। পুঁই শাকের পাতার রস ছোটদের সর্দি, কোষ্ঠবদ্ধতার জন্য অধিক কার্যকরী। 

পেঁয়াজ পাতা

শীতে পেঁয়াজপাতা একটি বেশ জনপ্রিয় শাক যা ভাজি বা বিভিন্ন তরকারির সাথে মিক্স করে রান্না করা যায়। আবার পেঁয়াজপাতার বড়াও খেতে অনেক মজাদার। এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকার বয়ে আনে। অ্যান্টি-ভাইরাল ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকায় পেঁয়াজ পাতা সাধারণ ঠাণ্ডা, ফ্লু ও ভাইরাল ইনফেকশনের ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বহুকাল ধরে। ভিটামিন ‘সি‘ ভিটামিন বি-১২ এবং থায়ামিন সমৃদ্ধ এই পাতা কোলেস্টেরল ও রক্ত চাপের উচ্চ মাত্রাকে কমাতে সাহায্য করে। উচ্চ মাত্রার ফাইবার থাকার কারণে যাদের খাবারের রুচিহীনতা এবং হজমের সমস্যা ভুগছেন তাদের জন্য পেঁয়াজপাতা খুব উপকারী। 

তাছাড়া উচ্চ মাত্রার ভিটামিন ‘সি’ কোলাজেনের সমন্বয় সাধনে কাজ করে যা হাড়কে শক্তিশালী করে এবং লুটেইন ও জেনান্থিন নামক ক্যারোটিনয়েডের উপস্থিতির জন্য চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং স্বাভাবিক দৃষ্টির রক্ষণাবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বথুয়া বা বেথো শাক

শীতকালীন শাকের মধ্যে খুব মজাদার ও সুস্বাদু এই বথুয়া বা বেথো শাক। এ শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফসফরাস, জিংক যা পিত্ত, লিভারের সমস্যা, মুখে ঘাঁ ও ত্বকে শ্বেতির মতো সমস্যা নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকরী! বেথো শাক বেটে তার সঙ্গে ২ চামচ জিরার গুঁড়ো, ২ চামচ পাতিলেবুর রস মিশিয়ে শরবত বানিয়ে দিনে দুইবার খেলে  প্রস্রাবের জ্বালা ভালো হয়ে যায়। প্রতিদিন ১ কাপ বেথো শাক রস খেলে কিডনি পাথুরি রোগে উপকার পাওয়া যায়। বেথো শাক ডাল বা চিংড়ী দিয়ে রান্না করলে খেতে বেশি মজাদার হয়।  

লাউ শাক

হরেক রকম শীতের শাকের মধ্যে লাউ শাক দেখতে যেমন লোভনীয় খেতেও তেমনি সুস্বাদু। অনেক ধরণের রেসিপি করে লাউ শাক খাওয়া যায়। মাজার বিষয় হল, বাচ্চারাও লাউশাক ভাঁজা খুব পছন্দ করে। লাউ শাকে প্রচুর আঁশ থাকার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং পাইলস প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। এছাড়া লাউ শাকে রয়েছে লুটেইন, বিটা-ক্যারোটিন এবং জিয়েজ্যান্থিন যা রোগ প্রতিরোধ করে। ক্যালরি কম থাকায় ওজন কমানোর জন্য লাউ শাক উপকারী এবং হার্টের পক্ষেও খুব ভালো।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
শীতকালীন শাক-সবজির উপকারিতা
শাক-সবজির পুষ্টিগুণ

শক্তিশালী পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ শীতকালীন শাক-সবজির উপকারিতা

by Dr. Baby Akter 06/10/2023
written by Dr. Baby Akter

আমাদের দেশে শীতের সময় বাজারে বেশি দেখা যায় সবজি – ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, ব্রকলি, শালগম, পালংশাক, পেঁয়াজকলি, মটরশুঁটি, লাউ প্রভৃতি। এসব সবজি যেমন সুস্বাদু তেমনি এর পুষ্টিও বেশি। তাই শীতে পুষ্টিমান বাড়াতে প্রচুর শাকসবজি গ্রহণ করুন। পুষ্টিবিদদের মতে, শীতকালীন সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, বিটা-ক্যারোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ফলিক এসিড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন প্রভৃতি। শরীরে রক্তকণিকা বা প্লাটিলেড গঠনে ও অস্থিক্ষয় রোধে শীতকালীন শাকসবজির ভূমিকা অপরিসীম। শীতকালীন সবজিতে বিদ্যমান ভিটামিন-‘ই’ চুলপড়া রোধ করে এবং মুটিয়ে যাওয়ার সমস্যা থেকে রক্ষা করে। তাই সুস্থ ও সুন্দর থাকার জন্য প্রচুর পরিমাণে শীতকালীন শাকসবজি গ্রহণ করা উচিত। আসুন জেনে নিই কোন সবজিতে কী ধরনের পুষ্টি বেশি।

পুষ্টিবিদদের মতে, শীতকালীন সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, বিটা-ক্যারোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ফলিক এসিড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন প্রভৃতি তাই সুস্থ ও সুন্দর থাকার জন্য প্রচুর পরিমাণে শীতকালীন শাকসবজি গ্রহণ করা উচিত।

শীতের কয়েকটি সবজি ও তাদের পুষ্টিগুণ

ফুলকপি

ফুলকপির সালফারযুক্ত সালফোরাফেন উপাদান ক্যানসার কোষ ধ্বংস করে। ভিটামিন এ, বি, সি ও ভিটামিন কে আছে প্রচুর। এ ছাড়া আছে আয়রন, সালফার, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও ফাইবার। রক্তচাপ কমায়। হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে। ফুলকপির ভিটামিন এ ও সি  শীতকালীন ঠান্ডা, জ্বর, সর্দি, কাশি ও টনসিলের প্রদাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখে। ফাইবার ও সালফারসমৃদ্ধ ফুলকপি পরিপাকে সহায়তা করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। 

বাঁধাকপি 

ভিটামিন ‘সি’ ও ‘কে’ সহ বাঁধাকপির পাতার মোড়কে আছে নানা পুষ্টিগুণ। বাঁধাকপিতে বিদ্যমান গ্লুকোসিনোলেট নামের উপাদান ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক। এর ফলিক এসিড বা ফলট রক্ত বাড়ায়, গর্ভস্থ শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করে। গবেষণা বলছে, পাতা দিয়ে মোড়া এ ধরনের সবজি রক্তে চর্বি ও শর্করা কমায়। বাঁধাকপি আঁশেরও চমৎকার উৎস, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

গাজর

গাজরে থাকে ফাইবার, যা হজমক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বয়সের ছাপ দূর করে, ত্বককে করে উজ্জ্বল আর লাবণ্যময়।

যাঁরা নিয়মিত গাজর খান তাঁদের ব্রেস্ট ক্যান্সার, কোলন ও ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। গাজর খেলে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়। এতে পটাসিয়াম থাকে, যা রক্তপ্রবাহ ঠিক রাখে। হার্ট সুস্থ রাখতে, কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রোজকার খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন গাজর। এ ছাড়া বর্জ্যপদার্থ নিষ্কাশন করে লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়াতে গাজর বেশ উপকারী। 

শিম

যাঁরা নিরামিষভোজী এবং মাছ–মাংস যেকোনো কারণে খেতে পারছেন না, তাঁরা কিন্তু খুব সহজেই শিম, বরবটি, মটরশুঁটি, শিমের বিচি থেকে আমিষের চাহিদা পূরণ করতে পারেন। এটি আমিষের খুব ভালো উৎস। এতে আছে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পানি, যা রক্তে কোলেস্টেরল কমায়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। শিশুদের অপুষ্টি দূর করে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। 

তবে যাঁরা কিডনির রোগে ভুগছেন, তাঁরা বেশি শিম খাবেন না।

মুলা

মুলায় প্রচুর পানি থাকায় শরীরকে ডি-হাইড্রেট হওয়া থেকে রক্ষা করে। হজমশক্তি বাড়াতে, হার্ট ভালো রাখতে, শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে, এমনকি ক্যান্সার প্রতিরোধও করে থাকে এই মুলা। মুলার পাতায় ভিটামিন এ–এর পরিমাণ বেশি। প্রচুর বিটা ক্যারোটিন, আয়রন ও ভিটামিন সি আছে। ভিটামিন ‘সি’, জিংক ও ফসফরাস, যা ব্রণজনিত সমস্যা দূর করে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং র‌্যাশ ওঠা থেকে সুরক্ষা দেয়। যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁদের জন্য এটা বেশ ভালো খাবার। মুলায় খুব কম পরিমাণ ক্যালরি থাকে যাতে দীর্ঘ সময় পেট ভরার অনুভূতি জাগায়। 

টমেটো

টমেটো রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসও কমাতে সাহায্য করে। ত্বককে সতেজ রাখে। টমেটোতে লুটিন ও লাইকোপিন নামে কেরাটিনয়েড আছে, যা দৃষ্টি ও চোখের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে। প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে বলে ক্যানসার প্রতিহত করে। টমেটো ভালো করে ধুয়ে খেতে হবে। ম্যালিক ও সাইট্রিক অ্যাসিড বেশি থাকায় অনেক টমেটো একসঙ্গে খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।

ব্রকোলি

ব্রোকলিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ক্যালসিয়াম বিদ্যমান। শীতকালীন সবজি হিসেবে ব্রকোলি বর্তমানে দেশেও চাষ করা হচ্ছে। এটি চোখের রোগ, রাতকানা, অস্থি বিকৃতি প্রভৃতির উপসর্গ দূর করে ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

লাউ

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে লাউকে পথ্য হিসেবে ধরা হয়। লাউ খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে, অনিদ্রার সমস্যাতেও উপকারী এটি। এ ছাড়াও রয়েছে ভিটামিন ‘কে’, ভিটামিন ‘ই’ ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘এ’, ফাইবার,আয়রন, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম ও জিঙ্ক। লাউয়ের জিঙ্ক উপাদানটি আমাদের দেহকে হৃদরোগ থেকে রক্ষা করে। লাউ মূলত পানিপূর্ণ ঠাণ্ডাজাতীয় একটি সবজি। এতে সবচেয়ে বেশি রয়েছে পানি, যা আমাদের দেহকে সহজেই পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করে। 

পালংশাক

পালংশাক উচ্চমানের পুষ্টিগুণসম্পন্ন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এর ক্যারোটিনয়েডস ও শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রস্টেট ক্যানসার ও ওভারিয়ান ক্যানসার প্রতিরোধ করে। পালংশাকে থাকা  প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম ও আয়রন হৃদরোগ ও কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করে। 

যাঁদের ইউরিক অ্যাসিড এর সমস্যা রয়েছে, তাঁরা সপ্তাহে ১ দিন ৩০ গ্রাম করে খেতে পারবেন।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail

Recent Posts

  • ইফতারের পর চা খেলে কি হয়
  • রমজানে পর্যাপ্ত না ঘুমালে কী হয়
  • মাথা ব্যথার কারন ও মুক্তির উপায়
  • এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 
  • এনাল ফিসার কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

Recent Comments

No comments to show.

আমাদের সম্পর্কে

banner

প্রকৃতির মাঝেই লুকিয়ে আছে নিরাময়ের সকল উপাদান। তাই সুস্থতা ও প্রশান্তির আরেক নাম প্রকৃতি। প্রকৃতির সাথে নিজেকে একাত্ম করুন, প্রাকৃতিক নিয়মেই আপনি সুস্থ থাকবেন প্রশান্ত থাকবেন। প্রকৃতির মাঝে ছড়িয়ে থাকা এই অসংখ্য উপাদান আর তার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সৃষ্টির আদি থেকে এখনো পর্যন্ত মানুষ সুস্থতার যে উপায়গুলি মানব কল্যানে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে সেসব তথ্য উপাত্তকে গুছিয়ে নতুন আঙ্গিকে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ

  • 1

    এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 

  • 2

    শীতকালীন বিভিন্ন রোগ এবং প্রাকৃতিক প্রতিকার

  • 3

    প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া উপায়ে বন্ধ্যাত্ব রোগ নিরাময় করুন

  • 4

    শারীরিক সুস্থতার জন্য শাক-সবজি খাওয়ার সঠিক নিয়ম

Back Next

প্রয়োজনীয় লিংক সমুহ

  • চিকিৎসার ইতিহাস ও গবেষণা
  • প্রসূতি এবং শিশু স্বাস্থ্য
  • গোপনীয়তার নীতি
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • Facebook
  • Twitter
  • Whatsapp

@2023 - All Right Reserved by MIL HOMEO


Back To Top
MIL HOMEO
  • মুল পাতা
  • প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য
    • আয়ুর্বেদ চিকিৎসা
    • ঘরোয়া চিকিৎসা
    • ভেষজ উপাদান
    • ভেষজ চিকিৎসা
  • রোগব্যাধি ও প্রতিকার
    • শারীরিক রোগ
      • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ
      • চর্মরোগ
        • আঁচিল বা তিল
      • জ্বর
        • টাইফয়েড জ্বর
        • ডেঙ্গু জ্বর
        • ম্যালেরিয়া
      • পায়ুপথের রোগ
      • কান পাকা রোগ
      • কৃমি রোগ
      • বন্ধ্যাত্ব রোগ
      • নাসা রোগ
      • শীতকালীন রোগব্যাধি
      • সংক্রামক রোগ
      • সাইনোসাইটিস
      • স্নায়ু রোগ
    • মনরোগ
    • শিশু রোগ
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • সুস্থ জীবনধারা
    • ক্ষতিকর অভ্যাস
    • খাদ্যাভ্যাস
    • তামাক ও মাদক বর্জন
    • পানীয় জল এবং হাইড্রেশন
    • ভালো ঘুমের অভ্যাস
    • রূপচর্চা ও চুলের যত্ন
    • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
    • স্বাস্থ্যকর শখ
  • ব্যায়াম ও ফিটনেস
    • ওজন প্রশিক্ষণ
    • ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা
    • ঘরে বসে ফিটনেস
    • বয়স্কদের ব্যায়াম
    • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
    • স্ট্রেচিং এবং মবিলিটি
  • মানসিক স্বাস্থ্য
    • অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা
    • আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে ভালোবাসা
    • ডিপ্রেশন ও প্রতিকার
    • মানসিক চাপ ও সমাধান
    • মেডিটেশন ও মননশীলতা
    • পরিবার ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য
  • খাদ্য ও পুষ্টি
    • আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
    • ওজন কমানোর খাদ্য পরিকল্পনা
    • ওজন বাড়ানোর পুষ্টি পরিকল্পনা
    • খাদ্য তালিকা এবং পরামর্শ
      • রোগের খাবার
    • পুষ্টিগুণ
      • শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
      • ফলের পুষ্টিগুণ
    • ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
    • স্বাস্থ্যকর রেসিপি
  • হোমিও চিকিৎসা