MIL HOMEO
প্রকৃতির সাথে থাকুন, সুস্থ থাকুন
  • মুল পাতা
  • প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য
    • আয়ুর্বেদ চিকিৎসা
    • ঘরোয়া চিকিৎসা
    • ভেষজ উপাদান
    • ভেষজ চিকিৎসা
  • রোগব্যাধি ও প্রতিকার
    • শারীরিক রোগ
      • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ
      • চর্মরোগ
        • আঁচিল বা তিল
      • জ্বর
        • টাইফয়েড জ্বর
        • ডেঙ্গু জ্বর
        • ম্যালেরিয়া
      • পায়ুপথের রোগ
      • কান পাকা রোগ
      • কৃমি রোগ
      • বন্ধ্যাত্ব রোগ
      • নাসা রোগ
      • শীতকালীন রোগব্যাধি
      • সংক্রামক রোগ
      • সাইনোসাইটিস
      • স্নায়ু রোগ
    • মনরোগ
    • শিশু রোগ
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • সুস্থ জীবনধারা
    • ক্ষতিকর অভ্যাস
    • খাদ্যাভ্যাস
    • তামাক ও মাদক বর্জন
    • পানীয় জল এবং হাইড্রেশন
    • ভালো ঘুমের অভ্যাস
    • রূপচর্চা ও চুলের যত্ন
    • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
    • স্বাস্থ্যকর শখ
  • ব্যায়াম ও ফিটনেস
    • ওজন প্রশিক্ষণ
    • ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা
    • ঘরে বসে ফিটনেস
    • বয়স্কদের ব্যায়াম
    • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
    • স্ট্রেচিং এবং মবিলিটি
  • মানসিক স্বাস্থ্য
    • অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা
    • আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে ভালোবাসা
    • ডিপ্রেশন ও প্রতিকার
    • মানসিক চাপ ও সমাধান
    • মেডিটেশন ও মননশীলতা
    • পরিবার ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য
  • খাদ্য ও পুষ্টি
    • আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
    • ওজন কমানোর খাদ্য পরিকল্পনা
    • ওজন বাড়ানোর পুষ্টি পরিকল্পনা
    • খাদ্য তালিকা এবং পরামর্শ
      • রোগের খাবার
    • পুষ্টিগুণ
      • শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
      • ফলের পুষ্টিগুণ
    • ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
    • স্বাস্থ্যকর রেসিপি
  • হোমিও চিকিৎসা
Author

Dr. Baby Akter

Baby-Akter
Dr. Baby Akter

ডা. বেবী আক্তার, একজন সরকারী রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথ ডাক্তার এবং স্বাস্থ্য, রোগব্যাধি ও পুষ্টি বিষয়ে একজন নিবেদিত লেখক। বিগত ১০ বছর ধরে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সম্পর্কে তথ্য প্রচারের লক্ষ্য নিয়ে আমি কাজ করছি। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে রোগীদের সুস্থতা নিশ্চিত করা এবং তাদের সুস্থ জীবনের জন্য সচেতন করে তোলাই আমার অন্যতম লক্ষ্য। milhomeo.com এ স্বাস্থ্য বিষয়ক নিয়মিত লেখালেখি করে যাচ্ছি, যেখানে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা, রোগ প্রতিরোধ, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা প্রক্রিয়া ও স্বাস্থ্য সচেতনতার উপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আপনারা আমার এই ওয়েবসাইটে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য জানতে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে পারেন।

মহিলাদের পাইলস বা অর্শ্বরোগ
পায়ুপথের রোগ

মহিলাদের পাইলস বা অর্শ্বরোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

by Dr. Baby Akter 20/12/2023
written by Dr. Baby Akter

পাইলস বা অর্শ্বরোগে মলদ্বার বা মলদ্বারের নীচের অংশের রক্তনালীগুলি ও পায়ূ টিস্যুগুলির উপর কোন কারণে জটিলতা সৃষ্টি হলে মলদ্বার অঞ্চলের চারপাশে চাপ বৃদ্ধি পায় ফলে তা প্রসারিত হয়ে ফুলে যায় এতে মলদ্বারে ব্যথা, চুলকানি, রক্তপাত এবং জ্বালা সৃষ্টি করে। এতে রোগী অধিক যন্ত্রনা ও অস্বস্তি অনুভব করে। 

প্রতিটি ব্যক্তির মধ্যে পাইলসের বা অর্শ্বরোগের সম্ভাবনা রয়েছে তা অবস্থার তীব্রতার উপর নির্ণয় করা হয়। তবে গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে পেলভিক রক্ত ​​প্রবাহ এবং চাপের কারণে অস্বস্তি, চুলকানি, ব্যথার জটিলতা বাড়তে পারে। সাধারণত গর্ভবতী মহিলাদের পাইলসের সমস্যা বেশি দেখা দিলেও ৪০ ঊর্ধ্বে মহিলাদের পাইলসের জটিলতা বেশী দেখা যায়। তাই মহিলাদের পাইলসের সমস্যার ক্ষেত্রে সচেতনতা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। 

যেহেতু দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্রনিক ডায়রিয়া এবং মলদ্বারে অতিরিক্ত চাপ পাইলসের অন্যতম কারণ। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভাসের পরিবর্তন আনা পাইলস নিয়ন্ত্রণের প্রথম শর্ত

মহিলাদের পাইলসের সমস্যা বা পাইলস রোগ দুই ধরণের হয় থাকে:

  • ইন্টারনাল পাইলস (Internal Hemorrhoids)
  • এক্সটার্নাল পাইলস (External Hemorrhoids)

মহিলাদের ইন্টারনাল পাইলস (Internal Hemorrhoids)

ভিতরের পাইলস (Internal hemorrhoids) এর ক্ষেত্রে লক্ষণ বা হেমোরয়েডগুলি মলদ্বারের মধ্যে থাকে সাধারণত দেখা যায় না। প্রায়শই ব্যথাহীন হয়, তবে মলত্যাগের সময় স্ট্রেন, রক্তপাত এবং জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে। 

মহিলাদের এক্সটার্নাল পাইলস (External Hemorrhoids)

মলদ্বারের বাইরের সমস্যাগুলোকে এক্সটার্নাল পাইলস বলা হয়। মলদ্বারের বাইরে অবস্থিত শিরাগুলির উপর চাপ সৃষ্টির ফলে শিরা ফুলে যাওয়া, রক্তপাত, ফাটল এবং চুলকানি হতে পারে। অনেক সময় রক্ত ​​জমাটও বাঁধতে পারে। এই বাহ্যিক হেমোরয়েডগুলি তীব্র ব্যথা, অস্বস্তি এবং ফোলাভাব সৃষ্টি করে যার কারণে এক্সটার্নাল বা বাইরের পাইলস অধিক যন্ত্রণাদায়ক হয়।  

মহিলাদের পাইলস বা আর্শ্বরোগের বিভিন্ন উপসর্গ অনুযায়ী  চারটি আলাদা (grades)গ্রেডে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে :

Grade 1

এই ধরনের পাইলস বা অর্শ্বরোগ মলদ্বারের ভিতরে থাকে। এগুলি সাধারণত ছোট হয় এবং কম ব্যথা বা প্রদাহ সৃষ্টি করে, প্রায়শই ব্যথাহীন থাকে। মহিলাদের মধ্যে এই ধরনের পাইলসের উপসর্গগুলিতে মলত্যাগের পরে সামান্য পরিমাণে রক্ত ​​দেখা যেতে পারে।

Grade 2

এটি গ্রেড 1-এর তুলনায় ফোলা বেশি প্রকট হয়ে থেকে পায়ুপথ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মলত্যাগের সময়, ফোলাটি বাইরের দিকে বেরিয়ে আসে যদিও তা মলত্যাগের পর ঢুকে যায়। 

Grade 3

এই গ্রেডে মলদ্বারের ভিতরে ফুলে যায়, যা মলত্যাগের সময় বাইরে চলে আসে দেখতে অনেকটা মাংস পিণ্ড এর মত হয়। এবং এটি  মলত্যাগের আঙ্গুলের ডগা ব্যবহার করে ভিতরে ঢুকিয়ে দিতে হয় বা ম্যানুয়াল রিপজিশনিং প্রয়োজন হয়। 

Grade 4

এই গ্রেডে পাইলসের সমস্যা সবচেয়ে ক্ষতিকর পর্যায়ে থাকে। যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাইরের দিকে ফুলে যায় এবং মলদ্বার থেকে বেরিয়ে আসে। এই অবস্থার সাথে রক্তপাত হতে পারে বা নাও হতে পারে এবং যদি জমাট বাঁধা হয় বা পায়ুপথে পাইলস বা অর্শ্বরোগ সংকুচিত হয়ে যায় তাহলে ব্যথা হতে পারে।

প্রল্যাপস পাইলস (Prolapse piles)

প্রল্যাপস পাইলস এর ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক হেমোরয়েডগুলি ফুলে গিয়ে মলদ্বারের বাইরে বেরিয়ে আসে। এর ফলে রোগীর প্রচন্ড অস্বস্তি হয় এবং রক্তপাতও হয়ে থাকে। 

মহিলাদের পাইলসের বা আর্শ্বরোগের লক্ষণসমূহ –

সাধারণত ৪০% পাইলসের রোগী কোন ব্যথাহীন এবং উপসর্গহীন অবস্থায় থাকে, আর বাকি ৬০% মহিলাদের মধ্যে পাইলসের বিভিন্ন লক্ষণ গুলো দেখা যায় যেমন –

  • মলদ্বারে ব্যথা, প্রদাহ, চুলকানি এবং অস্বস্তি।
  • মলদ্বারে ক্রমাগত পিণ্ডের মতো ফোলাভাব।
  • রক্তের মিশ্ৰিত মলত্যাগ করা।

মহিলাদের মধ্যে পাইলসের এই প্রাথমিক উপসর্গগুলি তুলনামূলকভাবে হালকা হয় তবে প্রাথমিক অবস্থা থেকে একজন ডাক্তারের পরামর্শে অনুসারে চিকিৎসা শুরু করা উচিত। অবস্থার অবনতি হলে লক্ষণগুলি তীব্র হতে পারে যেমনঃ 

  • মলদ্বারের চারপাশে সর্বদা ব্যথা, বসতে খুব অস্বস্তি লাগে।
  • মলত্যাগের সময় উজ্জ্বল লাল রক্ত বের হয়।
  • মলদ্বার ভিতরে এবং বাইরে মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি থাকে।
  • শ্লেষ্মা স্রাব, অন্তর্বাসে দাগ দেখা যায়।
  • টয়লেট ব্যবহারের পরেও মলত্যাগের প্রয়োজন অনুভব হয়।

মহিলাদের পাইলসের বা আর্শ্বরোগের  কারণ:

গর্ভাবস্থায়:

গর্ভাবস্থায় মহিলাদের মধ্যে পাইলস সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, যখন গর্ভের শিশু ৩৬ সপ্তাহের কাছাকাছি শ্রোণী গহ্বরে (Pelvic Cavity) নেমে আসে, তখন পেলভিক এলাকায় চাপ সৃষ্টি করে। এই চাপ মলদ্বার এবং মলদ্বার রক্তনালীগুলির বৃদ্ধি করে, যা আস্তে আস্তে পাইলসের সমস্যা সৃষ্টি করে। অনেক ক্ষেত্রে প্রসবের পরে তা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে যায়।

কোষ্ঠকাঠিন্য এবং খাদ্যাভাস: 

হরমোনের পরিবর্তনের কারণে গর্ভবতী মহিলারা কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত হন। খাদ্যাভাস, অপর্যাপ্ত ফাইবার, কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা মলদ্বারে চাপ সৃষ্টি করে এবং ফলে পাইলস রোগ সৃষ্টি হতে শুরু করে ।

দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা: 

পুরুষ এবং মহিলা উভয়েই কাজের প্রয়োজনে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করেন। এতে নিতম্বের অংশে  (Hip Area) চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে গ্লুটিয়াল পেশীগুলি (Gluteal Muscles) ছড়িয়ে পড়ে মলদ্বার এবং মলদ্বারের চারপাশে ছোট শিরাগুলি বড় হয়ে বেদনাদায়ক ফোলা তৈরি করে। এর থেকে পাইলসের সমস্যা সৃষ্টি হয়।

ভারী  উত্তোলন:

দৈনন্দিন জীবনে যদি নিয়মিত ভারী কিছু উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত থাকে তাহলে মলদ্বারের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে যার ফলে মলদ্বারের পেশী দুর্বল হয়ে পাইলসের জটিলতা তৈরী করে। 

বার্ধক্যজনিত কারণ:

৫০ বছরের বেশি বয়সী মহিলাদের মধ্যে বার্ধক্যজনিত কারণে পাইলস বা হেমোরয়েড এর সমস্যা বেশি দেখা যায়। দীর্ঘদিনের খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্য অচসেতনতা, অন্যান্য রোগের জটিলতা থেকে বার্ধক্যজনিত পাইলসের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। 

মহিলাদের পাইলস রোগ নির্ণয়-

সাধারণত মহিলাদের পাইলস রোগ নির্ণয় করার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উপর বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিৎ- 

  • রোগীর পাইলসের পারিবারিক ইতিহাস
  • মলের সাথে রক্ত বা শ্লেষ্মা উপস্থিতি থাকে কিনা। 
  • সাম্প্রতিক সময়ে রোগীর ওজন হ্রাস পাচ্ছে কিনা। 
  • মলত্যাগে পরিবর্তন হয় কিনা। 

চিকিৎসকরা, অভ্যন্তরীণ (Internal Hemorrhoids) পাইলসের জন্য, একটি ডিজিটাল রেকটাল পরীক্ষা (DRE) বা একটি প্রক্টোস্কোপ ব্যবহার থাকেন। তবে প্রয়োজন অনুসারে, মলদ্বারের ভিতর থেকে টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে থাকেন। এই ক্ষেত্রে পাইলসের লক্ষণ ও উপসর্গ পাচনতন্ত্রের (Digestive System) সমস্যা বা কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি রয়েছে কিনা সেটিও নির্ণয় করা যায়। 

মহিলাদের পাইলস রোগের চিকিৎসা –

মহিলাদের মধ্যে পাইলসের বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। তবে পাইলসের বেশ কিছু সমস্যা লাইফস্টাইল এবং খাদ্যাভাস পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাধান করা যায়। 

যেহেতু মলত্যাগের সময় কোষ্ঠকাঠিন্য এবং স্ট্রেনিং পাইলসের অন্যতম কারণ। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনধারায় পরিবর্তন আনা পাইলসের সমস্যা সমাধানের প্রথম শর্ত। মলত্যাগের সময় কোষ্ঠকাঠিন্য এবং স্ট্রেনিং পাইলসের অধিক জটিলতা সৃষ্টি করে, তাই খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আনাও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। ফল, শাকসবজি এবং সকালের নাস্তায় ব্রান-ভিত্তিক সিরিয়াল, উচ্চ ফাইবার যুক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে মলকে সহজ ও নরম করে যা অতিরিক্ত চাপ বা স্ট্রেনিং কমায়। পর্যাপ্ত হাইড্রেশন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার শরীরের সঠিক  ওজন বজায় রাখে ফলে পাইলস প্রতিরোধ ও প্রতিকারে করা সহজ হয়। 

হোমিওপ্যাথিক  চিকিৎসা –

প্রদাহ, ব্যথা এবং চুলকানি ব্যথা ও অস্বস্তি  লক্ষণ অনুসারে হোমিও মেডিসিন নির্ধারণ করা যায়। তবে রোগের স্থায়ী সমাধান পাওয়ার জন্য অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শে নিতে হবে। দীর্ঘদিন অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে তা মারাত্বক আকার ধারণ করে। এতে অপারেশন বা সার্জারীর প্রয়োজন পড়ে। 

লক্ষণ অনুসারে সাধারনত পাইলসের হোমিও মেডিসিন গুলো হল-

হ্যামেলিস (Hamelis)-

মহিলাদের পাইলসের রক্তপাত বন্ধ করতে ওষুধটি খুব উপকারী। হ্যামেলিস যে কোনও শিরাস্থ রক্তপাত নিরাময় করতে পারে। এছাড়াও রোগীর পাইলসের ব্যথায় ক্ষেত্রেও এটি সেবনে ভালো কাজ করে।

রতনহিয়া (Ratanhiya)-

এটি পাইলসের ব্যথা থেকে মুক্তির জন্য দারুণ ফল দেয়। পাইলস রোগে আক্রান্ত রোগী মল ছাড়ার সময় এবং এমনকি তার কয়েক ঘণ্টা পরও প্রচণ্ড ব্যথা এবং জ্বালাপোড়া অনুভব করেন। সেক্ষেত্রে রতনহিয়া খুব কার্যকরী। 

গ্রাফাইটস (Graphites)-

এটি কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পাইলস উভয়ই ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। যাদের শরীর স্থূল, ত্বক ফাটা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে গ্রাফাইটস অতি দ্রুত কাজ করে।

নাক্স ভমিকা (Nux Vomica)-

যারা দীর্ঘক্ষন বসে কাজ করে, অগোছালো, অলস জীবনযাপন করে, ভাজাপোড়া, মশলাদার খাবার, ফাস্টফুড গ্রহণ এবং অতিমাত্রায়  ধূমপায়ী এবং অ্যালকোহল পান করে তাদের পাইলসের সমস্যায় Nux Vomica একটি উপযুক্ত মেডিসিন। এটি রোগীর পাইলসের সমস্যার পাশাপাশি গ্যাস্টিকের ও হজমের জন্য ভালো কাজ করে। 

তবে একজন সিনিয়র হোমিও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নিলে সবচেয়ে উত্তম ফলাফল পাওয়া যাবে। 

মহিলাদের পাইলস দূর করার প্রাকৃতিক উপায় – 

দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে প্রাকৃতিক ভাবে মহিলাদের পাইলসের বেশির ভাগ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। যেমন-

  • আপনার খাদ্যতালিকায় উচ্চ ফাইভের যুক্ত খাবার, প্রচুর ফলমূল এবং তরল বা পানীয় রাখুন।
  • অতিরিক্ত ভাজা পোড়া, বেশি মসলাদার খাবার ও ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন। 
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন। 
  • গর্ভবস্থায় সচেতন থাকুন। 
  • জোলাপ এড়িয়ে চলুন।
  • ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে গরম পানির টবে বসুন।
  • দীর্ঘক্ষণ বসে থাকবেন না এবং ভারী কিছু উত্তোলন থেকে বিরত থাকুন।
  • প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন। 
0 comments
9 FacebookTwitterPinterestEmail
হোমিও চিকিৎসা

জ্বরের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি

by Dr. Baby Akter 15/11/2023
written by Dr. Baby Akter

জ্বর নিজেই একটি রোগ নয়, একটি বাহ্যিক সংকেত যা শরীরের অভ্যন্তরীণ সংক্রমণ বা প্রদাহকে ও বিভিন্ন জটিলতার নির্দেশ দেয়। মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা 97 ডিগ্রি থেকে 99 ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে পরিবর্তিত হয়। শরীরের তাপমাত্রা  100.4 ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হলে তাকে জ্বর বা পাইরেক্সিয়া সংজ্ঞায়িত করা হয়।

সাধারণত জ্বরের জন্য যে মেডিসিন গুলো খাওয়া হয় তা সব জ্বরের তাপমাত্রা কমাতে পারে কিন্তু আরো অনন্যা উপসর্গ গুলো বিদ্যমান থেকে যায়। আর এখানেই হোমিওপ্যাথিক মেডিসিনের কার্যকারিতা। যা আপনার রোগ লক্ষণ অনুসারে আপনার শরীরে বিদ্যমান সকল যন্ত্রণার উপশম দিবে বা দূর করবে। 

সাধারণত জ্বরের জন্য যে মেডিসিন গুলো খাওয়া হয় তা সব জ্বরের তাপমাত্রা কমাতে পারে কিন্তু আরো অনন্যা উপসর্গ গুলো বিদ্যমান থাকে আর এখানেই হোমিওপ্যাথিক মেডিসিনের কার্যকারিতা। যা আপনার রোগ লক্ষণ অনুসারে আপনার শরীরে বিদ্যমান সকল যন্ত্রণার উপশম দিবে বা দূর করবে।

জেনে নিন জ্বরের লক্ষণভেদে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা 

অ্যাকোনাইট (Aconite)

অস্থিরতা, উদ্বেগ ও ব্যথাজনিত জ্বরের প্রথম পর্যায়ে অ্যাকোনাইট হল একটি কার্যকরী ঔষধ। রোগীর মধ্যে চরম অস্থিরতা এবং উদ্বেগ থাকবে এবং ঠান্ডা পানির পিপাসা বাড়ে। শরীর প্রচণ্ড ঠাণ্ডা থাকে এবং রোগী সবসময় নিজেকে ঢেকে থাকতে চায়। এই ধরণের লক্ষণের ক্ষেত্রে অ্যাকোনাইট প্রয়োগ করলে রোগীর লক্ষণ গুলো দ্রুত উপশম হয়।

কখন এবং কিভাবে অ্যাকোনাইট খাবেন–

রোগীর জ্বরের সাথে সর্বদা অতিরিক্ত পিপাসা এবং তীব্র অস্থিরতা থাকলে এবং সাথে ঠাণ্ডা অনূভব হওয়া ও নিজেকে ঢেকে রাখতে চায়। এই ক্ষেত্রে সাধারণত 30C শক্তি দিয়ে শুরু করা যা দিনে ৩-৪ বার খাওয়া যাবে, প্রয়োজনে পুনরাবৃত্তি করা যেতে পারে। যদি লক্ষণগুলি উপশম বা দূর না হয় তবে এটির উচ্চ ক্ষমতা 200C দিনে দুবার গ্রহণ করা যেতে পারে। এটি 1M বা তার বেশি শক্তিতে গ্রহণ করার আগে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। 

ব্রায়োনিয়া আলবা (Bryonia Alba)

শরীরে জ্বরের সাথে সাথে ঠান্ডা অনভূত হয়, প্রবল ব্যথা হয় ও রোগীর পিপাসা থাকে। রোগী শুয়ে থাকতে চায়। কিন্তু একটু নড়াচড়া এবং স্পর্শ থেকে আরও বেড়ে যায় তবে বেদনাদায়ক, পাশে শুয়ে থাকলে খুব ভাল লাগে। 

কখন এবং কিভাবে ব্রায়োনিয়া আলবা খাবেন–

উপরোক্ত লক্ষণের ক্ষেত্রে সাধারণত নিম্ন ক্ষমতা 30C দিনে ২-৩ বার খাওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে পুনরাবৃত্তি করা যেতে পারে। আবার 200C শক্তি দিনে একবার নিতে হবে। যদি এটির উচ্চ ক্ষমতা 1M গ্রহণ করতে হলে অবশ্যই একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শে থাকতে হবে। 

Eupatorium Perfoliatum – হাড়ের ব্যথা সহ জ্বরের জন্য

রোগী যখন জ্বরে হাড়ের তীব্র ব্যথা অনুভব করে তখন জ্বরের চিকিৎসায় Eupatorium Perfoliatum দারুণ কাজ করে। রোগী মাথা ও চোখে যন্ত্রণাদায়ক ব্যথায় কাঁপতে থাকে। ব্যথা থেঁতলে যাওয়ার মত অনুভুতি এবং রোগী মনে করে তাকে কেউ আঘাত করছে। যদিও এটি যে কোনো ধরনের জ্বরের জন্য দেওয়া যেতে পারে, তবে ডেঙ্গু জ্বর এবং ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর। 

কিভাবে এবং কখন Eupatorium Perfoliatum খাবেন–

জ্বরের উপরোক্ত লক্ষণগুলো থাকলে Eupatorium Perfoliatum 30C শক্তি দিনে ৩-৪ বার খাওয়া যেতে পারে। তবে 200C এবং 1M ক্ষমতা শুধুমাত্র হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শে রোগীর লক্ষণগুলির সাথে রোগের লক্ষণগুলির নিখুঁত ভাবে মিলে যায় তাহলে ব্যবহার করা উচিত। 

জেলসেমিয়াম (Gelsemium) -দুর্বলতার সাথে জ্বর।

জেলসেমিয়াম দীর্ঘদিন  ধরে ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিৎসার জন্য একটি কার্যকর হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন। যে সকল রোগীদের জ্বরের সাথে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার প্রবণতাও দেখা দেয় সে ক্ষেত্রে এটি খুবই উপকারী। 

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগীর তৃষ্ণার অভাব রয়েছে। যদিও এটি একটি ইনফ্লুয়েঞ্জার লক্ষণ বিশিষ্ট ওষুধ, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি টাইফয়েড জ্বরের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রচণ্ড ক্লান্তি, মাথা ঘোরা সহ রোগী নিজেকে ঢেকে রাখতে পছন্দ করে এমন লক্ষণগুলোতে জেলসেমিয়াম ভালো কাজ করে।  

জেলসেমিয়াম কখন এবং কিভাবে খাবেন-

ভাইরাল ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বরে শরীরে ব্যথা, মায়ালজিয়া (পেশীতে ব্যথা), হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক আটকানো, নিস্তেজতা, দুর্বলতা এবং মাথাব্যথা লক্ষণগুলো দেখা দিলে জেলসেমিয়াম 30C দিয়ে শুরু করা ভাল দিনে ৩-৪ বার এবং 200C শক্তিতে নিলে ২ বার নেওয়া যেতে পারে। 1M নিতে হলে অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথের সাথে পরামর্শ করতে হবে। 

হোমিওপ্যাথি ওষুধ

রাস টক্স (Rhus Tox)-প্রচণ্ড ব্যথা সহ জ্বর এবং অস্থিরতা

শরীরে প্রচণ্ড ব্যথাসহ জ্বর আর অস্থিরতা সেই সাথে রোগী নড়াচড়ায় আরামবোধ করে এরকম হলে তাদের জন্য রাস টক্স অত্যন্ত কার্যকর ওষুধ।  

বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার ফলে জ্বর, এবং কাঁপুনিসহ জ্বর, শরীরে টানটান ব্যাথা সাথে জিভ শুকিয়ে যাওয়া, মানসিক ও শারীরিক দুর্বলতা  বিদ্যমান থাকে। এইসব লক্ষণে রাসটক্স (Rhus Tox) উত্তম কাজ করে।

কখন এবং কিভাবে রাসটক্স গ্রহণ করবেন–

এটি নিম্ন (30C) এবং উচ্চ (200C এবং 1M) ক্ষমতা উভয় ক্ষেত্রেই ভাল ফলাফল পাওয়া যায়। এটির 30C শক্তিতে দিনে ৩-৪ বার বারবার। 200C শক্তি দিনে ২ বার। রাসটক্স এর উচ্চ মাত্রা ব্যবহারের জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। 

বেলাডোনা (Belladonna)

জ্বরের সময় মাথা গরম হয়, কিন্তু পা ঠান্ডা থাকে কিন্তু রোগীর পিপাসা থাকে না। রোগীর ভিতরে ঠান্ডা অনুভূত হলেও বাইরে প্রচন্ড তাপ থাকে। গলায় ব্যথা, কালশিটে, লাল এবং স্ফীত সেসব ক্ষেত্রে বেলাডোনা প্রথম প্রয়োগে ভালো কাজ করে।

কখন এবং কিভাবে বেলাডোনা খাবেন-

উপরোক্ত লক্ষণগুলোতে বেলাডোনা 30 এবং বেলাডোনা 200 সাধরণত ব্যবহার করা যায়। 30C দিনে ২-৩ বার প্রয়োজনে পুনরাবৃত্তি করা যায়। তবে 200C পুনরাবৃত্তি না করায় ভালো। এটার উচ্চ ক্ষমতা 1M সাবধানে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা উচিত।

আর্সেনিক অ্যালবাম (Arsenic Album)- ক্লান্তি সহ জ্বর

ম্যালেরিয়া বা টাইফয়েডের কারণে জ্বরের জন্য আর্সেনিক অধিক ফলদায়ক। 

রাতে শরীরে জ্বালাপোড়া, দুর্বলতা, অস্থিরতা, ক্লান্তি এবং উত্তেজনা থাকে। সামান্য নড়াচড়ায় রোগ বৃদ্ধি এবং তাপ প্রয়োগের পরে ভাল বোধ করে। জ্বরের শেষে ঠাণ্ডা ও ঝাঁঝালো ঘাম হয়। কখনও কখনও জ্বরের পাশাপাশি গ্যাস্ট্রিকেরও লক্ষণ থাকে যেমন পেট ব্যথা, বমি বমি ভাব, পেটে ভারী অনূভব ইত্যাদি। 

আর্সেনিক অ্যালবাম কখন এবং কীভাবে খাবেন-

ম্যালেরিয়া বা টাইফয়েডের কারণে জ্বরের জন্য আর্সেনিক প্রয়োগ করা যেতে পারে। প্রচণ্ড দুর্বলতা, অস্থিরতা ও ঠাণ্ডা এই ক্ষেত্রে 30C শক্তি দিনে ২ বার। নিম্ন শক্তিতে যদি কাজ না হয় তবে 200C বা 1M ক্ষমতা গ্রহণের আগে একজন ভালো হোমিওপ্যাথের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
Padmasana | পদ্মাসন
যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন

পদ্মাসন করার নিয়ম ও এর উপকারিতা

by Dr. Baby Akter 06/11/2023
written by Dr. Baby Akter

বিভিন্ন বেদ এবং উপনিষদে উল্লেখ আছে, যোগব্যায়াম  জাগতিক সংযুক্তি এড়িয়ে এবং আমাদের শরীর, মন এবং আত্মার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। যা ধ্যানের জগতকে প্রসারিত করে। তবে যোগের এই সংজ্ঞাটি আধুনিক বিশ্বে সম্পূর্ণ আলাদা, বিশেষ করে, পশ্চিমা দেশগুলি যে কৌশলগুলির উপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে তা হলো ভঙ্গি-ভিত্তিক শারীরিক সুস্থতা এবং শিথিলকরণকে।

পদ্মাসন শব্দটি একটি সংস্কৃত শব্দ যার বিবরন পাওয়া যায় মহর্ষি পতঞ্জলি যোগশাস্ত্রে যার অর্থ হলো অজ্ঞান বা অন্ধকার থেকে পরম জ্ঞান বা আলোর পথের যাত্রা। এবং পদ্ম; জ্ঞানতা, বিকাশ, অনাসক্তি, আধ্যাত্মিকতা ও সৌভাগ্যের প্রতীক।

পদ্মাসন হল এমন একটি যোগাসন যা নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে মানুষ শারীরিক এবং মানসিকভাবে ব্যাপক উপকার লাভ করতে পারে।

পদ্মাসন প্রনালী –

সামনের দিকে পা ছড়িয়ে শিরদাঁড়া সোজা করে বসুন। এবার বাঁ পা হাঁটু থেকে ভেঙে ডান উরুর উপর এবং ডান পা একই ভাবে বাঁ উরুর উপর রাখুন। হাত দু’টোর চেটো উপুড় করে বা চিৎ করে অথবা ধ্যান করার ভঙ্গিতে দু’হাঁটুর উপর রাখুন (আসনের এই ভঙ্গিকে সিদ্ধাসনও বলা হয়)। দৃষ্টি নাসিকার অগ্রভাগে এবং জিহ্বার অগ্রভাগ মাড়ির শেষদিকে স্পর্শ করে রাখুন। সহজ ভাবে যতক্ষণ পারা যায় ঐ অবস্থায় থাকুন।

পদ্মাসনে বেশি সময় থাকলেও কোন ক্ষতি নেই। শ্বাস-প্রশ্বাস অবশ্যই স্বাভাবিক থাকবে। এবার পা বদল করে অর্থাৎ প্রথমে ডান পা হাঁটু থেকে ভেঙে বাঁ উরুর উপর এবং বাঁ পা একই ভাবে ডান উরুর উপর রাখুন এবং আগে যতক্ষণ অভ্যাস করেছেন ততক্ষণ এ অবস্থায় থাকুন। এরপর ধীরে ধীরে পায়ের বাঁধন খুলে প্রয়োজনমতো শবাসনে বিশ্রাম নিন। (আগের পোস্টে শবাসন এর পদ্ধতি দেয়া হয়েছে। )

পদ্মাসন এর উপকারিতা

  • এটি নিতম্ব খুলতে সাহায্য করতে পারে যা মেরুদণ্ডের উপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করে।
  • এটি শরীরের তিনটি রসবোধ যথা- বায়ু, পিত্ত এবং কফ অনুপাতে রাখতে সাহায্য করে।
  • এটি স্যাক্রাল নার্ভকে সমন্বয়পূর্ণ করতেও সাহায্য করতে পারে।
  • এটি একজন ব্যক্তির মনোযোগ এবং একাগ্রতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য খুব ফলপ্রসূ।
  • পায়ের নানা সমস্যা দূর হয়।
  • এই আসনের অভ্যাসের ফলে অন্তঃস্রাবী গ্রন্থিসমূহ কর্মক্ষম হয়ে ওঠে ।
  • ঘুমের সমস্যা, রাগ, উত্তেজনা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ।
  • এটি আর্থ্রাইটিস ( জয়েন্টের ফোলা ) এবং পা ও হাঁটুর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে ।
  • পদ্মাসন কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। ফলে শরীরের স্বাভাবিক ওজন বজায় থাকে ।
  • এটি শরীরের টাইট পেশী টিসু উপশম করে পেশী টান কমাতে সাহায্য করে।

পদ্মাসন বা লোটাস ভঙ্গির ঝুঁকিসমূহ –

  • যারা সায়াটিকায় ভুগছেন (পিঠের নিচের অংশে সংকুচিত স্পাইনাল নার্ভের কারণে ব্যথা হয়) তাদের পদ্মাসন এড়ানো উচিত
  • যাদের হাঁটু দুর্বল বা আহত তাদের এই পদ্ম ভঙ্গি এড়িয়ে চলতে হবে।
  • নিতম্ব, পাছা এবং পায়ের নিয়ন্ত্রণ প্রদানকারী স্নায়ুর সংক্রমণে ভুগছেন এমন রোগীদের এই আসনটি অনুশীলন করা উচিত নয়।
  • হাঁটুর ব্যথায় আক্রান্ত রোগীদের হাঁটু বাঁকানোর সময় প্রয়োজনীয় নমনীয়তা বাড়াতে পদ্মাসন করার আগে প্রি-মেডিটিভ আসন অনুশীলন করা উচিত।
  • আপনার শরীরকে গভীর প্রসারণের জন্য প্রস্তুত করতে এবং রক্ত প্রবাহের সীমাবদ্ধতা এড়াতে সর্বদা একটি ওয়ার্ম-আপের পরে পদ্মাসন করা উচিত।
0 comments
9 FacebookTwitterPinterestEmail
নিমের-উপকারিতা
ভেষজ উপাদান

নিমের ভেষজ গুণ, বিস্ময়কর উপকারিতাসমুহ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

by Dr. Baby Akter 06/11/2023
written by Dr. Baby Akter

নিম (বৈজ্ঞানিক নাম: Azadirachta indica) একটি অত্যন্ত উপকারী গাছ যার গাছের বাকল,পাতা ,বীজ প্রায় কিছুই চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হয়। বলা হয়ে থাকে, নিম একজন ডাক্তারের কাজ করে। এই গাছের সাহায্য করে মানুষের অনেক ধরণের রোগ নির্মূল করা যায়। নিমের স্বাদ তিতকুটে হলেও এর গুণাগুণ বেশ মধুর। এতে রয়েছে অসংখ্য গুণ। বিশেষ করে নিম পাতা ভেষজ হিসেবে পরিচিত একটি নাম, যা ত্বক এবং শরীর দুটোর বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, প্রায় ৫০০০ বছর ধরে মানুষের শরীরকে নানা রকমের রোগের হাত থেকে বাঁচাতে নিম পাতাকে কাজে লাগানো হয়ে আসছে। এই গাছটির প্রতিটি অংশ, তা পাতা হোক, কি ডাল, এমনকি নিম ফুলও নানাভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকরী।

শরীরের বিভিন্ন রোগে নিমের ব্যবহার

  • যে কোনও চুলকানির সমস্যায় নিমপাতা বেটে লাগাতে পারলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। চুলকানির সমস্যা থেকে দ্রুত নিস্তার পেতে নিমপাতা বেটে লাগাতে পারেন। নিমপাতা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক (ফাঙ্গাস) বিরোধী। তাই ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের আক্রমণের হাত থেকে চর্ম বা ত্বককে সুরক্ষিত করতে নিমপাতা খুবই কার্যকরী!
  • নিম পাতা জলে সিদ্ব করে সেই পানি দিয়ে গোসল করলেও চর্ম  ভালো হয়ে যায়।
  • বিভিন্ন ধরণের ফোড়া-ফুস্কুড়ি, চুলকানি  ইত্যাদি নিরাময় হয়।  
  • প্রতিদিন সকালে নিমের ডাল দিয়ে দাঁত ব্রাশ করলে দাঁত মজবুত ও ঝকঝকে হয়। এবং দন্তক্ষয় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। 
  • ৫-৬ টি নিমের কচি পাতা, ৪-১০ টি  তুলসী পাতা এবং ৫-৬ টি গোল মরিচ গুড়ো করে মিশিয়ে নিয়মিত সেবন করলে স্বাস্থ্য বৃদ্ধি হয়।  
  • পেটের ব্যথায় ১০ গ্রাম নিমের বীজ সাথে ১০ গ্রাম সূঠ, ১০ তুলসী পাতা এবং ৮-১০ টি গোল মরিচ মিশিয়ে ঘন চাটনি মত করে অল্প অল্প করে খেলে পেট ব্যথা ভালো হয়ে যায়।
  • চোখ ফুলে গেলে ১৫-২০ টা নিমের পাতা পানিতে সিদ্ধ করে তাতে ৫ গ্রাম ফিটকিরি মিশিয়ে ছেঁকে নিন। এই পানিতে পরিস্কার তুলো ভিজিয়ে চোখ মুছে ফেলুন। এভাবে দুই-তিন বার করলে চোখের ফোলা, চোখের কুটকুট করা, এবং চোখের খুসকি নিরাময় হয়। 
  • নিমের পাতার রস বের করে তাতে তুলো ভিজিয়ে চোখের উপর রাখুন। এতে চোখের লাল ভাব, চোখ জ্বালা দূর হয়।  
  • ফোঁড়া যদি কোন কারণে ফেটে যায় তাহলে নিম পাতা বেটে ফোঁড়ার উপর লাগিয়ে পট্টি বেঁধে রাখলে আরাম পাওয়া যায়। এতে ফোঁড়াও তাড়াতাড়ি শুকায়। 
  • ১০ ফোটা নিমের তেল পানের উপর দিয়ে খেলে হাঁপানি ও কাশিতে আরাম পাওয়া যায়।  
  • নিমের তেল প্রতিদিন মাথায় মাখলে মাথার উকুন চলে যায়। কমপক্ষে ১০-১২ দিন মাখতে হবে।  
  • নিমের পাতার রস মধুতে মিশিয়ে খেলে পেটের কৃমি মরে যায়। 
  • নাক দিয়ে রক্ত পড়লে নিম গাছের ছাল পানি দিয়ে বেটে তা মাথায় লাগালে নাকের নাসা রোগ ভালো হয় যায়।  
  • গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় নিম গাছের ছাল, সূঠ, গোল মরিচ সমমাত্রায় মিশিয়ে গুড়ো রেখে দেন।  প্রতিদিন সকালে এই চুর্ণ ২০ গ্রাম  মাত্রায় পানির সাথে মিশিয়ে খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সহজে দূর হয়।
  • নিম পাতা বেটে হাতে পায়ে তেলের মত লাগালে হাত ও পায়ের জ্বালা দূর হয়।  
  • ম্যালেরিয়া রোগের জন্য নিমের পাঁচন বহু প্রচলিত এই রোগের জন্য সর্বোত্তম বলে মনে করা হয়।
  • ৫০ গ্রাম নিমের পাতাতে ৪-৫ টা গোল মরিচ মিশিয়ে বেটে নিন। ঐ বাটা এক গ্লাস গরম পানিতে ভালো করে গুলে রোগীকে সেবন করতে দিন। এতে ম্যালেরিয়া ভালো হয়ে যাবে।  

নিমের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

যদিও নিমের অনেক গুনাগুণ রয়েছে তবে কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেমনঃ 

  • আপনার যদি নিমে এলার্জি বা সংবেদনশীলতা থাকে, সেক্ষেত্রে নিম ব্যবহার করা যাবে না। 
  • তাই নিম ব্যবহারের আগে একটি সাধারণ পরীক্ষা করা যেতে পারে (যেটিকে প্যাচ পরীক্ষা বলা হয়) এটি করার জন্য নিম পাতার পেস্ট তৈরি করে, ত্বকের যেকোন অল্প জায়গায় ঘষে ২৪  ঘন্টা অপেক্ষা করুন। যদি বিবর্ণতা, ফোলাভাব, চুলকানি, বা অস্বস্তির যেকোন লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে আপনার নিমের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। অথাৎ নিমে আপনার এলার্জি বা সংবেদনশীলতা আছে।
  • সাধারণভাবে, শিশুরা নিমের তেলের ব্যবহারে সংবেদনশীলতা দেখা যায়। যদিও শিশুদের মধ্যে নিমের প্রভাব সম্পর্কে সরাসরি কোনো গবেষণা নেই। তাই শিশুদের ওপর নিমের ব্যবহারে একটু সতর্ক থাকতে হবে। 
  • গর্ভাবস্থায় বা শিশুর উপর যেকোন ভেষজ ও প্রাকৃতিক ঔষধ ব্যবহার করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উত্তম। 
0 comments
11 FacebookTwitterPinterestEmail
পুরুষ-বন্ধাত্ব্য
বন্ধ্যাত্ব রোগ

পুরুষ বন্ধ্যাত্ব দূর করার প্রাকৃতিক উপায়

by Dr. Baby Akter 22/10/2023
written by Dr. Baby Akter

প্রজনন সমস্যা পুরুষ বা মহিলা বা উভয়ের মধ্যেই বিদ্যমান থাকতে পারে এবং এর মোকাবিলার সর্বোত্তম উপায় হ‘ল কোনো পক্ষকেই দোষ না দিয়ে সঠিক প্রতিকার যা প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে পারে তার সন্ধান করা। বর্তমানে নারীদের পাশাপাশি পুরুষের বন্ধ্যাত্বের সমস্যা আগের চেয়ে অনেকাংশে বেড়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতি ছ’জন পুরুষের মধ্যে একজনের এই সমস্যা রয়েছে। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে দায়ী পুরুষরাই। স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নিয়ম না মানাসহ বিভিন্ন কারণে এ সমস্যা বাড়ছে। যেমন- মদপান, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, ব্যায়াম ও হাঁটাচলা না করা, খাবারে ভেজাল, বয়স ৪০ পেরিয়ে গেলে, আঁটসাঁট আন্ডারওয়ার পরলে।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ছ’জন পুরুষের মধ্যে একজনের এই সমস্যা রয়েছে। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে দায়ী পুরুষরাই। তবে চিন্তিত হবেন না, চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, নিষেকের জন্য শুক্রাণুর সংখ্যা খুব গুরুত্বপূর্ণ যা নিয়ত্রণ করার চাবিকাঠিও আপনার হাতেই। 

পুরুষ বন্ধ্যাত্বের কারণ 

  • বীর্যপাতকে ঘিরে সমস্যা
  • শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
  • অনুপযুক্ত পুষ্টি
  • প্রজনন ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে এমন কিছু ওষুধ
  • ভ্যারিকোসিল অবস্থা
  • বেশি অ্যালকোহল গ্রহণ, ধূমপান, ড্রাগ ইত্যাদির ব্যবহার
  • অ্যান্টি–স্পার্ম অ্যান্টিবডিগুলির উপস্থিতি
  • রাসায়নিক এবং ক্ষতিকারক পরিবেশগত পরিস্থিতিতে উন্মুক্ত হওয়া

জেনে নিন, পুরুষ বন্ধ্যাত্ব দূর করার প্রাকৃতিক উপায়সমুহ

ডালিম বা আনার

ডালিম বা আনারের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। মহিলা এবং পুরুষ বন্ধ্যাত্ব উভয়ের ক্ষেত্রে প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম। গবেষণায় বলা হয়, এটি টেস্টোসটেরন ও শুক্রাণুর গুণগত মান বাড়াতে উপকারী।

কুমড়ো বীজ

কুমড়ো বীজে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড ও ফাইটোসটেরল, পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে। এবং শুক্রাণুর মাত্রা, জীবনীশক্তি, ক্ষিপ্রতা বাড়াতে কাজ করে। গবেষণায় দেখা যায়, কুমড়ো বীজে থাকা উপাদান টেস্টোসটেরন হরমোনের সিরামের মাত্রা বাড়ায় যা পুরুষ বন্ধ্যাত্ব দূর করতে খুব কার্যকরী। 

টমেটো 

টমেটোতে বিদ্যমান লাইকোপেন নামক উপকারী উপাদান এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা শুক্রাণুর গুণগত মান বাড়াতে সহায়তা করে।  অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ভালো শোষনের জন্য টমেটো রান্নার সময় জলপাইয়ের তেল ব্যবহার করুন। এটি অধিক ফলদায়ক। 

ডার্ক চকলেট

ডার্ক চকলেটে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যামাইনো এসিড, এল-আরজিন, যা শুক্রাণুর মাত্রা ও বীর্যের পরিমাণ বাড়ানোর উপাদান হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন এক কামড় ডার্ক চকলেটও শুক্রাণুর মান বাড়াতে উপকারী। তাছাড়া অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে ফ্রি র‍্যাডিকেলের সঙ্গে লড়াই করে। ফ্রি র‍্যাডিকেল শুক্রাণুর গুণগত মান নষ্ট করে। 

ওয়ালনাট

সোসাইটি ফর দ্য স্টাডি অব রিপ্রোডাকশনের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন ৭০ গ্রাম ওয়ালনাট খাওয়া ২১ থেকে ৩৫ বছরের পুরুষের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর জীবনীশক্তি, ক্ষিপ্রতা বাড়ায়। ওয়ালনাট সালাদের সঙ্গে খেতে পারেন। এছাড়া স্ন্যাকস হিসেবে খেতে পারেন এ সুস্বাদু বাদামটি। ওয়ালনাটের মধ্যে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড পুরুষ বন্ধ্যাত্ব দূর করার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। 

আমন্ড বাদাম 

পুরুষের বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধে আমন্ড বাদাম অত্যন্ত কার্যকরী। সকালে নাস্তার সাথে অন্তত ৪-৫ টি আমন্ড খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলন।

সম্পৃক্ত ফ্যাটিঅ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার

অধিক পরিমানে ট্রান্স ফ্যাট ও আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন, কারন এটি শুক্রাণু উৎপাদনের প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে পারে। 

ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম

ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম ট্যাবল্যাট বা ক্যালসিয়াম-যুক্ত খাবার শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে অবশ্যই চিকিৎসককে নিজের সমস্যার কথা জানিয়ে ট্যাবলেট নিন।

মৌসুমি ফল বা সবজি

মৌসুমি ফল বা সবজিতে যেমন পেয়ারা, আম, আপেল, আঙুর, তরমুজ ইত্যাদি ফল আর বাঁধাকপি, ঢ্যাঁড়স, কুমড়ো ইত্যাদি সবজিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। যা মহিলা ও পুরুষ উভয়েরই বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধে অধিক ফলদায়ক। তাই বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধে নিয়মিত এই সব ফল আর সবজি খাওয়া জরুরি।

প্রক্রিয়াজাত মাংস

প্রক্রিয়াজাত মাংসেও প্রচুর পরিমাণে ট্রান্স ফ্যাট ও আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটিঅ্যাসিড থাকে। পাশাপাশি, এই ধরনের মাংসে কৃত্রিম সংরক্ষক ও উৎসেচকের অবশিষ্টাংশ থাকে। তা শুক্রাণু উৎপাদনে সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে প্রক্রিয়াজাত মাংস শুক্রাণুর পরিমাণ হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ। এই জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। 

ভিটামিন-ই

দই, ইস্ট ইত্যাদি খাবারে রয়েছে ভিটামিন-ই। এটি মহিলা ও পুরুষ উভয়েরই বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাই বন্ধ্যাত্ব দূর করার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন-ই ওষুধও খাওয়া যেতে পারে।

অতিরিক্ত স্নেহজাতীয় পদার্থযুক্ত দুগ্ধজাত পদার্থ 

সম্প্রতি ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সি যুবকদের ওপর করা একটি সমীক্ষা বলছে, গবাদি পশুর উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য গবাদি পশুকে যে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়ে থাকে তার প্রভাব পড়ে দুধে। আর এ ধরনের দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য খেলে শুক্রাণুর চলাচল, গতি ও আকৃতিতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। তাই এই ধরণের খাবার এড়িয়ে চলুন উচিত।

ধূমপান ও মদপান 

নিয়মিত অতিরিক্ত মদপান শুক্রাণুর গঠনগত বিকৃতি ঘটাতে পারে। একাধিক গবেষণা বলছে, গাজা ও সিগারেট শুক্রাণুর সমস্যা ডেকে আনতে পারে। বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধে অবশ্যই ধূমপান ও মদপান মুক্ত সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
ঘরোয়া উপায়ে বন্ধ্যাত্ব নিরাময়
ঘরোয়া চিকিৎসা

প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া উপায়ে বন্ধ্যাত্ব রোগ নিরাময় করুন

by Dr. Baby Akter 22/10/2023
written by Dr. Baby Akter

যে কোন স্বামী-স্ত্রী বা বিবাহিত দম্পতিই চায় তাদের জীবনে সন্তান আসুক। সন্তানের মাঝে দম্পতি এক নতুন জীবনের পূর্ণতা পায়। তাকে  ঘিরেই নিজেদের সমস্ত চাওয়া পাওয়া, স্বপ্ন সব কিছু আবর্তিত হয়। কিন্তু সেই স্বপ্ন, আশা সব মিছে হয়ে যায়, যদি তাদের জীবনে নতুন কোন জীবন না আসে। স্বামী-স্ত্রী অনেকটা হতাশ নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করেন। অনেক দম্পতি আছে যারা দীর্ঘদিন বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেও ঘরে সন্তান আসেনি। তাদের জন্য এই পদ্ধতিটি হয়ে যেতে পারে হতাশা মুক্তির কারণ। তাই এবার ঘরোয়া উপায়ে বন্ধ্যাত্ব রোগ নিরাময়ের পদ্ধতিটি চেষ্টা করে দেখুন, ঘর আলোকিত করে আসতে পারে নতুন প্রাণ, দেখতে পারেন সন্তানের মুখ। 

অনেক দম্পতি আছেন যারা দীর্ঘদিন বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেও ঘরে আসেনি সন্তান। তাই এবার প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চেষ্টা করে দেখুন, ঘর আলোকিত করে আসতে পারে নতুন প্রাণ, দেখতে পারেন সন্তানের মুখ।

বন্ধ্যাত্ব দূর করার প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া উপায়

সকালের খাবার

সুস্থ ডায়েট যদি চান অবশ্যই দিনের প্রথম খাবার ভালো হতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে যে সমস্ত মহিলারা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রে ভরপুর ব্রেকফাস্ট অনেকটাই কাজ দেয়। তাই সকালের খাবার সবসময় চেষ্টা করুন বেশি করে খাওয়ার।  

খেজুর

খেজুরে ভিটামিন এ, ভিটামিন ই, ভিটামিন বি এবং একাধিক খনিজসহ বিভিন্ন ধরণের পুষ্টি যা গর্ভধারণকে সহায়তা করে। খেজুর এবং ধনিয়া শিকড়ের একটি পেস্ট তৈরি করে, এটি গরুর দুধের সাথে ফুটিয়ে নিন। এই শীতল মিশ্রণটি আপনার পিরিয়ডের পরে প্রতিদিন পান করুন। বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় ভালো ফল পাবেন। সকালে স্মুথির মাধ্যমে সাধারণভাবে খেজুর খাওয়াও খুব ভাল। 

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার

গর্ভধারণ করার ক্ষমতার জন্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার অধিক কার্যকরী। এই ধরণের খাবার শরীরের জনন গ্রন্থিগুলোতে আক্রমণকারী পদার্থগুলোকে ধ্বংস করে এবং তাদের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায়। সেই সাথে পাশাপাশি স্পার্ম কাউন্ট বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। যে কোনো ধরনের সবজি, ভিটামিন ‘সি’ এবং ‘ই’ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এর জন্য ভালো।

মাল্টি ভিটামিন

শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত মাল্টি ভিটামিন খেলে নারীদের বন্ধ্যাত্ব জনিত সমস্যা অনেক কম হয়। এর সাথে গ্রীন-টি, ভিটামিন ই এবং ভিটামিন বি-৬ সমৃদ্ধ খাওয়া দরকার।

শরীরচর্চা

বন্ধ্যাত্ব দূর করতে নিয়মিত শরীরচর্চা করুন এবং প্রচুর পরিমাণে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খান। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বসে থাকলে শরীরে অতিরিক্ত ক্ষতিকর অতিরিক্ত ফ্যাট জমতে থাকে। প্রাকৃতিকভাবে আয়রনসমৃদ্ধ ফল বেশি করে খান। 

ট্রান্সফ্যাট

ট্রান্সফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার না খাওয়ার চেষ্টা করুন। এবং কম কার্বোহাইড্রেট খাওয়া শুরু করুন ডায়েটে। সাধারণত মার্জারিন, প্রসেসড ফুড এবং অন্যান্য খাবার যাতে ফ্যাট বেশি আছে এড়িয়ে যাওয়া দরকার। এতে শরীরে ইনসুলিনের লেভেল কমবে।

মাদকদ্রব্য গ্রহণ বর্জন করুন

মাদকদ্রব্য গ্রহণের অভ্যাস থাকলে অবশ্যই তা ক্ষতিকর। অতিরিক্ত অ্যালকোহল খাওয়া কমান। একইসাথে ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় খাওয়া বন্ধ করুন বা পরিমিত সেবন করুন। কারণ এইটি পুরুষের স্পার্ম কাউন্ট কমায়। 

ডালিম

ডালিম মহিলাদের গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এই ফলটি সরাসরি জরায়ুর আস্তরণ ঘন এবং শক্তিশালী করে যা গর্ভপাত ঘটার সম্ভাবনা কমায়। তাজা ডালিম কয়েক সপ্তাহ ধরে সঠিক পরিমাণে কাঁচা বা রস আকারে খাওয়া উচিত। বন্ধ্যাত্ব দূর করার জন্য ডালিম কয়েক সপ্তাহ ধরে সঠিক পরিমাণে কাঁচা বা রস আকারে খাওয়া খেতে হবে। 

সৈন্ধব লবণ

সৈন্ধব লবণ বাজারে সহজেই পাওয়া যায় এবং এতে প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সৈন্ধব লবণ পানিতে ভিজিয়ে রেখে এবং ভোর বেলা সেই পানি পান করার অভ্যাস করুন। এভাবে ৫-৬ মাস পর্যন্ত খেলে মহিলাদের মাসিক চক্রকে স্বাভাবিক করতে সহায়তা করে, এতে স্বাস্থ্যবান জরায়ু তৈরি হয় এবং গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। 

ফলিক এসিড 

ফলিক এসিড একটি প্রজনক্ষম উপাদান। এটি প্রথমবার গর্ভবতী হওয়ার ক্ষেত্রে দারুণ সহায়তা করতে পারে। গর্ভধারণের চেষ্টা করার আগে কয়েক মাসের জন্য ৪০০ এমসিজি পরিমাণে ফোলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট গ্রহণ করা দরকারl। ফলিক এসিড গর্ভধারণের পাশাপাশি অটিজমের মতো ত্রুটিগুলি থেকে রক্ষা করে অনাগত শিশুর বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে।

0 comments
1 FacebookTwitterPinterestEmail
গর্ভবতী মায়ের করনীয়
গর্ভবতী মায়ের পরিচর্যা

গর্ভবতী মায়ের করনীয় জরুরী কিছু বিষয়

by Dr. Baby Akter 19/10/2023
written by Dr. Baby Akter

কনসিভ হয়েছেন? প্রেগন্যান্সি পজিটিভ? অভিনন্দন!! মা হওয়া রোমাঞ্চকর এই অপ্রতিরোধ্য সময়ে একটি বিশেষ নির্দেশিকা প্রয়োজন যা আপনার  প্রত্যাশিত গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করবে। গর্ভাবস্থার প্রথম ১৩ সপ্তাহ সময়ে আপনার অনেক বেশী সচেতন এবং সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ তখন আপনার শরীর যেমন ক্রমশঃ বাড়তে থাকবে এবং পরিবর্তিত হবে একই ভাবে আপনার সন্তানও কিন্তু বাড়ছে। তাই আনন্দময় এই দিনগুলোতে অবশ্যই সঠিক স্বাস্থ্য নির্দেশিকা জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরী। গর্ভাবস্থার প্রথম দিকের সপ্তাহগুলোতে হরমোনের পরিবর্তনের ফলে কিছু লক্ষণ অনুভব করতে পারেন যা আপনার শরীরকে প্রভাবিত করে।

অভিনন্দন- আপনি ‘মা’ হচ্ছেন !!  এই রোমাঞ্চকর গর্ভাবস্থার  প্রথম ১৩ সপ্তাহ সময়ে আপনার একটি বিশেষ নির্দেশিকা প্রয়োজন , যা আপনার  প্রত্যাশিত গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করবে।

 গর্ভাবস্থার প্রথম দিকের লক্ষণগুলো নিম্নরূপ:

  • বমি-বমি ভাব বা বমি (প্রভাতকালীন অসুস্থতা)
  • মাথাব্যথা করা
  • কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া
  • চরম ক্লান্তি বোধ হওয়া
  • গর্ভাবস্থার প্রথম দিকের সপ্তাহগুলোতে হরমোনের পরিবর্তনের ফলে কিছু লক্ষণ 
  • বুকজ্বালা করা
  • ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
  • স্তন নরম হয়ে যাওয়া
  • পায়ে খিল ধরা
  • নির্দিষ্ট কিছু খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হওয়া
  • পিঠের নিচের অংশ এবং শ্রোণীতে ব্যথা হওয়া
  • মেজাজে চরম পরিবর্তন হওয়া

কনসিভ হওয়ার সাথে সাথে যা করবেন

স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সাথে যোগাযোগ করুন

  • একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকুন  এবং ওজন, পালস, রক্তচাপ, ওজন বাড়ছে কি না,তা নিয়মিত চেকআপ  করুন।
  • গর্ভাবস্থার প্রথম ১২ সপ্তাহের মধ্যে আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে কমপক্ষে একবার দেখা করার জন্য সময় নির্ধারণ করা উচিত। আপনার নিজ এলাকার   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সাথে যোগাযোগ করুন।  স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর দেয়া পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা মেনে চলুন।

বমি ভাব ও মাথা ঘোরা

অন্তঃসত্ত্বা হবার কারনে শরীরে বেশ কিছু হরমোন পরিবর্তন ঘটে। যার ফলে বমি ভাব, মাথা ঘোরা, খেতে না পারা, শরীর খারাপ ভাব হতে পারে। বমি ভাব বা বমির ক্ষেত্রে  কেমোমিল, আদা, ভিটামিন বি৬ এবং/বা আকুপাংচার করার চেষ্টা করুন। বেশি বমি হলে সকালে উঠে লেবু পানি খেতে পারেন। আর মাথা বেশি ঘোরালে কিছুক্ষণ শুয়ে বিশ্রাম নিন। 

কোষ্ঠকাঠিন্যে

বেশির ভাগ মায়ের এসময়ে বুক জ্বালা করা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যও হয়ে থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্যে থেকে স্বস্তি পেতে গমের তুষ বা অন্যান্য ফাইবার জাতীয় সম্পূরক খাদ্যের ব্যবহার করা যেতে পার। আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর পরামর্শ অনুসারে খাদ্যাভাস গড়ে তুলুন এবং চিকিৎসা নিন। 

পায়ে খিল ধরা

পায়ে খিল ধরার ক্ষেত্রে ম্যাগনেসিয়াম বা ক্যালসিয়াম নিয়ে দেখতে পারেন। পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের মাধ্যমে আপনার এবং আপনার সন্তানের ক্রমবর্ধমান শরীরের পুষ্টির বিষয়টি নিশ্চিত করুন।

স্তনে ব্যথা

গর্ভকালীন সময়ের ধীরে ধীরে হরমোন ঘটিত পরিবর্তনের কারনে  স্তনের আকারে পরিবর্তন হওয়া,স্তনে ব্যথা  হওয়া ও স্তন নরম  হওয়া এধরণের সমস্যা গুলো লাগতে পারে। জেনে রাখবেন এটি স্বাভাবিক, এই পরিবর্তন আপনার সন্তানের জন্য জরুরি।

গর্ভবতী মায়ের করনীয় জরুরী বিষয় সমুহ

যেহেতু প্রতিটি নারীর গর্ভাবস্থার অভিজ্ঞতা  আলাদা ও  ভিন্ন, তাই  যে উপসর্গগুলো দেখা দিলে আপনাকে অবশ্যই স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সাথে কথা বলতে হবে:

  • যোনিপথে রক্ত বের হওয়া
  • ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের উপরে জ্বর হলে
  • মারাত্মক খিল ধরা
  • দুর্গন্ধযুক্ত যোনি স্রাব
  • প্রস্রাবে যন্ত্রণা
  • মারাত্মক বমি-বমি ভাব
0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
গর্ভাবস্থায় ক্ষতিকর খাবার সমুহ
গর্ভবতী মায়ের পরিচর্যা

গর্ভাবস্থায় যে খাবার গুলি আপনার জন্য ক্ষতিকর

by Dr. Baby Akter 19/10/2023
written by Dr. Baby Akter

গর্ভকালীন সময়ে কিছু খাবার গর্ভধারণ সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি করে এতে মা অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ সময়ে পুষ্টিকর সুষম খাবার খাওয়া যেমন জরুরী তার চেয়ে বেশি জরুরী কি কি খাবেন না। কারণ পুষ্টিকর খাবার যেমন শরীরে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখে তেমনি কিছু কিছু খাবার গর্ভবতী মায়ের জন্য ক্ষতিকর। তাই খাবারের পুষ্টিগুণের পাশাপাশি ক্ষতিকর খাবার গুলো জেনে রাখা অত্যধিক জরুরী। আসুন জেনে নিই গর্ভকালীন সময়ের নিষিদ্ধ খাবারসমূহ।

গর্ভকালীন সময়ে পুষ্টিকর সুষম খাবার খাওয়া যেমন জরুরী তার চেয়ে বেশি জরুরী কি কি খাবেন না। কিছু নিষিদ্ধ খাবার অনাকাঙ্খিত গর্ভপাত পর্যন্ত করতে পারে।

গর্ভকালীন সময়ের নিষিদ্ধ খাবারসমূহ

কাঁচা বা অল্পসিদ্ধ খাবার 

কাঁচা ও অল্প রান্না করা মাংসজাত পণ্য খাবার না খাওয়া উত্তম। এগুলোতে  সালমোনিলা ও লিসটেরিয়ার মতো ব্যাকটেরিয়া এবং টোকসোপ্ল্যাজমা গনডির মতো পরজীবী থাকতে পারে।

মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার

গর্ভকালীন সময়ে কখনো মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার খাওয়া উচিত নয়।  কারণ সেগুলোতে ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে যা মায়ের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই খাবার খাওয়ার সময় অথবা প্যাকেটজাত খাবার পণ্য ক্রয়ে সচেতন হতে হবে। 

ক্যাফেইন

ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় অতিমাত্রায় (চা, কফি, চকলেট) পান না করা ভালো। এগুলো বেশি খাওয়ার ফলে গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যহানি হতে পারে। এসময় শরীরের বাড়তি ওজন কিন্তু ক্ষতিকর। তাই ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় খাবার বা পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। 

যকৃত(লিভার) ও অন্যান্য অঙ্গের মাংস

যকৃতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকলেও এটা গর্ভধারিণী নারীদের খেতে চিকিৎসকরা নিষেধ করেন। কারণ এতে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ থাকে এবং এই মাংসে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে যা গর্ভবতী মায়ের জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ।

আনারস

গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে আনারস খেলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে। আনারসে প্রচুর পরিমাণ খনিজ উপাদান ও প্রোটিন থাকে যা পাকস্থলীর বিভিন্ন ইনফেকশন দূর করলেও গর্ভপাতের আশঙ্কা থাকে। তাই এ সময়ে আনারস এড়িয়ে চলে হবে। 

পেঁপে

কাঁচা বা আধা-পাকা পেঁপের মধ্যে ল্যাটেক্স থাকে যা ইউটেরিন কন্ট্র্যাকশন ঘটায়। এটি গর্ভের শিশুর ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। তবে পেঁপে পাকা হলে কোনো সমস্যা নেই। সেজন্যই গর্ভাবস্থায় অবশ্যই কাঁচা বা আধা পাকা পেঁপে খাবেন না। 

ডিম ও বীজ 

কাঁচা বা কম সিদ্ধ ডিম। এতে সালমোনিলা ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। তাছাড়া রান্না না করা অঙ্কুরিত বীজ, খাদ্যশস্য ও শিম , কাঁচা মূলা, শিম ও আলফালফার বীজ এবং রেডি-টু-ইট সালাদ এসব খাবার খাবেন না। এতে থাকে লিসটেরিয়া, সালমোনিলা ও ই কোলির মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া গর্ভকালীন সময়ে মারাত্বক ক্ষতি হতে পারে। 

শিকারি মাছ

শিকারি মাছ যেমন হাঙ্গর, সোর্ড ফিশ, মার্লিন ও কিং ম্যাককেরেলে উচ্চ মাত্রায় পারদ (মার্কারি) থাকে। তাই গর্ভকালীন সময়ে এগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। তাছাড়া কাঁচা মাছ ও সিফুডও বর্জন করে উচিত। কারণ এগুলোতে উচ্চমাত্রায় ব্যাকটেরিয়া ও পরজীবী থাকতে পারে যা গর্ভবতী মায়ের জন্য ক্ষতিকর। 

অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি বা এনার্জি ড্রিংক

গর্ভাবস্থায় দূরে রাখতে হবে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি বা এনার্জি ড্রিংক। ঠান্ডা পানি বা এনার্জি ড্রিংক গর্ভবতী মহিলাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকারক বিশেষ করে যে সকল মায়েদের ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা আছে তাদের জন্য বেশি সমস্যা হতে পারে।

কাঁচা ও পাস্তুরায়ন ছাড়া দুধ

কাঁচা, পাস্তুরায়ন ছাড়া দুধে লিসটেরিয়া নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা লিসটেরিওসিস নামের এক ধরনের রোগ তৈরি করতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় কাঁচা, পাস্তুরায়ন ছাড়া দুধ অথবা এই দুধের তৈরি পনির ও খাবার থেকে গর্ভবতী মহিলাদের বিরত থাকতে হবে। 

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
পালংশাকের গুনাগুন ও উপকারিতা
শাক-সবজির পুষ্টিগুণ

জেনে নিন পালংশাকের কিছু অসাধারণ গুণ ও উপকারিতা

by Dr. Baby Akter 15/10/2023
written by Dr. Baby Akter

সবুজ শাক-সবজির মধ্যে এক অতি পরিচিত নাম হলো পালংশাক। এর অধিক পুষ্টিগুণের কারণে সুদীর্ঘকাল ধরে পনির দিয়ে, আলু দিয়ে, মাছ দিয়ে, মাংস দিয়ে কিংবা এমনি খেয়ে আসছে।  প্রায় সারা বছর পাওয়া গেলেও শীতে পালংশাক বাজারে বেশী পাওয়া যায় এবং দামেও সাশ্রয়ী। পালংশাকের মধ্যে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা। তাই নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন এই পুষ্টিকর পালংশাক।

সুদীর্ঘকাল ধরে কিছু আলাদা পুষ্টিগুণ ও উপকারিতার কারণে মানুষের খাদ্য তালিকায় অধিক জনপ্রিয় পালংশাক, আছে রোগ প্রতিরোধের অসাধারণ ক্ষমতা।

পালংশাকের গুনাগুন ও উপকারিতা

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি 

পালংশাকে জেক্সানথিন, লুটিন ও ক্লোরোফিল উপাদান থাকার কারণে মানুষের দৃষ্টিশক্তি রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে।

হাড়ের গঠন মজবুত করে 

পালংশাকে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, আঁশ, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। পালংশাক ভিটামিন কে–এর বড় উৎস। এসবই হাড়ের গঠন মজবুত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়। এই ভিটামিন অস্টিওক্যালক নামের একটি প্রোটিন উৎপাদন করে থাকে। অস্টিওক্যালক হাড়ে ক্যালসিয়ামকে স্থিতিশীল রাখে। 

ক্যান্সার প্রতিরোধে

পালংশাকে ১৩ ধরনের ফাভোনয়েডস থাকার কারণে এটি ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে খুবই কার্যকর।

ভিটামিন সি–এর উৎস 

পালংশাকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকার কারণে এটিকে ভিটামিন সি–এর বড় উৎস বলা হয়। আমাদের শরীরে ভিটামিন সি এর প্রয়োজনীতা অত্যধিক। ভিটামিন সি মানুষের চোখের রোগ এবং কপালের বলিরেখা দূর করতে পারে, প্রসবপূর্ব সময়ে মায়েদের স্বাস্থ্যের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পালংশাকে লুটিন থাকে যা ধমনির গা মোটা হওয়া ঠেকিয়ে মানুষের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। এ ছাড়া এটি  কার্ডিওভাসকুলার রোগ দূর করতে সক্ষম। 

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

পালংশাক পেট পরিষ্কার রাখতে অপরিহার্য। পালংশাকে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ এবং বিটা কেরোটিন থাকায় তা মানুষের কোলনের কোষগুলোকে রক্ষা করে। পালং পাতার রস খেলে মেদ বৃদ্ধি কমে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে।  

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে

পালংশাকে থাকা জেক্সানথিন, লুটিন ও ক্লোরোফিল মানুষের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়, এবং এতে প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেলস থাকায় এটি মেয়েদের মাসিকজনিত সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।

ডায়াবেটিস রোগে 

ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য পালংশাক খুব উপকারী। এতে রয়েছে, ম্যাগনেশিয়াম তাই পালংশাক খেলে শরীরের শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। ফলে তরতাজা ও সতেজ থাকা যায়। 

কিডনিতে পাথর হলে 

যাদের কিডনিতে পাথর আছে তারা নিয়মিত পালং পাতার রস খেলে কিডনির পাথর গুঁড়ো হয়ে প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যাবে। তাছাড়া এই শাক দেহ ঠাণ্ডা ও স্নিগ্ধ রাখে ।

বাতের ব্যথা

পালংশাক মাইগ্রেন, মাথাব্যথা, অস্টিওপোরোসিস ও বাতের ব্যথা দূর করতে প্রদাহনাশক হিসেবে কাজ করে।

স্মৃতিশক্তি বাড়ায়

পালংশাকে প্রচুর আয়রন ও ভিটামিন ডি, আঁশ, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম এটি স্মৃতিশক্তি এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে খুবই উপকারী। তাছাড়া পালংশাক দাঁত ও হাড়ের ক্ষয়রোধে, রক্তস্বল্পতা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
শীতকালীন বিভিন্ন রোগ এবং প্রাকৃতিক প্রতিকার
শীতকালীন রোগব্যাধি

শীতকালীন বিভিন্ন রোগ এবং প্রাকৃতিক প্রতিকার

by Dr. Baby Akter 14/10/2023
written by Dr. Baby Akter

আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষ নানা অসুখে আক্রান্ত হয়। ঠিক তেমনি শীতকালে কিছু কিছু রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। যেমন সর্দি-জ্বর, কাশি-হাঁচি ও শ্বাসকষ্ট ডায়রিয়া, খুশকি, খোসপাঁচড়া বা চর্মরোগ প্রভৃতি। এ সময় কারো ঠান্ডাজনিত সমস্যা হলে তা সহজে না সারার প্রবণতা থাকে। ঠাণ্ডার কারণে অনেকের টনসিল বেড়ে গিয়ে ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে। তাই তীব্র শীত আসার আগেই কিছু রোগের প্রকোপ ঠেকাতে সতর্ক থাকা ভালো।

শীতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার বেশী খান। পানি শরীরকে হাইড্রেট রাখে এবং ভিটামিন সি ঠান্ডা লাগার প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে ।

শীতের বিভিন্ন রোগ ও প্রতিকার

সর্দি-কাশি-জ্বর

শীতকালে সর্দি-কাশি-জ্বর বা কমন কোল্ড একটি সাধারণ রোগ। ঋতু পরিবর্তনের সময় এ রোগ বেশি দেখা যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাদের কম তাদের এ রোগ হওয়ার সম্ভবনা বেশী। দেহের শ্বাসনালির এক ধরণের ভাইরাসজনিত সংক্রমনে সর্দিজ্বর হয়ে থাকে। সর্দিজ্বর হলে প্রথমে নাকে ও গলায় অস্বস্তি লাগে, হাঁচি হয়, নাক দিয়ে অনবরত পানি ঝরতে থাকে। মাথা ভারী বোধ হওয়া, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, গলাব্যথা, জ্বর, প্রভৃতি উপসর্গও দেখা যায়। নাক বন্ধও থাকতে পারে।

সর্দিজ্বরে আক্রান্ত হলে অন্যদের মেলামেশায় সতর্কতা অবলম্বন করুন। হাঁচি দেওয়ার সময় বা নাকের পানি মুছতে রুমাল বা টিস্যু পেপার ব্যবহার করুন। যেখানে সেখানে কফ, থুথু বা নাকের শ্লেষ্মা ফেলা যাবে না। রোগীর ব্যবহৃত রুমাল বা গামছা অন্যদের ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখুন। দেহকে সতেজ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধে বৃদ্ধি করতে তাজা, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া ও ডেঙ্গু

শীতকালে অনেক স্থানে মশার প্রকোপও বাড়ে। আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মশাবাহিত ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, ডেঙ্গু রোগ সহ নানা ভাইরাস জ্বরের রোগের প্রকোপ দেখা যায়। মূলত অ্যাডিনোভাইরাস, রাইনোভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি ভাইরাস জ্বরের জন্য দায়ী। শিশু, বয়স্ক ও যাদের শরীরে অন্য রোগ যেমন- ডায়াবেটিস, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস আছে, তাদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কাঁপুনি দিয়ে উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর আসা, গিঁটে ব্যথা, বারবার জ্বর আসা, ইত্যাদির লক্ষণ দেখা গেলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ডাবের পানি, প্রচুর তরল জাতীয় খাবার, বিশেষত খাবার স্যালাইন, লেবু-চিনির শরবত এ সময়টায় বেশ উপকারী। ডেঙ্গু বর্ষাকালীন রোগ হলেও এখন শীতকালেও এটির বিস্তার দেখা যায়। তাই মশার কামড়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। 

নিউমোনিয়া

পৃথিবীব্যাপী পাঁচ বছরের নিচের শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া। এটি একটি মারাত্মক অসুখ। বাংলাদেশেও শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ এ রোগটি। নিউমোনিয়ায় শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যায়। যদিও এটি প্রতিরোধযোগ্য এবং চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য একটি রোগ। লোয়ার রেসপিরেটরি ট্র্যাক সংক্রমণ যা ব্যাকটেরিয়ার কারনেও ভাইরাল নিউমোনিয়াও হতে পারে। শীত উপযোগী হালকা ও নরম গরম কাপড় ব্যবহার করুন। সুস্থ শিশুকে সর্দি-কাশি, ব্রংকিওলাইটিস, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর কাছে যেতে দেবেন না। সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ান, ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ডি’ গ্রহণ করুন। ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। নিউমোনিয়া রোগীর অবস্থা অবনতি দেখা দিলে দ্রুত হসপিটালে ব্যবস্থা করুন। 

পাতলা পায়খানা

ঠাণ্ডার কারণে শিশুদের বা বড়দেরও হঠাৎ করে পাতলা পায়খানা হতে দেখা যায়। বিশেষ করে যখন বেশি ঠাণ্ডা পড়ে তখন পাতলা পায়খানা সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। খাবারের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে, এই সমস্যা এড়াতে বাইরের খাবার একেবারে না খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। বয়স্ক ও শিশুদের গরম কাপড়ের পাশাপাশি সবসময় হাতমোজা ও মোজা পরে থাকতে হবে।

চর্মরোগ

শীতের সময় নানা ধরনের চর্মরোগ হতে পারে। বিশেষ করে ঠোঁট, হাত ও পায়ের ত্বকে দেখা দেয় চুলকানি, একজিমা, স্ক্যাবিস, চর্মরোগ প্রভৃতি। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকার কারণে শুষ্ক বাতাস ত্বক থেকে শুষে নেয় পানি। ফলে ত্বক হয়ে পড়ে দুর্বল। এ ছাড়া মাথায় প্রচুর খুশকি দেখা যায়। ত্বকের সুরক্ষায় ময়েশ্চারাইজার যেমন: ভ্যাসেলিন, গ্লিসারিন, অলিভ অয়েল ও সরিষার তেল ব্যবহার করুন।  শীতের সময় তাই অলিভ অয়েল বা লুব্রিকেন্টজাতীয় কিছু ব্যবহার করুন। অলিভ অয়েল ত্বকে আলাদা আস্তর তৈরি করে বলে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। বেশিক্ষণ রোদে থাকলে কড়া আগুনের তাপে চামড়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই অতিরিক্ত রোদ পোহানো পরিহার করুন। 

বাতব্যথা

বাতের বা আর্থ্রাইটিস সমস্যা শীতে অনেকের বেড়ে যায় মূলত বয়স্কদেরই হয় বেশি। শেষ করে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid arthritis) বা এনকাইলোজিং স্পন্ডিওলাইটিস (Ankylosing spondylitis), স্পন্ডাইলো আর্থ্রাইটিস (Spondylarthritis), রি-অ্যাকটিভ আর্থ্রাইটিস, সোরিয়াসিটিস, অস্টিও আর্থ্রাইটিস রোগীদের শীতের সময় চলাফেরা বা মুভমেন্ট কম হয় বলে ব্যথার প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রয়োজনে গরম উত্তাপে থাকুন। অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা খাদ্যাভাসের মাধ্যমে কমিয়ে আনুন। সবসময় হালকা মুভমেন্ট  করার চেষ্টা করবেন, একটানা অনেকক্ষণ বসে থাকবে না। গরম ছেঁক দিন বা প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ  অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি নিন।

অ্যাজমা

অ্যাজমা একবার হলে এর ঝুঁকি মোকাবেলা করতে হয় সারা জীবনই। হাঁপানি বা অ্যাজমা  শুধু শীতকালীন রোগ নয় ,শ্বাসকষ্টের রোগ। অ্যাজমাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে জটিলতা বা ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে। তবে শীতে এর প্রকোপ অনেকাংশে বেড়ে যায়। শীতের আগেই চিকিৎসককে দেখিয়ে ইনহেলার বা অন্যান্য ওষুধের ডোজ সমন্বয় করে নিন। শোবারঘরটি উষ্ণ রাখার চেষ্টা করুন, ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা করুন। শীতে পর্যাপ্ত গরম জামা-কাপড় পারবেন ও সচেতন থাকুন। 

শীতকালীন রোগ প্রতিরোধের আরো প্রয়োজনীয় সতর্কতা

  • শীতে প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এসময়  পানি খাওয়া কম হয়। ফলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এছাড়া পানি জাতীয় গরম খাবার বেশী বেশী খেতে হবে।
  • শীতে ভিটামিন সি জাতীয় খাবার বেশী খাওয়া উচিত। ভিটামিন সি ঠান্ডা লাগার প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে।
  • শীতকালে অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। শীতে ধুলাবালি বেশী থাকায় তাতে রোগ-জীবাণু বেশী থাকে এবং সে কারণে অসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। তাই এসময়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা বেশী প্রয়োজন।
  • প্রতিদিন খাবারে রসুন ব্যবহার করা ,কালোজিরা রান্না বা ভর্তা খাওয়া ভালো । আদা ও লবঙ্গ দিয়ে চা খেতে পারেন এগুলো  ঠান্ডা লাগা কমাতে অধিক কার্যকর। 
0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

Recent Posts

  • ইফতারের পর চা খেলে কি হয়
  • রমজানে পর্যাপ্ত না ঘুমালে কী হয়
  • মাথা ব্যথার কারন ও মুক্তির উপায়
  • এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 
  • এনাল ফিসার কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

Recent Comments

No comments to show.

আমাদের সম্পর্কে

banner

প্রকৃতির মাঝেই লুকিয়ে আছে নিরাময়ের সকল উপাদান। তাই সুস্থতা ও প্রশান্তির আরেক নাম প্রকৃতি। প্রকৃতির সাথে নিজেকে একাত্ম করুন, প্রাকৃতিক নিয়মেই আপনি সুস্থ থাকবেন প্রশান্ত থাকবেন। প্রকৃতির মাঝে ছড়িয়ে থাকা এই অসংখ্য উপাদান আর তার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সৃষ্টির আদি থেকে এখনো পর্যন্ত মানুষ সুস্থতার যে উপায়গুলি মানব কল্যানে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে সেসব তথ্য উপাত্তকে গুছিয়ে নতুন আঙ্গিকে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ

  • 1

    এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 

  • 2

    শীতকালীন বিভিন্ন রোগ এবং প্রাকৃতিক প্রতিকার

  • 3

    প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া উপায়ে বন্ধ্যাত্ব রোগ নিরাময় করুন

  • 4

    শারীরিক সুস্থতার জন্য শাক-সবজি খাওয়ার সঠিক নিয়ম

Back Next

প্রয়োজনীয় লিংক সমুহ

  • চিকিৎসার ইতিহাস ও গবেষণা
  • প্রসূতি এবং শিশু স্বাস্থ্য
  • গোপনীয়তার নীতি
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • Facebook
  • Twitter
  • Whatsapp

@2023 - All Right Reserved by MIL HOMEO


Back To Top
MIL HOMEO
  • মুল পাতা
  • প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য
    • আয়ুর্বেদ চিকিৎসা
    • ঘরোয়া চিকিৎসা
    • ভেষজ উপাদান
    • ভেষজ চিকিৎসা
  • রোগব্যাধি ও প্রতিকার
    • শারীরিক রোগ
      • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ
      • চর্মরোগ
        • আঁচিল বা তিল
      • জ্বর
        • টাইফয়েড জ্বর
        • ডেঙ্গু জ্বর
        • ম্যালেরিয়া
      • পায়ুপথের রোগ
      • কান পাকা রোগ
      • কৃমি রোগ
      • বন্ধ্যাত্ব রোগ
      • নাসা রোগ
      • শীতকালীন রোগব্যাধি
      • সংক্রামক রোগ
      • সাইনোসাইটিস
      • স্নায়ু রোগ
    • মনরোগ
    • শিশু রোগ
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • সুস্থ জীবনধারা
    • ক্ষতিকর অভ্যাস
    • খাদ্যাভ্যাস
    • তামাক ও মাদক বর্জন
    • পানীয় জল এবং হাইড্রেশন
    • ভালো ঘুমের অভ্যাস
    • রূপচর্চা ও চুলের যত্ন
    • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
    • স্বাস্থ্যকর শখ
  • ব্যায়াম ও ফিটনেস
    • ওজন প্রশিক্ষণ
    • ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা
    • ঘরে বসে ফিটনেস
    • বয়স্কদের ব্যায়াম
    • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
    • স্ট্রেচিং এবং মবিলিটি
  • মানসিক স্বাস্থ্য
    • অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা
    • আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে ভালোবাসা
    • ডিপ্রেশন ও প্রতিকার
    • মানসিক চাপ ও সমাধান
    • মেডিটেশন ও মননশীলতা
    • পরিবার ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য
  • খাদ্য ও পুষ্টি
    • আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
    • ওজন কমানোর খাদ্য পরিকল্পনা
    • ওজন বাড়ানোর পুষ্টি পরিকল্পনা
    • খাদ্য তালিকা এবং পরামর্শ
      • রোগের খাবার
    • পুষ্টিগুণ
      • শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
      • ফলের পুষ্টিগুণ
    • ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
    • স্বাস্থ্যকর রেসিপি
  • হোমিও চিকিৎসা