MIL HOMEO
প্রকৃতির সাথে থাকুন, সুস্থ থাকুন
  • মুল পাতা
  • প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য
    • আয়ুর্বেদ চিকিৎসা
    • ঘরোয়া চিকিৎসা
    • ভেষজ উপাদান
    • ভেষজ চিকিৎসা
  • রোগব্যাধি ও প্রতিকার
    • শারীরিক রোগ
      • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ
      • চর্মরোগ
        • আঁচিল বা তিল
      • জ্বর
        • টাইফয়েড জ্বর
        • ডেঙ্গু জ্বর
        • ম্যালেরিয়া
      • পায়ুপথের রোগ
      • কান পাকা রোগ
      • কৃমি রোগ
      • বন্ধ্যাত্ব রোগ
      • নাসা রোগ
      • শীতকালীন রোগব্যাধি
      • সংক্রামক রোগ
      • সাইনোসাইটিস
      • স্নায়ু রোগ
    • মনরোগ
    • শিশু রোগ
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • সুস্থ জীবনধারা
    • ক্ষতিকর অভ্যাস
    • খাদ্যাভ্যাস
    • তামাক ও মাদক বর্জন
    • পানীয় জল এবং হাইড্রেশন
    • ভালো ঘুমের অভ্যাস
    • রূপচর্চা ও চুলের যত্ন
    • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
    • স্বাস্থ্যকর শখ
  • ব্যায়াম ও ফিটনেস
    • ওজন প্রশিক্ষণ
    • ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা
    • ঘরে বসে ফিটনেস
    • বয়স্কদের ব্যায়াম
    • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
    • স্ট্রেচিং এবং মবিলিটি
  • মানসিক স্বাস্থ্য
    • অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা
    • আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে ভালোবাসা
    • ডিপ্রেশন ও প্রতিকার
    • মানসিক চাপ ও সমাধান
    • মেডিটেশন ও মননশীলতা
    • পরিবার ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য
  • খাদ্য ও পুষ্টি
    • আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
    • ওজন কমানোর খাদ্য পরিকল্পনা
    • ওজন বাড়ানোর পুষ্টি পরিকল্পনা
    • খাদ্য তালিকা এবং পরামর্শ
      • রোগের খাবার
    • পুষ্টিগুণ
      • শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
      • ফলের পুষ্টিগুণ
    • ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
    • স্বাস্থ্যকর রেসিপি
  • হোমিও চিকিৎসা

প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য ও ঘরোয়া চিকিৎসা

আয়ুর্বেদ চিকিৎসা

ইফতারের পর চা খেলে কি হয়

by Dr. Baby Akter 23/03/2025
written by Dr. Baby Akter

ইফতারের পর এক কাপ চায়েই নাকি পরম প্রশান্তি! ইফতারের পর যেন এককাপ না খেলেই নয়। তবে সেক্ষেত্রে একেক জনের চায়ের পছন্দ এক এক রকম। কারো দুধ চা কারো আবার মসলা চা। তবে যে চা-ই পান করেন না কেন ,অবশ্য আপনার স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে হবে। 

তাই চায়ের ভালোমন্দ দিক সম্পর্কে জেনে আপনি নিশ্চয়ই খাবেন। যাতে চায়ের তেষ্টা মেটাতে গিয়ে রোজার সময় হিতে বিপরীত না হয়।

চা শরীর চাঙ্গা রাখে 

ইফতারের পর শরীর ‘ছেড়ে দেওয়া’র মতো অনুভূতি হওয়া  স্বাভাবিক ব্যাপার । সিয়াম সাধনার পর কর্মব্যস্ত দিনে ক্লান্তি আসতেই পারে। এসময় এককাপ চায়ে  আয়েশি চুমুকে আপনার মন ও দেহ সতেজ এবং চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

চায়ের ক্যাফেইন ক্লান্তি দূর করতে সহায়তা করে। যাদের ইফতারের পরও  কাজ রয়ে যায়  তাদের জন্য চা পান অবশ্য ইতিবাচক দিক।  সেক্ষেত্রে  আদা , তেজপাতা, দারুচিনি, লবঙ্গ প্রভৃতি দিয়ে, তাহলে আপনি দারুণ ফুরফুরে অনুভব করবেন।

 যারা মসলা চা বানাতে বিরক্তিবোধ করেন তাদের জন্য অর্গানিক চা ভালো। 

পরিপাক ও পুষ্টিগত দিক

খাবার খাওয়ার কমপক্ষে ২০ মিনিট  পর পানি কিংবা পানিও খাবার খাওয়া উচিত। নাহলে পরিপাকে সমস্যা সৃষ্টি করে। তবে চায়ের ক্ষেত্রে সময় আরেকটু বাড়িয়ে নেওয়া উচিত।

 কারণ, চায়ে থাকা ট্যানিন খাবার থেকে আয়রন শোষণ করতে বাধা দেয়। ইফতারের সময় ভাজাপোড়া বেশি খাওয়া হয় তাতে অ্যাসিডিটি বেড়ে যায়। তারপর দুধ চা খাওয়ার ফলে  অ্যাসিডিটি বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যার তৈরি হতে পারে। 

রমজানে চা পানে  কিছু সতর্কতা 

ইফতারের পর ঘন ঘন চা খেলে , প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে শরীর  পানিশূন্য হয়ে পড়ে। সে কারনে রমজান মাসে অনেকে পানিশূন্যতায় ভোগেন। তাই রোজা রেখে ইফতারের পর চা-কফি গ্রহণে কিছু সতর্কতা মেনে চলতে হবে। 

চা ও ঘুম

রোজা রাখার পর রাতের ঘুম শরীরের জন্য খুব প্রয়োজনীয়। চায়ে থাকা  ক্যাফেইন স্নায়ু উদ্দীপক। তাই চা খেলে আপনার ঘুমাতে সমস্যা হতেই পারে। রমজান মাসে তো আর ইফতারের পর ছাড়া চা খাওয়ার উপায় নেই। তবে সেটি যেন ইফতারের অনেকক্ষণ পরে না হয় বা খুব কড়া লিকারের না হয় এবং বেশ কয়েকবার ঘনঘন না হয়।

 এই টুকু সাধারণ বিষয়ে নজর দিলে ইফতারের পর চা পান করা স্বাস্থ্যের  জন্য তেমন কোন ক্ষতি নেই। 

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
আয়ুর্বেদ চিকিৎসা

রমজানে পর্যাপ্ত না ঘুমালে কী হয়

by Dr. Baby Akter 22/03/2025
written by Dr. Baby Akter

ঘুম জরুরি কেন

ঘুম আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করে। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করে , আমাদের মেটাবলিজম সিস্টেমকে  স্বাভাবিক রাখে। তাছাড়া ঘুম হৃদ্‌রোগের রোগের ঝুঁকি কমায়। স্মৃতিশক্তি গুছিয়ে জড়ো করে রাখে। লং আর শর্ট টার্ম মেমোরি গুছিয়ে রাখে।  

আট ঘণ্টা ঘুম মস্তিষ্কের কার্যক্রমকে সবচেয়ে ভালো রাখে। তাই মন, মস্তিষ্ক এবং শারীরিকভাবে ফিট থাকতে হলে জীবনের মোট সময়ের তিন ভাগের একভাগ ঘুমের  প্রয়োজন। 

শরীর ও মনের সকল ফাংশন ঠিক রাখতে চাইলে একটা কোয়ালিটি লাইফের জন্য একজন মানুষের প্রতিদিন আট ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। 

বয়স ভেদে ঘুমের প্রয়োজনীতা 

মূলত বয়সভেদে ঘুমের পরিমান নির্ভর করে। যদিও বলা হয়ে থাকে দৈনিক আট ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে বয়সের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের পরামর্শপত্র অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ৮-১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। 

৬-৯ বছর বয়সীদের দৈনিক ৯ থেকে ১১ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। তবে অনেক ক্ষেত্রে তাদের ৭-৮ ঘন্টা ঘুম হলেও চলে। 

বয়স ৪০ এর উপরে হলে কেউ কেউ  ছয় ঘণ্টা ঘুমিয়েও দিব্যি চলতে পারেন। তবে এর কম ঘুম হলে সেটা উদ্বেগজনক, ক্ষতিকর।  

রোজা রেখে পর্যাপ্ত না ঘুমালে কী হয়

রমজানে নামাজসহ  অন্যান্য ইবাদতের পরিমান বেড়ে যায় ও খাবার দাবারের রুটিনেও বিরাট পরিবর্তন আসে । সব মিলিয়ে ঘুমের সময়টা কিছুটা কমে যায়। ঘুম কম হলে কার্টিসল নামের একটা হরমোন নিঃসরণ হয়। এটা ত্বকের কোলাজেন ভেঙে ফেলে। 

ফলে ঘুমের অভাবে হার্ট অ্যাটাক, হার্টের অসুখ, অনিয়মিত হার্টবিট, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা হতে পারে।  কম ঘুমের কারণে আমাদের শরীরে অবসাদগ্রস্ততার বেড়ে যায়। 

স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ হারিয়ে ফেলা , স্মৃতি বিভ্রম হওয়া ,  ইনসোমনিয়া, হ্যালুসিনেশন , ভুলে যাওয়া রোগসহ নানা ধরনের জটিলতা হতে পারে। তাই রমজানে ঘুম ঠিক রাখতে আনুষঙ্গিক কাজকর্ম সীমিত রাখুন।

সময় বের করে দিনে অল্প ঘুমিয়ে নিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম সময় ব্যয় করুন। শরীরে ক্লান্তি ভাব কমে আসবে। এতে ঘুমের জটিলতা কাটিয়ে রমজানে শরীর সতেজ ও সুস্থ থাকবে। 

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
নিমের-উপকারিতা
ভেষজ উপাদান

নিমের ভেষজ গুণ, বিস্ময়কর উপকারিতাসমুহ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

by Dr. Baby Akter 06/11/2023
written by Dr. Baby Akter

নিম (বৈজ্ঞানিক নাম: Azadirachta indica) একটি অত্যন্ত উপকারী গাছ যার গাছের বাকল,পাতা ,বীজ প্রায় কিছুই চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হয়। বলা হয়ে থাকে, নিম একজন ডাক্তারের কাজ করে। এই গাছের সাহায্য করে মানুষের অনেক ধরণের রোগ নির্মূল করা যায়। নিমের স্বাদ তিতকুটে হলেও এর গুণাগুণ বেশ মধুর। এতে রয়েছে অসংখ্য গুণ। বিশেষ করে নিম পাতা ভেষজ হিসেবে পরিচিত একটি নাম, যা ত্বক এবং শরীর দুটোর বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, প্রায় ৫০০০ বছর ধরে মানুষের শরীরকে নানা রকমের রোগের হাত থেকে বাঁচাতে নিম পাতাকে কাজে লাগানো হয়ে আসছে। এই গাছটির প্রতিটি অংশ, তা পাতা হোক, কি ডাল, এমনকি নিম ফুলও নানাভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকরী।

শরীরের বিভিন্ন রোগে নিমের ব্যবহার

  • যে কোনও চুলকানির সমস্যায় নিমপাতা বেটে লাগাতে পারলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। চুলকানির সমস্যা থেকে দ্রুত নিস্তার পেতে নিমপাতা বেটে লাগাতে পারেন। নিমপাতা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক (ফাঙ্গাস) বিরোধী। তাই ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের আক্রমণের হাত থেকে চর্ম বা ত্বককে সুরক্ষিত করতে নিমপাতা খুবই কার্যকরী!
  • নিম পাতা জলে সিদ্ব করে সেই পানি দিয়ে গোসল করলেও চর্ম  ভালো হয়ে যায়।
  • বিভিন্ন ধরণের ফোড়া-ফুস্কুড়ি, চুলকানি  ইত্যাদি নিরাময় হয়।  
  • প্রতিদিন সকালে নিমের ডাল দিয়ে দাঁত ব্রাশ করলে দাঁত মজবুত ও ঝকঝকে হয়। এবং দন্তক্ষয় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। 
  • ৫-৬ টি নিমের কচি পাতা, ৪-১০ টি  তুলসী পাতা এবং ৫-৬ টি গোল মরিচ গুড়ো করে মিশিয়ে নিয়মিত সেবন করলে স্বাস্থ্য বৃদ্ধি হয়।  
  • পেটের ব্যথায় ১০ গ্রাম নিমের বীজ সাথে ১০ গ্রাম সূঠ, ১০ তুলসী পাতা এবং ৮-১০ টি গোল মরিচ মিশিয়ে ঘন চাটনি মত করে অল্প অল্প করে খেলে পেট ব্যথা ভালো হয়ে যায়।
  • চোখ ফুলে গেলে ১৫-২০ টা নিমের পাতা পানিতে সিদ্ধ করে তাতে ৫ গ্রাম ফিটকিরি মিশিয়ে ছেঁকে নিন। এই পানিতে পরিস্কার তুলো ভিজিয়ে চোখ মুছে ফেলুন। এভাবে দুই-তিন বার করলে চোখের ফোলা, চোখের কুটকুট করা, এবং চোখের খুসকি নিরাময় হয়। 
  • নিমের পাতার রস বের করে তাতে তুলো ভিজিয়ে চোখের উপর রাখুন। এতে চোখের লাল ভাব, চোখ জ্বালা দূর হয়।  
  • ফোঁড়া যদি কোন কারণে ফেটে যায় তাহলে নিম পাতা বেটে ফোঁড়ার উপর লাগিয়ে পট্টি বেঁধে রাখলে আরাম পাওয়া যায়। এতে ফোঁড়াও তাড়াতাড়ি শুকায়। 
  • ১০ ফোটা নিমের তেল পানের উপর দিয়ে খেলে হাঁপানি ও কাশিতে আরাম পাওয়া যায়।  
  • নিমের তেল প্রতিদিন মাথায় মাখলে মাথার উকুন চলে যায়। কমপক্ষে ১০-১২ দিন মাখতে হবে।  
  • নিমের পাতার রস মধুতে মিশিয়ে খেলে পেটের কৃমি মরে যায়। 
  • নাক দিয়ে রক্ত পড়লে নিম গাছের ছাল পানি দিয়ে বেটে তা মাথায় লাগালে নাকের নাসা রোগ ভালো হয় যায়।  
  • গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় নিম গাছের ছাল, সূঠ, গোল মরিচ সমমাত্রায় মিশিয়ে গুড়ো রেখে দেন।  প্রতিদিন সকালে এই চুর্ণ ২০ গ্রাম  মাত্রায় পানির সাথে মিশিয়ে খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সহজে দূর হয়।
  • নিম পাতা বেটে হাতে পায়ে তেলের মত লাগালে হাত ও পায়ের জ্বালা দূর হয়।  
  • ম্যালেরিয়া রোগের জন্য নিমের পাঁচন বহু প্রচলিত এই রোগের জন্য সর্বোত্তম বলে মনে করা হয়।
  • ৫০ গ্রাম নিমের পাতাতে ৪-৫ টা গোল মরিচ মিশিয়ে বেটে নিন। ঐ বাটা এক গ্লাস গরম পানিতে ভালো করে গুলে রোগীকে সেবন করতে দিন। এতে ম্যালেরিয়া ভালো হয়ে যাবে।  

নিমের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

যদিও নিমের অনেক গুনাগুণ রয়েছে তবে কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেমনঃ 

  • আপনার যদি নিমে এলার্জি বা সংবেদনশীলতা থাকে, সেক্ষেত্রে নিম ব্যবহার করা যাবে না। 
  • তাই নিম ব্যবহারের আগে একটি সাধারণ পরীক্ষা করা যেতে পারে (যেটিকে প্যাচ পরীক্ষা বলা হয়) এটি করার জন্য নিম পাতার পেস্ট তৈরি করে, ত্বকের যেকোন অল্প জায়গায় ঘষে ২৪  ঘন্টা অপেক্ষা করুন। যদি বিবর্ণতা, ফোলাভাব, চুলকানি, বা অস্বস্তির যেকোন লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে আপনার নিমের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। অথাৎ নিমে আপনার এলার্জি বা সংবেদনশীলতা আছে।
  • সাধারণভাবে, শিশুরা নিমের তেলের ব্যবহারে সংবেদনশীলতা দেখা যায়। যদিও শিশুদের মধ্যে নিমের প্রভাব সম্পর্কে সরাসরি কোনো গবেষণা নেই। তাই শিশুদের ওপর নিমের ব্যবহারে একটু সতর্ক থাকতে হবে। 
  • গর্ভাবস্থায় বা শিশুর উপর যেকোন ভেষজ ও প্রাকৃতিক ঔষধ ব্যবহার করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উত্তম। 
0 comments
11 FacebookTwitterPinterestEmail
ঘরোয়া উপায়ে বন্ধ্যাত্ব নিরাময়
ঘরোয়া চিকিৎসা

প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া উপায়ে বন্ধ্যাত্ব রোগ নিরাময় করুন

by Dr. Baby Akter 22/10/2023
written by Dr. Baby Akter

যে কোন স্বামী-স্ত্রী বা বিবাহিত দম্পতিই চায় তাদের জীবনে সন্তান আসুক। সন্তানের মাঝে দম্পতি এক নতুন জীবনের পূর্ণতা পায়। তাকে  ঘিরেই নিজেদের সমস্ত চাওয়া পাওয়া, স্বপ্ন সব কিছু আবর্তিত হয়। কিন্তু সেই স্বপ্ন, আশা সব মিছে হয়ে যায়, যদি তাদের জীবনে নতুন কোন জীবন না আসে। স্বামী-স্ত্রী অনেকটা হতাশ নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করেন। অনেক দম্পতি আছে যারা দীর্ঘদিন বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেও ঘরে সন্তান আসেনি। তাদের জন্য এই পদ্ধতিটি হয়ে যেতে পারে হতাশা মুক্তির কারণ। তাই এবার ঘরোয়া উপায়ে বন্ধ্যাত্ব রোগ নিরাময়ের পদ্ধতিটি চেষ্টা করে দেখুন, ঘর আলোকিত করে আসতে পারে নতুন প্রাণ, দেখতে পারেন সন্তানের মুখ। 

অনেক দম্পতি আছেন যারা দীর্ঘদিন বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেও ঘরে আসেনি সন্তান। তাই এবার প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চেষ্টা করে দেখুন, ঘর আলোকিত করে আসতে পারে নতুন প্রাণ, দেখতে পারেন সন্তানের মুখ।

বন্ধ্যাত্ব দূর করার প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া উপায়

সকালের খাবার

সুস্থ ডায়েট যদি চান অবশ্যই দিনের প্রথম খাবার ভালো হতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে যে সমস্ত মহিলারা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে আক্রান্ত, তাদের ক্ষেত্রে ভরপুর ব্রেকফাস্ট অনেকটাই কাজ দেয়। তাই সকালের খাবার সবসময় চেষ্টা করুন বেশি করে খাওয়ার।  

খেজুর

খেজুরে ভিটামিন এ, ভিটামিন ই, ভিটামিন বি এবং একাধিক খনিজসহ বিভিন্ন ধরণের পুষ্টি যা গর্ভধারণকে সহায়তা করে। খেজুর এবং ধনিয়া শিকড়ের একটি পেস্ট তৈরি করে, এটি গরুর দুধের সাথে ফুটিয়ে নিন। এই শীতল মিশ্রণটি আপনার পিরিয়ডের পরে প্রতিদিন পান করুন। বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় ভালো ফল পাবেন। সকালে স্মুথির মাধ্যমে সাধারণভাবে খেজুর খাওয়াও খুব ভাল। 

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার

গর্ভধারণ করার ক্ষমতার জন্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার অধিক কার্যকরী। এই ধরণের খাবার শরীরের জনন গ্রন্থিগুলোতে আক্রমণকারী পদার্থগুলোকে ধ্বংস করে এবং তাদের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায়। সেই সাথে পাশাপাশি স্পার্ম কাউন্ট বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। যে কোনো ধরনের সবজি, ভিটামিন ‘সি’ এবং ‘ই’ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এর জন্য ভালো।

মাল্টি ভিটামিন

শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত মাল্টি ভিটামিন খেলে নারীদের বন্ধ্যাত্ব জনিত সমস্যা অনেক কম হয়। এর সাথে গ্রীন-টি, ভিটামিন ই এবং ভিটামিন বি-৬ সমৃদ্ধ খাওয়া দরকার।

শরীরচর্চা

বন্ধ্যাত্ব দূর করতে নিয়মিত শরীরচর্চা করুন এবং প্রচুর পরিমাণে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খান। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বসে থাকলে শরীরে অতিরিক্ত ক্ষতিকর অতিরিক্ত ফ্যাট জমতে থাকে। প্রাকৃতিকভাবে আয়রনসমৃদ্ধ ফল বেশি করে খান। 

ট্রান্সফ্যাট

ট্রান্সফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার না খাওয়ার চেষ্টা করুন। এবং কম কার্বোহাইড্রেট খাওয়া শুরু করুন ডায়েটে। সাধারণত মার্জারিন, প্রসেসড ফুড এবং অন্যান্য খাবার যাতে ফ্যাট বেশি আছে এড়িয়ে যাওয়া দরকার। এতে শরীরে ইনসুলিনের লেভেল কমবে।

মাদকদ্রব্য গ্রহণ বর্জন করুন

মাদকদ্রব্য গ্রহণের অভ্যাস থাকলে অবশ্যই তা ক্ষতিকর। অতিরিক্ত অ্যালকোহল খাওয়া কমান। একইসাথে ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় খাওয়া বন্ধ করুন বা পরিমিত সেবন করুন। কারণ এইটি পুরুষের স্পার্ম কাউন্ট কমায়। 

ডালিম

ডালিম মহিলাদের গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এই ফলটি সরাসরি জরায়ুর আস্তরণ ঘন এবং শক্তিশালী করে যা গর্ভপাত ঘটার সম্ভাবনা কমায়। তাজা ডালিম কয়েক সপ্তাহ ধরে সঠিক পরিমাণে কাঁচা বা রস আকারে খাওয়া উচিত। বন্ধ্যাত্ব দূর করার জন্য ডালিম কয়েক সপ্তাহ ধরে সঠিক পরিমাণে কাঁচা বা রস আকারে খাওয়া খেতে হবে। 

সৈন্ধব লবণ

সৈন্ধব লবণ বাজারে সহজেই পাওয়া যায় এবং এতে প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সৈন্ধব লবণ পানিতে ভিজিয়ে রেখে এবং ভোর বেলা সেই পানি পান করার অভ্যাস করুন। এভাবে ৫-৬ মাস পর্যন্ত খেলে মহিলাদের মাসিক চক্রকে স্বাভাবিক করতে সহায়তা করে, এতে স্বাস্থ্যবান জরায়ু তৈরি হয় এবং গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। 

ফলিক এসিড 

ফলিক এসিড একটি প্রজনক্ষম উপাদান। এটি প্রথমবার গর্ভবতী হওয়ার ক্ষেত্রে দারুণ সহায়তা করতে পারে। গর্ভধারণের চেষ্টা করার আগে কয়েক মাসের জন্য ৪০০ এমসিজি পরিমাণে ফোলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট গ্রহণ করা দরকারl। ফলিক এসিড গর্ভধারণের পাশাপাশি অটিজমের মতো ত্রুটিগুলি থেকে রক্ষা করে অনাগত শিশুর বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে।

0 comments
1 FacebookTwitterPinterestEmail
কান পাকা রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা
ঘরোয়া চিকিৎসা

কান পাকা রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

by Dr. Baby Akter 23/09/2023
written by Dr. Baby Akter

আপনার যদি কখনও কানের সংক্রমণ হয়ে থাকে, তবে আপনিই জানেন যে তা কতটা অস্বস্তিকর হতে পারে। কান ব্যথা প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশু উভয়ের জন্য বেদনাদায়ক, তবে আপনি যদি জানেন কিভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে তার চিকিৎসা তাহলে খুব সহজেই কানের সংক্রমণ  ও যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। 

ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস এর কারণে সাধারণত কানের সংক্রমণ ঘটে (Acute otitis media)। আবার অ্যালার্জি, সর্দি, বা উপরের শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার কারণেও কানের সংক্রমণ হয়। যখন কানের ভিতরের টিউবগুলি তরল এবং শ্লেষ্মা দিয়ে পূর্ণ হয়, তখন এটি সংক্রমণের কারণ হয়।

বাচ্চাদের প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় বেশি কানের সংক্রমণ হয় এবং বেশিরভাগেরই বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ৩ বছর হওয়ার আগে অন্তত একটি  কানের সংক্রমণ হয়ে থাকে। বাচ্চাদের প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় মধ্য কানের সংক্রমণের একটি প্রধান কারণ হল তাদের (shorter eustachian tubes) রয়েছে।

কান পাকা রোগ হওয়ার মূল কারণ হলো মধ্য কর্ণের প্রদাহ। যদি এটা দ্রুত রোগ নির্ণয় করা না যায় অথবা অপর্যাপ্ত চিকিৎসা নেওয়া হয় তবেই দীর্ঘমেয়াদি কান পাকা রোগ হয়।

কানের সংক্রমনের লক্ষণসমুহ:

  • কানের ভেতরের ব্যথা
  • জ্বর
  • শ্রবণ ক্ষমতার হ্রাস
  • ঘুমের সমস্যা
  • ভারসাম্য বজায় রাখতে অসুবিধা
  • কান থেকে তরল নিষ্কাশন
  • গলা ব্যথা

কানের সংক্রমণের জন্য সেরা কার্যকর ১২ টি ব্যথা বা যন্ত্রনা উপশমকারী পদ্ধতি

 ১. ঠান্ডা বা উষ্ণ সেক 

উষ্ণ এবং ঠান্ডা উভয় কম্প্রেসই কানের সংক্রমণ থেকে ব্যথা উপশম করতে পারে। ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য একটি গরম প্যাড বা ঠাণ্ডা ওয়াশক্লথ কানের কাছে ধরে রাখুন বা একটি সহজ কানের সংক্রমণের প্রতিকারের জন্য, বিশেষ করে শিশুদের জন্য গরম এবং ঠান্ডার মধ্যে বিকল্প একটি হিটিং প্যাড বা আইস প্যাকও ব্যবহার করা যেতে পারে।

৫. রসুন তেল

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য সহ, কানের ইনফেকশন হতে পারে এমন ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসগুলিকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে। অলিভ অয়েলে রসুনের কুঁচি মিশিয়ে গরম করে ঠান্ডা করুন। তারপর ড্রপের সাহায্য এই তেল কানে প্রয়োগ করতে হবে 

৩. পেঁয়াজ

পেঁয়াজ শুধু রান্নার কাজেই ব্যবহার হয় তা নয় এই পেঁয়াজ কখনো রোগ সারাতে কাজে আসে। পেঁয়াজ ডিসইনফেকটেন্ট হওয়ায় কান পাকা রোগ সারাতে দারুন কাজে আসে। এবং কানের পুঁজ বের করতে সাহায্য করে। পেঁয়াজ কে থেঁতো করে তার থেকে রস বার করে কয়েক মিনিট গরম করুন। তারপর পেঁয়াজের রস কয়েক ফুটা কানে দিলে দেখবেন জমে থাকা পুঁজ আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসবে। আর পুঁজ বের হলেই ব্যাথা কমে যাবে।

৪. ঘাড় ব্যায়াম

ঘাড়ের ব্যায়াম যা ঘাড় ঘুরিয়ে কানের সংক্রমণের কারণে কানের খালে চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। ঘাড় ঘোরানোর ব্যায়াম যেভাবে করবেন – বসুন বা সোজা হয়ে দাঁড়ান। আপনার ঘাড় ডানদিকে ঘোরান যাতে এটি আপনার ডান কাঁধের সাথে সমান্তরাল হয়। পাঁচ থেকে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। বাম দিকে এই অনুশীলনটি পুনরাবৃত্তি করুন। আবার আপনার কাঁধ উঁচু করুন ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। সারা দিন এই ব্যায়াম বেশ কয়েকবার করুন।

৫. মুলেইন

মুলিন গাছের ফুল থেকে তৈরি তেল কানের সংক্রমণের জন্য একটি কার্যকর ব্যথা উপশমকারী। মুলেইন বেশিরভাগ হেলথ ফুড স্টোরে স্ট্যান্ড-অলোন টিংচার  হিসেবে পাওয়া যায়।

৬. ভিটামিন ডি

ভিটামিন ডি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। একটি স্বাস্থ্যকর ইমিউন সিস্টেম কানের সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। Acta Paediatrica-এ প্রকাশিত ২০১৭ সালের একটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, খাদ্য গ্রহণ, পরিপূরক এবং সরাসরি সূর্যালোকের মাধ্যমে ভিটামিন ডি-এর সিরাম মাত্রা বৃদ্ধি করে কানের সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস করা যেতে পারে।

৭ . নিমপাতার রস

নিমপাতার রস ব্যথা কমাতে পারে। বেশ কয়েকটা পরিষ্কার নিমপাতা পাটায় থেঁতলে রস বের করুন। দুই তিন ফোটা রস সরাসরি কানে দিন। চাইলে নিমের তেলে কানে দিয়ে একভাবে শুয়ে থাকুন। ব্যথা কমবে।

৮. সাদা ভিনেগার

কানের সংক্রমণ কমাতে ভিনেগারের মধ্যে যে অ্যাসিড থাকে তা অত্যন্ত কার্যকরী। একটা পাত্রে সমপরিমাণে সাদা ভিনিগার আর রাবিং অ্যালকোহল নিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। ড্রপার দিয়ে সংক্রমিত কানে দুই তিন ফোটা দিন। পাঁচ মিনিট ওভাবেই শুয়ে থাকুন। তারপর মাথা অন্যদিকে কাত করে তরলটা কান থেকে বের করে দিন।

৯. হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড:

কানের সমস্যা এড়াতে কার্যকরী ঘরোয়া চিকিৎসা হল হাইেড্রাজেন পারঅক্সাইড। এটি কানের ভিতরে জমে থাকা পুঁজ আস্তে আস্তে শুকিয়ে দেয়। কান পাকা রোধ করতে সাহায্য করে। যে কান পেকেছে তাতে ৩ শতাংশ হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড দিন। তারপর যে কানে সমস্যা তা নিচে দিয়ে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকুন। তাহলে আস্তে আস্তে কান থেকে পুঁজ বের হয়ে যাবে। দিনে কয়েকবার এমন করতে পারেন এতে কানের পুঁজ বের হয়ে দ্রুত কান পাকা ভাল হয়ে যাবে।

১০.পুদিনা

কয়েকটি পুদিনা পাতা নিয়ে ভাল করে ধুয়ে তা  থেঁতো করে রস বের করুন। তারপর দুই-তিন ফোঁটা রস কানে দিন। কান পাকা প্রতিরোধের জন্য এটি খুব প্রচলিত একটি ঘরোয়া উপায়। পুদিনার পাতা ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে সাহায্য করে এবং যে কোন ব্যাথা দূর করতে ও সহায়তা করে। কান পাকা ও কানের ব্যাথা দূর করতে পুদিনা পাতা ভাল কাজ করে।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা
ঘরোয়া চিকিৎসা

পুরাতন বা নতুন আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা ও প্রতিকার

by Dr. Baby Akter 03/09/2023
written by Dr. Baby Akter

আমাশয় একটি মূলত গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ। মানবদেহের পরিপাকতন্ত্রে ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবী সংক্রমণ করলে এই রোগ হয়। আমাশয় হলে পেট কামড়ানোসহ মলের সঙ্গে পিচ্ছিল আম অথবা শ্লেষ্মাযুক্ত রক্ত যায়। পেটে ব্যথাও স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ঘন ঘন মলত্যাগ হয় সেই সাথে অনেকের জ্বর ও বমি বমি ভাব থাকে। আমাশয় দুই ধরনের হয়ে থাকে: ১. অ্যামিবাঘটিত আমাশয় এবং ২. দণ্ড-ব্যাকটেরিয়াঘটিত (ব্যাসিলারি) আমাশয়। তবে দুই ধরণের আমাশয় রোগ-ই ঘরে বসে প্রাকৃতিক চিকিৎসার মাধ্যমে সহজে সুস্থ হওয়া যায়।  

আমাশয় হলে পানিশূন্যতা পূরণের জন্য প্রতিবার পায়খানার পর ওরস্যালাইন খাওয়া এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া উচিত। এক সপ্তাহের মধ্যেই সাধারণত আমাশয় নিরাময় হয়ে যায়।

কিভাবে সহজলভ্য রোগের ঘরোয়া উপাদান দিয়ে প্রাকৃতিকভাবে আমাশয় নিরাময় করা যায়?

প্রাকৃতিক ভেষজ উপাদান সমুহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি জানি। ‍কিন্তু এসব উপাদান সমুহের সঠিক সময়ে সঠিক প্রায়োগিক জ্ঞান না থাকার কারনে আমরা অনেক সময় হাতের কাছে থাকা এসব সহজলভ্য উপাদানগুলিকে নিজেদের রোগ নিরাময়ে কাজে লাগাতে পারি না। আসুন তাহলে জেনে নিই কিছু সহজ পদ্ধতি, যার মাধ্যমে খুব সহজেই আমাশয় থেকে প্রতিকার লাভ করা যায়-

মৌরি ও মিছরি: ১৫০ গ্রাম মৌরি মচমচে ভেজে নিয়ে সাথে ১৫০ গ্রাম কাঁচা মৌরি ভালো করে পিষে নিতে হবে। তারপর ৩০০ গ্রাম মিছিরি গুঁড়ো করে নিয়ে সেই সাথে গুঁড়ো করা মৌরি মিশিয়ে নিন। এই চুর্ণ ২ চামচ করে দিনে ৪ বার খান। এটি পুরাতন বা নতুন  আমাশয় রোগের অব্যর্থ ঔষধ। মৌরি খেলে তীব্র ব্যথা যুক্ত আমাশয়ও ভালো হয়ে যায়। 

বেল ফল: উচ্চ ফাইবারসম্পন্ন বেল মলত্যাগ এর জন্য অত্যন্ত সহায়ক। শুধু তাই নয়, ফলের উপকারী অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক বৈশিষ্ট্য (R) রোগকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে সাহায্য করে।

কিছু পানি  দিয়ে বেল ফল চেপে পাল্প বের করবেন এবং বীজগুলিও সরিয়ে ফেলুন। তরল অংশটুকু সম্পূর্ণভাবে ছেঁকে নিন। যদি ইচ্ছা হয়, কিছু চিনি যোগ করুন। সাথে আদাও দিতে পারেন এতে আরো সুস্বাদু হবে। আমাশয় দূর না হওয়া পর্যন্ত দিনে একবার পান করুন। 

ক্যারাম বীজ: বীজ ক্যারাম হলো পেট খারাপের জন্য একটি অন্যতম প্রাকৃতিক ঔষধ। হজমে সাহায্য করে এবং পেট ফোলা বা ফাঁপা থাকলে কমাতে সাহায্য করে। ১ চা-চামচ ক্যারাম বীজ একটি পাত্রে পানি দিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ফুটিয়ে নিয়ে এর চা পান করুন।

ডালিম: ডালিম আমাশয় রোগের একটি কার্যকরী উপাদান। ডালিমের খোসা রস করে বা ডালিমের ফল খেতে পারেন আমাশয় রোগের দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়। তাছাড়া ডালিমের পাতার রস করে খেলেও আমাশয় নিরাময়ের ভালো ফল পাওয়া যায়। ডালিমের কিছু পাতা গরম পানিতে ফুটিয়ে কিছুক্ষন রেখে পানিটা ছেঁকে হালকা গরম পানি টা খেয়ে নিতে হবে। এটি একটি অত্যন্ত ফলপ্রদক প্রতিকার।

কাঁচা পেঁপে: কাঁচা পেঁপেতে গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক রয়েছে যা আপনার অন্ত্র পরিষ্কার করতে সমস্যা হলে সহজে মলত্যাগ করতে সাহায্য করে। পেঁপের রেচক বৈশিষ্ট্য (R) শরীর থেকে টক্সিন অপসারণে সহায়তা করে এবং পেটের ব্যথাও কমিয়ে দেয়, যা আমাশয় নিরাময়ের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী।

একটি পাত্রে ৩-৪ কাপ পানি দিন। কিছু কাঁচা পেঁপে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিন। ফুটন্ত পানিতে দিয়ে দিন  এবং পেঁপে ভালভাবে সেদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। ১০-১৫ মিনিট পেঁপেকে সেদ্ধ করা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর ছেঁকে পানি পান করুন। আপনার যে কোন ধরণের আমাশয় সহজে দূর হবে। 

শুকনো আদা মূল: আদা মূল এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিভাইরাল উপাদান আমাশয়ের গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ব্যথা এবং অস্বস্তি কমানোর জন্য অত্যন্ত কার্যকর। ১২ চা চামচ আদা গুঁড়ো এক গ্লাস বাটারমিল্কে ভালভাবে মিশিয়ে প্রতিদিন ১-২ বার সেবন করুন।

পুদিনা ও এলাচ: ৬ থেকে ৭ টি পুদিনা পাতা এবং এক টেবিল চামচ মৌরি রস এর সাথে ছোট ছোট দারুচিনি এবং কালো এলাচ সবগুলো মিশিয়ে পানিতে ফুটিয়ে নিন। ১0 মিনিট কিংবা ১৫ মিনিট পরে উক্ত মিশ্রণ ভালোভাবে সেকে নিয়ে পরিমিত পরিমান লবন মিস্ক করুন। দিনে দুইবার এই মিশ্রণ খান। আমাশয় রোগে নিরাময়ের জন্য এই মিশ্রণটি অত্যন্ত কার্যকরী।  

হরিতকি: আমাশয় রোগের জন্য হরিতকি বেশ উপকারী। আমাদের দেশে এক সময়ে হরিতকি গাছ অনেক পাওয়া গেলেও এখন বিলুপ্তপ্রায়। এটি একটি ঔষধি গুণসম্পন্ন উপকারী গাছ। এক গ্লাস কুসুম গরম পানির সাথে এক চা চামচ হরিতকির পাউডার মিশিয়ে খান। দিনে দুইবার পান করুন। এতে বেশ উপকার পাবেন।

মেথি বীজ: ১চা চামচ গুঁড়ো মেথি বীজ এক গ্লাস বাটারমিল্কে মিশিয়ে তারপর পান করুন। প্রতিদিন একবার বা দুবার। এটি  আমাশয় দূর করতে খুব কার্যকরী। 

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
চুলের-খুশকি-সমস্যা ও অতিরিক্ত-চুল-ঝরার-সমাধান-ও-ঘরোয়া-টোটকা
ভেষজ চিকিৎসা

চুলের খুশকি সমস্যা, অতিরিক্ত চুল ঝরার সমাধান ও টোটকা

by Dr. Baby Akter 31/08/2023
written by Dr. Baby Akter

চুলের নানা রকমের সংক্রমণ যেমন অতিরিক্ত চুল ঝরে যাওয়া, চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া, মাথার ত্বকের(Scalp) জন্যেও এই খুশকি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দায়ি। তাই সঠিক সময়ে খুশকির সমস্যা ঠেকাতে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে চুল অকালেই ঝরে গিয়ে সৌন্দর্য বিনষ্ট হবে। বাজারে খুশকি বিরোধী অনেক শ্যাম্পু পাওয়া গেলেও এগুলোর ব্যবহারে চুল শুষ্ক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এই পরিস্থিতিতে ঘরোয়া প্রতিকারেই গুরুত্ব দেন চিকিৎসকেরা। 

হাতের কাছে থাকা ভেষজ ও প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারে দূর হবে খুশকি, এতে চুলও থাকবে সতেজ ও সুন্দর

ঘরে বসে কোন ওষুধ ছাড়া প্রাকৃতিক উপায়ে খুশকি তাড়ান ও চুল ঝরা বন্ধ করুন

পেঁয়াজের রস: ১ জগ পানিতে ২ টি পেঁয়াজ ভাল করে বেটে মিশিয়ে নিন। তারপর পেঁয়াজের রস মেশানো ওই পানি মাথায় লাগিয়ে ভাল করে মালিশ করুন। কিছুক্ষণ পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এ ভাবে সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার পেঁয়াজের রস মাথার ত্বকে মাখলে খুশকির সমস্যায় দ্রুত উপকার পাবেন।

মেথি: মেথি ২-৩ চামচ, সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে ছেঁকে নিয়ে ভাল করে বেটে নিন। ছেঁকে নিয়ে পানি রেখে দিন। তারপর বাটা মেথি চুলের গোঁড়ায় মাথার ত্বকে ভাল করে লাগিয়ে নিয়ে ১ ঘণ্টা রেখে দিন। শুকিয়ে যাওয়ার পর চুল ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। চুল ধোঁয়ার পর মেথি ভেজানো পানি দিয়ে আরও একবার চুল ধুয়ে নিন। সপ্তাহে দু’বার এ ভাবে মেথি ব্যবহার করলে খুশকি সমস্যা দ্রুত দূর হবে।

নিম পাতা: ১০-১৫ টি নিম পাতা নিয়ে তাতে ফুটন্ত গরম পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। এরপর এগুলো মিহি করে পিষে নিয়ে সাথে ১-চামচ দই মেশান।  এই হেয়ার মাস্কটি চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিটের রেখে  ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত এভাবে নিম পাতার ব্যবহার এর ফলে  আপনার চুল এবং মাথার ত্বকে খুশকি সৃষ্টিকারী ছত্রাককে জীবাণুমুক্ত করবে। চুল ঘন কালো এবং মজবুত হবে। 

টকদই: খুশকির সমস্যায় দই ব্যবহার খুবই উপকারী। টকদই মাথার ত্বকে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে ১০ মিনিট রেখে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। এতে খুশকির সমস্যা দূর করার পাশাপাশি চুলে পুষ্টি জোগাতেও কাজ করে। 

নারকেল তেল: সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার চুলের গোড়ায় সামান্য উষ্ণ নারকেল তেল মালিশ করলে ফল পাবেন সহজেই। নারকেল তেল চুলে গোড়ার আদ্রতা বজায় রেখে খুশকি এবং ‘স্ক্যাল্প ইনফেকশন’-এর আশঙ্কাও অনেকটাই কমিয়ে দেয়। নারকেল তেল খুশকির প্রকোপ কমাতেও অত্যন্ত কার্যকর ও চুলের যে কোনও সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য উপাদান।  

রিঠা: খুশকি সমস্যার সমাধানেও রিঠা বেশ কার্যকর। রিঠা পাউডার বা রিঠা সিদ্ধ জল চুলের ত্বকে লাগিয়ে ঘণ্টা খানেক রেখে ভালমতো ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত সপ্তাহে ২ বার রিঠা মাথায় মাখলে খুশকির সমস্যায় দ্রুত উপকার পাবেন। চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে রিঠার জুড়ি মেলা ভার।

লেবুর রস: দুই  চামচ পাতি লেবুর রস সামান্য পানির সাথে মিশিয়ে মাথার ত্বকে ও  চুলের গোড়ায় ভালভাবে ৫ মিনিট মালিশ করে চুল ধুয়ে নিন। খুশকির সমস্যা পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত সপ্তাহে অন্তত ২ বার করতে হবে। অল্প সময়ে সমাধান পাবেন।

আপেল সিডার ভিনেগার: আপেল সিডার ভিনেগার ২-৩ টেবিল চামচ সমপরিমাণ পানির সাথে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি আপনার মাথার ত্বকে এবং চুলে লাগান এবং ৩-৫ মিনিট রাখুন। হালকা হেয়ার ক্লিনজার দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। আপেল সিডার ভিনেগার নিয়মিত ব্যবহারের ফলে মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক pH স্তরের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং খুশকি ও চুল ঝরা কমাতে সাহায্য করে।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
একজিমার-কারণ-লক্ষণ-এবং-চিকিৎসা-ও-দূর-করার-ঘরোয়া-উপায়
চর্মরোগঘরোয়া চিকিৎসা

একজিমার কারণ, লক্ষণ এবং দূর করার ঘরোয়া উপায়

by Dr. Baby Akter 24/08/2023
written by Dr. Baby Akter

অধিকাংশ ক্ষেত্রে একজিমার প্রধান উৎস বংশগত বলে চিকিৎসা শাস্ত্রে এটিকে এ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস বলেও উল্লেখ করা হয়। এটি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। এই রোগে ত্বকের বিশেষ কোন কোন স্থানে প্রদাহ সৃষ্টি হয়।

এক সময় বলা হত একজিমা রোগ সারে না। কিন্তু এখন আর এই রোগের নিরাময় অসম্ভব নয়। শুধু মেনে চলতে হবে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ।

একজিমা এক প্রকাম চর্ম রোগ যা বাংলাদেশে পামা, বিখাউজ, কাউর ঘা ইত্যাদি স্থানীয় নামে পরিচিত। চিকিৎসা শাস্ত্রে এটিকে সচরাচর এটপিক ডার্মাটাইটিস হিসাবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে, কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে একজিমার অন্যতম উৎস বংশগত বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া অ্যালার্জি, পেশা ও পরিবেশগত কারণেও হতে পারে। এটি একটি ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ। এর জন্য কোনো ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ফাঙ্গাস কোনোটাই দায়ী নয়। তবে একজিমা হওয়ার পরে এগুলো আক্রমণ করে।

একজিমার কারণসমূহ

এটি যে কোন বয়সেই হতে পারে, তবে শিশুদের ক্ষেত্রে একজিমা হওয়ার সম্ভাবনা একটু বেশি থাকে। আবার গর্ভাবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। তবে গর্ভাবস্থা একজিমা হওয়ার কোন শর্ত নয়। সাধারনভাবে একজিমা অ্যালার্জি বা অ্যাজমার সমগোত্রীয় একটি রোগ যা বংশগত কারণে হতে পারে। 

একজিমা বিভিন্ন কারণের কারণে হতে পারে যার মধ্যে রয়েছে :

  • ইমিউন সিস্টেমের অস্বাভাবিক কাজ
  • জেনেটিক্স
  • পরিবেশ (শুষ্ক এবং কঠোর জলবায়ুর এক্সপোজার)
  • ত্বকের বাধার ত্রুটি ( দীর্ঘায়িত জলের ব্যবহারও একজিমা করতে পারে)
  • সংবেদনশীল ত্বকের
  • শুষ্ক এবং ডিহাইড্রেটেড (আঁশযুক্ত) ত্বক
  • সুগন্ধি, মেকআপ, সাবান, ধুলো, বালি এবং সিগারেটের ধোঁয়ার  কারণে ।
  • নির্দিষ্ট দ্রাবক এবং ডিটারজেন্ট, ক্লোরিন
  • মানসিক চাপ
  • শুষ্ক এবং ঠান্ডা জলবায়ু
  • উচ্চ বায়ু দূষণকারী এক্সপোজার
  • ঘাম এবং তাপ
  • সিন্থেটিক এবং পশমী কাপড়ের মতো বিরক্তিকর পদার্থ পরিধান
  • আবার হরমোনঘটিত কোন পরিবর্তন, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকের সময় কিংবা গর্ভাবস্থায় এটি হতে পারে।

একজিমার প্রকার

সাধারণভাবে বলতে গেলে একজিমার নানা প্রকার হয়। যেমন : 

  • অ্যাটপিক একজিমা: অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিসকে সাধারণত একজিমা বলা হয়। এটি সবচেয়ে সাধারণ এবং দীর্ঘস্থায়ী ধরনের একজিমা।
  • কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস: জ্বালা, চুলকানি এবং লালভাব সাধারণত এই ধরনের দেখা যায়। হাত বিশেষ করে কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস বিকাশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
  • নিউমুলার একজিমা: পুরুষরা বেশিরভাগই আক্রান্ত হয়। শীতকালে, এটি ত্বকে শুষ্ক, গোলাকার দাগ সৃষ্টি করে।
  • সেবরিক একজিমা: এটি সাধারণত কানের পিছনে, নাকের পাশে, ভ্রুতে এবং বিশেষ করে মাথার ত্বকে ঘটে। এটি লাল, আঁশযুক্ত ফুসকুড়ি সৃষ্টি করে এবং চুলকায়।
  • নিউরোডার্মাটাইটিস: এই ধরনের একজিমা চুলকানি হতে পারে এমন জায়গাতে বেশি দেখা যায় যেমন গলার পিছনদিকে, মাথার ত্বকে, যৌনাঙ্গে, কানে ইত্যাদি।
  • স্ট্যাসিস ডার্মাটাইটিস: বেশিরভাগ বয়স্ক জনগোষ্ঠীতে, এটি ঘটে যখন পায়ের শিরাগুলি ফুলে যায় এবং তরল বের হয় (পায়ে দুর্বল সঞ্চালনের কারণে) ফোলা, চুলকানি এবং ত্বক লাল হয়ে যায়।

একজিমার প্রধান লক্ষণ

একজিমার লক্ষণগুলি শিশু ও প্রাপ্ত-বয়স্কদের মধ্যে আলাদা-আলাদা হতে পারে

চুলকানি: ত্বকে জ্বালা করে এবং চুলকানি হয়। বাচ্চাদের ত্বকে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়, তবে যে কোনও বয়সেই এটা হতে পারে। একবার একজিমা হলে তা সহজে সারতে চায় না। দীর্ঘদিন ভোগায় এই রোগ।

শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় একজিমা আরও প্রকট হয়। চুলকানি থাকে প্রচণ্ড, আর নখ দিয়ে চুলকালে অবস্থা আরও খারাপ হয়। অনেক সময় সংক্রমণও হয়ে যায়। 

স্কেলিং: ত্বকের উপরিভাগ রুক্ষ, আঁশযুক্ত চেহারা যেমন ত্বকের ফ্লেক্স থাকে। হাত ও পায়ের ত্বকে ছোট ছোট পানির ফুসকুড়ি হতে পারে।

ত্বকে তরল: আবার ত্বকে সংক্রমণ হলে ত্বক ভেজা ভেজা হতে পারে এবং পুঁজ বের হতে পারে। ত্বকের যে সমস্ত জায়গা বারবার চুলকানো হয় সেগুলো পুরু হয়ে যেতে পারে।

ফাটল: মাঝে মাঝে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত ত্বকে বেদনাদায়ক, গভীর ফাটল দেখা দিতে পারে, যাকে ফিসারও বলা হয়।

একজিমার চিকিৎসা: একজিমা একটি দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের অবস্থা এবং এটি নিয়ন্ত্রণ করতে কয়েক মাস বা বছর লাগতে পারে। বয়স, রোগের লক্ষণ এবং শরীরে অন্যান্য অসুখ বিসুখের নিরিখে চিকিৎসার ধরন ঠিক করা হয়। ঠিক চিকিৎসায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একেবারেই সেরে যায় এই রোগটি। সেই কারণে এখন ‘কমপ্লিট কিয়োর’ শব্দটি এগজ়িমার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এই চিকিৎসা যত দিন প্রয়োজন, ধৈর্যের সঙ্গে তা কিন্তু চালিয়ে যেতে হবে। প্রতি বছর কয়েকমাস করে প্রায় পাঁচ-ছ’বছর এর চিকিৎসা চালিয়ে গেলে তবেই এই রোগ নির্মূল করা সম্ভব।”

ক্রিম: কর্টিকোস্টেরয়েড ক্রিম বা মলম আপনার ডাক্তার দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে। ত্বক ময়শ্চারাইজ করার পর আক্রান্ত স্থানে ক্রিম লাগাতে হবে। এই ওষুধটি অতিরিক্ত ব্যবহার করলে ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া এবং ত্বকের ভাঙ্গন হতে পারে। কর্টিকোস্টেরয়েড ক্রিম চুলকানি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্বক মেরামত করতে সাহায্য করে।

অ্যান্টিবায়োটিক: খোলা ঘা এবং ফাটলগুলির ক্ষেত্রে, আপনার ত্বকে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে। সংক্রমণের তীব্রতার উপর নির্ভর করে আপনার চিকিৎসক কে আপনাকে একটি অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম বা ট্যাবলেট লিখে দিতে পারেন। ওরাল অ্যান্টিবায়োটিকগুলি সংক্রমণের চিকিত্সার জন্য অল্প সময় নেয়।

একজিমা দূর করার ঘরোয়া উপায় : 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রোজকার জীবনে অবশ্যই মেনে চলা দরকার কিছু নিয়ম। এগুলো মেনে চললে ত্বকের স্বাস্থ্য ভাল থাকে, ত্বকের অনেক সমস্যাই আর কষ্ট দেওয়ার জায়গায় পৌঁছতে পারে না।

  • একজিমা এড়ানোর জন্য শক্ত জাতীয় সাবান ব্যবহার না করাই ভাল। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ক্রিম বা অয়েনমেন্ট ব্যবহার করতে হবে। ত্বক সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। গরম জলে স্নান করাই ভাল। ১০-১৫ মিনিটের বেশি স্নান করা উচিত নয়।
  • সারা বছর ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করুন। প্রত্যেক দিন স্নান করার তিন মিনিটের মধ্যে সারা শরীরে ভাল করে মেখে নিতে হবে ময়শ্চারাইজ়ার।
  • গরম এবং ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় উপযুক্ত পোশাক পরুন এবং ব্যায়ামের সময়ও অতিরিক্ত ঘাম হওয়া রোধ করুন। রুক্ষ এবং আঁচড়যুক্ত পোশাক এড়িয়ে চলুন।
  • ধূলাবালি, ফুলের রেণু এবং সিগারেটের ধোঁয়া অর্থাৎ যেগুলো থেকে অ্যালার্জি হতে পারে সেগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে।
  • সরিষার তেল, কাদামাটি, গাছপালা, চন্দন, নোংরা পানি, আনাজপত্র—বিশেষত পেঁপে, রসুন, পেঁয়াজ ইত্যাদির সংস্পর্শে আসা একজিমা রোগীর উচিত নয়।
  • সব সময়ে হাতের নখ যেন ছোট করে কাটা থাকে। এগজ়িমার চুলকানি বেশির ভাগ সময়েই নিয়ন্ত্রণযোগ্য নয়। হাতে নখ ছোট করে কাটা থাকলে সংক্রমণের ভয় কমবে।
  • একজিমা রোগীর সমুদ্রে গোসল না করাই ভালো। কেননা নোনা পানি এবং বালুর প্রভাবে একজিমা অনেক সময় বেড়ে যায়।
  • পরিমিত ঘুম এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করুন।
0 comments
2 FacebookTwitterPinterestEmail
খালি-পেটে-রসুন-খাওয়ার-উপকারিতা-ও-অপকারিতা
ভেষজ উপাদান

জেনে নিন রসুনের গুণাগুণ, উপকারিতা ও অপকারিতা

by Dr. Baby Akter 16/08/2023
written by Dr. Baby Akter

যদি সুস্থ থাকতে চান, তাহলে নিয়ম করে প্রতিদিন সকালবেলা হোক বা অন্য যে কোনো সময় ১ থেকে ২ কোয়া বা ২ কোষ কাঁচা রসুন খান এবং অবশ্যই অবশ্যই চিবিয়ে খাবেন। আপনি সুস্থ, কর্মময় এবং দীর্ঘ জীবনের অধিকারী হবেন।

রসুনের একাধিক গুণাগুণ এবং উপকারিতা

  • উচ্চ রক্ত চাপ কমাতে: উচ্চ রক্তচাপ কমানোর জন্য অত্যন্ত কার্যকরী রসুন। যদি শরীরের এলডিএল বেড়ে যায় তবে রক্তচাপ বেড়ে যায়। এতে প্রতিদিন দুই কোয়া রসুন সকালে খালি পেটে খেলে উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা থাকবে না।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে রসুনের অ্যান্টিফাঙ্গাল অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ অত্যন্ত কার্যকরী। খালি পেটে রসুন খেলে এই উপকার বেশি পাওয়া যায়।
  • হৃৎপিণ্ডের শক্তিবর্ধক: প্রতিদিন সকালে খালি পেটে দুই কোয়া রসুন খেলে হৃৎপিণ্ড শক্তিশালী হবে, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধির কারণে হৃৎপিণ্ডের ব্লকগুলো আর বাড়বে না। 
  • পুরুষের যৌনক্ষমতা বৃদ্ধিতে: সকালে খালি পেটে রসুন খাওয়া পুরুষদের জন্য একটি বিশেষ উপকারি অভ্যাস। রসুন অ্যালিসিন এবং সেলেনিয়ামে সমৃদ্ধ। অ্যালিসিন যৌন অঙ্গে রক্ত ​​​​প্রবাহ উন্নত করে এবং শুক্রাণুর যে কোনও ক্ষতি প্রতিরোধ করে। সেলেনিয়াম একটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা গতিশীলতা বাড়ায়। 
  • রক্ত সঞ্চালন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে: রক্ত সঞ্চালন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে দুই কোয়া রসুন খুব উপকারী। এতে  রক্ত সঞ্চালন ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে রক্ত বাধাগ্রস্ত হয়ে যেসব রোগের সৃষ্টি করে, তা আর হতে পারে না।  
  • ফুসফুসের সংক্রমণ প্রতিরোধে: যাদের অ্যালার্জি সমস্যা, ঠান্ডা লাগার প্রবণতা আছে তাদের বিভিন্ন কারণে ফুসফুসের সংক্রমণ হতে পারে। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে রসুন পিষে রস খেলে সংক্রমণ সহজে রোধ করে।
  • ত্বক ভালো রাখতে: ত্বক ভালো রাখতে এবং ত্বকে বার্ধ্যকের ছাপ ও চেহারার যে কোনো দাগ কমাতে প্রতিদিন দুই কোয়া রসুন খালি পেটে খেলে অধিক উপকার পাওয়া যায়।   
  • সংক্রমণ প্রতিরোধে:  মানুষের শরীরে যে কোনো সময়ে সংক্রমণ ঘটতে পারে। কোন ধরণের পূর্ব লক্ষণ ছাড়া মানব শরীরে সংক্রমণ রোগ দেখা দেয়। তাই প্রতিদিন সকালে খালি পেটে দুই কোয়া রসুন খেলে শরীর সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।
  • হাড়ের শক্তি বাড়ায়: বিভিন্ন কারণে নারীদের ক্ষেত্রে একটা বয়সের পর হাড়ের শক্তি কমে যায়। এই ধরণের হাড় সংক্রান্ত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রতিদিন ২ গ্রাম করে রসুন খেলে নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রায় ভারসাম্য থাকে।
  • ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায়: এলডিএল কোলেস্টেরলই হৃদরোগ, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, উচ্চ রক্তচাপের জন্য দায়ী। কাঁচা রসুন যখন আপনি নিয়মিত খাবেন তখন আপনার রক্তের যে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল, টোটাল কোলেস্টেরল এবং এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে থাকবে। ফলে সহজেই আপনি এ রোগগুলো প্রতিরোধ করতে পারবেন।
  • অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এর কাজ করে: নিয়মিত কাঁচা রসুন খেলে রসুনে উপস্থিত অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ‘সেল ড্যামেজ’ ও ‘এজিং’ রোধ করে। মস্তিষ্কের সেল ড্যামেজ কম হওয়ার কারণে আলঝেইমারস ও ডিমেনশিয়ার মতো রোগের সম্ভবনা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
  • দীর্ঘায়ু হওয়া: প্রতিদিন কাঁচা রসুন খাওয়ার ফলে রসুন পাওয়ারফুল ডিটক্স হিসেবে কাজ করে। এতে শরীরের ভেতরে যত ময়লা-আবর্জনা সব বের হয়ে রক্তের পরিশোধনক্ষমতা বেড়ে যায়, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও শরীর ভালো রাখে, নিরোগ দেহ নিঃসন্দেহে দীর্ঘায়ু হয়। 

কাঁচা রসুন খাওয়ার অপকারিতা

শরীরের অনেক সমস্যার জন্যই রসুন খুব উপকারি। তবে রসুনের কিছু কিছু গুণের জন্য অনেক শারীরিক সমস্যা বেড়েও যেতে পারে। যেমনঃ 

  • রসুনে থাকে সালফার, তা পেটে গ্যাস তৈরি করে। এতে খালি পেটে রসুন খেলে ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভবনা থাকে।  
  • গর্ভবতী নারীদের রসুন খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। গর্ভবতী অবস্থায় অতিরিক্ত রসুন খেলে প্রসব বেদনা বেড়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে। এ ছাড়াও শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েরাও রসুন খাবেন না। এতে দুধের স্বাদ পাল্টে যেতে পারে।
  • মাত্রাতিরিক্ত রসুন  খাওয়ার কারণে ‘হাইফিমা’ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অর্থাৎ ‘আইরিস’ ও ‘কর্নিয়া’র মাঝে রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে। ফলস্বরূপ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যেতে পারে। ।
0 comments
1 FacebookTwitterPinterestEmail
কোষ্ঠকাঠিন্য-দূর-করার ঘরোয়া-এবং-প্রাকৃতিক-চিকিৎসা
ঘরোয়া চিকিৎসা

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করুন ঘরোয়া এবং প্রাকৃতিক চিকিৎসায়

by Dr. Baby Akter 14/08/2023
written by Dr. Baby Akter

যদি সপ্তাহে তিনবারের কম মলত্যাগ হয় অথবা খুব কম পরিমাণে হয়, অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টা করেও মলত্যাগ না হয়, অথবা মল অস্বাভাবিক রকমের শক্ত বা শুকনো হয়, তাহলে তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলে। অপরিকল্পিত ডায়েট, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা জন্য বেশি দায়ী। তবে কিছু ক্ষেত্রে এই সমস্যা বংশগত। 

প্রতিদিন অন্তত ৪-৬  গ্লাস তরল পানীয় পান  করুন।

কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর পানি ও বিভিন্ন ফলের জুস। 

এই কোষ্ঠকাঠিন্য থেকেই আরো ভয়াবহ নানা রোগের জন্ম হয়। ঘরোয়া উপায়ে এবং প্রাকৃতিক চিকিৎসা আর সহজলভ্য খাবার পরিমাণমত গ্রহণে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা সম্ভব।

জেনে নেয়া যাক কি সেই ঘরোয়া উপায় যাতে দূর হবে কোষ্ঠকাঠিন্য

  • ক্যাস্টর অয়েল বা রেড়ির তেল  প্রয়োজন মত ১-৫ চামচ রাতে ঘুমানোর আগে এককাপ গরম দুধ বা পানির সাথে মিশিয়ে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। বড়দের ক্ষেত্রে ২-৪ চামচ এবং ছোটদের ক্ষেত্রে ১ চামচই যথেষ্ট। 
  • ছোট কালো হরীতকী ১০০ গ্রাম দেশি ঘিয়ে ভেজে নিন। ৫০ গ্রাম মৌরিও একই ভাবে গিয়ে ভেজে নিন। মৌরি ভাজা হলে সাথে আরো ৫০ গ্রাম কাঁচা মৌরি দিয়ে মিশিয়ে নিন। তারপর ভাজা হরীতকী এবং মিক্স করা মৌরি আধপেষা করে গুড়ো করে এবার এই ২০০ গ্রাম আধপেষা গুড়ো সাথে ২০০ গ্রাম গাওয়া ঘিয়ে মাখিয়ে কাচের পাত্রে করে রেখে দিন। তৈরি হয়ে গেলো আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রাকৃতিক ঔষধ। 

খাওয়ার নিয়ম : চুর্ণ থেকে ১০ গ্রাম বা ২ চামচ কর প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা গরম দুধের সাথে মিশিয়ে খান। এই ঔষধ খাওয়ার ২ ঘন্টা আগে ও পরে কিছু খাবেন না। কিছুদিন নিয়মিত এই ঔষধ খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে যায়। প্রায় পেটের সমস্যা এই প্রাকৃতিক ঔষধ দিয়ে নির্মূল হয়ে যায়।

  • ২ টি কমলালেবু রস প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খাওয়ালে কোষ্ঠকাঠিন্যে একেবারে সেরে যায়। ৪-১০ দিন খেলেই উপকার পাওয়া যায়। এই রস খাওয়ার পর ১-২ ঘন্টা কিছু খাওয়া যাবে না।
  • একটি বড় এলাচ এক কাপ গরম দুধে সারা রাত ভিজিয়ে রেখে দিন। সকালে ঘুম থেকে উঠে এই এলাচটি থেঁতো করে দুধের সঙ্গেই খেয়ে ফেলুন। সকালে আর রাতে এই ভাবে এলাচ-দুধ খেতে পারলে মারাত্মক রকমের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় দ্রুত উপকার পাবেন।
  • প্রতিদিন রাত্রে ঘুমাতে যাওয়ার ঘন্টাখানেক আগে একটি সম্পূর্ণ আপেল খান। এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় উপকার পাবেন।
  • রাতে ঘুমানোর আগে এক কাপ গরম পানি খান। গরম পানি খেলে তা হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে । তাই নিয়মিত রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক কাপ গরম পানি  খাওয়ার অভ্যাস করুন।
  • রোজ অন্তত ২৫ গ্রাম আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। আঁশযুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে বাঁধাকপি জাতীয় সবজি, আপেল, ডুমুর, ব্ল্যাক বিন।
  • আপনার মলত্যাগের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করুন। দীর্ঘ সময় ধরে অন্ত্রে মল চেপে রাখলে মল বেশি শক্ত হয়ে যায়। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার সৃষ্টি হয়।  তাই প্রতিদিন রুটিন করে মলত্যাগ করুন।
  • প্রতিদিন প্রচুর পানি ও তরল এবং যথেষ্ট আঁশযুক্ত খাবার খান। গোটা শস্য, শাকসবজি, ফলমূল যেমন বেল, পেঁপে ইত্যাদি হলো আঁশযুক্ত খাবার। 
0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
  • 1
  • 2

Recent Posts

  • ইফতারের পর চা খেলে কি হয়
  • রমজানে পর্যাপ্ত না ঘুমালে কী হয়
  • মাথা ব্যথার কারন ও মুক্তির উপায়
  • এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 
  • এনাল ফিসার কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

Recent Comments

No comments to show.

আমাদের সম্পর্কে

banner

প্রকৃতির মাঝেই লুকিয়ে আছে নিরাময়ের সকল উপাদান। তাই সুস্থতা ও প্রশান্তির আরেক নাম প্রকৃতি। প্রকৃতির সাথে নিজেকে একাত্ম করুন, প্রাকৃতিক নিয়মেই আপনি সুস্থ থাকবেন প্রশান্ত থাকবেন। প্রকৃতির মাঝে ছড়িয়ে থাকা এই অসংখ্য উপাদান আর তার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সৃষ্টির আদি থেকে এখনো পর্যন্ত মানুষ সুস্থতার যে উপায়গুলি মানব কল্যানে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে সেসব তথ্য উপাত্তকে গুছিয়ে নতুন আঙ্গিকে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ

  • 1

    এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 

  • 2

    শীতকালীন বিভিন্ন রোগ এবং প্রাকৃতিক প্রতিকার

  • 3

    প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া উপায়ে বন্ধ্যাত্ব রোগ নিরাময় করুন

  • 4

    শারীরিক সুস্থতার জন্য শাক-সবজি খাওয়ার সঠিক নিয়ম

Back Next

প্রয়োজনীয় লিংক সমুহ

  • চিকিৎসার ইতিহাস ও গবেষণা
  • প্রসূতি এবং শিশু স্বাস্থ্য
  • গোপনীয়তার নীতি
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • Facebook
  • Twitter
  • Whatsapp

@2023 - All Right Reserved by MIL HOMEO


Back To Top
MIL HOMEO
  • মুল পাতা
  • প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য
    • আয়ুর্বেদ চিকিৎসা
    • ঘরোয়া চিকিৎসা
    • ভেষজ উপাদান
    • ভেষজ চিকিৎসা
  • রোগব্যাধি ও প্রতিকার
    • শারীরিক রোগ
      • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ
      • চর্মরোগ
        • আঁচিল বা তিল
      • জ্বর
        • টাইফয়েড জ্বর
        • ডেঙ্গু জ্বর
        • ম্যালেরিয়া
      • পায়ুপথের রোগ
      • কান পাকা রোগ
      • কৃমি রোগ
      • বন্ধ্যাত্ব রোগ
      • নাসা রোগ
      • শীতকালীন রোগব্যাধি
      • সংক্রামক রোগ
      • সাইনোসাইটিস
      • স্নায়ু রোগ
    • মনরোগ
    • শিশু রোগ
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • সুস্থ জীবনধারা
    • ক্ষতিকর অভ্যাস
    • খাদ্যাভ্যাস
    • তামাক ও মাদক বর্জন
    • পানীয় জল এবং হাইড্রেশন
    • ভালো ঘুমের অভ্যাস
    • রূপচর্চা ও চুলের যত্ন
    • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
    • স্বাস্থ্যকর শখ
  • ব্যায়াম ও ফিটনেস
    • ওজন প্রশিক্ষণ
    • ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা
    • ঘরে বসে ফিটনেস
    • বয়স্কদের ব্যায়াম
    • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
    • স্ট্রেচিং এবং মবিলিটি
  • মানসিক স্বাস্থ্য
    • অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা
    • আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে ভালোবাসা
    • ডিপ্রেশন ও প্রতিকার
    • মানসিক চাপ ও সমাধান
    • মেডিটেশন ও মননশীলতা
    • পরিবার ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য
  • খাদ্য ও পুষ্টি
    • আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
    • ওজন কমানোর খাদ্য পরিকল্পনা
    • ওজন বাড়ানোর পুষ্টি পরিকল্পনা
    • খাদ্য তালিকা এবং পরামর্শ
      • রোগের খাবার
    • পুষ্টিগুণ
      • শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
      • ফলের পুষ্টিগুণ
    • ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
    • স্বাস্থ্যকর রেসিপি
  • হোমিও চিকিৎসা