MIL HOMEO
প্রকৃতির সাথে থাকুন, সুস্থ থাকুন
  • মুল পাতা
  • প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য
    • আয়ুর্বেদ চিকিৎসা
    • ঘরোয়া চিকিৎসা
    • ভেষজ উপাদান
    • ভেষজ চিকিৎসা
  • রোগব্যাধি ও প্রতিকার
    • শারীরিক রোগ
      • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ
      • চর্মরোগ
        • আঁচিল বা তিল
      • জ্বর
        • টাইফয়েড জ্বর
        • ডেঙ্গু জ্বর
        • ম্যালেরিয়া
      • পায়ুপথের রোগ
      • কান পাকা রোগ
      • কৃমি রোগ
      • বন্ধ্যাত্ব রোগ
      • নাসা রোগ
      • শীতকালীন রোগব্যাধি
      • সংক্রামক রোগ
      • সাইনোসাইটিস
      • স্নায়ু রোগ
    • মনরোগ
    • শিশু রোগ
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • সুস্থ জীবনধারা
    • ক্ষতিকর অভ্যাস
    • খাদ্যাভ্যাস
    • তামাক ও মাদক বর্জন
    • পানীয় জল এবং হাইড্রেশন
    • ভালো ঘুমের অভ্যাস
    • রূপচর্চা ও চুলের যত্ন
    • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
    • স্বাস্থ্যকর শখ
  • ব্যায়াম ও ফিটনেস
    • ওজন প্রশিক্ষণ
    • ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা
    • ঘরে বসে ফিটনেস
    • বয়স্কদের ব্যায়াম
    • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
    • স্ট্রেচিং এবং মবিলিটি
  • মানসিক স্বাস্থ্য
    • অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা
    • আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে ভালোবাসা
    • ডিপ্রেশন ও প্রতিকার
    • মানসিক চাপ ও সমাধান
    • মেডিটেশন ও মননশীলতা
    • পরিবার ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য
  • খাদ্য ও পুষ্টি
    • আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
    • ওজন কমানোর খাদ্য পরিকল্পনা
    • ওজন বাড়ানোর পুষ্টি পরিকল্পনা
    • খাদ্য তালিকা এবং পরামর্শ
      • রোগের খাবার
    • পুষ্টিগুণ
      • শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
      • ফলের পুষ্টিগুণ
    • ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
    • স্বাস্থ্যকর রেসিপি
  • হোমিও চিকিৎসা

খাদ্য ও পুষ্টি

উচ্চ ফাইভার সমৃদ্ধ খাবার
আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার

উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের তালিকা 

by Dr. Baby Akter 29/12/2023
written by Dr. Baby Akter

অতীতে বিশেষজ্ঞরা ফাইবার বলতে এমন এক ধরণের কার্বোহাইড্রেট বুঝাতেন যা শরীরে হজম যোগ্য নয়। অতি সম্প্রতি, বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, কিছু হজমযোগ্য পদার্থও ফাইবারে রয়েছে, তাই বিজ্ঞানীরা ফাইবারকে দুই ভাগে শ্রেণীবদ্ধ করেছেন। যেমন-

  • দ্রবণীয় ফাইবার পানিতে দ্রবণীয় তাই হজমযোগ্য।
  • অদ্রবণীয় ফাইবার হজমযোগ্য নয়।

দ্রবণীয় ফাইবারগুলি উদ্ভিদের ভিতর থেকে পাওয়া যায় এবং পেকটিন জাতীয় পদার্থ অন্তর্ভুক্ত থাকে। যেমন ফল, শাকসবজি, ওটস এবং বার্লিতে প্রচুর পরিমানে দ্রবণীয় ফাইবার উপস্থিত থাকে যা রক্তে শর্করা এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

অদ্রবণীয় ফাইবার উদ্ভিদের বাইরের অংশ পাওয়া যায় যেমন- তুষ, সেলারি, গোটা শস্য এবং বীজ এগুলোতে প্রচুর পরিমানে অদ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে । এটি অনেকটা অবিকৃত অবস্থায় সরাসরি পাচনতন্ত্রের (Digestive System) মধ্য দিয়ে পার হয়ে যায়। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে অদ্রবণীয় ফাইবার খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ডায়েটিশিয়ানদের মতে, আমাদের দৈনন্দিন খাবার তালিকায় যে সকল শাকসবজি, ফলমূল ও শস্য থাকে এর মধ্যে উচ্চ আঁশ বা ফাইবার রয়েছে। তাই শারীরিক সুস্থতা ও রোগ প্রতিরোধের জন্য ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার গুলো কি কি এবং উৎস ও খাদ্যের পরিমিতি বোধ সম্পর্কে জেনে রাখা অত্যন্ত  জরুরী। 

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

পাচনতন্ত্র (Digestive System) সুস্থ রাখতে, নানা রোগ প্রতিরোধে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গুলো পালন করে তা হল –

কোলেস্টেরল কমানো: পরিপাকতন্ত্রে ফাইবার শরীরের কোলেস্টেরল শোষণকে কমাতে সাহায্য করে, বিশেষ করে যদি স্ট্যাটিন গ্রহণ করা হয় এবং সাইলিয়াম ফাইবারের মতো পরিপূরক ফাইবার গুলো ভালো কাজ করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ: ফল এবং শাক-সবজির মতো উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবারে ক্যালোরি কম থাকে। ফাইবার(Fiber) হজম ধীর করে এতে দীর্ঘ সময় পাকস্থলীতে পূর্নতা বোধ হয়। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রনে থাকে। 

কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে: ফাইবার হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে। অদ্রবণীয় ফাইবার সরাসরি পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে পার হয়। ফলে এটি হজম যোগ্য না হওয়ার কারণে অন্ত্রকে সবল এবং সচল করে।

রক্তে শর্করার কমায়: উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার কে ভাঙ্গতে শরীর বেশি সময় নেয়, ফলে গ্লুকোজ সহজে  রক্তে প্রবেশ করে না। এতে শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা সঠিক বজায় থাকে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস: ফাইবারযুক্ত খাবারে পেকটিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপস্থিতির কারণে কোলন ক্যান্সার সহ যে কোন ধরণের  ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।  

ডায়েটে উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার যুক্ত করতে চাইলে ধীরে ধীরে তা করুন এবং সাথে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। এতে আপনার পেটে গ্যাস বা ফোলা থেকে রক্ষা করবে।

জেনে নিন, সে সকল খাবারের উচ্চ ফাইবার থাকে –

ডায়েটিশিয়ানদের মতে, আমাদের দৈনন্দিন খাবার তালিকায় যে সকল শাকসবজি ,ফলমূল ও শস্য এর মধ্যে উচ্চ আঁশ বা ফাইবার থাকে। বিশেষ করে শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমানে ফাইবার রয়েছে। যেমন-  

১. মসুর ডাল (১০.৭ গ্রাম): মসুর ডাল বহুমুখী উপাদানে ভরপুর এবং অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি ডাল জাতীয় খাবার। এটি ফাইবার, প্রোটিন এবং অন্যান্য অনেক পুষ্টির একটি ভাল উৎস।

ফাইবারের পরিমান: প্রতি কাপ রান্না করা মসুর ডালে ১৩.১ গ্রাম বা প্রতি ১০০ গ্রাম ডালে ১০.৭ গ্রাম পরিমানে ফাইবার থাকে।

২. বাদামী চালের ভাত: বাদামী চালে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম এবং লিগনান, খনিজ রয়েছে, যা আমাদের হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে, হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৩. ছোলা (৭ গ্রাম): ছোলা বা বুট হল আমাদের অতি পরিচিত ডাল জাতীয় শস্য। আমাদের হাতের কাছে বাজার বা দোকানে এটি সহজে পাওয়া যায়। এই সুস্বাদু ও মুখরোচক ছোলা বা বুট ফাইবার সমৃদ্ধ এবং প্রোটিন ও বিভিন্ন খনিজ সরবরাহ করে।

ফাইবারের পরিমান: প্রতি কাপ রান্না করা ছোলাতে ১২.৫ গ্রাম বা প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলাতে ৭.৬ গ্রাম ফাইবার থাকে।

৪. মটরশুঁটি (৮.৩ গ্রাম): আমাদের দৈনন্দিন খাবারের মধ্যে মটরশুঁটি একটি খুব সজলভ্য ডালজাত খাদ্য। এতে শ্বেতসার ছাড়াও ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি ৬, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-কে, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, তামা, প্রোটিন, আয়রন, দস্তা, লুটেইন এবং ফাইবার রয়েছে। যা শরীরে টক্সিন দূর করে ও কোলেস্টলের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখে ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। 

ফাইবারের পরিমান: প্রতি কাপ রান্না করা মটরশুঁটিতে ১৬.৩ গ্রাম বা প্রতি ১০০ গ্রাম মটরশুঁটিতে ৮.৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। 

৫. পপকর্ন বা ভুট্টা  (১৪.৫ গ্রাম): পপকর্ন বা ভুট্টা অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন একটি শস্য। সবার অতি পরিচিত সজলভ্য এই পপকর্নে  প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও ক্যালরির থাকে। যা আমাদের শরীরে কোষ্ঠকাঠিন্য ও হেমোরয়েড সমস্যা দূরে করে। ডায়াবেটিস ও কোলন ক্যান্সারসহ অনেক জটিল রোগের ঝুঁকি কমায়। 

ফাইবারের পরিমান: প্রতি কাপ এয়ার-পপড পপকর্নে ১.১৫ গ্রাম বা প্রতি ১০০ গ্রাম পপকর্নে ১৪.৫ গ্রাম ফাইবার থাকে।

৬. গাজর (২.৮ গ্রাম): গাজর একটি মূল সবজি যা আপনি কাঁচা বা রান্না করে খেতে পারেন। ফাইবার ছাড়াও, গাজরে ভিটামিন কে, ভিটামিন বি ৬, ম্যাগনেসিয়াম এবং বিটা ক্যারোটিন সরবরাহ করে, যা আপনার শরীরে ক্যানসারসহ নানা রোগ প্রতিরোধ করে।

ফাইবারের পরিমান: ১ কাপ কাঁচা গাজরে ৩.৬ গ্রাম, বা ২.৮ গ্রাম প্রতি ১০০ গ্রাম।

৭. কলা (২.৬ গ্রাম): কলা ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬ এবং পটাসিয়াম সহ অনেক পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। একটি সবুজ বা অপরিপক্ক কলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রতিরোধী স্টার্চ থাকে, তাছাড়া এটি অপাচ্য কার্বোহাইড্রেট যা ফাইবারের মতো কাজ করে।

ফাইবারের পরিমান: একটি মাঝারি আকারের কলায় ৩.১ গ্রাম, বা প্রতি ১০০ গ্রাম কলায় ২.৬ গ্রাম ফাইবার থাকে।

৮. পালং শাক: পালংশাক সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফাইবার সমৃদ্ধ শাক যা বাজারে খুব সহজলভ্য। এটি আমাদের শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্য, ব্রণ, হার্ট, ক্যান্সার, জন্ডিসের জন্য উপকারী। পালংশাক চর্মরোগ দূর করে, চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়, চুলপড়ারোধ করে।

৯. টমেটো: এই সবজি সালাদ, ভর্তা, ভাজি করে অনেক ভাবে খাওয়া যায়। প্রতি এক কাপ টমেটোতে ১.২ গ্রাম ফাইবার থাকে।

১০. কিডনি বিন বা রাজমা (৬.৪ গ্রাম): কিডনি বিন বা রাজমা একটি জনপ্রিয় ডাল জাতীয় সবজি। এটি প্রায় ৪০০০ বছর ধরে খাদ্য তালিকায় পুষ্টিকর ও সুস্বাদু খাবার হিসেবে সমাদৃত। অন্যান্য ডালের মতো এটি উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিন এবং বিভিন্ন পুষ্টি সরবরাহ করে।

ফাইবারের পরিমান: প্রতি ১০০ গ্রাম সিদ্ধ রাজমাতে ৬.৪ গ্রাম ফাইবার থাকে।

১১. বাদাম (১৩.৩ গ্রাম): বাদাম স্বাস্থ্যকর ফাইবার, চর্বি, ভিটামিন ই, ম্যাঙ্গানিজ এবং ম্যাগনেসিয়াম সহ অনেক পুষ্টিতে ভরপূর।

ফাইবারের পরিমান: প্রতি ৩ টেবিল চামচ বাদামে ৪ গ্রাম বা প্রতি ১০০ গ্রামে ১৩.৩ গ্রাম ফাইবার থাকে।

১২. চিয়া বীজ (৩৪.৪ গ্রাম): চিয়া বীজ অত্যন্ত পুষ্টিকর, ক্ষুদ্র কালো বীজ। এটি ফাইবারের একটি অন্যতম উৎস এবং উচ্চ পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে।

ফাইবারের পরিমান: শুকনো চিয়া বীজে আউন্স প্রতি ৯.৭৫ গ্রাম, বা প্রতি ১০০ গ্রামে ৩৪.৪ গ্রাম ফাইবার থাকে।

১৩. বিট (২ গ্রাম): বীট বা বীটরুট হল একটি মূল সবজি যাতে রয়েছে মূল্যবান পুষ্টি, যেমন ফোলেট (Folate), আয়রন, কপার, ম্যাঙ্গানিজ এবং পটাসিয়াম। বীট অজৈব নাইট্রেটও সরবরাহ করে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যায়ামের কার্যকারিতার জন্য খুব উপকারী।

ফাইবারের পরিমান: প্রতি কাপ কাঁচা বীটে রয়েছে ৩.৮ গ্রাম ফাইবার বা প্রতি ১০০ গ্রামে ২ গ্রাম ফাইবার।

১৪. ব্রকলি (২.৬ গ্রাম): ব্রোকলি এক ধরনের ক্রুসিফেরাস সবজি (Cruciferous Vegetable) এবং একটি পুষ্টিকর খাবার। এতে ফাইবার সহ ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফোলেট, বি ভিটামিন, পটাসিয়াম, আয়রন এবং ম্যাঙ্গানিজ রয়েছে। ব্রকলিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। অন্যান্য সবজির তুলনায় ব্রকলিতে প্রোটিনের পরিমাণও তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

ফাইবারের পরিমান: প্রতি কাপ ব্রোকলিতে ২.৪ গ্রাম, বা প্রতি ১০০ গ্রাম ব্রোকলিতে ফাইবার থাকে ২.৬ গ্রাম।

১৫. আপেল (২.৪ গ্রাম): আপেল একটি সুস্বাদু এবং তৃপ্তিদায়ক ফল। এই ফলে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ফাইবার রয়েছে।

ফাইবারের পরিমান: একটি মাঝারি কাঁচা আপেলে ৪.৪ গ্রাম ফাইবার বা প্রতি ১০০ গ্রাম আপেলে থাকে ২.৪ গ্রাম ফাইবার।

১৬. আর্টিকোক (৫.৪ গ্রাম): আর্টিকোক অনেক পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি ভেষজ এবং এটি ফাইবারের একটি ভাল উৎস।

ফাইবারের পরিমান: ১টি কাঁচা গ্লোব বা ফ্রেঞ্চ আর্টিকোকে ৬.৯ গ্রাম বা প্রতি ১০০ গ্রাম আর্টিকোকে ৫.৪ গ্রাম ফিইবার থাকে।

১৭. ব্রাসেলস স্প্রাউটস (৩.৮ গ্রাম): ব্রাসেলস স্প্রাউট অনেকটা বাঁধাকপির মতো সবজি। এতে ফাইবার, ভিটামিন কে, পটাসিয়াম, ফোলেট এবং ক্যান্সার-প্রতিরোধী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।

ফাইবারের পরিমান: প্রতি কাপ কাঁচা ব্রাসেলস স্প্রাউটে ৩.৩ গ্রাম বা প্রতি ১০০ গ্রামে থাকে ৩.৮ গ্রাম ফাইবার।

১৮. নাশপাতি (৩.১ গ্রাম): নাশপাতি সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর একটি ফল। এটা দাঁতের জন্য খুব উপকারী। এই ফলটিও ফাইবারের ভালো উৎস।

ফাইবারের পরিমান: একটি মাঝারি আকারের কাঁচা নাশপাতিতে ৫.৫ গ্রাম বা ১০০ গ্রাম নাশপাতিতে ৩.১ গ্রাম ফাইবার থাকে।

১৯. স্ট্রবেরি (২ গ্রাম): গ্রীষ্মকালীন ডেজার্ট বা অফিস স্ন্যাক হিসাবে তাজা খাওয়ার জন্য স্ট্রবেরি একটি সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর ফল। ফাইবারের পাশাপাশি এতে ভিটামিন সি, ম্যাঙ্গানিজ এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

ফাইবারের পরিমান: ১ কাপ তাজা স্ট্রবেরিতে ৩ গ্রাম, বা প্রতি ১০০ গ্রামে ২ গ্রাম ফাইবার রয়েছে।

২০. অ্যাভোকাডো (৬.৭ গ্রাম): অ্যাভোকাডোতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং এটি ফাইবারের একটি ভাল উৎস। এটি ভিটামিন সি, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন ই এবং ভিটামিন বি সরবরাহ করে।

ফাইবারের পরিমান: ১ কাপ কাঁচা অ্যাভোকাডোতে ১০ গ্রাম, বা প্রতি ১০০ গ্রামে ৬.৭ গ্রাম ফাইবার রয়েছে।

২১. ওটস (১০.১ গ্রাম): ওটস ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস এবং এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।এতে বিটা গ্লুকান (Beta Glucan) নামক একটি শক্তিশালী দ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে, যা  রক্তে শর্করা এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

ফাইবারের পরিমান: প্রতি কাপ কাঁচা ওটসে ১৬.৫ গ্রাম বা প্রতি ১০০ গ্রামে ১০.১ গ্রাম ফাইবার থাকে।

২২. রাস্পবেরি (৬.৫ গ্রাম): রাস্পবেরি সুস্বাদু একটি পুষ্টিকর ফল। এতে ফাইবার, ভিটামিন সি এবং ম্যাঙ্গানিজ রয়েছে।

ফাইবারের পরিমান: এক কাপ কাঁচা রাস্পবেরিতে ৪ গ্রাম ফাইবার থাকে, বা প্রতি ১০০ গ্রামে ৬.৫ গ্রাম ফাইবার রয়েছে।

২৩. ডার্ক চকোলেট (১০.৯ গ্রাম): ডার্ক চকোলেট হতে পারে পুষ্টি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। ৭০%-৯৫% বা তার বেশি কোকো কন্টেন্ট আছে এমন ডার্ক চকলেট বেছে নিন এবং বেশি চিনি যুক্ত  চকলেট এড়িয়ে চলুন।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
পালংশাকের গুনাগুন ও উপকারিতা
শাক-সবজির পুষ্টিগুণ

জেনে নিন পালংশাকের কিছু অসাধারণ গুণ ও উপকারিতা

by Dr. Baby Akter 15/10/2023
written by Dr. Baby Akter

সবুজ শাক-সবজির মধ্যে এক অতি পরিচিত নাম হলো পালংশাক। এর অধিক পুষ্টিগুণের কারণে সুদীর্ঘকাল ধরে পনির দিয়ে, আলু দিয়ে, মাছ দিয়ে, মাংস দিয়ে কিংবা এমনি খেয়ে আসছে।  প্রায় সারা বছর পাওয়া গেলেও শীতে পালংশাক বাজারে বেশী পাওয়া যায় এবং দামেও সাশ্রয়ী। পালংশাকের মধ্যে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা। তাই নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন এই পুষ্টিকর পালংশাক।

সুদীর্ঘকাল ধরে কিছু আলাদা পুষ্টিগুণ ও উপকারিতার কারণে মানুষের খাদ্য তালিকায় অধিক জনপ্রিয় পালংশাক, আছে রোগ প্রতিরোধের অসাধারণ ক্ষমতা।

পালংশাকের গুনাগুন ও উপকারিতা

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি 

পালংশাকে জেক্সানথিন, লুটিন ও ক্লোরোফিল উপাদান থাকার কারণে মানুষের দৃষ্টিশক্তি রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে।

হাড়ের গঠন মজবুত করে 

পালংশাকে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, আঁশ, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। পালংশাক ভিটামিন কে–এর বড় উৎস। এসবই হাড়ের গঠন মজবুত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়। এই ভিটামিন অস্টিওক্যালক নামের একটি প্রোটিন উৎপাদন করে থাকে। অস্টিওক্যালক হাড়ে ক্যালসিয়ামকে স্থিতিশীল রাখে। 

ক্যান্সার প্রতিরোধে

পালংশাকে ১৩ ধরনের ফাভোনয়েডস থাকার কারণে এটি ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে খুবই কার্যকর।

ভিটামিন সি–এর উৎস 

পালংশাকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকার কারণে এটিকে ভিটামিন সি–এর বড় উৎস বলা হয়। আমাদের শরীরে ভিটামিন সি এর প্রয়োজনীতা অত্যধিক। ভিটামিন সি মানুষের চোখের রোগ এবং কপালের বলিরেখা দূর করতে পারে, প্রসবপূর্ব সময়ে মায়েদের স্বাস্থ্যের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পালংশাকে লুটিন থাকে যা ধমনির গা মোটা হওয়া ঠেকিয়ে মানুষের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। এ ছাড়া এটি  কার্ডিওভাসকুলার রোগ দূর করতে সক্ষম। 

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

পালংশাক পেট পরিষ্কার রাখতে অপরিহার্য। পালংশাকে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ এবং বিটা কেরোটিন থাকায় তা মানুষের কোলনের কোষগুলোকে রক্ষা করে। পালং পাতার রস খেলে মেদ বৃদ্ধি কমে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে।  

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে

পালংশাকে থাকা জেক্সানথিন, লুটিন ও ক্লোরোফিল মানুষের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়, এবং এতে প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেলস থাকায় এটি মেয়েদের মাসিকজনিত সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।

ডায়াবেটিস রোগে 

ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য পালংশাক খুব উপকারী। এতে রয়েছে, ম্যাগনেশিয়াম তাই পালংশাক খেলে শরীরের শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। ফলে তরতাজা ও সতেজ থাকা যায়। 

কিডনিতে পাথর হলে 

যাদের কিডনিতে পাথর আছে তারা নিয়মিত পালং পাতার রস খেলে কিডনির পাথর গুঁড়ো হয়ে প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যাবে। তাছাড়া এই শাক দেহ ঠাণ্ডা ও স্নিগ্ধ রাখে ।

বাতের ব্যথা

পালংশাক মাইগ্রেন, মাথাব্যথা, অস্টিওপোরোসিস ও বাতের ব্যথা দূর করতে প্রদাহনাশক হিসেবে কাজ করে।

স্মৃতিশক্তি বাড়ায়

পালংশাকে প্রচুর আয়রন ও ভিটামিন ডি, আঁশ, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম এটি স্মৃতিশক্তি এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে খুবই উপকারী। তাছাড়া পালংশাক দাঁত ও হাড়ের ক্ষয়রোধে, রক্তস্বল্পতা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
শীতকালীন-শাকের-পুষ্টিগুণ-ও-উপকারিতা
শাক-সবজির পুষ্টিগুণ

শীতকালীন শাকের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

by Dr. Baby Akter 14/10/2023
written by Dr. Baby Akter

শীতের এই হিমেল আবহাওয়াতে বাজারে বাহারি ধরণের শাকের সমাহার। দেখতে যেমন সুন্দর, সতেজ তেমনি আছে পুষ্টিগুণও। শরীরের প্রয়োজনীয় যাবতীয় ভিটামিন ও মিনারেলস রয়েছে শীতকালীন সতেজ শাক-সবজিতে। দামে সস্তা, সহজলভ্য এবং খেতেও সুস্বাদু  শীতকালীন এইসব শাকে আছে রোগব্যাধি দূর করার অনেক ক্ষমতা। তাই জেনে নিন, শীতকালীন বিভিন্ন ধরণের শাকের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে।

স্বাস্থ্য সচেতনতায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে খাদ্য তালিকায় নিয়মিত রাখুন হরেক রকমের ভিটামিনসমৃদ্ধ শাক।

জেনে নিন, শীতে বিভিন্ন শাকের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

লালশাক 

শীতকালে একটি সহজলভ্য শাক হল লালশাক। যদিও সারা বছর এই শাক পাওয়া যায়। তবে শীতকালে অনেক বেশি সহজলভ্য এই লালশাক। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে হিমোগ্লোবিন এবং আয়রন যা অ্যানিমিয়া অর্থাৎ রক্তশূন্যতা, নিম্ন রক্তচাপ মানে লো-ব্লাড প্রেশার, দুর্বলতা, ক্রমশ শক্তি কমে যাওয়ার থেকে রক্ষা করে। তাছাড়া ডায়বেটিস রোগী, অস্টিও আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় লালশাক অত্যন্ত কার্যকরী। গর্ভবতী অবস্থা থেকে শিশুর জন্ম ও মাতৃদুগ্ধ পান পর্যন্ত লালশাক ভীষণ জরুরি। তাই এই শীতে লালশাক অবশ্যই খাওয়া উচিত।

পালংশাক

শীতকালীন শাকের মধ্যে পালংশাক খুব জনপ্রিয় এবং সুস্বাদু। বাজারে সহজলভ্য এই শাক ঝোল বা ভাজি যে কোন ভাবে রান্না করে খাওয়া যায়। পালংশাকে আছে উচ্চমাত্রায় ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন ‘এ’ যা রক্তচাপ কমায় এবং লিম্ফোসাইট বা রক্তের শ্বেত কণিকা দেহকে বিভিন্ন সংক্রমণ ও রোগ থেকে রক্ষা করে। এতে বিভিন্ন ধরণের ফ্ল্যাভোনয়েড থাকায় তা ক্যান্সার সহ বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে। তাছাড়া এতে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন এবং ফলিক এসিড যা চোখের ছানি পড়া, ত্বককে বাইরের আদ্রতা থেকে রক্ষা করে এবং হৃদ যন্ত্রের সুরক্ষা দেয়। তাই দৈনন্দিন রান্নায় এই শাক রেসিপিতে রাখতে পারেন।

সরিষা শাক

পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ শীতের আরেকটি শাক হল সরিষা শাক। এটি একটি সুস্বাদু শাক। সরিষা শাকের ভর্তা খুবই মুখরোচক। শীতের শুরুতে এই শাক বেশি পাওয়া যায়। এতে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সেলেনিয়াম, প্রোটিন ও ফাইবার যা আপনার হার্ট ভালো রাখে, রক্তের কোলস্টেরল কমায় এবং গর্ভবতী মায়েদের সুস্থ শিশু জন্মদানের সম্ভাবনা বাড়ায়।

সরিষা শাকে আছে শক্তিশালী এন্টি-অক্সিডেন্ট যা নানা রকম ভাইরাল অসুখ থেকে আপনাকে সুরক্ষা দেয়। এটি ভিটামিন ও মিনারেলের একটি সমৃদ্ধ উৎস। ভিটামিন এ, সি ও কে সৃমদ্ধ সরিষা শাক শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন ’এ‘ দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে, ভিটামিন ‘কে’ হাড়ের সুরক্ষা করে এবং মস্তিষ্ককে রাখে দারুণ সচল।

সরিষা শাক ঝোল, ভাঁজি, ভর্তা অনেক ভাবে খাওয়া যায়। তাই নিজেকে সুস্থ,সবল এবং স্বাস্থ্যবান রাখতে এটি নিয়মিত খেতে পারেন।  

মূলা শাক 

মুলা শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায় যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে দেহের রোগ প্রতিরোধ করে। এছাড়াও এতে  পটাসিয়াম, মলিবডেনাম, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স সমৃদ্ধ ফলিক এসিড রয়েছে। মূলা শাক অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান সমৃদ্ধ সবজি, মুলা শাক খেলে অ্যালার্জি ও হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। শীতকালীন হাতের নাগালে পাওয়া যায় এই শাক। মুক্তমূলক পরিষ্কারক এবং দেহের ব্লাড সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। মূলা শাক অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে অ্যালার্জি ও হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। তবে যাদের কিডনি বা পিত্তথলির বিভিন্ন সমস্যা আছে তাদের মুলা শাক কম খাওয়া উচিত। 

পুঁই শাক

শীতে বাজারে প্রচুর পরিমানে পুইশাঁক পাওয়া যায়। অন্যান্য অনেক শাকের মত এর মধ্যে অনেক ভিটামিন ‘এ’ ভিটামিন ‘সি’ লোহা, ও ক্যালসিয়াম আছে। এই শাক নানাভাবে রান্না করে খাওয়া যায়। ভাজিও খাওয়া যায়। আবার মাছ দিয়ে রান্না করে অনেকে। এছাড়া ক্যালরির ঘনত্ব কম। তদুপরি ক্যালরি-প্রতি আমিষের পরিমাণও বেশি। পুইশাঁক গনোরিয়া রোগে ও পাইলস রোগে খুব উপকারী। পুঁই শাকের পাতার রস ছোটদের সর্দি, কোষ্ঠবদ্ধতার জন্য অধিক কার্যকরী। 

পেঁয়াজ পাতা

শীতে পেঁয়াজপাতা একটি বেশ জনপ্রিয় শাক যা ভাজি বা বিভিন্ন তরকারির সাথে মিক্স করে রান্না করা যায়। আবার পেঁয়াজপাতার বড়াও খেতে অনেক মজাদার। এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকার বয়ে আনে। অ্যান্টি-ভাইরাল ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকায় পেঁয়াজ পাতা সাধারণ ঠাণ্ডা, ফ্লু ও ভাইরাল ইনফেকশনের ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বহুকাল ধরে। ভিটামিন ‘সি‘ ভিটামিন বি-১২ এবং থায়ামিন সমৃদ্ধ এই পাতা কোলেস্টেরল ও রক্ত চাপের উচ্চ মাত্রাকে কমাতে সাহায্য করে। উচ্চ মাত্রার ফাইবার থাকার কারণে যাদের খাবারের রুচিহীনতা এবং হজমের সমস্যা ভুগছেন তাদের জন্য পেঁয়াজপাতা খুব উপকারী। 

তাছাড়া উচ্চ মাত্রার ভিটামিন ‘সি’ কোলাজেনের সমন্বয় সাধনে কাজ করে যা হাড়কে শক্তিশালী করে এবং লুটেইন ও জেনান্থিন নামক ক্যারোটিনয়েডের উপস্থিতির জন্য চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং স্বাভাবিক দৃষ্টির রক্ষণাবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বথুয়া বা বেথো শাক

শীতকালীন শাকের মধ্যে খুব মজাদার ও সুস্বাদু এই বথুয়া বা বেথো শাক। এ শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফসফরাস, জিংক যা পিত্ত, লিভারের সমস্যা, মুখে ঘাঁ ও ত্বকে শ্বেতির মতো সমস্যা নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকরী! বেথো শাক বেটে তার সঙ্গে ২ চামচ জিরার গুঁড়ো, ২ চামচ পাতিলেবুর রস মিশিয়ে শরবত বানিয়ে দিনে দুইবার খেলে  প্রস্রাবের জ্বালা ভালো হয়ে যায়। প্রতিদিন ১ কাপ বেথো শাক রস খেলে কিডনি পাথুরি রোগে উপকার পাওয়া যায়। বেথো শাক ডাল বা চিংড়ী দিয়ে রান্না করলে খেতে বেশি মজাদার হয়।  

লাউ শাক

হরেক রকম শীতের শাকের মধ্যে লাউ শাক দেখতে যেমন লোভনীয় খেতেও তেমনি সুস্বাদু। অনেক ধরণের রেসিপি করে লাউ শাক খাওয়া যায়। মাজার বিষয় হল, বাচ্চারাও লাউশাক ভাঁজা খুব পছন্দ করে। লাউ শাকে প্রচুর আঁশ থাকার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং পাইলস প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। এছাড়া লাউ শাকে রয়েছে লুটেইন, বিটা-ক্যারোটিন এবং জিয়েজ্যান্থিন যা রোগ প্রতিরোধ করে। ক্যালরি কম থাকায় ওজন কমানোর জন্য লাউ শাক উপকারী এবং হার্টের পক্ষেও খুব ভালো।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
শীতকালীন শাক-সবজির উপকারিতা
শাক-সবজির পুষ্টিগুণ

শক্তিশালী পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ শীতকালীন শাক-সবজির উপকারিতা

by Dr. Baby Akter 06/10/2023
written by Dr. Baby Akter

আমাদের দেশে শীতের সময় বাজারে বেশি দেখা যায় সবজি – ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, ব্রকলি, শালগম, পালংশাক, পেঁয়াজকলি, মটরশুঁটি, লাউ প্রভৃতি। এসব সবজি যেমন সুস্বাদু তেমনি এর পুষ্টিও বেশি। তাই শীতে পুষ্টিমান বাড়াতে প্রচুর শাকসবজি গ্রহণ করুন। পুষ্টিবিদদের মতে, শীতকালীন সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, বিটা-ক্যারোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ফলিক এসিড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন প্রভৃতি। শরীরে রক্তকণিকা বা প্লাটিলেড গঠনে ও অস্থিক্ষয় রোধে শীতকালীন শাকসবজির ভূমিকা অপরিসীম। শীতকালীন সবজিতে বিদ্যমান ভিটামিন-‘ই’ চুলপড়া রোধ করে এবং মুটিয়ে যাওয়ার সমস্যা থেকে রক্ষা করে। তাই সুস্থ ও সুন্দর থাকার জন্য প্রচুর পরিমাণে শীতকালীন শাকসবজি গ্রহণ করা উচিত। আসুন জেনে নিই কোন সবজিতে কী ধরনের পুষ্টি বেশি।

পুষ্টিবিদদের মতে, শীতকালীন সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, বিটা-ক্যারোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ফলিক এসিড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন প্রভৃতি তাই সুস্থ ও সুন্দর থাকার জন্য প্রচুর পরিমাণে শীতকালীন শাকসবজি গ্রহণ করা উচিত।

শীতের কয়েকটি সবজি ও তাদের পুষ্টিগুণ

ফুলকপি

ফুলকপির সালফারযুক্ত সালফোরাফেন উপাদান ক্যানসার কোষ ধ্বংস করে। ভিটামিন এ, বি, সি ও ভিটামিন কে আছে প্রচুর। এ ছাড়া আছে আয়রন, সালফার, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও ফাইবার। রক্তচাপ কমায়। হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে। ফুলকপির ভিটামিন এ ও সি  শীতকালীন ঠান্ডা, জ্বর, সর্দি, কাশি ও টনসিলের প্রদাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখে। ফাইবার ও সালফারসমৃদ্ধ ফুলকপি পরিপাকে সহায়তা করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। 

বাঁধাকপি 

ভিটামিন ‘সি’ ও ‘কে’ সহ বাঁধাকপির পাতার মোড়কে আছে নানা পুষ্টিগুণ। বাঁধাকপিতে বিদ্যমান গ্লুকোসিনোলেট নামের উপাদান ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক। এর ফলিক এসিড বা ফলট রক্ত বাড়ায়, গর্ভস্থ শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করে। গবেষণা বলছে, পাতা দিয়ে মোড়া এ ধরনের সবজি রক্তে চর্বি ও শর্করা কমায়। বাঁধাকপি আঁশেরও চমৎকার উৎস, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

গাজর

গাজরে থাকে ফাইবার, যা হজমক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বয়সের ছাপ দূর করে, ত্বককে করে উজ্জ্বল আর লাবণ্যময়।

যাঁরা নিয়মিত গাজর খান তাঁদের ব্রেস্ট ক্যান্সার, কোলন ও ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। গাজর খেলে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়। এতে পটাসিয়াম থাকে, যা রক্তপ্রবাহ ঠিক রাখে। হার্ট সুস্থ রাখতে, কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রোজকার খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন গাজর। এ ছাড়া বর্জ্যপদার্থ নিষ্কাশন করে লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়াতে গাজর বেশ উপকারী। 

শিম

যাঁরা নিরামিষভোজী এবং মাছ–মাংস যেকোনো কারণে খেতে পারছেন না, তাঁরা কিন্তু খুব সহজেই শিম, বরবটি, মটরশুঁটি, শিমের বিচি থেকে আমিষের চাহিদা পূরণ করতে পারেন। এটি আমিষের খুব ভালো উৎস। এতে আছে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পানি, যা রক্তে কোলেস্টেরল কমায়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। শিশুদের অপুষ্টি দূর করে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। 

তবে যাঁরা কিডনির রোগে ভুগছেন, তাঁরা বেশি শিম খাবেন না।

মুলা

মুলায় প্রচুর পানি থাকায় শরীরকে ডি-হাইড্রেট হওয়া থেকে রক্ষা করে। হজমশক্তি বাড়াতে, হার্ট ভালো রাখতে, শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে, এমনকি ক্যান্সার প্রতিরোধও করে থাকে এই মুলা। মুলার পাতায় ভিটামিন এ–এর পরিমাণ বেশি। প্রচুর বিটা ক্যারোটিন, আয়রন ও ভিটামিন সি আছে। ভিটামিন ‘সি’, জিংক ও ফসফরাস, যা ব্রণজনিত সমস্যা দূর করে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং র‌্যাশ ওঠা থেকে সুরক্ষা দেয়। যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁদের জন্য এটা বেশ ভালো খাবার। মুলায় খুব কম পরিমাণ ক্যালরি থাকে যাতে দীর্ঘ সময় পেট ভরার অনুভূতি জাগায়। 

টমেটো

টমেটো রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসও কমাতে সাহায্য করে। ত্বককে সতেজ রাখে। টমেটোতে লুটিন ও লাইকোপিন নামে কেরাটিনয়েড আছে, যা দৃষ্টি ও চোখের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে। প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে বলে ক্যানসার প্রতিহত করে। টমেটো ভালো করে ধুয়ে খেতে হবে। ম্যালিক ও সাইট্রিক অ্যাসিড বেশি থাকায় অনেক টমেটো একসঙ্গে খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।

ব্রকোলি

ব্রোকলিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ক্যালসিয়াম বিদ্যমান। শীতকালীন সবজি হিসেবে ব্রকোলি বর্তমানে দেশেও চাষ করা হচ্ছে। এটি চোখের রোগ, রাতকানা, অস্থি বিকৃতি প্রভৃতির উপসর্গ দূর করে ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

লাউ

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে লাউকে পথ্য হিসেবে ধরা হয়। লাউ খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে, অনিদ্রার সমস্যাতেও উপকারী এটি। এ ছাড়াও রয়েছে ভিটামিন ‘কে’, ভিটামিন ‘ই’ ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘এ’, ফাইবার,আয়রন, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম ও জিঙ্ক। লাউয়ের জিঙ্ক উপাদানটি আমাদের দেহকে হৃদরোগ থেকে রক্ষা করে। লাউ মূলত পানিপূর্ণ ঠাণ্ডাজাতীয় একটি সবজি। এতে সবচেয়ে বেশি রয়েছে পানি, যা আমাদের দেহকে সহজেই পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করে। 

পালংশাক

পালংশাক উচ্চমানের পুষ্টিগুণসম্পন্ন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এর ক্যারোটিনয়েডস ও শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রস্টেট ক্যানসার ও ওভারিয়ান ক্যানসার প্রতিরোধ করে। পালংশাকে থাকা  প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম ও আয়রন হৃদরোগ ও কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করে। 

যাঁদের ইউরিক অ্যাসিড এর সমস্যা রয়েছে, তাঁরা সপ্তাহে ১ দিন ৩০ গ্রাম করে খেতে পারবেন।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
ম্যালেরিয়া-হলে-যা-খাবেন
রোগের খাবার

ম্যালেরিয়া হলে যা খাবেন

by Dr. Baby Akter 27/09/2023
written by Dr. Baby Akter

প্লাজমোডিয়াম নামের এক ধরনের পরজীবীর সংক্রমণে ম্যালেরিয়া রোগ হয়। মশার কামড় থেকে এ রোগ ছড়ায়। অ্যানোফিলিস জাতীয় স্ত্রী-মশা ম্যালেরিয়া জীবাণুর বাহক। এই রোগে সাধারণত কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে, সেইসঙ্গে মাথাব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি উপসর্গও দেখা দেয়। ম্যালেরিয়াকে মোটেও হালকাভাবে নেবেন না। ম্যালেরিয়ার ফলে শরীর ভেঙে যায়। ফলে সেরে ওঠার সময় পেশি পুনর্গঠন খুবই জরুরি।

ডাক্তারের কাছে তো অবশ্যই যাবেন, পাশাপাশি নিজের রোজকার ডায়েটে এমন কিছু খাবার রাখবেন যা আপনার শরীরকে শক্তি জোগাবে।

দেখে নিন ম্যালেরিয়া হলে কি কি খাওয়া উচিৎ

পুষ্টিকর খাবার

তরল খাবার বেশি করে খাবেন যেমন গ্লুকোজ পানি, আখের রস, ডাবের পানি, লেবুর রস। এমন খাবার যা হজম করতে তেমন সমস্যা হবে না অথচ শরীরে পুষ্টি জোগাবে।

ভেষজ গুণ সম্পন্ন মশলা

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হলুদেরও জুড়ি মেলা ভার। ম্যালেরিয়ার সময় আজওয়ান ভেজানো জল খেলে হজমের সমস্যা মেটে। দুধের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে খাওয়ার কথাও গুরুজনেরা বলে থাকেন। মেথি ভেজানো পানিও পেট ঠান্ডা করে। 

জাম্বুরা

জাম্বুরা সেদ্ধ করে এর রস খেলে ম্যালেরিয়া সেরে যাবে দ্রুতই। এটি ম্যালেরিযার জীবাণু ধ্বংস করে দ্রুত এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। ম্যালেরিযার অব্যর্থ ওষুধ কুইনিন প্রাকৃতিকভাবেই থাকে জাম্বুরায়।  

বাদাম

বাদামে রয়েছে নানা ঔষধি গুণ। ছোট্ট ছোট্ট বাদামে প্রচুর পরিমাণে শক্তির উপাদান থাকে, যা আপনার শরীরকে মজবুত করে।  ম্যালেরিয়ার মধ্যে বাদাম খেলে এটি শরীরকে শক্তি দেয়ার পাশাপাশি জ্বর কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।

দারুচিনি

দারুচিনিতে আছে সিনামেলডিহাইড নামের এক ধরনের উপাদান, যা শরীরের ব্যথাকে কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। ম্যালেরিয়ায় শরীরে যে অসহ্য ব্যথাবোধ হয় সেটি সারাতে সাহায্য করে দারুচিনির গুড়া। 

আদা

ম্যালেরিয়া হোক বা না হোক। রোজকার খাবারের তালিকায় পুষ্টিকর খাবার থাকলে আর নিয়ম মেনে তা খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। আদার রস ম্যালেরিযার ঘন ঘন বমি হওয়ার প্রবণতাকে কমিয়ে আনে। সেইসঙ্গে এটি রোগীর রুচিও বাড়ায়।

ভিটামিন ’এ’ ও ভিটামিন ’সি’ 

ম্যালেরিয়া থেকে সেরে উঠতে ভিটামিন ’এ’ ও ভিটামিন ’সি’ অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই পথ্য হিসেবে ওষুধের মতো করেই বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন খান। পেঁপে, বিট, গাজরের মতো সব্জিতে মেলে ভিটামিন এ। আর বিভিন্ন ধরনের লেবুতে পাওয়া যায় ভিটামিন সি। বিটের রস ম্যালেরিয়া রোগীদের জন্য বিশেষ উপযোগী।

প্রচুর পানি খাওয়া

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন লিটার পানি খাওয়া প্রয়োজন। ম্যালেরিয়ার সময় নিয়ম মেনে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। পানির কোন বিকল্প নেই। 

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
আমলকির পুষ্টি ও ঔষধি গুণাগুণ
ফলের পুষ্টিগুণ

আমলকির যত উপকারী পুষ্টি ও ঔষধি গুণাগুণ

by Dr. Baby Akter 24/09/2023
written by Dr. Baby Akter

আমলকি একপ্রকার ভেষজ ফল। টক আর তেতো স্বাদে ভরা আমলকী গুণে-মানে অতুলনীয়। ফলটি শুধু ভিটামিন আর খনিজ উপাদানেই ভরপুর নয়, বিভিন্ন রোগব্যাধি দূর করায়ও রয়েছে অসাধারণ গুণ। আমলকি গাছের পাতা ও ফল উভয়ই ওষুধরূপে ব্যবহার করা যায়। দেশীয় ফল হিসেবে আমলকি দামে যেমন সস্তা ও সহজলভ্য, তেমনি এর রয়েছে নানাবিধ উপকারিতা।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে, আমলকির  গুণ বর্ণনা করে বলা হয়েছে, দেহের বিভিন্ন রোগব্যাধি দূর করে শরীরের সব ধরনের ক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে

আমলকির পুষ্টি গুণাগুণ :

আমলকির অনেক ভেষজ গুণ রয়েছে। এই গাছের ফল ও পাতা দুটিই ওষুধরূপে ব্যবহার করা যায়। আমলকিতে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ থাকে যা পেয়ারার চেয়ে ৩ গুণ ও কাগজি লেবুর চেয়ে ১০ গুণ, কমলার চেয়ে ১৫ থেকে ২০ গুণ, আপেলের চেয়ে ১২০ গুণ, আমের চেয়ে ২৪ গুণ এবং কলার চেয়ে ৬০ গুণ বেশি। একজন পুর্ণ বয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ দরকার। কেউ যদি দিনে দুটো আমলকি খায় তাহলে সে ঐ পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ পেতে পারে। আমলকি খেলে মুখে রুচিও বাড়ে। 

আমলকির বিভিন্ন ঔষধি গুণাগুণ সমুহ :

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। আমলকী কাঁচা অথবা আচার করে যেভাবেই খাওয়া হোক, এতে উপস্থিত ভিটামিন শরীরে ঠিকই প্রবেশ করে এবং ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে।

চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ করে

আমলকি চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে। আমাদের চুলের গঠনের ৯৯ শতাংশ প্রোটিন। আমলকীতে অ্যামিনো অ্যাসিড ও প্রোটিন আছে, যা চুলের বৃদ্ধিতে কাজ করে। চুলের যত্ন নেওয়ার জন্য এটি একটি অপরিহার্য উপাদান। আমলকীতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং ভিটামিন সি ত্বককে টানটান করতে সহায়তা করে। এক চামচ আমলকী গুঁড়ো নিয়ে গরম পানিতে মিশিয়ে নিন। আপনার মুখটি স্ক্রাব করতে এই পেস্টটি ব্যবহার করুন, পাঁচ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন। আপনি চাইলে পেস্টে কিছুটা হলুদ যোগ করতে পারেন।

ক্ষুধামন্দা দূর করতে আমলকি 

চিকিৎসকেরা বলেন, আমলকীর জুস খেলে পরিপাকতন্ত্র ভালো থাকে এবং হজম ভালো হয়। প্রতিবার খাওয়ার আগে মাখন ও মধুর সঙ্গে আমলকির গুঁড়া মিশিয়ে খেলে ক্ষুধামন্দা দূর হয়।

ব্রণের দাগ দূর করে

আমলকী প্রাকৃতিক উপায়ে ব্রণের দাগ এবং ত্বকের অনান্য কালচে দাগ দূর করতে সহায়তা করে। আমলকীর রস আপনার মুখে লাগান, এবং ৩০ মিনিটের জন্য রেখে দিন। এবার হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আপনার যদি সংবেদনশীল ত্বক থাকে তবে পানির সাথে রসটি মিশ্রণ করুন এবং প্রয়োগ করুন। আরো ভাল ফলাফলের জন্য এই চিকিৎসা মাসে কয়েকবার ব্যবহার করতে পারেন।

গলা ব্যথা এবং ঠান্ডা দূর করতে

আমলকির গুঁড়োর সাথে মধু মিশিয়ে দিনে ৩-৪ বার খেলে তা গলা ব্যথা এবং ঠান্ডা দূর করতে সাহায্য করে। দীর্ঘমেয়াদী কাশি-সর্দির জন্য আমলকির নির্যাস উপকারী।

কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস চিকিৎসায়

আমলকীতে থাকা সলিউবল ফাইবার শরীর থেকে টক্সিক উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে এবং হজমে সাহায্য করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং পাইলস রোগ থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে।

হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে

নিয়মিত আমলকীর জুস খেলে শরীরে কোলস্টেরলের মাত্রা কমে। অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় হৃদ্যন্ত্র ভালো থাকে। 

দেহের চর্বি কমাতে

আমলকীতে উপস্থিত প্রোটিন শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমাতে সাহায্য করে। এটি খেলে হজম শক্তি বেড়ে যায়। ফলে মানুষ মুটিয়ে যায় না। তাই ওজন কমাতে চাইলে প্রতিদিন আমলকি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

রক্ত পরিষ্কার করতে

রক্ত পরিষ্কার করতে আমলকি বেশ কার্যকর। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান যা শরীর থেকে টক্সিন উপাদান সব দূর করে দেয়। নিয়মিত আমলকি খেলে তা রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে।

গলা ব্যথা এবং ঠান্ডা দূর করতে

ভারতের ওজন ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গর্জি শর্মার মতে, মুখের ঘায়ের পাশাপাশি সর্দি-কাশি দূর করতে আমলকীর জুস দারুণ কাজ করে। দুই চা চামচ আমলকীর জুসের সঙ্গে সমপরিমাণ মধু প্রতিদিন খেলে গলা ব্যথা এবং ঠান্ডা-কাশি দূর হয়। এ ছাড়া মুখের ঘা দূর করতে কয়েক চামচ জুস পানির সঙ্গে মিশিয়ে দিনে দুইবার গড়গড়া করলে উপকার পাওয়া যায়। 

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে

গবেষণায় দেখা গেছে যে, আমলকিতে পলিফেনল রয়েছে যা রক্তে অক্সিডেটিভ শর্করা থেকে শরীরকে রক্ষা করে। এটি শরীরে ইনসুলিন শুষে নিতে সাহায্য করে যা ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
আখের রসের উপকারিতা
ফলের পুষ্টিগুণ

আখের রসের উপকারিতা

by Dr. Baby Akter 24/09/2023
written by Dr. Baby Akter

প্রচন্ড গরমের এ সময়ে পানির অভাবে শরীরের অনেক ক্ষতি হয়। তাই শরীরে প্রচুর পরিমাণে পানির প্রয়োজন হয়। শরীরে পানির ঘাটতি মেটাতে পান করতে পারেন আখের রস। আখের রস হল আখের সবচেয়ে বিশুদ্ধতম রূপ। আখের রস ভিটামিন ও মিনারেলের ভালো উৎস। ক্যালোরির পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন এবং ম্যাগনেসিয়াম মেলে এই রস থেকে। এতে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। দেহের টক্সিন নির্মূল করে প্রচুর এনার্জি বুস্ট করবে এই সুস্বাদু পানীয়।

ডায়াবেটিস রোগীরা অতিরিক্ত পরিমাণে খাবেন না আখের রস। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে তারপর খান।

আসুন জেনে নেওয়া যাক আখের রসের উপকারিতা কি

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা : 

আখে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। দেহের টক্সিন নির্মুল করে প্রচুর এনার্জি বুস্ট করে শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে, ফলে অনেক ধরনের অসুস্থতা থেকে শরীর রক্ষা পায়। 

হাড় শক্ত করে : 

আখের রসে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন এবং পটাশিয়াম রয়েছে এসব উপাদান হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। 

এনার্জির ঘাটতি দূর হয় : 

আখের ভেতরে থাকা কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, আয়রন, পটাশিয়াম এবং অন্যান্য উপকারী উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এনার্জির ঘাটতি দূর করে। যারা সারাদিন অফিস করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন তারা ঝটপট এক গ্লাস আখের রস খেয়ে ফেলুন। দেখবেন একেবারে চাঙ্গা হয়ে উঠবেন। 

কিডনির কর্মক্ষমতা : 

আখের রস কিডনি জটিলতা বা স্টোনের মতো সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। প্রসঙ্গত, কিডনি ফাংশনকে ঠিক রাখতেও আখের রসে উপস্থিত একাধিক উপকারী উপাদান এর কোন বিকল্প নেই বললেই চলে।  

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রোধ:

আখে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। দেহে দুর্বলভাবও কমায় আখের রস। ফাইবার কোলেস্টেরলের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

লিভার সুস্থ রাখে: 

লিভারকে সুস্থ রাখতে আখের রস দারুণ কাজে আসে। সেই কারণেই তো জন্ডিসের প্রকোপ কমাতে রোগীকে আখের রস খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। শুধু তাই নয়, শরীরের পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি প্রোটিনের চাহিদা মেটাতেও আখ বিশেষ ভূমিকা রাখে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে: 

ডায়াবেটিসের রোগীরা সাধারণত আখের রস এড়িয়ে চলেন। অথচ বিভিন্ন গবেষণা বলছে, আখের মধ্যে আইসোম্যাল্টোজ নামক উপাদানটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করে। টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার পরিমাণ হঠাৎ নেমে গেলে আখের রস পানে তাৎক্ষণিক উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া হাইপোগ্লাইসিমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে উপকারী আখের রস। তবে কী পরিমাণে আখের রস খেতে হবে তা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে নেয়া ভালো। 

ত্বকের যত্ন: 

আখের রস আমাদের হাইড্রেটেড রাখে। ফলে ভালো থাকে ত্বক ও চুল। এতে থাকা আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড ত্বক ভালো রাখার জন্য সহযোগিতা করে। এছাড়া ব্রণের সমস্যা দূর করণেও সহায়ক আখের রস।

ওজন কমায় : 

এটি শরীরের বিপজ্জনক কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হার্ট ভালো রাখে। আখের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। 

দাঁতের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে : 

আখ চিবিয়ে খেলে দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এছাড়া এতে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত মজবুত রাখে। 

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
জাম্বুরার পুষ্টিগুন ও খাওয়ার উপকারিতা
ফলের পুষ্টিগুণ

জাম্বুরার পুষ্টিগুন ও খাওয়ার উপকারিতা

by Dr. Baby Akter 23/09/2023
written by Dr. Baby Akter

বর্ষার শেষ পর্যায় থেকে শুরু করে শীত আসার আগ পর্যন্ত জাম্বুরার পূর্ণ মৌসুম। বাজারে এই সময়কালে প্রচুর পাওয়া যায় এই ফল। ভিটামিন আর খনিজ উপাদানে পরিপূর্ণ জাম্বুরা খাওয়ার উপকারিতা অনেক। একটি পরিপক্ব জাম্বুরা থেকে ভিটামিন-এ, ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-২, বায়োফ্লাভোনয়েডস, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, হেলদি ফ্যাট, প্রোটিন এবং এনজাইমসের মতো নানা পুষ্টিগুণ যেমন মিলে তেমনি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও এর জুড়ি নেই। জ্বর, ঠান্ডা কিংবা কাশির মতো সমস্যাতেও জাম্বুরা ম্যাজিকের মতো কাজ করে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহায়তা করে।

জন্ডিসের রোগীকে জাম্বুরা বা তার রস খাওয়ানোর একটা প্রথা বহুদিন ধরে চালু আছে আমাদের দেশে। এ কথা আধুনিক বিজ্ঞানও প্রমাণ করেছে যে, জাম্বুরা জন্ডিসের সমস্যায় লিভার টনিক হিসেবে ভালো কাজ করে।

জাম্বুরার পুষ্টি উপাদান সমূহঃ

প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যযোগ্য জাম্বুরায় রয়েছে: খাদ্যশক্তি ৩৮ কিলোক্যালরি, প্রোটিন ০.৫ গ্রাম, স্নেহ ০.৩ গ্রাম, শর্করা ৮.৫ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ১ গ্রাম, থায়ামিন ০.০৩৪ মিলি গ্রাম, খনিজ লবণ ০.২০ গ্রাম, রিবোফ্লেভিন ০.০২৭ মিলি গ্রাম, নিয়াসিন ০.২২ মিলি গ্রাম, ভিটামিন বি-২ ০.০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি৬ ০.০৩৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ১০৫ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ১২০ মাইক্রোগ্রাম, আয়রন ০.২ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৭ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ৬ মিলিগ্রাম, ম্যাংগানিজ ০.০১৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৭ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ২১৬ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ১ মিলিগ্রাম,

জাম্বুরা খাওয়ার উপকারিতা

  • জাম্বুরায় থাকা প্রোটিন এবং ফাইবার দীর্ঘ সময়ের জন্য পেটে থাকে। ফলে বাড়তি ক্ষুধা লাগে না এবং ক্যালোরি গ্রহণ কম হয়। এছাড়া জাম্বুরায় কারনিটিন পামিটয়েলট্রানসফারেজ নামের এক ধরনের উৎসেচক আছে। এটা শরীরের ওজন কমাতে সহায়ক। 
  • আমাদের দৈনিক ফাইবারের চাহিদার বেশ বড় একটি অংশ পূরণ করতে পারে জাম্বুরা। ফাইবার খেলে হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। এছাড়া অন্ত্রে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে ফাইবার। 
  • জাম্বুরা খেলে রক্তে কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ কমে। এতে হৃদরোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব হয়।
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ জাম্বুরা ক্যানসারের মতো রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে। জাম্বুরায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। সেইসাথে অন্যান্য বেশ কয়েকটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগও মেলে ফলটি থেকে।
  • রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে জাম্বুরায় থাকা কিছু উপাদান।
  • জাম্বুরায় থাকা পটাশিয়াম রক্তনালি প্রসারিত করে ও রক্তচাপ কমায়। 
  • সাইট্রাস ফলটিতে থাকা ভিটামিন সি হুট ঘনঘন জ্বর আসা বা সর্দি লাগা প্রতিরোধ করতে সক্ষম। মুখের ঘা সারাতেও এর ভূমিকা রয়েছে। 
  • খাবারের রুচি বাড়াতে জাম্বুরা বেশ কার্যকর। 
  • জাম্বুরায় স্পারমেডিন নামের একটি বিশেষ উপাদান রয়েছে। এটি বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়তা করে।
  • জাম্বুরায় প্রচুর পরিমাণে পানি ও ভিটামিন সি থাকে। ফলে নিয়মিত ফলটি খেলে ভালো থাকে ত্বক। 
  • পেটের সমস্যা দূর করতে কিংবা যারা ডায়েটে আছেন তারাও বেছে নিতে পারেন এ ফলটি।
  • জাম্বুরাতে অন্য যেকোনো লেবুর মতোই প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। ভিটামিন সি-এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এই ছোটখাটো নানা অসুখ-বিসুখের সঙ্গে লড়াই করার শক্তি দেয়।
  • যাদের দাঁতের ব্যথার সমস্যা আছে তাদের জন্যও জাম্বুরা খুবই উপকারী একটি ফল।
  • ঠান্ডা, সর্দি-জ্বর ইত্যাদি সমস্যায় জাম্বুরা বেশ উপকারী। যাদের অল্পতেই ঠান্ডা লাগে, তারা প্রতিদিন জাম্বুরা খেতে পারেন।
  • যারা প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বক ভালো রাখতে চান। তাদের ক্ষেত্রে জাম্বুরা ত্বক উজ্জ্বল করতে, ব্রণের সমস্যা দূর করতে বেশ কার্যকর। 
  • ক্যানসারসহ যাদের ইউরিনের সমস্যা আছে তাদের জন্যও জাম্বুরা উপকারী একটি ফল।

একটু খেয়াল রাখা প্রয়োজন, জাম্বুরা বেশ টক, নিয়মিত খেলে আপনার দাঁতের এনামেলের ক্ষতি হতে পারে। তাই যাদের দাঁত খুব সেনসিটিভ, তারা জাম্বুরা খাওয়ার পর কুলকুচা করে দাঁত পরিষ্কার করে নেবেন । 

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
পেয়ারার পুষ্টিগুণ
ফলের পুষ্টিগুণ

পেয়ারার পুষ্টিগুণ ও খাওয়ার উপকারিতা

by Dr. Baby Akter 23/09/2023
written by Dr. Baby Akter

দেশীয় ফল দামে সস্তা ও সহজলভ্য সারা বছর পাওয়া যায়, এমন একটি ফল পেয়ারা। পেয়ারা ভর্তা, পেয়ারা জেলী নানাভাবে খাওয়া যায় মজাদার এই ফলটি। শুধু ফল নয়, পেয়ারা পাতায়ও রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যা আমলকী ছাড়া অন্য যে কোনো ফলে পাওয়া যায় না। অন্যান্য ফলের তুলনায় পেয়ারার পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরকে বিভিন্ন রোগের সঙ্গে যুদ্ধ করার শক্তি প্রদান করে। প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি ও লাইকোপেনসমৃদ্ধ পেয়ারা। 

পেয়ারার বিশেষ পাঁচটি গুণের মধ্যে রয়েছে, ১. ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী, ২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ৩. চোখের জন্য ভালো, ৪. পেটের জন্য উপকারী এবং ৫. ক্যানসার প্রতিরোধী।

পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা

ডায়াবেটিস রোধে

নিয়মিত পেয়ারা খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। কারণ পেয়ারায় যে আঁশ আছে, তা শরীরে চিনি শোষণ কমাতে পারে।

রোগ প্রতিরোধে

পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি রয়েছে। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরকে বিভিন্ন রোগের সাথে যুদ্ধ করার শক্তি প্রদান করে।

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে

ভিটামিন এ চোখের জন্য উপকারী। এতে থাকা ভিটামিন এ কর্নিয়াকে সুস্থ রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পেয়ারা রাখুন। কাঁচা পেয়ারা ভিটামিন এ এর ভাল উৎস।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পেয়ারা খেলে রক্তচাপ ও রক্তের লিপিড কমে আসে। পেয়ারাতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। লাইকোপিনসমৃদ্ধ গোলাপি পেয়ারা নিয়মিত খেলে তা কার্ডিওভাস্কুলার রোগের ঝুঁকিও কমিয়ে আনতে সহায়তা করে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস

পেয়ারাতে লাইকোপিন, ভিটামিন সি, কোয়ারসেটিন এর মত অনেকগুলো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে যা শরীরের ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধি রোধ করে। এটি প্রোসটেট ক্যান্সার এবং স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

ত্বক ও চুলের পরিচর্যায়

পেয়ারা ত্বকের রূক্ষ ভাব দূর করে ও শীতে পা ফাটা রোধ করে। এই ফলে প্রচুর পরিমাণ পানি থাকে, যা ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। দীর্ঘদিন তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।  

পেটের সমস্যায়

পেয়ারা ফলের রস কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয়সহ পেটের অসুখ সারাতে খুব ভালো কাজ করে। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ বা পেটের গোলযোগে সবচেয়ে কার্যকরী হলো এই ফল। পেয়ারা ওজন কমাতেও সাহায্য করে। 

স্ট্রেস দূর করে

পেয়ারা পেশি আর স্নায়ুর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। চাপ কমায়, শক্তি বাড়ায় ও স্ট্রেস দূর করতে দারুণ কাজ করে। ।

মাসিকের ব্যাথা নিরাময়

অনেক নারীরই মাসিককালিন পেট ব্যাথা হয়। এ সময় অনেকেই ব্যাথার ঔষধ খেয়ে থাকেন। কিন্তু এ সময় পেয়ারার পাতা চিবিয়ে বা রস খেলে মাসিককালিন ব্যাথা থেকে অধিকতর দ্রুত উপশম পাওয়া যায়।

ডায়রিয়া রোধে

ডায়রিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে পারে এই ফল। পেয়ারা খেলে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা কমে। এ ছাড়া এই ফলের রয়েছে ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা।

পেয়ারার ১০টি পুষ্টিগুণ

১. শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-সমৃদ্ধ পেয়ারা পাতার জুস গ্যাস্ট্রাইটিসের সমস্যায় উপকারী।
২. পেয়ারা ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং এই ফলের রস সর্দি-কাশি, কোষ্ঠকাঠিন্য ও আমাশয়সহ পেটের অসুখ সারাতে পারে।
৩. এটি রক্তসঞ্চালন ঠিক রাখে এবং কোলেস্টরেল নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা পেয়ারা খেতে পারেন ৷
৪. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেয়ারা বেশ কাজ দেয়।
৫. এতে আছে যথেষ্ট পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ফলিক অ্যাসিড ও নিকোট্রিন অ্যাসিড।
৬. জটিল শর্করা ও তন্তুসমৃদ্ধ পেয়ারা রক্তের চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক।
৭. অ্যাজমা, স্কার্ভি, স্থুলতা, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ইত্যাদি অসুখের ক্ষেত্রেও পেয়ারা বেশ উপকারী।
৮. এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়, যা কমলালেবুর চেয়েও কয়েক গুণ বেশি।
৯. পেয়ারায় আছে ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স।
১০. বয়সের সঙ্গে জড়িত নানা রোগ যেমন: স্মৃতিভ্রংশ (আলঝেইমার), চোখের ছানি, আর্থরাইটিস বা হাঁটুব্যথা প্রতিরোধে সহায়তা করে।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail

Recent Posts

  • ইফতারের পর চা খেলে কি হয়
  • রমজানে পর্যাপ্ত না ঘুমালে কী হয়
  • মাথা ব্যথার কারন ও মুক্তির উপায়
  • এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 
  • এনাল ফিসার কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

Recent Comments

No comments to show.

আমাদের সম্পর্কে

banner

প্রকৃতির মাঝেই লুকিয়ে আছে নিরাময়ের সকল উপাদান। তাই সুস্থতা ও প্রশান্তির আরেক নাম প্রকৃতি। প্রকৃতির সাথে নিজেকে একাত্ম করুন, প্রাকৃতিক নিয়মেই আপনি সুস্থ থাকবেন প্রশান্ত থাকবেন। প্রকৃতির মাঝে ছড়িয়ে থাকা এই অসংখ্য উপাদান আর তার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সৃষ্টির আদি থেকে এখনো পর্যন্ত মানুষ সুস্থতার যে উপায়গুলি মানব কল্যানে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে সেসব তথ্য উপাত্তকে গুছিয়ে নতুন আঙ্গিকে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ

  • 1

    এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 

  • 2

    শীতকালীন বিভিন্ন রোগ এবং প্রাকৃতিক প্রতিকার

  • 3

    প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া উপায়ে বন্ধ্যাত্ব রোগ নিরাময় করুন

  • 4

    শারীরিক সুস্থতার জন্য শাক-সবজি খাওয়ার সঠিক নিয়ম

Back Next

প্রয়োজনীয় লিংক সমুহ

  • চিকিৎসার ইতিহাস ও গবেষণা
  • প্রসূতি এবং শিশু স্বাস্থ্য
  • গোপনীয়তার নীতি
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • Facebook
  • Twitter
  • Whatsapp

@2023 - All Right Reserved by MIL HOMEO


Back To Top
MIL HOMEO
  • মুল পাতা
  • প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য
    • আয়ুর্বেদ চিকিৎসা
    • ঘরোয়া চিকিৎসা
    • ভেষজ উপাদান
    • ভেষজ চিকিৎসা
  • রোগব্যাধি ও প্রতিকার
    • শারীরিক রোগ
      • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ
      • চর্মরোগ
        • আঁচিল বা তিল
      • জ্বর
        • টাইফয়েড জ্বর
        • ডেঙ্গু জ্বর
        • ম্যালেরিয়া
      • পায়ুপথের রোগ
      • কান পাকা রোগ
      • কৃমি রোগ
      • বন্ধ্যাত্ব রোগ
      • নাসা রোগ
      • শীতকালীন রোগব্যাধি
      • সংক্রামক রোগ
      • সাইনোসাইটিস
      • স্নায়ু রোগ
    • মনরোগ
    • শিশু রোগ
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • সুস্থ জীবনধারা
    • ক্ষতিকর অভ্যাস
    • খাদ্যাভ্যাস
    • তামাক ও মাদক বর্জন
    • পানীয় জল এবং হাইড্রেশন
    • ভালো ঘুমের অভ্যাস
    • রূপচর্চা ও চুলের যত্ন
    • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
    • স্বাস্থ্যকর শখ
  • ব্যায়াম ও ফিটনেস
    • ওজন প্রশিক্ষণ
    • ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা
    • ঘরে বসে ফিটনেস
    • বয়স্কদের ব্যায়াম
    • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
    • স্ট্রেচিং এবং মবিলিটি
  • মানসিক স্বাস্থ্য
    • অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা
    • আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে ভালোবাসা
    • ডিপ্রেশন ও প্রতিকার
    • মানসিক চাপ ও সমাধান
    • মেডিটেশন ও মননশীলতা
    • পরিবার ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য
  • খাদ্য ও পুষ্টি
    • আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
    • ওজন কমানোর খাদ্য পরিকল্পনা
    • ওজন বাড়ানোর পুষ্টি পরিকল্পনা
    • খাদ্য তালিকা এবং পরামর্শ
      • রোগের খাবার
    • পুষ্টিগুণ
      • শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
      • ফলের পুষ্টিগুণ
    • ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
    • স্বাস্থ্যকর রেসিপি
  • হোমিও চিকিৎসা