MIL HOMEO
প্রকৃতির সাথে থাকুন, সুস্থ থাকুন
  • মুল পাতা
  • প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য
    • আয়ুর্বেদ চিকিৎসা
    • ঘরোয়া চিকিৎসা
    • ভেষজ উপাদান
    • ভেষজ চিকিৎসা
  • রোগব্যাধি ও প্রতিকার
    • শারীরিক রোগ
      • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ
      • চর্মরোগ
        • আঁচিল বা তিল
      • জ্বর
        • টাইফয়েড জ্বর
        • ডেঙ্গু জ্বর
        • ম্যালেরিয়া
      • পায়ুপথের রোগ
      • কান পাকা রোগ
      • কৃমি রোগ
      • বন্ধ্যাত্ব রোগ
      • নাসা রোগ
      • শীতকালীন রোগব্যাধি
      • সংক্রামক রোগ
      • সাইনোসাইটিস
      • স্নায়ু রোগ
    • মনরোগ
    • শিশু রোগ
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • সুস্থ জীবনধারা
    • ক্ষতিকর অভ্যাস
    • খাদ্যাভ্যাস
    • তামাক ও মাদক বর্জন
    • পানীয় জল এবং হাইড্রেশন
    • ভালো ঘুমের অভ্যাস
    • রূপচর্চা ও চুলের যত্ন
    • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
    • স্বাস্থ্যকর শখ
  • ব্যায়াম ও ফিটনেস
    • ওজন প্রশিক্ষণ
    • ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা
    • ঘরে বসে ফিটনেস
    • বয়স্কদের ব্যায়াম
    • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
    • স্ট্রেচিং এবং মবিলিটি
  • মানসিক স্বাস্থ্য
    • অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা
    • আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে ভালোবাসা
    • ডিপ্রেশন ও প্রতিকার
    • মানসিক চাপ ও সমাধান
    • মেডিটেশন ও মননশীলতা
    • পরিবার ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য
  • খাদ্য ও পুষ্টি
    • আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
    • ওজন কমানোর খাদ্য পরিকল্পনা
    • ওজন বাড়ানোর পুষ্টি পরিকল্পনা
    • খাদ্য তালিকা এবং পরামর্শ
      • রোগের খাবার
    • পুষ্টিগুণ
      • শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
      • ফলের পুষ্টিগুণ
    • ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
    • স্বাস্থ্যকর রেসিপি
  • হোমিও চিকিৎসা
Author

Dr. Baby Akter

Baby-Akter
Dr. Baby Akter

ডা. বেবী আক্তার, একজন সরকারী রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথ ডাক্তার এবং স্বাস্থ্য, রোগব্যাধি ও পুষ্টি বিষয়ে একজন নিবেদিত লেখক। বিগত ১০ বছর ধরে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সম্পর্কে তথ্য প্রচারের লক্ষ্য নিয়ে আমি কাজ করছি। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে রোগীদের সুস্থতা নিশ্চিত করা এবং তাদের সুস্থ জীবনের জন্য সচেতন করে তোলাই আমার অন্যতম লক্ষ্য। milhomeo.com এ স্বাস্থ্য বিষয়ক নিয়মিত লেখালেখি করে যাচ্ছি, যেখানে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা, রোগ প্রতিরোধ, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা প্রক্রিয়া ও স্বাস্থ্য সচেতনতার উপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আপনারা আমার এই ওয়েবসাইটে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য জানতে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে পারেন।

শিশুর দুধ বদহজম এর সমস্যা দূর করার ঘরোয়া চিকিৎসা
ঘরোয়া চিকিৎসা

শিশুর দুধ বদহজম এর সমস্যা দূর করার ঘরোয়া চিকিৎসা

by Dr. Baby Akter 11/08/2023
written by Dr. Baby Akter

বুকের দুধ বা বোতলের দুধ পান করা শিশুদের অনেক সময় দুধ হজম হয় না, খাওয়া মাত্র বমি করে দেয়। তা স্বাস্থের জন্য মারাত্নক ঝুঁকিপূর্ণ। এতে তাদের পুষ্টির অভাব হয়ে স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যেতে পারে। কিছু ঘরোয়া চিকিৎসার মাধ্যমে সহজে শিশুর  দুধ বদহজম এর এই সমস্যার প্রতিকার করা যায়। 

যদি দুধ বদ হজমের পাশাপাশি অন্যান্য উপসর্গও লক্ষ্য করা যায় এবং ঘরোয়া প্রতিকার কোন কাজ না করে, তাহলে অবিলম্বে কোন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহন করুন।

শিশুর দুধ বদহজম সমস্যা প্রতিকারের ঘরোয়া পদ্ধতিসমুহ

  • ২০০ গ্রাম দুধ গরম হওয়ার পর তাতে ২-৩ দিন বা ১ গ্রাম পরিমান পিপল বা পিপলু ফুটতে দিন। দুধ ফুটে উঠলে দানা গুলো তুলে ফেলে দিন। এই পিপলু ফুটন্ত দুধে দিলে দুধের দোষ নষ্ট করে দেয় এবং দুধ সুপ্রাচ্য হয়ে যায়। এতে দুধ হজম হওয়ার ফলে বাচ্চারা আর বমি করে না। 
  • বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর আগে মা নিজে এক গ্লাস পানি পান করে নেন তাহলে বাচ্চাদের দুধ সহজে হজম হয় ফলে মুহুর্তে পায়খানা বা বমি হয় না।  
  • মায়েদের কান্নাকাটি বা ক্রোধের সময় বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত নয়। এতে বাচ্চার দুধ হজমে সমস্যা হয়।   
  • ছোট পিপলু দুধে ফুটিয়ে ছেঁকে নিয়ে বাচ্চাদের খাওয়ালে বাচ্চাদের লিভার ও প্লীহা ভালো থাকে।  
  • প্রতিদিন কয়েক চামচ জিরা পানিতে ফুটিয়ে ছেঁকে নিয়ে শিশুকে খাওয়ালে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বদ হজম থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। জিরার হজমে সাহায্য করে এবং অ্যাসিডিটি এবং গ্যাস হওয়ার সম্ভাবনাও  হ্রাস করে। 
  • শিশুকে দুধ খাওয়ানোর আগে এক চামচ নারকেল তেল গরম পানির মিশিয়ে দিনে তিন বার খাওয়ান। এতে আপনার শিশুর দুধ বদ হজমের সমস্যা দূর হবে। নারকেল তেলের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
  • এক কাপ দুধে আধ চামচ মৌরি মিশিয়ে ফোটালে দুধ সহজ প্রাচ্য ও হালকা হয়ে যায়।  
  • দুধে একটা এলাচ খোসা ও দানা আলাদা করে দিয়ে ফুটিয়ে নিলে দুধের দোষ নষ্ট হয়ে যায়।  
  • প্রতিদিন দুধের বদহজম হলে রোজ সকালে বিশুদ্ধ পানিতে পরিমান মত লবন আর লেবুর রস মিশিয়ে পান করালে দুধ বদ হজমের সমস্যা তাড়াতাড়ি দূর হয়ে যাবে। 
0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
ঘরোয়া চিকিৎসায় কৃমি প্রতিকার
ঘরোয়া চিকিৎসা

ঘরোয়া চিকিৎসায় কৃমি প্রতিকার

by Dr. Baby Akter 11/08/2023
written by Dr. Baby Akter

কৃমি হচ্ছে একরকমের পরজীবী প্রাণী, যা ড্রাকুনকুলিয়াসিস, বা গিনি ওয়ার্ম ডিজিজ (GWD) নামেও পরিচিত। পরজীবী হল এমন একটি প্রাণী যা মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর দেহে বাস করে সেখান থেকে খাবার গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। কোন সংক্রামিত প্রাণী যেমন, গরু, শূকর বা মাছ  রান্না করা মাংস খাওয়া, দূষিত পানি, দূষিত মাটির ব্যবহার ও নোংরা পরিবেশে বসবাসের ফলে অন্ত্রে কৃমি সংক্রামিত হয়।  

কৃমি শরীরে থাকলে প্রতিদিনই বেশ কিছু পরিমাণ রক্ত হারিয়ে যায়। পেটে কৃমির আধিক্যে অন্ত্রনালীর পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া অন্ত্র ফুটো করে মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। তাই কৃমি প্রতিরোধে আমাদের যথেষ্ট সচেতন থাকতে হবে।

কয়েকটি ঘরোয়া উপায়ে পেটের কৃমি দূর করা যায়। যেমন –

  • মৌরি চুর্ণ করে ১/৪ ভাগ মধু মিশিয়ে দিনে ২ বার করে খেতে দিন। এতে যে কোন কৃমি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।  
  • জোয়ান ৩-৩ দানা পানের সাথে খান এর ফলে কৃমি মরে যাবে।  
  • কালো জিরা গুড়ো মিশিয়ে খেতে দিন, এতে যে কোন কৃমি নিমূর্ল হবে।  
  • কাঁচা রসুন অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। সকালে খালি পেটে  ২/৩ কোয়া কাঁচা রসুন খান। এভাবে কিছুদিন দিন সকালে নিয়মিত দুই-তিনটি করে কাঁচা রসুন চিবিয়ে খেলে কৃমি মরে যায়। প্রায় ২০ ধরনের ব্যাকটেরিয়া এবং ৬০ ধরনের ফাঙ্গাস মেরে ফেলতে পারে রসুন।
  • অতিস ও ভায়বিড়ং এর সমভাগ ১২০-২৫০  গ্রাম মাত্রায় মায়ের দুধের সাথে মিশিয়ে খাওয়ালে শিশুদের পেটের কৃমি দূর হয়।  
  • ১২০-২৫০ মি.লি. গ্রাম বচ দুধের সাথে মিশিয়ে খাওয়ালে শিশুদের পেটের কৃমি নষ্ট হয়ে যায়। 
  • পাকা পেঁপের বীজ গুঁড়ো করে মধুর সাথে মিশিয়ে খেতে দিন। এতে যেকোনো ধরনের কৃমি মির্মূল হয়। তাই ভালো ফল পেতে মধুর সাথে পাকা পেঁপেও খাওয়া যেতে পারে।
  • কলা গাছের শেকড় শুকিয়ে চুর্ণ গুঁড়ো করে নিন। ২ মাশা পরিমান চুর্ণ গরম পানি সাথে খেতে দিন। এতে পেটের  কৃমি বেরিয়ে যাবে এবং পরে কৃমি হওয়ার সম্ভবনা কমে যাবে।  
  • এক চা চামচ শসার বীজ গুঁড়ো করে কাঁচা হলুদের সাথে মিশিয়ে খেলে পেটে ফিতাকৃমি থাকলে তা মরে যায়। 

 এভাবে ঘরোয়া বা প্রাকৃতিক উপায় অবলম্বন করেও কৃমি দূর না হলে চিকিৎসকের পরামর্শে পুরো পরিবার এক সাথে কৃমির ওষুধ সেবন করতে হবে । 

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার কারণ,প্রতিকার এবং চিকিৎসা
স্নায়ু রোগ

স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার কারণ, প্রতিকার এবং চিকিৎসা।

by Dr. Baby Akter 09/08/2023
written by Dr. Baby Akter

স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া কোন মানসিক রোগ নয় । এটি অ্যালঝেইমার ডিজিজ যা ডিমেনশিয়ার একটি সাধারণ রূপ , ব্রেনের ক্ষয়জনিত রোগ । এটি রোগীকে দৈনন্দিন কাজ করতে , বন্ধু-বান্ধব , আত্নীয়-স্বজনকে চিনতে এবং কোনো কথা বুঝতে বাধা দেয়। সাধারণত , প্রবীণদের ক্ষেত্রে এই রোগ বেশি দেখা যায় হঠাৎ করে কোন কথা মনে রাখতে পারছেন না । ফলে তার দৈনন্দিন জীবন অচল এবং অস্বাভাবিক হয়ে পড়।

মানসিক রোগ হলো সেটাকে বলা যেখানে মস্তিষ্কের কাঠামো (ব্রেন স্ট্রাকচার) স্বাভাবিক কিন্তু আচরণ অস্বাভাবিক থাকে। অ্যালঝেইমার ডিজিজ যা ব্রেনের ক্ষয়জনিত কারণে ব্যক্তির বুদ্ধি , স্মৃতি ও ব্যক্তিত্ব ধিরে ধীরে লোপ পায় ।

স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া বা আলঝেইমারস রোগের ইতিহাস

১৯৬০ সালে ডা. এলইস আলঝেইমারস রোগ সর্বপ্রথম এই রোগের গবেষণা করেন । আগস্তির দেতার নামের ব্যক্তির স্মৃতিগত দুর্বলতা ,কথা বলতে কষ্ট হওয়া , সঠিক শব্দটি স্মরণ করতে না পারা , খিটখিটে মেজাজ , রাগ ,অসহিষ্ণুতা, সন্দেহপ্রবণতা ইত্যাদি সমস্যায় ভুগছিলেন। দেতার এর মৃত্যুর পর তিনি দেখলেন যে , তার মস্তিষ্ক ছিল চুপসে যাওয়া ছোট আকারের স্নায়ুতন্ত্র গুলো স্নায়ুতন্তুগুলো এমাইলয়েড প্ল্যাক দ্বারা মারাত্মকভাবে আক্রান্ত আর অবশিষ্ট নিউরনগুলো নিউরোফিব্রিলারি ট্যাঙ্গেলে ভরপুর। 

পরবর্তীকালে ডা. এলইস আলঝেইমার নাম অনুসারে এই রোগের নামকরণ করা হয় আলঝেইমারস রোগ।

উন্নয়নশীল বিশ্বে ক্রমান্বয়ে গড় আয়ু বাড়ার পাশাপাশি এই রোগের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। ৬০ বছর বয়সের পর থেকে  আলঝেইমার হওয়ার আশঙ্কা দ্বিগুণ হতে থাকে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং নারীদের মধ্যে এর প্রকোপ বেশি।

স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার কারণ

চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, বংশ ও জিনগত,পরিবেশগত কারণ এবং জীবনযাপনের ধরন ইত্যাদি। আমাদের  মস্তিষ্কে নন-এনজাইমেটিক গ্লাইকেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অ্যাডভান্সড গ্লাইকেশন অ্যান্ড প্রডাক্ট জমা হওয়া। এগুলো নিউরন এবং সেগুলোর আন্তসংযোগ নষ্ট করে দেয়। ফলে বিশেষ ধরনের প্রোটিন মস্তিষ্কের কোষে জমা হয়ে ক্ষতি সাধন করে। গ্লুকোজ  এর পরিমাণ স্বাভাবিক থাকলে ধীরগতিতে এবং বেশি থাকলে দ্রুতগতিতে এসব পরিবর্তন ঘটতে থাকে। এতে ধীরে ধীরে ব্যক্তি আলঝেইমারস রোগে আক্রান্ত হয় ।

এ ছাড়াও আরো কিছু কারণ রয়েছে যেমন 

  • স্ট্রেস অথবা অ্যাংজাইটির কারণে শরীরের মতো মস্তিষ্কও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এতে ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে স্মৃতিশক্তি।
  • রাতে না ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে সেটি মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। এতে ধীরে ধীরে কমতে থাকে স্মৃতিশক্তি।
  • ভিটামিন বি ১ এবং বি ১২ এর অভাবে এমনটি হতে পারে।
  • মেনোপজের সময় হরমোনের পরিবর্তন হয়। এ সময়েও অনেকে ভুলে যাওয়ার রোগে ভুগতে পারেন।
  • দীর্ঘমেয়াদি ডিপ্রেসন বা হতাশার কারণে লোপ পেতে পারে স্মৃতি।
  • অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে কমতে পারে স্মৃতি ধারণ ক্ষমতা।
  •  মস্তিষ্কে আঘাত লাগলে  স্মৃতিশক্তি কমে যেতে বা স্মৃতি নষ্ট হয়ে যেতে পারে । 

 চিকিৎসা এবং প্রতিকার

 নানা রকম জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি একই সঙ্গে আলঝেইমারস রোগেও ভুগতে পারেন। কিছু ওষুধ রোগীর স্মৃতিশক্তি অল্প কিছুদিন ধরে রাখতে সাহায্য করে বটে, তবে সময়ের সঙ্গে কার্যকারিতা হ্রাস পায়। 

সেক্ষত্রে আমরা জীবনাচরণের ধরণ পরিবর্তনের মাধ্যমে  স্মৃতিশক্তি ধরে  রাখতে পারি।  যেমনঃ  

  • ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করলে দেহের পেশির সাথে সাথে মস্তিষ্কের আকারও বৃদ্ধি পায়। ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কের সিন্যাপসের সংখ্যা বাড়ে। এর ফলে মস্তিষ্কে নতুন নতুন কোষ তৈরি হয়। আর কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়ামের ফলে মস্তিষ্কে বেশি হারে অক্সিজেন এবং গ্লুকোজ সরবরাহ হয়। ফলে স্মৃতিশক্তি প্রখর থাকে। 
  • স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর  জন্য সঠিক খাবার গ্রহণ করুন। মস্তিষ্কের কোষ ফ্যাট অর্থাৎ স্নেহ পদার্থ দিয়ে তৈরি। তাই খাবার থেকে তেল-চর্বি একেবারে বিদায় না করাই ভাল। বাদাম, তেলের বীজ, মাছ ইত্যাদি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে জন্য ভাল। আর খাবার সময় একা একা না খাওয়াই ভাল। সবার সাথে বসে খাবার খেলে তা মস্তিষ্কের জন্য সুফল বয়ে আনে।
  • মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ মস্তিস্কের জন্য খুবই খারাপ তাই মস্তিষ্ককে অবসর দিয়ে, এবং নিজেকে মূলত: সুইচ অফ করে, আপনি আপনার মস্তিস্কের ভিন্ন একটি অংশকে ব্যায়াম করার সুযোগ করে দেয়া প্রয়োজন। এতে দেহের স্ট্রেস হরমোন কমাতে সাহায্য করবে।
  • সুরের মাধ্যমে জেগে ওঠে মস্তিষ্ক। বাড়ে মেধা। সঙ্গীত ডিমেনশিয়ার মত মানসিক অবস্থা ঠেকাতে বেশ কার্যকরী। তাই স্মৃতিশক্তি প্রখর রাখতে সুর এবং সঙ্গীতের মাঝে নিজেকে আবদ্ধ রাখুন।
  • দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার কম ঘুম হলে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। আর ১০ ঘণ্টার বেশি ঘুম হলে মস্তিষ্ক সজাগ হওয়ার সময় পায় না। দিনের শুরুর সাথে তাল মিলিয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠুন। এটি মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী এবং স্মৃতিশক্তিও ভালো রাখে।

স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার রোগের  ঘরোয়া চিকিৎসা

এছাড়াও আমরা দৈনন্দিন জীবনে নিমোক্ত উপায়ে ঘরোয়া চিকিৎসার মাধ্যমে  আলঝেইমার রোগ বা স্মৃতিশক্তি হ্রাসের চিকিৎসা করতে পারি। যেমনঃ  

  • ৭ দানা কাঁচা বাদাম সন্ধ্যাবেলায় কাচের  বাসনে ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে বাদামের লাল খোসা ছাড়িয়ে মিহি করে বেটে নিন. এই বাদাম বাটা ২৫০ গ্রাম দুধে দিয়ে দিন দুধটা দুই/তিন বার ফেঁপে উঠলে নামিয়ে ১ চামচ ঘি ২ চামচ  বা চিনি বা মিছিরি গুড দিয়ে ঠান্ডা করে নিন.খাওয়ার মতো গরম থাকা অবস্থায় সেবন করুন।এভাবে ১৫ থেকে ৪০ দিন নিয়মিত পান করুন। এটি স্মৃতিশক্তি বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকরী প্রাকৃতিক চিকিৎসা।
  • সকালে এই দুধ খাওয়ার পর দু’ঘন্টা অন্য কিছু খাওয়া বা পান বিরত থাকতে হবে ।
  • বাদামকে মিহি করে পিষে নিলে তা হজম করতেও সুবিধা হয় এবং অল্প বাদামেও কাজ হয়.

স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া বা আলঝেইমারস রোগীর জন্য পরামর্শ

অ্যালঝেইমার ডিজিজে  আক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্ক স্মৃতিশক্তি হারালেও অনুধাবনের শক্তি, ইগো, সম্মানবোধ এবং ব্যক্তিত্ব হারান না। তিনি কোনো অবহেলা, অযত্ন বা দুর্ব্যবহার আশা করেন না। নিজের অক্ষমতার জন্য তিনি উৎকণ্ঠিত, উদ্বিগ্ন থাকেন এবং অসহায় বোধ করেন। তাদের সঙ্গে বিনা কারণে দুর্ব্যবহার না করে প্রিয়জন ও আপন জনদের  বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে। ওষুধের পাশাপাশি সেবা ও পরিচর্যা, ভালোবাসা, পারিবারিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক ভাবে তাদেরকে সাহায্যের হাত বাডিয়ে দিতে হবে।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
ব্রণের-ঘরোয়া-চিকিৎসা
ঘরোয়া চিকিৎসা

ব্রণের ঘরোয়া চিকিৎসা

by Dr. Baby Akter 09/08/2023
written by Dr. Baby Akter

সব বয়সের মানুষই ব্রণের সমস্যায় ভোগে। বেশিরভাগ মানুষই অনেক চেষ্টা করেও এর থেকে মুক্তির উপায় খুঁজে পান না। কিছু ঘরোয়া উপায়ে আমরা সহজে সমাধান  করতে পারি  ব্রণ সমস্যার সমাধান। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেসব কার্যকরী ঘরোয়া উপায়।

  • কমলালেবুর খোসা রোদে শুকিয়ে মিহি করে চূর্ণ করে সেই সাথে সম পরিমান বেসন দিয়ে কিছু পানি দিয়ে ভালো ভাবে মিক্স করে মিশ্রণটি ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর আলতোভাবে ব্রণের উপর লেপন করুন। ১০ মিনিট পর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ব্রণের সমস্যা দূর হয়ে যাবে। 
  • মুলতানি মাটির সাথে সমপরিমাণ  কমলালেবুর খোসার চূর্ণ এবং পানি মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে আলতোভাবে ব্রণের উপর লাগিয়ে ১০-১২ মিনিট পর শুকিয়ে আসলে ধুয়ে ফেলুন। এটি ব্রণ দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী।
  • কমলালেবুর খোসার চূর্ণ গোলাপ জলে মিশিয়ে পেস্ট করে সাবানের পরিবর্তে ২-৩ দিন দিন অন্তর অন্তর লাগান। ব্রণের সমস্যা সহজে দূর হয়ে যাবে। বসন্তের দাগ দূর করতে এটি খুব কার্যকরী। 
  • প্রতিদিন সকালে বাসি মুখের থুথু ব্রণের উপর  লাগান এটি অত্যন্ত ফলপ্রদক পদ্ধতি ব্রণ দূর করার জন্য।
  • মুনাক্কা (Black Grape) পরিষ্কার করে ধুয়ে রাতে ৬০ গ্রাম পানিতে ভিজিয়ে  রাখুন।সকালে ঐ  মোনাক্কার বীজ ফেলে চিবিয়ে খেয়ে নিন।  প্রায় ১ এক মাস খেলে ব্রণ চলে যাবে।
  • একটা পাত্রে  গরম পানি নিয়ে চোখ বন্ধ করে ২-৩ মিনিট ভাপ নিন। এটি নিয়মিত ১৫-১৬ দিন করলে দ্রুত ব্রণ দূর হয়ে যায়।
  • রাতে ঘুমানোর আগে টুথপেস্টের প্রলেপ লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন। সকালে উঠে দেখবেন, ব্রণে অনেকটা শুকিয়ে গেছে। এতে একদিনের মধ্যেই শুকিয়ে যায় ব্রণ।
  • দুই টেবিল চামচ মধুর সঙ্গে এক চা চামচ দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে ব্রণের ঠিক উপরে লাগিয়ে সারারাত রেখে দিতে পারেন। সহজে ব্রণ নির্মূল হবে।  
  • এক চামচ অ্যালোভেরার সঙ্গে চার-পাঁচটি করে তুলসী ও নিমপাতা পেস্ট করে নিয়মিত খেলে ব্রণের সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়। 
  • অত্যাধিক যৌন ভাবনায় মুখে ব্রণ উঠে তাই যৌন উদ্দীপক বই, সাহিত্য ,ছবি , সিনেমা ইত্যাদি দেখা থেকে বিরত থাকুন এবং মনকে শান্ত,পরিছন্ন ও পবিত্র রাখুন।
0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
ডেঙ্গু-জ্বর-কারণ-লক্ষণ-রোগ-নির্ণয়-ও-চিকিৎসা
ডেঙ্গু জ্বর

ডেঙ্গু জ্বর কারণ, লক্ষণ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

by Dr. Baby Akter 09/08/2023
written by Dr. Baby Akter

সম্প্রতি বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রভাব উদ্বেগজনক হরে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানত প্রাক-গ্রীষ্ম এবং বর্ষা সময়ে এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। ডেঙ্গু সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি থাকে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত যায়। প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ ডেঙ্গু সংক্রমণ ঘটে। সময় এবং অঞ্চল-বিশেষে এই রোগ মহামারির আকারও ধারণ করে। বিনা চিকিৎসায়, ভুল চিকিৎসায়, এবং দেরিতে চিকিৎসার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হয়। তাই অনতিবিলম্বে ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ, নির্ণয়, চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ব্যাপারে সতর্ক হওয়া আবশ্যক।

আপনার আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে এবং ছোট ছোট কিছু বিষয়ে সচেতন থাকলে ডেঙ্গুজ্বর থেকে যেমন মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে তেমনি আপনার আশপাশের মানুষরাও থাকবে সুস্থ ।

ডেঙ্গু কি ?

ডেঙ্গি ভাইরাসে সংক্রমণের ফলে ডেঙ্গু জ্বর হয়। ডেঙ্গু হলো এডিস গোত্রের স্ত্রী মশাবাহিত এক ধরনের ভাইরাস, যা ডেঙ্গি নামে পরিচিত। সংক্রমিত মশার সংস্পর্শে আসা সব বয়সের মানুষই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এই মশাগুলি গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলে বেশী জন্মায়, যা এই অঞ্চলে ডেঙ্গু জ্বরকে একটি উল্লেখযোগ্য জনস্বাস্থ্য ঝুকিপুর্ন করে তোলে। কোন আক্রান্ত মানুষ থেকে আরেক মানুষে এই রোগ ছড়ায় না। তবে সংক্রমিত মানুষটিকে কামড়ানোর ফলে আক্রান্ত মশা অন্য মানুষকে কামড়ালে তখন সেই মানুষটি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়।

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ

ডেঙ্গু জ্বর হালকা থেকে গুরুতর  বিভিন্ন ধরণের লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। তার মধ্যে বিশেষ লক্ষন গুলো  হলো :

  • প্রচণ্ড জ্বর
  • বমিভাব
  • তীব্র মাথাব্যথা
  • অনিয়ন্ত্রিত পায়খানা 
  • পেশি ও অস্থিসন্ধিতে গুরুতর ব্যথা
  • ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ (যা ক্ষতের মতো দেখাতে পারে)
  • হালকা রক্তপাত (যেমন নাক ও মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া)।
  • মাথাঘোরা
  • জয়েন্ট এবং মাংস পেশীতে ব্যথা
  • বিরক্তি এবং অস্থিরতা

ডেঙ্গুর গুরুতর মাত্রাগুলোর মধ্যে রয়েছে ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর বা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম নামে একটি গুরুতর আকারে ধারণ করতে পারে। মানুষের শরীরের রক্তনালীগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্তপাত, যে কোন অঙ্গের ক্ষতি এবং শেষ পর্যন্ত রোগীর মৃত্যু হতে পারে।

সাধারণত যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এবং আগে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিল তাদের মধ্যে ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে .

ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা

ডেঙ্গু সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। ডেঙ্গুর চিকিৎসার বিশেষ কোন ওষুধ বা প্রতিষেধক এখনো পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি। বিশ্বব্যাপী গবেষক ও বিজ্ঞানীরা ডেঙ্গু জ্বরের নতুন চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক কৌশল উদ্ভাবনের দিকে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়েছে এবং ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে। তবে  তাৎক্ষণিক জ্বর ও ব্যথা উপশমের জন্য ডাক্তাররা টাইলেনল বা প্যারাসিটামল প্রেসক্রাইব করে থাকেন। এছাড়াও ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধের জন্য প্রচুর পরিমাণে তরল পান করা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম করা উচিত।

ডেঙ্গু জ্বরের তিনটি ধরন বা ক্যাটাগরি আছে—‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’। এ ক্যাটাগরির রোগীরা অনেকটাই । অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগী ‘এ’ ক্যাটাগরির। তাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই তারা বাড়িতে বিশ্রাম এবং পারিবারিক পরিচর্যার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।

বি ক্যাটাগরির ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে যাদের অন্তঃসত্ত্বা, ডায়াবেটিস,  জন্মগত সমস্যা, স্থূলতা,বমি,পেটে ব্যথা, কিডনি বা লিভারের সমস্যা রয়েছে তাদের হাসপাতালের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। তবে সি ক্যাটাগরির ডেঙ্গু জ্বর অত্যন্ত বিপদজনক।  এতে ,মস্তিষ্ক ,কিডনি, লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে রোগীকে অতি দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে নিবিড় পরিচর্যা অথবা আইসিইউতে রাখতে হবে.

ডেঙ্গু জ্বরের ঘরোয়া  চিকিৎসা

  • পর্যাপ্ত বিশ্রামে থাকতে হবে।
  • ভিটামিন সি (সাইট্রাস ফল, বেরি এবং শাক-সবজিতে পাওয়া যায়)।
  • প্রচুর তরলজাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। লেবুর শরবত, ডাবের পানি, ফলের জুস এবং একটু পরপর খাবার স্যালাইন পান করুন।
  • ডেঙ্গু জ্বর অনুভব হলে প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক এবং স্বাভাবিক ওজনের একজন ব্যক্তি প্রতিদিন সর্বোচ্চ আটটি প্যারাসিটামল খেতে পারবে। যদি কোনো ব্যক্তির যদি লিভার, হার্ট এবং কিডনি–সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরণের জটিলতা থাকে, তাহলে প্যারাসিটামল সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
  • আয়রন (মাংস, মটরশুঁটিতে পাওয়া যায়),পেঁপে, ওটমিল (সহজপাচ্য কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ) ইত্যাদি খাবারের কিছু পুষ্টি উপাদান ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের জন্য বিশেষ ভাবে উপকারী হতে পারে।
  • ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে গায়ে ব্যথার জন্য ক্লোফেনাক,অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন–জাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না। ডেঙ্গুর সময় এ–জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করলে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
  • পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে,যা ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এক কাপ পেয়ারার রস দিনে ২ বার পান করা যেতে পারে। অথবা তাজা পেয়ারা খেলেও ভালো প্রতিকার পাওয়া যায়।
  • এক কাপ গরম পানিতে কিছু মেথির বীজ ভিজিয়ে রেখে তা ঠান্ডা করে দিনে ২ বার করে পান করলে জ্বর কমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে উপকার পাওয়া যায়.ভিটামিন সি, কে এবং ফাইবার সমৃদ্ধ মেথির পানি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। 
  • প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে লেবু, কমলা, জাম্বুরার মত সাইট্রাস জাতীয় ফল, রসুন, বাদাম, এবং হলুদ রাখা যেতে পারে। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী থাকলে ডেঙ্গু থেকে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

ডেঙ্গু জ্বরের প্রতিরোধ, প্রতিকার এবং করণীয়

এই রোগ প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হলো সংক্রামিত মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা। এর জন্য মশার বংশ বিস্তারের সব রকম পরিবেশ সমূলে ধ্বংস করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায়গুলো হলো-

  • বাড়ির চারপাশে জল জমতে দেবেন না। জমা জলে মশারা বংশবিস্তার করে। জল জমতে না দিয়ে মশার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সপ্তাহে অন্তত একবার জল জমতে পারে এমন জায়গা পর্যবেক্ষণ করুন। এবং গাছের টব, ফুলদানি, পরে থাকা গাড়ির টায়ারের জমে থাকা জল ফেলে দিন। 
  •  সন্ধ্যার আগে আগেই জানালা ও দরজা লাগিয়ে দেয়া। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা।
  • ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী মশা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। এই সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন। 
  • বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম রাখতে পারেন সঙ্গে।
0 comments
6 FacebookTwitterPinterestEmail
সাইনোসাইটিস-এর-কারণ-লক্ষণ-ও-চিকিৎসা
সাইনোসাইটিস

সাইনোসাইটিস এর কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

by Dr. Baby Akter 09/08/2023
written by Dr. Baby Akter

মানুষের নাকের আশপাশে  প্রায় আটটি সাইনাস থাকে। ম্যাক্সিলারি সাইনাস, স্পেনয়েড সাইনাস, ইথময়েড সাইনাস এবং ফ্রন্টাল সাইনাস নামে নাকের দুই পাশে দুটি করে সাইনাস থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হচ্ছে ম্যাক্সিলারি সাইনাস। যদি কোনো কারণে সাইনাসের কোষগুলোতে কোনো প্রকার প্রদাহ হয় বা ফোলে যায়, তখন এটাকে সাইনোসাইটিস বলে। নাকের আশপাশের এই হাঁড়গুলোর ভেতরে কিছু গহ্বর বা কুঠুরি রয়েছে, যা বাতাসে পূর্ণ থাকে। প্রধানত শরীরে বাতাস চলাচলে সাহায্য করে থাকে এই অঙ্গটি। যখন ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, ভাইরাস সংক্রমণ, ছত্রাক (ফাঙ্গাল) সংক্রমণ এবং অ্যালার্জির কারনে প্রকোষ্টগুলির ভিতরের আস্তরণকারী টিস্যুতে প্রদাহের সৃষ্টি হয়, টিস্যু গুলি ফুলে যায় তখন সাইনোসাইটিসের সমস্যা সৃষ্টি হয়।

প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম—কথাটি সাইনোসাইটিসের ক্ষেত্রে অনেকটাই প্রযোজ্য। একটু সচেতন হলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিভিন্ন প্রকার সাইনোসাইটিস

সময়ের ওপর নির্ভর করে প্রদাহ কতক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে সেটির ওপর নির্ধারণ হয় (তীব্র, সাব-একিউট, দীর্ঘস্থায়ী বা পুনরাবৃত্ত-তীব্র) এবং কি কি  কারণে (ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক সংক্রমন) প্রদাহের সৃষ্টি হয়েছে সেই অনুসারে সাইনোসাইটিস কে বিভিন্ন প্রকারে ভাগ করা হয়। 

  • অ্যাকিউট সাইনোসাইটিস : এর উপসর্গগুলো সাধারণত ২-৪ সপ্তাহ থাকে।
  • সাব-একিউট সাইনোসাইটিস : এ ক্ষেত্রে উপসর্গগুলো ৪-১২ সপ্তাহ থাকে।
  • ক্রনিক সাইনোসাইটিস : লক্ষণগুলি কমপক্ষে ১২ সপ্তাহ স্থায়ী হয়। সাধারণত ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে ঘটে। পুনরাবৃত্ত-তীব্র সাইনোসাইটিসের লক্ষণ গুলি এক বছরে ৪ বা তার বেশি বার ফিরে আসে। সাধারণত প্রতিবার ২ সপ্তাহের কম সময়ের জন্য স্থায়ী হয়।

সাইনোসাইটিসের কারণ সমূহ

বিভিন্ন কারনে সাইনাসের প্রকোষ্ঠ গুলিতে তরল (মিউকাস) পদার্থ জমে এবং প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। নাকের ভেতরের শিরা (ভেইন), মিউকাস মেমব্রেন ফুলে গিয়ে নাকের ভেতরে ব্লক তৈরি করে। এর একটি অ্যালার্জিক রাইনাইটিস। সাধারণত নাকের মিউকাস মেমব্রেনের প্রদাহ ও ফুলে যাওয়াকেই রাইনাইটিস বলা হয়। 

তাছাড়া আরো কিছু কারণ রয়েছে যেমন :

  • ভাইরাস সংক্রমণ , ছত্রাক সংক্রমণ ,সাইনাস প্রকোষ্ঠে অ্যালার্জি ,সাধারণ সর্দি ইনফ্লুয়েঞ্জা এর কারণে। 
  • ঠান্ডাজনিত সাইনোসাইটিস হতে পারে।
  • মরাক্সেলা ক্যাটারেলিস ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ । 
  • স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনিয়া ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ । 
  • কারও নাকে যদি মাংস বেড়ে যায়, পলিপ থাকে কিংবা নাকের হাড় বাঁকা থাকে, তাদের সাইনাসের সমস্যা হতে পারে।
  • হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ।
  • টনসিলাইটিস ও এডিনয়েডে সংক্রমণও একটি কারণ

সাইনোসাইটিসের লক্ষণ ও উপসর্গ

  • নাক থেকে ঘন, বিবর্ণ স্রাব (নাক দিয়ে জল পড়া), নাকের প্রদাহ , নাক দিয়ে শ্বাস নিতে অসুবিধা। 
  • গলায় শ্লেষ্মা জমা হওয়া (পোস্টনাসাল ড্রিপ), কাশি।
  • মাথার সামনের অংশে ব্যথা। মুখে ব্যথা, মাথা ভার ভার অনুভব হওয়া।
  • ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া, নিশ্বাসের সময় ব্যতিক্রমী ঘ্রাণ পাওয়া। 
  • গন্ধ ও স্বাদের অনুভূতি কমে যাওয়া। 
  • কানের ব্যথা, গলা ব্যথা, উপরের চোয়াল এবং দাঁতে ব্যাথা, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ। 
  • অনেক সময় এর সঙ্গে জ্বর, গা মেজমেজ করা। মানসিক অবসাদ।

 যাদের সাইনোসাইটিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি

যেকোনো বয়সের মানুষেরই সাইনাসের সমস্যা হতে পারে। কিছু কিছু ব্যাক্তির অন্যদের তুলনায় বিভিন্ন কারণে সাইনোসাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারণগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • নাকের এলার্জি
  • নাকের সেপ্টাম টিস্যুতে চ্যুতি 
  • যাঁদের সাধারণ ঠান্ডাজনিত সমস্যা আছে বা সাইনাসে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।
  • হাঁপানি/অ্যাজমা রোগী।
  • ছত্রাক সংক্রমণ ,ভাইরাস সংক্রমণ ,সাইনাস প্রকোষ্ঠে অ্যালার্জি , ইনফ্লুয়েঞ্জা, সাধারণ সর্দি । 
  • হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ।
  • স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনিয়া ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বা দুর্বল ইমিউনিটি।
  • মাদকদ্রব্য গ্রহণ ও নিয়মিত  ধূমপানের অভ্যাস।
  • ক্যান্সারের বা এইচআইভি কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের ব্যবহার করা ।

সাইনোসাইটিসের চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

সাইনোসাইটিসের চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গুলো হলো  —

  • ওভার-দ্য-কাউন্টার (OTC) ঠান্ডা এবং অ্যালার্জি ওষুধ সেবন করতে পারেন।
  • গরম ভাপ বা মেন্থলের ভাপ নিতে পারেন। এর মাধ্যমে দ্রুত শ্লেষ্মা বের হয়ে সাইনাসের সমস্যায় দ্রুত উপশম দেয়।
  • নাসাল ডিকনজেসটেন্ট (জমে যাওয়া নাক পরিস্কার)-এর ব্যবহার।
  • ধুলো–বালি থেকে দূরে থাকুন। ঘন ঘন যেন ঠান্ডা না লেগে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
  • পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন এবং প্রচুর ভিটামিনযুক্ত খাবার খান। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খান।
  • প্রচুর পানি পান (হাইড্রেশন) করুন।
  • অ্যারোসোল, মশার কয়েলের ধোঁয়া, এয়ারফ্রেশনারসহ যেকোনো ধরনের ধোঁয়া ও স্প্রে থেকে দূরে থাকুন।
  • ধূমপান থেকে দূরে থাকুন।
  • অ্যালার্জি প্রতিরোধে ব্যবস্থা। ধুলো, ধোঁয়া এবং ফুলের পরাগের সংস্পর্শ এড়ানো।
  • অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস (যেমন নাকের ভিতরে আঙ্গুল) না দেওয়া। 
  • স্যালাইন (লবণাক্ত পানি) দিয়ে নাক ধোয়া দেয়া। 
  • সাইনাসের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেয়ে রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • নাকের গঠনগত সমস্যার চিকিৎসার জন্য অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। 
  • প্রাথমিক চিকিৎসা কিংবা ওষুধের মাধ্যমে প্রতিকার না পেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে পরবর্তী পদক্ষেপ নিন। 

সাইনোসাইটিস এর ঘরোয়া চিকিৎসা

সাইনোসাইটিস এর ঘরোয়া চিকিৎসাজন্য যা যা করা যায় –

  • সাইনোসাইটিস সমস্যায় গরম পানির ভাপ বা সেঁক নেওয়া একটি অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি। গরম পানির ভাপ নিলে নাসিকা-পথ ভেজা থাকবে এবং সহজেই শ্লেষ্মা বের হয়ে আসবে। তাই গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে নিয়ে দিনে দু-বার করে ভাপ নিন।
  • গরম পানিতে আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে পান করুন এতে সাইনাসের ব্যথা থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। 
  • পানি গরম করার সময় পুদিনা পাতা মিশিয়ে বাষ্প গ্রহণ করলে সাইনাসজনিত ব্যথা এবং জ্বালা থেকে মুক্তি পাবেন দ্রুত।
  • ঠান্ডা লাগলে কিংবা মাথা ব্যথা করলে এক বাটি গরম স্যুপ আহার করুণ। আপনার পছন্দ অনুসারে যেকোনো স্যুপ খেতে পারেন।
  • কাঁচা সবজির জুস সাইনোসাইটিসের প্রভাব কমানোর জন্য অনেক উপকারী। 
  • আদা অথবা দারুচিনির চা হালকা গরম অবস্থায় পান করুন।
  • পেঁয়াজ এবং আদার গন্ধ শুঁকলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। এই দুটি উপাদানের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি গুণ আছে।
  • ১০০ গ্রাম জিরা টেলে ২০০ গ্রাম ঘি এর সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন সেবন করুন। এটি সাইনোসাইটিস প্রতিরোধের অন্যতম উপায়।
0 comments
4 FacebookTwitterPinterestEmail
সুস্থতার-জন্য-শাক-সবজি
খাদ্যাভ্যাস

শারীরিক সুস্থতার জন্য শাক-সবজি খাওয়ার সঠিক নিয়ম

by Dr. Baby Akter 04/07/2023
written by Dr. Baby Akter

খাওয়া দাওয়ায় নিয়মিত শাক-সবজি আমাদের সুস্থতায় অনেক গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখে। বিশেষ করে সবুজ শাক-সবজি শরীরের জন্য অনেক উপকারী। সবুজ শাক-সবজিতে রয়েছে ভিটামিন, লবণ, আঁশ। আঁশযুক্ত শাক-সবজি পেট পরিস্কার রাখতে সাহায্য করে।

সঠিক নিয়ম মেনে নিয়মিত সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে কখনোই অতিরিক্ত ভিটামিন পিল খাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সঠিক নিয়ম না মেনে শাক-সবজি রান্না করা হয়ে থাকে। এতে করে খাদ্যের পুষ্টিমান অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। আর এভাবে রান্না করা সবজির খাদ্যমান নষ্ট হয়ে গেলে তা থেকে শরীর যথাযথ পুষ্টি পায় না। এতে করে অর্থ, সময় আর শ্রমের অনেকটা অংশ যেমন নষ্ট হয় তেমনি শরীরও পুষ্টি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। সঠিক নিয়ম মেনে শাক-সবজি খাওয়া হলে তা শরীরকে সুস্থ রাখতে অনেক বেশী ভুমিকা পালন করে। আসুন আজ জেনে নেওয়া যাক কি নিয়মে শাক-সবজি খেলে তার গুণাগুণ অক্ষুন্ন থাকবে।

  • তরকারির খোসা ও খোসার নীচে থাকে দেহের জন্য উপকারী মুল্যবান ভিটামিন ও খনিজ। এজন্য খোসাসহ সবজি রান্না করে খাওয়া উচিত।
  • সবজি কুটার আগে পুরোটাই ভালভাবে পানিতে ধুঁয়ে নিন। কখনোই সবজি কুটার পরে তা ধুতে যাবেন না।
  • কুটে নেওয়া সবজি কখনোই পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন না।
  • খুব বেশি কুচি কুচি করে বা পাতলা করে সবজি কাটা ঠিক নয়।
  • রান্না করবার অধিক সময় পূর্বে তরকারি কেটে রাখা ভাল নয়।
  • নিয়মিত বেশি পরিমাণ কাঁচা সবজির তৈরি স্যালাড খাবেন। পাতা জাতীয় কোন সবজি এবং সাথে কয়েকরকম সবজির মিশ্রণে তৈরী স্যলাড থেকে ভাল পুষ্টিমান পাওয়া যায়।
  • ভাতের মাড় কখনোই ফেলে দেওয়া ঠিক নয়। ভাতের মাড়ে প্রচুর ভিটামিন বি-১ থাকে।
  • ভাত, মাছ অথবা মাংস, ডাল, শাক-সবজি একসঙ্গে মিশিয়ে লেবু দিয়ে খেলে আয়রণ শোষণ ভাল হয়।
  • প্রধান খাবার এর সাথে সাথে চা, কফি খাওয়া উচিত নয়।
  • সকাল, দুপুর অথবা রাতের খাবারের পর পর দুধ খাওয়া ঠিক নয়, এতে ক্যালশিয়ামের শোষণ কমে যায়।
  • শাক-সবজি রান্নার সময় অবশ্যই তেল দিয়ে রান্না করতে হবে, শাক-সবজিতে থাকা ভিটামিন তেলের সাথে সহজেই দ্রবীভুত হতে পারে।
  • অধিক সময় ধরে শাক-সবজি রান্না করলে ভিটামিন নষ্ট হয়ে যায়।
0 comments
63 FacebookTwitterPinterestEmail
Home-Remedies
ঘরোয়া চিকিৎসা

কয়েকটি সাধারণ রোগের সহজ ঘরোয়া চিকিৎসা

by Dr. Baby Akter 07/06/2017
written by Dr. Baby Akter

সচরাচর সাধারণ কিছূ কিছু শারীরিক রোগের চিকিৎসা আমরা ঘরে বসেই করে নিতে পারি। এরজন্য প্রথমত আমাদের যা দরকার তা হল একটু স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া। এ সকল রোগব্যাধি আমরা সহজলভ্য ঘরোয়া কিছু ভেষজ উপাদান ব্যবহার করেই নিরাময় করতে পারি। এরকম কিছূ সাধারণ শারীরিক সমস্যার সহজ সমাধানের উপায় নীচে আলোচনা করা হল:

অহেতুক অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের কারণে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ওই অ্যান্টিবায়েটিক আর কাজ না-ও করতে পারে।

পুরনো যে কোন ঘায়ের মলম তৈরী করুন নিজে:

৫০০ গ্রাম গাওয়া ঘিয়ের সঙ্গে ৫০ গ্রাম নিম পাতা মিশিয়ে একটি পাত্রে নিন। তারপর মিশ্রণটি চুলায় বসিয়ে গরম করুন। নিম পাতা কালচে বর্ণের হয়ে আসলে পাত্রটি নামিয়ে পাতা ও ঘি একসাথে মেড়ে পেষ্ট বা মলমের মত করে তৈরী করুন।

যে কোন পুরনো ঘা যা কোন ঔষধেই সারেনি তা এই প্রাকৃতিক মলম ব্যবহারে সেরে যাবে। প্রতিদিন ২ বার করে এই মলম লাগাতে হবে। এই মলম বহু পরীক্ষিত।

কাটা দাগ ও পোড়া দাগ দুর করার উপায়

অনেক সময় কাটা বা পোড়া দাগ শরীরের বিভিন্ন স্থানের সৌন্দর্য নষ্ট করে। এধরনের দাগ দুর করতে নীচে কয়েকটি পদ্ধতি দেয়া হল:

চন্দন জলে ঘষে নিয়ে কাটা বা পোড়া দাগে লাগালে আশাতীত উপকার পাওয়া যায়।

প্রতিদিন একটা করে পাকা টমেটোর সাথে লেবুর রস লাগিয়ে সকাল-সন্ধ্যা দাগের স্থানে ঘষুন। কিছুক্ষন পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে কয়েকদিন করলে ত্বক থেকে দাগ মিলিয়ে যায় এবং ত্বকের সৌন্দর্য ফিরে আসে।

রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে দাগের স্থানে লেবুর রস লাগিয়ে ঘষুন এবং রস লাগিয়ে রেখে দিন। পরদিন সকালে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে ১/২ সপ্তাহ করলে দাগ মিলিয়ে যাবে।

 দন্তশুল

দাঁতে যদি হঠাৎ যন্ত্রণা আরম্ভ হয় তাহলে আদার খোসা ছাড়িয়ে নিয়ে কুচকুচি করে ব্যাথার জায়গায় চিবালে এবং চুষলে যে কোন ধরনের দাঁতের ব্যাথা নিরাময় হয়। মনে রাখবেন আদা চিবাতে হবে দাঁত দিয়ে এবং ঐ রস এমনভাবে চুষতে হবে যাতে ব্যাথার দাঁতে রস লাগে।

গলা ব্যথা

পূর্ণ গ্লাসে গরম পানিতে  আধা চা চামচ লবণ মিশ্রিত করে দিনে ৩ বার পর্যন্ত গার্গেল করুন। এতে গলা ফোলা কমাতে সাহায্য করে। গরম তরল পান করুন, যেমন মধু সহ গরম চা, গরম স্যুপ, লেবুর সাথে গরম জল বা ভেষজ চা। শরীর ডি-হাইড্রেড হলে তখন প্রচুর পানি পান করে হাইড্রেটেড থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। এতে গলায় আদ্রতা বজায় থাকে তা পাতলা শ্লেষ্মা নিঃসরণ সহায়তা করে।

কাঁশি

ভেষজ চা বা হালকা গরম পানি  এবং লেবুর সাথে ২ চা চামচ মধু মিশিয়ে খান। এটি আপনার গলা প্রশমিত করে এবং কাশি উপশম করতে সাহায্য করে। এবং আনারসের টুকরো দিনে ৩ বার খান অথবা তাজা আনারসের রস পান করুন। ফলটিতে ব্রোমেলিন নামক একটি এনজাইম রয়েছে, যা কাশি দমন করতে এবং আপনার গলায় শ্লেষ্মা আলগা করতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়।

নিয়মিত খাওয়ার এক ঘন্টা পর পানি পান করার অভ্যাস করলে কাঁশি থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং এতে হজম শক্তিও বৃদ্ধি পায়।

পেট ব্যাথায় 

পেট ব্যাথায় আদা কুচি অথবা আদা চা পান করুন। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে আদা যেকোন  ধরণের পেটের অসুস্থতা দূর করতে এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে  অধিক কার্যকর ।

পুদিনার সালাদ খান। বদহজম, গ্যাস এবং ডায়রিয়ার জন্য বহুকাল ধরে  প্রাকৃতিক চিকিত্সা হিসাবে পুদিনা ব্যবহার করা হয়েছে।

পোড়া গেলে 

আক্রান্ত স্থানে অবিলম্বে ঠান্ডা জল প্রয়োগ করুন এবং পরিষ্কার ড্রেসিং করুন। গুরুতর বা ব্যাপক পোড়ার জন্য, অনুগ্রহ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার নিকটস্থ  হাসপাতালের জরুরি বার্ন ইউনিটে নিয়ে যান। তবে  মনে রাখবেন যে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ  শুধুমাত্র দুর্ঘটনা এবং জরুরী অবস্থার জন্য।

ডায়রিয়া 

ডায়রিয়া হলে শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দেয় তাই প্রচুর পরিমাণে তরল পান করুন এবং আপনার কাছের ফার্মেসি থেকে রিহাইড্রেশন পানীয় কিনে পান করুন।

লবণাক্ত খাবার যেমন স্যুপ আপনার সিস্টেম থেকে দূর যাওয়া লবণ ফিরে আন্তে সাহায্য করে। যতটা সম্ভব খাবার খান। আর শিশুদের ক্ষেত্রে বুকের দুধ খাওয়ানো বা বোতলের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে হবে। অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। 

জ্বর

সাধারণত পাঁচ থেকে সাত দিনে জ্বর সেরে যায়। জ্বর হলে বিচলিত হওয়া যাবে না। জ্বরে আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকে। জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে আর কী কী লক্ষণ রয়েছে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। বেশি করে তরলজাতীয় খাদ্য গ্রহণ করতে হবে এবং রেস্টুরেন্ট  কিংবা হোটেলের তৈরি খাবার গ্রহণ বাসায় তৈরি কম তেল ও মসলা দিয়ে রান্না করা খাবার খেতে হবে। জ্বর অবস্থায় ঠাণ্ডা খাবার না খাওয়া ভালো ঠাণ্ডা খাবার নতুন রোগের উত্পত্তি ঘটাতে পারে। 

অহেতুক অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের কারণে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ওই অ্যান্টিবায়েটিক আর কাজ না-ও করতে পারে।

প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেলস, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, প্রোটিন- পুষ্টি উপাদান সম্পন্ন সুষম খাবার গ্রহণ করতে হবে। এতে অল্প দিনের মধ্যেই রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।

0 comments
22 FacebookTwitterPinterestEmail
  • 1
  • …
  • 3
  • 4
  • 5

Recent Posts

  • ইফতারের পর চা খেলে কি হয়
  • রমজানে পর্যাপ্ত না ঘুমালে কী হয়
  • মাথা ব্যথার কারন ও মুক্তির উপায়
  • এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 
  • এনাল ফিসার কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

Recent Comments

No comments to show.

আমাদের সম্পর্কে

banner

প্রকৃতির মাঝেই লুকিয়ে আছে নিরাময়ের সকল উপাদান। তাই সুস্থতা ও প্রশান্তির আরেক নাম প্রকৃতি। প্রকৃতির সাথে নিজেকে একাত্ম করুন, প্রাকৃতিক নিয়মেই আপনি সুস্থ থাকবেন প্রশান্ত থাকবেন। প্রকৃতির মাঝে ছড়িয়ে থাকা এই অসংখ্য উপাদান আর তার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সৃষ্টির আদি থেকে এখনো পর্যন্ত মানুষ সুস্থতার যে উপায়গুলি মানব কল্যানে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে সেসব তথ্য উপাত্তকে গুছিয়ে নতুন আঙ্গিকে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ

  • 1

    এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 

  • 2

    শীতকালীন বিভিন্ন রোগ এবং প্রাকৃতিক প্রতিকার

  • 3

    প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া উপায়ে বন্ধ্যাত্ব রোগ নিরাময় করুন

  • 4

    শারীরিক সুস্থতার জন্য শাক-সবজি খাওয়ার সঠিক নিয়ম

Back Next

প্রয়োজনীয় লিংক সমুহ

  • চিকিৎসার ইতিহাস ও গবেষণা
  • প্রসূতি এবং শিশু স্বাস্থ্য
  • গোপনীয়তার নীতি
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • Facebook
  • Twitter
  • Whatsapp

@2023 - All Right Reserved by MIL HOMEO


Back To Top
MIL HOMEO
  • মুল পাতা
  • প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য
    • আয়ুর্বেদ চিকিৎসা
    • ঘরোয়া চিকিৎসা
    • ভেষজ উপাদান
    • ভেষজ চিকিৎসা
  • রোগব্যাধি ও প্রতিকার
    • শারীরিক রোগ
      • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ
      • চর্মরোগ
        • আঁচিল বা তিল
      • জ্বর
        • টাইফয়েড জ্বর
        • ডেঙ্গু জ্বর
        • ম্যালেরিয়া
      • পায়ুপথের রোগ
      • কান পাকা রোগ
      • কৃমি রোগ
      • বন্ধ্যাত্ব রোগ
      • নাসা রোগ
      • শীতকালীন রোগব্যাধি
      • সংক্রামক রোগ
      • সাইনোসাইটিস
      • স্নায়ু রোগ
    • মনরোগ
    • শিশু রোগ
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • সুস্থ জীবনধারা
    • ক্ষতিকর অভ্যাস
    • খাদ্যাভ্যাস
    • তামাক ও মাদক বর্জন
    • পানীয় জল এবং হাইড্রেশন
    • ভালো ঘুমের অভ্যাস
    • রূপচর্চা ও চুলের যত্ন
    • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
    • স্বাস্থ্যকর শখ
  • ব্যায়াম ও ফিটনেস
    • ওজন প্রশিক্ষণ
    • ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা
    • ঘরে বসে ফিটনেস
    • বয়স্কদের ব্যায়াম
    • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
    • স্ট্রেচিং এবং মবিলিটি
  • মানসিক স্বাস্থ্য
    • অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা
    • আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে ভালোবাসা
    • ডিপ্রেশন ও প্রতিকার
    • মানসিক চাপ ও সমাধান
    • মেডিটেশন ও মননশীলতা
    • পরিবার ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য
  • খাদ্য ও পুষ্টি
    • আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
    • ওজন কমানোর খাদ্য পরিকল্পনা
    • ওজন বাড়ানোর পুষ্টি পরিকল্পনা
    • খাদ্য তালিকা এবং পরামর্শ
      • রোগের খাবার
    • পুষ্টিগুণ
      • শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
      • ফলের পুষ্টিগুণ
    • ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
    • স্বাস্থ্যকর রেসিপি
  • হোমিও চিকিৎসা