MIL HOMEO
প্রকৃতির সাথে থাকুন, সুস্থ থাকুন
  • মুল পাতা
  • প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য
    • আয়ুর্বেদ চিকিৎসা
    • ঘরোয়া চিকিৎসা
    • ভেষজ উপাদান
    • ভেষজ চিকিৎসা
  • রোগব্যাধি ও প্রতিকার
    • শারীরিক রোগ
      • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ
      • চর্মরোগ
        • আঁচিল বা তিল
      • জ্বর
        • টাইফয়েড জ্বর
        • ডেঙ্গু জ্বর
        • ম্যালেরিয়া
      • পায়ুপথের রোগ
      • কান পাকা রোগ
      • কৃমি রোগ
      • বন্ধ্যাত্ব রোগ
      • নাসা রোগ
      • শীতকালীন রোগব্যাধি
      • সংক্রামক রোগ
      • সাইনোসাইটিস
      • স্নায়ু রোগ
    • মনরোগ
    • শিশু রোগ
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • সুস্থ জীবনধারা
    • ক্ষতিকর অভ্যাস
    • খাদ্যাভ্যাস
    • তামাক ও মাদক বর্জন
    • পানীয় জল এবং হাইড্রেশন
    • ভালো ঘুমের অভ্যাস
    • রূপচর্চা ও চুলের যত্ন
    • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
    • স্বাস্থ্যকর শখ
  • ব্যায়াম ও ফিটনেস
    • ওজন প্রশিক্ষণ
    • ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা
    • ঘরে বসে ফিটনেস
    • বয়স্কদের ব্যায়াম
    • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
    • স্ট্রেচিং এবং মবিলিটি
  • মানসিক স্বাস্থ্য
    • অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা
    • আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে ভালোবাসা
    • ডিপ্রেশন ও প্রতিকার
    • মানসিক চাপ ও সমাধান
    • মেডিটেশন ও মননশীলতা
    • পরিবার ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য
  • খাদ্য ও পুষ্টি
    • আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
    • ওজন কমানোর খাদ্য পরিকল্পনা
    • ওজন বাড়ানোর পুষ্টি পরিকল্পনা
    • খাদ্য তালিকা এবং পরামর্শ
      • রোগের খাবার
    • পুষ্টিগুণ
      • শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
      • ফলের পুষ্টিগুণ
    • ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
    • স্বাস্থ্যকর রেসিপি
  • হোমিও চিকিৎসা
Author

Dr. Baby Akter

Baby-Akter
Dr. Baby Akter

ডা. বেবী আক্তার, একজন সরকারী রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথ ডাক্তার এবং স্বাস্থ্য, রোগব্যাধি ও পুষ্টি বিষয়ে একজন নিবেদিত লেখক। বিগত ১০ বছর ধরে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা সম্পর্কে তথ্য প্রচারের লক্ষ্য নিয়ে আমি কাজ করছি। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে রোগীদের সুস্থতা নিশ্চিত করা এবং তাদের সুস্থ জীবনের জন্য সচেতন করে তোলাই আমার অন্যতম লক্ষ্য। milhomeo.com এ স্বাস্থ্য বিষয়ক নিয়মিত লেখালেখি করে যাচ্ছি, যেখানে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা, রোগ প্রতিরোধ, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা প্রক্রিয়া ও স্বাস্থ্য সচেতনতার উপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আপনারা আমার এই ওয়েবসাইটে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য জানতে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে পারেন।

আয়ুর্বেদ চিকিৎসা

ইফতারের পর চা খেলে কি হয়

by Dr. Baby Akter 23/03/2025
written by Dr. Baby Akter

ইফতারের পর এক কাপ চায়েই নাকি পরম প্রশান্তি! ইফতারের পর যেন এককাপ না খেলেই নয়। তবে সেক্ষেত্রে একেক জনের চায়ের পছন্দ এক এক রকম। কারো দুধ চা কারো আবার মসলা চা। তবে যে চা-ই পান করেন না কেন ,অবশ্য আপনার স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে হবে। 

তাই চায়ের ভালোমন্দ দিক সম্পর্কে জেনে আপনি নিশ্চয়ই খাবেন। যাতে চায়ের তেষ্টা মেটাতে গিয়ে রোজার সময় হিতে বিপরীত না হয়।

চা শরীর চাঙ্গা রাখে 

ইফতারের পর শরীর ‘ছেড়ে দেওয়া’র মতো অনুভূতি হওয়া  স্বাভাবিক ব্যাপার । সিয়াম সাধনার পর কর্মব্যস্ত দিনে ক্লান্তি আসতেই পারে। এসময় এককাপ চায়ে  আয়েশি চুমুকে আপনার মন ও দেহ সতেজ এবং চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

চায়ের ক্যাফেইন ক্লান্তি দূর করতে সহায়তা করে। যাদের ইফতারের পরও  কাজ রয়ে যায়  তাদের জন্য চা পান অবশ্য ইতিবাচক দিক।  সেক্ষেত্রে  আদা , তেজপাতা, দারুচিনি, লবঙ্গ প্রভৃতি দিয়ে, তাহলে আপনি দারুণ ফুরফুরে অনুভব করবেন।

 যারা মসলা চা বানাতে বিরক্তিবোধ করেন তাদের জন্য অর্গানিক চা ভালো। 

পরিপাক ও পুষ্টিগত দিক

খাবার খাওয়ার কমপক্ষে ২০ মিনিট  পর পানি কিংবা পানিও খাবার খাওয়া উচিত। নাহলে পরিপাকে সমস্যা সৃষ্টি করে। তবে চায়ের ক্ষেত্রে সময় আরেকটু বাড়িয়ে নেওয়া উচিত।

 কারণ, চায়ে থাকা ট্যানিন খাবার থেকে আয়রন শোষণ করতে বাধা দেয়। ইফতারের সময় ভাজাপোড়া বেশি খাওয়া হয় তাতে অ্যাসিডিটি বেড়ে যায়। তারপর দুধ চা খাওয়ার ফলে  অ্যাসিডিটি বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যার তৈরি হতে পারে। 

রমজানে চা পানে  কিছু সতর্কতা 

ইফতারের পর ঘন ঘন চা খেলে , প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে শরীর  পানিশূন্য হয়ে পড়ে। সে কারনে রমজান মাসে অনেকে পানিশূন্যতায় ভোগেন। তাই রোজা রেখে ইফতারের পর চা-কফি গ্রহণে কিছু সতর্কতা মেনে চলতে হবে। 

চা ও ঘুম

রোজা রাখার পর রাতের ঘুম শরীরের জন্য খুব প্রয়োজনীয়। চায়ে থাকা  ক্যাফেইন স্নায়ু উদ্দীপক। তাই চা খেলে আপনার ঘুমাতে সমস্যা হতেই পারে। রমজান মাসে তো আর ইফতারের পর ছাড়া চা খাওয়ার উপায় নেই। তবে সেটি যেন ইফতারের অনেকক্ষণ পরে না হয় বা খুব কড়া লিকারের না হয় এবং বেশ কয়েকবার ঘনঘন না হয়।

 এই টুকু সাধারণ বিষয়ে নজর দিলে ইফতারের পর চা পান করা স্বাস্থ্যের  জন্য তেমন কোন ক্ষতি নেই। 

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
আয়ুর্বেদ চিকিৎসা

রমজানে পর্যাপ্ত না ঘুমালে কী হয়

by Dr. Baby Akter 22/03/2025
written by Dr. Baby Akter

ঘুম জরুরি কেন

ঘুম আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করে। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করে , আমাদের মেটাবলিজম সিস্টেমকে  স্বাভাবিক রাখে। তাছাড়া ঘুম হৃদ্‌রোগের রোগের ঝুঁকি কমায়। স্মৃতিশক্তি গুছিয়ে জড়ো করে রাখে। লং আর শর্ট টার্ম মেমোরি গুছিয়ে রাখে।  

আট ঘণ্টা ঘুম মস্তিষ্কের কার্যক্রমকে সবচেয়ে ভালো রাখে। তাই মন, মস্তিষ্ক এবং শারীরিকভাবে ফিট থাকতে হলে জীবনের মোট সময়ের তিন ভাগের একভাগ ঘুমের  প্রয়োজন। 

শরীর ও মনের সকল ফাংশন ঠিক রাখতে চাইলে একটা কোয়ালিটি লাইফের জন্য একজন মানুষের প্রতিদিন আট ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। 

বয়স ভেদে ঘুমের প্রয়োজনীতা 

মূলত বয়সভেদে ঘুমের পরিমান নির্ভর করে। যদিও বলা হয়ে থাকে দৈনিক আট ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে বয়সের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের পরামর্শপত্র অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ৮-১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। 

৬-৯ বছর বয়সীদের দৈনিক ৯ থেকে ১১ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। তবে অনেক ক্ষেত্রে তাদের ৭-৮ ঘন্টা ঘুম হলেও চলে। 

বয়স ৪০ এর উপরে হলে কেউ কেউ  ছয় ঘণ্টা ঘুমিয়েও দিব্যি চলতে পারেন। তবে এর কম ঘুম হলে সেটা উদ্বেগজনক, ক্ষতিকর।  

রোজা রেখে পর্যাপ্ত না ঘুমালে কী হয়

রমজানে নামাজসহ  অন্যান্য ইবাদতের পরিমান বেড়ে যায় ও খাবার দাবারের রুটিনেও বিরাট পরিবর্তন আসে । সব মিলিয়ে ঘুমের সময়টা কিছুটা কমে যায়। ঘুম কম হলে কার্টিসল নামের একটা হরমোন নিঃসরণ হয়। এটা ত্বকের কোলাজেন ভেঙে ফেলে। 

ফলে ঘুমের অভাবে হার্ট অ্যাটাক, হার্টের অসুখ, অনিয়মিত হার্টবিট, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা হতে পারে।  কম ঘুমের কারণে আমাদের শরীরে অবসাদগ্রস্ততার বেড়ে যায়। 

স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ হারিয়ে ফেলা , স্মৃতি বিভ্রম হওয়া ,  ইনসোমনিয়া, হ্যালুসিনেশন , ভুলে যাওয়া রোগসহ নানা ধরনের জটিলতা হতে পারে। তাই রমজানে ঘুম ঠিক রাখতে আনুষঙ্গিক কাজকর্ম সীমিত রাখুন।

সময় বের করে দিনে অল্প ঘুমিয়ে নিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম সময় ব্যয় করুন। শরীরে ক্লান্তি ভাব কমে আসবে। এতে ঘুমের জটিলতা কাটিয়ে রমজানে শরীর সতেজ ও সুস্থ থাকবে। 

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
মাথা ব্যথা কেন হয় ও মুক্তির উপায়
স্নায়ু রোগ

মাথা ব্যথার কারন ও মুক্তির উপায়

by Dr. Baby Akter 04/12/2024
written by Dr. Baby Akter

মাথা ব্যথা এক গুরুতর সমস্যা। স্নায়ুরোগের মধ্যেও মাথাব্যথার হার সবচেয়ে বেশি। বর্তমান সময়ে প্রচুর মানুষ এই রোগে আক্রান্ত।  এ রোগের কারণে যে কোনো ব্যক্তির কার্যক্ষমতা ও কার্যকাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। ফলে ভুক্তভোগীরা পেশাগত, সামাজিক, পারিবারিক ও আর্থিক জীবনে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। বিশ্বের মোট ১৮-৬০ বছর বয়সী জনসংখ্যার প্রায় ৪৬ ভাগ প্রতিবছর মাথাব্যথায় একবার না একবার আক্রান্ত হয় এবং প্রতিবছর ২০%  শিশু ও কিশোর মাথাব্যথা রোগে ভুগে থাকে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন ধরনের মাথাব্যথায় বেশি কষ্ট পান বয়স্ক নারীরাই। 

মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হলো-অতিরিক্ত মানসিক চাপ, রোদ বা প্রচন্ড গরম আবহাওয়া, অধিক পরিশ্রম, ক্ষুধার্ত থাকা, অনিয়মিত ও অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন, অতি মাত্রায় চা ও কফি পান, মাদক সেবন, অতিরিক্ত ধূমপান ইত্যাদি। তাই এ ধরণের অভ্যাসের বা আচরণের পরিবর্তন করা ও পর্যাপ্ত ঘুম, মেডিটেশন, সুনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম, ইতিবাচক জীবনচর্চা ইত্যাদির মাধ্যমে মাথাব্যথা অনেকাংশে নিরাময় করা সম্ভব।

মাথা ব্যথা কেন হয়?

মাথা ব্যথা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। তবে ধরণ দেখে খুব বুঝে নেওয়া সম্ভব ঠিক কি কারণে মাথা ব্যথা করছে। মাথা ব্যথার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম দুটি কারণ হচ্ছে-মাইগ্রেন আর টেনশন। তা মধ্যে ৭০% রোগীর মাথা ব্যথার কারণ হলো টেনশন টাইপ হেডেক। এবং ১১% জন্য দায়ী মাইগ্রেন। অনিয়মিত ও অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন, মাদকাসক্তি, ধূমপান, মদ্যপান, রোদ বা অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া, ক্ষুধার্ত থাকা, অতিরিক্ত শারীরিক-মানসিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ ইত্যাদি কারণে মাথা ব্যথা হয়ে থাকে। সুতরাং মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে হলে সর্বপ্রথম এ ধরণের জীবনাচরণ বা অভ্যাসগুলো পরিহার করতে হবে। 

মাথাব্যথার প্রকারভেদ

মাথাব্যথা প্রধানত দুই প্রকার।

১. প্রাইমারি হেডেক (Primary Headache), যেমন- টেনশন টাইপ হেডেক, মাইগ্রেন, ক্লাস্টার হেডেক ইত্যাদি।

২. সেকেন্ডারি হেডেক (Secondary Headache), যেমন- মাথার আঘাতজনিত, গ্লুকোমার স্ট্রোক, মস্তিষ্কের টিউমার সাইনোসাইটিস, মাসটয়ডাইটিস ইত্যাদি।

টেনশন টাইপ হেডেক (Tension-Type Headaches)

প্রায় ৭০ ভাগ বয়স্ক মানুষ টেনশন টাইপ হেডেক ধরনের মাথাব্যথায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। এটি মাইগ্রেনের মতো হয়ে থাকে, এবং কৈশোর কাল থেকে শুরু হয়। নারীদের মধ্যে টেনশন টাইপ হেডেক বেশি দেখা যায়। সাধারণত মাথার মাংসপেশির সংকোচনের ফলে এই মাথাব্যথা হয়ে থাকে ।

টেনশন টাইপ হেডেকের লক্ষণ

  • মাথায় একটা চাপ চাপ ব্যথা অনুভূত হয়।
  • সাধারণত মাথাব্যথার সঙ্গে বমি ভাব বা বমি হয় না।
  • পুরো মাথায় ব্যথা হয়।
  • রোগী ব্যথা নিয়ে সব ধরনের কাজকর্ম করতে পারেন, কাজকর্ম চলাকালীন এ ব্যথা কম অনুভূত হয়। কাজ শেষে বিশ্রামে থাকলে ব্যথা বেড়ে যায়। তবে এই ব্যথা মাইগ্রেনের মতো ততটা তীব্র হয় না।
  • এই মাথাব্যথা সময়কাল কয়েক ঘণ্টাও হতে পারে আবার কয়েকদিন পর্যন্তও স্থায়ী হতে পারে। 
  • পারিবারিক বা পেশাগত বা মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তার ইত্যাদির সঙ্গে এই মাথাব্যথার সম্পর্ক আছে।

মাইগ্রেন (Migraine)

প্রায় ১১ শতাংশ বয়স্ক ব্যক্তিদের এই ধরণের মাথাব্যথা হয়ে থাকে। পুরুষদের থেকেও নারীদের মাইগ্রেনের আক্রান্তের হার বেশি। সাধারণত কিশোর বয়স থেকে এই মাইগ্রেনের ব্যথা দেখা দিতে শুরু করে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা ৪০-৫০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। 

মাইগ্রেনের লক্ষণ

  • মাইগ্রেনের অন্যতম লক্ষণ হল- মাথার যে কোনো এক পাশে ব্যথা হওয়া। অনেক সময় একবার এক পাশে ব্যথা উপশম হয়ে আবার অন্য পাশেও ব্যথা শুরু হতে পারে।
  • ব্যথা অত্যন্ত তীব্র হয় এবং এ সময় কোনো কাজ করা যায় না।
  • ৪ ঘণ্টা থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যথা স্থায়ী হতে পারে।
  • আলো বা শব্দে ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যায়।
  • রক্তনালি (ধমনি/শিরা) সংকোচন/প্রসারণ বা টনটন প্রকৃতির ব্যথা অনুভূত হয়।
  • ব্যথার সঙ্গে বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
  • অন্ধকার ঘরে শুয়ে থাকলে ব্যথার তীব্রতা কমে।
  • রোগীর ব্যথা শুরুর আগে চোখের সামনে আঁকাবাঁকা লাইন, আলোর নাচানাচি ইত্যাদি দেখা। 

ক্লাস্টার হেডেক (Cluster Headaches)

অপেক্ষাকৃতভাবে ক্লাস্টার হেডেক কম দেখা যায়, মাত্র 0.১ ভাগ মানুষের এই ধরনের মাথাব্যথা হয়ে থাকে। এই ধরণের মাথা ব্যথা পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এটি পুরুষ : মহিলার আনুমানিক হার= ৬:১। সাধারণত ক্লাস্টার হেডেক ২০ বছর বয়সের পরে দেখা যায়।

ক্লাস্টার হেডেক লক্ষণ

  • ব্যথা অত্যন্ত তীব্র হয়।
  • ক্ষণস্থায়ী, তবে বারবার হয়।
  • চোখের চারপাশে বা পেছনে ব্যথা হয়।
  • দিনে কয়েকবার বা নিয়মিত একই সময়ে ব্যথা হয়ে থাকে। কয়েক সপ্তাহব্যাপী পর্যন্ত ব্যথা থাকতে পারে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর ব্যথা চলে যায় আবার কয়েক মাস বা বছর আবার একইভাবে ব্যথা শুরু হয়। 

সেকেন্ডারি হেডেক (Secondary Headache)

শারীরিক অসুস্থতা বা মস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগের কারণে এ ধরণের মাথাব্যথা হতে পারে। এ ধরণের মাথাব্যথাকে সেকেন্ডারি হেডেক বলা হয়ে থাকে। যেমন- সাইনোসাইটিস, মস্তিষ্কের টিউমার, রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক (এসএএইচ), মস্তিষ্কের আবরণে প্রদাহ (ভাইরাল, ব্যাকটেরিয়ার বা টিউমারফুলার মেনিনজাইটিস), টাইফয়েড, ভাইরাল, মাথায় আঘাতজনিত কারণ ইত্যাদি।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

সাধারণত অধিকাংশ মাথাব্যথার রোগীই ডাক্তারের কাছে যেতে চান না বা চিকিৎসা নেন না। নিজেই ফার্মেসিতে গিয়ে বেদনানাশক বিভিন্ন ঔষধ কিনে সেবন করেন। এক পরিসংখ্যান মতে,  যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এর মত দেশগুলোতেও মাইগ্রেনের রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছেন মাত্র ৫০ শতাংশ। 

দেখা গেছে, মাথা ব্যথার সেকেন্ডারি হেডেকের রোগীদের বিভিন্ন ধরণের শারীরিক সমস্যা যেমন -খিঁচুনি, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, অতিরিক্ত বমি, পা বা মুখ অবশ বা নিসাড় হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে যান। 

বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভুতপূর্ব সাফল্যের ফলে খুব সহজেই মাথাব্যথার কারণ নির্ণয় করা যায়। এমআরআই, সিটি স্ক্যান, পিইটি স্ক্যানের মাধ্যমে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের সুস্পষ্ট ইমেজ পাওয়া যায়। এতে মাথাব্যথার কারণ খুব সহজে উদঘাটন করা সম্ভব। মাথাব্যথার  কারণ বা ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা জন্য আগে রোগ নির্ণয় করা আবশ্যক। 

প্রচলিত বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতিতে মাথা ব্যথা নিরাময়ের চিকিৎসা করা যায়। তবে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। 

মাথা ব্যথার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা 

হোমিওপ্যাথিতে রোগের লক্ষণের সাদৃশ্য ঔষধ প্রয়োগর মাধ্যমে মাথা ব্যথার চিকিৎসা করা হয়। তাই লক্ষণভেদে ঔষধও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। মাথা ব্যথার লক্ষণ অনুসারে যে ঔষধগুলো প্রয়োগ করা যায় সেগুলো হলো-

বেলেডোনা (Belladonna)

মাথা ব্যথা থেকে মুক্তির জন্য এই ঔষধ ভালো কাজ করে। প্রাথমিকভাবে মাথা ব্যথা নিরাময়ের জন্য এটি খুবই কার্যকরী। সূর্যের প্রচণ্ড রোদে যাদের মাথা যন্ত্রণা বেড়ে যায় এবং ঠান্ডা লাগলে বা ভ্যাপসা ঠাণ্ডা গরমে এরকম মাথাব্যথা বেড়ে যায়। এ ধরণের লক্ষণের ক্ষেত্রে বেলেডোনা প্রয়োগ করা যায়। 

নাক্সভোমিকা (Nux-vomica)

গ্যাসট্রিকের সমস্যা, পাইলস ও কোষ্ঠকাঠিন্যে মাথাযন্ত্রণা করলে এই ঔষধ ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া অতিরিক্ত তেলমশলা জাতীয় খাবার গ্রহণ এবং অ্যালকোহলের সেবনের কারণে মাথা ব্যথা হলে নাক্সভোমিকা প্রয়োগে ভালো ফল পাওয়া যায়। 

স্পাইগেলিয়া (Spigelia)

মাথার বামদিকের বিশেষ করে মাইগ্রেনের ব্যথার ক্ষেত্রে স্পাইগেলিয়া প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত রোগীর বাঁ দিকের কিছু কিছু অংশ, কপাল এবং চোখে ব্যথা করে। 

স্যাঙ্গুইন্যারিয়া ক্যানাডেনসিস (Sanguinaria canadensis)

রোগীর মাথা ব্যথা ডানদিক থেকে ব্যথা শুরু হয়ে  ধীরে ধীরে মাথার পিছনে ছড়িয়ে পরে এবং ডানদিকের চোখে এটা স্থিত হয়। সকালবেলা বা দিনের বেলার মাথা ব্যথা নিরাময়েও এই  ঔষধ কাজ করে। মহিলাদের মেনোপজের পর যে মাথা ব্যথা হয়ে থাকে তাতেও স্যাঙ্গুইন্যারিয়া ক্যানাডেনসিস কার্যকরী। 

গ্লোনোনিয়াম (Glononium)

মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক রক্ত জমা হলে যে মাথা ব্যথার সৃষ্টি হয় তাতে গ্লোনোনিয়াম উত্তম কাজ করে। মাথা যন্ত্রনায় রোগী মনে করে মাথা ফেটে যাবে বা মাথাপুড়ে যাচ্ছে। কখনো কখনো রোগী মনে করে মাথা আকারে বেড়ে যাচ্ছে বা চোখের চারপাশে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অত্যাধিক তাপের ফলে মাথা ব্যথা করলেও গ্লোনোনিয়াম খুব কার্যকরী ঔষধ। 

তবে কখোনই নিজ দায়িত্বে ফার্মাসী থেকে ঔষধ কিনে খাওয়া নিরাপদ নয়। মাথা ব্যথার সমস্যার জন্য যদি হোমিও চিকিৎসা নিতে চান , সেক্ষেত্রে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথি  চিকিৎসকের নিকট শরণাপন্ন হবেন।। তিনি আপনার মাথাব্যথার কারণ নির্বাচন করে সঠিক ওষুধ দেবেন।

ওষুধের পাশাপাশি কিছু কিছু অভ্যাসও পরিবর্তন করতে হবে। অনিয়মিত ও অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন, অতি মাত্রায় চা ও কফি পান, মদ্যপান, মাদক সেবন, অতিরিক্ত ধূমপান, অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম, ক্ষুধার্ত থাকা, রোদ বা অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া, যেকোনো ধরনের মানসিক চাপ ইত্যাদি মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। তাই এধরণের অভ্যাসের বা আচরণের পরিবর্তন ফলে মাথাব্যথা অনেকাংশে কমে আসবে।

একই সাথে  পর্যাপ্ত ঘুম,  মেডিটেশন , সুনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস,  শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম,  ইতিবাচক জীবনচর্চা  ইত্যাদি মাথাব্যথার প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
Mpox milhomeo
সংক্রামক রোগ

এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 

by Dr. Baby Akter 22/11/2024
written by Dr. Baby Akter

সম্প্রতি আফ্রিকাসহ আশপাশের দেশগুলোতে এমপক্স ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। সময়ের সাথে সাথে এশিয়া ও ইউরোপের দেশেগুলোতেও ছড়াচ্ছে। ২০২২ সালের জুলাই মাসে এই ভাইরাস প্রায় ১০০ টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ার কারণে সে সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এমপক্স ভাইরাস নিয়ে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল। অবশ্য পরবর্তীতে টিকা প্রদানের মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

২০২৩ সালের জুলাই মাসে সংক্রমণ আরো বেড়ে যায়। ২০২৪ সালের শুরু থেকে জুলাই পর্যন্ত এ রোগের সংক্রমণ হয় ১৪৫০০ এর বেশি মানুষ, এর মধ্যে প্রায় ৪৫০ জন জন লোক মারা যায়। ফলে এমপক্স নিয়ে সম্প্রতি সারা বিশ্বে গণস্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।

মাঙ্কিপক্স বা এমপক্স কী?

এমপক্স হল এক ধরণের ভাইরাসজনিত রোগ। এটি গুটিবসন্ত বা স্মলপক্স এর জন্য দায়ী ভাইরাসের শ্রেণীভুক্ত। তবে গুটিবসন্ত ভাইরাসের চেয়ে এমপক্স ভাইরাস তুলনামূলক কম ক্ষতিক্ষর। এমপক্স এর প্রধানতঃ দুটি ধরণ রয়েছে : ক্লেড-১ ও ক্লেড-২। ধরণ দুটির মধ্যে আবার সাব ডিভিশন রয়েছে  এ এবং বি। মাঙ্কিপক্স ভাইরাস শুরুতে পশুপ্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। তবে এই রোগটি এখন মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটছে। 

এমপক্স ভাইরাস বেশি দেখা যায় আফ্রিকার গ্রামীণ এলাকায় যেখানে সাধারণত বৃষ্টিপাত বেশি হয়। বিশেষ করে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) এ ভাইরাসের বেশি প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যায়। এই দেশটিতে এমপক্স ভাইরাসের কারণ ছিল মূলত ক্লেড-১ ভাইরাস। ক্লেড-২ ভাইরাস ছড়িয়েছে ইউরোপে। ক্লেড-১ ভাইরাসের তুলনায় ক্লেড-২ ভাইরাসের মৃত্যু হার তুলনামূলক কম। ক্লেড-১ ভাইরাসে আক্ৰান্ত রোগীর প্রতি ১০০ জনে ৪ জনের মৃত্যু হয়। তাই ক্লেড-১ ভাইরাসটি ক্লেড-২ থেকে অধিক গুরুতর।

এমপক্স কীভাবে ছড়ায়?

এমপক্স ভাইরাস একটি পানিবাহিত রোগ, এটির উদ্ভব ঘটেছে মূলত বন্যপ্রাণী থেকে। আগেকার সময়ে যারা পশু শিকারে যেতেন তাদের মধ্যে এ রোগের সংক্রমণ ঘটতো। কিন্তু এখন মানুষ থেকে মানুষে এ রোগ ছড়াচ্ছে। সে কারণে সংক্রমণের হারও বাড়ছে। 

এমপক্স ভাইরাস মূলত যেভাবে ছড়ায় – 

  • মানুষের সাথে মানুষের শারীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। এমপক্সে সংক্রমিত ব্যক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থান করলে, স্পর্শ করলে, শারীরিক ও যৌন সম্পর্ক ইত্যাদির মাধ্যমে এমপক্স ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। 
  • এমপক্স আক্রান্ত বন্যপ্রাণীর কাছাকাছি বসবাস করলে অথবা শিকারে গেলে, মাংস কাটা, কম তাপে রান্না করা মাংস বা কম তাপে রান্না করা খাবার খাওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়াতে পারে। যেহেতু আমাদের দেশে বন্যপ্রাণী খুব বেশি শিকার করা হয় না তাই সংক্রমণের হার কম। তবে সংক্রমিত প্রাণী বা ব্যক্তির কাছে গেলে এমপক্স ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে। সেকারণে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। 
  • এ ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তির ব্যবহার্য জিনিসপত্র যেমন- তোয়ালে, পোশাক, বিছানার চাদর ইত্যাদি ব্যবহারে এমপক্স ভাইরাস ছড়াতে পারে। 
  • এমপক্স ভাইরাসে সংক্রমিত দেহে ব্যবহার করা ইনজেকশনের সুঁই আরেকজনের শরীরে ব্যবহার করলে এর সংক্রমণ হতে পারে।
  • গর্ভবতী নারী এমপক্স ভাইরাসে সংক্রমিত হলে নবাগত সন্তানেরও এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
  • এমপক্স আক্রান্ত হয়ে ফোস্কা শুকিয়ে যাওয়া অংশ যদি ছড়িয়ে পড়ে তাতেও এটির সংক্রমণ হতে পারে। 

এমপক্সের লক্ষণ

এমপক্সে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে প্রচন্ড ব্যথা হয়। এই ব্যথা জলবসন্তের থেকেও বেশি অনূভত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির গলা, পায়ের সন্ধিস্থল,  বগলের নিচে থাকা লসিকাগ্রন্থি ফুলে যায়, খুব বেশি ব্যথা হয় যার কারণে শরীরে জ্বর চলে আসে। দেহের ত্বকে পানি ভর্তি ফোস্কা বা ফুসকুড়ি হয় এতে ব্যথা ও চুলকানি থাকে।

এমপক্স প্রাথমিক অবস্থায় থাকলে এমনিতেই চলে যায়। তবে কেউ যদি এমপক্সের কারণে খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন সেক্ষেত্রে  মারাত্বক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, অনেক সময় রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

এমপক্সের চিকিৎসা

এমপক্সের সরাসরি কোন চিৎকিসা বা ঔষধ নেই। এই রোগের মেডিসিন আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে। তবে উপসর্গের ভিত্তিতে কিছু মেডিসিনের মাধ্যমে এর চিকিৎসা দেয়া হয়। লক্ষণভিত্তিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি এক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ করে। রোগীকে অবশ্যই আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা নিতে হবে। এবং রোগীকে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ও পরিস্কার পরিছন্ন পরিবেশে থাকতে হবে।

আফ্রিকায়  এমপক্সের চিকিৎসার জন্য গুটিবসন্তের ভ্যাকসিন খানিকটা পরিবর্তন করে এমপক্সের সংক্রমিত ব্যক্তিদের দেওয়া হচ্ছে।  বাংলাদেশে এভাবে ভ্যাকিসন প্রয়োগ করা হবে কিনা তা  যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় আনবেন।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
এনাল ফিসার
পায়ুপথের রোগ

এনাল ফিসার কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

by Dr. Baby Akter 06/07/2024
written by Dr. Baby Akter

এনাল ফিসার হল একধরনের পায়ুপথের ক্ষত বা পায়ুপথের রোগ। এটি অতি পরিচিত পায়ুপথের একটি সমস্যা যা মলত্যাগের সময় ব্যথা, জ্বালাপোড়া করা, ছুরির ধারের মত অনূভুত হয়ে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি একেবারে তীব্র পর্যায়ের হয়ে থাকে ফলে রোগীর মধ্যে মারাত্বক অস্বস্তি ও যন্ত্রনা শুরু হয়। এই উপসর্গগুলোকে সাধারণত এনাল ফিসার বলা হয়ে থাকে। তবে বাংলায় এটি গেজ রোগ নাম বেশী পরিচিত। 

এটি সাধারণত পায়ুপথের সমস্যা হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ভোগার পরও অনেকে এর চিকিৎসা নেন না বা ডাক্তারের কাছে যেতে চান না। অথচ এই সংবেদনশীল রোগটির যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নেওয়া যায় ততই মঙ্গল। না হলে একপর্যায়ে অবস্থা মারাত্বক আকার ধারণ করে অস্ত্রোপচার সহ উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় বা জটিল আকার ধারণ করে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।

এনাল ফিসার কী?

মানুষের পায়ুপথের পেছনের দিকের যে অংশে মল জমা হয় তাকে মলাশয় বা রেক্টাম বলা হয়। এই মলাশয় থেকে মল মলদ্বার দিয়ে বের হয়ে আসে। মলদ্বারের চারপাশের মাংসপেশী চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে মলদ্বারের মুখ খোলা বা বন্ধ করা যায়। দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠ্যকাঠিন্য বা কষা পায়খানা করা অথবা দীর্ঘক্ষণ বাথরুমে বসে থাকা, খুব জোরে চাপ দিয়ে মল ত্যাগ করা ইত্যাদি কারণে অনেক সময় মলদ্বারের চারপাশের চামড়া ফেটে বা চিড়ে যায়৷ মলদ্বারের এই ফেটে বা চিড়ে যাওয়া ক্ষত অবস্থাকে গেজ রোগ বা এনাল ফিসার বলে।

এনাল ফিসারের ফলে মলত্যাগের সময় এই ক্ষত অংশে খুব জ্বলাযন্ত্রণা ও ব্যথা করে। একই সাথে পায়ুপথের চারপাশে টানটান হয়ে পায়ুপথ টাইট হয়ে সরু হয়ে যায়। যে কারণে মলত্যাগের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠে। 

এনাল ফিসারের লক্ষণগুলো কী কী?

১. মলদ্বারে প্রচন্ড ও  ধারালো যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা হওয়া

এনাল ফিসারের অন্যতম লক্ষণ হল পায়খানা করার সময় মলদ্বারের চারপাশে প্রচন্ড ধারালো ব্যথা অনুভূত হওয়া। রোগীর মনে হতে থাকে মলদ্বারে যেন কাঁচের টুকরো বের হচ্ছে। তাই রোগীদের জন্য এটি অধিক যন্ত্রণাদায়ক। পায়খানা করার বেশ কিছুক্ষণ পরও ব্যথা ও জ্বালা অনূভুত হতে থাকে। 

২. মলের সাথে টকটকে লাল রক্ত যাওয়া

মলদ্বারের ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণ হয় বিধায় রক্তের রং উজ্জ্বল ও লাল বর্ণের হয় এবং তা মলের সাথে লাগানো অবস্থায় বের হয়। সাধারণত মলদ্বারের চারপাশ থেকে বের হয় তাই রক্ত পরিমানে কম হয়। তবে যদি ভেতর থেকে রক্ত বের হয় তাহলে রক্তের রং আরো কালচে লাল বা গাঢ় হতো।

৩. মলদ্বারে চুলকানি

গেজ রোগ বা এনাল ফিসার রোগে মলদ্বারে চুলকানি হতে পারে।

আরো পড়ুন: এনাল ফিস্টুলা কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

এনাল ফিসার কেন হয়?

এনাল ফিসারের সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর অন্যতম হল কোষ্ঠকাঠিন্য বা কষা পায়খানা। কষা পায়খানা হলে অনেকে নিয়মিত মলত্যাগ করতে চায় না, পরবর্তীতে মলত্যাগের সময় তা আরও শক্ত হয়ে বের হয়। এতে কষা পায়খানার ফলে পায়ুপথের চারপাশের ত্বক ছিঁড়ে যায়। ফলে এনাল ফিসারের সমস্যা সৃষ্টি হতে থাকে। 

তাছাড়া গর্ভবতী মহিলাদের ও নরমাল ডেলিভারী মাধ্যমে বাচ্চা প্রসব হলে সেক্ষত্রেও এনাল ফিসারের সমস্যা দেখা দিতে পারে তবে সেক্ষেত্রে ধরণটা একটু ভিন্ন হয়। 

আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডায়রিয়ার কারণেও এ রোগ হতে পারে, তাছাড়া আরো অনেক কারণে এই এনাল ফিসার রোগ হতে পারে যেমন :

১. ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস সংঘটিত চর্মরোগ।

২. সোরিয়াসিস নামক ত্বকের প্রদাহজনিত রোগ।

৩. পরিপাকতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ বা ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (IBD)।

৪. যৌনরোগ, যেমন- এইচআইভি, সিফিলিস ও হার্পিস সিমপ্লেক্স।

৫. Pruritus Ani নামের পায়ুপথের মুখের চুলকানি রোগ।

৬. কোলোরেক্টাল বা পায়ুপথের ক্যান্সার।

কিছু কিছু ওষুধ সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও এনাল ফিসার দেখা দিতে পারে যেমন-

  • আফিমজাতীয় ব্যথার ওষুধ (Opioids), যেমন- ট্রামাডল, টাপেন্টাডল, মরফিন ও পেথিডিন।
  • Angina- জাতীয় বুকের ব্যথায় ব্যবহৃত নিকোর‍ান্ডিল।
  • কেমোথেরাপিতে ব্যবহৃত কিছু ওষুধ।

এনাল ফিসার বা গেজ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

১. সিটজ ব্যাথ(Sitz Bath) বা মলদ্বারে গরম পানির সেঁক নেয়া –

একটি বড় আকারের বোলে কুসুম গরম পানি নিয়ে তাতে কিছুক্ষণ বসে থাকতে হবে। এতে মলদ্বারের মাংসপেশী শিথিল হয়ে ব্যথা কমে আসে। এটাকে Sitz bath/সিটজ বাথ বলা হয়ে থাকে। দিনে দুই থেকে তিনবার এই পদ্ধতি গ্রহণ করা যায়। 

২. মলদ্বারের চারপাশে পেট্রোলিয়াম জেলি  ব্যবহার –

মলদ্বারের চারপাশে পেট্রোলিয়াম জেলি বা এই জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করা যায়। এর ফলে শক্ত মল সহজে মলদ্বার দিয়ে বের হয়ে আসে। এবং চামড়া ছিঁড়ে যাওয়া বা রক্তপাত হওয়ার সম্ভবনা কম থাকে। 

৩. সকালে ইসবগুলের ভুসি খাওয়া-

নিয়মিত সকালে ২ চা চামচ ইসবগুলের ভুসি ১ গ্লাস পানিতে মিশিয়ে খেলে মল নরম থাকে। এটি এনাল ফিসার রোগীর জন্য বেশ উপকারী একটি খাবার। তবে ইসবগুলের ভুসির সাথে পর্যাপ্ত পানি পান না করলে, পায়খানা আরো শক্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাই সাথে পর্যাপ্ত পানির বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

৪. মলদ্বার পরিষ্কার ও শুকনো রাখা –

মলত্যাগের পর মলদ্বার শুকনো ও পরিছন্ন রাখতে হবে। তাছাড়া মলদ্বার আলতোভাবে হাতের আঙ্গুল দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে, কিন্তু অতিরিক্ত ঘষাঘষি করা যাবে না। ফলে জায়গাটি ইনফেকশন হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। এর ফলে এনাল ফিসার হলেও তা সেরে উঠার সম্ভবনা বেশি থাকে।

আরো পড়ুন: মহিলাদের পাইলস বা অর্শ্বরোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

এনাল ফিসার বা গেজ রোগ থেকে মুক্তির উপায়

১. যথা সময়ে মলত্যাগ করা –

যথাসময়ে মলত্যাগ করতে হবে। যদি পায়খানা জমিয়ে দেরী করে মলত্যাগ করা হয় তাহলে মল আরো শক্ত হয়ে যায়। এতে শক্ত মল পায়খানার রাস্তায় ক্ষত সারতে অনেক দেরী হয়ে যায়। তাই যথাসময়ে মলত্যাগ করা অভ্যাস করতে হবে। 

যদিও এনাল ফিসারের রোগীদের মলত্যাগের সময় প্রচন্ড যন্ত্রনা হয় তাই যথাসময়ে মলত্যাগে ভয় পায়, সেকারণে খাওয়া দাওয়ার মাধ্যমে মল নরম রাখতে হবে এবং ব্যথা কমানোর উপায়গুলোও মেনে চলা উচিত। 

২. এনাল ফিসার রোগীর জন্য কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার অত্যান্ত জরুরী। তাই কিছু নিয়ম অবশ্যই মেনে চলতে হবে। যেমন –

  • পর্যাপ্ত পরিমানে আঁশ বা ফাইবার জাতীয় খাবার খেতে হবে যেমন- ফলমূল, শাকসবজি, ডাল, লাল চাল, লাল আটা এধরণের খাবার। 
  • বিশেষজ্ঞরা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য দৈনিক ৩০ গ্রাম ফাইবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। 
  • তবে ফাইবার খাওয়ার পরিমান ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে। ফাইবারের সাথে পর্যাপ্ত পরিমান পানি না খেলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই পরিমিত পরিমান পানিও গ্রহণ করা খুব জরুরী।
  • সকালে নিয়মিত ইসবগুলের ভুসি খেলেও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
  • নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করতে পারেন।

৩. মলত্যাগের সময় জোরে চাপ না দেওয়া –

মলত্যাগের সময় অতি জোরে চাপ দেওয়া বা জোর করে মল বের করার ফলে পায়ুপথে প্রচন্ড চাপ পড়ে। এতে পায়ুপথ ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। তাই জোরে চাপ দিয়ে মলত্যাগ থেকে বিরত থাকতে হবে।

৪. দীর্ঘক্ষণ বসে মলত্যাগ না করা –

অনেকে মলত্যাগকালীন সময়ে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকেন বা যথাসময়ে উঠে আসে না। এটি এনাল ফিসার রোগীর জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে মলদ্বারের উপর অধিক চাপ পড়ে। এতে মলদ্বারের চামড়া ফেঁটে যাওয়ার বা রক্ত ক্ষরণের সম্ভাবনা থাকে। 

এনাল ফিসার হলে কি কি খাবার খেতে হবে ?

  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য দ্রবণীয় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, ফলমূল, শাকসবজি পর্যাপ্ত পরিমান খেতে হবে। এ ধরণের খাবার এনাল ফিসার তথা মলদ্বারের রোগের কষ্ট  লাঘবের জন্য খুব উপযোগী। তাছাড়া এ জাতীয়  খাবার গুলো অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
  • পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমান পানি শরীরকে ডিহাইড্রেশন মুক্ত রাখে ও মলকে স্বাভাবিক রাখে। 
  • রাজমা, কড়াইশুঁটি এবং ডাল জাতীয় শস্য এনাল ফিসার রোগীদের বেশ উপযোগী খাবার। 
  • ঢেঁকিতে ছাঁটা চাল এনাল ফিসার রোগীদের জন্য খুব উপকারী, হোল গ্রেন থেকে তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাবারেও ভালো ফল পাওয়া যায়। 

এনাল ফিসার হলে কি কি খাওয়া উচিত নয় ?

  • কম ফাইবার যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষ করে রিফাইনারিতে তৈরি করা দানা শস্য থেকে এনাল ফিসারের সমস্যা বাড়ার সম্ভবনা থাকে। 
  • দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারের পরিমানে কম খাওয়া উচিত । 
  • মাংস খাওয়া এনাল ফিসার রোগীদের জন্য ভালো নয়। বিশেষ করে বাজারের প্রক্রিয়াজাত করা মাংস খেলে এনাল ফিসারের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। 
  • ধুমপান বা মদ্যপান থেকে বিরত থাকতে হবে। 

এনাল ফিসার হলে কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন ?

মলদ্বারে কোন ধরণের ক্ষত দেখা দিলে দেরী না করে সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। কারণ এই ক্ষত থেকেই কিন্তু পরবর্তীতে রোগটি জটিল আকার ধারণ করে। তবে যে পদ্ধতিতে চিকিৎসা গ্রহণ করা হোক না, কেন তা অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে নিতে হবে। একটু অসচেতনতার কারণে কোন ধরণের অপচিকিৎসার সামিল না হয়ে অবশ্য সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। 

এনাল ফিসারের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

প্রচলিত বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় এর ভালো চিকিৎসা রয়েছে। রোগীর লক্ষণ সাদৃশ্যে এ মেডিসিন গুলো ব্যবহার করা হয়। লক্ষণ অনুসারে হোমিওপ্যাথিক যে মেডিসিনগুলো প্রয়োগ করা যায় তা হল –

বেলেডোনা (Belladonna)

মলদ্বারে ফোঁড়ার সৃষ্টির পর বেদনা, মলদ্বার লাল বর্ণ, ফোঁড়া স্থানে দপদপকর বেদনা এবং হুল ফোটানো বেদনা, প্রদাহ স্থান লাল,শক্ত, পেকে উঠে এ ধরনের লক্ষণগুলোতে বেলেডোনা প্রয়োগ করা যায়। বেলেডোনা ৩x শক্তি, ২/৩ ফোঁটা পানি মিশ্রিত করে দিনে ৪ বার।  

হিপার সালফার (Hepar Sulph)

মলদ্বারের ক্ষত স্থান খুব স্পর্শকাতর, হাত দিয়ে ছোঁয়াও যায় না। আক্রান্ত স্থান থেকে পনিরের মত পূঁজ পড়ে, জ্বালাপোড়া করে, খোঁচামারা বেদনা থাকে। শুরুর দিকে এ মেডিসিন প্রয়োগ করা গেলে ক্ষত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। 

হিপার সালফার/Hepar Sulph ২x/৩x  শক্তি দিনে ৩ বার। 

সাইলিসিয়া (Silicea)

ক্ষত থেকে বেদনাহীন অধিক পরিমানে পূঁজ পড়ে। রোগের পূরাতন অবস্থা অর্থাৎ দীর্ঘদিনের ক্ষত, নালী গা শুকানোর ক্ষেত্রে এই মেডিসিন ভালো কাজ করে। 

সাইলিসিয়া/Silicea  ৩০ শক্তি, দিনে ৩ বার।  

পিওনিয়া (Paeonia)

এটি এনাল ফিসারের অতি উৎকৃষ্ট মেডিসিন। শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাতে, পায়ে, পায়ের পাতা, আংগুলে মলদ্বারে চুলকানি, জ্বালাপোড়া করে। মাথা ও পায়ে ঝনঝন শব্দ অনূভব হয়। এই ধরণের লক্ষণ গুলোতে পিওনিয়া/Paeonia প্রয়োগ করা যায়।

পিওনিয়া/Paeonia ৩/৬  শক্তি ,  দিনে ৪ বার। 

ইস্কুলাস হিপ (Aesculus Hip)

গুহ্যদ্বারে শুষ্কতা ও তাপ অনুভব এবং মনে হয় যেন কতকগুলি ছোট ছোট কাঠি মলদ্বারে আছে। মলদ্বারে জ্বালাবোধ, সুচিবিদ্ধবৎ বেদনা, মলদ্বার চুলকাইতে থাকা, এ ধরণের লক্ষণগুলোতে ইস্কুলাস হিপ প্রয়োগ করা যায়। 

ইস্কুলাস হিপ/Aesculus Hip ৩/৬ শক্তি, ২/৩ ফোঁটা পানি মিশ্রিত করে দিনে ৩ বার। 

উপরোক্ত মেডিসিন ছাড়াও আরো বেশ কিছু হোমিও ঔষধ যেগুলো লক্ষণ সাদৃশে প্রয়োগ করা যায়। তবে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শে মেডিসনগুলো গ্রহণ করতে হবে। 

এনাল ফিসার ও পাইলস-এর মধ্যে পার্থক্য কি?

পাইলসের লক্ষণ এবং এনাল ফিসারের লক্ষণ গুলো কিছু কিছু ক্ষেত্রে মিল হলেও এ দুটি আলাদা রোগ যদিও দুটি রোগে মলদ্বারে চুলকানি হতে পারে সেই সাথে তাজা রক্ত যেতে পারে। তবে পাইলসের থেকেও এনাল ফিসারে রক্ত বেশী যায়। এনাল ফিসার এবং পাইলসের মধ্যে বিশেষ পাথর্ক্য গুলো হল-

পাইলসের ক্ষেত্রে মলদ্বারে নরম বল বা গোটার মত দেখা দেয়। বলগুলো প্রায় ক্ষেত্রে মলত্যাগের সময় বের হয়ে আসে। অনেক সময় বলগুলো নিজে থেকে ঢুকে যায় আবার ক্ষেত্রবিশেষ আঙ্গুলের সাহায্যে ঢুকিয়ে দিতে হয়। এবং মলদ্বার দিয়ে পিচ্ছিল শ্লেষ্মার মতো পদার্থ বের হয়। 

এনাল ফিসারের ক্ষেত্রে সাধারণত মলত্যাগের সময় প্রচন্ড ব্যথা হয় এবং টাটকা রক্ত যেতে দেখা যায়। কিন্তু পাইলসের ক্ষেত্রে এধরণের ব্যথা থাকে না।  

কখন এনাল ফিসার রোগীর অপারেশন প্রয়োজন?

এনাল ফিসার যখন কোনো ধরণের চিকিৎসায় সারে না তখন অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে। এই রোগে অবস্থার অবনতি হলে, সাধারণত সার্জারিকে সবচেয়ে উত্তম হিসেবে গণ্য করা হয়। এ ক্ষেত্রে ৯০% রোগী স্থায়ী সুফল লাভ করে। তবে এতে অপারেশন পরবর্তী বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়ার ঝুঁকি থাকে। 

এনাল ফিসার রোগের অপারেশন গুলো খুব একটা জটিল হয় না। সাধারণত রোগী সেদিনই বাড়ী ফিরে যেতে পারে। এ রোগের বেশ কয়েক ধরণের সার্জারী রয়েছে। তার মধ্যে বহুল প্রচলিত দুটি পদ্ধতি হলো—

১. ল্যাটারাল স্ফিংকটারেকটোমি

২. অ্যাডভান্সমেন্ট অ্যানাল ফ্ল্যাপ

এনাল ফিসারের অপারেশনে খরচ কেমন ?

খরচ নির্ভর করে রোগীর রোগের ধরণ এবং চিকিৎসক ও হাসপাতালের মানের উপর। তবে বাংলাদেশে ফিসার সার্জারিতে গড়ে  ৪৫০০০ – ৬০০০০ টাকা লাগে। এর কম বেশিও হতে পারে। যদি দেশের বাইরে সার্জারী করানো হয় সেক্ষেত্রে খরচ ভিন্ন। 

এনাল ফিসারের অপারেশন পরবর্তী সমস্যাগুলো কি কি ?

মলদ্বারের সার্জারীতে ক্ষত শুকাতে শরীরের অন্যান্য স্থানের তুলনায় বেশী সময় লাগে। কয়েক সপ্তাহ এমন কি কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে। তবে নিয়মিত পরিচর্যা ও পরিষ্কার রাখলে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। 

এনাল ফিসার থেকে কি ক্যান্সার হয় ?

গেজ রোগ বা এনাল ফিসার ও পাইলসের থেকে কখনোই ক্যানসার হয় না। কিন্তু ফিস্টুলা যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে তাহলে  সেক্ষেত্রে ক্যানসার হতে পারে। সেকারণে চিকিৎসকেরা ফিস্টুলার ক্ষেত্রে ১০০ ভাগ অস্ত্রোপচারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারের সাথে অ্যাসোসিয়েটেড পাইলস থাকতে পারে। কিন্তু এনাল ফিসার বা পাইলসের সমস্যা আছে তা ক্যানসার হয়ে যাবে এটি কখনোই সঠিক নয়। 

এনাল ফিসার একবার সুস্থ হওয়ার পর কি আবার হওয়ার সম্ভবনা থাকে ?

হ্যাঁ, রোগী সুস্থ হওয়ার পরও যদি অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস গড়ে তোলে সেক্ষেত্রে এনাল ফিসার বার বার দেখা দিতে পারে। তাই এ রোগে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস ও রুটিন মাফিক জীবনযাপন অধিক সচেতনতা প্রয়োজন। 

সার্জারির পর কি আবার অ্যানাল ফিসার হতে পারে ?

হ্যাঁ, সার্জারির পর যদি রোগী অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভাসের সঠিক নিয়মকানুন মেনে না চলেন বা সঠিক যত্ন না নেন তবে আবার এনাল ফিসার দেখা দিতে পারে। তবে এক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তির হার ১০% মাত্র।

0 comments
5 FacebookTwitterPinterestEmail
পায়ুপথের রোগ

এনাল ফিস্টুলা কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

by Dr. Baby Akter 05/07/2024
written by Dr. Baby Akter

মানুষের মলদ্বারের ভেতরে কতগুলো গ্রন্থি রয়েছে কোনো কারণে সেগুলোর সংক্রমণ হলে সেই জায়গায় ফোঁড়া তৈরি হয়। এই ফোঁড়া এক সময় ফেটে গিয়ে পায়ুপথের চারিদিকের, যে কোনো স্থানের একটি নালী বা ছিদ্র তৈরি করে বের হয়ে আসে এবং পুঁজ নিঃসরণ করে। ফলে রোগীর পায়ুপথে প্রচুর ব্যথা অনূভব করে, সারাক্ষন রোগী এক যন্ত্রণাদায়ক সময় পার করে। পূঁজ বের হওয়ার পর রোগীর যন্ত্রনা কিছুটা কমতে থাকে। মলদ্বারের বা পায়ুপথের চারপাশের এ ধরণের এক বা একাধিক নালী ফোঁড়া থেকে পূঁজ আসাকে ফিস্টুলা বা ভগন্দর বলা হয়। 

এ রোগটি মূলত মলদ্বারে বিশেষ সংক্রমণের ফলে উৎপত্তি হয়। তাছাড়া মলদ্বারে ক্যান্সার এবং বৃহদান্ত্রের প্রদাহজনিত রোগসহ আরও অনেক কারণেও ফিস্টুলা বা ভগন্দর হতে পারে। সাধারনত চিকিৎসা ছাড়া এরোগ ভালো হয় না।  অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফিস্টুলা বা ভগন্দর সারাতে সার্জারীর প্রয়োজন পড়ে।  

এনাল ফিস্টুলা কি কারণে হয় ?

সাধারণত মলদ্বারের সংক্রমের ফলে সৃষ্ট ফোঁড়া থেকে ফিস্টুলা বা ভগন্দর হয়ে থাকে। এছাড়াও আরও কিছু কারণে ফিস্টুলা দেখা দিতে পারে যেমন-

এইচআইভি (এইডস)/টিবি (যক্ষ্মা): এ ধরণের রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর ফিস্টুলা দেখা দেয়ার ঝুঁকি থাকে। 

ক্রোনস ডিজিজ: এটি একধরনের অন্ত্রের রোগ (IBD) যা পরিপাক নালীতে জ্বালাপোড়া করে এবং পেট ব্যথা, ডায়রিয়া, পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়া সহ আরও বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়। 

মলদ্বারের অপারেশন: মলদ্বারের চারপাশের কোথাও সার্জারী করা হলে সেখান থেকে নতুন নালী সৃষ্টি হয়ে এনাল ফিস্টুলা দেখা দিতে পারে। 

হাইড্রাডেনাইটিস সাপুরাটিভা: এটি এক ধরণের রোগ যা শরীরের বেশী ঘাম হওয়া অংশগুলোর চামড়ার মধ্যে কিছু ফোঁড়ার সৃষ্টি হয় ও চামড়া পূরু হয়ে দাগের মত দেখায়। 

ডাইভারটিকুলাইটিস: এটি এমন একটি রোগ যা পরিপাক নালীর শেষের অর্থাৎ বৃহদান্ত্রের কিছু স্থানে থলির মত হয়ে ফুলে সংক্রামিত হয়ে পড়ে।  

এছাড়া রেডিওথেরাপি, ট্রমা, যৌনরোগ, ক্যানসার এর মত রোগের কারণেও এনাল ফিস্টুলা দেখা দিতে পারে।

আরো পড়ুন: মহিলাদের পাইলস বা অর্শ্বরোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

ফিস্টুলা বা ভগন্দরের লক্ষণ –

এনাল ফিস্টুলার লক্ষণ সমুহ

এনাল ফিস্টুলার ক্ষেত্রে বেশ কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন-

  • সাধারণত সারাক্ষণ একটি টনটনে ব্যথা থাকে যা হাঁটাচলা করলে, বসলে, কাশি দিলে অথবা পায়খানা করার সময় ব্যথা বেড়ে গিয়ে পায়ুপথের চারপাশ থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ নির্গত হয়। 
  • পায়ুপথের চতুর্দিকের ফুলে লাল হয়ে যেতে পারে এবং ফোঁড়া হলে অনেক সময় জ্বরও আসতে পারে। 
  • মলের সাথে রক্ত ও পূজ বের হয়ে থাকে।
  • রোগী মলত্যাগের ক্ষেত্রে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে অর্থাৎপায়খানার চাপ আসলে তা বুঝে উঠার আগে পায়খানা হয়ে যায় বা মলত্যাগের চাপ বেশিক্ষণ নিতে পারে না।
  • কিছু কিছু ক্ষেত্রে মলদ্বারের পাশের নালীর মত ছিদ্রটি বাইরের থেকে দেখা যায়। তবে রোগীর ক্ষেত্রে দেখা সাধারণত সম্ভব হয় না। 

এনাল ফিস্টুলা হলে করণীয় কি?

ফিস্টুলার লক্ষণগুলো দেখা দিলেই দেরী না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ হবে। ডাক্তারকে উপসর্গগুলো ভালোভাবে বুঝিয়ে বলা উচিত। চিকিৎসক সেক্ষেত্রে পায়ুপথের সমস্যার সাথে অন্ত্র বা পরিপাকনালীর অনন্যা সমস্যা আছে কিনা নিশ্চিত করে থাকেন। 

মলদ্বারের ফিস্টুলার অবস্থা জানার জন্য চিকিৎসক পায়ুপথে আলতোভাবে আঙ্গুল ঢুকিয়ে  যাচাই করতে পারে। এটিকে ডিজিটাল রেকটাল এক্সামিনেশন (DRI) বলা হয়।

এই পরীক্ষার ফলে চিকিৎসক যদি এনাল ফিসারের আশঙ্কা করেন তাহলে এনাল ফিসারের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা কোলোরেক্টাল সার্জন এর নিকট যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আরও কিছু  টেস্ট করে থাকেন এরপর নিশ্চিত হলে ফিস্টুলার সঠিক চিকিৎসা অথবা অস্ত্রোপচারের ব্যাবস্থা গ্রহণ করেন। 

এক্ষেত্রে যে টেস্ট বা পরীক্ষা নিরীক্ষা গুলো করা হয়ে থাকে তা হল –

  •  মলদ্বারে আঙ্গুল ঢুকিয়ে DRI করা হয় । 
  • প্রোক্টোস্কোপি করে থাকে যা পায়ুপথে নলের মত একটি বিশেষ যন্ত্র প্রবেশ করানো হয়। এই যন্ত্রের সাহায্যে এনাল ফিস্টুলার নালী আছে কিনা তা ভালোভাবে দেখে নিশ্চিত করা হয়।
  • এছাড়া এমআরআই, আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান, সিটি স্ক্যান এর মত পরীক্ষাও করা হতে পারে।
আরো পড়ুন: এনাল ফিসার কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

এনাল ফিস্টুলার চিকিৎসা-

ফিস্টুলা রোগীর জন্য প্রায় সব সময়ই সার্জারীর প্রয়োজন পড়ে। কারণ এ রোগ মেডিসিন দিয়ে কিছুটা সুস্থ হলেও অপারেশন ছাড়া কখনোই পুরোপুরি ভালো হয় না। এক্ষেত্রে যে সব সার্জারী গুলো করা হয়ে থাকে তা হল –

ফিস্টুলোটোমি: এটির মাধ্যমে মলদ্বারের নালী বা ছিদ্রের রাস্তাটি কেটে পূঁজ বের করে পরিষ্কার করা হয়। তারপর প্রয়োজন অনুসারে সেলাই অথবা সেলাই না করেও শুকাতে দেয়া হয়। সঠিকভাবে শুকিয়ে গেলে স্থানটি আগের মত স্বাভাবিক হয়ে যায়। 

সেটন পদ্ধতি: এই সেটন পদ্ধতিতে কয়েক সপ্তাহ মলদ্বারের ফিস্টুলার ভেতরে সেটন নামক বিশেষ এক ধরণের সুতা প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয়। সুতাগুলো ফিস্টুলা পুঁজগুলো শুষে নিয়ে স্থানটি শুকাতে সাহায্য করে। এভাবে সেটন পদ্ধতির মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ধাপে ফিস্টুলা সম্পর্ণরূপে সুস্থ করে তোলা হয়। 

অ্যাডভান্সমেন্ট এনাল ফ্ল্যাপ: এটির মাধ্যমে শরীরের অন্য যে কোন অংশ থেকে বিশেষ করে পায়ুপথের শেষ অংশ থেকে অল্প মাংস বা টিস্যু নিয়ে ফিস্টুলার রাস্তাটিতে এড করে দেয়া হয়। এ পদ্ধতিতে নতুন টিস্যু যোগ করার ফলে ফিস্টুলার অংশটিতে রক্ত চলাচল বেড়ে গিয়ে ফোঁড়া দ্রুত শুকিয়ে যায়। এর ফলে ফিস্টুলার পুরো অংশটি আর কেটে ফেলতে হয় না। 

‘লিফট’ পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে পায়ুপথের পেশিগুলো না কেটে শুধুমাত্র ফিস্টুলাটি সরিয়ে ফেলা হয়। 

এই পদ্ধতিগুলো ছাড়াও  বর্তমানে ফাইব্রিন গ্লু , লেজার এ ধরণের পদ্ধতিও ফিস্টুলার নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়। 

সাধারণত ফিস্টুলার সার্জারীর ক্ষেত্রে একদিনেই রোগী বাড়ী চলে যেতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে অপারেশনের পর কয়েকদিন হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন হতে পারে। ফিস্টুলার সার্জারীর প্রায় সবগুলো পদ্ধতিতে কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। চিকিৎসক রোগীর জন্য সার্বিকভাবে উপযুক্ত পদ্ধতিটি গ্রহণ করে থাকেন। 

ফিস্টুলা সার্জারীর পর সাধারণত  যে ধরণের সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে –

ইনফেকশন: ফিস্টুলা সার্জারীর পর ইনফেকশন হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক খেলে তা সেরে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে হাসপাতালে থেকে চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। 

পায়খানার চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা: প্রায় সব ধরণের ফিস্টুলার চিকিৎসায় এ সমস্যাটি হতে পারে। তবে তা বেশিদিন স্থায়ী হয় না। নিজে থেকেই এ সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। 

ফিস্টুলা পুনরায় ফিরে আসা: সার্জারী করে নিরাময় করার পরও একই স্থানে আবার ফিস্টুলা হতে পারে। 

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
দেহের বিভিন্ন রোগ ব্যাধি
রোগব্যাধি ও প্রতিকার

দেহের বিভিন্ন রোগ ব্যাধি

by Dr. Baby Akter 09/06/2024
written by Dr. Baby Akter

রোগ বলতে বিস্তৃতভাবে এমন একটি অবস্থাকে বোঝায় যা শরীরের স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে ব্যাহত করে। মানবদেহের যে কোন অস্বস্তিকর অবস্থা যেমন ব্যথা, কর্মহীনতা, যন্ত্রণা, অক্ষমতা, সিন্ড্রোম, সংক্রমণ, বিচ্ছিন্ন উপসর্গ, বিচ্যুতিপূর্ণ আচরণ বা কার্যকলাপকে রোগ সংজ্ঞায়িত করা হয়। সাধারণত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া, বহুকোষী জীব এবং প্রিয়ন নামে পরিচিত অ্যাবারেন্ট (Aberrant) প্রোটিন সহ প্যাথোজেনিক মাইক্রোবিয়াল এজেন্ট (Microbial Agents) উপস্থিতির ফলে সৃষ্টি হয় সংক্রামক রোগ আর ক্যান্সার, হৃদরোগ এবং জেনেটিক রোগ সমূহ সংক্রামকবিহীন রোগ হিসেবে পরিচিত।

মানব দেহের বিভিন্ন রোগের তালিকাঃ

  • অর্জিত রোগ (Acquired Disease)
  • তীব্র রোগ (Acute Illness)
  • দীর্ঘস্থায়ী রোগ (Chronic Disease)
  • জন্মগত ব্যাধি বা জন্মগত রোগ (Congenital Disorders or Congenital Diseases)
  • জেনেটিক রোগ (Genetic Disease)
  • বংশগত বা বংশগত রোগ (Hereditary or Hereditary Diseases)
  • আইট্রোজেনিক রোগ (Iatrogenic Disease)
  • ইডিওপ্যাথিক রোগ (Idiopathic Disease)
  • দুরারোগ্য ব্যাধি (Incurable Disease)
  • প্রান্তিক রোগ (Terminal Disease)
  • অ-সংক্রামক রোগ (Non-infectious Diseases)
  • অবক্ষয়জনিত রোগ (Degenerative Disease)
  • ইডিওপ্যাথিক রোগ (Idiopathic disease)
  • এলার্জি (Allergies)
  • অভাবজনিত রোগ (Deficiency Diseases)
  • গলগন্ড (Goitre)
  • রক্তের রোগ (Blood Diseases)
  • এইডস/এইচআইভি AIDS/HIV (Acquired Immune Deficiency Syndrome)
  • Parasites (পরজীবী) (Amebiasis – Entamoeba Histolytica Infection)
  • অ্যানথ্রাক্স (Anthrax)
  • এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু (Avian Influenza or Bird Flu)
  • বেবেসিওসিস (Babesiosis)
  • বোটুলিজম (Botulism)
  • ব্রুসেলোসিস (Brucellosis)
  • ক্যাম্পাইলোব্যাক্টেরিওসিস (Campylobacter Infection)
  • চিকেনপক্স (Chickenpox)
  • ক্ল্যামিডিয়া (Chlamydia Infections)
  • কলেরা (Cholera)
  • সিগুয়েটেরা (Ciguatera Fish Poisoning )
  • উপত্যকা জ্বর (Coccidioidomycosis / Valley Fever) 
  • করোনাভাইরাস রোগ (Coronavirus/2019 Novel Coronavirus/COVID-19)
  • ক্রিপ্টোস্পোরিডিয়াম (Cryptosporidium)
  • সিস্টিসারকোসিস (Cysticercosis)
  • ডেঙ্গু জ্বর (Dengue Fever)
  • ডিপথেরিয়া (Diphtheria Bacteria)
  • ডমোয়িক অ্যাসিড পয়জনিং (Domoic Acid Poisoning) 
  • ই. কোলাই সংক্রমণ (E. coli Infections)
  • ইবোলা ভাইরাস (Ebola Virus)
  • ইনফ্লুয়েঞ্জা (Flu Influenza)
  • গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস (Gastroenteritis )
  • রুবেলা (Rubella )
  • গিয়ার্ডিয়াসিস (Giardia)
  • গনোরিয়া (Gonorrhoeae)
  • হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা (Haemophilus Influenzae)
  • হান্টাভাইরাস (Hantaviruses)
  • হেপাটাইটিস এ (Hepatitis A)
  • হেপাটাইটিস বি (Hepatitis B)
  • হেপাটাইটিস সি (Hepatitis C)
  • লাসা জ্বর (Lassa Fever)
  • ভাইরাল হেমোরেজিক জ্বর (ভিএইচএফ) (Viral Hemorrhagic Fever-VHF)
  • ম্যালেরিয়া (Malaria)
  • মারবার্গ ভাইরাস (Marburg Virus Disease -MVD) 
  • মেলিওডোসিস রোগ বা হুইটমোরস ডিজিজ (Melioidosis Disease)
  • হাম (Measles)
  • মেনিনজাইটিস (Meningitis)
  • মেনিনোকোকাল ডিজিজ (Meningococcal Disease)
  • মাঙ্কিপক্স (Mpox)
  • গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস এবং নোরোভাইরাস (Gastroenteritis and Norovirus)
  • নন-গনোকোকাল ইউরেথ্রাইটিস (এনজিইউ) (Non-Gonococcal Urethritis -NGU)
  • প্লেগ (Plague )
  • হুপিং কাশি (Whooping Cough/Pertussis)
  • নিউমোকোকাল রোগ (Pneumococcal Disease)
  • মেনিনজাইটিস (Meningitis) 
  • সাইনাস প্রদাহ (Sinus Infection)
  • পোলিও / পোলিওমাইলাইটিস (Poliomyelitis/Polio)
  • জলাতঙ্ক রোগ (Rabies)
  • সিফিলিস (Syphilis)
  • ধনুষ্টঙ্কার (Tetanus)
  • যক্ষ্মা (টিবি) (Tuberculosis)

অর্জিত রোগ (Acquired Disease)

একটি অর্জিত রোগ হল এমন একটি অবস্থা যা একজনের জীবদ্দশায় কিছু সময়ে শুরু হয়েছিল, অথবা জন্মের সময় বা আগে থেকেই উপস্থিত থাকা যা জন্মগত রোগ বলা হয়ে থাকে। অর্জিত রোগ বা Acquired Disease কে শরীরের প্রাথমিক রোগও ধরা হয়।

স্বল্পমেয়াদী রোগ (Acute Illness)

এটি একটি স্বল্পমেয়াদী রোগ এবং তীব্র রোগ তবে কখনও কখনও একটি দীর্ঘমেয়াদিও হতে পারে। 

দীর্ঘস্থায়ী রোগ (Chronic Disease)

দীর্ঘস্থায়ী রোগ হল এমন একটি অবস্থা যা দীর্ঘ সময় ধরে থাকে, কমপক্ষে ছয় মাস স্থায়ী হয়। তবে অসুস্থতার ধরন এমন হয় যে, রোগীর  সারা জীবনও এরোগ স্থায়ী হতে পারে এবং এ ধরণের রোগ নিয়ে রোগী অনেকটা স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয় পড়ে।

জন্মগত ব্যাধি বা জন্মগত রোগ (Congenital Disorders or Congenital Diseases)

একটি জন্মগত ব্যাধি যা জন্মের সময় উপস্থিত হয়। এটি সাধারণত উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া একটি জেনেটিক রোগ। যেমন এইচআইভি / এইডসের মত রোগগুলো মায়ের কাছ থেকে সরাসরি সংক্রমণের ফলে হয়ে থাকে।

জেনেটিক রোগ (Genetic Disease)

একটি জেনেটিক রোগ এক বা একাধিক জেনেটিক মিউটেশনের(Genetic Mutations)কারণে হয়। এটি প্রায়শই উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়, তবে কিছু মিউটেশনগত জটিলতার কারণেও এ ধরনের রোগ হয়ে থাকে।

বংশগত রোগ (Hereditary or Hereditary Diseases)

বংশগত রোগ হল জেনেটিক মিউটেশনের (Genetic Mutation) কারণে সৃষ্ট এক ধরনের জেনেটিক রোগ যা বংশগত এবং পরিবার হতে পরিবারে চলতে থাকে। 

আইট্রোজেনিক রোগ (Iatrogenic Disease)

Iatrogenic রোগ এমন একটি অবস্থা যা চিকিৎসার ত্রুটি বা চিকিৎসার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এবং চিকিৎসা জটিলতার কারণে সৃষ্টি হয়। 

ইডিওপ্যাথিক রোগ (Idiopathic Disease)

ইডিওপ্যাথিক রোগ হল এমন একটি রোগ যার উৎস বা কারণ অজানা। তবে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে, সম্পূর্ণ অজানা কারণ সমূহ অনেক রোগের উৎসের বেশ কিছুদিক ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে ফলে ইডিওপ্যাথিক রোগ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে । 

দুরারোগ্য ব্যাধি (Incurable Disease)

যে সকল রোগ নিরাময় করা যায় না তাকে দুরারোগ্য ব্যাধি বলা হয়। কিছু দুরারোগ্য ব্যাধি নিরাময় করা না গেলেও কিছু কিছু অনিরাময়যোগ্য রোগ সবসময় ক্ষতিকর বা প্রাণঘাতী হয় না। এটি ধারাবাহিক চিকিৎসা ও জীবনযাপন পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বাভাবিক থাকা যায়। 

প্রান্তিক রোগ (Terminal Disease)

একটি প্রান্তিক রোগ বা টার্মিনাল ডিজিজ শরীরের এমন একটি অবস্থা যার ফলাফল অনিবার্য মৃত্যুর সম্ভবনা বলে ধরে নেয়া হয়। যেমন, এইডসের শেষ পরিণতি অনিবার্য মৃত্যু ছিল। কিন্তু এটি এখন নিরাময়যোগ্য, তবে অনির্দিষ্টকালের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা ও মেডিসিন সেবন অব্যাহত রাখতে হবে ।

সংক্রামক রোগ (Infectious Diseases)

যে সকল রোগ এক ব্যক্তির দেহ থেকে অন্য ব্যক্তির দেহে ছড়ায় তাকে সংক্রামক রোগ বলে। এগুলি সাধারণত প্যাথোজেন (ছত্রাক, রিকেটসিয়া, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, প্রোটোজোয়ান এবং কৃমি) নামক অণুজীব দ্বারা সৃষ্ট হয়। যখন একজন সংক্রামিত ব্যক্তির শরীর থেকে তরল নিঃসরণ করে, তখন প্যাথোজেনগুলো হোস্ট থেকে বেরিয়ে নতুন ব্যক্তিকে সংক্রমিত করতে পারে (হাঁচি, কাশি ইত্যাদি)। যেমন- কলেরা, চিকেনপক্স, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি।

অ-সংক্রামক রোগ (Non-Infectious Diseases)

এই রোগ প্যাথোজেন দ্বারা সৃষ্ট হয়, তবে অন্যান্য কারণ যেমন বয়স, পুষ্টির অভাব, ব্যক্তির লিঙ্গ এবং জীবনধারাও রোগটিকে প্রভাবিত করে। যেমন-  উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং ক্যান্সার। এ রোগ গুলো অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে না তবে কোন ব্যক্তির মধ্যে সুপ্ত অবস্থায় থাকলে তার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যেমন- আলঝেইমার রোগ, হাঁপানি, ছানি এবং হৃদরোগ ইত্যাদি রোগ গুলো অ-সংক্রামক রোগ।

অবক্ষয়জনিত রোগ (Degenerative Disease)

এ রোগ মূলত সময়ের সাথে সাথে কোষের অবনতির কারণে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর ত্রুটির কারণে ঘটে। যেমন অস্টিওপোরোসিসের ক্ষেত্রে হাড়ের দুর্বলতার কারণে ক্রোন ডিজেনারেটিভ রোগের সৃষ্টি হয়। এতে হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

আবার কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের বা (Central Nervous System) কোষের অবক্ষয় ঘটার কারণে সৃষ্ট অবস্থাকে নিউরোডিজেনারেটিভ ডিসঅর্ডার (Neurodegenerative Disorder) বলা হয়। যেমন আলঝেইমার রোগ বিশেষ একটি উদাহরণ। সাধারণত বার্ধক্য এবং বডিওয়্যার দ্বারা ডিজেনারেটিভ রোগ সৃষ্ট হয়। তবে লাইফস্টাইল এবং কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণেও হয় ।

এলার্জি (Allergies)

শরীর যখন অ্যালার্জেন নামক কিছু বাহ্যিক পদার্থের প্রতি অতিসংবেদনশীল (Hypersensitive) হয়ে ওঠে তখন অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দেয়। এটি সাধারণত ক্ষতিকারক পদার্থের প্রতি ইমিউন সিস্টেম এর অস্বাভাবিকভাবে প্রতিক্রিয়ার ফলে সৃষ্টি হয়। অ্যালার্জেনের মধ্যে রয়েছে ধুলো, পরাগ, পশুর খুশকি, মাইট, পালক, ল্যাটেক্স (Latex) এবং বাদাম এবং গ্লুটেনের (Gluten) মতো কিছু খাদ্য পণ্য। চিনাবাদাম এবং অন্যান্য বাদাম গুরুতর অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখে যা প্রাণঘাতী অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। যেমন শ্বাস নিতে অসুবিধা, টিস্যু ফুলে যাওয়া এবং শ্বাসনালী ব্লক করা এবং অ্যানাফিল্যাক্সিস শক ইত্যাদি।

সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে কাশি, হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চুলকানি এবং চোখ লাল হওয়া এবং ত্বকে ফুসকুড়ি। এই অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়ার ফলে ক্ষতিকর হাঁপানি রোগও সৃষ্টি হয়ে থাকে। কখনও কখনও, মৌমাছির হুল এবং পিঁপড়ার কামড়ও অ্যালার্জির উদ্রেক করে। শেলফিশ এবং কিছু কিছু ওষুধ সেবন অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

হাঁপানি (Asthma) একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ, যা প্রধানত ফুসফুসের ব্রঙ্কি এবং ব্রঙ্কিওলকে প্রভাবিত করে। বায়ুবাহিত অ্যালার্জেন যেমন পরাগ বা ধুলো এর জন্য বিশেষভাবে দায়ী। হাঁপানির যে লক্ষণগুলো দেখা যায় তা হলো- শ্বাস নিতে অসুবিধা বা শ্বাসকষ্ট এবং কাশি।

অভাবজনিত রোগ (Deficiency Diseases)

হরমোন, খনিজ, পুষ্টি এবং ভিটামিনের ঘাটতির কারণে (Deficiency Diseases) বা অভাবজনিত রোগ হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ইনসুলিন তৈরি বা ব্যবহারে অক্ষমতার কারণে ডায়াবেটিস (Diabetes) দেখা দেয়, গলগন্ড (Goitre) প্রধানত আয়োডিনের অভাবের কারণে হয় এবং খাদ্যে প্রোটিনের অভাবের কারণে কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor) রোগ হয়। ভিটামিন B-1 এর অভাবে বেরিবেরি (Beriberi) রোগ হয়।

গলগন্ড (Goitre)

এটি থাইরয়েড গ্রন্থির একটি অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে খাদ্যনালী বা বুক ও ঘাড়ের অন্যান্য অঙ্গকে ব্লক করে দেয়। এর ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস ও খেতে অসুবিধা হয়।

রক্তের রোগ (Blood Diseases)

রক্তে প্লাজমা (Plasma) শ্বেত রক্তকণিকা (White Blood Cells), প্লেটলেট (Platelets) এবং লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cells) থাকে। যখন এই উপাদান একটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তখন রক্তের ব্যাধি হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তি সিকেল সেল (Sickle Cell Disease) রোগে আক্রান্ত হলে লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস হয়ে যায়। লোহিত রক্তকণিকা গুলোর আকারে বিকৃত হয় ফলে অক্সিজেন বহন করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ফলস্বরূপ, এই রোগটি দীর্ঘস্থায়ী অ্যানিমিয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন- শ্বাসকষ্ট এবং ক্লান্তি।

অন্যান্য রোগ যেমন ইওসিনোফিলিক ডিসঅর্ডার (Eosinophilic Disorders), লিউকেমিয়া (Leukaemia), মায়লোমা (Cancer of Plasma cells in bone marrow), সিকেল সেল অ্যানিমিয়া (Sickle Cell Anemia), অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া (Aplastic Anemia), হেমোক্রোমাটোসিস (Hemochromatosis) এবং ভন মিলার (Von Miller) এবং রক্ত জমাট বাঁধা (blood-clotting disorder) এই ধরণের রোগগুলো রক্তের রোগ (Blood Diseases) এর শ্রেণিবিন্যাসের আওতায় পড়ে।

সাধারণ লক্ষণ (General Symptoms):

ফ্যাকাশে ত্বক, লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া, জ্বর, রক্তপাত, ঘা, ত্বকে ফুসকুড়ি ইত্যাদি।

কিছু কিছু রোগ বা ডিজিজগুলো বিভিন্ন অণুজীব দ্বারা সৃষ্ট হয় এবং ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, ভাইরাস ইত্যাদি দ্বারা সৃষ্ট হয় আবার কিছু রোগ বহুকোষী জীব যেমন কৃমি দ্বারা সৃষ্ট হয়।

এইডস / এইচআইভি AIDS / HIV (Acquired Immune Deficiency Syndrome)

HIV (Human Immunodeficiency Virus) বা এইচআইভি এমন একটি ভাইরাস যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আক্রমণ করে। যদি এইচআইভির চিকিৎসা করা না হয়, তাহলে এটি এইডস বা AIDS (Acquired Immunodeficiency Syndrome) হতে পারে। একবার কোন ব্যক্তি এইচআইভিতে আক্রান্ত হলে, তা সারাজীবনের জন্য থাকে।

বর্তমানে এ রোগ নির্মূল করার কার্যকর কোন চিকিৎসার নেই বা চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া যায় না। তবে সঠিক মেডিক্যাল কেয়ার এর মাধ্যমে এইচআইভি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এইচআইভি (HIV) আক্রান্ত ব্যক্তিরা যদি সঠিক চিকিৎসা ব্যাবস্থাপনা পেয়ে থাকে তাহলে  দীর্ঘ  সুস্থ জীবনযাপন করতে পারে এবং সঙ্গীদেরও নিরাপদ রাখতে পারে।

অ্যামেবিয়াসিস (Amebiasis – Entamoeba Histolytica Infection)

অ্যামেবিয়াসিস পরজীবী (Entamoeba Histolytica) দ্বারা সৃষ্ট একটি রোগ। এটি যে কোন ব্যক্তির মধ্যে হতে পারে, যদিও গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে নিম্নমানের স্যানিটারি ব্যবহার করা লোকদের বেশি হয়ে থাকে। এই রোগ নির্ণয় করা কিছুটা কঠিন, কারণ অন্যান্য পরজীবীগুলিকেও মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখতে প্রায় অনেকটা E. Histolytica এর মতো। এটি দ্বারা সংক্রমিত হলেও ব্যক্তি সবসময় অসুস্থ হয় না। তবে চিকিৎসক যদি সংক্রমন নিশ্চিত করেন তাহলে অবশ্য চিকিৎসার প্রয়োজন এবং এই রোগের মেডিসিন পাওয়া অনেকটা সহজ।

অ্যানথ্রাক্স (Anthrax)

অ্যানথ্রাক্স হল Gram-Positive, Rod-Shaped Bacteria দ্বারা সৃষ্ট একটি গুরুতর সংক্রামক রোগ যা ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস নামে পরিচিত। এটি প্রাকৃতিকভাবে মাটিতে ঘটে এবং সাধারণত বিশ্বজুড়ে গৃহপালিত এবং বন্য প্রাণীদের মধ্যে বেশি হয়ে থাকে। সংক্রামিত প্রাণী বা দূষিত পশু পণ্যের সংস্পর্শে এলে মানুষ অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হতে পারে। মানুষ এবং প্রাণী উভয়ের ক্ষেত্রে অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হলে মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে তুলতে পারে।

এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু (Avian Influenza or Bird Flu)

এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু (Avian Influenza or Bird Flu) বলতে এভিয়ান (পাখি) ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু) টাইপ এর ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট রোগকে বোঝায়। এই ভাইরাসগুলি প্রাকৃতিকভাবে বিশ্বব্যাপী বন্য জলজ পাখিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং গৃহপালিত হাঁস-মুরগি এবং অন্যান্য পাখি ও প্রাণী প্রজাতিকে সংক্রমিত করতে পারে। বার্ড ফ্লু ভাইরাস সাধারণত মানুষকে সংক্রমিত করে না। 

বেবেসিওসিস (Babesiosis)

বেবেসিওসিস মাইক্রোস্কোপিক পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট হয় যা লোহিত রক্তকণিকাকে সংক্রামিত করে। এটি সাধারণত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অঞ্চল উত্তর-পূর্ব এবং উচ্চ মধ্যপশ্চিমের কিছু অংশে ঘটে এবং উষ্ণ মাসগুলিতে এ রোগ সর্বোচ্চ হয়। যদিও বাবেসিয়ায় আক্রান্ত অনেকের উপসর্গ থাকে না, তবে যারা চিকিৎসকের সাহায্যে এ রোগ সস্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। ব্যাবেসিওসিস একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। 

বোটুলিজম (Botulism)

বোটুলিজম একটি বিরল রোগ যা শরীরের স্নায়ু আক্রমণ করে এমন একটি বিষ দ্বারা সৃষ্ট। এ রোগের লক্ষণগুলো সাধারণত পেশীগুলির দুর্বলতা দিয়ে শুরু হয় যা চোখ, মুখ এবং গলা নিয়ন্ত্রণ করে। এই দুর্বলতা ঘাড়, বাহু, ধড় এবং পায়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বোটুলিজম শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে জড়িত পেশীগুলিকেও দুর্বল করে দিতে পারে, যা শ্বাস নিতে অসুবিধা এবং এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

ব্রুসেলোসিস (Brucellosis)

ব্রুসেলোসিস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রামক রোগ। সংক্রামিত প্রাণী বা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা দূষিত পশু পণ্যের সংস্পর্শে থাকলে মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। যেসব প্রাণী সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত হয় তাদের মধ্যে রয়েছে ভেড়া, গবাদি পশু, ছাগল, শূকর এবং কুকুর।

ক্যাম্পাইলোব্যাক্টেরিওসিস (Campylobacter Infection)

ক্যাম্পাইলোব্যাক্টেরিওসিস একটি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রমণ যা অন্ত্রের ট্র্যাক্ট (Intestinal Tract) কে প্রভাবিত করে।  ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর ব্যাকটেরিয়া দ্বারা দূষিত খাবার বা পানীয় খেলে এটি হতে পারে। যে কেউ এক বা একাধিকবার ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর এর দ্বারা সংক্রমণ হতে পারে। সানফ্রান্সিসকোতে ডায়রিয়াজনিত রোগের অন্যতম কারণ হলো ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর ব্যাকটেরিয়া ।

চিকেনপক্স (Chickenpox)

চিকেনপক্স ভেরিসেলা-জোস্টার ভাইরাস (ভিজেডভি) (Varicella-Zoster Virus-VZV) দ্বারা সৃষ্ট একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। এটির  সাধারণ উপসর্গগুলির মধ্যে একটি চুলকানি, ফোস্কা-সদৃশ ফুসকুড়ি হতে পারে। ফুসকুড়ি প্রথমে বুকে, পিঠে এবং মুখে দেখা দেয় এবং তারপর সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

চিকেনপক্স গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে, বিশেষ করে গর্ভাবস্থায়, শিশু, বয়ঃসন্ধিকালে, প্রাপ্তবয়স্কদের এবং দুর্বল ইমিউন সিস্টেম (জীবাণু এবং অসুস্থতার সাথে লড়াই করার ক্ষমতা কম) যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে।

ক্ল্যামাইডিয়া (Chlamydia Infections)

Chlamydia (cla-mid-ee-ah) হল ক্ল্যামাইডিয়া ট্র্যাকোমাটিস (Chlamydia Trachomatis) নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি যৌন সংক্রমণ (STI)। ব্যাকটেরিয়াজনিত এসটিআই ক্ল্যামাইডিয়া মুখ, যোনি এবং পায়ূ বা যৌনতার মাধ্যমে এক ব্যক্তির থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। অনেক সময় প্রসবের সময় মা থেকে নবজাতকের কাছেও যেতে পারে। ক্ল্যামাইডিয়া সংক্রমণ অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে নিরাময়যোগ্য রোগ ।

কলেরা (Cholera)

কলেরা হল একটি তীব্র ডায়রিয়ার সংক্রমণ যা ভিব্রিও কলেরি ব্যাকটেরিয়া  (Vibrio Cholerae Bacteria) যুক্ত দূষিত খাবার বা পানি খাওয়ার কারণে ঘটে। ভি. কলেরিতে সংক্রামিত অধিকাংশ লোক অসুস্থ হন না আবার কিছু কিছু কলেরা-সংক্রামিত রোগীদের অল্প বা মাঝারি ডায়ারিয়ার উপসর্গ দেখা যায়। তবে মারাত্বক ক্ষেত্রে কলেরার কারণে ডায়ারিয়া হঠাৎ করে শুরু হয় এবং এর কারণে অতি দ্রুত শরীর থেকে তরল পদার্থ বেরিয়ে যায়। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। উপসর্গ গুলো সাধারনত সাদা রঙের পানির মত পাতলা পায়খানা হয় এবং বমিও হতে পারে। 

সিগুয়েটেরা (Ciguatera Fish Poisoning)

Gambierdiscus Toxicus নামক সামুদ্রিক অণুজীব দ্বারা উৎপাদিত টক্সিন ধারণ করা মাছ খাওয়ার ফলে মাছের বিষক্রিয়া থেকে  সিগুয়েটেরা হয়ে থাকে। এতে বমি বমি ভাব, বমি এবং স্নায়বিক উপসর্গ যেমন আঙ্গুল বা পায়ের আঙ্গুলে ঝাঁকুনি অনুভব হতে পারে।

উপত্যকা জ্বর (Coccidioidomycosis / Valley Fever) 

উপত্যকা জ্বর, যাকে Coccidioidomycosis ও বলা হয়, যা Coccidioides ছত্রাক দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রমণ। ছত্রাকটি দক্ষিণ-পশ্চিম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে মাটিতে পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। সম্প্রতি দক্ষিণ-মধ্য ওয়াশিংটনেও ছত্রাকটি পাওয়া গেছে। বায়ু থেকে আণুবীক্ষণিক ছত্রাকের স্পোরগুলিতে শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে Valley Fever হতে পারে, যদিও বেশিরভাগ লোক খুব একটা অসুস্থ হয় না। সাধারণত, উপত্যকা জ্বরে অসুস্থ হলেও সপ্তাহ থেকে মাসের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবে ভালো হয়ে যাবে, তবে কিছু কিছু আক্রান্ত ব্যাক্তির ক্ষেত্রে অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের প্রয়োজন হয়।

করোনাভাইরাস রোগ (Coronavirus / 2019 Novel Coronavirus / COVID-19)

করোনাভাইরাস রোগ (COVID-19) হল SARS-CoV-2 ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রামক রোগ।

ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত বেশিরভাগ লোকেরা হালকা থেকে মাঝারি শ্বাসকষ্টের অসুস্থতা অনুভব করে এবং বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়াই সেরে উঠে। তবে কিছু কিছু আক্রান্ত ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হয়ে সেক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। 

বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ, ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগ বা ক্যান্সার আছে তাদের গুরুতর অসুস্থতা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যে কেউ COVID-19-এ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে এবং যে কোনও বয়সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে মারাও যেতে পারে। 

সাধারণত COVID-19 লক্ষণগুলো ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ২ থেকে ১৪ দিন পরে দেখা যায়। এর বিশেষ লক্ষণগুলো হলো- শুষ্ক কাশি, নিঃশ্বাসের দুর্বলতা, স্বাদ বা গন্ধ হারানো, চরম ক্লান্তি, পেট খারাপ, বমি ও ডায়রিয়া, মাথাব্যথা, শরীর বা পেশী ব্যথা, জ্বর বা ঠান্ডা লাগা, নাক দিয়ে পানি পড়া বা গলা ব্যথা ইত্যাদি।

সংক্রামিত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি, কথা বলা, গান বা শ্বাস নেওয়ার সময় ছোট তরল কণা সংক্রামিত ব্যক্তির মুখ বা নাক থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই রোগে অসুস্থ বোধ করলে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাড়িতে থাকা এবং বিচ্ছিন্ন থাকা উচিত। 

 COVID-19 ভ্যাকসিন সম্পর্কে আপ টু ডেট থাকলে গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যু ঝুঁকি কমাতে পারে। তাছাড়া করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে  শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা ,  জনবহুল পরিবেশে মাস্ক পরা এবং সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরী।

ক্রিপ্টোস্পোরিডিয়াম (Cryptosporidium)

ক্রিপ্টোস্পোরিডিয়াম একটি মাইক্রোস্কোপিক পরজীবী যা ডায়রিয়াজনিত রোগ ক্রিপ্টোস্পোরিডিওসিস সৃষ্টি করে। এটি সাধারণত পরজীবী বা “ক্রিপ্টো” নামে পরিচিত। ক্রিপ্টোস্পোরিডিয়ামের অনেক প্রজাতি রয়েছে যা প্রাণীদের সংক্রামিত করে, যার মধ্যে কিছু মানুষকেও সংক্রামিত করে। পরজীবীটি বাইরের একটি শেল দ্বারা সুরক্ষিত থাকে যা এটিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য শরীরের বাইরে বেঁচে থাকতে সহায়তা করে। এই পরজীবীটি বিভিন্ন উপায়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে তবে পানির মাধ্যমে সহজে পড়ে। 

সিস্টিসারকোসিস (Cysticercosis)

সিস্টিসারকোসিস হল ট্যাপওয়ার্ম টেনিয়া সোলিয়ামের লার্ভা সিস্ট দ্বারা সৃষ্ট একটি পরজীবী টিস্যু সংক্রমণ। এই লার্ভা সিস্টগুলি মস্তিষ্ক, পেশী বা অন্যান্য টিস্যুকে সংক্রামিত করে এবং বেশিরভাগ নিম্ন-আয়ের দেশগুলিতে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এটি আক্রমণের সম্ভবনা বেশি থাকে। শুয়োরের মাংসে যদি লার্ভা সিস্ট থাকে তবে কম রান্না করা শুকরের মাংস খাওয়ার ফলে অন্ত্রের টেপওয়ার্ম হতে পারে। টেপওয়ার্মে আক্রান্ত মানুষের মলে টেপওয়ার্মের ডিম খেয়ে শূকরও সংক্রমিত হয়।

ডেঙ্গু জ্বর (Dengue Fever)

সংক্রমিত এডিস প্রজাতির (Ae. aegypti বা Ae. albopictus) মশার কামড়ের মাধ্যমে ডেঙ্গু ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক, প্রায় 4 বিলিয়ন মানুষ, ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করে। অপরিছন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

ডেঙ্গু জ্বরের সাধারণ উপসর্গগুলো হল – জ্বর, চোখে ব্যথা, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা, ফুসকুড়ি, হাড়ের ব্যথা, বমি বমি ভাব/বমি, জয়েন্টে ব্যথা, ফুসকুড়ি, চোখের ব্যথা(সাধারণত চোখের পিছনে), পেশী, জয়েন্ট বা হাড়ের ব্যথা) ডেঙ্গুর লক্ষণ সাধারণত ২-৭ দিন স্থায়ী হয়। বেশিরভাগ আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায় এক সপ্তাহ পরে সুস্থ হয়ে উঠে।

ডেঙ্গুর চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই, ডেঙ্গুর উপসর্গ অনুসারে চিকিৎসা করা হয়। এ রোগে আক্রান্ত  হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া  উচিত। ডেঙ্গু জ্বরে অধিক সচেতনতা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতলে ভর্তি করানো উচিত। অন্যথায় রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

আরো পড়ুন: টাইফয়েড জ্বরের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা 

ডিপথেরিয়া (Diphtheria Bacteria)

ডিপথেরিয়া হল Corynebacterium Diphtheriae নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি গুরুতর সংক্রমণ রোগ। এটি  প্রধানত গলায় এবং শ্বাসনালীতে আক্রান্ত করে। ফলে শ্বাস নিতে অসুবিধা, হার্টের সমস্যা সৃষ্টি করে এতে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সিডিসি ডিপথেরিয়া প্রতিরোধের জন্য শিশু, কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্কদেরকে টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

Diphtheria Bacteria ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ে, সাধারণত শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে, যেমন কাশি বা হাঁচি থেকে। সংক্রমিত খোলা ঘা বা আলসার স্পর্শ করলে। সাধারণত একই পরিবারের লোকজন, রোগীর সেবায় নিয়োজিত বা কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে এ রোগ সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

ডমোয়িক অ্যাসিড পয়জনিং (Domoic Acid Poisoning) 

ডমোয়িক অ্যাসিড পয়জনিং হল অ্যামনেসিক শেলফিশ পয়জন (এএসপি) (Amnesic Shellfish Poisoning -ASP) নামক একটি সামুদ্রিক বায়োটক্সিন যা ডায়াটম সিউডো-নিটসচিয়া (Diatom Pseudo-nitzschia) এসপি দ্বারা উৎপাদিত এক ধরনের মাইক্রোস্কোপিক সামুদ্রিক শৈবাল। অ্যামনেসিক শেলফিস পয়জন দ্বারা দূষিত শেলফিশ খেলে মানুষ ডমোয়িক অ্যাসিড পয়জনিংয়ে আক্রান্ত হতে পারে।

ই. কোলাই সংক্রমণ (E. Coli Infections)

Escherichia Coli (সংক্ষেপে E. coli) হল এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া যা পরিবেশ, খাবার এবং মানুষ ও প্রাণীর অন্ত্রে পাওয়া যায়। ই. কোলাই একটি বৃহৎ এবং বৈচিত্র্যময় ব্যাকটেরিয়ার গ্রুপ। ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া ডায়রিয়ার, মূত্রনালীর সংক্রমণ, শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতা এবং নিউমোনিয়াসহ আরো বেশ কিছু অসুস্থতার সৃষ্টি করতে পারে।

দূষিত খাবার, দূষিত পানি, অপরিছন্ন খাদ্যাভাস, ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া থাকা মাটিতে উৎপাদিত সবজি গ্রহণ, হাসপাতালের দূষিত আবর্জনার সংস্পর্শে থাকা ইত্যাদি কারণে ই. কোলাই সংক্রমণ ঘটে।

ইবোলা ভাইরাস (Ebola Virus)

ইবোলা রোগটি ভাইরাসের একটি গ্রুপের সংক্রমণের ফলে হয় যা ইবোলা ভাইরাস (Ebola Virus) নামে পরিচিত, এটি প্রথমে সাব-সাহারান আফ্রিকায় পাওয়া যায়। যদিও ইবোলা রোগ বিরল, মানুষ আক্রান্ত প্রাণী (বাদুড় বা প্রাইমেট বর্গের প্রাণী) অথবা ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত অসুস্থ বা মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শের মাধ্যমে এই রোগটি হয়ে থাকে। তাছাড়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ হাঁচি, কাশি, ঘাম, লালা বা তাঁর সঙ্গে যৌন সংসর্গের মাধ্যমেও এই ইবোলা ভাইরাস এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

এই রোগের লক্ষণ ও উপসর্গগুলো হলো – জ্বর, গুরুতর মাথাব্যথা, পেশী এবং জয়েন্টে ব্যথা, দুর্বলতা ও ক্লান্তি, গলা ব্যথা, ক্ষুধামান্দ্য, পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া এবং বমি সহ গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল লক্ষণ দেখা দেয়। তাছাড়া রক্তপাত বা ক্ষত সৃষ্টি এবং একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন- কিডনি, লিভারের মত দেহের প্রয়োজনীয় অঙ্গ বিকল হতে পারে। শেষে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

ইনফ্লুয়েঞ্জা (Flu/Influenza)

ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু) Flu (Influenza) ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট একটি সাধারণ সংক্রামক রোগ। ফ্লু সাধারণত এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে  শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্ৰান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি ও নিঃশ্বাসের মাধ্যমেও এ রোগ ছড়ায় এবং মৌসুমী ফ্লু সাধারণত শরৎকালে এবং শীতকালে এর সংক্রমণ বেশি ঘটে। 

ইনফ্লুয়েঞ্জার চার ধরনের টাইপ রয়েছে। তার মধ্যে টাইপ এ , টাইপ বি, টাইপ সি ইনফ্লুয়েঞ্জায় বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যায়। তবে টাইপ ডি ইনফ্লুয়েঞ্জা এর মাধ্যমে আক্রান্ত হওয়ার প্রমান মিলে নি। 

ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হলে রোগীর জ্বর, সর্দি-কাশি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, বমি-ভাব হওয়া ও বমি হওয়ার উপসর্গ গুলো দেখা যায়। এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে রোগীকে বিশ্রামে থাকতে হয়। 

গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস (Gastroenteritis)

গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস হল পাকস্থলী এবং ছোট ও বড় অন্ত্রের প্রদাহ। ভাইরাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস হল বিভিন্ন ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রমণ যার ফলে বমি বা ডায়রিয়া হয়। এটিকে প্রায়ই “Stomach Flu” বলা হয়, যদিও এটি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট নয়। রোটাভাইরাস, নোরোভাইরাস, অ্যাডেনোভাইরাস, স্যাপোভাইরাস এবং অ্যাস্ট্রোভাইরাস সহ অনেকগুলি বিভিন্ন ভাইরাস গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস সৃষ্টি করতে পারে।

ভাইরাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের প্রধান উপসর্গগুলি হল পাতলা পানির মত ডায়রিয়া এবং বমি। আক্রান্ত ব্যক্তির মাথাব্যথা, জ্বর এবং পেটে ব্যথা (“পেট ব্যথা”) হতে পারে। সাধারণভাবে, গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস সৃষ্টিকারী ভাইরাসের সংক্রমণে ১ থেকে ২ দিন পরে লক্ষণগুলি শুরু হয় এবং ১ থেকে ১০ দিন স্থায়ী হতে পারে।

গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের আলাদা করে কোন নিরাময় ব্যবস্থা বা ঔষধ নেয়। চিকিৎসকরা বিভিন্ন লক্ষণের ভিত্তিতে চিকিৎসা করে থাকেন। তবে এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল তরল খাবার ও পানীয় খাওয়া। এতে শরীরকে ডিহাইড্রেশন এর মারাত্বক ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শে নেয়া উচিত । 

রুবেলা (Rubella)

রুবেলা / Rubella একটি ভাইরাসঘটিত তীব্র ছোঁয়াচে রোগ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Measles Morbillivirus। ভাইরাসটি শুরুর দিকে শ্বাসনালিকে সংক্রমন করে তারপর রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে এই রোগ হাম (Measles) নামেও পরিচিত। 

রুবেলার লক্ষণ প্রকাশের আগে বেশ কিছুদিন পর্যন্ত সুপ্তাবস্থায় থাকে। 

এরোগে শুরুর দিকে জ্বর হয় এবং শরীর ম্যাজ ম্যাজ করে বা হালকা ব্যথা লাগে। প্রথম দু-এক দিন অনেক তীব্র জ্বরও হতে, চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়ে, চোখ-মুখ ফুলে যেতে পারে, শরীরে ছোট ছোট লালচে গুটি/ফুসকুড়ি দেখা দেয় এবং দ্রুতই তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

রুবেলা হলে রোগীকে পুরোপুরি বিশ্রামে থাকতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তিন দিনের চিকিৎসায় এ রোগের জ্বর নিরাময় এবং সাত দিনের মধ্যেই আক্রান্ত রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে। 

রুবেলা প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ এবং এর বিরুদ্ধে কার্যকরী টিকা রয়েছে।

গিয়ার্ডিয়াসিস বা Giardia

Giardia বা গিয়ার্ডিয়াসিস হল একটি ক্ষুদ্র পরজীবী (জীবাণু) যা মাটি, খাদ্য, পানির মাধ্যমে মানুষ বা প্রাণীর দেহে সংক্রামিত হয়ে ডায়রিয়াজনিত রোগ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে, দূষিত পানি পান করার মাধ্যমে দেহে সহজে Giardia ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এ রোগ জীবাণু সংক্রমণের ১ থেকে ২ সপ্তাহ পরে শুরু হয়। যে লক্ষণগুলো দেখা দেয় তার মধ্যে- বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা, পেট ফাঁপা, গ্যাস, এবং প্রচুর পরিমাণে পানিযুক্ত, দুর্গন্ধযুক্ত, চর্বিযুক্ত মল বের হওয়া, ডিহাইড্রেশন (তরল হ্রাস) হয়ে থাকে।

সাধারণত লক্ষণ ভেদে এই রোগের চিকিৎসা করা হয় তবে Giardia রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ বেশি জরুরী।

গনোরিয়া (Gonorrhoeae)

গনোরিয়া হল Neisseria Gonorrhoeae নামক ব্যাক্টেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি যৌন সংক্রমিত সংক্রমণ রোগ। এটি যৌন মিলনের ফলে যোনি, মূত্রনালী, মলদ্বার এবং ওরাল সেক্সের কারণে গলায় সংক্রমিত হয়ে থাকে। যদি গর্ববতী মহিলা গনোরিয়ায় আক্রান্ত থাকে তাহলে তার নবজাতকেরও এই রোগ সংক্রমণ হয়। গনোরিয়াল ইনফেকশন অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে গনোরিয়া রোগ সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।

সাধারণত পুরুষদের লিঙ্গে গনোরিয়ায় সংক্রামিত হওয়ার ২-৫ দিনের মধ্যে লক্ষণগুলো দেখা দেয়। বেশির ভাগ নারীদের ক্ষেত্রে তেমন কোন লক্ষণ দেখা যায় না যদি দেখা দেয় তা ১-১০ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান হয়।  

দেহের কোন অংশে এরোগ আক্রান্ত হয়েছে তার উপর লক্ষণগুলো নির্ভর করে যেমন-লিঙ্গের মাথা থেকে স্রাব, মাঝে মাঝে লিঙ্গ বা অন্ডকোষ ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবের সাথে ব্যথা অথবা জ্বালা, মাঝে মাঝে স্রাব দেখা দিতে পারে আবার  চিকিৎসা ছাড়াই চলে যেতে পারে, যদি গলায় আক্রান্ত হয় গলায় ব্যথা, চুলকানি হতে পারে।

মহিলাদের লক্ষণগুলোর মধ্যে-তলপেটে ব্যথা, যোনি স্রাব, অস্বাভাবিক যোনি বা পায়ূ রক্তপাত, পেলভিক ক্র্যাম্পিং, বিশেষ করে লিঙ্গের সাথে এ ধরণের লক্ষণগুলো দেখা দেয়। 

সাধারণত দুইভাবে এন্টিবায়োটিক দিয়ে গনোরিয়া রোগের চিকিৎসা করা হয়। একটি ইনজেকশনের মাধ্যমে অন্যটি খাওয়ার ওষুধ এর মাধ্যমে। এন্টিবায়োটিক শুরু করার পর থেকে সপ্তাহখানেক শারীরিক মিলন বন্ধ রাখতে হবে। সেই সাথে সঙ্গীকেও চিকিৎসা নিতে হবে। না হলে রোগটি আবারো ফিরে আসতে পারে। 

তবে হোমিওপ্যাথিতেও এ রোগের ভাল চিকিৎসা আছে এবং এটা করা হয় মায়জমভিত্তিক (রোগীর জীবন বৃত্তান্ত কেস স্টাডি নিয়ে ) লক্ষণ অনুসারে এই পদ্ধতিতেও উত্তম ফলাফল পাওয়া যায়। 

হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা (Haemophilus Influenzae)

হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ যা H. Influenzae / এইচ ইনফ্লুয়েঞ্জা নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট হয়।Haemophilus Influenzae এমন এক ধরণের ব্যাকটেরি যা দেহে বিভিন্ন ধরণের সংক্রমণ ঘটাতে পারে। এই সংক্রমণগুলি কানে হালকা থেকে শুরু করে রক্তের সংক্রমণের মতো গুরুতর হতে পারে ।

চিকিৎসকেরা কিছু  কিছু এইচ. ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণকে “আক্রমনাত্মক” বলে মনে করেন। আক্রমণাত্মক ব্যাকটেরিয়া গুলো শরীরের এমন অংশগুলিতে আক্রমণ করে যা সাধারণত জীবাণু থেকে মুক্ত থাকে।

উদাহরণস্বরূপ, এইচ. ইনফ্লুয়েঞ্জা মেরুদণ্ড এবং মস্তিষ্কের চারপাশে তরল অবস্থাকে আক্রমণ করে, যা মেনিনজাইটিস বা রক্ত ​​প্রবাহ ঘটায় ও ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি করে। এই ধরণের আক্রমণাত্মক রোগ সাধারণত গুরুতর হয়ে থাকে যা হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হয় অনেকক্ষেত্রে মৃত্যুও হতে পারে। 

এইচ ইনফ্লুয়েঞ্জা দ্বারা সৃষ্ট আক্রমণাত্মক রোগগুলোর হল  :

নিউমোনিয়া / Pneumonia (ফুসফুসের সংক্রমণ)

রক্ত প্রবাহের সংক্রমণ / Bloodstream Infection

মেনিনজাইটিস / Meningitis (মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডের আস্তরণের ফুলে যাওয়া)

এপিগ্লোটিটিস / Epiglotittis (গলায় ফোলা)

সেলুলাইটিস / Cellulitis (ত্বকের সংক্রমণ)

সংক্রামক আর্থ্রাইটিস / Infectious Arthritis (জয়েন্টের প্রদাহ) 

হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের লক্ষণ গুলো ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে যেমন-

নিউমোনিয়ার সাধারণত যে লক্ষণগুলি দেখা যায়: জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, ঘাম, বুক ব্যাথা, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি।

রক্ত ​​প্রবাহের সংক্রমণের ক্ষেত্রে সাধারণত যে লক্ষণগুলি দেখা দেয়: জ্বর, সর্দি, অতিরিক্ত ক্লান্তি, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি, ডায়রিয়া, দুশ্চিন্তা, শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, পরিবর্তিত মানসিক অবস্থা (বিভ্রান্তি)।

মেনিনজাইটিসের ক্ষেত্রে সাধারণত যে লক্ষণগুলি হঠাৎ করে শুরু হয়: জ্বর, মাথাব্যথা, শক্ত ঘাড়, বমি বমি ভাব বা বমি, ফটোফোবিয়া (চোখ আলোর প্রতি বেশি সংবেদনশীল) .

হ্যান্ড ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ (HFMD)

হাত, পা এবং মুখের রোগ (Hand, Foot and Mouth Disease-HFMD) সাধারনত ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা দেয়। তবে যে কোন বয়সে দেখা দিতে পারে। Coxsackie Virus নামক এক ধরণের ভাইরাস এই রোগের জন্য দায়ী। 

এরোগের অসুস্থতা খুব একটা গুরুতর নয়, তবে এটি খুব সংক্রামক। সহজে এক জনের কাছ থেকে অন্য জনের কাছে সংক্রমিত হয়। বিশেষ করে স্কুল এবং ডে-কেয়ার সেন্টারে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

রোগীর হাঁচি, কাশি, ফোস্কা থেকে নিঃসরণ হওয়া রস এবং ব্যবহৃত পোশাক ও মল থেকে এ রোগ ছড়ায়। ছোট ছোট ফুসকুড়ি, মুখের মধ্যে ক্ষত, মুখ দিয়ে লালা বের হওয়া, খাবারে অরুচি ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়।

এরোগের নির্দিষ্ট কোন ঔষধ নেই। লক্ষণের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা করা হয়। আক্রান্ত রোগীকে ভালো পরিচর্যা এবং পর্যাপ্ত পানীয়, ফলের জুস, নরম ও কম মসলা যুক্ত খাবার দিতে হবে। সাধারণত ভাইরাসজনিত এই রোগটি ৭-১০ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। 

হান্টাভাইরাস (Hantavirus)

হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুর দ্বারা ছড়ায় এবং বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে বিভিন্ন রোগের সিনড্রোম সৃষ্টি করতে পারে। যে কোনো হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ মানুষের মধ্যে হান্টাভাইরাস রোগ তৈরি করতে পারে। তবে হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম (এইচপিএস) শ্বাসযন্ত্রকে মারাত্বক ভাবে আক্রান্ত করে রেনাল সিন্ড্রোম (HFRS) সহ হেমোরেজিক জ্বর হতে পারে। যে কেউ হান্টাভাইরাস বহনকারী ইঁদুরের সংস্পর্শে আসলে সে HPS এর ঝুঁকিতে থাকে। বাড়িতে এবং আশেপাশে ইঁদুরের উপদ্রব থেকে হান্টাভাইরাস এর ঝুঁকি বেড়ে যায়। এমনকি সুস্থ ব্যক্তিরাও এই ভাইরাসের সংস্পর্শে এলে HPS সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। এই ভাইরাসের আক্রমন বেশিরভাগ ইউরোপ এবং এশিয়ায় হতে দেখা যায়। 

হেপাটাইটিস এ (Hepatitis A)

হেপাটাইটিস এ হেপাটাইটিস এ ভাইরাস (HAV) দ্বারা সৃষ্ট লিভারের সংক্রমণ রোগ। হেপাটাইটিস এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি সংস্পর্শে থাকলে অথবা দূষিত খাবার ও পানি খাওয়ার মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। তবে এই রোগ ভ্যাকসিন গ্রহণের মাধ্যমে নির্মূল করা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯৫ সালে হেপাটাইটিস A ভ্যাকসিন প্রথম সহজলভ্য হওয়ার পর থেকে এর সংক্রমণ ৯০% হ্রাস পেয়েছে। হেপাটাইটিস এ এখনও ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপে সাধারণ বিষয়। HAV ভাইরাসের সংস্পর্শে আসলে যে কেউ হেপাটাইটিস এ আক্রান্ত হতে পারে। 

জ্বর, ক্ষুধামান্দ্য, ক্লান্তি এবং দুর্বলতা, পেটে ব্যথা, বিশেষ করে উপরের ডানদিকে যেখানে লিভার অবস্থিত ব্যথা বেশি অনুভূত হয়। এছাড়াও বমি বমি ভাব, জন্ডিস- ত্বক এবং চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ হেপাটাইটিস এ আক্রান্ত রোগীর মধ্যে দেখা যায়। 

হেপাটাইটিস বি (Hepatitis B)

হেপাটাইটিস B হেপাটাইটিস B ভাইরাস ((HBV)) দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রামক লিভার ডিজিজ। হেপাটাইটিস বি রোগের ধরণ একেক জনের কাছে একেক রকম হয়ে থাকে।

রোগের প্রথম পর্যায়ে, যে কোন ব্যক্তি সংক্রামিত হওয়ার পর প্রথম ৬ মাসে অনেক লোকের কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। যাদের উপসর্গ রয়েছে তাদের মধ্যে, অসুস্থতা সাধারণত হালকা হয় এবং বেশিরভাগ লোকেরা বুঝতে পারে না যে তাদের লিভারের রোগ হয়েছে ।

প্রাপ্তবয়স্ক হিসাবে হেপাটাইটিস-B তে সংক্রামিত হওয়া ৯০% ব্যক্তির মধ্যে ইমিউন সিস্টেম সফলভাবে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার ফলে ৬ মাসের মধ্যে শরীর থেকে ভাইরাসটি নির্মূল হয়ে যায়, লিভার সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায় এবং ব্যক্তি হেপাটাইটিস বি থেকে মুক্ত হয়ে ওঠে। 

অন্য ১০% এর মধ্যে, ইমিউন সিস্টেম এর দুর্বলতার কারণে ভাইরাসটি নির্মূল করতে পারে না এতে হেপাটাইটিস-B সংক্রমণ ৬ মাস ধরে রক্তে অবস্থান করে এতে অনেকটা সারা জীবনের জন্য রোগীর দেহে বিস্তার লাভ করে। হেপাটাইটিস B এর ক্রমাগত দীর্ঘস্থায়ী এই অবস্থায় ক্রনিক হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ নামে পরিচিত।

যদি শিশুরা জন্মের সময় বা শৈশবকালে হেপাটাইটিস বি সংক্রামিত হয়, তবে তাদের ইমিউন সিস্টেম মাত্র ১০%  সংক্রমণ নির্মূল করে। বাকি ৯০% দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস B সংক্রমণ ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করে।

দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস B সংক্রমণের ফলে, লিভার কয়েক বছর ধরে স্ফীত এবং দাগ হয়ে যায়। যে হারে প্রদাহ এবং দাগ হয় তা ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়ে বাড়তে থাকে। দেখা যায় কেউ কেউ ২০ বছরের মধ্যে গুরুতর লিভারের সিরোসিসে আক্রান্ত হয় অনেক ক্ষেত্রে তা লিভার ক্যান্সারের পরিণত হয়। হেপাটাইটিস B সংক্রমণ হেপাটোসেলুলার কারসিনোমা (Hepatocellular Carcinoma) বা লিভার ক্যান্সারের একটি অন্যতম কারণ।

এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পর, অসুস্থতা শুরু না হওয়া পর্যন্ত ১ থেকে ৬ মাস (গড় ৪ মাস) স্থায়ী হয়। সংক্রমণের পর প্রথম ৬ মাস পর্যন্ত বেশিরভাগ ব্যক্তির কোন উপসর্গ থাকে না বা হালকা অসুস্থতা অনুভব করতে পারে। সাধারনত যে লক্ষণগুলো দেখা যায় তা হল-জন্ডিস (ত্বক এবং চোখের হলুদ হওয়া) গাঢ় রঙের প্রস্রাব, হালকা রঙের মল, ক্লান্তি, পেটে ব্যথা, ক্ষুধামান্দ্য, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, জ্বর হওয়া ইত্যাদি। 

সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক হেপাটাইটিস-B সংক্রমণের ৬ মাস পর ১০-২০ বছরে কোনও লক্ষণ ছাড়াই নীরবে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এক সময় গুরুতর লিভারের সিরোসিস এর মত অবস্থার সৃষ্টি করে সে ক্ষেত্রে এর লক্ষণগুলির দেখা যায় –

  • অ্যাসাইটস বা তরল জমা হওয়া এবং পেটের গহ্বর ফুলে যাওয়া। 
  • (Star-Shaped Vein Pattern Developing) শিরার প্যাটার্ন ফোলা পেটে বড় হয়ে যাওয়া। 
  • চুলকানি। 
  • ক্ষত এবং রক্তপাত হতে পারে। 
  • দীর্ঘস্থায়ী এইচবিভি (HBV) সংক্রমণ গুরুতর লিভার রোগ, লিভারের সিরোসিস, এবং হেপাটোসেলুলার বা লিভার ক্যান্সারও হতে পারে।

যাদের সংক্রমণের ঝুঁকি আছে –

  • যেসব স্থানে হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ সাধারণত (বিশেষ করে চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ, সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন অববাহিকা) সেখানে জন্মগ্রহণকারী শিশুরা ।
  • ইনজেকশন ড্রাগ ব্যবহারকারীদের।
  • হেমোডায়ালাইসিস রোগী।
  • স্বাস্থ্যসেবা এবং জননিরাপত্তা কর্মীরা যাদের রক্তের হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ রয়েছে তাদের থেকে কেউ রক্ত গ্রহণ করলে।  
  • HBV-সংক্রমিত ব্যক্তির সাথে যৌন মিলন বা সহবাস করা।  
  • গ্রহণ  সংক্রমিত ব্যক্তির সাথে একই পরিবারে বসবাসকারী। 
  • হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ রয়েছে এমন জায়গায় ভ্রমন করা এবং সেখানকার লোকজনের সাথে ঘনিষ্ট ভাবে মেলামেশা করা।

হেপাটাইটিস- বি এর লক্ষণগুলো সাধারণত প্রকাশিত হয় না তাই HBV- সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ন ব্যক্তিদের পরীক্ষা করা উচিত। আপনি যদি মনে করেন যে আপনার হেপাটাইটিস বি আছে, বা হেপাটাইটিস বি এর ঝুঁকিতে আছেন, তাহলে আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।

হেপাটাইটিস সি (Hepatitis C)

হেপাটাইটিস সি হেপাটাইটিস C ভাইরাস (HCV) দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রামক লিভার ডিজিজ। হেপাটাইটিস সি ভাইরাসটি ১৯৯৮ সালে আবিষ্কৃত হয়েছিল। এর আগে, এটি রক্ত ​​সঞ্চালনের সাথে মিশ্রিত ছিল, তবে ভাইরাসটি সনাক্ত করা যায়নি বলে তাকে নন-এ, নন-বি হেপাটাইটিস বলা হয়। হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের বেশ কয়েকটি জেনেটিক প্রকার (জিনোটাইপ) রয়েছে। 

রোগের প্রথম পর্যায়কে তীব্র হেপাটাইটিস সি বলা হয় এবং এটি একজন ব্যক্তির সংক্রমিত হওয়ার প্রথম ৬ মাস জুড়ে থাকে। এই পর্যায়ে, বেশিরভাগ লোকের শরীরে কোনও লক্ষণ দেখায় না। যাদের উপসর্গ রয়েছে তাদের মধ্যে, অসুস্থতা সাধারণত এতটাই হালকা যে বেশিরভাগই তাদের লিভারের  রোগ আছে তা বোঝতে পারে না। 

সাধারনত আক্রান্ত রোগীর যে লক্ষণগুলো দেখা যায় তা হল-

  • জন্ডিস (ত্বক এবং চোখের হলুদ হওয়া)
  • গাঢ় রঙের প্রস্রাব, হালকা রঙের মল
  • ক্লান্তি
  • পেটে ব্যথা
  • ক্ষুধামান্দ্য
  • বমি বমি ভাব
  • ডায়রিয়া
  • জ্বর
  • অ্যাসাইটস (তরল জমা হওয়া এবং পেটের গহ্বর ফুলে যাওয়া)
  • শিরার প্যাটার্ন ফোলা পেটে বড় হয়ে যাওয়া। 
  • চুলকানি
  • ক্ষত এবং রক্তপাত

তীব্র হেপাটাইটিস সি আক্রান্ত ১৫-৪০% ব্যক্তির মধ্যে, ইমিউন সিস্টেম সফলভাবে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে, ৬ মাসের মধ্যে শরীর থেকে ভাইরাসটি নির্মূল হয়ে যায় এবং লিভারকে সম্পূর্ণরূপে নিরাময় করে। অন্য ৬০-৭৫% ব্যক্তির মধ্যে, ইমিউন সিস্টেম ভাইরাসটি সফলভাবে নির্মূল করতে পারে না এবং হেপাটাইটিস সি সংক্রমণ ৬ মাস ধরে অবস্থানের পর সাধারণত ব্যক্তির বাকি জীবন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এই ক্রমাগত অবস্থা ক্রনিক হেপাটাইটিস সি বলা হয়ে থাকে।

দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস সি-তে, ধীরে ধীরে লিভার সিরোসিস ও ক্যান্সারে পরিণত  হয় ।

হেপাটাইটিস সি নির্মূল করার জন্য এর কার্যকর কোনো ভ্যাকসিন বা টিকা নেই। তবে হেপাটাইটিস সি চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব। এই রোগের ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল সেবনের মাধ্যমে প্রায় ৯৫% রোগী নিরাময় করা সম্ভব হয়ে থাকে। 

লাসা জ্বর (Lassa Fever)

লাসা জ্বর হল একটি পশু-বাহিত রোগ বা জুনোটিক বলা হয়ে থাকে। এটি সাধারণত আফ্রিকান ইঁদুর দ্বারা ছড়ানো তীব্র ভাইরাল অসুস্থতা। সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া, গিনি এবং নাইজেরিয়া সহ পশ্চিম আফ্রিকার কিছু অংশে এই রোগের প্রার্দুভাব বেশী। তবে প্রতিবেশী দেশগুলিও বেশ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের মতে, ১৯৬৯ সালে নাইজেরিয়ার লাসা শহরে সর্বপ্রথম এই রোগের প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছিল। তাই  নাইজেরিয়ার লাসা শহরের নামানুসারে এই রোগের নামকরণ করা হয় লাসা জ্বর। এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের যে লক্ষণগুলো দেখা যায় তা হল- দুর্বলতা, জ্বর, মাথাব্যথা, পেশীর ব্যথা এবং বমিভাব ইত্যাদি।

Ribavirin নামক একটি অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগ দ্বারা লাসা জ্বরের রোগীদের সাফল্যের সাথে চিকিৎসা হয়ে আসছে। অসুস্থতার প্রথম দিকে এটি দেওয়া হলে সবচেয়ে কার্যকর ফলাফল পাওয়া যায়। পর্যাপ্ত তরল এবং ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য, অক্সিজেনেশন এবং রক্তচাপ সঠিক রাখা ও অন্যান্য জটিল সংক্রমণের চিকিৎসা সহ লাসা জ্বরের রোগীদের নিবিড় যত্ন নেওয়া উচিত।

ভাইরাল হেমোরেজিক জ্বর (ভিএইচএফ) (Viral Hemorrhagic Fever-VHF)

ভাইরাল হেমোরেজিক জ্বর (ভিএইচএফ) হল রোগের একটি গ্রুপ যা ভাইরাসের বিভিন্ন স্বতন্ত্র পরিবার দ্বারা সৃষ্ট হয়। “ভাইরাল হেমোরেজিক ফিভার” শব্দটি এমন একটি অবস্থাকে বোঝায় যা শরীরের অনেক অঙ্গ সিস্টেমকে প্রভাবিত করে, সামগ্রিক কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং শরীরের নিজের কাজ করার ক্ষমতা হ্রাস করে। ফলে রক্তপাত বা রক্তক্ষরণ এর মত লক্ষণ দেখা দেয়। কিছু ভিএইচএফ এর অসুস্থতার তুলনামূলকভাবে হালকা হয়, তবে এটি অনেক ক্ষেত্রে মারাত্বক আকার ধারণ করে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। বেশিরভাগ VHF-এর কোনো নিদির্ষ্ট প্রতিকার বা ভ্যাকসিন নেই।

যদিও ভিএইচএফগুলি ভাইরাসের বেশ কয়েকটি পরিবারের দ্বারা সৃষ্ট হয়, এই ভাইরাসগুলির কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে:

তা হল আরএনএ ভাইরাস, অর্থাৎ ভাইরাসের জিনগত উপাদান হিসাবে রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (আরএনএ) রয়েছে। এই ভাইরাসগুলি মানুষের মধ্যে রোগ সৃষ্টির জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে কারণ RNA ভাইরাসগুলো সময়ের সাথে সাথে দ্রুত পরিবর্তিত হয়।

এই ভাইরাসগুলো প্রাণী বা পোকামাকড়ের মধ্যে বিদ্যমান এদেরকে হোস্ট প্রজাতি বলে আখ্যায়িত করা হয়। সাধারণত এই হোস্ট প্রজাতি বসবাসরত নির্দিষ্ট ভৌগলিক এলাকায় ভিএইচএফ বা এই ভাইরাসগুলো সীমাবদ্ধ থাকে।

যখন একজন ব্যক্তি সংক্রামিত প্রাণী বা পোকামাকড়ের সংস্পর্শে আসে তখন তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার পর কিছু VHF ভাইরাস ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ে। VHF এর বিক্ষিপ্ত সংক্রমণও সহজেই অনুমানযোগ্য নয় বলে মানুষের মধ্যে VHF এর প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ করা কঠিন।

আরো পড়ুন: জ্বরের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি

ম্যালেরিয়া (Malaria)

ম্যালেরিয়া ‘প্লাজমোডিয়াম’ নামের প্যারাসাইট (Plasmodium Parasite) বা পরজীবী জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট একটি মশাবাহিত রোগ। সংক্রমিত বাহক স্ত্রী অ্যানোফেলিস মশার কামড় থেকে এই প্রাণঘাতী রোগটি হয়ে থাকে। তবে সব অ্যানোফিলিস মশা থেকে ম্যালেরিয়া হয় না, শুধু সংক্রমিত বাহক স্ত্রী অ্যানোফেলিস মশা কোনো ব্যক্তিকে কামড় দিলে তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করে যকৃতে/লিভারে অবস্থান করে করে বেশ পরিপক্ক হয়। এই পরিপক্ক পরজীবী রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে এবং লাল রক্তকণিকাকে সংক্রমিত করতে শুরু করে। ফলে দুই থেকে তিন দিন মধ্যে ম্যালেরিয়ার লক্ষণগুলো দেখা দিতে শুরু করে। লক্ষণগুলো হল :

  • কাঁপানো ঠান্ডা যা মাঝারি থেকে গুরুতর পর্যন্ত হতে পারে
  • মাত্রাতিরিক্ত জ্বর
  • অপরিমিত ঘাম
  • মাথাব্যথা
  • বমি বমি ভাব
  • বমি
  • পেটে ব্যথা
  • ডায়রিয়া
  • রক্তাল্পতা
  • পেশী ব্যথা
  • খিঁচুনি
  • কোমা
  • রক্তাক্ত মল

অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাঁচ প্রজাতির প্লাজমোডিয়াম মানুষের মধ্যে ম্যালেরিয়া সৃষ্টি করে থাকে। সাধারণত গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপক্রান্তীয় জলবায়ুতে এই রোগের প্রার্দুভাব বেশী হয়ে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বিশ্বস্ত সূত্র জানায় যে, ২০১৬ সালে ৯১ টি দেশে আনুমানিক ২১৬ মিলিয়ন মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ছিল।

ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে কোনো ভ্যাকসিন নেই। তবে কোন ধরণের ম্যালেরিয়া পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত, লক্ষণ, বয়স এবং গর্ভবতী কিনা তা বিবেচনায় এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সময়মত সঠিক চিকিৎসা না নিলে মারাত্বক আকার ধারণ করে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। তাই এই রোগে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা জরুরী।  

সচেতনতা বৃদ্ধি যেমন – মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা, ঘুমানোর সময় মশারী টাঙানো, পুরানো পানি জমে থাকা ফুলের টপ পরিষ্কার রাখা, আশপাশ নোংরা ও ময়লা মুক্ত পরিষ্কার,পরিছন্ন রাখার মাধ্যমে এই রোগ সম্পূর্ণ রূপে প্রতিকার ও প্রতিরোধ করা যায়। 

মারবার্গ ভাইরাস (Marburg Virus Disease-MVD)

মারবার্গ ভাইরাস ইবোলার সমগোত্রীয়(MVD) একটি বিরল রোগ যার ফলে গুরুতর হেমোরেজিক জ্বর, ডায়রিয়া, বমি, পেশিতে ব্যথা, এবং ক্ষেত্রবিশেষে চরম রক্তক্ষরণও হয়ে থাকে। এটি মানুষ এবং পশুপ্রাণীর উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে। 

মারবুর্গ ভাইরাস প্রথম সনাক্ত করা হয় ১৯৬৭ সালে জার্মানির মারবার্গ, ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং বেলগ্রেড, যুগোস্লাভিয়া (বর্তমানে সার্বিয়া) গবেষণার পরীক্ষাগারে। বিশেষজ্ঞগণ গবেষণা পরিচালনা করার জন্য উগান্ডা থেকে আমদানিকৃত আফ্রিকান সবুজ বানরের সংস্পর্শে এসেছিলেন। ফলে রক্তক্ষরণজনিত জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পরীক্ষাগার কর্মীদের থেকে শুরু করে একযোগে একত্রিশ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সাতজন মৃত্যুরবরণ করেন। অধিক বাদুড় বসবাসরত গুহা এবং খনিতে দীর্ঘদিন কাজ করার ফলে মারবার্গ ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে এবং তাদের মাধ্যমে এই রোগ লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।  

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া এক তথ্য মতে, মারবার্গ ভাইরাসের সংক্রমিত রোগীদের প্রায় অর্ধেকেরই মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি বছরগুলোতে ইকুয়েটরিয়াল গিনি, ঘানা, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, উগান্ডা, জিম্বাবুয়ে এসব দেশেগুলোতে মারবার্গ ভাইরাসের প্রার্দুভাব দেখা গেছে। 

মারবার্গ ভাইরাস রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। এটির কোন ধরনের টিকাও আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে লক্ষণভেদে রোগীর চিকিৎসা ও পরিচর্যা দেয়া হয়। রোগীকে অধিক পরিমানে পানি পান ও তরল গ্রহণ করতে হবে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। আক্রান্ত রোগীর শারীরিক ভারসাম্য বজায় থাকার জন্য রোগীর শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য, অক্সিজেনের স্থিতি এবং রক্তচাপ বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরী ।

মেলিওডোসিস রোগ বা হুইটমোরস ডিজিজ (Melioidosis Disease)

মেলিওডোসিস, যাকে হুইটমোরের রোগও বলা হয়, এটি একটি সংক্রামক রোগ যা মানুষ বা প্রাণীকে সংক্রামিত করতে পারে। দূষিত মাটি ও পানিতে পাওয়া Burkholderia Pseudomallei বা B. Pseudomallei নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা এই রোগ হয়। দূষিত পরিবেশের সংস্পর্শে  মানুষ এবং প্রাণীদের মধ্যে মেলিওডোসিস রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

মেলিওডোসিস প্রধানত গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ুর একটি রোগ, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় যেখানে এটি ব্যাপক আকারে হয়ে থাকে। 

মেলিওডোসিসের লক্ষণ ও উপসর্গের বিস্তৃত পরিসর রয়েছে। এটি সাধারনত অন্যান্যঃ কিছু কিছু রোগের লক্ষণের সাথে মিলে যায় যেমন যক্ষ্মা বা নিউমোনিয়া। ব্যথা, ফোলা, জ্বর, আলসারেশন, ফোড়া, জ্বর, ওজন কমানো, পেট বা বুকে ব্যথা, পেশী বা জয়েন্টে ব্যথা, মাথাব্যথা, মস্তিষ্কের সংক্রমণ, খিঁচুনি ইত্যাদি। 

মেলিওডোসিস সংক্রমণ নিশ্চিত হলেই উপযুক্ত ওষুধ ব্যবহার করে এর চিকিৎসা শুরু করে দেওয়া যায়। এই রোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে- প্রথম পর্যায়ে এক মাসের বেশি, পরে ছয় মাসের মত লাগতে পারে। প্রয়োজনে, সংক্রমণের ধরন এবং চিকিৎসার কোর্স অনুযায়ী অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল থেরাপি ও মৌখিক অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল থেরাপি দেয়া হয়ে থাকে।  

বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চল যেখানে কাদামাটিতে ও সেচ কাজে জমিতে দীর্ঘসময় ধরে অবস্থান করেন সেসব লোকদের এই মেলিওডোসিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা বেশি। তাই এ রোগের সংক্রমণ রোধে খুব সচেতনতা প্রয়োজন। 

হাম (Measles)

হাম বা জার্মান মিজলস একটি ভাইরাসজনিত রোগ ও শ্বাসযন্ত্রের তীব্র ভাইরাল অসুস্থতা। এই রোগে আক্রান্ত হলে প্রচন্ড অস্বস্তি, জ্বর, কাশি, চোখ মুখ ফুলে যাওয়া, চোখ ও নাক দিয়ে পানি পড়া, শরীরে ছোট ছোট লালচে গুটি/ফুসকুড়ি দেখা দেয় এবং অল্প কয়েক দিনের মধ্যে সারা শরীরে তা ছড়িয়ে পড়ে। সাধারনত শিশুরা হ্যাম রোগে বেশী আক্রান্ত হয়ে থাকে। যথাসময়ে চিকিৎসা করা না হলে শরীরের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে যেমন- মস্তিষ্কে ম্যালিডাইসিস, নিউমোনিয়া, কানে ইনফেকশন ইত্যাদি। 

তবে শিশু ও বড়দের জন্য এই রোগের আলাদা করে প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন রয়েছে। ১-১৮ মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেয়া হয়। প্রয়োজনে বড়রাও চাইলে ‘এমএমআর’ নামক ভ্যাকসিন নিতে পারেন। ছোঁয়াচে হওয়ার কারণে এই রোগে সচেতনতা প্রয়োজন।

হাম রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সাধারণত তিন দিনের মধ্যে এই রোগের তীব্রতা কমে আসে এবং সাত দিনে অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠে। রোগীকে পুরোপুরি বিশ্রামে থাকতে হয়। সেইসাথে স্বাভাবিক খাদ্যের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে পানি পান ও তরল খেতে হবে। 

মেনিনজাইটিস (Meningitis)

মেনিনজাইটিস হল মানুষের মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডের চারপাশে থাকা টিস্যুস্তরের আবরণ (Meninges) এর প্রদাহ। ভাইরাল, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক সংক্রমনে এই প্রদাহের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া আঘাত, ক্যান্সার, নির্দিষ্ট ওষুধ এবং অন্যান্য ধরনের সংক্রমনেও মেনিনজাইটিস হতে পারে। এক্ষেত্রে মেনিনজাইটিসের নির্দিষ্ট কারণ জানা গুরুত্বপূর্ণ। এর উপর ভিত্তি করে চিকিৎসাও ভিন্ন হয়। এ রোগের লক্ষণগুলো হলো-  ঘাড় শক্ত হওয়া ,তীব্র মাথাব্যথা, ঘুম ঘুম ভাব, স্মৃতিবিভ্রম, আলোর দিকে তাকাতে না পারা, শরীর ভারসাম্যহীন অনূভব করা, অজ্ঞান বা মূর্ছা যাওয়া, শরীরে বিশেষ দাগসহ আরো নানাবিধ শারীরিক সমস্যা হয়ে থাকে।

এই রোগের লক্ষণ শনাক্তের প্রায় ১০% রোগীর ২-৩ দিনের মধ্যে মারা যায়। আবার ২০% রোগী বেঁচে থাকলেও শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়ে। তাই লক্ষণ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে একজন নিউরোলজিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।   

মেনিনজাইটিসের ধরণ ও কারণ এর উপর ভিত্তি করে রোগীর চিকিৎসা দেয়া হয়। যেমন-

  • ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস: – অতি মারাত্বক একটি রোগ, দ্রুত হসপিটালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা শুরু না করলে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসে সাধারণত নির্ধারিত অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। 
  • ফাঙ্গাল মেনিনজাইটিস: – উচ্চমাত্রায় অ্যান্টিফাঙ্গাল দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। পরজীবী মেনিনজাইটিস- এ ক্ষেত্রে সাধারনত লক্ষণ ও উপসর্গের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা করা হয় । 
  • ভাইরাল মেনিনজাইটিস: – ভাইরাল মেনিনজাইটিসের কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিরায় অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দিয়ে চিকিত্সা করা হবে। 
  • দীর্ঘস্থায়ী মেনিনজাইটিসের: – এক্ষেত্রে রোগের মূল কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা করা হয়, যেমন ছত্রাক সংক্রমণ বা অটোইমিউন সমস্যা ও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ।

মেনিনোকোকাল ডিজিজ (Meningococcal Disease)

মেনিনোকোকাল ডিজিজ, এটি Neisseria Meningitidis (নেইসেরিয়া মেনিনজিটিডিস) ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি গুরুতর সংক্রমণ রোগ। যাকে আক্রমণাত্মক মেনিনোকোকাল ডিজিজ বা আইএমডি (IMD) বলা হয়। মানব মস্তিষ্ক এবং মেরুদন্ড একটি পাতলা টিস্যুর স্তর দ্বারা আবৃত রাখে তাকে মেনিনজেস বলে। যদি নেইসেরিয়া মেনিনজিটিডিস এই মেনিনজেস সংক্রমণ করে তাহলে মেনিনোকোকাল ডিজিজের সৃষ্টি হয়। 

মেনিনোকোকাল রোগ ৫০% ক্ষেত্রে রোগীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। যদি প্রাথমিকভাবে নির্ণয় করা হয় তা অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করা হয় তবে এটি এখনও পর্যন্ত 10-15% মানুষের মৃত্যু ঠেকানো যায় না। যারা বেঁচে থাকে তাদের মধ্যে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি, শ্রবণশক্তি হ্রাস, কিডনি বিকল, হাত বা পা অবস হয়ে বা দীর্ঘস্থায়ী স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ রোগের লক্ষণগুলো হলো- ঘাড় শক্ত হওয়া, তীব্র মাথাব্যথা, ঘুম ঘুম ভাব, স্মৃতিবিভ্রম, আলোর দিকে তাকাতে না পারা, শরীর ভারসাম্যহীন অনূভব করা, অজ্ঞান বা মূর্ছা যাওয়া, শরীরে বিশেষ দাগসহ আরো নানাবিধ শারীরিক সমস্যা হয়ে থাকে।

“মেনিনজাইটিস” এবং “মেনিনোকোকাল রোগ” এর মধ্যে কিছুটা মৌলিক পার্থক্য রয়েছে যেমনঃ  

“মেনিনজাইটিস” মানে মেনিনজেসের প্রদাহ। মেনিঞ্জেস হল টিস্যু যা মস্তিষ্ক এবং মেরুদন্ডকে আবৃত করে। মেনিনজাইটিস অনেক কারণে হতে পারে। মেনিনজাইটিসের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হল ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের সংক্রমণ। শারীরিক আঘাত, ক্যান্সার বা নির্দিষ্ট ওষুধ থেকেও মেনিনজাইটিস হতে পারে। শুধু Neisseria Meningitidis নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলেই মেনিনোকোকাল রোগ হয়।

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির নাক বা মুখ থেকে থুতু, কফ  বা অন্যান্য তরল পদার্থের সংস্পর্শে মেনিনোকোকাল রোগ ছড়ায়। সংক্রামিত ব্যক্তির সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে এমন কেউ সংক্রামিত হতে পারে যেমনঃ চুম্বন, কারো হাঁচি বা কাশি, জনবহুল এলাকায় বাস করা এবং এক খাবারের পাত্র সবাই খাওয়ার বা পান করার জন্য ব্যবহার করা ইত্যাদি। 

মেনিনোকোকাল রোগে আক্রান্ত একজন ব্যক্তি অসুস্থ বোধ করার ৭ দিন আগে এবং উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক শুরু হওয়ার ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত অসুস্থ থাকা অবস্থায় অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

সকল শিশুর ১১-১২ বছর বয়সে মেনিনোকোকাল ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত, ১৬-১৮ বছর বয়সে বুস্টার ডোজও গ্রহণ করতে হবে। 

মাঙ্কিপক্স (Mpox)

Mpox যা মাঙ্কিপক্স নামেও পরিচিত এমন একটি ভাইরাল রোগ যা মাঙ্কিপক্স ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট হয়। মাঙ্কিপক্স ভাইরাস বা বাঁদরবসন্ত ভাইরাস (MPV বা MPXV) হল একটি ডাবল-স্ট্র্যান্ডেড ডিএনএ জুনোটিক ভাইরাস যা মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যে মাঙ্কিপক্স সৃষ্টি করে। এটি মানুষের অরথপক্স ভাইরাসগুলির মধ্যে একটি যার মধ্যে ভ্যারিওলা(VARV), কাউপক্স(CPX) এবং ভ্যাক্সিনিয়া(VACV) ভাইরাস রয়েছে। 

এমপক্সে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায়ই একটি ফুসকুড়ি হয় যা হাত, পা, বুকে, মুখ বা লিঙ্গ, অণ্ডকোষ, ল্যাবিয়া এবং যোনি এবং মলদ্বার সহ যৌনাঙ্গের আশেপাশে হতে পারে। ইনকিউবেশন পিরিয়ড সময়কাল ৩-১৭ দিন। এই সময়ের মধ্যে একজন ব্যক্তির উপসর্গ থাকে না এবং ভাল বোধ করতে পারে।

ফুসকুড়ি নিরাময়ের আগে স্ক্যাব সহ বেশ কয়েকটি ধাপের মধ্য দিয়ে যাবে। প্রাথমিকভাবে ফুসকুড়ি ব্রণ বা ফোস্কা দেখা যেতে পারে এবং বেদনাদায়ক বা চুলকানি হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য যে লক্ষণগুলো থাকে:

  • জ্বর
  • ঠাণ্ডা
  • ফোলা লিম্ফ নোড
  • ক্লান্তি
  • পেশী ব্যথা এবং পিঠে ব্যথা
  • মাথাব্যথা
  • শ্বাসকষ্টের লক্ষণ (যেমন, গলা ব্যথা, নাক বন্ধ হওয়া, বা কাশি)

মাঙ্কিপক্স ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে সংস্পর্শে এলে এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। Mpox-এর সংস্পর্শে আসার ফলে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকার লোকজন প্রয়োজনে টিকা নিতে পারেন।

মাম্পস (Mumps)

মাম্পস একটি ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট সংক্রামক রোগ। এটি সাধারণত কয়েক দিনের জ্বর, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা, ক্লান্তি এবং ক্ষুধা হ্রাস দিয়ে শুরু হয়। তারপর লালা গ্রন্থি ফুলে যায় কানের সামনে এবং নীচে অবস্থিত প্যারোটিড গ্রন্থি ফুলে উঠে যাঁকে প্যারোটাইটিস হিসাবেও  উল্লেখ করা হয়।

প্যারোটাইটিসের কয়েক দিন আগে শুরু হতে পারে যে লক্ষণ গুলো তা হল-

  • জ্বর
  • মাথাব্যথা
  • পেশী aches
  • ক্লান্তি
  • ক্ষুধামান্দ্য

লক্ষণগুলি সাধারণত সংক্রমণের ১৬-১৮  দিন পরে দেখা যায়, তবে ১২-২৫ দিনের মধ্যে এর সংক্রমণ হতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে  খুব হালকা উপসর্গ থাকে (সর্দির মতো), বা কোনো লক্ষণই থাকে না এবং অনেকে হয়তো বুঝতেই পারেন না যে তাদের এই রোগ আছে। 

আবার ক্ষেত্রবিশেষে মাম্পস গুরুতর জটিলতাও সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে বয়ঃসন্ধির পর অথবা ১২ থেকে ১৯ বছর বয়সে হলে ৩০%-৪০% ছেলেদের অণ্ডকোষ এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ডিম্বাশয় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে যার ফলে পরবর্তীতে আরও জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি মাম্পস জটিলতা থেকে মস্তিষ্কে প্রদাহ পর্যন্ত হতে পারে। 

আক্রান্ত ব্যক্তির কুসুম গরম লবণ পানি নিয়মিত কুলি করা ও প্রচুর তরল জাতীয় খেতে হবে। বিশেষ জটিলতা লক্ষণীয় হলে যেমন -অণ্ডকোষে ব্যথা বা মাথাব্যথা বা পেট ব্যথা হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। 

মাম্পস বেশিরভাগই দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে পুনরায় সুস্থ উঠে। তবে এই রোগের টিকাও রয়েছে, মাম্পসের দুই ডোজ টিকা গ্রহণের মাধ্যমে মাম্পস প্রতিরোধ করা যায়।

গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস এবং নোরোভাইরাস (Gastroenteritis and Norovirus)

গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস (Gastroenteritis) হচ্ছে পাকস্থলী এবং এর ছোট ও বড় অন্ত্রের প্রদাহ। ভাইরাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস হল বিভিন্ন ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট পাকস্থলীর একটি সংক্রমণ যার ফলে বমি বা ডায়রিয়া হয়। এটিকে “পেট ফ্লু” বলা হয়, যদিও এটি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট নয়। রোটাভাইরাস, নোরোভাইরাস, অ্যাডেনোভাইরাস, স্যাপোভাইরাস এবং অ্যাস্ট্রোভাইরাস সহ বিভিন্ন ধরণের ভাইরাস গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস সৃষ্টি করতে পারে।

আর নোরোভাইরাস / Noroviruses  হল খুব সংক্রামক ভাইরাসের একটি গ্ৰুপ যা ঘন ঘন গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী।

দূষিত খাবার পানীয় পান করে এই রোগ সংক্রামিত হতে পারে। খাদ্য (বিশেষ করে শেলফিশ) এবং পানি পয়ঃনিষ্কাশন দ্বারা দূষিত হলে। আবার খাদ্য প্রস্তুতকারী বা হ্যান্ডলারদের দ্বারা খাদ্য দূষিত হতে পারে। যাদের ভাইরাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস আছে তারা যদি বাথরুম ব্যবহার করার পর নিয়মিত হাত না ধোয় তাদের মাধ্যমেও গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস ছড়াতে পারে।

ভাইরাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের প্রধান উপসর্গগুলো হল পানিযুক্ত ডায়রিয়া এবং বমি। মাথাব্যথা, জ্বর এবং পেটে ব্যথাও হতে পারে। সাধারণভাবে, গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস সৃষ্টিকারী ভাইরাসের সংক্রমণের ১ থেকে ২ দিন পরে লক্ষণগুলো শুরু হয় এবং ১ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

ভাইরাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসে আক্রান্ত প্রায় সকলেই কোনো দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা ছাড়াই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। ভাইরাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল পর্যাপ্ত পানীয় পান করা ও তরল খাদ্য গ্রহণ করা যাতে পানিশুণ্যতার (ডিহাইড্রেশন) মারাত্মক অভাব পূরণ করা যায়। অবশ্যই প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। 

নন-গনোকোকাল ইউরেথ্রাইটিস (এনজিইউ) (Non-Gonococcal Urethritis-NGU)

Nongonococcal Urethritis(NGU) হল বিভিন্ন জীবাণু (যেমন ক্ল্যামাইডিয়া, ইউরিয়াপ্লাজমা ইউরিয়ালিটিকাম, হেমোফিলাস ভ্যাজাইনালিস ) বা অজানা অন্যান্য জীবাণুর কারণে সৃষ্ট একটি যৌন সংক্রমণ (STI) রোগ যা মূত্রনালীর প্রদাহ, প্রস্রাব করার সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া বা ডিসুরিয়া, সাদা/মেঘলা স্রাব এবং ঘন ঘন প্রস্রাব, অস্বাভাবিক যোনিপথে রক্তপাত ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টি করে। তবে এইরোগ গনোরিয়া সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট নয়। 

Nongonococcal Urethritis(NGU) ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রামিত সঙ্গীর সাথে উম্মুক্ত যৌন মিলন (কনডম বা অন্য বাধা পদ্ধতি ছাড়া মৌখিক, যোনি বা পায়ুপথে যৌন মিলন) মাধ্যমে এনজিইউ ছড়াতে পারে। যে কেউ NGU সৃষ্টিকারী জীবাণুর সংস্পর্শে আসার পরেই অন্যদের সংক্রমিত করতে পারে।

NGU প্রতিরোধ করার সর্বোত্তম উপায় হল যৌনমিলনের সময় কনডম বা অন্যান্য নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহার করা। যদি যৌনসঙ্গীর কোনো যৌন সংক্রমণ (STI) -এর লক্ষণ থাকে বা কোনো STI-এর সংস্পর্শে এসে থাকে তাহলে তার সাথে যৌনমিলন থেকে বিরত থাকতে হবে। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার জন্য চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

প্লেগ (Plague)

প্লেগ ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস নামক ব্যাকটেরিয়া (Yersinia Pestis Bacterium) দ্বারা সৃষ্ট একটি রোগ যা মানুষ এবং অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীকে আক্রান্ত করে। প্লেগ ব্যাকটেরিয়া বহনকারী ইঁদুরে, মাছি দ্বারা কামড়ানোর ফলে, সংক্রমিত মানুষ থেকে মানুষে, বাতাসের মাধ্যমেও প্লেগ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মধ্যযুগে ইউরোপে লক্ষ লক্ষ মারা গিয়েছিল। 

বর্তমানে, আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিকগুলো প্লেগের চিকিৎসায় কার্যকর। দ্রুত চিকৎসা না করলে, এই রোগ গুরুতর অসুস্থতা বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে। বর্তমানে, পশ্চিম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামীণ অঞ্চলে মানুষের প্লেগের সংক্রমণ এখনো রয়েছে, তবে আফ্রিকা এবং এশিয়ার কিছু অংশে উল্লেখযোগ্যভাবে এর প্রার্দুভাব দেখা দেয়।

প্লেগের লক্ষণ নির্ভর করে কিভাবে রোগী প্লেগ ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এসেছে। প্লেগ এর বিভিন্ন ক্লিনিকাল ফর্ম রয়েছে তা হল – বুবোনিক, নিউমোনিক এবং সেপ্টিসেমিক।

বুবোনিক প্লেগ (Bubonic Plague)

বুবোনিক প্লেগের ইনকিউবেশন পিরিয়ড সাধারণত ২ থেকে ৪ দিন। রোগীদের জ্বর, মাথাব্যথা, ঠান্ডা লাগা, দুর্বলতা এবং এক বা একাধিক ফোলা, বেদনাদায়ক লিম্ফ নোড বৃদ্ধি করে। এই ফর্মটি সাধারণত সংক্রামিত মাছির মাধ্যমে ছড়ায়। উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে রোগীর চিকিৎসা না করলে ব্যাকটেরিয়া শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সেপ্টিসেমিক প্লেগ (Septicemic Plague)

সেপ্টিসেমিক প্লেগের ইনকিউবেশন পিরিয়ড মারাত্বক আকার ধারণ করে না তবে এক্সপোজারের কয়েক দিনের মধ্যে ঘটে। রোগীদের জ্বর, ঠান্ডা লাগা, চরম দুর্বলতা, পেটে ব্যথা, শক, ত্বক এবং অন্যান্য অঙ্গে রক্তপাত হয়। ত্বক এবং অন্যান্য টিস্যু কালো হয়ে যেতে পারে এবং মারাও যেতে পারে, বিশেষ করে আঙ্গুল, পায়ের আঙ্গুল এবং নাকে। সেপ্টিসেমিক প্লেগের প্রথম উপসর্গ হিসাবেও দেখা দিতে পারে আবার চিকিৎসা না করা বুবোনিক প্লেগ থেকে ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাওয়ার ফলেও হতে পারে। এই ফর্মটি সংক্রামিত মাছি বা সংক্রামিত প্রাণীর সংস্পর্শের মাধ্যমে ঘটে।

নিউমোনিক প্লেগ (Pneumonic Plague)

Yersinia Pestis ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রামিত ব্যক্তির কাশি, হাঁচির ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির ফুসফুসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। নিউমোনিক প্লেগের ইনকিউবেশন পিরিয়ড মাত্র ১ থেকে ৩ দিন। নিউমোনিক প্লেগ হল রোগের সবচেয়ে মারাত্মক রূপ এবং এটি প্লেগের একমাত্র রূপ যা ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে নিঃশ্বাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়াতে পারে। এক্ষেত্রে রোগীদের জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা এবং শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, কাশি এবং কখনও কখনও রক্তাক্ত বা পানিযুক্ত শ্লেষ্মা সহ দ্রুত নিউমোনিয়ার সৃষ্টি হয়।

হুপিং কাশি (Whooping Cough (Pertussis)

হুপিং কাশি, যাকে পারটুসিসও বলা হয়, বোর্ডেটেলা পারটুসিস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি ছোঁয়াচে রোগ। হুপিং কাশি সংক্রামিত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা কথা বলার সময় উৎপন্ন ক্ষুদ্র ভেজা ফোঁটা দ্বারা ছড়িয়ে পড়ে। হুপিং কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নাক দিয়ে সর্দি হওয়ার সময় থেকে তাদের কাশি শুরু হওয়ার ৩ সপ্তাহ পর পর্যন্ত এই রোগটি ছড়াতে পারে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিদের অন্যদের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এড়ানো উচিত, বিশেষ করে শিশু এবং গর্ভবতী মহিলাদের সাথে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। 

 আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করানো হয় তাছাড়া এই রোগের ভ্যাকসিনও রয়েছে। 

নিউমোকোকাল রোগ (Pneumococcal Disease)

নিউমোকোকাল [noo-muh-KOK-uhl] রোগ হল স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনিয়া বা নিউমোকোকাস নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট যে কোনো সংক্রমণ রোগ। নিউমোকোকাল সংক্রমণ কান এবং সাইনাসের সংক্রমণ থেকে নিউমোনিয়া এবং রক্ত ​​প্রবাহের সংক্রমণ পর্যন্ত হতে পারে। নিউমোকোকাল রোগ ভ্যাকসিন দ্বারা প্রতিরোধযোগ্য।

নিউমোকক্কাল ব্যাকটেরিয়া সংক্রামিত ব্যক্তিদের লালা বা শ্লেষ্মা জাতীয় শ্বাসযন্ত্রের সাথে সংস্পর্শের মাধ্যমে নিউমোকোকাল ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়। কিছু কিছু ব্যক্তিদের বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে উপসর্গবিহীন ভাবে নাকে বা গলায় এই ব্যাকটেরিয়া বিদ্যমান থাকে যা অন্যদের মধ্যে ছড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে “ক্যারেজ” বলে থাকে কারণ এতে বিশেষ কোন লক্ষণ দেখা যায় না।

নিউমোকোকাল রোগের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের সংক্রমণ হতে পারে। শরীরের যে অংশে আক্রান্ত হয়, উপসর্গগুলো তার উপর নির্ভর করে। বেশিরভাগ নিউমোকোকাল সংক্রমণ হালকা হয়ে থাকে। আবার কিছু মারাত্মক হতে পারে বা দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা হতে পারে যেমন-

নিউমোনিয়া (Pneumonia)

নিউমোকোকাল নিউমোনিয়া, ফুসফুসের সংক্রমণের লক্ষণগুলো হল :

  • জ্বর এবং সর্দি
  • কাশি
  • দ্রুত শ্বাস নেওয়া বা শ্বাস নিতে অসুবিধা হওয়া
  • বুক ব্যাথা

নিউমোকোকাল নিউমোনিয়া আক্রান্ত প্রতি ২০ জনের মধ্যে ১ জন মারা যায়। নিউমোকোকাল নিউমোনিয়ার জটিলতাগুলো হল :

  • এমপিমা (ফুসফুসের চারপাশে এবং বুকের গহ্বরে সংক্রমণ)
  • পেরিকার্ডাইটিস (হৃদপিণ্ডের বাইরের আস্তরণের প্রদাহ)
  • এন্ডোব্রঙ্কিয়াল বাধা (শ্বাসনালীতে বাধা যা ফুসফুসে বাতাস প্রবেশ করতে দেয়), অ্যাটেলেক্টাসিস (ফুসফুসের মধ্যে ভেঙে পড়া) এবং ফুসফুসে ফোড়া (পুস সংগ্রহ)

মেনিনজাইটিস (Meningitis)

নিউমোকোকাল মেনিনজাইটিস একটি প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ যা মস্তিষ্ক এবং মেরুদন্ডকে ঘিরে থাকা স্তরগুলিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে। এই স্তরগুলিকে মেনিঞ্জেস বলা হয়- এগুলি মস্তিষ্ককে আঘাত এবং সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। নিউমোকোকাল মেনিনজাইটিসের লক্ষণগুলো হল :

  • ঘাড় শক্ত হওয়া
  • জ্বর
  • মাথাব্যথা
  • ফটোফোবিয়া (চোখ আলোর প্রতি বেশি সংবেদনশীল)
  • বিভ্রান্তি
  • শিশুদের মধ্যে মেনিনজাইটিস সংক্রমণ হলে খাওয়া-দাওয়ায় অরুচি এবং বমি হতে পারে।

নিউমোকোকাল মেনিনজাইটিস আক্রান্ত প্রতি ১২ জনের মধ্যে ১ জন শিশু এবং ৬ জনের মধ্যে ১ জন বয়স্ক ব্যক্তি সংক্রমণে মারা যায়। যারা বেঁচে থাকে তাদের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা হতে পারে, যেমন শ্রবণশক্তি হ্রাস বা বিকাশে বিলম্ব হতে পারে।

রক্তের সংক্রমণ (Blood Infection)

নিউমোকোকাল ব্যাকটেরিয়া রক্তে সংক্রমণের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে – 

  • জ্বর
  • ঠাণ্ডা অনুভূতি 

নিউমোকোকাল ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত প্রতি ৩০ জনের মধ্যে ১ জন শিশু মারা যায় এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রতি ৮ জনে প্রায় ১ জনমারা যায়। যারা বেঁচে থাকে, তাদেরও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি হতে পারে।

মধ্য কানের সংক্রমণ (Middle Ear Infection)

মধ্য কানের সংক্রমণ (Otitis Media), যা সাধারণত নিউমোকোকাল ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি করে আর এর লক্ষণগুলো হল:

  • কানের ব্যথা
  • জ্বর
  • ক্ষুধামান্দ্য।
  • ঘুমের সমস্যা।
  • অবরুদ্ধ কানে শুনতে সমস্যা।
  • কানে ভরাট বা চাপের অনুভূতি।
  • আপনার কান থেকে হলুদ, বাদামী বা সাদা পুঁজ নির্গত হওয়া। (মানে হতে পারে আপনার কানের পর্দা ছিড়ে গেছে)

কানের সংক্রমণ সাধারণত হালকা হয় এবং কিছু  কিছু শিশুর বারবার কানের সংক্রমণ হয় এক্ষেত্রে কানের টিউবের প্রয়োজনও হতে পারে।

সাইনাস প্রদাহ (Sinus Infection)

সাইনাস সংক্রমণের লক্ষণগুলো হল:

  • মাথাব্যথা
  • স্টাফ বা সর্দি নাক
  • ঘ্রাণশক্তি হারানো
  • মুখের ব্যথা বা চাপ
  • পোস্টনাসাল ড্রিপ/Postnasal Drip (গলা বা নাকের পিছনে শ্লেষ্মা তৈরি হওয়া)
  • চোখের চারপাশের টিস্যুর সংক্রমণ, হাড়ের সংক্রমণ এবং বেদনাদায়ক ফোঁড়ার সমস্যা সৃষ্টি হওয়া ইত্যাদি।

নিউমোকক্কাল রোগ প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় নিউমোকক্কাল টিকা(Vaccination) গ্রহণ করা। এই রোগের টিকা(Vaccination) জন্মের ৬ সপ্তাহ পর থেকে শুরু হয়।

পোলিও/পোলিওমাইলাইটিস (Poliomyelitis/Polio)

পোলিও যা পোলিওভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট একটি রোগ। এটি পোলিওমাইলাইটিস(Poliomyelitis) নামেও পরিচিত। পোলিও প্রধানত মেরুদণ্ড বা মস্তিষ্কের স্টেমের স্নায়ুকে প্রভাবিত করে মারাত্মক আকারে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নাড়াতে অক্ষম করে দেয় যাকে পক্ষাঘাতও বলা হয়। এটি শ্বাসকষ্ট এবং কখনও কখনও মৃত্যুও হতে পারে।

পোলিও ভাইরাসটি গলা এবং অন্ত্রে বাস করে থাকে বলে, পোলিও সংক্রমিত মলের সংস্পর্শে ও হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে সংক্রমণ করতে পারে। একই টয়লেট ব্যবহার ও সংক্রামিত মানব বর্জ্য দ্বারা দূষিত পানীয় জল থেকে পোলিওতে আক্রান্ত হয়। 

তাছাড়া ভাইরাসটি এতই সংক্রামক যে ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে বসবাসকারী যে কেউ সংক্রমণ হতে পারে। গর্ভবতী মহিলারা, দুর্বল ইমিউন সিস্টেমের ব্যক্তিরা – যেমন যারা এইচআইভি পজিটিভ – এবং ছোট বাচ্চারা পোলিওভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

পোলিওভাইরাসে দ্বারা সংক্রমিত বেশিরভাগ লোকের লক্ষণ দেখা যায় না। তবে যে লক্ষণগুলো দেখা যায় তা হল –

নন-প্যারালাইটিক পোলিও

নন -প্যারালাইটিক পোলিওর লক্ষণ এবং উপসর্গ এক থেকে ১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এই লক্ষণ এবং উপসর্গগুলি ফ্লুর মতো হতে পারে যেমন :

  • জ্বর
  • গলা ব্যথা
  • মাথাব্যথা
  • বমি
  • ক্লান্তি
  • মেনিনজাইটিস

নন -প্যারালাইটিক পোলিও গর্ভপাত পোলিও নামেও পরিচিত।

প্যারালাইটিক পোলিও (Paralytic Polio)

প্রায় ১ শতাংশ পোলিও রোগী প্যারালাইটিক পোলিওতে পরিণত হতে পারে। প্যারালাইটিক পোলিও মেরুদন্ডী (Spinal Cord/Spinal Polio), ব্রেনস্টেম (Brainstem/Bulbar polio) বা উভয় বাল্বস্পাইনাল পোলিও (Both Bulbospinal Polio) পক্ষাঘাত সৃষ্টি করে ।

প্রাথমিক লক্ষণগুলো অ-প্যারালাইটিক পোলিওর মত। কিন্তু এক সপ্তাহ পরে, লক্ষণ গুরুতর হতে থাকে। এই লক্ষণগুলো হল :

  • রিফ্লেক্সের ক্ষতি / Loss of Reflexes
  • তীব্র খিঁচুনি এবং পেশী ব্যথা
  • আলগা এবং ফ্লপি অঙ্গ, কখনও কখনও শরীরের একপাশে
  • আকস্মিক পক্ষাঘাত, অস্থায়ী বা স্থায়ী
  • বিকৃত অঙ্গ, বিশেষ করে নিতম্ব, গোড়ালি এবং পা
  • সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতের ক্ষেত্রে এমনটি হয়ে থাকে। তবে খুব কম প্রায় ১ শতাংশেরও কম ৷ 

পোস্ট-পোলিও সিন্ড্রোম (Post-Polio Syndrome)

পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার পরেও পোলিও এর লক্ষণ দেখা দিতে পারে। পোস্ট-পোলিও সিন্ড্রোম আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার ১৫ থেকে ৪০ বছর পরে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে। পোস্ট-পোলিও সিন্ড্রোমের(PPS) সাধারণ লক্ষণগুলো হল:

  • ক্রমাগত পেশী এবং জয়েন্টের দুর্বলতা
  • পেশী ব্যথা যা আরও খারাপ হয়
  • সহজেই ক্লান্ত বা ক্লান্ত হয়ে পড়া
  • পেশী ক্ষয়, এটাকে পেশী অ্যাট্রোফি বলা হয়
  • শ্বাস নিতে এবং গিলতে সমস্যা
  • স্লিপ অ্যাপনিয়া, বা ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট
  • ঠান্ডা তাপমাত্রা কম সহনশীলতা
  • পেশীগুলিতে দুর্বলতার 
  • বিষণ্ণতা
  • একাগ্রতা এবং স্মৃতিতে সমস্যা

আপনার যদি পোলিও হয়ে থাকে এবং পরবর্তীতে আপনার যদি এই লক্ষণগুলো দেখা দেয় তাহলে দ্রুত ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পোলিও থেকে বেঁচে যাওয়া ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ লোকের পোস্ট-পোলিও সিন্ড্রোম হওয়ার সম্ভবনা থাকে। 

পোলিও রোগের কার্যকর প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন ব্যবস্থা রয়েছে। এর ভ্যাকসিন ওরাল অথবা কিছুক্ষেত্রে ইনজেকশন এর মাধ্যমে দেয়া হয়। শিশুর জন্মের ৬ সপ্তাহ বয়স থেকে পোলিও ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হয়। পোলিও রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে সময়মত সচেতনতার সাথে শিশুদের পোলিও ভ্যাকসিন দিতে হবে। 

জলাতঙ্ক রোগ (Rabies)

জলাতঙ্ক একটি প্রতিরোধযোগ্য ভাইরাল রোগ যা সংক্রামিত স্তন্যপায়ী প্রাণীর লালার মাধ্যমে ছড়ায়। তবে এশিয়া, আফ্রিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকা সহ অন্যান্য অঞ্চলে, কুকুর থেকে মানুষের মধ্যে সক্রমন হতে দেখা যায়।

জলাতঙ্ক রোগ Rabies ভাইরাস জনিত এক ধরণের জুনোটিক রোগ। আক্রান্ত যে কোন প্রাণীর মুখের লালার মধ্যে এই ভাইরাস থাকে।  তাই আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে এই ভাইরাস প্রবেশের ফলে মস্তিষ্কের টিস্যুতে প্রবেশ করে। ফলে ধীরে ধীরে গলবিল এবং খাদ্যনালির মাংসপেশির কাজ নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুও আক্রান্ত হয়ে ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে এবং নিশ্চিত মৃত্যু হয়।

দুর্ভাগ্যবশত, একবার লক্ষণগুলো বিকশিত হয়ে গেলে, কোনও ওষুধ বা ভ্যাকসিনেও বেঁচে থাকার সুযোগ খুব একটা থাকে না। জলাতঙ্কে আক্রান্ত বেশিরভাগ ব্যক্তি নিবিড় চিকিৎসা সেবা সত্ত্বেও এই রোগে মারা যায়। খুব কম সংখ্যক রোগীই জলাতঙ্ক সংক্রমণ থেকে বেঁচে গেছেন বলে বিভিন্ন রিপোর্ট থেকে জানা যায়।

১৮৮৫ সালে বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর জলাতঙ্ক টিকা আবিষ্কার করেন। কঠিন এই রোগের মারাত্বক ঝুঁকি এড়াতে যে কেউ আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে জলাতঙ্কের টিকা নেয়া খুব জরুরী। 

সিফিলিস (Syphilis)

সিফিলিস হল যা ট্রেপোনেমা প্যালিডাম / Treponema Pallidum নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি যৌন সংক্রমণ রোগ (STI)। এটি যোনি, পায়ুপথ বা ওরাল সেক্সের সময় শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ে। যথাসময়ে চিকিৎসা না করলে সিফিলিস গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে তবে এটি অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে নিরাময়যোগ্য।

সিফিলিস বেশ কিছুদিন সুপ্ত অবস্থায় থাকে এবং পর্যায়ক্রমে একাধিক লক্ষণ দেখা যা সপ্তাহ, মাস বা এমনকি বছর ধরে চলতে পারে। সিফিলিসের লক্ষণ সমুহ:

  • লিঙ্গ, যোনিতে বা আপনার মলদ্বারের চারপাশে ছোট ছোট ঘা- এগুলি সাধারণত ব্যথাহীন এবং আপনার শুধুমাত্র একটিও হতে পারে।
  • মুখ বা আপনার ঠোঁট, হাত বা নীচে সহ অন্যান্য জায়গায় ঘা।
  • লিঙ্গ, যোনিতে বা আপনার মলদ্বারের চারপাশে সাধারণত সাদা বা ধূসর রঙের গুটিকা বৃদ্ধি পায়।
  • হাতের তালুতে এবং আপনার পায়ের তলায় ফুসকুড়ি যা কখনও কখনও আপনার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে – এটি সাধারণত চুলকায় না।
  • জিহ্বা বা গলায় ধূসর বা সাদা ছোপ।
  • ফ্লু-এর মতো লক্ষণ, যেমন উচ্চ তাপমাত্রা, মাথাব্যথা এবং ক্লান্তি।
  • গ্রন্থি ফোলা।
  • মাথা, দাড়ি এবং ভ্রুতে চুল পড়া।

সিফিলিস রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। সিফিলিসের চিকিৎসা চলাকালীন সিফিলিসের ঘা সম্পূর্ণরূপে নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত কারো সাথে সহবাস করা উচিত নয়। সিফিলিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের তাদের যৌন সঙ্গীকে সচেতন করা উচিত যাতে তারা প্রয়োজনে পরীক্ষা এবং চিকিৎসাও পেতে পারে।

ধনুষ্টঙ্কার (Tetanus)

ধনুষ্টঙ্কার বা টিটেনাস হল ক্লোস্ট্রিডিয়াম টেটানি / Clostridium Tetani নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রমণ। যখন এই ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে এক ধরণের বিষ তৈরি করে যা বেদনাদায়ক পেশী সংকোচন ঘটায়। টিটেনাসের আরেকটি নাম হল “লকজা (Lockjaw)”। এটি প্রায়শই একজন ব্যক্তির ঘাড় এবং চোয়ালের পেশীগুলিকে লক করে দেয়, যার ফলে মুখ খুলতে বা গিলতে পারেনা।

টিটেনাস ব্যাকটেরিয়া মাটি, ধুলো এবং সার সহ পরিবেশের যেকোন জায়গায় থাকতে পারে। শরীরের গভীর ক্ষতের ম্যধ্যমে এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের দেহে প্রবেশ করে যেমন-

  • ক্ষত ময়লা, মল (মল), বা লালা (থুথু) দূষিত হলে। 
  • পেরেক বা সুই দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে শরীরে ক্ষত সৃষ্টি হলে।
  • ইনজুরি হলে।
  • পোড়া গেলে।

তবে অন্যান্য সংক্রামক রোগের মত এই রোগে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। ধনুষ্টঙ্কার বা টিটেনাসের আক্রান্ত প্রতি ১০ জন ২ জনের মৃত্যু হতে পারে। 

ধনুষ্টঙ্কারকে “লকজা” বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে কারণ এটি সংক্রমণের ফলে সাধারণত চোয়ালের পেশী শক্ত হয়ে যায় এতে মুখ খুলতে, গিলতে এবং শ্বাস নিতে সমস্যা সহ গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও যে লক্ষণগুলো দেখা যায় তা হল-

  • চোয়াল ক্র্যাম্পিং।
  • হঠাৎ, অনিচ্ছাকৃত পেশীর খিঁচুনি – বিশেষ করে পেটে।
  • সারা শরীরে বেদনাদায়ক পেশী শক্ত হয়ে যাওয়া।
  • গিলতে সমস্যা।
  • খিঁচুনি (ঝাঁকুনি দেওয়া বা তাকিয়ে থাকা)।
  • মাথাব্যথা।
  • জ্বর এবং ঘাম।
  • রক্তচাপ এবং হৃদস্পন্দনের পরিবর্তন।

এবং গুরুতর লক্ষণগুলো হল :

  • ল্যারিনগোস্পাজম / Laryngospasm (ভোকাল কর্ডের অনিয়ন্ত্রিত/অনিচ্ছাকৃত শক্ত হওয়া)
  • ফ্র্যাকচার / Fractures (ভাঙা হাড়)
  • পালমোনারি এম্বোলিজম / Pulmonary Embolism (ফুসফুসের প্রধান ধমনী বা তার শাখাগুলির একটিতে রক্ত ​​জমাট বাঁধা)
  • অ্যাসপিরেশন নিউমোনিয়া / Aspiration Pneumonia (একটি ফুসফুসের মারাত্বক সংক্রমণ)
  • শ্বাসকষ্ট / Breathing Difficulty

টিটেনাস টিকার মাধ্যমেই প্রতিরোধ সম্ভব। শিশুদের ৬ সপ্তাহ থেকে টিটেনাস এর ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়। এই মারাত্বক রোগ থেকে বাঁচতে আপনার শিশুকে অবশ্যই সময়মত টিটেনাস এর ভ্যাকসিন দিন। টিকার কার্যকারিতা ধরে রাখার জন্য প্রতি দশ বছরে এক ডোজ করে নিতে হবে। 

যক্ষ্মা (টিবি) (Tuberculosis)

যক্ষ্মা (টিবি) মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস (Mycobacterium Tuberculosis) ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রামক রোগ যা সাধারণত ফুসফুসকে আক্রান্ত করে সংক্রামিত করে। তবে শরীরের অন্যান্য অংশকেও সংক্রামিত করতে পারে। সংক্রামিত ব্যক্তিদের কাশি, হাঁচি বা থুথুর এমনকি কথা বলা, গান, হাসির মাধ্যমেও এটি বাতাসের মাধ্যমে একজনের থেকে অন্যজনের দেহে ছড়িয়ে পড়ে। যক্ষ্মা প্রতিরোধযোগ্য এবং নিরাময়যোগ্য। বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশ টিবি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত হয়েছে বলে অনুমান করা হয়।

যক্ষ্মা (টিবি) এর কয়েকটা ধরন রয়েছে। যেমন –

  • সুপ্ত অবস্থায় টিবি / Inactive TB
  • সক্রিয় টিবি / Active TB
  • পালমোনারি টিবি / Pulmonary TB
  • এক্সট্রা পালমোনারি টিবি / Extrapulmonary TB

নিষ্ক্রিয় যক্ষ্মায় (Inactive TB) আক্রান্ত ব্যক্তিদের উপসর্গ দেখা যায় না। যাদের সক্রিয় যক্ষ্মা (Active Tuberculosis) আছে তাদের নিম্নলিখিত উপসর্গগুলো দেখা যেতে পারে:

  • কাশি (দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী)।
  • বুকে ব্যাথা।
  • কাশি থেকে রক্ত বা থুতু (শ্লেষ্মা)।
  • ক্লান্তি বা দুর্বলতা।
  • ক্ষুধামান্দ্য।
  • ওজন কমানো।
  • ঠাণ্ডা।
  • জ্বর।
  • রাতের ঘাম।

সাধারণত যক্ষ্মা / টিবি সংক্রমণ এবং রোগের চিকিৎসার জন্য নির্দির্ষ্ট ওষুধ রয়েছে এবং এই ওষুধের নির্দির্ষ্ট কোর্স অথবা মেয়াদকাল থাকে। চিকিৎসকের দেয়া নির্দেশিত সমস্ত ওষুধ রোগীকে অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। নতুবা সমস্ত ব্যাকটেরিয়া মারা যাবে না। যতক্ষণ  চিকিৎসক ঔষধ বন্ধ করতে না বলবে তখন ঔষধ চালিয়ে যেতে হবে। সাধারণত এর ওষুধগুলো ৬ মাস পর্যন্ত গ্রহণ করতে হয়- কখনও কখনও নয় মাস পর্যন্ত সময় লাগে। রোগীর সম্পূর্ণ প্রেসক্রিপশন শেষ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
চিকিৎসার ইতিহাস ও গবেষণা

চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎপত্তি এবং ইতিহাস

by Dr. Baby Akter 10/02/2024
written by Dr. Baby Akter

মানব ইতিহাসের মত চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসও সুদীর্ঘ এবং পুরোনো। বলা যায় মানব জাতির বিকাশ এবং সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের সাথে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাস অনেকটা একসূত্রে গাঁথা। দীর্ঘ চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎপত্তি, ইতিহাস এবং ক্রমবিকাশ সম্পর্কে জানতে হলে ফিরে যেতে হবে সুদূর প্রাচীন অতীতে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

প্রাগৈতিহাসিক কাল

প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকে মানুষ রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে উদ্ভিদ (Herbalism), খনিজ পদার্থ, পশুর দেহের বিভিন্ন অংশ ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করত। তাছাড়া আদিকালের মানুষ আত্মা বা দেবতাদের সাথে যোগাযোগ করতে এবং রোগীকে আরোগ্য করার জন্য তাদের অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা ব্যবহার করে মন্দ আত্মাদের অপসারণ করতে সক্ষম বলে বিশ্বাস করা হতো।

প্রাচীন কাল

প্রাচীন কালে চিকিৎসায় ব্যবহার হত বেবিলনিয়ান ঔষধ, মিশরীয় ঔষধ, ক্লাসিক্যাল চীনা ওষুধ, রোমান ঔষধ, প্রাচীন গ্রিক ঔষধ এবং আয়ুর্বেদিক ঔষধ। ভারতীয় উপমহাদেশে আয়ুর্বেদিক ঔষধ অধিক প্রচলিত ছিল।  

গ্রিক

গ্রিকের মহান চিকিৎসক হিপোক্রেটিসকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক বলা হয়ে থাকে। এবং গ্যালেন হলেন প্রাচীন গ্রেকো-লাতিন সংস্কৃতির আরেকজন বিখ্যাত চিকিৎসক। 

মিশর

মিশরের প্রথম পরিচিত চিকিৎসক ছিলেন ইমহোতেপ (৩য় সহস্রাব্দের বিসি)। ইতিহাসে পাওয়া যায়, প্রাচীনতম মিশরীয় চিকিৎসায় ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে কাহুন গাইনোকোলজিক্যাল প্যাপিরাস নামে একটি পাঠ্যক্রম প্রচলিত ছিল যা গাইনোকোলজিক্যাল রোগ বিদ্যা ক্ষেত্রে ব্যবহার হতো।

১৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্যাপিরাস সার্জারির উপর প্রথম কাজ করেছিলেন মিশরীয় এডউইন স্মিথ আর Ebers Papyrus নামে মিশরের আরেকজন চিকিৎসক ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্যাপিরাস সার্জারির উপর দ্বিতীয়বার কাজ করেছিলেন। 

চীন

চীনের প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাস থেকে জানা যায়, চীনে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্রোঞ্জ যুগের নিদর্শন ছিল। অস্ত্রোপচারের জন্য সেখানে বিভিন্ন বীজ ব্যবহৃত হতো যা বনজঙ্গল থেকে সংগ্রহ করা হতো। Huangdi Neijing নামে একটি চীনা প্রাচীন চিকিৎসা পাঠ দ্বিতীয় খ্রিস্টপূর্বাব্দের শুরু এবং তৃতীয় শতাব্দীতে চীনের চিকিৎসা শাস্ত্রের জন্য মাইল ফলক ভূমিকা রেখে ছিল। 

ভারত

ভারতের শল্যচিকিৎসক Sushruta এর বর্ণনায়, ভারতে চিকিৎসার প্রাচীনতম রূপসহ অস্ত্রোপচারের জন্য শ্রীলংকার মিহিনটলে অবস্থিত উৎসর্গীকৃত হাসপাতালে রোগীদের সুষম চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রমাণ পাওয়া যায়।

গ্রীস

গ্রীসের পশ্চিমা চিকিৎসা শাস্ত্রের জনক হিসেবে খ্যাত গ্রীক চিকিৎসক হিপোক্রেটিস প্রথম ঔষধের যুক্তিসঙ্গত পদ্ধতির ভিত্তি স্থাপন করেন এবং তিনি চিকিৎসকদের জন্য হিপোক্রেটিক ওথ বা হলফনামা চালু করেছিলেন যা এখন পর্যন্ত সফল ভাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। তখন Acute, Chronic, Endemic and Epidemic নামকরণে রোগকে নির্ধারণ করা হতো আর “Exacerbation, Relapse, Resolution, Crisis, Paroxysm, Peak and Convalescence”  হিসাবেও শ্রেণীবিন্যাস করা  হতো। 

প্রাচীন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সার্জন ছিলেন বলে ধারণা করা হয় গ্রীক চিকিৎসক গ্যালেনকে। তিনি মস্তিষ্ক ও চক্ষু অস্ত্রোপচার সহ অনেক জটিল সার্জারী করেছিলেন।

পশ্চিমা রোমান

পশ্চিমা রোমান সাম্রাজ্যে ধীরে ধীরে পতন হতে শুরু করলে, মধ্যযুগীয় সূচনার সাথে সাথে পশ্চিম ইউরোপে ঔষধের গ্রীক ঐতিহ্য কমতে থাকে। তবে পূর্ব রোমান(বাইজানটাইন) সাম্রাজ্যে এই পদ্ধতিটি চালু ছিল। 

মধ্যযুগ

মধ্যযুগে চিকিৎসাক্ষেত্রে অন্যতম অবদান রেখেছেন মুসলিম বিজ্ঞানীরা। আবু আলী হোসাইন ইবনে সিনা মুসলিম বিজ্ঞানীদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত। মধ্যযুগের জ্ঞান-বিজ্ঞানে এবং চিকিৎসা শাস্ত্রে আবু আলী হোসাইন ইবনে সিনা এর অবদান অনস্বীকার্য।

চিকিৎসা শাস্ত্রের জন্য তিনি বিশ্বকোষ আল-কানুন ফিত-তীব লিখেছেন যেটি পরবর্তীতে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালযয়ে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্তও মেডিক্যাল পাঠে অন্তৰ্ভুক্ত ছিল।  

ইবন সীনাকে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক হিসেবে সম্মান করা হয়ে থাকে। তিনি পশ্চিমে অ্যাভিসিনা নামে পরিচিত এবং আরবিতে জ্ঞানীকুল শিরোমণি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

৭৫০ খ্রিষ্টাব্দের পর হিপোক্রেটস, Galen এবং Sushruta আরবি অনুবাদিত অনুলিপি মুসলিম বিশ্বের হাতে ছিল। ফলে মুসলিম চিকিৎসকদের চিকিৎসা গবেষণা বেশ ফলপ্রসূ ও অগ্রগতি লাভ করেছিল। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ফারসি আভিসিনা বা ইবনে সিনা যিনি ইমহোটেপ ও হিপোক্রেটসের মত “মেডিসিনের জনক” হিসাবে আখ্যায়িত। এছাড়া আভেনজার, আভিরোস, ইবনে আল নাফিস এবং আবুলকাসিস ও তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

ইউরোপের, বেলডিসটাইনের আদেশটির সেখানে মঠগুলিতে হাসপাতাল ও রোগীর স্থাপনা নির্মাণে বেশ ভূমিকা রেখেছিল এবং সেসময়ে প্রতিষ্ঠা করা গির্জা ক্যাথেড্রাল স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চিকিৎসা বিদ্যা পাঠদান করানো হতো। গ্রিক ও আরব চিকিৎসকগণের চিকিৎসা শাস্ত্র অধ্যয়নেরর জন্য মধ্যযুগীয় ইউরোপের সালেনোতে Schola Medica Salernitana নামে একটি অন্যতম মেডিকেল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে চৌদ্দ এবং পঞ্চদশ শতকের কালো মৃত্যু মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে ছিল। এবং সেসময় বিতর্ক করা হয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের তুলনায় পশ্চিম ইউরোপ রোগ মুক্তির ক্ষেত্রে অধিকতর কার্যকরী । 

প্রাক আধুনিক যুগে, শরীর বিদ্যা এবং চিকিৎসা বিদ্যার প্রাথমিক পরিসংখ্যান আবির্ভূত হয়েছিল ইউরোপে যার মধ্যে William Harvey এবং Gabriele Falloppio এর নাম অন্যতম।

আধুনিক যুগ

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে ঊনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দী হল একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। এই দুই শতকে অন্যান্য সব শাখার বিপ্লবাত্মক পরিবর্তনের সাথে সাথে চিকিৎসাবিজ্ঞানেও আবিষ্কারের নতুন দিগন্তের উম্মোচন হয়। বিংশ শতকের দুই দুটি বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার কারণে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়। বিভিন্ন চিকিৎসা কলাকৌশল শুধু যুদ্ধকালীন প্রয়োজনেই আবিষ্কার হয়। 

১৭৬১ সালের দিকে মানবদেহের চিকিৎসা ব্যবস্থা থেকে কিছুটা ভিন্নভাবে পশু চিকিৎসা ব্যবস্থা শুরু হয়েছিল। বিশ্বের প্রথম ফ্রান্সের পশু চিকিৎসক ক্লড বুগ্রেল্যাট ফ্রান্সের লায়ন পশুচিকিৎসা স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর পূর্বে মেডিক্যালের চিকিৎসকেরা মানুষসহ অন্যান্য সব প্রাণীর চিকিৎসা করতো।

পশ্চিমা ঐতিহ্য ভেষজের উপর ভিত্তি করে আধুনিক বৈজ্ঞানিক বায়োমেডিকাল (জৈবচিকিৎসা প্রকৌশল) গবেষণা শুরু হয়েছিল। আঠারো শতকে এডওয়ার্ড জেনারের Smallpox ভ্যাকসিন আবিষ্কার, ১৮৮৮ সলে রবার্ট কোচের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা রোগের সংক্রমণের আবিষ্কার এবং  ১৯০০ এর কাছাকাছি সময়ে এন্টিবায়োটিকের আবিষ্কারের মাধ্যমে মূলত আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সূচনা হয়। 

অষ্টাদশ শতাব্দীর পর পর আধুনিকতার যুগে এসে ইউরোপ বেশকিছু চিকিৎসা গবেষক চিকিৎসা বিজ্ঞানকে আরো আধুনিক রূপ দেন। তারমধ্যে রয়েছে ,জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার নাগরিক ডাক্তার রুডলফ বীরভো, কনরাড রন্টজেন, উইলহেল্ম, কার্ল ল্যান্ডস্টেইনটার, অটো লোইই উনাদের অবদান অন্যতম। এবং যুক্তরাজ্যের  নাগরিক আলেকজান্ডার ফ্লেমিং, ফ্রান্সিস ক্রিক, জোসেফ লিস্টার, ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্প্যানিশ চিকিৎসক সান্তিয়াগো র্যামন ও কাজালকে আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞানের জনক বলে আখ্যায়িত করা হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে আরো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল-নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে মরিস উইলকিন্স,  ফ্রাঙ্ক ম্যাকফার্লেন বার্নেট, হাওয়ার্ড ফ্লোরী। এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে উইলিয়াম উইলিয়ামস কিন, উইলিয়াম কলি, ইতালি (সালভাদর লুরিয়া) থেকে জেমস ডি. ওয়াটসন, জাপানের নাগরিক কিটাসাটো শিবাশাবুরো ও ফ্রান্স থেকে জিন মার্টিন চারকোট, পল ব্রোকা, ক্লাউড বার্নার্ড, রাশিয়ান নিকোলাই করতোকভ, স্যার উইলিয়াম ওসলার এবং হার্ভি কুশিং প্রমুখ চিকিৎসা গবেষক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। 

ধীরে ধীরে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবন যাত্রার মান বাড়তে থাকে ফলে চিকিৎসা ও মেডিসিনের প্রয়োজনীতা ও নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ প্রান্তের দিকে শুধু উদ্ভিদ ও পশুজাত দ্রব্য বা উপাদান মেডিসিন হিসেবে ব্যবহৃত হয় নি, সেই সাথে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশ এবং তরলও ব্যবহার করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে হারবালিজম (Herbalism) থেকে Pharmacology (ফারমাকোলজি) বিকশিত হয়েছে এবং এফ্রেডিন, এট্রোপাইন, ওয়ারফারিন, ডাইগক্সিন, ট্যাকোলোল, ভিনকা অ্যালকোলোড, হাইস্কিন ইত্যাদি এই জাতীয় মেডিসিনগুলো তৈরি করা শুরু হয়, এখনো উদ্ভিদ থেকে থেকে তৈরি করা হয়। 

১৭৯৬ সালে ব্রিটিশ চিকিৎসক এডওয়ার্ড জেনার বসন্তের টিকা আবিষ্কারের মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিশেষ বিপ্লব ঘটিয়েছিল , তাই জীবাণু গবেষক ইংরেজ এডওয়ার্ড জেনারকে প্রতিষেধকবিদ্যার জনক বিদ্যার জনক বলা হয়ে থাকে। ১৯৭৭ সালে জেনারের সেই টিকা আবিষ্কারের ফলে কালান্তক গুটিবসন্ত  পৃথিবী থেকে চিরতরে নির্মূল হয়ে যায়। 

১৮৮৫ সালে লুই পাস্তুর জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক সফল ভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগের টিকা আবিষ্কার হয়। বিষ্ময়কর এই টিকা আবিষ্কারের ফলে আরেকটি অতি ভয়ংকর ভাইরাসঘটিত রোগ মানুষের হাতে পরাভূত হয়। 

ইতিহাসের সেই ধারাবাহিকতায়, জোনাস সাল্কের ১৯৫৩ সালে পোলিও ভাইরাস, ১৯১৪ সালে হুপিং কাশি, ১৯২৬ সালে ডিফথেরিয়া, ১৯৩৮ সালে টিটেনাস, ১৯৪৪ সালে ইনফ্লুয়েঞ্জা, এবং ১৯৪৮ মামসের নিরাপদ ও কার্যকর প্রতিষেধক আবিষ্কারের মাধ্যমে বিভীষিকাময় প্রাণঘাতী বিভিন্ন রোগ থেকে মানবজাতি রক্ষা পায়। 

প্রথম আন্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেন ১৯২৭ সালে লন্ডনের সেন্ট মেরি হাসপাতালে কর্মরত বিশিষ্ট অণুজীব বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফ্লেমিং। আবিষ্কারের সেই ঘটনাবহুল দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় চিকিৎসা বিজ্ঞানের আজকের আধুনিক রূপ। 

বাংলাদেশের প্রচলিত বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি 

বাংলাদেশের জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি ও সরকার কর্তৃক স্বীকৃত চারটি চিকিৎসা পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যা হলো –

  • অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি (Allopathy)
  • হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি (Homeopathy)
  • আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতি (Ayurvedic)
  • ও ইউনানি চিকিৎসা পদ্ধতি (Unani)

অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যতীত অন্য তিনটি  চিকিৎসা পদ্ধতিকে বলা হয় বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি বা Alternative Medical Care (AMC)। শত বছরের পুরোনো আদি চিকিৎসা পদ্ধতি হলো ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতি। ইউনানী এর উৎপত্তি গ্রিক থেকে, আয়ুর্বেদিক ভারত থেকে এবং জার্মানে উৎপত্তি হয় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি। ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা মূলত ভেষজ, খনিজ ও প্রাণীজ উৎস থেকে তৈরী। 

অল্টারনেটিভ চিকিৎসা বা বিকল্প চিকিৎসায় আরো রয়েছে –

  • আকু প্রেসার  (Acupressure)
  • কাপিং থেরাপি (Cupping Therapy)
  • আকুপাংচার (Acupuncture)
  • যোগ ব্যায়াম (Yoga exercises)
  • রেজিমেন্টাল থেরাপি (Regimental therapy)
  • লিচ থেরাপি (Leech Therapy)
  • ঔষধি খাদ্য (Medicinal food)

ও লাইফ স্টাইল পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কতৃক স্বীকৃতি দেশ ও স্থানভেদে অনেক নানা পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। 

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
উচ্চ ফাইভার সমৃদ্ধ খাবার
আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার

উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের তালিকা 

by Dr. Baby Akter 29/12/2023
written by Dr. Baby Akter

অতীতে বিশেষজ্ঞরা ফাইবার বলতে এমন এক ধরণের কার্বোহাইড্রেট বুঝাতেন যা শরীরে হজম যোগ্য নয়। অতি সম্প্রতি, বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, কিছু হজমযোগ্য পদার্থও ফাইবারে রয়েছে, তাই বিজ্ঞানীরা ফাইবারকে দুই ভাগে শ্রেণীবদ্ধ করেছেন। যেমন-

  • দ্রবণীয় ফাইবার পানিতে দ্রবণীয় তাই হজমযোগ্য।
  • অদ্রবণীয় ফাইবার হজমযোগ্য নয়।

দ্রবণীয় ফাইবারগুলি উদ্ভিদের ভিতর থেকে পাওয়া যায় এবং পেকটিন জাতীয় পদার্থ অন্তর্ভুক্ত থাকে। যেমন ফল, শাকসবজি, ওটস এবং বার্লিতে প্রচুর পরিমানে দ্রবণীয় ফাইবার উপস্থিত থাকে যা রক্তে শর্করা এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।

অদ্রবণীয় ফাইবার উদ্ভিদের বাইরের অংশ পাওয়া যায় যেমন- তুষ, সেলারি, গোটা শস্য এবং বীজ এগুলোতে প্রচুর পরিমানে অদ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে । এটি অনেকটা অবিকৃত অবস্থায় সরাসরি পাচনতন্ত্রের (Digestive System) মধ্য দিয়ে পার হয়ে যায়। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে অদ্রবণীয় ফাইবার খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ডায়েটিশিয়ানদের মতে, আমাদের দৈনন্দিন খাবার তালিকায় যে সকল শাকসবজি, ফলমূল ও শস্য থাকে এর মধ্যে উচ্চ আঁশ বা ফাইবার রয়েছে। তাই শারীরিক সুস্থতা ও রোগ প্রতিরোধের জন্য ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার গুলো কি কি এবং উৎস ও খাদ্যের পরিমিতি বোধ সম্পর্কে জেনে রাখা অত্যন্ত  জরুরী। 

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

পাচনতন্ত্র (Digestive System) সুস্থ রাখতে, নানা রোগ প্রতিরোধে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গুলো পালন করে তা হল –

কোলেস্টেরল কমানো: পরিপাকতন্ত্রে ফাইবার শরীরের কোলেস্টেরল শোষণকে কমাতে সাহায্য করে, বিশেষ করে যদি স্ট্যাটিন গ্রহণ করা হয় এবং সাইলিয়াম ফাইবারের মতো পরিপূরক ফাইবার গুলো ভালো কাজ করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ: ফল এবং শাক-সবজির মতো উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবারে ক্যালোরি কম থাকে। ফাইবার(Fiber) হজম ধীর করে এতে দীর্ঘ সময় পাকস্থলীতে পূর্নতা বোধ হয়। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রনে থাকে। 

কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে: ফাইবার হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে। অদ্রবণীয় ফাইবার সরাসরি পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে পার হয়। ফলে এটি হজম যোগ্য না হওয়ার কারণে অন্ত্রকে সবল এবং সচল করে।

রক্তে শর্করার কমায়: উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার কে ভাঙ্গতে শরীর বেশি সময় নেয়, ফলে গ্লুকোজ সহজে  রক্তে প্রবেশ করে না। এতে শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রা সঠিক বজায় থাকে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস: ফাইবারযুক্ত খাবারে পেকটিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপস্থিতির কারণে কোলন ক্যান্সার সহ যে কোন ধরণের  ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।  

ডায়েটে উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার যুক্ত করতে চাইলে ধীরে ধীরে তা করুন এবং সাথে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। এতে আপনার পেটে গ্যাস বা ফোলা থেকে রক্ষা করবে।

জেনে নিন, সে সকল খাবারের উচ্চ ফাইবার থাকে –

ডায়েটিশিয়ানদের মতে, আমাদের দৈনন্দিন খাবার তালিকায় যে সকল শাকসবজি ,ফলমূল ও শস্য এর মধ্যে উচ্চ আঁশ বা ফাইবার থাকে। বিশেষ করে শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমানে ফাইবার রয়েছে। যেমন-  

১. মসুর ডাল (১০.৭ গ্রাম): মসুর ডাল বহুমুখী উপাদানে ভরপুর এবং অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি ডাল জাতীয় খাবার। এটি ফাইবার, প্রোটিন এবং অন্যান্য অনেক পুষ্টির একটি ভাল উৎস।

ফাইবারের পরিমান: প্রতি কাপ রান্না করা মসুর ডালে ১৩.১ গ্রাম বা প্রতি ১০০ গ্রাম ডালে ১০.৭ গ্রাম পরিমানে ফাইবার থাকে।

২. বাদামী চালের ভাত: বাদামী চালে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম এবং লিগনান, খনিজ রয়েছে, যা আমাদের হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে, হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৩. ছোলা (৭ গ্রাম): ছোলা বা বুট হল আমাদের অতি পরিচিত ডাল জাতীয় শস্য। আমাদের হাতের কাছে বাজার বা দোকানে এটি সহজে পাওয়া যায়। এই সুস্বাদু ও মুখরোচক ছোলা বা বুট ফাইবার সমৃদ্ধ এবং প্রোটিন ও বিভিন্ন খনিজ সরবরাহ করে।

ফাইবারের পরিমান: প্রতি কাপ রান্না করা ছোলাতে ১২.৫ গ্রাম বা প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলাতে ৭.৬ গ্রাম ফাইবার থাকে।

৪. মটরশুঁটি (৮.৩ গ্রাম): আমাদের দৈনন্দিন খাবারের মধ্যে মটরশুঁটি একটি খুব সজলভ্য ডালজাত খাদ্য। এতে শ্বেতসার ছাড়াও ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি ৬, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-কে, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, তামা, প্রোটিন, আয়রন, দস্তা, লুটেইন এবং ফাইবার রয়েছে। যা শরীরে টক্সিন দূর করে ও কোলেস্টলের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখে ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। 

ফাইবারের পরিমান: প্রতি কাপ রান্না করা মটরশুঁটিতে ১৬.৩ গ্রাম বা প্রতি ১০০ গ্রাম মটরশুঁটিতে ৮.৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। 

৫. পপকর্ন বা ভুট্টা  (১৪.৫ গ্রাম): পপকর্ন বা ভুট্টা অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন একটি শস্য। সবার অতি পরিচিত সজলভ্য এই পপকর্নে  প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও ক্যালরির থাকে। যা আমাদের শরীরে কোষ্ঠকাঠিন্য ও হেমোরয়েড সমস্যা দূরে করে। ডায়াবেটিস ও কোলন ক্যান্সারসহ অনেক জটিল রোগের ঝুঁকি কমায়। 

ফাইবারের পরিমান: প্রতি কাপ এয়ার-পপড পপকর্নে ১.১৫ গ্রাম বা প্রতি ১০০ গ্রাম পপকর্নে ১৪.৫ গ্রাম ফাইবার থাকে।

৬. গাজর (২.৮ গ্রাম): গাজর একটি মূল সবজি যা আপনি কাঁচা বা রান্না করে খেতে পারেন। ফাইবার ছাড়াও, গাজরে ভিটামিন কে, ভিটামিন বি ৬, ম্যাগনেসিয়াম এবং বিটা ক্যারোটিন সরবরাহ করে, যা আপনার শরীরে ক্যানসারসহ নানা রোগ প্রতিরোধ করে।

ফাইবারের পরিমান: ১ কাপ কাঁচা গাজরে ৩.৬ গ্রাম, বা ২.৮ গ্রাম প্রতি ১০০ গ্রাম।

৭. কলা (২.৬ গ্রাম): কলা ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬ এবং পটাসিয়াম সহ অনেক পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। একটি সবুজ বা অপরিপক্ক কলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রতিরোধী স্টার্চ থাকে, তাছাড়া এটি অপাচ্য কার্বোহাইড্রেট যা ফাইবারের মতো কাজ করে।

ফাইবারের পরিমান: একটি মাঝারি আকারের কলায় ৩.১ গ্রাম, বা প্রতি ১০০ গ্রাম কলায় ২.৬ গ্রাম ফাইবার থাকে।

৮. পালং শাক: পালংশাক সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফাইবার সমৃদ্ধ শাক যা বাজারে খুব সহজলভ্য। এটি আমাদের শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্য, ব্রণ, হার্ট, ক্যান্সার, জন্ডিসের জন্য উপকারী। পালংশাক চর্মরোগ দূর করে, চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়, চুলপড়ারোধ করে।

৯. টমেটো: এই সবজি সালাদ, ভর্তা, ভাজি করে অনেক ভাবে খাওয়া যায়। প্রতি এক কাপ টমেটোতে ১.২ গ্রাম ফাইবার থাকে।

১০. কিডনি বিন বা রাজমা (৬.৪ গ্রাম): কিডনি বিন বা রাজমা একটি জনপ্রিয় ডাল জাতীয় সবজি। এটি প্রায় ৪০০০ বছর ধরে খাদ্য তালিকায় পুষ্টিকর ও সুস্বাদু খাবার হিসেবে সমাদৃত। অন্যান্য ডালের মতো এটি উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিন এবং বিভিন্ন পুষ্টি সরবরাহ করে।

ফাইবারের পরিমান: প্রতি ১০০ গ্রাম সিদ্ধ রাজমাতে ৬.৪ গ্রাম ফাইবার থাকে।

১১. বাদাম (১৩.৩ গ্রাম): বাদাম স্বাস্থ্যকর ফাইবার, চর্বি, ভিটামিন ই, ম্যাঙ্গানিজ এবং ম্যাগনেসিয়াম সহ অনেক পুষ্টিতে ভরপূর।

ফাইবারের পরিমান: প্রতি ৩ টেবিল চামচ বাদামে ৪ গ্রাম বা প্রতি ১০০ গ্রামে ১৩.৩ গ্রাম ফাইবার থাকে।

১২. চিয়া বীজ (৩৪.৪ গ্রাম): চিয়া বীজ অত্যন্ত পুষ্টিকর, ক্ষুদ্র কালো বীজ। এটি ফাইবারের একটি অন্যতম উৎস এবং উচ্চ পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে।

ফাইবারের পরিমান: শুকনো চিয়া বীজে আউন্স প্রতি ৯.৭৫ গ্রাম, বা প্রতি ১০০ গ্রামে ৩৪.৪ গ্রাম ফাইবার থাকে।

১৩. বিট (২ গ্রাম): বীট বা বীটরুট হল একটি মূল সবজি যাতে রয়েছে মূল্যবান পুষ্টি, যেমন ফোলেট (Folate), আয়রন, কপার, ম্যাঙ্গানিজ এবং পটাসিয়াম। বীট অজৈব নাইট্রেটও সরবরাহ করে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যায়ামের কার্যকারিতার জন্য খুব উপকারী।

ফাইবারের পরিমান: প্রতি কাপ কাঁচা বীটে রয়েছে ৩.৮ গ্রাম ফাইবার বা প্রতি ১০০ গ্রামে ২ গ্রাম ফাইবার।

১৪. ব্রকলি (২.৬ গ্রাম): ব্রোকলি এক ধরনের ক্রুসিফেরাস সবজি (Cruciferous Vegetable) এবং একটি পুষ্টিকর খাবার। এতে ফাইবার সহ ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফোলেট, বি ভিটামিন, পটাসিয়াম, আয়রন এবং ম্যাঙ্গানিজ রয়েছে। ব্রকলিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। অন্যান্য সবজির তুলনায় ব্রকলিতে প্রোটিনের পরিমাণও তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

ফাইবারের পরিমান: প্রতি কাপ ব্রোকলিতে ২.৪ গ্রাম, বা প্রতি ১০০ গ্রাম ব্রোকলিতে ফাইবার থাকে ২.৬ গ্রাম।

১৫. আপেল (২.৪ গ্রাম): আপেল একটি সুস্বাদু এবং তৃপ্তিদায়ক ফল। এই ফলে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ফাইবার রয়েছে।

ফাইবারের পরিমান: একটি মাঝারি কাঁচা আপেলে ৪.৪ গ্রাম ফাইবার বা প্রতি ১০০ গ্রাম আপেলে থাকে ২.৪ গ্রাম ফাইবার।

১৬. আর্টিকোক (৫.৪ গ্রাম): আর্টিকোক অনেক পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি ভেষজ এবং এটি ফাইবারের একটি ভাল উৎস।

ফাইবারের পরিমান: ১টি কাঁচা গ্লোব বা ফ্রেঞ্চ আর্টিকোকে ৬.৯ গ্রাম বা প্রতি ১০০ গ্রাম আর্টিকোকে ৫.৪ গ্রাম ফিইবার থাকে।

১৭. ব্রাসেলস স্প্রাউটস (৩.৮ গ্রাম): ব্রাসেলস স্প্রাউট অনেকটা বাঁধাকপির মতো সবজি। এতে ফাইবার, ভিটামিন কে, পটাসিয়াম, ফোলেট এবং ক্যান্সার-প্রতিরোধী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।

ফাইবারের পরিমান: প্রতি কাপ কাঁচা ব্রাসেলস স্প্রাউটে ৩.৩ গ্রাম বা প্রতি ১০০ গ্রামে থাকে ৩.৮ গ্রাম ফাইবার।

১৮. নাশপাতি (৩.১ গ্রাম): নাশপাতি সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর একটি ফল। এটা দাঁতের জন্য খুব উপকারী। এই ফলটিও ফাইবারের ভালো উৎস।

ফাইবারের পরিমান: একটি মাঝারি আকারের কাঁচা নাশপাতিতে ৫.৫ গ্রাম বা ১০০ গ্রাম নাশপাতিতে ৩.১ গ্রাম ফাইবার থাকে।

১৯. স্ট্রবেরি (২ গ্রাম): গ্রীষ্মকালীন ডেজার্ট বা অফিস স্ন্যাক হিসাবে তাজা খাওয়ার জন্য স্ট্রবেরি একটি সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর ফল। ফাইবারের পাশাপাশি এতে ভিটামিন সি, ম্যাঙ্গানিজ এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

ফাইবারের পরিমান: ১ কাপ তাজা স্ট্রবেরিতে ৩ গ্রাম, বা প্রতি ১০০ গ্রামে ২ গ্রাম ফাইবার রয়েছে।

২০. অ্যাভোকাডো (৬.৭ গ্রাম): অ্যাভোকাডোতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং এটি ফাইবারের একটি ভাল উৎস। এটি ভিটামিন সি, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন ই এবং ভিটামিন বি সরবরাহ করে।

ফাইবারের পরিমান: ১ কাপ কাঁচা অ্যাভোকাডোতে ১০ গ্রাম, বা প্রতি ১০০ গ্রামে ৬.৭ গ্রাম ফাইবার রয়েছে।

২১. ওটস (১০.১ গ্রাম): ওটস ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস এবং এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।এতে বিটা গ্লুকান (Beta Glucan) নামক একটি শক্তিশালী দ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে, যা  রক্তে শর্করা এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

ফাইবারের পরিমান: প্রতি কাপ কাঁচা ওটসে ১৬.৫ গ্রাম বা প্রতি ১০০ গ্রামে ১০.১ গ্রাম ফাইবার থাকে।

২২. রাস্পবেরি (৬.৫ গ্রাম): রাস্পবেরি সুস্বাদু একটি পুষ্টিকর ফল। এতে ফাইবার, ভিটামিন সি এবং ম্যাঙ্গানিজ রয়েছে।

ফাইবারের পরিমান: এক কাপ কাঁচা রাস্পবেরিতে ৪ গ্রাম ফাইবার থাকে, বা প্রতি ১০০ গ্রামে ৬.৫ গ্রাম ফাইবার রয়েছে।

২৩. ডার্ক চকোলেট (১০.৯ গ্রাম): ডার্ক চকোলেট হতে পারে পুষ্টি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। ৭০%-৯৫% বা তার বেশি কোকো কন্টেন্ট আছে এমন ডার্ক চকলেট বেছে নিন এবং বেশি চিনি যুক্ত  চকলেট এড়িয়ে চলুন।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
পায়ুপথের রোগ

পুরুষের পাইলসের কারণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা

by Dr. Baby Akter 26/12/2023
written by Dr. Baby Akter

পাইলস এর সমস্যায় মলদ্বারের ভিতরে বাইরের শিরাগুলিতে ফোলা, ব্যথা, চুলকানি এবং রক্তপাতের সৃষ্টি করে যা রোগীকে প্রচন্ড অস্বস্থি এবং যন্ত্রণার মধ্যে রাখে। এটি যে কোন পুরুষের হতে পারে, তবে ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।

যথা সময়ে  চিকিৎসা করা না হয় তবে অবস্থার অবনতি হতে পারে  ফোলা ,ব্যথা বৃদ্ধি পেয়ে আক্রান্ত স্থান থেকে রক্তপাতের সৃষ্টি করে মারাত্নক আকার ধারণ করতে পারে।

প্রচলিত বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতিতে পাইলসের চিকিৎসা করা যায় তবে সবচেয়ে উত্তম এবং নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা পদ্ধতি হল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি। অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের মাধ্যমে যদি রোগের সঠিক চিকিৎসা করানো যায় তবে পাইলসের স্থায়ী নিরাময় সম্ভব

পুরুষদের দুই ধরনের পাইলস বা অর্শ্বরোগ হয়ে থাকে অভ্যন্তরীণ পাইলস এবং বাহ্যিক পাইলস

অভ্যন্তরীণ পাইলস (Internal Hemorrhoids)

অভ্যন্তরীণ পাইলস/হেমোরয়েড মলদ্বারের ভিতরে হয়ে থাকে এবং ব্যথা ছাড়াই রক্তপাত হতে পারে। মলত্যাগের সময় আক্রান্ত স্থান মলদ্বার থেকে বেরিয়ে আসে ফলে অস্বস্তি বা প্রচন্ড জ্বালা সৃষ্টি করে।

বহিরাগত হেমোরয়েড (External Hemorrhoids)

বহিরাগত হেমোরয়েড মলদ্বারের বাইরে তীব্র ব্যথা, চুলকানি এবং অস্বস্তি সৃষ্টি করে। এতে অনেক ক্ষেত্রে মলত্যাগের সময রক্তপাতও হয়ে থাকে।

পুরুষের একই সাথে অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক উভয় ধরণের পাইলস বা হেমোরয়েড হতে পারে। এই কারণে পাইলসের  মারাত্নক আকার ধারণ করার আগে অধিক সতর্কতা প্রয়োজন। যেহেতু পাইলসের ধরণভেদে চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই পাইলসের সমস্যা অনূভব করলে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পুরুষদের পাইলসের লক্ষণ

সাধারণত, পুরুষদের পাইলস কিছুক্ষেত্রে গুরুতর আবার কিছুক্ষেত্রে নরমাল হয়ে থাকে। যেমন-

  • মলদ্বারে শিরাগুলি ফুলে যাওয়া চুলকানি এবং জ্বালাপোড়া।
  • হেমোরয়েডের শিরা ফেটে যাওয়ার ফলে মলদ্বারে ব্যথার সাথে মলত্যাগের সময় বা পরে রক্তপাত হতে পারে।
  • পাইলসের শিরাগুলির বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মলদ্বারের চারপাশে পিণ্ড বা ফোলা হতে পারে।
  • হেমোরয়েডের বা পাইলসের কারণে অসম্পূর্ণ মলত্যাগের অনুভূতি হতে পারে, যা মলের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধা সৃষ্টি করে।
  • মলদ্বার ও মলদ্বারের ফোলা শিরায় চাপের কারণে বসতে অস্বস্তি হতে পারে।
আরো পড়ুন: এনাল ফিসার কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

পুরুষদের পাইলসের কারণ

পুরুষদের পাইলসের সমস্যা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। কিন্তু মলদ্বারের রক্তনালী ও টিস্যুতে চাপ পড়লে হেমোরয়েড বা পাইলস সমস্যা সৃষ্টি হয়ে থাকে। যেমন-

কম ফাইবারযুক্ত খাদ্যাভাস : কম ফাইবারযুক্ত খাদ্য খাওয়ার ফলে মলকে শক্ত করে এবং মলত্যাগের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে মলত্যাগের সময় বেশি চাপ পড়ে। এতে মলদ্বার এবং মলদ্বারের শিরাগুলির উপর চাপ বাড়ায়।

মলত্যাগের সময় স্ট্রেনিং/চাপ : মলত্যাগের সময় খুব জোরে ধাক্কা দিলে মলদ্বার এবং মলদ্বারের শিরাগুলিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যার ফলে হেমোরয়েড এর সমস্যা সৃষ্টি হয়।

দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা : অনেক সময় বসে থাকা, বিশেষ করে শক্ত জায়গায়, পাইলস এর সমস্যা একটি অন্যতম কারণ।

ভারী জিনিস তোলা : যে সব পুরুষ নিয়মিত ভারী জিনিস তোলেন তাদেরও পাইলস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কারণ ভারী জিনিস তোলার স্ট্রেনের ফলে মলদ্বারের শিরা স্ফীত হয়ে উঠে।

বার্ধক্য : বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের টিস্যুগুলি দুর্বল হয়ে যায়, যার মধ্যে রয়েছে মলদ্বার এবং মলদ্বারের টিস্যু, যার ফলে মলদ্বারে পাইলস রোগের সৃষ্টি হয়।

পুরুষদের পাইলস বা অর্শ্বরোগ নির্ণয়

সাধারণত, একজন পুরুষ লক্ষণগুলির উপর ভিত্তি করে সহজেই সনাক্ত করতে পারেন পাইলস আছে কি না তা। যেমন মলদ্বারে ফোলা, রক্তপাত, ব্যথা এবং অস্বস্তি।

যদি এই লক্ষণগুলি বৃদ্ধি পায় তবে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত। পাইলস নির্ণয়ের জন্য ডাক্তার সাধারণত নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলি করবেন:

ডিজিটাল রেকটাল পরীক্ষা (Digital rectal examination) : 

রোগের তীব্রতা বোঝার জন্য ডাক্তার গ্লাভস পরে আঙুল ঢুকিয়ে লুব্রিকেট করবেন। তারপর, মলদ্বারের ভিতরে আঙুল ঢুকিয়ে ডিজিটাল রেকটাল পরীক্ষা করে থাকেন ।

অ্যানোস্কোপি(Anoscopy) :

মলদ্বারে পরীক্ষা করার জন্য একটি ছোট ক্যামেরা(অ্যানোস্কোপ) মলদ্বারে প্রবেশ করানো হয়।

কোলনোস্কোপি(Colonoscopy) : 

অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, লাল বা ফোলা টিস্যু, ঘা (আলসার) বা রক্তপাত পরীক্ষা করার জন্য কোলোনোস্কোপ করানো হয় (এটি দীর্ঘ, নমনীয়, আলোকিত টিউব)। ব্যবহার করে সম্পূর্ণ অন্ত্র পরীক্ষা করেন।

সিগমায়েডোস্কোপি (Sigmoidoscopy) :

এটি কোলন(Part of the colon) এবং মলদ্বারের নীচের অংশ(Lower part of the rectum) পরীক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়।

আরো পড়ুন: এনাল ফিস্টুলা কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

পুরুষদের পাইলসের কিছু ঘরোয়া প্রতিকার

পাইলস নিয়ন্ত্রণের কার্যকরী কৌশল হল ঘরোয়া প্রতিকার বা প্রাকৃতিক প্রতিকার। যা আপনি আপনার বাড়িতে সুবিধামত ব্যবহার করতে পারেন। যেমন –

সিটজ বাথ (Sitz Bath): 

এটি একটি থেরাপিউটিক কৌশল যেখানে একটি উষ্ণ/হালকা গরম পানিতে গোসলে শুয়ে থাকা যায়। এতে পেলভিক (pelvic area) এলাকায় চুলকানি এবং জ্বালা কমাতে সাহায্য করে। সিটজ স্নানে সোডিয়াম বাইকার্বোনেট বা ইপসম লবণ যোগ করলে অতিরিক্ত আরাম  পাওয়া যেতে পারে।

আইস প্যাক (Ice Pack): 

গুরুতর এবং বেদনাদায়ক পাইলস আরাম করতে, ফোলাভাব কমাতে ১০থেকে ১৫ মিনিটের জন্য আক্রান্ত স্থানে একটি বরফের প্যাক ব্যবহার করুন, তবে কোনও ক্ষতি এড়াতে এটি ত্বকে লাগানোর আগে এটি কাপড়ে মুড়ে নিন।

উইচ হ্যাজেল(Witch hazel):  

একটি তুলোর বলে অল্প পরিমাণে জাদুকরী হ্যাজেল নিয়ে  সরাসরি হেমোরয়েডের বা পাইলসের আক্রান্ত স্থানে উপর প্রয়োগ করতে পারেন। দিনে কয়েকবার আলতোভাবে আক্রান্ত স্থানে লাগান, বিশেষ করে মলত্যাগের পরে। এতে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া কমে যাবে।

অ্যালোভেরা তেল:

প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি পাইলসের চুলকানি এবং জ্বালাপোড়া কমায়। শুধু আক্রান্ত স্থানে অল্প পরিমাণে ঘৃতকুমারী তেল লাগান এবং আলতো করে ম্যাসাজ করুন।

নারকেল তেল:

এটি অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যের কারণে পাইলসের সমস্যা সমাধানে খুব কার্যকর। নারকেল তেলে খাবার রান্নাও করতে পারেন। এতে থাকা উপস্থিত উপাদানসমূহ হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

পুরুষদের পাইলস নিয়ন্ত্রণে খাদ্যভাসের পরিবর্তন করুন

পাইলস এর সমস্যা সমাধানে খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত জরুরী। তাই একজন পাইলসে আক্রন্ত রোগীর খাদ্যভাসের বিষয়ে অধিক সচতেন হতে হবে। যেমন-

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার:

উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া মলকে নরম করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে, যা হেমোরয়েড বা পাইলসকে নিরাময়ে সহায়তা করে। এই ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে গোটা শস্য, লেবু, ফল, শাকসবজি, বাদাম, বীজ এবং তুষ।

ভিটামিন সি:

এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে, প্রদাহ/ফোলা কমাতে পারে এবং রক্তনালীগুলিকে শক্তিশালী করতে পারে। ফলে, তা হেমোরয়েড বা পাইলস সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার, যেমন সাইট্রাস ফল, বেল মরিচ এবং ব্রকলি।

ফ্ল্যাভোনয়েডস(Flavonoids): 

ফ্ল্যাভোনয়েড সমৃদ্ধ খাবারে উদ্ভিদ যৌগ রয়েছে যা প্রদাহ কমাতে পারে এবং রক্তনালীগুলিকে শক্তিশালী করতে পারে, পাইলসের উপসর্গগুলি দূর করে। এই জাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে- সাইট্রাস ফল, বেরি এবং ডার্ক চকোলেট ।

প্রোবায়োটিকস(Probiotics):

খাদ্য তালিকায় দই অন্তর্ভুক্ত করুন। এটিতে ভাল ব্যাকটেরিয়া রয়েছে যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে এবং অন্ত্রের কার্যকলাপ  নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পাইলসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

পাইলসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে লাইফস্টাইলের পরিবর্তন করুন

লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে হেমোরয়েডের বা পাইলসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। এর মাধ্যমে সার্জারী  বা অস্ত্রোপচার ছাড়াই পাইলস বা অর্শ্বরোগের সমস্যা কার্যকরভাবে স্থায়ী নিরাময় করা যায়। যে পরিবর্তন করা জরুরী –

নিজেকে হাইড্রেটেড রাখুন:

পাইলসের সমস্যায় মলকে নরম করতে এবং হজমে সহায়তা করার জন্য হাইড্রেটেড থাকা খুব জরুরী, মল স্বাভাবিক ও নরম হওয়ার ফলে মলদ্বারের শিরাগুলির উপর চাপ এবং স্ট্রেন কমায়৷ এতে পাইলসের লক্ষণগুলো দ্রুত উপশম হয় এবং নিরাময় সম্ভব হয়। 

ব্যায়াম:

নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের রক্ত প্রবাহ সচল করে। এর ফলে মলদ্বারের শিরাগুলি সবল থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর করে, যা পাইলসের নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

রেড মিট সীমিত করুন:

লাল মাংস সহজে হজম হয় না এর ফলে পাইলসের সমস্যা বৃদ্ধি পায়, তাই এর পরিবর্তে অন্যান্য ধরণের প্রোটিন যেমন মুরগি, মাছ বা মটরশুটি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন:

হেমোরয়েডের বা পাইলসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতে প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলি এড়িয়ে চলতে হবে কারণ এতে উচ্চ মাত্রায় অস্বাস্থ্যকর চর্বি, লবণ এবং চিনি থাকে, যা প্রদাহ, হজমের সমস্যা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

আরো পড়ুন: মহিলাদের পাইলস বা অর্শ্বরোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

পাইলসের নন-সার্জিক্যাল( Non-surgical treatment ) চিকিৎসা

যদি ঘরোয়া প্রতিকার এবং মেডিসিনেও পাইলসের কোন সমাধান পাওয়া না যায়, তবে নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসা বিবেচনা করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:

রাবার ব্যান্ড লিগেশন(Rubber band ligation) :

এই পদ্ধতিতে হেমোরয়েডের চারপাশে একটি রাবার ব্যান্ড স্থাপন করা হয়, যার ফলে টিস্যুগুলো মারা যায়। এর ফলে পাইলস নিরাময় হয়।

স্ক্লেরোথেরাপি(Sclerotherapy) :

স্ক্লেরোসেন্ট নামক একটি তরল উপাদান মলদ্বারে মধ্যে প্রবেশ করানো হয়, যা রক্তের সরবরাহ কমিয়ে দেয় এবং পাইলসকে সংকুচিত করে।

ইলেক্ট্রোথেরাপি(Electrotherapy): 

ইলেক্ট্রোথেরাপি(Electrotherapy) হল পাইলসকে সংকুচিত করতে একটি বৈদ্যুতিক প্রবাহ ব্যবহার করা হয়। 

ইনফ্রারেড জমাট বাঁধা :

এই পদ্ধতিটি স্ক্লেরোথেরাপির মতো পাইলস সংকুচিত করতে ইনফ্রারেড আলো ব্যবহার করে।

পুরুষদের পাইলস এর সার্জিক্যাল চিকিৎসা

যদি হেমোরয়েডের জন্য নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসা কাজ না করে, তাহলে অস্ত্রোপচারের সুপারিশ করা যায়। হেমোরয়েডের বা পাইলস চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের পদ্ধতি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

হেমোরয়েডেক্টমি (Hemorrhoidectomy) :

এটির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক হেমোরয়েডগুলিকে সরিয়ে দেয়া হয়। এর ফলে পাইলস এর অনেকটা স্থায়ী সমাধান করা যায়। 

স্ট্যাপলড হেমোরয়েডেক্টমি(Stapled Hemorrhoidectomy) : 

স্ট্যাপলিং এমন একটি যন্ত্র যা অভ্যন্তরীণ মলদ্বারে হেমোরয়েডগুলিকে সম্পূর্ণরূপে অপসারণ করে পাইলস এর নিরাময় করে। 

হেমোরয়েডাল আর্টারি লিগেশন (Hemorrhoidal artery ligation) : 

এটি দ্বারা ন্যূনতম আক্রমণাত্মক পদ্ধতিতে হেমোরয়েডের রক্ত ​​সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে সেগুলি সংকুচিত হয় এবং আক্ৰান্ত স্থান নিরাময় হয়ে যায়।

লেজার সার্জারি (Laser surgery) :

এতে হেমোরয়েডগুলিতে রক্ত ​​সরবরাহ বন্ধ করার জন্য একটি লেজার ব্যবহার করা হয়, যার ফলে সেগুলি সংকুচিত হয়। ফলে পাইলসের কার্যকর সমাধান সম্ভব হয়।

পুরুষদের পাইলসের সমস্যায় হোমিওপ্যাথি

প্রচলিত বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতিতে পাইলসের চিকিৎসা করা যায় তবে সবচেয়ে উত্তম এবং নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা পদ্ধতি হল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি। অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের মাধ্যমে যদি রোগের সঠিক চিকিৎসা করা যায় তবে পাইলসের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। পাইলসের লক্ষণভেদে যে মেডিসিনগুলো বিবেচনা করা যায় তা হল :

অ্যালো সোকোট্রিনা (Aloe socotrina ): যখন পাইলস মলদ্বারের বাইরে ছোট বলের আকারে থাকে তখন এটি ব্যবহার করা যায়।  অ্যালো সোকোট্রিনা বিরক্তিকর অন্ত্র বা আলসারেটিভ কোলাইটিসের সমস্যাও সমাধান করে। মলদ্বারে এবং শ্রোণী অঞ্চলে ঘা ব্যথা নিরাময়েও দারুণ কাজ করে। মলত্যাগের সময় জ্বালাপোড়ায় এই মেডিসিন ভালো কাজ করে। 

নাক্স ভমিকা (Nux Vomica): কারো যদি পাইলসের সাথে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে তাহলে Nux Vomica ভালো কাজ দেয়। অলস, অগোছালো, আরামপ্রিয় জীবনযাপন, দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা এবং অতিরিক্ত মশলাদার খাবার, ফাস্টফুড, অ্যালকোহল পান করা এই ধরণের জীবনাচরণে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে সৃষ্ট পাইলসের চিকিৎসায় নাক্স ভমিকা (Nux Vomica) খুব কার্যকরী।

হ্যামেলিস (Hamelis): মলত্যাগের সময় রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে হ্যামেলিস(Hamelis) ব্যবহৃত হয়। মলদ্বারে ব্যথাও এই ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এটি শিরায় রক্ত সঞ্চালন সবল করে পাইলসের নিয়ন্ত্রণে দারুণ ভূমিকা রাখে।

রতনহিয়া (Ratanhiya): প্রচণ্ড ব্যথার এবং রোগীর মলদ্বারে ছুরির মতো ভিতরে খোঁচা দেওয়া হয় অনুভূতি হয় , এই লক্ষণে এই মেডিসিন ভালো কাজ করে।

ইস্কিউলাস (Aesculus): যদি কোন রোগীর অর্শ্বরোগ সহ পিঠে ব্যথা থাকে তবে হোমিওপ্যাথিতে এটি খুব কার্যকরী ওষুধ।

ইগ্নেশিয়া (Ignatia): পাইলসের সাথে খিঁচুনি এবং মলদ্বারে ছুরিকাঘাতের ব্যথা এই রকম লক্ষণ থাকলে পাইলসের চিকিৎসায় এটি দারুণ কাজ করে।

গ্রাফাইটিস (Graphites): এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের পাশাপাশি পাইলসের জন্য উপযুক্ত ওষুধ। এতে রোগীর মল শক্ত, গিঁটযুক্ত এবং শ্লেষ্মা-ভরা মল থাকে। স্থুলতা, চর্ম ফাটা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে এমন রোগীদের জন্য এটি প্রধান ওষুধ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।

সালফার (Sulphur): এটি অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক অর্শ্বরোগের প্রধান লক্ষণগুলি উপশমে উত্তম কাজ করে যার মধ্যে রয়েছে মলদ্বারে চুলকানি, ফোলাভাব এবং ব্যথা।

ক্যালকেরিয়া (Calcarea): পায়ু অঞ্চলে পিঠে ব্যথা, চুলকানি এবং রক্তপাত সহ পাইলসের চিকিৎসায় খুব কার্যকরী। অভ্যন্তরীণ অর্শ্বরোগ যা স্যাক্রামে (Sacrum) ব্যথা সৃষ্টি করে এই ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যায়।

কস্টিকাম (Causticum): এটি পাইলসের চরম অবস্থায় চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয় যেখানে ব্যক্তি স্পর্শ সহ্য করতে পারে না।  

মিউরিয়াটিক অ্যাসিড (Muriatic Acid): মিউরিয়াটিক অ্যাসিড (Muriatic Acid) বড়, ফোলা, কালশিটে বা নীল হেমোরয়েডের বা পাইলসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

পুরুষদের পাইলস বা অর্শ্বরোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার

যেহেতু মানুষের জীবনাচরণ ও খাদ্যাভাসের উপর পাইলসের সমস্যা অনেকাংশে নির্ভর করে তাই পাইলস রোগের ক্ষেত্রে রোগ প্রতিকার ও প্রতিরোধের বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। পাইলস প্রতিরোধে যা যা করবেন –

উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাবার: 

ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য অন্ত্র ভালো রাখে ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, যা মলদ্বার এবং মলদ্বারের শিরাগুলির উপর চাপ কমায়। ফলে এটি সহজে পাইলস নিয়ন্ত্রণে রাখে।  

ওজন নিয়ন্ত্রণ: 

ডায়েট এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে পরিমিত ওজন বজায় রাখা মলদ্বার এবং মলদ্বারের শিরাগুলির উপর চাপ কমাতে সাহায্য করে যা পাইলসের ঝুঁকি কমায়।

ব্যায়াম: 

নিয়মিত ব্যায়াম কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে এবং রক্তের প্রবাহকে সবল করে, পাইলস নিয়ন্ত্রণে থাকে ।

মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া: 

মলত্যাগের সময় স্ট্রেন বা চাপ মলদ্বার এবং মলদ্বারের শিরাগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে হেমোরয়েড হতে পারে। মলত্যাগের সময় স্ট্রেন বা চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

ভারী জিনিস তোলা এড়িয়ে চলুন:

ভারী জিনিস তোলার ফলে মলদ্বার এবং মলদ্বারের শিরাগুলিকে প্রচুর চাপ সৃষ্টি করে, যার থেকে পাইলসের সমস্যা সৃষ্টি হয়। সঠিক উত্তোলন কৌশলগুলি ব্যবহার করা এবং খুব ভারী জিনিসগুলি উত্তোলন এড়ানো উচিত।

পানি পান করা:

পানি খাদ্য হজমে সহায়তা করে এবং শরীরকে হাইড্রেট রাখে যা পাইলস নিয়ন্ত্রণের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিমিত পরিমান পানি পান করা করতে হবে। 

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
  • 1
  • 2
  • 3
  • …
  • 5

Recent Posts

  • ইফতারের পর চা খেলে কি হয়
  • রমজানে পর্যাপ্ত না ঘুমালে কী হয়
  • মাথা ব্যথার কারন ও মুক্তির উপায়
  • এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 
  • এনাল ফিসার কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

Recent Comments

No comments to show.

আমাদের সম্পর্কে

banner

প্রকৃতির মাঝেই লুকিয়ে আছে নিরাময়ের সকল উপাদান। তাই সুস্থতা ও প্রশান্তির আরেক নাম প্রকৃতি। প্রকৃতির সাথে নিজেকে একাত্ম করুন, প্রাকৃতিক নিয়মেই আপনি সুস্থ থাকবেন প্রশান্ত থাকবেন। প্রকৃতির মাঝে ছড়িয়ে থাকা এই অসংখ্য উপাদান আর তার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সৃষ্টির আদি থেকে এখনো পর্যন্ত মানুষ সুস্থতার যে উপায়গুলি মানব কল্যানে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে সেসব তথ্য উপাত্তকে গুছিয়ে নতুন আঙ্গিকে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ

  • 1

    এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 

  • 2

    শীতকালীন বিভিন্ন রোগ এবং প্রাকৃতিক প্রতিকার

  • 3

    প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া উপায়ে বন্ধ্যাত্ব রোগ নিরাময় করুন

  • 4

    শারীরিক সুস্থতার জন্য শাক-সবজি খাওয়ার সঠিক নিয়ম

Back Next

প্রয়োজনীয় লিংক সমুহ

  • চিকিৎসার ইতিহাস ও গবেষণা
  • প্রসূতি এবং শিশু স্বাস্থ্য
  • গোপনীয়তার নীতি
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • Facebook
  • Twitter
  • Whatsapp

@2023 - All Right Reserved by MIL HOMEO


Back To Top
MIL HOMEO
  • মুল পাতা
  • প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য
    • আয়ুর্বেদ চিকিৎসা
    • ঘরোয়া চিকিৎসা
    • ভেষজ উপাদান
    • ভেষজ চিকিৎসা
  • রোগব্যাধি ও প্রতিকার
    • শারীরিক রোগ
      • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ
      • চর্মরোগ
        • আঁচিল বা তিল
      • জ্বর
        • টাইফয়েড জ্বর
        • ডেঙ্গু জ্বর
        • ম্যালেরিয়া
      • পায়ুপথের রোগ
      • কান পাকা রোগ
      • কৃমি রোগ
      • বন্ধ্যাত্ব রোগ
      • নাসা রোগ
      • শীতকালীন রোগব্যাধি
      • সংক্রামক রোগ
      • সাইনোসাইটিস
      • স্নায়ু রোগ
    • মনরোগ
    • শিশু রোগ
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • সুস্থ জীবনধারা
    • ক্ষতিকর অভ্যাস
    • খাদ্যাভ্যাস
    • তামাক ও মাদক বর্জন
    • পানীয় জল এবং হাইড্রেশন
    • ভালো ঘুমের অভ্যাস
    • রূপচর্চা ও চুলের যত্ন
    • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
    • স্বাস্থ্যকর শখ
  • ব্যায়াম ও ফিটনেস
    • ওজন প্রশিক্ষণ
    • ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা
    • ঘরে বসে ফিটনেস
    • বয়স্কদের ব্যায়াম
    • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
    • স্ট্রেচিং এবং মবিলিটি
  • মানসিক স্বাস্থ্য
    • অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা
    • আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে ভালোবাসা
    • ডিপ্রেশন ও প্রতিকার
    • মানসিক চাপ ও সমাধান
    • মেডিটেশন ও মননশীলতা
    • পরিবার ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য
  • খাদ্য ও পুষ্টি
    • আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
    • ওজন কমানোর খাদ্য পরিকল্পনা
    • ওজন বাড়ানোর পুষ্টি পরিকল্পনা
    • খাদ্য তালিকা এবং পরামর্শ
      • রোগের খাবার
    • পুষ্টিগুণ
      • শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
      • ফলের পুষ্টিগুণ
    • ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
    • স্বাস্থ্যকর রেসিপি
  • হোমিও চিকিৎসা