MIL HOMEO
প্রকৃতির সাথে থাকুন, সুস্থ থাকুন
  • মুল পাতা
  • প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য
    • আয়ুর্বেদ চিকিৎসা
    • ঘরোয়া চিকিৎসা
    • ভেষজ উপাদান
    • ভেষজ চিকিৎসা
  • রোগব্যাধি ও প্রতিকার
    • শারীরিক রোগ
      • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ
      • চর্মরোগ
        • আঁচিল বা তিল
      • জ্বর
        • টাইফয়েড জ্বর
        • ডেঙ্গু জ্বর
        • ম্যালেরিয়া
      • পায়ুপথের রোগ
      • কান পাকা রোগ
      • কৃমি রোগ
      • বন্ধ্যাত্ব রোগ
      • নাসা রোগ
      • শীতকালীন রোগব্যাধি
      • সংক্রামক রোগ
      • সাইনোসাইটিস
      • স্নায়ু রোগ
    • মনরোগ
    • শিশু রোগ
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • সুস্থ জীবনধারা
    • ক্ষতিকর অভ্যাস
    • খাদ্যাভ্যাস
    • তামাক ও মাদক বর্জন
    • পানীয় জল এবং হাইড্রেশন
    • ভালো ঘুমের অভ্যাস
    • রূপচর্চা ও চুলের যত্ন
    • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
    • স্বাস্থ্যকর শখ
  • ব্যায়াম ও ফিটনেস
    • ওজন প্রশিক্ষণ
    • ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা
    • ঘরে বসে ফিটনেস
    • বয়স্কদের ব্যায়াম
    • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
    • স্ট্রেচিং এবং মবিলিটি
  • মানসিক স্বাস্থ্য
    • অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা
    • আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে ভালোবাসা
    • ডিপ্রেশন ও প্রতিকার
    • মানসিক চাপ ও সমাধান
    • মেডিটেশন ও মননশীলতা
    • পরিবার ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য
  • খাদ্য ও পুষ্টি
    • আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
    • ওজন কমানোর খাদ্য পরিকল্পনা
    • ওজন বাড়ানোর পুষ্টি পরিকল্পনা
    • খাদ্য তালিকা এবং পরামর্শ
      • রোগের খাবার
    • পুষ্টিগুণ
      • শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
      • ফলের পুষ্টিগুণ
    • ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
    • স্বাস্থ্যকর রেসিপি
  • হোমিও চিকিৎসা

শারীরিক রোগ

মাথা ব্যথা কেন হয় ও মুক্তির উপায়
স্নায়ু রোগ

মাথা ব্যথার কারন ও মুক্তির উপায়

by Dr. Baby Akter 04/12/2024
written by Dr. Baby Akter

মাথা ব্যথা এক গুরুতর সমস্যা। স্নায়ুরোগের মধ্যেও মাথাব্যথার হার সবচেয়ে বেশি। বর্তমান সময়ে প্রচুর মানুষ এই রোগে আক্রান্ত।  এ রোগের কারণে যে কোনো ব্যক্তির কার্যক্ষমতা ও কার্যকাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। ফলে ভুক্তভোগীরা পেশাগত, সামাজিক, পারিবারিক ও আর্থিক জীবনে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। বিশ্বের মোট ১৮-৬০ বছর বয়সী জনসংখ্যার প্রায় ৪৬ ভাগ প্রতিবছর মাথাব্যথায় একবার না একবার আক্রান্ত হয় এবং প্রতিবছর ২০%  শিশু ও কিশোর মাথাব্যথা রোগে ভুগে থাকে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন ধরনের মাথাব্যথায় বেশি কষ্ট পান বয়স্ক নারীরাই। 

মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হলো-অতিরিক্ত মানসিক চাপ, রোদ বা প্রচন্ড গরম আবহাওয়া, অধিক পরিশ্রম, ক্ষুধার্ত থাকা, অনিয়মিত ও অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন, অতি মাত্রায় চা ও কফি পান, মাদক সেবন, অতিরিক্ত ধূমপান ইত্যাদি। তাই এ ধরণের অভ্যাসের বা আচরণের পরিবর্তন করা ও পর্যাপ্ত ঘুম, মেডিটেশন, সুনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম, ইতিবাচক জীবনচর্চা ইত্যাদির মাধ্যমে মাথাব্যথা অনেকাংশে নিরাময় করা সম্ভব।

মাথা ব্যথা কেন হয়?

মাথা ব্যথা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। তবে ধরণ দেখে খুব বুঝে নেওয়া সম্ভব ঠিক কি কারণে মাথা ব্যথা করছে। মাথা ব্যথার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম দুটি কারণ হচ্ছে-মাইগ্রেন আর টেনশন। তা মধ্যে ৭০% রোগীর মাথা ব্যথার কারণ হলো টেনশন টাইপ হেডেক। এবং ১১% জন্য দায়ী মাইগ্রেন। অনিয়মিত ও অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন, মাদকাসক্তি, ধূমপান, মদ্যপান, রোদ বা অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া, ক্ষুধার্ত থাকা, অতিরিক্ত শারীরিক-মানসিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ ইত্যাদি কারণে মাথা ব্যথা হয়ে থাকে। সুতরাং মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে হলে সর্বপ্রথম এ ধরণের জীবনাচরণ বা অভ্যাসগুলো পরিহার করতে হবে। 

মাথাব্যথার প্রকারভেদ

মাথাব্যথা প্রধানত দুই প্রকার।

১. প্রাইমারি হেডেক (Primary Headache), যেমন- টেনশন টাইপ হেডেক, মাইগ্রেন, ক্লাস্টার হেডেক ইত্যাদি।

২. সেকেন্ডারি হেডেক (Secondary Headache), যেমন- মাথার আঘাতজনিত, গ্লুকোমার স্ট্রোক, মস্তিষ্কের টিউমার সাইনোসাইটিস, মাসটয়ডাইটিস ইত্যাদি।

টেনশন টাইপ হেডেক (Tension-Type Headaches)

প্রায় ৭০ ভাগ বয়স্ক মানুষ টেনশন টাইপ হেডেক ধরনের মাথাব্যথায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। এটি মাইগ্রেনের মতো হয়ে থাকে, এবং কৈশোর কাল থেকে শুরু হয়। নারীদের মধ্যে টেনশন টাইপ হেডেক বেশি দেখা যায়। সাধারণত মাথার মাংসপেশির সংকোচনের ফলে এই মাথাব্যথা হয়ে থাকে ।

টেনশন টাইপ হেডেকের লক্ষণ

  • মাথায় একটা চাপ চাপ ব্যথা অনুভূত হয়।
  • সাধারণত মাথাব্যথার সঙ্গে বমি ভাব বা বমি হয় না।
  • পুরো মাথায় ব্যথা হয়।
  • রোগী ব্যথা নিয়ে সব ধরনের কাজকর্ম করতে পারেন, কাজকর্ম চলাকালীন এ ব্যথা কম অনুভূত হয়। কাজ শেষে বিশ্রামে থাকলে ব্যথা বেড়ে যায়। তবে এই ব্যথা মাইগ্রেনের মতো ততটা তীব্র হয় না।
  • এই মাথাব্যথা সময়কাল কয়েক ঘণ্টাও হতে পারে আবার কয়েকদিন পর্যন্তও স্থায়ী হতে পারে। 
  • পারিবারিক বা পেশাগত বা মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তার ইত্যাদির সঙ্গে এই মাথাব্যথার সম্পর্ক আছে।

মাইগ্রেন (Migraine)

প্রায় ১১ শতাংশ বয়স্ক ব্যক্তিদের এই ধরণের মাথাব্যথা হয়ে থাকে। পুরুষদের থেকেও নারীদের মাইগ্রেনের আক্রান্তের হার বেশি। সাধারণত কিশোর বয়স থেকে এই মাইগ্রেনের ব্যথা দেখা দিতে শুরু করে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা ৪০-৫০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। 

মাইগ্রেনের লক্ষণ

  • মাইগ্রেনের অন্যতম লক্ষণ হল- মাথার যে কোনো এক পাশে ব্যথা হওয়া। অনেক সময় একবার এক পাশে ব্যথা উপশম হয়ে আবার অন্য পাশেও ব্যথা শুরু হতে পারে।
  • ব্যথা অত্যন্ত তীব্র হয় এবং এ সময় কোনো কাজ করা যায় না।
  • ৪ ঘণ্টা থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যথা স্থায়ী হতে পারে।
  • আলো বা শব্দে ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যায়।
  • রক্তনালি (ধমনি/শিরা) সংকোচন/প্রসারণ বা টনটন প্রকৃতির ব্যথা অনুভূত হয়।
  • ব্যথার সঙ্গে বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
  • অন্ধকার ঘরে শুয়ে থাকলে ব্যথার তীব্রতা কমে।
  • রোগীর ব্যথা শুরুর আগে চোখের সামনে আঁকাবাঁকা লাইন, আলোর নাচানাচি ইত্যাদি দেখা। 

ক্লাস্টার হেডেক (Cluster Headaches)

অপেক্ষাকৃতভাবে ক্লাস্টার হেডেক কম দেখা যায়, মাত্র 0.১ ভাগ মানুষের এই ধরনের মাথাব্যথা হয়ে থাকে। এই ধরণের মাথা ব্যথা পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এটি পুরুষ : মহিলার আনুমানিক হার= ৬:১। সাধারণত ক্লাস্টার হেডেক ২০ বছর বয়সের পরে দেখা যায়।

ক্লাস্টার হেডেক লক্ষণ

  • ব্যথা অত্যন্ত তীব্র হয়।
  • ক্ষণস্থায়ী, তবে বারবার হয়।
  • চোখের চারপাশে বা পেছনে ব্যথা হয়।
  • দিনে কয়েকবার বা নিয়মিত একই সময়ে ব্যথা হয়ে থাকে। কয়েক সপ্তাহব্যাপী পর্যন্ত ব্যথা থাকতে পারে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর ব্যথা চলে যায় আবার কয়েক মাস বা বছর আবার একইভাবে ব্যথা শুরু হয়। 

সেকেন্ডারি হেডেক (Secondary Headache)

শারীরিক অসুস্থতা বা মস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগের কারণে এ ধরণের মাথাব্যথা হতে পারে। এ ধরণের মাথাব্যথাকে সেকেন্ডারি হেডেক বলা হয়ে থাকে। যেমন- সাইনোসাইটিস, মস্তিষ্কের টিউমার, রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক (এসএএইচ), মস্তিষ্কের আবরণে প্রদাহ (ভাইরাল, ব্যাকটেরিয়ার বা টিউমারফুলার মেনিনজাইটিস), টাইফয়েড, ভাইরাল, মাথায় আঘাতজনিত কারণ ইত্যাদি।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

সাধারণত অধিকাংশ মাথাব্যথার রোগীই ডাক্তারের কাছে যেতে চান না বা চিকিৎসা নেন না। নিজেই ফার্মেসিতে গিয়ে বেদনানাশক বিভিন্ন ঔষধ কিনে সেবন করেন। এক পরিসংখ্যান মতে,  যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এর মত দেশগুলোতেও মাইগ্রেনের রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছেন মাত্র ৫০ শতাংশ। 

দেখা গেছে, মাথা ব্যথার সেকেন্ডারি হেডেকের রোগীদের বিভিন্ন ধরণের শারীরিক সমস্যা যেমন -খিঁচুনি, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, অতিরিক্ত বমি, পা বা মুখ অবশ বা নিসাড় হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে যান। 

বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভুতপূর্ব সাফল্যের ফলে খুব সহজেই মাথাব্যথার কারণ নির্ণয় করা যায়। এমআরআই, সিটি স্ক্যান, পিইটি স্ক্যানের মাধ্যমে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের সুস্পষ্ট ইমেজ পাওয়া যায়। এতে মাথাব্যথার কারণ খুব সহজে উদঘাটন করা সম্ভব। মাথাব্যথার  কারণ বা ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা জন্য আগে রোগ নির্ণয় করা আবশ্যক। 

প্রচলিত বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতিতে মাথা ব্যথা নিরাময়ের চিকিৎসা করা যায়। তবে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। 

মাথা ব্যথার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা 

হোমিওপ্যাথিতে রোগের লক্ষণের সাদৃশ্য ঔষধ প্রয়োগর মাধ্যমে মাথা ব্যথার চিকিৎসা করা হয়। তাই লক্ষণভেদে ঔষধও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। মাথা ব্যথার লক্ষণ অনুসারে যে ঔষধগুলো প্রয়োগ করা যায় সেগুলো হলো-

বেলেডোনা (Belladonna)

মাথা ব্যথা থেকে মুক্তির জন্য এই ঔষধ ভালো কাজ করে। প্রাথমিকভাবে মাথা ব্যথা নিরাময়ের জন্য এটি খুবই কার্যকরী। সূর্যের প্রচণ্ড রোদে যাদের মাথা যন্ত্রণা বেড়ে যায় এবং ঠান্ডা লাগলে বা ভ্যাপসা ঠাণ্ডা গরমে এরকম মাথাব্যথা বেড়ে যায়। এ ধরণের লক্ষণের ক্ষেত্রে বেলেডোনা প্রয়োগ করা যায়। 

নাক্সভোমিকা (Nux-vomica)

গ্যাসট্রিকের সমস্যা, পাইলস ও কোষ্ঠকাঠিন্যে মাথাযন্ত্রণা করলে এই ঔষধ ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া অতিরিক্ত তেলমশলা জাতীয় খাবার গ্রহণ এবং অ্যালকোহলের সেবনের কারণে মাথা ব্যথা হলে নাক্সভোমিকা প্রয়োগে ভালো ফল পাওয়া যায়। 

স্পাইগেলিয়া (Spigelia)

মাথার বামদিকের বিশেষ করে মাইগ্রেনের ব্যথার ক্ষেত্রে স্পাইগেলিয়া প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত রোগীর বাঁ দিকের কিছু কিছু অংশ, কপাল এবং চোখে ব্যথা করে। 

স্যাঙ্গুইন্যারিয়া ক্যানাডেনসিস (Sanguinaria canadensis)

রোগীর মাথা ব্যথা ডানদিক থেকে ব্যথা শুরু হয়ে  ধীরে ধীরে মাথার পিছনে ছড়িয়ে পরে এবং ডানদিকের চোখে এটা স্থিত হয়। সকালবেলা বা দিনের বেলার মাথা ব্যথা নিরাময়েও এই  ঔষধ কাজ করে। মহিলাদের মেনোপজের পর যে মাথা ব্যথা হয়ে থাকে তাতেও স্যাঙ্গুইন্যারিয়া ক্যানাডেনসিস কার্যকরী। 

গ্লোনোনিয়াম (Glononium)

মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক রক্ত জমা হলে যে মাথা ব্যথার সৃষ্টি হয় তাতে গ্লোনোনিয়াম উত্তম কাজ করে। মাথা যন্ত্রনায় রোগী মনে করে মাথা ফেটে যাবে বা মাথাপুড়ে যাচ্ছে। কখনো কখনো রোগী মনে করে মাথা আকারে বেড়ে যাচ্ছে বা চোখের চারপাশে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অত্যাধিক তাপের ফলে মাথা ব্যথা করলেও গ্লোনোনিয়াম খুব কার্যকরী ঔষধ। 

তবে কখোনই নিজ দায়িত্বে ফার্মাসী থেকে ঔষধ কিনে খাওয়া নিরাপদ নয়। মাথা ব্যথার সমস্যার জন্য যদি হোমিও চিকিৎসা নিতে চান , সেক্ষেত্রে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথি  চিকিৎসকের নিকট শরণাপন্ন হবেন।। তিনি আপনার মাথাব্যথার কারণ নির্বাচন করে সঠিক ওষুধ দেবেন।

ওষুধের পাশাপাশি কিছু কিছু অভ্যাসও পরিবর্তন করতে হবে। অনিয়মিত ও অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন, অতি মাত্রায় চা ও কফি পান, মদ্যপান, মাদক সেবন, অতিরিক্ত ধূমপান, অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম, ক্ষুধার্ত থাকা, রোদ বা অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া, যেকোনো ধরনের মানসিক চাপ ইত্যাদি মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। তাই এধরণের অভ্যাসের বা আচরণের পরিবর্তন ফলে মাথাব্যথা অনেকাংশে কমে আসবে।

একই সাথে  পর্যাপ্ত ঘুম,  মেডিটেশন , সুনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস,  শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম,  ইতিবাচক জীবনচর্চা  ইত্যাদি মাথাব্যথার প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
Mpox milhomeo
সংক্রামক রোগ

এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 

by Dr. Baby Akter 22/11/2024
written by Dr. Baby Akter

সম্প্রতি আফ্রিকাসহ আশপাশের দেশগুলোতে এমপক্স ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। সময়ের সাথে সাথে এশিয়া ও ইউরোপের দেশেগুলোতেও ছড়াচ্ছে। ২০২২ সালের জুলাই মাসে এই ভাইরাস প্রায় ১০০ টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ার কারণে সে সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এমপক্স ভাইরাস নিয়ে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল। অবশ্য পরবর্তীতে টিকা প্রদানের মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

২০২৩ সালের জুলাই মাসে সংক্রমণ আরো বেড়ে যায়। ২০২৪ সালের শুরু থেকে জুলাই পর্যন্ত এ রোগের সংক্রমণ হয় ১৪৫০০ এর বেশি মানুষ, এর মধ্যে প্রায় ৪৫০ জন জন লোক মারা যায়। ফলে এমপক্স নিয়ে সম্প্রতি সারা বিশ্বে গণস্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।

মাঙ্কিপক্স বা এমপক্স কী?

এমপক্স হল এক ধরণের ভাইরাসজনিত রোগ। এটি গুটিবসন্ত বা স্মলপক্স এর জন্য দায়ী ভাইরাসের শ্রেণীভুক্ত। তবে গুটিবসন্ত ভাইরাসের চেয়ে এমপক্স ভাইরাস তুলনামূলক কম ক্ষতিক্ষর। এমপক্স এর প্রধানতঃ দুটি ধরণ রয়েছে : ক্লেড-১ ও ক্লেড-২। ধরণ দুটির মধ্যে আবার সাব ডিভিশন রয়েছে  এ এবং বি। মাঙ্কিপক্স ভাইরাস শুরুতে পশুপ্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। তবে এই রোগটি এখন মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটছে। 

এমপক্স ভাইরাস বেশি দেখা যায় আফ্রিকার গ্রামীণ এলাকায় যেখানে সাধারণত বৃষ্টিপাত বেশি হয়। বিশেষ করে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) এ ভাইরাসের বেশি প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যায়। এই দেশটিতে এমপক্স ভাইরাসের কারণ ছিল মূলত ক্লেড-১ ভাইরাস। ক্লেড-২ ভাইরাস ছড়িয়েছে ইউরোপে। ক্লেড-১ ভাইরাসের তুলনায় ক্লেড-২ ভাইরাসের মৃত্যু হার তুলনামূলক কম। ক্লেড-১ ভাইরাসে আক্ৰান্ত রোগীর প্রতি ১০০ জনে ৪ জনের মৃত্যু হয়। তাই ক্লেড-১ ভাইরাসটি ক্লেড-২ থেকে অধিক গুরুতর।

এমপক্স কীভাবে ছড়ায়?

এমপক্স ভাইরাস একটি পানিবাহিত রোগ, এটির উদ্ভব ঘটেছে মূলত বন্যপ্রাণী থেকে। আগেকার সময়ে যারা পশু শিকারে যেতেন তাদের মধ্যে এ রোগের সংক্রমণ ঘটতো। কিন্তু এখন মানুষ থেকে মানুষে এ রোগ ছড়াচ্ছে। সে কারণে সংক্রমণের হারও বাড়ছে। 

এমপক্স ভাইরাস মূলত যেভাবে ছড়ায় – 

  • মানুষের সাথে মানুষের শারীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। এমপক্সে সংক্রমিত ব্যক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থান করলে, স্পর্শ করলে, শারীরিক ও যৌন সম্পর্ক ইত্যাদির মাধ্যমে এমপক্স ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। 
  • এমপক্স আক্রান্ত বন্যপ্রাণীর কাছাকাছি বসবাস করলে অথবা শিকারে গেলে, মাংস কাটা, কম তাপে রান্না করা মাংস বা কম তাপে রান্না করা খাবার খাওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়াতে পারে। যেহেতু আমাদের দেশে বন্যপ্রাণী খুব বেশি শিকার করা হয় না তাই সংক্রমণের হার কম। তবে সংক্রমিত প্রাণী বা ব্যক্তির কাছে গেলে এমপক্স ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে। সেকারণে সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। 
  • এ ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তির ব্যবহার্য জিনিসপত্র যেমন- তোয়ালে, পোশাক, বিছানার চাদর ইত্যাদি ব্যবহারে এমপক্স ভাইরাস ছড়াতে পারে। 
  • এমপক্স ভাইরাসে সংক্রমিত দেহে ব্যবহার করা ইনজেকশনের সুঁই আরেকজনের শরীরে ব্যবহার করলে এর সংক্রমণ হতে পারে।
  • গর্ভবতী নারী এমপক্স ভাইরাসে সংক্রমিত হলে নবাগত সন্তানেরও এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
  • এমপক্স আক্রান্ত হয়ে ফোস্কা শুকিয়ে যাওয়া অংশ যদি ছড়িয়ে পড়ে তাতেও এটির সংক্রমণ হতে পারে। 

এমপক্সের লক্ষণ

এমপক্সে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে প্রচন্ড ব্যথা হয়। এই ব্যথা জলবসন্তের থেকেও বেশি অনূভত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির গলা, পায়ের সন্ধিস্থল,  বগলের নিচে থাকা লসিকাগ্রন্থি ফুলে যায়, খুব বেশি ব্যথা হয় যার কারণে শরীরে জ্বর চলে আসে। দেহের ত্বকে পানি ভর্তি ফোস্কা বা ফুসকুড়ি হয় এতে ব্যথা ও চুলকানি থাকে।

এমপক্স প্রাথমিক অবস্থায় থাকলে এমনিতেই চলে যায়। তবে কেউ যদি এমপক্সের কারণে খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন সেক্ষেত্রে  মারাত্বক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, অনেক সময় রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

এমপক্সের চিকিৎসা

এমপক্সের সরাসরি কোন চিৎকিসা বা ঔষধ নেই। এই রোগের মেডিসিন আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে। তবে উপসর্গের ভিত্তিতে কিছু মেডিসিনের মাধ্যমে এর চিকিৎসা দেয়া হয়। লক্ষণভিত্তিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি এক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ করে। রোগীকে অবশ্যই আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা নিতে হবে। এবং রোগীকে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ও পরিস্কার পরিছন্ন পরিবেশে থাকতে হবে।

আফ্রিকায়  এমপক্সের চিকিৎসার জন্য গুটিবসন্তের ভ্যাকসিন খানিকটা পরিবর্তন করে এমপক্সের সংক্রমিত ব্যক্তিদের দেওয়া হচ্ছে।  বাংলাদেশে এভাবে ভ্যাকিসন প্রয়োগ করা হবে কিনা তা  যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় আনবেন।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
এনাল ফিসার
পায়ুপথের রোগ

এনাল ফিসার কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

by Dr. Baby Akter 06/07/2024
written by Dr. Baby Akter

এনাল ফিসার হল একধরনের পায়ুপথের ক্ষত বা পায়ুপথের রোগ। এটি অতি পরিচিত পায়ুপথের একটি সমস্যা যা মলত্যাগের সময় ব্যথা, জ্বালাপোড়া করা, ছুরির ধারের মত অনূভুত হয়ে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি একেবারে তীব্র পর্যায়ের হয়ে থাকে ফলে রোগীর মধ্যে মারাত্বক অস্বস্তি ও যন্ত্রনা শুরু হয়। এই উপসর্গগুলোকে সাধারণত এনাল ফিসার বলা হয়ে থাকে। তবে বাংলায় এটি গেজ রোগ নাম বেশী পরিচিত। 

এটি সাধারণত পায়ুপথের সমস্যা হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ভোগার পরও অনেকে এর চিকিৎসা নেন না বা ডাক্তারের কাছে যেতে চান না। অথচ এই সংবেদনশীল রোগটির যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নেওয়া যায় ততই মঙ্গল। না হলে একপর্যায়ে অবস্থা মারাত্বক আকার ধারণ করে অস্ত্রোপচার সহ উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় বা জটিল আকার ধারণ করে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।

এনাল ফিসার কী?

মানুষের পায়ুপথের পেছনের দিকের যে অংশে মল জমা হয় তাকে মলাশয় বা রেক্টাম বলা হয়। এই মলাশয় থেকে মল মলদ্বার দিয়ে বের হয়ে আসে। মলদ্বারের চারপাশের মাংসপেশী চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে মলদ্বারের মুখ খোলা বা বন্ধ করা যায়। দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠ্যকাঠিন্য বা কষা পায়খানা করা অথবা দীর্ঘক্ষণ বাথরুমে বসে থাকা, খুব জোরে চাপ দিয়ে মল ত্যাগ করা ইত্যাদি কারণে অনেক সময় মলদ্বারের চারপাশের চামড়া ফেটে বা চিড়ে যায়৷ মলদ্বারের এই ফেটে বা চিড়ে যাওয়া ক্ষত অবস্থাকে গেজ রোগ বা এনাল ফিসার বলে।

এনাল ফিসারের ফলে মলত্যাগের সময় এই ক্ষত অংশে খুব জ্বলাযন্ত্রণা ও ব্যথা করে। একই সাথে পায়ুপথের চারপাশে টানটান হয়ে পায়ুপথ টাইট হয়ে সরু হয়ে যায়। যে কারণে মলত্যাগের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠে। 

এনাল ফিসারের লক্ষণগুলো কী কী?

১. মলদ্বারে প্রচন্ড ও  ধারালো যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা হওয়া

এনাল ফিসারের অন্যতম লক্ষণ হল পায়খানা করার সময় মলদ্বারের চারপাশে প্রচন্ড ধারালো ব্যথা অনুভূত হওয়া। রোগীর মনে হতে থাকে মলদ্বারে যেন কাঁচের টুকরো বের হচ্ছে। তাই রোগীদের জন্য এটি অধিক যন্ত্রণাদায়ক। পায়খানা করার বেশ কিছুক্ষণ পরও ব্যথা ও জ্বালা অনূভুত হতে থাকে। 

২. মলের সাথে টকটকে লাল রক্ত যাওয়া

মলদ্বারের ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণ হয় বিধায় রক্তের রং উজ্জ্বল ও লাল বর্ণের হয় এবং তা মলের সাথে লাগানো অবস্থায় বের হয়। সাধারণত মলদ্বারের চারপাশ থেকে বের হয় তাই রক্ত পরিমানে কম হয়। তবে যদি ভেতর থেকে রক্ত বের হয় তাহলে রক্তের রং আরো কালচে লাল বা গাঢ় হতো।

৩. মলদ্বারে চুলকানি

গেজ রোগ বা এনাল ফিসার রোগে মলদ্বারে চুলকানি হতে পারে।

আরো পড়ুন: এনাল ফিস্টুলা কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

এনাল ফিসার কেন হয়?

এনাল ফিসারের সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর অন্যতম হল কোষ্ঠকাঠিন্য বা কষা পায়খানা। কষা পায়খানা হলে অনেকে নিয়মিত মলত্যাগ করতে চায় না, পরবর্তীতে মলত্যাগের সময় তা আরও শক্ত হয়ে বের হয়। এতে কষা পায়খানার ফলে পায়ুপথের চারপাশের ত্বক ছিঁড়ে যায়। ফলে এনাল ফিসারের সমস্যা সৃষ্টি হতে থাকে। 

তাছাড়া গর্ভবতী মহিলাদের ও নরমাল ডেলিভারী মাধ্যমে বাচ্চা প্রসব হলে সেক্ষত্রেও এনাল ফিসারের সমস্যা দেখা দিতে পারে তবে সেক্ষেত্রে ধরণটা একটু ভিন্ন হয়। 

আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডায়রিয়ার কারণেও এ রোগ হতে পারে, তাছাড়া আরো অনেক কারণে এই এনাল ফিসার রোগ হতে পারে যেমন :

১. ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস সংঘটিত চর্মরোগ।

২. সোরিয়াসিস নামক ত্বকের প্রদাহজনিত রোগ।

৩. পরিপাকতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ বা ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (IBD)।

৪. যৌনরোগ, যেমন- এইচআইভি, সিফিলিস ও হার্পিস সিমপ্লেক্স।

৫. Pruritus Ani নামের পায়ুপথের মুখের চুলকানি রোগ।

৬. কোলোরেক্টাল বা পায়ুপথের ক্যান্সার।

কিছু কিছু ওষুধ সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও এনাল ফিসার দেখা দিতে পারে যেমন-

  • আফিমজাতীয় ব্যথার ওষুধ (Opioids), যেমন- ট্রামাডল, টাপেন্টাডল, মরফিন ও পেথিডিন।
  • Angina- জাতীয় বুকের ব্যথায় ব্যবহৃত নিকোর‍ান্ডিল।
  • কেমোথেরাপিতে ব্যবহৃত কিছু ওষুধ।

এনাল ফিসার বা গেজ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

১. সিটজ ব্যাথ(Sitz Bath) বা মলদ্বারে গরম পানির সেঁক নেয়া –

একটি বড় আকারের বোলে কুসুম গরম পানি নিয়ে তাতে কিছুক্ষণ বসে থাকতে হবে। এতে মলদ্বারের মাংসপেশী শিথিল হয়ে ব্যথা কমে আসে। এটাকে Sitz bath/সিটজ বাথ বলা হয়ে থাকে। দিনে দুই থেকে তিনবার এই পদ্ধতি গ্রহণ করা যায়। 

২. মলদ্বারের চারপাশে পেট্রোলিয়াম জেলি  ব্যবহার –

মলদ্বারের চারপাশে পেট্রোলিয়াম জেলি বা এই জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করা যায়। এর ফলে শক্ত মল সহজে মলদ্বার দিয়ে বের হয়ে আসে। এবং চামড়া ছিঁড়ে যাওয়া বা রক্তপাত হওয়ার সম্ভবনা কম থাকে। 

৩. সকালে ইসবগুলের ভুসি খাওয়া-

নিয়মিত সকালে ২ চা চামচ ইসবগুলের ভুসি ১ গ্লাস পানিতে মিশিয়ে খেলে মল নরম থাকে। এটি এনাল ফিসার রোগীর জন্য বেশ উপকারী একটি খাবার। তবে ইসবগুলের ভুসির সাথে পর্যাপ্ত পানি পান না করলে, পায়খানা আরো শক্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাই সাথে পর্যাপ্ত পানির বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

৪. মলদ্বার পরিষ্কার ও শুকনো রাখা –

মলত্যাগের পর মলদ্বার শুকনো ও পরিছন্ন রাখতে হবে। তাছাড়া মলদ্বার আলতোভাবে হাতের আঙ্গুল দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে, কিন্তু অতিরিক্ত ঘষাঘষি করা যাবে না। ফলে জায়গাটি ইনফেকশন হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। এর ফলে এনাল ফিসার হলেও তা সেরে উঠার সম্ভবনা বেশি থাকে।

আরো পড়ুন: মহিলাদের পাইলস বা অর্শ্বরোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

এনাল ফিসার বা গেজ রোগ থেকে মুক্তির উপায়

১. যথা সময়ে মলত্যাগ করা –

যথাসময়ে মলত্যাগ করতে হবে। যদি পায়খানা জমিয়ে দেরী করে মলত্যাগ করা হয় তাহলে মল আরো শক্ত হয়ে যায়। এতে শক্ত মল পায়খানার রাস্তায় ক্ষত সারতে অনেক দেরী হয়ে যায়। তাই যথাসময়ে মলত্যাগ করা অভ্যাস করতে হবে। 

যদিও এনাল ফিসারের রোগীদের মলত্যাগের সময় প্রচন্ড যন্ত্রনা হয় তাই যথাসময়ে মলত্যাগে ভয় পায়, সেকারণে খাওয়া দাওয়ার মাধ্যমে মল নরম রাখতে হবে এবং ব্যথা কমানোর উপায়গুলোও মেনে চলা উচিত। 

২. এনাল ফিসার রোগীর জন্য কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার অত্যান্ত জরুরী। তাই কিছু নিয়ম অবশ্যই মেনে চলতে হবে। যেমন –

  • পর্যাপ্ত পরিমানে আঁশ বা ফাইবার জাতীয় খাবার খেতে হবে যেমন- ফলমূল, শাকসবজি, ডাল, লাল চাল, লাল আটা এধরণের খাবার। 
  • বিশেষজ্ঞরা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য দৈনিক ৩০ গ্রাম ফাইবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। 
  • তবে ফাইবার খাওয়ার পরিমান ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে। ফাইবারের সাথে পর্যাপ্ত পরিমান পানি না খেলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই পরিমিত পরিমান পানিও গ্রহণ করা খুব জরুরী।
  • সকালে নিয়মিত ইসবগুলের ভুসি খেলেও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
  • নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করতে পারেন।

৩. মলত্যাগের সময় জোরে চাপ না দেওয়া –

মলত্যাগের সময় অতি জোরে চাপ দেওয়া বা জোর করে মল বের করার ফলে পায়ুপথে প্রচন্ড চাপ পড়ে। এতে পায়ুপথ ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। তাই জোরে চাপ দিয়ে মলত্যাগ থেকে বিরত থাকতে হবে।

৪. দীর্ঘক্ষণ বসে মলত্যাগ না করা –

অনেকে মলত্যাগকালীন সময়ে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকেন বা যথাসময়ে উঠে আসে না। এটি এনাল ফিসার রোগীর জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে মলদ্বারের উপর অধিক চাপ পড়ে। এতে মলদ্বারের চামড়া ফেঁটে যাওয়ার বা রক্ত ক্ষরণের সম্ভাবনা থাকে। 

এনাল ফিসার হলে কি কি খাবার খেতে হবে ?

  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য দ্রবণীয় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, ফলমূল, শাকসবজি পর্যাপ্ত পরিমান খেতে হবে। এ ধরণের খাবার এনাল ফিসার তথা মলদ্বারের রোগের কষ্ট  লাঘবের জন্য খুব উপযোগী। তাছাড়া এ জাতীয়  খাবার গুলো অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
  • পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমান পানি শরীরকে ডিহাইড্রেশন মুক্ত রাখে ও মলকে স্বাভাবিক রাখে। 
  • রাজমা, কড়াইশুঁটি এবং ডাল জাতীয় শস্য এনাল ফিসার রোগীদের বেশ উপযোগী খাবার। 
  • ঢেঁকিতে ছাঁটা চাল এনাল ফিসার রোগীদের জন্য খুব উপকারী, হোল গ্রেন থেকে তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাবারেও ভালো ফল পাওয়া যায়। 

এনাল ফিসার হলে কি কি খাওয়া উচিত নয় ?

  • কম ফাইবার যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষ করে রিফাইনারিতে তৈরি করা দানা শস্য থেকে এনাল ফিসারের সমস্যা বাড়ার সম্ভবনা থাকে। 
  • দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারের পরিমানে কম খাওয়া উচিত । 
  • মাংস খাওয়া এনাল ফিসার রোগীদের জন্য ভালো নয়। বিশেষ করে বাজারের প্রক্রিয়াজাত করা মাংস খেলে এনাল ফিসারের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। 
  • ধুমপান বা মদ্যপান থেকে বিরত থাকতে হবে। 

এনাল ফিসার হলে কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন ?

মলদ্বারে কোন ধরণের ক্ষত দেখা দিলে দেরী না করে সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। কারণ এই ক্ষত থেকেই কিন্তু পরবর্তীতে রোগটি জটিল আকার ধারণ করে। তবে যে পদ্ধতিতে চিকিৎসা গ্রহণ করা হোক না, কেন তা অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে নিতে হবে। একটু অসচেতনতার কারণে কোন ধরণের অপচিকিৎসার সামিল না হয়ে অবশ্য সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। 

এনাল ফিসারের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

প্রচলিত বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় এর ভালো চিকিৎসা রয়েছে। রোগীর লক্ষণ সাদৃশ্যে এ মেডিসিন গুলো ব্যবহার করা হয়। লক্ষণ অনুসারে হোমিওপ্যাথিক যে মেডিসিনগুলো প্রয়োগ করা যায় তা হল –

বেলেডোনা (Belladonna)

মলদ্বারে ফোঁড়ার সৃষ্টির পর বেদনা, মলদ্বার লাল বর্ণ, ফোঁড়া স্থানে দপদপকর বেদনা এবং হুল ফোটানো বেদনা, প্রদাহ স্থান লাল,শক্ত, পেকে উঠে এ ধরনের লক্ষণগুলোতে বেলেডোনা প্রয়োগ করা যায়। বেলেডোনা ৩x শক্তি, ২/৩ ফোঁটা পানি মিশ্রিত করে দিনে ৪ বার।  

হিপার সালফার (Hepar Sulph)

মলদ্বারের ক্ষত স্থান খুব স্পর্শকাতর, হাত দিয়ে ছোঁয়াও যায় না। আক্রান্ত স্থান থেকে পনিরের মত পূঁজ পড়ে, জ্বালাপোড়া করে, খোঁচামারা বেদনা থাকে। শুরুর দিকে এ মেডিসিন প্রয়োগ করা গেলে ক্ষত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। 

হিপার সালফার/Hepar Sulph ২x/৩x  শক্তি দিনে ৩ বার। 

সাইলিসিয়া (Silicea)

ক্ষত থেকে বেদনাহীন অধিক পরিমানে পূঁজ পড়ে। রোগের পূরাতন অবস্থা অর্থাৎ দীর্ঘদিনের ক্ষত, নালী গা শুকানোর ক্ষেত্রে এই মেডিসিন ভালো কাজ করে। 

সাইলিসিয়া/Silicea  ৩০ শক্তি, দিনে ৩ বার।  

পিওনিয়া (Paeonia)

এটি এনাল ফিসারের অতি উৎকৃষ্ট মেডিসিন। শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাতে, পায়ে, পায়ের পাতা, আংগুলে মলদ্বারে চুলকানি, জ্বালাপোড়া করে। মাথা ও পায়ে ঝনঝন শব্দ অনূভব হয়। এই ধরণের লক্ষণ গুলোতে পিওনিয়া/Paeonia প্রয়োগ করা যায়।

পিওনিয়া/Paeonia ৩/৬  শক্তি ,  দিনে ৪ বার। 

ইস্কুলাস হিপ (Aesculus Hip)

গুহ্যদ্বারে শুষ্কতা ও তাপ অনুভব এবং মনে হয় যেন কতকগুলি ছোট ছোট কাঠি মলদ্বারে আছে। মলদ্বারে জ্বালাবোধ, সুচিবিদ্ধবৎ বেদনা, মলদ্বার চুলকাইতে থাকা, এ ধরণের লক্ষণগুলোতে ইস্কুলাস হিপ প্রয়োগ করা যায়। 

ইস্কুলাস হিপ/Aesculus Hip ৩/৬ শক্তি, ২/৩ ফোঁটা পানি মিশ্রিত করে দিনে ৩ বার। 

উপরোক্ত মেডিসিন ছাড়াও আরো বেশ কিছু হোমিও ঔষধ যেগুলো লক্ষণ সাদৃশে প্রয়োগ করা যায়। তবে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শে মেডিসনগুলো গ্রহণ করতে হবে। 

এনাল ফিসার ও পাইলস-এর মধ্যে পার্থক্য কি?

পাইলসের লক্ষণ এবং এনাল ফিসারের লক্ষণ গুলো কিছু কিছু ক্ষেত্রে মিল হলেও এ দুটি আলাদা রোগ যদিও দুটি রোগে মলদ্বারে চুলকানি হতে পারে সেই সাথে তাজা রক্ত যেতে পারে। তবে পাইলসের থেকেও এনাল ফিসারে রক্ত বেশী যায়। এনাল ফিসার এবং পাইলসের মধ্যে বিশেষ পাথর্ক্য গুলো হল-

পাইলসের ক্ষেত্রে মলদ্বারে নরম বল বা গোটার মত দেখা দেয়। বলগুলো প্রায় ক্ষেত্রে মলত্যাগের সময় বের হয়ে আসে। অনেক সময় বলগুলো নিজে থেকে ঢুকে যায় আবার ক্ষেত্রবিশেষ আঙ্গুলের সাহায্যে ঢুকিয়ে দিতে হয়। এবং মলদ্বার দিয়ে পিচ্ছিল শ্লেষ্মার মতো পদার্থ বের হয়। 

এনাল ফিসারের ক্ষেত্রে সাধারণত মলত্যাগের সময় প্রচন্ড ব্যথা হয় এবং টাটকা রক্ত যেতে দেখা যায়। কিন্তু পাইলসের ক্ষেত্রে এধরণের ব্যথা থাকে না।  

কখন এনাল ফিসার রোগীর অপারেশন প্রয়োজন?

এনাল ফিসার যখন কোনো ধরণের চিকিৎসায় সারে না তখন অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে। এই রোগে অবস্থার অবনতি হলে, সাধারণত সার্জারিকে সবচেয়ে উত্তম হিসেবে গণ্য করা হয়। এ ক্ষেত্রে ৯০% রোগী স্থায়ী সুফল লাভ করে। তবে এতে অপারেশন পরবর্তী বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়ার ঝুঁকি থাকে। 

এনাল ফিসার রোগের অপারেশন গুলো খুব একটা জটিল হয় না। সাধারণত রোগী সেদিনই বাড়ী ফিরে যেতে পারে। এ রোগের বেশ কয়েক ধরণের সার্জারী রয়েছে। তার মধ্যে বহুল প্রচলিত দুটি পদ্ধতি হলো—

১. ল্যাটারাল স্ফিংকটারেকটোমি

২. অ্যাডভান্সমেন্ট অ্যানাল ফ্ল্যাপ

এনাল ফিসারের অপারেশনে খরচ কেমন ?

খরচ নির্ভর করে রোগীর রোগের ধরণ এবং চিকিৎসক ও হাসপাতালের মানের উপর। তবে বাংলাদেশে ফিসার সার্জারিতে গড়ে  ৪৫০০০ – ৬০০০০ টাকা লাগে। এর কম বেশিও হতে পারে। যদি দেশের বাইরে সার্জারী করানো হয় সেক্ষেত্রে খরচ ভিন্ন। 

এনাল ফিসারের অপারেশন পরবর্তী সমস্যাগুলো কি কি ?

মলদ্বারের সার্জারীতে ক্ষত শুকাতে শরীরের অন্যান্য স্থানের তুলনায় বেশী সময় লাগে। কয়েক সপ্তাহ এমন কি কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে। তবে নিয়মিত পরিচর্যা ও পরিষ্কার রাখলে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। 

এনাল ফিসার থেকে কি ক্যান্সার হয় ?

গেজ রোগ বা এনাল ফিসার ও পাইলসের থেকে কখনোই ক্যানসার হয় না। কিন্তু ফিস্টুলা যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে তাহলে  সেক্ষেত্রে ক্যানসার হতে পারে। সেকারণে চিকিৎসকেরা ফিস্টুলার ক্ষেত্রে ১০০ ভাগ অস্ত্রোপচারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারের সাথে অ্যাসোসিয়েটেড পাইলস থাকতে পারে। কিন্তু এনাল ফিসার বা পাইলসের সমস্যা আছে তা ক্যানসার হয়ে যাবে এটি কখনোই সঠিক নয়। 

এনাল ফিসার একবার সুস্থ হওয়ার পর কি আবার হওয়ার সম্ভবনা থাকে ?

হ্যাঁ, রোগী সুস্থ হওয়ার পরও যদি অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস গড়ে তোলে সেক্ষেত্রে এনাল ফিসার বার বার দেখা দিতে পারে। তাই এ রোগে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস ও রুটিন মাফিক জীবনযাপন অধিক সচেতনতা প্রয়োজন। 

সার্জারির পর কি আবার অ্যানাল ফিসার হতে পারে ?

হ্যাঁ, সার্জারির পর যদি রোগী অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভাসের সঠিক নিয়মকানুন মেনে না চলেন বা সঠিক যত্ন না নেন তবে আবার এনাল ফিসার দেখা দিতে পারে। তবে এক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তির হার ১০% মাত্র।

0 comments
5 FacebookTwitterPinterestEmail
পায়ুপথের রোগ

এনাল ফিস্টুলা কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

by Dr. Baby Akter 05/07/2024
written by Dr. Baby Akter

মানুষের মলদ্বারের ভেতরে কতগুলো গ্রন্থি রয়েছে কোনো কারণে সেগুলোর সংক্রমণ হলে সেই জায়গায় ফোঁড়া তৈরি হয়। এই ফোঁড়া এক সময় ফেটে গিয়ে পায়ুপথের চারিদিকের, যে কোনো স্থানের একটি নালী বা ছিদ্র তৈরি করে বের হয়ে আসে এবং পুঁজ নিঃসরণ করে। ফলে রোগীর পায়ুপথে প্রচুর ব্যথা অনূভব করে, সারাক্ষন রোগী এক যন্ত্রণাদায়ক সময় পার করে। পূঁজ বের হওয়ার পর রোগীর যন্ত্রনা কিছুটা কমতে থাকে। মলদ্বারের বা পায়ুপথের চারপাশের এ ধরণের এক বা একাধিক নালী ফোঁড়া থেকে পূঁজ আসাকে ফিস্টুলা বা ভগন্দর বলা হয়। 

এ রোগটি মূলত মলদ্বারে বিশেষ সংক্রমণের ফলে উৎপত্তি হয়। তাছাড়া মলদ্বারে ক্যান্সার এবং বৃহদান্ত্রের প্রদাহজনিত রোগসহ আরও অনেক কারণেও ফিস্টুলা বা ভগন্দর হতে পারে। সাধারনত চিকিৎসা ছাড়া এরোগ ভালো হয় না।  অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফিস্টুলা বা ভগন্দর সারাতে সার্জারীর প্রয়োজন পড়ে।  

এনাল ফিস্টুলা কি কারণে হয় ?

সাধারণত মলদ্বারের সংক্রমের ফলে সৃষ্ট ফোঁড়া থেকে ফিস্টুলা বা ভগন্দর হয়ে থাকে। এছাড়াও আরও কিছু কারণে ফিস্টুলা দেখা দিতে পারে যেমন-

এইচআইভি (এইডস)/টিবি (যক্ষ্মা): এ ধরণের রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর ফিস্টুলা দেখা দেয়ার ঝুঁকি থাকে। 

ক্রোনস ডিজিজ: এটি একধরনের অন্ত্রের রোগ (IBD) যা পরিপাক নালীতে জ্বালাপোড়া করে এবং পেট ব্যথা, ডায়রিয়া, পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়া সহ আরও বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়। 

মলদ্বারের অপারেশন: মলদ্বারের চারপাশের কোথাও সার্জারী করা হলে সেখান থেকে নতুন নালী সৃষ্টি হয়ে এনাল ফিস্টুলা দেখা দিতে পারে। 

হাইড্রাডেনাইটিস সাপুরাটিভা: এটি এক ধরণের রোগ যা শরীরের বেশী ঘাম হওয়া অংশগুলোর চামড়ার মধ্যে কিছু ফোঁড়ার সৃষ্টি হয় ও চামড়া পূরু হয়ে দাগের মত দেখায়। 

ডাইভারটিকুলাইটিস: এটি এমন একটি রোগ যা পরিপাক নালীর শেষের অর্থাৎ বৃহদান্ত্রের কিছু স্থানে থলির মত হয়ে ফুলে সংক্রামিত হয়ে পড়ে।  

এছাড়া রেডিওথেরাপি, ট্রমা, যৌনরোগ, ক্যানসার এর মত রোগের কারণেও এনাল ফিস্টুলা দেখা দিতে পারে।

আরো পড়ুন: মহিলাদের পাইলস বা অর্শ্বরোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

ফিস্টুলা বা ভগন্দরের লক্ষণ –

এনাল ফিস্টুলার লক্ষণ সমুহ

এনাল ফিস্টুলার ক্ষেত্রে বেশ কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন-

  • সাধারণত সারাক্ষণ একটি টনটনে ব্যথা থাকে যা হাঁটাচলা করলে, বসলে, কাশি দিলে অথবা পায়খানা করার সময় ব্যথা বেড়ে গিয়ে পায়ুপথের চারপাশ থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ নির্গত হয়। 
  • পায়ুপথের চতুর্দিকের ফুলে লাল হয়ে যেতে পারে এবং ফোঁড়া হলে অনেক সময় জ্বরও আসতে পারে। 
  • মলের সাথে রক্ত ও পূজ বের হয়ে থাকে।
  • রোগী মলত্যাগের ক্ষেত্রে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে অর্থাৎপায়খানার চাপ আসলে তা বুঝে উঠার আগে পায়খানা হয়ে যায় বা মলত্যাগের চাপ বেশিক্ষণ নিতে পারে না।
  • কিছু কিছু ক্ষেত্রে মলদ্বারের পাশের নালীর মত ছিদ্রটি বাইরের থেকে দেখা যায়। তবে রোগীর ক্ষেত্রে দেখা সাধারণত সম্ভব হয় না। 

এনাল ফিস্টুলা হলে করণীয় কি?

ফিস্টুলার লক্ষণগুলো দেখা দিলেই দেরী না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ হবে। ডাক্তারকে উপসর্গগুলো ভালোভাবে বুঝিয়ে বলা উচিত। চিকিৎসক সেক্ষেত্রে পায়ুপথের সমস্যার সাথে অন্ত্র বা পরিপাকনালীর অনন্যা সমস্যা আছে কিনা নিশ্চিত করে থাকেন। 

মলদ্বারের ফিস্টুলার অবস্থা জানার জন্য চিকিৎসক পায়ুপথে আলতোভাবে আঙ্গুল ঢুকিয়ে  যাচাই করতে পারে। এটিকে ডিজিটাল রেকটাল এক্সামিনেশন (DRI) বলা হয়।

এই পরীক্ষার ফলে চিকিৎসক যদি এনাল ফিসারের আশঙ্কা করেন তাহলে এনাল ফিসারের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা কোলোরেক্টাল সার্জন এর নিকট যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আরও কিছু  টেস্ট করে থাকেন এরপর নিশ্চিত হলে ফিস্টুলার সঠিক চিকিৎসা অথবা অস্ত্রোপচারের ব্যাবস্থা গ্রহণ করেন। 

এক্ষেত্রে যে টেস্ট বা পরীক্ষা নিরীক্ষা গুলো করা হয়ে থাকে তা হল –

  •  মলদ্বারে আঙ্গুল ঢুকিয়ে DRI করা হয় । 
  • প্রোক্টোস্কোপি করে থাকে যা পায়ুপথে নলের মত একটি বিশেষ যন্ত্র প্রবেশ করানো হয়। এই যন্ত্রের সাহায্যে এনাল ফিস্টুলার নালী আছে কিনা তা ভালোভাবে দেখে নিশ্চিত করা হয়।
  • এছাড়া এমআরআই, আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান, সিটি স্ক্যান এর মত পরীক্ষাও করা হতে পারে।
আরো পড়ুন: এনাল ফিসার কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

এনাল ফিস্টুলার চিকিৎসা-

ফিস্টুলা রোগীর জন্য প্রায় সব সময়ই সার্জারীর প্রয়োজন পড়ে। কারণ এ রোগ মেডিসিন দিয়ে কিছুটা সুস্থ হলেও অপারেশন ছাড়া কখনোই পুরোপুরি ভালো হয় না। এক্ষেত্রে যে সব সার্জারী গুলো করা হয়ে থাকে তা হল –

ফিস্টুলোটোমি: এটির মাধ্যমে মলদ্বারের নালী বা ছিদ্রের রাস্তাটি কেটে পূঁজ বের করে পরিষ্কার করা হয়। তারপর প্রয়োজন অনুসারে সেলাই অথবা সেলাই না করেও শুকাতে দেয়া হয়। সঠিকভাবে শুকিয়ে গেলে স্থানটি আগের মত স্বাভাবিক হয়ে যায়। 

সেটন পদ্ধতি: এই সেটন পদ্ধতিতে কয়েক সপ্তাহ মলদ্বারের ফিস্টুলার ভেতরে সেটন নামক বিশেষ এক ধরণের সুতা প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয়। সুতাগুলো ফিস্টুলা পুঁজগুলো শুষে নিয়ে স্থানটি শুকাতে সাহায্য করে। এভাবে সেটন পদ্ধতির মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ধাপে ফিস্টুলা সম্পর্ণরূপে সুস্থ করে তোলা হয়। 

অ্যাডভান্সমেন্ট এনাল ফ্ল্যাপ: এটির মাধ্যমে শরীরের অন্য যে কোন অংশ থেকে বিশেষ করে পায়ুপথের শেষ অংশ থেকে অল্প মাংস বা টিস্যু নিয়ে ফিস্টুলার রাস্তাটিতে এড করে দেয়া হয়। এ পদ্ধতিতে নতুন টিস্যু যোগ করার ফলে ফিস্টুলার অংশটিতে রক্ত চলাচল বেড়ে গিয়ে ফোঁড়া দ্রুত শুকিয়ে যায়। এর ফলে ফিস্টুলার পুরো অংশটি আর কেটে ফেলতে হয় না। 

‘লিফট’ পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে পায়ুপথের পেশিগুলো না কেটে শুধুমাত্র ফিস্টুলাটি সরিয়ে ফেলা হয়। 

এই পদ্ধতিগুলো ছাড়াও  বর্তমানে ফাইব্রিন গ্লু , লেজার এ ধরণের পদ্ধতিও ফিস্টুলার নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়। 

সাধারণত ফিস্টুলার সার্জারীর ক্ষেত্রে একদিনেই রোগী বাড়ী চলে যেতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে অপারেশনের পর কয়েকদিন হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন হতে পারে। ফিস্টুলার সার্জারীর প্রায় সবগুলো পদ্ধতিতে কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। চিকিৎসক রোগীর জন্য সার্বিকভাবে উপযুক্ত পদ্ধতিটি গ্রহণ করে থাকেন। 

ফিস্টুলা সার্জারীর পর সাধারণত  যে ধরণের সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে –

ইনফেকশন: ফিস্টুলা সার্জারীর পর ইনফেকশন হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক খেলে তা সেরে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে হাসপাতালে থেকে চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। 

পায়খানার চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা: প্রায় সব ধরণের ফিস্টুলার চিকিৎসায় এ সমস্যাটি হতে পারে। তবে তা বেশিদিন স্থায়ী হয় না। নিজে থেকেই এ সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। 

ফিস্টুলা পুনরায় ফিরে আসা: সার্জারী করে নিরাময় করার পরও একই স্থানে আবার ফিস্টুলা হতে পারে। 

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
পায়ুপথের রোগ

পুরুষের পাইলসের কারণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা

by Dr. Baby Akter 26/12/2023
written by Dr. Baby Akter

পাইলস এর সমস্যায় মলদ্বারের ভিতরে বাইরের শিরাগুলিতে ফোলা, ব্যথা, চুলকানি এবং রক্তপাতের সৃষ্টি করে যা রোগীকে প্রচন্ড অস্বস্থি এবং যন্ত্রণার মধ্যে রাখে। এটি যে কোন পুরুষের হতে পারে, তবে ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।

যথা সময়ে  চিকিৎসা করা না হয় তবে অবস্থার অবনতি হতে পারে  ফোলা ,ব্যথা বৃদ্ধি পেয়ে আক্রান্ত স্থান থেকে রক্তপাতের সৃষ্টি করে মারাত্নক আকার ধারণ করতে পারে।

প্রচলিত বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতিতে পাইলসের চিকিৎসা করা যায় তবে সবচেয়ে উত্তম এবং নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা পদ্ধতি হল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি। অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের মাধ্যমে যদি রোগের সঠিক চিকিৎসা করানো যায় তবে পাইলসের স্থায়ী নিরাময় সম্ভব

পুরুষদের দুই ধরনের পাইলস বা অর্শ্বরোগ হয়ে থাকে অভ্যন্তরীণ পাইলস এবং বাহ্যিক পাইলস

অভ্যন্তরীণ পাইলস (Internal Hemorrhoids)

অভ্যন্তরীণ পাইলস/হেমোরয়েড মলদ্বারের ভিতরে হয়ে থাকে এবং ব্যথা ছাড়াই রক্তপাত হতে পারে। মলত্যাগের সময় আক্রান্ত স্থান মলদ্বার থেকে বেরিয়ে আসে ফলে অস্বস্তি বা প্রচন্ড জ্বালা সৃষ্টি করে।

বহিরাগত হেমোরয়েড (External Hemorrhoids)

বহিরাগত হেমোরয়েড মলদ্বারের বাইরে তীব্র ব্যথা, চুলকানি এবং অস্বস্তি সৃষ্টি করে। এতে অনেক ক্ষেত্রে মলত্যাগের সময রক্তপাতও হয়ে থাকে।

পুরুষের একই সাথে অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক উভয় ধরণের পাইলস বা হেমোরয়েড হতে পারে। এই কারণে পাইলসের  মারাত্নক আকার ধারণ করার আগে অধিক সতর্কতা প্রয়োজন। যেহেতু পাইলসের ধরণভেদে চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই পাইলসের সমস্যা অনূভব করলে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পুরুষদের পাইলসের লক্ষণ

সাধারণত, পুরুষদের পাইলস কিছুক্ষেত্রে গুরুতর আবার কিছুক্ষেত্রে নরমাল হয়ে থাকে। যেমন-

  • মলদ্বারে শিরাগুলি ফুলে যাওয়া চুলকানি এবং জ্বালাপোড়া।
  • হেমোরয়েডের শিরা ফেটে যাওয়ার ফলে মলদ্বারে ব্যথার সাথে মলত্যাগের সময় বা পরে রক্তপাত হতে পারে।
  • পাইলসের শিরাগুলির বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মলদ্বারের চারপাশে পিণ্ড বা ফোলা হতে পারে।
  • হেমোরয়েডের বা পাইলসের কারণে অসম্পূর্ণ মলত্যাগের অনুভূতি হতে পারে, যা মলের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধা সৃষ্টি করে।
  • মলদ্বার ও মলদ্বারের ফোলা শিরায় চাপের কারণে বসতে অস্বস্তি হতে পারে।
আরো পড়ুন: এনাল ফিসার কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

পুরুষদের পাইলসের কারণ

পুরুষদের পাইলসের সমস্যা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। কিন্তু মলদ্বারের রক্তনালী ও টিস্যুতে চাপ পড়লে হেমোরয়েড বা পাইলস সমস্যা সৃষ্টি হয়ে থাকে। যেমন-

কম ফাইবারযুক্ত খাদ্যাভাস : কম ফাইবারযুক্ত খাদ্য খাওয়ার ফলে মলকে শক্ত করে এবং মলত্যাগের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে মলত্যাগের সময় বেশি চাপ পড়ে। এতে মলদ্বার এবং মলদ্বারের শিরাগুলির উপর চাপ বাড়ায়।

মলত্যাগের সময় স্ট্রেনিং/চাপ : মলত্যাগের সময় খুব জোরে ধাক্কা দিলে মলদ্বার এবং মলদ্বারের শিরাগুলিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যার ফলে হেমোরয়েড এর সমস্যা সৃষ্টি হয়।

দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা : অনেক সময় বসে থাকা, বিশেষ করে শক্ত জায়গায়, পাইলস এর সমস্যা একটি অন্যতম কারণ।

ভারী জিনিস তোলা : যে সব পুরুষ নিয়মিত ভারী জিনিস তোলেন তাদেরও পাইলস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কারণ ভারী জিনিস তোলার স্ট্রেনের ফলে মলদ্বারের শিরা স্ফীত হয়ে উঠে।

বার্ধক্য : বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের টিস্যুগুলি দুর্বল হয়ে যায়, যার মধ্যে রয়েছে মলদ্বার এবং মলদ্বারের টিস্যু, যার ফলে মলদ্বারে পাইলস রোগের সৃষ্টি হয়।

পুরুষদের পাইলস বা অর্শ্বরোগ নির্ণয়

সাধারণত, একজন পুরুষ লক্ষণগুলির উপর ভিত্তি করে সহজেই সনাক্ত করতে পারেন পাইলস আছে কি না তা। যেমন মলদ্বারে ফোলা, রক্তপাত, ব্যথা এবং অস্বস্তি।

যদি এই লক্ষণগুলি বৃদ্ধি পায় তবে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত। পাইলস নির্ণয়ের জন্য ডাক্তার সাধারণত নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলি করবেন:

ডিজিটাল রেকটাল পরীক্ষা (Digital rectal examination) : 

রোগের তীব্রতা বোঝার জন্য ডাক্তার গ্লাভস পরে আঙুল ঢুকিয়ে লুব্রিকেট করবেন। তারপর, মলদ্বারের ভিতরে আঙুল ঢুকিয়ে ডিজিটাল রেকটাল পরীক্ষা করে থাকেন ।

অ্যানোস্কোপি(Anoscopy) :

মলদ্বারে পরীক্ষা করার জন্য একটি ছোট ক্যামেরা(অ্যানোস্কোপ) মলদ্বারে প্রবেশ করানো হয়।

কোলনোস্কোপি(Colonoscopy) : 

অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, লাল বা ফোলা টিস্যু, ঘা (আলসার) বা রক্তপাত পরীক্ষা করার জন্য কোলোনোস্কোপ করানো হয় (এটি দীর্ঘ, নমনীয়, আলোকিত টিউব)। ব্যবহার করে সম্পূর্ণ অন্ত্র পরীক্ষা করেন।

সিগমায়েডোস্কোপি (Sigmoidoscopy) :

এটি কোলন(Part of the colon) এবং মলদ্বারের নীচের অংশ(Lower part of the rectum) পরীক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়।

আরো পড়ুন: এনাল ফিস্টুলা কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

পুরুষদের পাইলসের কিছু ঘরোয়া প্রতিকার

পাইলস নিয়ন্ত্রণের কার্যকরী কৌশল হল ঘরোয়া প্রতিকার বা প্রাকৃতিক প্রতিকার। যা আপনি আপনার বাড়িতে সুবিধামত ব্যবহার করতে পারেন। যেমন –

সিটজ বাথ (Sitz Bath): 

এটি একটি থেরাপিউটিক কৌশল যেখানে একটি উষ্ণ/হালকা গরম পানিতে গোসলে শুয়ে থাকা যায়। এতে পেলভিক (pelvic area) এলাকায় চুলকানি এবং জ্বালা কমাতে সাহায্য করে। সিটজ স্নানে সোডিয়াম বাইকার্বোনেট বা ইপসম লবণ যোগ করলে অতিরিক্ত আরাম  পাওয়া যেতে পারে।

আইস প্যাক (Ice Pack): 

গুরুতর এবং বেদনাদায়ক পাইলস আরাম করতে, ফোলাভাব কমাতে ১০থেকে ১৫ মিনিটের জন্য আক্রান্ত স্থানে একটি বরফের প্যাক ব্যবহার করুন, তবে কোনও ক্ষতি এড়াতে এটি ত্বকে লাগানোর আগে এটি কাপড়ে মুড়ে নিন।

উইচ হ্যাজেল(Witch hazel):  

একটি তুলোর বলে অল্প পরিমাণে জাদুকরী হ্যাজেল নিয়ে  সরাসরি হেমোরয়েডের বা পাইলসের আক্রান্ত স্থানে উপর প্রয়োগ করতে পারেন। দিনে কয়েকবার আলতোভাবে আক্রান্ত স্থানে লাগান, বিশেষ করে মলত্যাগের পরে। এতে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া কমে যাবে।

অ্যালোভেরা তেল:

প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি পাইলসের চুলকানি এবং জ্বালাপোড়া কমায়। শুধু আক্রান্ত স্থানে অল্প পরিমাণে ঘৃতকুমারী তেল লাগান এবং আলতো করে ম্যাসাজ করুন।

নারকেল তেল:

এটি অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যের কারণে পাইলসের সমস্যা সমাধানে খুব কার্যকর। নারকেল তেলে খাবার রান্নাও করতে পারেন। এতে থাকা উপস্থিত উপাদানসমূহ হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

পুরুষদের পাইলস নিয়ন্ত্রণে খাদ্যভাসের পরিবর্তন করুন

পাইলস এর সমস্যা সমাধানে খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত জরুরী। তাই একজন পাইলসে আক্রন্ত রোগীর খাদ্যভাসের বিষয়ে অধিক সচতেন হতে হবে। যেমন-

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার:

উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া মলকে নরম করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে, যা হেমোরয়েড বা পাইলসকে নিরাময়ে সহায়তা করে। এই ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে গোটা শস্য, লেবু, ফল, শাকসবজি, বাদাম, বীজ এবং তুষ।

ভিটামিন সি:

এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে, প্রদাহ/ফোলা কমাতে পারে এবং রক্তনালীগুলিকে শক্তিশালী করতে পারে। ফলে, তা হেমোরয়েড বা পাইলস সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার, যেমন সাইট্রাস ফল, বেল মরিচ এবং ব্রকলি।

ফ্ল্যাভোনয়েডস(Flavonoids): 

ফ্ল্যাভোনয়েড সমৃদ্ধ খাবারে উদ্ভিদ যৌগ রয়েছে যা প্রদাহ কমাতে পারে এবং রক্তনালীগুলিকে শক্তিশালী করতে পারে, পাইলসের উপসর্গগুলি দূর করে। এই জাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে- সাইট্রাস ফল, বেরি এবং ডার্ক চকোলেট ।

প্রোবায়োটিকস(Probiotics):

খাদ্য তালিকায় দই অন্তর্ভুক্ত করুন। এটিতে ভাল ব্যাকটেরিয়া রয়েছে যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে এবং অন্ত্রের কার্যকলাপ  নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পাইলসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

পাইলসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে লাইফস্টাইলের পরিবর্তন করুন

লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে হেমোরয়েডের বা পাইলসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। এর মাধ্যমে সার্জারী  বা অস্ত্রোপচার ছাড়াই পাইলস বা অর্শ্বরোগের সমস্যা কার্যকরভাবে স্থায়ী নিরাময় করা যায়। যে পরিবর্তন করা জরুরী –

নিজেকে হাইড্রেটেড রাখুন:

পাইলসের সমস্যায় মলকে নরম করতে এবং হজমে সহায়তা করার জন্য হাইড্রেটেড থাকা খুব জরুরী, মল স্বাভাবিক ও নরম হওয়ার ফলে মলদ্বারের শিরাগুলির উপর চাপ এবং স্ট্রেন কমায়৷ এতে পাইলসের লক্ষণগুলো দ্রুত উপশম হয় এবং নিরাময় সম্ভব হয়। 

ব্যায়াম:

নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের রক্ত প্রবাহ সচল করে। এর ফলে মলদ্বারের শিরাগুলি সবল থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর করে, যা পাইলসের নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

রেড মিট সীমিত করুন:

লাল মাংস সহজে হজম হয় না এর ফলে পাইলসের সমস্যা বৃদ্ধি পায়, তাই এর পরিবর্তে অন্যান্য ধরণের প্রোটিন যেমন মুরগি, মাছ বা মটরশুটি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন:

হেমোরয়েডের বা পাইলসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতে প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলি এড়িয়ে চলতে হবে কারণ এতে উচ্চ মাত্রায় অস্বাস্থ্যকর চর্বি, লবণ এবং চিনি থাকে, যা প্রদাহ, হজমের সমস্যা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

আরো পড়ুন: মহিলাদের পাইলস বা অর্শ্বরোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

পাইলসের নন-সার্জিক্যাল( Non-surgical treatment ) চিকিৎসা

যদি ঘরোয়া প্রতিকার এবং মেডিসিনেও পাইলসের কোন সমাধান পাওয়া না যায়, তবে নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসা বিবেচনা করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:

রাবার ব্যান্ড লিগেশন(Rubber band ligation) :

এই পদ্ধতিতে হেমোরয়েডের চারপাশে একটি রাবার ব্যান্ড স্থাপন করা হয়, যার ফলে টিস্যুগুলো মারা যায়। এর ফলে পাইলস নিরাময় হয়।

স্ক্লেরোথেরাপি(Sclerotherapy) :

স্ক্লেরোসেন্ট নামক একটি তরল উপাদান মলদ্বারে মধ্যে প্রবেশ করানো হয়, যা রক্তের সরবরাহ কমিয়ে দেয় এবং পাইলসকে সংকুচিত করে।

ইলেক্ট্রোথেরাপি(Electrotherapy): 

ইলেক্ট্রোথেরাপি(Electrotherapy) হল পাইলসকে সংকুচিত করতে একটি বৈদ্যুতিক প্রবাহ ব্যবহার করা হয়। 

ইনফ্রারেড জমাট বাঁধা :

এই পদ্ধতিটি স্ক্লেরোথেরাপির মতো পাইলস সংকুচিত করতে ইনফ্রারেড আলো ব্যবহার করে।

পুরুষদের পাইলস এর সার্জিক্যাল চিকিৎসা

যদি হেমোরয়েডের জন্য নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসা কাজ না করে, তাহলে অস্ত্রোপচারের সুপারিশ করা যায়। হেমোরয়েডের বা পাইলস চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের পদ্ধতি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

হেমোরয়েডেক্টমি (Hemorrhoidectomy) :

এটির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক হেমোরয়েডগুলিকে সরিয়ে দেয়া হয়। এর ফলে পাইলস এর অনেকটা স্থায়ী সমাধান করা যায়। 

স্ট্যাপলড হেমোরয়েডেক্টমি(Stapled Hemorrhoidectomy) : 

স্ট্যাপলিং এমন একটি যন্ত্র যা অভ্যন্তরীণ মলদ্বারে হেমোরয়েডগুলিকে সম্পূর্ণরূপে অপসারণ করে পাইলস এর নিরাময় করে। 

হেমোরয়েডাল আর্টারি লিগেশন (Hemorrhoidal artery ligation) : 

এটি দ্বারা ন্যূনতম আক্রমণাত্মক পদ্ধতিতে হেমোরয়েডের রক্ত ​​সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে সেগুলি সংকুচিত হয় এবং আক্ৰান্ত স্থান নিরাময় হয়ে যায়।

লেজার সার্জারি (Laser surgery) :

এতে হেমোরয়েডগুলিতে রক্ত ​​সরবরাহ বন্ধ করার জন্য একটি লেজার ব্যবহার করা হয়, যার ফলে সেগুলি সংকুচিত হয়। ফলে পাইলসের কার্যকর সমাধান সম্ভব হয়।

পুরুষদের পাইলসের সমস্যায় হোমিওপ্যাথি

প্রচলিত বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতিতে পাইলসের চিকিৎসা করা যায় তবে সবচেয়ে উত্তম এবং নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা পদ্ধতি হল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি। অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের মাধ্যমে যদি রোগের সঠিক চিকিৎসা করা যায় তবে পাইলসের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। পাইলসের লক্ষণভেদে যে মেডিসিনগুলো বিবেচনা করা যায় তা হল :

অ্যালো সোকোট্রিনা (Aloe socotrina ): যখন পাইলস মলদ্বারের বাইরে ছোট বলের আকারে থাকে তখন এটি ব্যবহার করা যায়।  অ্যালো সোকোট্রিনা বিরক্তিকর অন্ত্র বা আলসারেটিভ কোলাইটিসের সমস্যাও সমাধান করে। মলদ্বারে এবং শ্রোণী অঞ্চলে ঘা ব্যথা নিরাময়েও দারুণ কাজ করে। মলত্যাগের সময় জ্বালাপোড়ায় এই মেডিসিন ভালো কাজ করে। 

নাক্স ভমিকা (Nux Vomica): কারো যদি পাইলসের সাথে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে তাহলে Nux Vomica ভালো কাজ দেয়। অলস, অগোছালো, আরামপ্রিয় জীবনযাপন, দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা এবং অতিরিক্ত মশলাদার খাবার, ফাস্টফুড, অ্যালকোহল পান করা এই ধরণের জীবনাচরণে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে সৃষ্ট পাইলসের চিকিৎসায় নাক্স ভমিকা (Nux Vomica) খুব কার্যকরী।

হ্যামেলিস (Hamelis): মলত্যাগের সময় রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে হ্যামেলিস(Hamelis) ব্যবহৃত হয়। মলদ্বারে ব্যথাও এই ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এটি শিরায় রক্ত সঞ্চালন সবল করে পাইলসের নিয়ন্ত্রণে দারুণ ভূমিকা রাখে।

রতনহিয়া (Ratanhiya): প্রচণ্ড ব্যথার এবং রোগীর মলদ্বারে ছুরির মতো ভিতরে খোঁচা দেওয়া হয় অনুভূতি হয় , এই লক্ষণে এই মেডিসিন ভালো কাজ করে।

ইস্কিউলাস (Aesculus): যদি কোন রোগীর অর্শ্বরোগ সহ পিঠে ব্যথা থাকে তবে হোমিওপ্যাথিতে এটি খুব কার্যকরী ওষুধ।

ইগ্নেশিয়া (Ignatia): পাইলসের সাথে খিঁচুনি এবং মলদ্বারে ছুরিকাঘাতের ব্যথা এই রকম লক্ষণ থাকলে পাইলসের চিকিৎসায় এটি দারুণ কাজ করে।

গ্রাফাইটিস (Graphites): এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের পাশাপাশি পাইলসের জন্য উপযুক্ত ওষুধ। এতে রোগীর মল শক্ত, গিঁটযুক্ত এবং শ্লেষ্মা-ভরা মল থাকে। স্থুলতা, চর্ম ফাটা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে এমন রোগীদের জন্য এটি প্রধান ওষুধ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।

সালফার (Sulphur): এটি অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক অর্শ্বরোগের প্রধান লক্ষণগুলি উপশমে উত্তম কাজ করে যার মধ্যে রয়েছে মলদ্বারে চুলকানি, ফোলাভাব এবং ব্যথা।

ক্যালকেরিয়া (Calcarea): পায়ু অঞ্চলে পিঠে ব্যথা, চুলকানি এবং রক্তপাত সহ পাইলসের চিকিৎসায় খুব কার্যকরী। অভ্যন্তরীণ অর্শ্বরোগ যা স্যাক্রামে (Sacrum) ব্যথা সৃষ্টি করে এই ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যায়।

কস্টিকাম (Causticum): এটি পাইলসের চরম অবস্থায় চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয় যেখানে ব্যক্তি স্পর্শ সহ্য করতে পারে না।  

মিউরিয়াটিক অ্যাসিড (Muriatic Acid): মিউরিয়াটিক অ্যাসিড (Muriatic Acid) বড়, ফোলা, কালশিটে বা নীল হেমোরয়েডের বা পাইলসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

পুরুষদের পাইলস বা অর্শ্বরোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার

যেহেতু মানুষের জীবনাচরণ ও খাদ্যাভাসের উপর পাইলসের সমস্যা অনেকাংশে নির্ভর করে তাই পাইলস রোগের ক্ষেত্রে রোগ প্রতিকার ও প্রতিরোধের বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। পাইলস প্রতিরোধে যা যা করবেন –

উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাবার: 

ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য অন্ত্র ভালো রাখে ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, যা মলদ্বার এবং মলদ্বারের শিরাগুলির উপর চাপ কমায়। ফলে এটি সহজে পাইলস নিয়ন্ত্রণে রাখে।  

ওজন নিয়ন্ত্রণ: 

ডায়েট এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে পরিমিত ওজন বজায় রাখা মলদ্বার এবং মলদ্বারের শিরাগুলির উপর চাপ কমাতে সাহায্য করে যা পাইলসের ঝুঁকি কমায়।

ব্যায়াম: 

নিয়মিত ব্যায়াম কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে এবং রক্তের প্রবাহকে সবল করে, পাইলস নিয়ন্ত্রণে থাকে ।

মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া: 

মলত্যাগের সময় স্ট্রেন বা চাপ মলদ্বার এবং মলদ্বারের শিরাগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে হেমোরয়েড হতে পারে। মলত্যাগের সময় স্ট্রেন বা চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

ভারী জিনিস তোলা এড়িয়ে চলুন:

ভারী জিনিস তোলার ফলে মলদ্বার এবং মলদ্বারের শিরাগুলিকে প্রচুর চাপ সৃষ্টি করে, যার থেকে পাইলসের সমস্যা সৃষ্টি হয়। সঠিক উত্তোলন কৌশলগুলি ব্যবহার করা এবং খুব ভারী জিনিসগুলি উত্তোলন এড়ানো উচিত।

পানি পান করা:

পানি খাদ্য হজমে সহায়তা করে এবং শরীরকে হাইড্রেট রাখে যা পাইলস নিয়ন্ত্রণের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিমিত পরিমান পানি পান করা করতে হবে। 

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
মহিলাদের পাইলস বা অর্শ্বরোগ
পায়ুপথের রোগ

মহিলাদের পাইলস বা অর্শ্বরোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

by Dr. Baby Akter 20/12/2023
written by Dr. Baby Akter

পাইলস বা অর্শ্বরোগে মলদ্বার বা মলদ্বারের নীচের অংশের রক্তনালীগুলি ও পায়ূ টিস্যুগুলির উপর কোন কারণে জটিলতা সৃষ্টি হলে মলদ্বার অঞ্চলের চারপাশে চাপ বৃদ্ধি পায় ফলে তা প্রসারিত হয়ে ফুলে যায় এতে মলদ্বারে ব্যথা, চুলকানি, রক্তপাত এবং জ্বালা সৃষ্টি করে। এতে রোগী অধিক যন্ত্রনা ও অস্বস্তি অনুভব করে। 

প্রতিটি ব্যক্তির মধ্যে পাইলসের বা অর্শ্বরোগের সম্ভাবনা রয়েছে তা অবস্থার তীব্রতার উপর নির্ণয় করা হয়। তবে গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে পেলভিক রক্ত ​​প্রবাহ এবং চাপের কারণে অস্বস্তি, চুলকানি, ব্যথার জটিলতা বাড়তে পারে। সাধারণত গর্ভবতী মহিলাদের পাইলসের সমস্যা বেশি দেখা দিলেও ৪০ ঊর্ধ্বে মহিলাদের পাইলসের জটিলতা বেশী দেখা যায়। তাই মহিলাদের পাইলসের সমস্যার ক্ষেত্রে সচেতনতা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। 

যেহেতু দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্রনিক ডায়রিয়া এবং মলদ্বারে অতিরিক্ত চাপ পাইলসের অন্যতম কারণ। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভাসের পরিবর্তন আনা পাইলস নিয়ন্ত্রণের প্রথম শর্ত

মহিলাদের পাইলসের সমস্যা বা পাইলস রোগ দুই ধরণের হয় থাকে:

  • ইন্টারনাল পাইলস (Internal Hemorrhoids)
  • এক্সটার্নাল পাইলস (External Hemorrhoids)

মহিলাদের ইন্টারনাল পাইলস (Internal Hemorrhoids)

ভিতরের পাইলস (Internal hemorrhoids) এর ক্ষেত্রে লক্ষণ বা হেমোরয়েডগুলি মলদ্বারের মধ্যে থাকে সাধারণত দেখা যায় না। প্রায়শই ব্যথাহীন হয়, তবে মলত্যাগের সময় স্ট্রেন, রক্তপাত এবং জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে। 

মহিলাদের এক্সটার্নাল পাইলস (External Hemorrhoids)

মলদ্বারের বাইরের সমস্যাগুলোকে এক্সটার্নাল পাইলস বলা হয়। মলদ্বারের বাইরে অবস্থিত শিরাগুলির উপর চাপ সৃষ্টির ফলে শিরা ফুলে যাওয়া, রক্তপাত, ফাটল এবং চুলকানি হতে পারে। অনেক সময় রক্ত ​​জমাটও বাঁধতে পারে। এই বাহ্যিক হেমোরয়েডগুলি তীব্র ব্যথা, অস্বস্তি এবং ফোলাভাব সৃষ্টি করে যার কারণে এক্সটার্নাল বা বাইরের পাইলস অধিক যন্ত্রণাদায়ক হয়।  

মহিলাদের পাইলস বা আর্শ্বরোগের বিভিন্ন উপসর্গ অনুযায়ী  চারটি আলাদা (grades)গ্রেডে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে :

Grade 1

এই ধরনের পাইলস বা অর্শ্বরোগ মলদ্বারের ভিতরে থাকে। এগুলি সাধারণত ছোট হয় এবং কম ব্যথা বা প্রদাহ সৃষ্টি করে, প্রায়শই ব্যথাহীন থাকে। মহিলাদের মধ্যে এই ধরনের পাইলসের উপসর্গগুলিতে মলত্যাগের পরে সামান্য পরিমাণে রক্ত ​​দেখা যেতে পারে।

Grade 2

এটি গ্রেড 1-এর তুলনায় ফোলা বেশি প্রকট হয়ে থেকে পায়ুপথ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মলত্যাগের সময়, ফোলাটি বাইরের দিকে বেরিয়ে আসে যদিও তা মলত্যাগের পর ঢুকে যায়। 

Grade 3

এই গ্রেডে মলদ্বারের ভিতরে ফুলে যায়, যা মলত্যাগের সময় বাইরে চলে আসে দেখতে অনেকটা মাংস পিণ্ড এর মত হয়। এবং এটি  মলত্যাগের আঙ্গুলের ডগা ব্যবহার করে ভিতরে ঢুকিয়ে দিতে হয় বা ম্যানুয়াল রিপজিশনিং প্রয়োজন হয়। 

Grade 4

এই গ্রেডে পাইলসের সমস্যা সবচেয়ে ক্ষতিকর পর্যায়ে থাকে। যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাইরের দিকে ফুলে যায় এবং মলদ্বার থেকে বেরিয়ে আসে। এই অবস্থার সাথে রক্তপাত হতে পারে বা নাও হতে পারে এবং যদি জমাট বাঁধা হয় বা পায়ুপথে পাইলস বা অর্শ্বরোগ সংকুচিত হয়ে যায় তাহলে ব্যথা হতে পারে।

প্রল্যাপস পাইলস (Prolapse piles)

প্রল্যাপস পাইলস এর ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক হেমোরয়েডগুলি ফুলে গিয়ে মলদ্বারের বাইরে বেরিয়ে আসে। এর ফলে রোগীর প্রচন্ড অস্বস্তি হয় এবং রক্তপাতও হয়ে থাকে। 

মহিলাদের পাইলসের বা আর্শ্বরোগের লক্ষণসমূহ –

সাধারণত ৪০% পাইলসের রোগী কোন ব্যথাহীন এবং উপসর্গহীন অবস্থায় থাকে, আর বাকি ৬০% মহিলাদের মধ্যে পাইলসের বিভিন্ন লক্ষণ গুলো দেখা যায় যেমন –

  • মলদ্বারে ব্যথা, প্রদাহ, চুলকানি এবং অস্বস্তি।
  • মলদ্বারে ক্রমাগত পিণ্ডের মতো ফোলাভাব।
  • রক্তের মিশ্ৰিত মলত্যাগ করা।

মহিলাদের মধ্যে পাইলসের এই প্রাথমিক উপসর্গগুলি তুলনামূলকভাবে হালকা হয় তবে প্রাথমিক অবস্থা থেকে একজন ডাক্তারের পরামর্শে অনুসারে চিকিৎসা শুরু করা উচিত। অবস্থার অবনতি হলে লক্ষণগুলি তীব্র হতে পারে যেমনঃ 

  • মলদ্বারের চারপাশে সর্বদা ব্যথা, বসতে খুব অস্বস্তি লাগে।
  • মলত্যাগের সময় উজ্জ্বল লাল রক্ত বের হয়।
  • মলদ্বার ভিতরে এবং বাইরে মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি থাকে।
  • শ্লেষ্মা স্রাব, অন্তর্বাসে দাগ দেখা যায়।
  • টয়লেট ব্যবহারের পরেও মলত্যাগের প্রয়োজন অনুভব হয়।

মহিলাদের পাইলসের বা আর্শ্বরোগের  কারণ:

গর্ভাবস্থায়:

গর্ভাবস্থায় মহিলাদের মধ্যে পাইলস সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, যখন গর্ভের শিশু ৩৬ সপ্তাহের কাছাকাছি শ্রোণী গহ্বরে (Pelvic Cavity) নেমে আসে, তখন পেলভিক এলাকায় চাপ সৃষ্টি করে। এই চাপ মলদ্বার এবং মলদ্বার রক্তনালীগুলির বৃদ্ধি করে, যা আস্তে আস্তে পাইলসের সমস্যা সৃষ্টি করে। অনেক ক্ষেত্রে প্রসবের পরে তা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে যায়।

কোষ্ঠকাঠিন্য এবং খাদ্যাভাস: 

হরমোনের পরিবর্তনের কারণে গর্ভবতী মহিলারা কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত হন। খাদ্যাভাস, অপর্যাপ্ত ফাইবার, কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা মলদ্বারে চাপ সৃষ্টি করে এবং ফলে পাইলস রোগ সৃষ্টি হতে শুরু করে ।

দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা: 

পুরুষ এবং মহিলা উভয়েই কাজের প্রয়োজনে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করেন। এতে নিতম্বের অংশে  (Hip Area) চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে গ্লুটিয়াল পেশীগুলি (Gluteal Muscles) ছড়িয়ে পড়ে মলদ্বার এবং মলদ্বারের চারপাশে ছোট শিরাগুলি বড় হয়ে বেদনাদায়ক ফোলা তৈরি করে। এর থেকে পাইলসের সমস্যা সৃষ্টি হয়।

ভারী  উত্তোলন:

দৈনন্দিন জীবনে যদি নিয়মিত ভারী কিছু উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত থাকে তাহলে মলদ্বারের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে যার ফলে মলদ্বারের পেশী দুর্বল হয়ে পাইলসের জটিলতা তৈরী করে। 

বার্ধক্যজনিত কারণ:

৫০ বছরের বেশি বয়সী মহিলাদের মধ্যে বার্ধক্যজনিত কারণে পাইলস বা হেমোরয়েড এর সমস্যা বেশি দেখা যায়। দীর্ঘদিনের খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্য অচসেতনতা, অন্যান্য রোগের জটিলতা থেকে বার্ধক্যজনিত পাইলসের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। 

মহিলাদের পাইলস রোগ নির্ণয়-

সাধারণত মহিলাদের পাইলস রোগ নির্ণয় করার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উপর বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিৎ- 

  • রোগীর পাইলসের পারিবারিক ইতিহাস
  • মলের সাথে রক্ত বা শ্লেষ্মা উপস্থিতি থাকে কিনা। 
  • সাম্প্রতিক সময়ে রোগীর ওজন হ্রাস পাচ্ছে কিনা। 
  • মলত্যাগে পরিবর্তন হয় কিনা। 

চিকিৎসকরা, অভ্যন্তরীণ (Internal Hemorrhoids) পাইলসের জন্য, একটি ডিজিটাল রেকটাল পরীক্ষা (DRE) বা একটি প্রক্টোস্কোপ ব্যবহার থাকেন। তবে প্রয়োজন অনুসারে, মলদ্বারের ভিতর থেকে টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে থাকেন। এই ক্ষেত্রে পাইলসের লক্ষণ ও উপসর্গ পাচনতন্ত্রের (Digestive System) সমস্যা বা কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি রয়েছে কিনা সেটিও নির্ণয় করা যায়। 

মহিলাদের পাইলস রোগের চিকিৎসা –

মহিলাদের মধ্যে পাইলসের বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। তবে পাইলসের বেশ কিছু সমস্যা লাইফস্টাইল এবং খাদ্যাভাস পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাধান করা যায়। 

যেহেতু মলত্যাগের সময় কোষ্ঠকাঠিন্য এবং স্ট্রেনিং পাইলসের অন্যতম কারণ। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনধারায় পরিবর্তন আনা পাইলসের সমস্যা সমাধানের প্রথম শর্ত। মলত্যাগের সময় কোষ্ঠকাঠিন্য এবং স্ট্রেনিং পাইলসের অধিক জটিলতা সৃষ্টি করে, তাই খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আনাও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। ফল, শাকসবজি এবং সকালের নাস্তায় ব্রান-ভিত্তিক সিরিয়াল, উচ্চ ফাইবার যুক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে মলকে সহজ ও নরম করে যা অতিরিক্ত চাপ বা স্ট্রেনিং কমায়। পর্যাপ্ত হাইড্রেশন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার শরীরের সঠিক  ওজন বজায় রাখে ফলে পাইলস প্রতিরোধ ও প্রতিকারে করা সহজ হয়। 

হোমিওপ্যাথিক  চিকিৎসা –

প্রদাহ, ব্যথা এবং চুলকানি ব্যথা ও অস্বস্তি  লক্ষণ অনুসারে হোমিও মেডিসিন নির্ধারণ করা যায়। তবে রোগের স্থায়ী সমাধান পাওয়ার জন্য অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শে নিতে হবে। দীর্ঘদিন অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে তা মারাত্বক আকার ধারণ করে। এতে অপারেশন বা সার্জারীর প্রয়োজন পড়ে। 

লক্ষণ অনুসারে সাধারনত পাইলসের হোমিও মেডিসিন গুলো হল-

হ্যামেলিস (Hamelis)-

মহিলাদের পাইলসের রক্তপাত বন্ধ করতে ওষুধটি খুব উপকারী। হ্যামেলিস যে কোনও শিরাস্থ রক্তপাত নিরাময় করতে পারে। এছাড়াও রোগীর পাইলসের ব্যথায় ক্ষেত্রেও এটি সেবনে ভালো কাজ করে।

রতনহিয়া (Ratanhiya)-

এটি পাইলসের ব্যথা থেকে মুক্তির জন্য দারুণ ফল দেয়। পাইলস রোগে আক্রান্ত রোগী মল ছাড়ার সময় এবং এমনকি তার কয়েক ঘণ্টা পরও প্রচণ্ড ব্যথা এবং জ্বালাপোড়া অনুভব করেন। সেক্ষেত্রে রতনহিয়া খুব কার্যকরী। 

গ্রাফাইটস (Graphites)-

এটি কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পাইলস উভয়ই ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। যাদের শরীর স্থূল, ত্বক ফাটা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে গ্রাফাইটস অতি দ্রুত কাজ করে।

নাক্স ভমিকা (Nux Vomica)-

যারা দীর্ঘক্ষন বসে কাজ করে, অগোছালো, অলস জীবনযাপন করে, ভাজাপোড়া, মশলাদার খাবার, ফাস্টফুড গ্রহণ এবং অতিমাত্রায়  ধূমপায়ী এবং অ্যালকোহল পান করে তাদের পাইলসের সমস্যায় Nux Vomica একটি উপযুক্ত মেডিসিন। এটি রোগীর পাইলসের সমস্যার পাশাপাশি গ্যাস্টিকের ও হজমের জন্য ভালো কাজ করে। 

তবে একজন সিনিয়র হোমিও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নিলে সবচেয়ে উত্তম ফলাফল পাওয়া যাবে। 

মহিলাদের পাইলস দূর করার প্রাকৃতিক উপায় – 

দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে প্রাকৃতিক ভাবে মহিলাদের পাইলসের বেশির ভাগ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। যেমন-

  • আপনার খাদ্যতালিকায় উচ্চ ফাইভের যুক্ত খাবার, প্রচুর ফলমূল এবং তরল বা পানীয় রাখুন।
  • অতিরিক্ত ভাজা পোড়া, বেশি মসলাদার খাবার ও ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন। 
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন। 
  • গর্ভবস্থায় সচেতন থাকুন। 
  • জোলাপ এড়িয়ে চলুন।
  • ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে গরম পানির টবে বসুন।
  • দীর্ঘক্ষণ বসে থাকবেন না এবং ভারী কিছু উত্তোলন থেকে বিরত থাকুন।
  • প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন। 
0 comments
9 FacebookTwitterPinterestEmail
পুরুষ-বন্ধাত্ব্য
বন্ধ্যাত্ব রোগ

পুরুষ বন্ধ্যাত্ব দূর করার প্রাকৃতিক উপায়

by Dr. Baby Akter 22/10/2023
written by Dr. Baby Akter

প্রজনন সমস্যা পুরুষ বা মহিলা বা উভয়ের মধ্যেই বিদ্যমান থাকতে পারে এবং এর মোকাবিলার সর্বোত্তম উপায় হ‘ল কোনো পক্ষকেই দোষ না দিয়ে সঠিক প্রতিকার যা প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে পারে তার সন্ধান করা। বর্তমানে নারীদের পাশাপাশি পুরুষের বন্ধ্যাত্বের সমস্যা আগের চেয়ে অনেকাংশে বেড়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতি ছ’জন পুরুষের মধ্যে একজনের এই সমস্যা রয়েছে। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে দায়ী পুরুষরাই। স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নিয়ম না মানাসহ বিভিন্ন কারণে এ সমস্যা বাড়ছে। যেমন- মদপান, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, ব্যায়াম ও হাঁটাচলা না করা, খাবারে ভেজাল, বয়স ৪০ পেরিয়ে গেলে, আঁটসাঁট আন্ডারওয়ার পরলে।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ছ’জন পুরুষের মধ্যে একজনের এই সমস্যা রয়েছে। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে দায়ী পুরুষরাই। তবে চিন্তিত হবেন না, চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, নিষেকের জন্য শুক্রাণুর সংখ্যা খুব গুরুত্বপূর্ণ যা নিয়ত্রণ করার চাবিকাঠিও আপনার হাতেই। 

পুরুষ বন্ধ্যাত্বের কারণ 

  • বীর্যপাতকে ঘিরে সমস্যা
  • শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
  • অনুপযুক্ত পুষ্টি
  • প্রজনন ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে এমন কিছু ওষুধ
  • ভ্যারিকোসিল অবস্থা
  • বেশি অ্যালকোহল গ্রহণ, ধূমপান, ড্রাগ ইত্যাদির ব্যবহার
  • অ্যান্টি–স্পার্ম অ্যান্টিবডিগুলির উপস্থিতি
  • রাসায়নিক এবং ক্ষতিকারক পরিবেশগত পরিস্থিতিতে উন্মুক্ত হওয়া

জেনে নিন, পুরুষ বন্ধ্যাত্ব দূর করার প্রাকৃতিক উপায়সমুহ

ডালিম বা আনার

ডালিম বা আনারের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। মহিলা এবং পুরুষ বন্ধ্যাত্ব উভয়ের ক্ষেত্রে প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম। গবেষণায় বলা হয়, এটি টেস্টোসটেরন ও শুক্রাণুর গুণগত মান বাড়াতে উপকারী।

কুমড়ো বীজ

কুমড়ো বীজে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড ও ফাইটোসটেরল, পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে। এবং শুক্রাণুর মাত্রা, জীবনীশক্তি, ক্ষিপ্রতা বাড়াতে কাজ করে। গবেষণায় দেখা যায়, কুমড়ো বীজে থাকা উপাদান টেস্টোসটেরন হরমোনের সিরামের মাত্রা বাড়ায় যা পুরুষ বন্ধ্যাত্ব দূর করতে খুব কার্যকরী। 

টমেটো 

টমেটোতে বিদ্যমান লাইকোপেন নামক উপকারী উপাদান এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা শুক্রাণুর গুণগত মান বাড়াতে সহায়তা করে।  অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ভালো শোষনের জন্য টমেটো রান্নার সময় জলপাইয়ের তেল ব্যবহার করুন। এটি অধিক ফলদায়ক। 

ডার্ক চকলেট

ডার্ক চকলেটে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যামাইনো এসিড, এল-আরজিন, যা শুক্রাণুর মাত্রা ও বীর্যের পরিমাণ বাড়ানোর উপাদান হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন এক কামড় ডার্ক চকলেটও শুক্রাণুর মান বাড়াতে উপকারী। তাছাড়া অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে ফ্রি র‍্যাডিকেলের সঙ্গে লড়াই করে। ফ্রি র‍্যাডিকেল শুক্রাণুর গুণগত মান নষ্ট করে। 

ওয়ালনাট

সোসাইটি ফর দ্য স্টাডি অব রিপ্রোডাকশনের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন ৭০ গ্রাম ওয়ালনাট খাওয়া ২১ থেকে ৩৫ বছরের পুরুষের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর জীবনীশক্তি, ক্ষিপ্রতা বাড়ায়। ওয়ালনাট সালাদের সঙ্গে খেতে পারেন। এছাড়া স্ন্যাকস হিসেবে খেতে পারেন এ সুস্বাদু বাদামটি। ওয়ালনাটের মধ্যে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড পুরুষ বন্ধ্যাত্ব দূর করার জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। 

আমন্ড বাদাম 

পুরুষের বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধে আমন্ড বাদাম অত্যন্ত কার্যকরী। সকালে নাস্তার সাথে অন্তত ৪-৫ টি আমন্ড খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলন।

সম্পৃক্ত ফ্যাটিঅ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার

অধিক পরিমানে ট্রান্স ফ্যাট ও আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন, কারন এটি শুক্রাণু উৎপাদনের প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে পারে। 

ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম

ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম ট্যাবল্যাট বা ক্যালসিয়াম-যুক্ত খাবার শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে অবশ্যই চিকিৎসককে নিজের সমস্যার কথা জানিয়ে ট্যাবলেট নিন।

মৌসুমি ফল বা সবজি

মৌসুমি ফল বা সবজিতে যেমন পেয়ারা, আম, আপেল, আঙুর, তরমুজ ইত্যাদি ফল আর বাঁধাকপি, ঢ্যাঁড়স, কুমড়ো ইত্যাদি সবজিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। যা মহিলা ও পুরুষ উভয়েরই বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধে অধিক ফলদায়ক। তাই বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধে নিয়মিত এই সব ফল আর সবজি খাওয়া জরুরি।

প্রক্রিয়াজাত মাংস

প্রক্রিয়াজাত মাংসেও প্রচুর পরিমাণে ট্রান্স ফ্যাট ও আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটিঅ্যাসিড থাকে। পাশাপাশি, এই ধরনের মাংসে কৃত্রিম সংরক্ষক ও উৎসেচকের অবশিষ্টাংশ থাকে। তা শুক্রাণু উৎপাদনে সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে প্রক্রিয়াজাত মাংস শুক্রাণুর পরিমাণ হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ। এই জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। 

ভিটামিন-ই

দই, ইস্ট ইত্যাদি খাবারে রয়েছে ভিটামিন-ই। এটি মহিলা ও পুরুষ উভয়েরই বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাই বন্ধ্যাত্ব দূর করার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন-ই ওষুধও খাওয়া যেতে পারে।

অতিরিক্ত স্নেহজাতীয় পদার্থযুক্ত দুগ্ধজাত পদার্থ 

সম্প্রতি ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সি যুবকদের ওপর করা একটি সমীক্ষা বলছে, গবাদি পশুর উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য গবাদি পশুকে যে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়ে থাকে তার প্রভাব পড়ে দুধে। আর এ ধরনের দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য খেলে শুক্রাণুর চলাচল, গতি ও আকৃতিতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। তাই এই ধরণের খাবার এড়িয়ে চলুন উচিত।

ধূমপান ও মদপান 

নিয়মিত অতিরিক্ত মদপান শুক্রাণুর গঠনগত বিকৃতি ঘটাতে পারে। একাধিক গবেষণা বলছে, গাজা ও সিগারেট শুক্রাণুর সমস্যা ডেকে আনতে পারে। বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধে অবশ্যই ধূমপান ও মদপান মুক্ত সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
শীতকালীন বিভিন্ন রোগ এবং প্রাকৃতিক প্রতিকার
শীতকালীন রোগব্যাধি

শীতকালীন বিভিন্ন রোগ এবং প্রাকৃতিক প্রতিকার

by Dr. Baby Akter 14/10/2023
written by Dr. Baby Akter

আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষ নানা অসুখে আক্রান্ত হয়। ঠিক তেমনি শীতকালে কিছু কিছু রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। যেমন সর্দি-জ্বর, কাশি-হাঁচি ও শ্বাসকষ্ট ডায়রিয়া, খুশকি, খোসপাঁচড়া বা চর্মরোগ প্রভৃতি। এ সময় কারো ঠান্ডাজনিত সমস্যা হলে তা সহজে না সারার প্রবণতা থাকে। ঠাণ্ডার কারণে অনেকের টনসিল বেড়ে গিয়ে ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে। তাই তীব্র শীত আসার আগেই কিছু রোগের প্রকোপ ঠেকাতে সতর্ক থাকা ভালো।

শীতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার বেশী খান। পানি শরীরকে হাইড্রেট রাখে এবং ভিটামিন সি ঠান্ডা লাগার প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে ।

শীতের বিভিন্ন রোগ ও প্রতিকার

সর্দি-কাশি-জ্বর

শীতকালে সর্দি-কাশি-জ্বর বা কমন কোল্ড একটি সাধারণ রোগ। ঋতু পরিবর্তনের সময় এ রোগ বেশি দেখা যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাদের কম তাদের এ রোগ হওয়ার সম্ভবনা বেশী। দেহের শ্বাসনালির এক ধরণের ভাইরাসজনিত সংক্রমনে সর্দিজ্বর হয়ে থাকে। সর্দিজ্বর হলে প্রথমে নাকে ও গলায় অস্বস্তি লাগে, হাঁচি হয়, নাক দিয়ে অনবরত পানি ঝরতে থাকে। মাথা ভারী বোধ হওয়া, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, গলাব্যথা, জ্বর, প্রভৃতি উপসর্গও দেখা যায়। নাক বন্ধও থাকতে পারে।

সর্দিজ্বরে আক্রান্ত হলে অন্যদের মেলামেশায় সতর্কতা অবলম্বন করুন। হাঁচি দেওয়ার সময় বা নাকের পানি মুছতে রুমাল বা টিস্যু পেপার ব্যবহার করুন। যেখানে সেখানে কফ, থুথু বা নাকের শ্লেষ্মা ফেলা যাবে না। রোগীর ব্যবহৃত রুমাল বা গামছা অন্যদের ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখুন। দেহকে সতেজ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধে বৃদ্ধি করতে তাজা, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া ও ডেঙ্গু

শীতকালে অনেক স্থানে মশার প্রকোপও বাড়ে। আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মশাবাহিত ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, ডেঙ্গু রোগ সহ নানা ভাইরাস জ্বরের রোগের প্রকোপ দেখা যায়। মূলত অ্যাডিনোভাইরাস, রাইনোভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি ভাইরাস জ্বরের জন্য দায়ী। শিশু, বয়স্ক ও যাদের শরীরে অন্য রোগ যেমন- ডায়াবেটিস, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস আছে, তাদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কাঁপুনি দিয়ে উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর আসা, গিঁটে ব্যথা, বারবার জ্বর আসা, ইত্যাদির লক্ষণ দেখা গেলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ডাবের পানি, প্রচুর তরল জাতীয় খাবার, বিশেষত খাবার স্যালাইন, লেবু-চিনির শরবত এ সময়টায় বেশ উপকারী। ডেঙ্গু বর্ষাকালীন রোগ হলেও এখন শীতকালেও এটির বিস্তার দেখা যায়। তাই মশার কামড়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। 

নিউমোনিয়া

পৃথিবীব্যাপী পাঁচ বছরের নিচের শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া। এটি একটি মারাত্মক অসুখ। বাংলাদেশেও শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ এ রোগটি। নিউমোনিয়ায় শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হতে দেখা যায়। যদিও এটি প্রতিরোধযোগ্য এবং চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য একটি রোগ। লোয়ার রেসপিরেটরি ট্র্যাক সংক্রমণ যা ব্যাকটেরিয়ার কারনেও ভাইরাল নিউমোনিয়াও হতে পারে। শীত উপযোগী হালকা ও নরম গরম কাপড় ব্যবহার করুন। সুস্থ শিশুকে সর্দি-কাশি, ব্রংকিওলাইটিস, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর কাছে যেতে দেবেন না। সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ান, ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ডি’ গ্রহণ করুন। ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। নিউমোনিয়া রোগীর অবস্থা অবনতি দেখা দিলে দ্রুত হসপিটালে ব্যবস্থা করুন। 

পাতলা পায়খানা

ঠাণ্ডার কারণে শিশুদের বা বড়দেরও হঠাৎ করে পাতলা পায়খানা হতে দেখা যায়। বিশেষ করে যখন বেশি ঠাণ্ডা পড়ে তখন পাতলা পায়খানা সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। খাবারের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে, এই সমস্যা এড়াতে বাইরের খাবার একেবারে না খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। বয়স্ক ও শিশুদের গরম কাপড়ের পাশাপাশি সবসময় হাতমোজা ও মোজা পরে থাকতে হবে।

চর্মরোগ

শীতের সময় নানা ধরনের চর্মরোগ হতে পারে। বিশেষ করে ঠোঁট, হাত ও পায়ের ত্বকে দেখা দেয় চুলকানি, একজিমা, স্ক্যাবিস, চর্মরোগ প্রভৃতি। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকার কারণে শুষ্ক বাতাস ত্বক থেকে শুষে নেয় পানি। ফলে ত্বক হয়ে পড়ে দুর্বল। এ ছাড়া মাথায় প্রচুর খুশকি দেখা যায়। ত্বকের সুরক্ষায় ময়েশ্চারাইজার যেমন: ভ্যাসেলিন, গ্লিসারিন, অলিভ অয়েল ও সরিষার তেল ব্যবহার করুন।  শীতের সময় তাই অলিভ অয়েল বা লুব্রিকেন্টজাতীয় কিছু ব্যবহার করুন। অলিভ অয়েল ত্বকে আলাদা আস্তর তৈরি করে বলে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। বেশিক্ষণ রোদে থাকলে কড়া আগুনের তাপে চামড়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই অতিরিক্ত রোদ পোহানো পরিহার করুন। 

বাতব্যথা

বাতের বা আর্থ্রাইটিস সমস্যা শীতে অনেকের বেড়ে যায় মূলত বয়স্কদেরই হয় বেশি। শেষ করে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid arthritis) বা এনকাইলোজিং স্পন্ডিওলাইটিস (Ankylosing spondylitis), স্পন্ডাইলো আর্থ্রাইটিস (Spondylarthritis), রি-অ্যাকটিভ আর্থ্রাইটিস, সোরিয়াসিটিস, অস্টিও আর্থ্রাইটিস রোগীদের শীতের সময় চলাফেরা বা মুভমেন্ট কম হয় বলে ব্যথার প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রয়োজনে গরম উত্তাপে থাকুন। অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা খাদ্যাভাসের মাধ্যমে কমিয়ে আনুন। সবসময় হালকা মুভমেন্ট  করার চেষ্টা করবেন, একটানা অনেকক্ষণ বসে থাকবে না। গরম ছেঁক দিন বা প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ  অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি নিন।

অ্যাজমা

অ্যাজমা একবার হলে এর ঝুঁকি মোকাবেলা করতে হয় সারা জীবনই। হাঁপানি বা অ্যাজমা  শুধু শীতকালীন রোগ নয় ,শ্বাসকষ্টের রোগ। অ্যাজমাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে জটিলতা বা ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে। তবে শীতে এর প্রকোপ অনেকাংশে বেড়ে যায়। শীতের আগেই চিকিৎসককে দেখিয়ে ইনহেলার বা অন্যান্য ওষুধের ডোজ সমন্বয় করে নিন। শোবারঘরটি উষ্ণ রাখার চেষ্টা করুন, ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা করুন। শীতে পর্যাপ্ত গরম জামা-কাপড় পারবেন ও সচেতন থাকুন। 

শীতকালীন রোগ প্রতিরোধের আরো প্রয়োজনীয় সতর্কতা

  • শীতে প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এসময়  পানি খাওয়া কম হয়। ফলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এছাড়া পানি জাতীয় গরম খাবার বেশী বেশী খেতে হবে।
  • শীতে ভিটামিন সি জাতীয় খাবার বেশী খাওয়া উচিত। ভিটামিন সি ঠান্ডা লাগার প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে।
  • শীতকালে অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। শীতে ধুলাবালি বেশী থাকায় তাতে রোগ-জীবাণু বেশী থাকে এবং সে কারণে অসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। তাই এসময়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা বেশী প্রয়োজন।
  • প্রতিদিন খাবারে রসুন ব্যবহার করা ,কালোজিরা রান্না বা ভর্তা খাওয়া ভালো । আদা ও লবঙ্গ দিয়ে চা খেতে পারেন এগুলো  ঠান্ডা লাগা কমাতে অধিক কার্যকর। 
0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
টাইফয়েড-জ্বর-ও-চিকিৎসা
টাইফয়েড জ্বর

টাইফয়েড জ্বরের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

by Dr. Baby Akter 05/10/2023
written by Dr. Baby Akter

আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে গরমকালের শুরুতে বা শেষে সময়ে দেখা দেয় নানা অসুখ বিসুখ। যেগুলি মানুষ থেকে মানুষে, মশা থেকে মানুষে, জল থেকে মানুষে ছড়ায়। এগুলি বেশিরভাগই সংক্রামক ব্যাধি। এ সময়ে ছড়ায় এমনি একটি মারাত্মক রোগ হল টাইফয়েড। আজ আমরা টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা ও কীভাবে তার প্রতিরোধ করা যায় সে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করব।

সালমোনেলা টাইফি (Salmonella Typhi) ও প্যারাটাইফি জীবাণু থেকে টাইফয়েড রোগ হয়ে থাকে। টাইফয়েড পানিবাহিত রোগ। জ্বরের সময় তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রী থেকে ১০৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট অব্ধি হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই এই জ্বর প্রথম সপ্তাহে ধরা পড়ে না। ওষুধ চললেও সপ্তাহ খানেক থাকতে পারে এই জ্বর। দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে জ্বর ধরা পড়ে এবং মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। 

শরীরে জীবাণু প্রবেশ করলেই টাইফয়েড হয়ে যাবে এমন কোন কথা নেই, কারণ দেহে যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকে তাহলে অনেক সময়ই জীবাণু দেহে সংক্রমণ করতে পারেনা।

টাইফয়েড জ্বর কী?

টাইফয়েড একটি অত্যন্ত পরিচিত সংক্রামক অসুখ যা সালমোনেলা এন্টেরিকা (Salmonella Enterica)-র টাইফি, প্যারাটাইফি A, B, এবং C নামক বিভিন্ন প্রজাতির দ্বারা ঘটে। টাইফয়েড এবং প্যারাটাইফয়েড জ্বর একত্রে আন্ত্রিক জ্বর হিসাবে পরিচিত। এই অসুখটা প্রাক-বর্ষা, বর্ষা এবং বর্ষা শেষেই সাধারণত বেশি মাত্রায় ছড়ায়। মল এবং মৌখিক (ওরাল) পথের মাধ্যমে টাইফয়েডের সংক্রমণ ঘটে। যদি সঠিক চিকিৎসা না করা হয়, অবস্থা আরও গুরুতর দিকে চলে যেতে পারে এবং জীবাণুগুলি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। এতে  আভ্যন্তরীণ রক্তপাত, পচন বা সেপসিস অথবা বিরল ক্ষেত্রগুলিতে রোগীর মৃত্যু অব্ধি হতে পারে৷

টাইফয়েড জ্বরের কারণ 

টাইফয়েডকে পানিবাহিত রোগেগুলির মধ্যে একটি মারাত্মক রোগ হিসেবে ধরা হয় যা আমাদের দেহে সাধারণত দুই ধরনের জীবাণুর সংক্রমণে হয়ে থাকে।

(১) সালমোনেলা টাইফি এবং

(২) সালমোনেলা প্যারাটাইফি

সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে যে জ্বর হয় তাকে টাইফয়েড জ্বর বা এন্টারিক ফিভার বলে। আর যদি সালমোনেলা প্যারাটাইফি নামক জীবাণুর কারণে এ জ্বর হয় তখন তাকে প্যারা টাইফয়েড জ্বর বলে। প্রধানত দূষিত পানি ও খাবার গ্রহণের মাধ্যমেই শরীরে এই জীবাণু প্রবেশ করে তাছাড়া পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতি উদাসীনতার কারণেও এটি শরীরে প্রবেশ করতে পারে। টাইফয়েড জ্বর হতে আরোগ্য লাভ করেছেন কিন্তু এই ব্যাকটেরিয়া বহন করছেন এমন কিছু সংখ্যক ব্যক্তিও এই রোগের বাহক হতে পারে বলে মনে করা হয়। এই জীবাণু শরীরে যেভাবেই প্রবেশ করুক তা শরীরে প্রবেশের পর বৃহদান্ত্রকে আক্রমণ করে। এছাড়া মানব শরীরের পিত্তথলিতে সাধারণত এই ব্যাকটেরিয়া জমা থাকে এবং উপযুক্ত পরিবেশ পাওয়ার সাথে সাথে এটি দ্রুত গতিতে শরীরে আক্রমণ করে থাকে।

টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণগুলি কী কী?

অনেকাংশেই আর পাঁচটি জ্বরের মতই টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণগুলি তবে বেশ কিছু উপসর্গ আছে যেগুলি একেবারেই আলাদা এবং কোন অবস্থাতে তা অবহেলা করা উচিত নয়।

  • প্রবল জ্বর , তাপমাত্রা ১০২°- ১০৪° ফারেনহাইটের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। 
  • কাশি।
  • পেট খারাপ।
  • পেট ব্যথা।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য।
  • ক্ষুধামান্দ্য।
  • মানসিক অবসাদ।
  • বুক এবং তলপেটে লাল ফুসকুড়ি।
  • নাক দিয়ে রক্ত পড়া।
  • মস্তিষ্কের বিভ্রান্তি বা বিভ্রম।
  • মনোযোগে ঘাটতি।
  • প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের মধ্যে টাইফয়েড সংক্রমণের উপসর্গগুলি অপেক্ষাকৃত কম দেখা যায়।

টাইফয়েড হলে কী করবেন?

রক্ত পরীক্ষা

টাইফয়েড পানিবাহিত জীবাণুর মাধ্যমে ছড়ায়। তাই টাইফয়েড হয়েছে কি না, তা বুঝতে সবার আগে অসুস্থ ব্যক্তির রক্ত পরীক্ষা করতে হবে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা

নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। অবশ্যই হাত ভালোভাবে ধুতে হবে। সব সময় পরিষ্কার পোশাক পরতে হবে। ঘরের জিনিসপত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা করে রাখতে হবে।

খাবারে ও পানির সতর্কতা

বাইরের খাবার খেলে সব সময় সচেতন থাকতে হবে। পানি ফুটিয়ে পান করতে হবে। অপরিষ্কার শাক-সবজি ও কাঁচা-ফলমূল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। খাবার গরম করে খেতে হবে। 

স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও বাসস্থান  সুব্যবস্থা

আক্রান্ত ব্যক্তির টয়লেট নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে খোলামেলা ও পরিষ্কার বাসায় রাখতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে কোনোভাবেই যেন টয়লেটে ময়লা বা পানি জমে না থাকে। 

অবশ্যই রোগীকে একজন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে এবং টাইফয়েড হয়েছে কি না তা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে, সাথেসাথে ওষুধ খাওয়ার বিষয়টি ও নিশ্চিত করতে হবে। 

টাইফয়েডের চিকিৎসা কি কি উপায়ে করা যায়?

টাইফয়েডের প্রাথমিক উপসর্গগুলি দেখা দেওয়া মাত্র ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। সাধারণত যে যে পদ্ধতিতে টাইফয়েডে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা করা হয় তা হলো 

১. অ্যান্টিবায়োটিক

টাইফয়েড জ্বরের পরীক্ষায় রিপোর্ট অনুযায়ী, ৭ থেকে ১৪ দিনের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক এর প্রয়োগ করা হয়।

ডাক্তারের নির্দেশনা মোতাবেক নিয়ম অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স শেষ করতে হবে ৷ অনেক সময় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার শুরু করার পর ২-৩ দিনেই উপসর্গ গুলি হ্রাস পেতে শুরু করে, কিন্তু কোনোভাবেই অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়া বন্ধ করা যাবেনা।

২. টাইফয়েড ভ্যাক্সিন

সাধারণত দুই ধরনের ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টাইফয়েডের বাহক, বাহকের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়৷ একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের টাইফয়েড ভ্যাক্সিনের প্রয়োজন হয় না। তবে ডাক্তার মনে করলে ভ্যাক্সিন নেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন।

৩. হাইড্রেশন

বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওআরএস, ফলের রস খেতেই হবে৷ টাইফয়েডে আক্রান্ত হলে শরীর থেকে প্রচুর জল বেরিয়ে যায়। অনেক সময়ই রোগী ডিহাইড্রেটেড হয়ে অজ্ঞান পর্যন্ত হয়ে যায়। তাই এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

৪. গুরুতর ক্ষেত্রে

যদি রোগীর অবস্থা গুরুতর হয় অথবা ওষুধে কাজ না হলে, সেক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার দ্রুত কাজ করতে এবং উপসর্গগুলির তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে৷

৫. দ্বিতীয় বারের পরীক্ষা

রোগীর মলে বা রক্তে আর টাইফয়েডের জীবাণুগুলি বর্তমান নেই তা নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ চিকিৎসার পর দ্বিতীয়বার একটি মল বা রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। যদি পরীক্ষা রিপোর্ট পজিটিভ আসে সেক্ষেত্রে টাইফয়েড জীবাণুর একজন বাহক (কেরিয়ার) হিসাবে গণ্য করা হবে। এরকম ক্ষেত্রে ডাক্তার সাধারণত একটি ২৮ দিনের মৌখিক অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স সম্পূর্ণ করে পুনরায় পরীক্ষা করাতে বলেন।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
একজিমার-কারণ-লক্ষণ-এবং-চিকিৎসা-ও-দূর-করার-ঘরোয়া-উপায়
চর্মরোগঘরোয়া চিকিৎসা

একজিমার কারণ, লক্ষণ এবং দূর করার ঘরোয়া উপায়

by Dr. Baby Akter 24/08/2023
written by Dr. Baby Akter

অধিকাংশ ক্ষেত্রে একজিমার প্রধান উৎস বংশগত বলে চিকিৎসা শাস্ত্রে এটিকে এ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস বলেও উল্লেখ করা হয়। এটি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। এই রোগে ত্বকের বিশেষ কোন কোন স্থানে প্রদাহ সৃষ্টি হয়।

এক সময় বলা হত একজিমা রোগ সারে না। কিন্তু এখন আর এই রোগের নিরাময় অসম্ভব নয়। শুধু মেনে চলতে হবে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ।

একজিমা এক প্রকাম চর্ম রোগ যা বাংলাদেশে পামা, বিখাউজ, কাউর ঘা ইত্যাদি স্থানীয় নামে পরিচিত। চিকিৎসা শাস্ত্রে এটিকে সচরাচর এটপিক ডার্মাটাইটিস হিসাবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে, কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে একজিমার অন্যতম উৎস বংশগত বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া অ্যালার্জি, পেশা ও পরিবেশগত কারণেও হতে পারে। এটি একটি ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ। এর জন্য কোনো ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ফাঙ্গাস কোনোটাই দায়ী নয়। তবে একজিমা হওয়ার পরে এগুলো আক্রমণ করে।

একজিমার কারণসমূহ

এটি যে কোন বয়সেই হতে পারে, তবে শিশুদের ক্ষেত্রে একজিমা হওয়ার সম্ভাবনা একটু বেশি থাকে। আবার গর্ভাবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। তবে গর্ভাবস্থা একজিমা হওয়ার কোন শর্ত নয়। সাধারনভাবে একজিমা অ্যালার্জি বা অ্যাজমার সমগোত্রীয় একটি রোগ যা বংশগত কারণে হতে পারে। 

একজিমা বিভিন্ন কারণের কারণে হতে পারে যার মধ্যে রয়েছে :

  • ইমিউন সিস্টেমের অস্বাভাবিক কাজ
  • জেনেটিক্স
  • পরিবেশ (শুষ্ক এবং কঠোর জলবায়ুর এক্সপোজার)
  • ত্বকের বাধার ত্রুটি ( দীর্ঘায়িত জলের ব্যবহারও একজিমা করতে পারে)
  • সংবেদনশীল ত্বকের
  • শুষ্ক এবং ডিহাইড্রেটেড (আঁশযুক্ত) ত্বক
  • সুগন্ধি, মেকআপ, সাবান, ধুলো, বালি এবং সিগারেটের ধোঁয়ার  কারণে ।
  • নির্দিষ্ট দ্রাবক এবং ডিটারজেন্ট, ক্লোরিন
  • মানসিক চাপ
  • শুষ্ক এবং ঠান্ডা জলবায়ু
  • উচ্চ বায়ু দূষণকারী এক্সপোজার
  • ঘাম এবং তাপ
  • সিন্থেটিক এবং পশমী কাপড়ের মতো বিরক্তিকর পদার্থ পরিধান
  • আবার হরমোনঘটিত কোন পরিবর্তন, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকের সময় কিংবা গর্ভাবস্থায় এটি হতে পারে।

একজিমার প্রকার

সাধারণভাবে বলতে গেলে একজিমার নানা প্রকার হয়। যেমন : 

  • অ্যাটপিক একজিমা: অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিসকে সাধারণত একজিমা বলা হয়। এটি সবচেয়ে সাধারণ এবং দীর্ঘস্থায়ী ধরনের একজিমা।
  • কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস: জ্বালা, চুলকানি এবং লালভাব সাধারণত এই ধরনের দেখা যায়। হাত বিশেষ করে কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস বিকাশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
  • নিউমুলার একজিমা: পুরুষরা বেশিরভাগই আক্রান্ত হয়। শীতকালে, এটি ত্বকে শুষ্ক, গোলাকার দাগ সৃষ্টি করে।
  • সেবরিক একজিমা: এটি সাধারণত কানের পিছনে, নাকের পাশে, ভ্রুতে এবং বিশেষ করে মাথার ত্বকে ঘটে। এটি লাল, আঁশযুক্ত ফুসকুড়ি সৃষ্টি করে এবং চুলকায়।
  • নিউরোডার্মাটাইটিস: এই ধরনের একজিমা চুলকানি হতে পারে এমন জায়গাতে বেশি দেখা যায় যেমন গলার পিছনদিকে, মাথার ত্বকে, যৌনাঙ্গে, কানে ইত্যাদি।
  • স্ট্যাসিস ডার্মাটাইটিস: বেশিরভাগ বয়স্ক জনগোষ্ঠীতে, এটি ঘটে যখন পায়ের শিরাগুলি ফুলে যায় এবং তরল বের হয় (পায়ে দুর্বল সঞ্চালনের কারণে) ফোলা, চুলকানি এবং ত্বক লাল হয়ে যায়।

একজিমার প্রধান লক্ষণ

একজিমার লক্ষণগুলি শিশু ও প্রাপ্ত-বয়স্কদের মধ্যে আলাদা-আলাদা হতে পারে

চুলকানি: ত্বকে জ্বালা করে এবং চুলকানি হয়। বাচ্চাদের ত্বকে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়, তবে যে কোনও বয়সেই এটা হতে পারে। একবার একজিমা হলে তা সহজে সারতে চায় না। দীর্ঘদিন ভোগায় এই রোগ।

শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় একজিমা আরও প্রকট হয়। চুলকানি থাকে প্রচণ্ড, আর নখ দিয়ে চুলকালে অবস্থা আরও খারাপ হয়। অনেক সময় সংক্রমণও হয়ে যায়। 

স্কেলিং: ত্বকের উপরিভাগ রুক্ষ, আঁশযুক্ত চেহারা যেমন ত্বকের ফ্লেক্স থাকে। হাত ও পায়ের ত্বকে ছোট ছোট পানির ফুসকুড়ি হতে পারে।

ত্বকে তরল: আবার ত্বকে সংক্রমণ হলে ত্বক ভেজা ভেজা হতে পারে এবং পুঁজ বের হতে পারে। ত্বকের যে সমস্ত জায়গা বারবার চুলকানো হয় সেগুলো পুরু হয়ে যেতে পারে।

ফাটল: মাঝে মাঝে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত ত্বকে বেদনাদায়ক, গভীর ফাটল দেখা দিতে পারে, যাকে ফিসারও বলা হয়।

একজিমার চিকিৎসা: একজিমা একটি দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের অবস্থা এবং এটি নিয়ন্ত্রণ করতে কয়েক মাস বা বছর লাগতে পারে। বয়স, রোগের লক্ষণ এবং শরীরে অন্যান্য অসুখ বিসুখের নিরিখে চিকিৎসার ধরন ঠিক করা হয়। ঠিক চিকিৎসায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একেবারেই সেরে যায় এই রোগটি। সেই কারণে এখন ‘কমপ্লিট কিয়োর’ শব্দটি এগজ়িমার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এই চিকিৎসা যত দিন প্রয়োজন, ধৈর্যের সঙ্গে তা কিন্তু চালিয়ে যেতে হবে। প্রতি বছর কয়েকমাস করে প্রায় পাঁচ-ছ’বছর এর চিকিৎসা চালিয়ে গেলে তবেই এই রোগ নির্মূল করা সম্ভব।”

ক্রিম: কর্টিকোস্টেরয়েড ক্রিম বা মলম আপনার ডাক্তার দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে। ত্বক ময়শ্চারাইজ করার পর আক্রান্ত স্থানে ক্রিম লাগাতে হবে। এই ওষুধটি অতিরিক্ত ব্যবহার করলে ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া এবং ত্বকের ভাঙ্গন হতে পারে। কর্টিকোস্টেরয়েড ক্রিম চুলকানি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্বক মেরামত করতে সাহায্য করে।

অ্যান্টিবায়োটিক: খোলা ঘা এবং ফাটলগুলির ক্ষেত্রে, আপনার ত্বকে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে। সংক্রমণের তীব্রতার উপর নির্ভর করে আপনার চিকিৎসক কে আপনাকে একটি অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম বা ট্যাবলেট লিখে দিতে পারেন। ওরাল অ্যান্টিবায়োটিকগুলি সংক্রমণের চিকিত্সার জন্য অল্প সময় নেয়।

একজিমা দূর করার ঘরোয়া উপায় : 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রোজকার জীবনে অবশ্যই মেনে চলা দরকার কিছু নিয়ম। এগুলো মেনে চললে ত্বকের স্বাস্থ্য ভাল থাকে, ত্বকের অনেক সমস্যাই আর কষ্ট দেওয়ার জায়গায় পৌঁছতে পারে না।

  • একজিমা এড়ানোর জন্য শক্ত জাতীয় সাবান ব্যবহার না করাই ভাল। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ক্রিম বা অয়েনমেন্ট ব্যবহার করতে হবে। ত্বক সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। গরম জলে স্নান করাই ভাল। ১০-১৫ মিনিটের বেশি স্নান করা উচিত নয়।
  • সারা বছর ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করুন। প্রত্যেক দিন স্নান করার তিন মিনিটের মধ্যে সারা শরীরে ভাল করে মেখে নিতে হবে ময়শ্চারাইজ়ার।
  • গরম এবং ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় উপযুক্ত পোশাক পরুন এবং ব্যায়ামের সময়ও অতিরিক্ত ঘাম হওয়া রোধ করুন। রুক্ষ এবং আঁচড়যুক্ত পোশাক এড়িয়ে চলুন।
  • ধূলাবালি, ফুলের রেণু এবং সিগারেটের ধোঁয়া অর্থাৎ যেগুলো থেকে অ্যালার্জি হতে পারে সেগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে।
  • সরিষার তেল, কাদামাটি, গাছপালা, চন্দন, নোংরা পানি, আনাজপত্র—বিশেষত পেঁপে, রসুন, পেঁয়াজ ইত্যাদির সংস্পর্শে আসা একজিমা রোগীর উচিত নয়।
  • সব সময়ে হাতের নখ যেন ছোট করে কাটা থাকে। এগজ়িমার চুলকানি বেশির ভাগ সময়েই নিয়ন্ত্রণযোগ্য নয়। হাতে নখ ছোট করে কাটা থাকলে সংক্রমণের ভয় কমবে।
  • একজিমা রোগীর সমুদ্রে গোসল না করাই ভালো। কেননা নোনা পানি এবং বালুর প্রভাবে একজিমা অনেক সময় বেড়ে যায়।
  • পরিমিত ঘুম এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করুন।
0 comments
2 FacebookTwitterPinterestEmail
  • 1
  • 2

Recent Posts

  • ইফতারের পর চা খেলে কি হয়
  • রমজানে পর্যাপ্ত না ঘুমালে কী হয়
  • মাথা ব্যথার কারন ও মুক্তির উপায়
  • এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 
  • এনাল ফিসার কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

Recent Comments

No comments to show.

আমাদের সম্পর্কে

banner

প্রকৃতির মাঝেই লুকিয়ে আছে নিরাময়ের সকল উপাদান। তাই সুস্থতা ও প্রশান্তির আরেক নাম প্রকৃতি। প্রকৃতির সাথে নিজেকে একাত্ম করুন, প্রাকৃতিক নিয়মেই আপনি সুস্থ থাকবেন প্রশান্ত থাকবেন। প্রকৃতির মাঝে ছড়িয়ে থাকা এই অসংখ্য উপাদান আর তার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সৃষ্টির আদি থেকে এখনো পর্যন্ত মানুষ সুস্থতার যে উপায়গুলি মানব কল্যানে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে সেসব তথ্য উপাত্তকে গুছিয়ে নতুন আঙ্গিকে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ

  • 1

    এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 

  • 2

    শীতকালীন বিভিন্ন রোগ এবং প্রাকৃতিক প্রতিকার

  • 3

    প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া উপায়ে বন্ধ্যাত্ব রোগ নিরাময় করুন

  • 4

    শারীরিক সুস্থতার জন্য শাক-সবজি খাওয়ার সঠিক নিয়ম

Back Next

প্রয়োজনীয় লিংক সমুহ

  • চিকিৎসার ইতিহাস ও গবেষণা
  • প্রসূতি এবং শিশু স্বাস্থ্য
  • গোপনীয়তার নীতি
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • Facebook
  • Twitter
  • Whatsapp

@2023 - All Right Reserved by MIL HOMEO


Back To Top
MIL HOMEO
  • মুল পাতা
  • প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য
    • আয়ুর্বেদ চিকিৎসা
    • ঘরোয়া চিকিৎসা
    • ভেষজ উপাদান
    • ভেষজ চিকিৎসা
  • রোগব্যাধি ও প্রতিকার
    • শারীরিক রোগ
      • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ
      • চর্মরোগ
        • আঁচিল বা তিল
      • জ্বর
        • টাইফয়েড জ্বর
        • ডেঙ্গু জ্বর
        • ম্যালেরিয়া
      • পায়ুপথের রোগ
      • কান পাকা রোগ
      • কৃমি রোগ
      • বন্ধ্যাত্ব রোগ
      • নাসা রোগ
      • শীতকালীন রোগব্যাধি
      • সংক্রামক রোগ
      • সাইনোসাইটিস
      • স্নায়ু রোগ
    • মনরোগ
    • শিশু রোগ
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • সুস্থ জীবনধারা
    • ক্ষতিকর অভ্যাস
    • খাদ্যাভ্যাস
    • তামাক ও মাদক বর্জন
    • পানীয় জল এবং হাইড্রেশন
    • ভালো ঘুমের অভ্যাস
    • রূপচর্চা ও চুলের যত্ন
    • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
    • স্বাস্থ্যকর শখ
  • ব্যায়াম ও ফিটনেস
    • ওজন প্রশিক্ষণ
    • ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা
    • ঘরে বসে ফিটনেস
    • বয়স্কদের ব্যায়াম
    • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
    • স্ট্রেচিং এবং মবিলিটি
  • মানসিক স্বাস্থ্য
    • অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা
    • আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে ভালোবাসা
    • ডিপ্রেশন ও প্রতিকার
    • মানসিক চাপ ও সমাধান
    • মেডিটেশন ও মননশীলতা
    • পরিবার ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য
  • খাদ্য ও পুষ্টি
    • আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
    • ওজন কমানোর খাদ্য পরিকল্পনা
    • ওজন বাড়ানোর পুষ্টি পরিকল্পনা
    • খাদ্য তালিকা এবং পরামর্শ
      • রোগের খাবার
    • পুষ্টিগুণ
      • শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
      • ফলের পুষ্টিগুণ
    • ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
    • স্বাস্থ্যকর রেসিপি
  • হোমিও চিকিৎসা