MIL HOMEO
প্রকৃতির সাথে থাকুন, সুস্থ থাকুন
  • মুল পাতা
  • প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য
    • আয়ুর্বেদ চিকিৎসা
    • ঘরোয়া চিকিৎসা
    • ভেষজ উপাদান
    • ভেষজ চিকিৎসা
  • রোগব্যাধি ও প্রতিকার
    • শারীরিক রোগ
      • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ
      • চর্মরোগ
        • আঁচিল বা তিল
      • জ্বর
        • টাইফয়েড জ্বর
        • ডেঙ্গু জ্বর
        • ম্যালেরিয়া
      • পায়ুপথের রোগ
      • কান পাকা রোগ
      • কৃমি রোগ
      • বন্ধ্যাত্ব রোগ
      • নাসা রোগ
      • শীতকালীন রোগব্যাধি
      • সংক্রামক রোগ
      • সাইনোসাইটিস
      • স্নায়ু রোগ
    • মনরোগ
    • শিশু রোগ
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • সুস্থ জীবনধারা
    • ক্ষতিকর অভ্যাস
    • খাদ্যাভ্যাস
    • তামাক ও মাদক বর্জন
    • পানীয় জল এবং হাইড্রেশন
    • ভালো ঘুমের অভ্যাস
    • রূপচর্চা ও চুলের যত্ন
    • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
    • স্বাস্থ্যকর শখ
  • ব্যায়াম ও ফিটনেস
    • ওজন প্রশিক্ষণ
    • ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা
    • ঘরে বসে ফিটনেস
    • বয়স্কদের ব্যায়াম
    • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
    • স্ট্রেচিং এবং মবিলিটি
  • মানসিক স্বাস্থ্য
    • অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা
    • আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে ভালোবাসা
    • ডিপ্রেশন ও প্রতিকার
    • মানসিক চাপ ও সমাধান
    • মেডিটেশন ও মননশীলতা
    • পরিবার ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য
  • খাদ্য ও পুষ্টি
    • আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
    • ওজন কমানোর খাদ্য পরিকল্পনা
    • ওজন বাড়ানোর পুষ্টি পরিকল্পনা
    • খাদ্য তালিকা এবং পরামর্শ
      • রোগের খাবার
    • পুষ্টিগুণ
      • শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
      • ফলের পুষ্টিগুণ
    • ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
    • স্বাস্থ্যকর রেসিপি
  • হোমিও চিকিৎসা

জ্বর

টাইফয়েড-জ্বর-ও-চিকিৎসা
টাইফয়েড জ্বর

টাইফয়েড জ্বরের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

by Dr. Baby Akter 05/10/2023
written by Dr. Baby Akter

আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে গরমকালের শুরুতে বা শেষে সময়ে দেখা দেয় নানা অসুখ বিসুখ। যেগুলি মানুষ থেকে মানুষে, মশা থেকে মানুষে, জল থেকে মানুষে ছড়ায়। এগুলি বেশিরভাগই সংক্রামক ব্যাধি। এ সময়ে ছড়ায় এমনি একটি মারাত্মক রোগ হল টাইফয়েড। আজ আমরা টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা ও কীভাবে তার প্রতিরোধ করা যায় সে বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করব।

সালমোনেলা টাইফি (Salmonella Typhi) ও প্যারাটাইফি জীবাণু থেকে টাইফয়েড রোগ হয়ে থাকে। টাইফয়েড পানিবাহিত রোগ। জ্বরের সময় তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রী থেকে ১০৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট অব্ধি হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই এই জ্বর প্রথম সপ্তাহে ধরা পড়ে না। ওষুধ চললেও সপ্তাহ খানেক থাকতে পারে এই জ্বর। দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে জ্বর ধরা পড়ে এবং মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। 

শরীরে জীবাণু প্রবেশ করলেই টাইফয়েড হয়ে যাবে এমন কোন কথা নেই, কারণ দেহে যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকে তাহলে অনেক সময়ই জীবাণু দেহে সংক্রমণ করতে পারেনা।

টাইফয়েড জ্বর কী?

টাইফয়েড একটি অত্যন্ত পরিচিত সংক্রামক অসুখ যা সালমোনেলা এন্টেরিকা (Salmonella Enterica)-র টাইফি, প্যারাটাইফি A, B, এবং C নামক বিভিন্ন প্রজাতির দ্বারা ঘটে। টাইফয়েড এবং প্যারাটাইফয়েড জ্বর একত্রে আন্ত্রিক জ্বর হিসাবে পরিচিত। এই অসুখটা প্রাক-বর্ষা, বর্ষা এবং বর্ষা শেষেই সাধারণত বেশি মাত্রায় ছড়ায়। মল এবং মৌখিক (ওরাল) পথের মাধ্যমে টাইফয়েডের সংক্রমণ ঘটে। যদি সঠিক চিকিৎসা না করা হয়, অবস্থা আরও গুরুতর দিকে চলে যেতে পারে এবং জীবাণুগুলি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। এতে  আভ্যন্তরীণ রক্তপাত, পচন বা সেপসিস অথবা বিরল ক্ষেত্রগুলিতে রোগীর মৃত্যু অব্ধি হতে পারে৷

টাইফয়েড জ্বরের কারণ 

টাইফয়েডকে পানিবাহিত রোগেগুলির মধ্যে একটি মারাত্মক রোগ হিসেবে ধরা হয় যা আমাদের দেহে সাধারণত দুই ধরনের জীবাণুর সংক্রমণে হয়ে থাকে।

(১) সালমোনেলা টাইফি এবং

(২) সালমোনেলা প্যারাটাইফি

সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে যে জ্বর হয় তাকে টাইফয়েড জ্বর বা এন্টারিক ফিভার বলে। আর যদি সালমোনেলা প্যারাটাইফি নামক জীবাণুর কারণে এ জ্বর হয় তখন তাকে প্যারা টাইফয়েড জ্বর বলে। প্রধানত দূষিত পানি ও খাবার গ্রহণের মাধ্যমেই শরীরে এই জীবাণু প্রবেশ করে তাছাড়া পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতি উদাসীনতার কারণেও এটি শরীরে প্রবেশ করতে পারে। টাইফয়েড জ্বর হতে আরোগ্য লাভ করেছেন কিন্তু এই ব্যাকটেরিয়া বহন করছেন এমন কিছু সংখ্যক ব্যক্তিও এই রোগের বাহক হতে পারে বলে মনে করা হয়। এই জীবাণু শরীরে যেভাবেই প্রবেশ করুক তা শরীরে প্রবেশের পর বৃহদান্ত্রকে আক্রমণ করে। এছাড়া মানব শরীরের পিত্তথলিতে সাধারণত এই ব্যাকটেরিয়া জমা থাকে এবং উপযুক্ত পরিবেশ পাওয়ার সাথে সাথে এটি দ্রুত গতিতে শরীরে আক্রমণ করে থাকে।

টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণগুলি কী কী?

অনেকাংশেই আর পাঁচটি জ্বরের মতই টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণগুলি তবে বেশ কিছু উপসর্গ আছে যেগুলি একেবারেই আলাদা এবং কোন অবস্থাতে তা অবহেলা করা উচিত নয়।

  • প্রবল জ্বর , তাপমাত্রা ১০২°- ১০৪° ফারেনহাইটের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। 
  • কাশি।
  • পেট খারাপ।
  • পেট ব্যথা।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য।
  • ক্ষুধামান্দ্য।
  • মানসিক অবসাদ।
  • বুক এবং তলপেটে লাল ফুসকুড়ি।
  • নাক দিয়ে রক্ত পড়া।
  • মস্তিষ্কের বিভ্রান্তি বা বিভ্রম।
  • মনোযোগে ঘাটতি।
  • প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের মধ্যে টাইফয়েড সংক্রমণের উপসর্গগুলি অপেক্ষাকৃত কম দেখা যায়।

টাইফয়েড হলে কী করবেন?

রক্ত পরীক্ষা

টাইফয়েড পানিবাহিত জীবাণুর মাধ্যমে ছড়ায়। তাই টাইফয়েড হয়েছে কি না, তা বুঝতে সবার আগে অসুস্থ ব্যক্তির রক্ত পরীক্ষা করতে হবে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা

নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। অবশ্যই হাত ভালোভাবে ধুতে হবে। সব সময় পরিষ্কার পোশাক পরতে হবে। ঘরের জিনিসপত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা করে রাখতে হবে।

খাবারে ও পানির সতর্কতা

বাইরের খাবার খেলে সব সময় সচেতন থাকতে হবে। পানি ফুটিয়ে পান করতে হবে। অপরিষ্কার শাক-সবজি ও কাঁচা-ফলমূল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। খাবার গরম করে খেতে হবে। 

স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও বাসস্থান  সুব্যবস্থা

আক্রান্ত ব্যক্তির টয়লেট নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে খোলামেলা ও পরিষ্কার বাসায় রাখতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে কোনোভাবেই যেন টয়লেটে ময়লা বা পানি জমে না থাকে। 

অবশ্যই রোগীকে একজন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে এবং টাইফয়েড হয়েছে কি না তা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে, সাথেসাথে ওষুধ খাওয়ার বিষয়টি ও নিশ্চিত করতে হবে। 

টাইফয়েডের চিকিৎসা কি কি উপায়ে করা যায়?

টাইফয়েডের প্রাথমিক উপসর্গগুলি দেখা দেওয়া মাত্র ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। সাধারণত যে যে পদ্ধতিতে টাইফয়েডে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা করা হয় তা হলো 

১. অ্যান্টিবায়োটিক

টাইফয়েড জ্বরের পরীক্ষায় রিপোর্ট অনুযায়ী, ৭ থেকে ১৪ দিনের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক এর প্রয়োগ করা হয়।

ডাক্তারের নির্দেশনা মোতাবেক নিয়ম অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স শেষ করতে হবে ৷ অনেক সময় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার শুরু করার পর ২-৩ দিনেই উপসর্গ গুলি হ্রাস পেতে শুরু করে, কিন্তু কোনোভাবেই অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়া বন্ধ করা যাবেনা।

২. টাইফয়েড ভ্যাক্সিন

সাধারণত দুই ধরনের ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টাইফয়েডের বাহক, বাহকের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়৷ একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের টাইফয়েড ভ্যাক্সিনের প্রয়োজন হয় না। তবে ডাক্তার মনে করলে ভ্যাক্সিন নেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন।

৩. হাইড্রেশন

বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওআরএস, ফলের রস খেতেই হবে৷ টাইফয়েডে আক্রান্ত হলে শরীর থেকে প্রচুর জল বেরিয়ে যায়। অনেক সময়ই রোগী ডিহাইড্রেটেড হয়ে অজ্ঞান পর্যন্ত হয়ে যায়। তাই এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

৪. গুরুতর ক্ষেত্রে

যদি রোগীর অবস্থা গুরুতর হয় অথবা ওষুধে কাজ না হলে, সেক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার দ্রুত কাজ করতে এবং উপসর্গগুলির তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে৷

৫. দ্বিতীয় বারের পরীক্ষা

রোগীর মলে বা রক্তে আর টাইফয়েডের জীবাণুগুলি বর্তমান নেই তা নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ চিকিৎসার পর দ্বিতীয়বার একটি মল বা রক্ত পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। যদি পরীক্ষা রিপোর্ট পজিটিভ আসে সেক্ষেত্রে টাইফয়েড জীবাণুর একজন বাহক (কেরিয়ার) হিসাবে গণ্য করা হবে। এরকম ক্ষেত্রে ডাক্তার সাধারণত একটি ২৮ দিনের মৌখিক অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স সম্পূর্ণ করে পুনরায় পরীক্ষা করাতে বলেন।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
ডেঙ্গু-জ্বর-কারণ-লক্ষণ-রোগ-নির্ণয়-ও-চিকিৎসা
ডেঙ্গু জ্বর

ডেঙ্গু জ্বর কারণ, লক্ষণ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

by Dr. Baby Akter 09/08/2023
written by Dr. Baby Akter

সম্প্রতি বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রভাব উদ্বেগজনক হরে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানত প্রাক-গ্রীষ্ম এবং বর্ষা সময়ে এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। ডেঙ্গু সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি থাকে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত যায়। প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ ডেঙ্গু সংক্রমণ ঘটে। সময় এবং অঞ্চল-বিশেষে এই রোগ মহামারির আকারও ধারণ করে। বিনা চিকিৎসায়, ভুল চিকিৎসায়, এবং দেরিতে চিকিৎসার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হয়। তাই অনতিবিলম্বে ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ, নির্ণয়, চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ব্যাপারে সতর্ক হওয়া আবশ্যক।

আপনার আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে এবং ছোট ছোট কিছু বিষয়ে সচেতন থাকলে ডেঙ্গুজ্বর থেকে যেমন মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে তেমনি আপনার আশপাশের মানুষরাও থাকবে সুস্থ ।

ডেঙ্গু কি ?

ডেঙ্গি ভাইরাসে সংক্রমণের ফলে ডেঙ্গু জ্বর হয়। ডেঙ্গু হলো এডিস গোত্রের স্ত্রী মশাবাহিত এক ধরনের ভাইরাস, যা ডেঙ্গি নামে পরিচিত। সংক্রমিত মশার সংস্পর্শে আসা সব বয়সের মানুষই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এই মশাগুলি গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলে বেশী জন্মায়, যা এই অঞ্চলে ডেঙ্গু জ্বরকে একটি উল্লেখযোগ্য জনস্বাস্থ্য ঝুকিপুর্ন করে তোলে। কোন আক্রান্ত মানুষ থেকে আরেক মানুষে এই রোগ ছড়ায় না। তবে সংক্রমিত মানুষটিকে কামড়ানোর ফলে আক্রান্ত মশা অন্য মানুষকে কামড়ালে তখন সেই মানুষটি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়।

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ

ডেঙ্গু জ্বর হালকা থেকে গুরুতর  বিভিন্ন ধরণের লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। তার মধ্যে বিশেষ লক্ষন গুলো  হলো :

  • প্রচণ্ড জ্বর
  • বমিভাব
  • তীব্র মাথাব্যথা
  • অনিয়ন্ত্রিত পায়খানা 
  • পেশি ও অস্থিসন্ধিতে গুরুতর ব্যথা
  • ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ (যা ক্ষতের মতো দেখাতে পারে)
  • হালকা রক্তপাত (যেমন নাক ও মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া)।
  • মাথাঘোরা
  • জয়েন্ট এবং মাংস পেশীতে ব্যথা
  • বিরক্তি এবং অস্থিরতা

ডেঙ্গুর গুরুতর মাত্রাগুলোর মধ্যে রয়েছে ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর বা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম নামে একটি গুরুতর আকারে ধারণ করতে পারে। মানুষের শরীরের রক্তনালীগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্তপাত, যে কোন অঙ্গের ক্ষতি এবং শেষ পর্যন্ত রোগীর মৃত্যু হতে পারে।

সাধারণত যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এবং আগে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিল তাদের মধ্যে ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে .

ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা

ডেঙ্গু সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। ডেঙ্গুর চিকিৎসার বিশেষ কোন ওষুধ বা প্রতিষেধক এখনো পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি। বিশ্বব্যাপী গবেষক ও বিজ্ঞানীরা ডেঙ্গু জ্বরের নতুন চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক কৌশল উদ্ভাবনের দিকে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। বেশ কয়েকটি ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়েছে এবং ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে। তবে  তাৎক্ষণিক জ্বর ও ব্যথা উপশমের জন্য ডাক্তাররা টাইলেনল বা প্যারাসিটামল প্রেসক্রাইব করে থাকেন। এছাড়াও ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধের জন্য প্রচুর পরিমাণে তরল পান করা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম করা উচিত।

ডেঙ্গু জ্বরের তিনটি ধরন বা ক্যাটাগরি আছে—‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’। এ ক্যাটাগরির রোগীরা অনেকটাই । অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগী ‘এ’ ক্যাটাগরির। তাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই তারা বাড়িতে বিশ্রাম এবং পারিবারিক পরিচর্যার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।

বি ক্যাটাগরির ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে যাদের অন্তঃসত্ত্বা, ডায়াবেটিস,  জন্মগত সমস্যা, স্থূলতা,বমি,পেটে ব্যথা, কিডনি বা লিভারের সমস্যা রয়েছে তাদের হাসপাতালের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। তবে সি ক্যাটাগরির ডেঙ্গু জ্বর অত্যন্ত বিপদজনক।  এতে ,মস্তিষ্ক ,কিডনি, লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে রোগীকে অতি দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে নিবিড় পরিচর্যা অথবা আইসিইউতে রাখতে হবে.

ডেঙ্গু জ্বরের ঘরোয়া  চিকিৎসা

  • পর্যাপ্ত বিশ্রামে থাকতে হবে।
  • ভিটামিন সি (সাইট্রাস ফল, বেরি এবং শাক-সবজিতে পাওয়া যায়)।
  • প্রচুর তরলজাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। লেবুর শরবত, ডাবের পানি, ফলের জুস এবং একটু পরপর খাবার স্যালাইন পান করুন।
  • ডেঙ্গু জ্বর অনুভব হলে প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক এবং স্বাভাবিক ওজনের একজন ব্যক্তি প্রতিদিন সর্বোচ্চ আটটি প্যারাসিটামল খেতে পারবে। যদি কোনো ব্যক্তির যদি লিভার, হার্ট এবং কিডনি–সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরণের জটিলতা থাকে, তাহলে প্যারাসিটামল সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
  • আয়রন (মাংস, মটরশুঁটিতে পাওয়া যায়),পেঁপে, ওটমিল (সহজপাচ্য কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ) ইত্যাদি খাবারের কিছু পুষ্টি উপাদান ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের জন্য বিশেষ ভাবে উপকারী হতে পারে।
  • ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে গায়ে ব্যথার জন্য ক্লোফেনাক,অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন–জাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না। ডেঙ্গুর সময় এ–জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করলে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
  • পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে,যা ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এক কাপ পেয়ারার রস দিনে ২ বার পান করা যেতে পারে। অথবা তাজা পেয়ারা খেলেও ভালো প্রতিকার পাওয়া যায়।
  • এক কাপ গরম পানিতে কিছু মেথির বীজ ভিজিয়ে রেখে তা ঠান্ডা করে দিনে ২ বার করে পান করলে জ্বর কমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে উপকার পাওয়া যায়.ভিটামিন সি, কে এবং ফাইবার সমৃদ্ধ মেথির পানি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। 
  • প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে লেবু, কমলা, জাম্বুরার মত সাইট্রাস জাতীয় ফল, রসুন, বাদাম, এবং হলুদ রাখা যেতে পারে। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী থাকলে ডেঙ্গু থেকে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

ডেঙ্গু জ্বরের প্রতিরোধ, প্রতিকার এবং করণীয়

এই রোগ প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায় হলো সংক্রামিত মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা। এর জন্য মশার বংশ বিস্তারের সব রকম পরিবেশ সমূলে ধ্বংস করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায়গুলো হলো-

  • বাড়ির চারপাশে জল জমতে দেবেন না। জমা জলে মশারা বংশবিস্তার করে। জল জমতে না দিয়ে মশার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সপ্তাহে অন্তত একবার জল জমতে পারে এমন জায়গা পর্যবেক্ষণ করুন। এবং গাছের টব, ফুলদানি, পরে থাকা গাড়ির টায়ারের জমে থাকা জল ফেলে দিন। 
  •  সন্ধ্যার আগে আগেই জানালা ও দরজা লাগিয়ে দেয়া। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা।
  • ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী মশা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। এই সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন। 
  • বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম রাখতে পারেন সঙ্গে।
0 comments
6 FacebookTwitterPinterestEmail

Recent Posts

  • ইফতারের পর চা খেলে কি হয়
  • রমজানে পর্যাপ্ত না ঘুমালে কী হয়
  • মাথা ব্যথার কারন ও মুক্তির উপায়
  • এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 
  • এনাল ফিসার কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

Recent Comments

No comments to show.

আমাদের সম্পর্কে

banner

প্রকৃতির মাঝেই লুকিয়ে আছে নিরাময়ের সকল উপাদান। তাই সুস্থতা ও প্রশান্তির আরেক নাম প্রকৃতি। প্রকৃতির সাথে নিজেকে একাত্ম করুন, প্রাকৃতিক নিয়মেই আপনি সুস্থ থাকবেন প্রশান্ত থাকবেন। প্রকৃতির মাঝে ছড়িয়ে থাকা এই অসংখ্য উপাদান আর তার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সৃষ্টির আদি থেকে এখনো পর্যন্ত মানুষ সুস্থতার যে উপায়গুলি মানব কল্যানে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে সেসব তথ্য উপাত্তকে গুছিয়ে নতুন আঙ্গিকে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ

  • 1

    এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 

  • 2

    শীতকালীন বিভিন্ন রোগ এবং প্রাকৃতিক প্রতিকার

  • 3

    প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া উপায়ে বন্ধ্যাত্ব রোগ নিরাময় করুন

  • 4

    শারীরিক সুস্থতার জন্য শাক-সবজি খাওয়ার সঠিক নিয়ম

Back Next

প্রয়োজনীয় লিংক সমুহ

  • চিকিৎসার ইতিহাস ও গবেষণা
  • প্রসূতি এবং শিশু স্বাস্থ্য
  • গোপনীয়তার নীতি
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • Facebook
  • Twitter
  • Whatsapp

@2023 - All Right Reserved by MIL HOMEO


Back To Top
MIL HOMEO
  • মুল পাতা
  • প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য
    • আয়ুর্বেদ চিকিৎসা
    • ঘরোয়া চিকিৎসা
    • ভেষজ উপাদান
    • ভেষজ চিকিৎসা
  • রোগব্যাধি ও প্রতিকার
    • শারীরিক রোগ
      • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ
      • চর্মরোগ
        • আঁচিল বা তিল
      • জ্বর
        • টাইফয়েড জ্বর
        • ডেঙ্গু জ্বর
        • ম্যালেরিয়া
      • পায়ুপথের রোগ
      • কান পাকা রোগ
      • কৃমি রোগ
      • বন্ধ্যাত্ব রোগ
      • নাসা রোগ
      • শীতকালীন রোগব্যাধি
      • সংক্রামক রোগ
      • সাইনোসাইটিস
      • স্নায়ু রোগ
    • মনরোগ
    • শিশু রোগ
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • সুস্থ জীবনধারা
    • ক্ষতিকর অভ্যাস
    • খাদ্যাভ্যাস
    • তামাক ও মাদক বর্জন
    • পানীয় জল এবং হাইড্রেশন
    • ভালো ঘুমের অভ্যাস
    • রূপচর্চা ও চুলের যত্ন
    • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
    • স্বাস্থ্যকর শখ
  • ব্যায়াম ও ফিটনেস
    • ওজন প্রশিক্ষণ
    • ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা
    • ঘরে বসে ফিটনেস
    • বয়স্কদের ব্যায়াম
    • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
    • স্ট্রেচিং এবং মবিলিটি
  • মানসিক স্বাস্থ্য
    • অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা
    • আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে ভালোবাসা
    • ডিপ্রেশন ও প্রতিকার
    • মানসিক চাপ ও সমাধান
    • মেডিটেশন ও মননশীলতা
    • পরিবার ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য
  • খাদ্য ও পুষ্টি
    • আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
    • ওজন কমানোর খাদ্য পরিকল্পনা
    • ওজন বাড়ানোর পুষ্টি পরিকল্পনা
    • খাদ্য তালিকা এবং পরামর্শ
      • রোগের খাবার
    • পুষ্টিগুণ
      • শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
      • ফলের পুষ্টিগুণ
    • ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
    • স্বাস্থ্যকর রেসিপি
  • হোমিও চিকিৎসা