MIL HOMEO
প্রকৃতির সাথে থাকুন, সুস্থ থাকুন
  • মুল পাতা
  • প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য
    • আয়ুর্বেদ চিকিৎসা
    • ঘরোয়া চিকিৎসা
    • ভেষজ উপাদান
    • ভেষজ চিকিৎসা
  • রোগব্যাধি ও প্রতিকার
    • শারীরিক রোগ
      • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ
      • চর্মরোগ
        • আঁচিল বা তিল
      • জ্বর
        • টাইফয়েড জ্বর
        • ডেঙ্গু জ্বর
        • ম্যালেরিয়া
      • পায়ুপথের রোগ
      • কান পাকা রোগ
      • কৃমি রোগ
      • বন্ধ্যাত্ব রোগ
      • নাসা রোগ
      • শীতকালীন রোগব্যাধি
      • সংক্রামক রোগ
      • সাইনোসাইটিস
      • স্নায়ু রোগ
    • মনরোগ
    • শিশু রোগ
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • সুস্থ জীবনধারা
    • ক্ষতিকর অভ্যাস
    • খাদ্যাভ্যাস
    • তামাক ও মাদক বর্জন
    • পানীয় জল এবং হাইড্রেশন
    • ভালো ঘুমের অভ্যাস
    • রূপচর্চা ও চুলের যত্ন
    • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
    • স্বাস্থ্যকর শখ
  • ব্যায়াম ও ফিটনেস
    • ওজন প্রশিক্ষণ
    • ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা
    • ঘরে বসে ফিটনেস
    • বয়স্কদের ব্যায়াম
    • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
    • স্ট্রেচিং এবং মবিলিটি
  • মানসিক স্বাস্থ্য
    • অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা
    • আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে ভালোবাসা
    • ডিপ্রেশন ও প্রতিকার
    • মানসিক চাপ ও সমাধান
    • মেডিটেশন ও মননশীলতা
    • পরিবার ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য
  • খাদ্য ও পুষ্টি
    • আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
    • ওজন কমানোর খাদ্য পরিকল্পনা
    • ওজন বাড়ানোর পুষ্টি পরিকল্পনা
    • খাদ্য তালিকা এবং পরামর্শ
      • রোগের খাবার
    • পুষ্টিগুণ
      • শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
      • ফলের পুষ্টিগুণ
    • ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
    • স্বাস্থ্যকর রেসিপি
  • হোমিও চিকিৎসা

পায়ুপথের রোগ

এনাল ফিসার
পায়ুপথের রোগ

এনাল ফিসার কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

by Dr. Baby Akter 06/07/2024
written by Dr. Baby Akter

এনাল ফিসার হল একধরনের পায়ুপথের ক্ষত বা পায়ুপথের রোগ। এটি অতি পরিচিত পায়ুপথের একটি সমস্যা যা মলত্যাগের সময় ব্যথা, জ্বালাপোড়া করা, ছুরির ধারের মত অনূভুত হয়ে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি একেবারে তীব্র পর্যায়ের হয়ে থাকে ফলে রোগীর মধ্যে মারাত্বক অস্বস্তি ও যন্ত্রনা শুরু হয়। এই উপসর্গগুলোকে সাধারণত এনাল ফিসার বলা হয়ে থাকে। তবে বাংলায় এটি গেজ রোগ নাম বেশী পরিচিত। 

এটি সাধারণত পায়ুপথের সমস্যা হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ভোগার পরও অনেকে এর চিকিৎসা নেন না বা ডাক্তারের কাছে যেতে চান না। অথচ এই সংবেদনশীল রোগটির যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নেওয়া যায় ততই মঙ্গল। না হলে একপর্যায়ে অবস্থা মারাত্বক আকার ধারণ করে অস্ত্রোপচার সহ উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় বা জটিল আকার ধারণ করে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।

এনাল ফিসার কী?

মানুষের পায়ুপথের পেছনের দিকের যে অংশে মল জমা হয় তাকে মলাশয় বা রেক্টাম বলা হয়। এই মলাশয় থেকে মল মলদ্বার দিয়ে বের হয়ে আসে। মলদ্বারের চারপাশের মাংসপেশী চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে মলদ্বারের মুখ খোলা বা বন্ধ করা যায়। দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠ্যকাঠিন্য বা কষা পায়খানা করা অথবা দীর্ঘক্ষণ বাথরুমে বসে থাকা, খুব জোরে চাপ দিয়ে মল ত্যাগ করা ইত্যাদি কারণে অনেক সময় মলদ্বারের চারপাশের চামড়া ফেটে বা চিড়ে যায়৷ মলদ্বারের এই ফেটে বা চিড়ে যাওয়া ক্ষত অবস্থাকে গেজ রোগ বা এনাল ফিসার বলে।

এনাল ফিসারের ফলে মলত্যাগের সময় এই ক্ষত অংশে খুব জ্বলাযন্ত্রণা ও ব্যথা করে। একই সাথে পায়ুপথের চারপাশে টানটান হয়ে পায়ুপথ টাইট হয়ে সরু হয়ে যায়। যে কারণে মলত্যাগের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠে। 

এনাল ফিসারের লক্ষণগুলো কী কী?

১. মলদ্বারে প্রচন্ড ও  ধারালো যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা হওয়া

এনাল ফিসারের অন্যতম লক্ষণ হল পায়খানা করার সময় মলদ্বারের চারপাশে প্রচন্ড ধারালো ব্যথা অনুভূত হওয়া। রোগীর মনে হতে থাকে মলদ্বারে যেন কাঁচের টুকরো বের হচ্ছে। তাই রোগীদের জন্য এটি অধিক যন্ত্রণাদায়ক। পায়খানা করার বেশ কিছুক্ষণ পরও ব্যথা ও জ্বালা অনূভুত হতে থাকে। 

২. মলের সাথে টকটকে লাল রক্ত যাওয়া

মলদ্বারের ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণ হয় বিধায় রক্তের রং উজ্জ্বল ও লাল বর্ণের হয় এবং তা মলের সাথে লাগানো অবস্থায় বের হয়। সাধারণত মলদ্বারের চারপাশ থেকে বের হয় তাই রক্ত পরিমানে কম হয়। তবে যদি ভেতর থেকে রক্ত বের হয় তাহলে রক্তের রং আরো কালচে লাল বা গাঢ় হতো।

৩. মলদ্বারে চুলকানি

গেজ রোগ বা এনাল ফিসার রোগে মলদ্বারে চুলকানি হতে পারে।

আরো পড়ুন: এনাল ফিস্টুলা কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

এনাল ফিসার কেন হয়?

এনাল ফিসারের সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর অন্যতম হল কোষ্ঠকাঠিন্য বা কষা পায়খানা। কষা পায়খানা হলে অনেকে নিয়মিত মলত্যাগ করতে চায় না, পরবর্তীতে মলত্যাগের সময় তা আরও শক্ত হয়ে বের হয়। এতে কষা পায়খানার ফলে পায়ুপথের চারপাশের ত্বক ছিঁড়ে যায়। ফলে এনাল ফিসারের সমস্যা সৃষ্টি হতে থাকে। 

তাছাড়া গর্ভবতী মহিলাদের ও নরমাল ডেলিভারী মাধ্যমে বাচ্চা প্রসব হলে সেক্ষত্রেও এনাল ফিসারের সমস্যা দেখা দিতে পারে তবে সেক্ষেত্রে ধরণটা একটু ভিন্ন হয়। 

আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডায়রিয়ার কারণেও এ রোগ হতে পারে, তাছাড়া আরো অনেক কারণে এই এনাল ফিসার রোগ হতে পারে যেমন :

১. ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস সংঘটিত চর্মরোগ।

২. সোরিয়াসিস নামক ত্বকের প্রদাহজনিত রোগ।

৩. পরিপাকতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ বা ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (IBD)।

৪. যৌনরোগ, যেমন- এইচআইভি, সিফিলিস ও হার্পিস সিমপ্লেক্স।

৫. Pruritus Ani নামের পায়ুপথের মুখের চুলকানি রোগ।

৬. কোলোরেক্টাল বা পায়ুপথের ক্যান্সার।

কিছু কিছু ওষুধ সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও এনাল ফিসার দেখা দিতে পারে যেমন-

  • আফিমজাতীয় ব্যথার ওষুধ (Opioids), যেমন- ট্রামাডল, টাপেন্টাডল, মরফিন ও পেথিডিন।
  • Angina- জাতীয় বুকের ব্যথায় ব্যবহৃত নিকোর‍ান্ডিল।
  • কেমোথেরাপিতে ব্যবহৃত কিছু ওষুধ।

এনাল ফিসার বা গেজ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

১. সিটজ ব্যাথ(Sitz Bath) বা মলদ্বারে গরম পানির সেঁক নেয়া –

একটি বড় আকারের বোলে কুসুম গরম পানি নিয়ে তাতে কিছুক্ষণ বসে থাকতে হবে। এতে মলদ্বারের মাংসপেশী শিথিল হয়ে ব্যথা কমে আসে। এটাকে Sitz bath/সিটজ বাথ বলা হয়ে থাকে। দিনে দুই থেকে তিনবার এই পদ্ধতি গ্রহণ করা যায়। 

২. মলদ্বারের চারপাশে পেট্রোলিয়াম জেলি  ব্যবহার –

মলদ্বারের চারপাশে পেট্রোলিয়াম জেলি বা এই জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করা যায়। এর ফলে শক্ত মল সহজে মলদ্বার দিয়ে বের হয়ে আসে। এবং চামড়া ছিঁড়ে যাওয়া বা রক্তপাত হওয়ার সম্ভবনা কম থাকে। 

৩. সকালে ইসবগুলের ভুসি খাওয়া-

নিয়মিত সকালে ২ চা চামচ ইসবগুলের ভুসি ১ গ্লাস পানিতে মিশিয়ে খেলে মল নরম থাকে। এটি এনাল ফিসার রোগীর জন্য বেশ উপকারী একটি খাবার। তবে ইসবগুলের ভুসির সাথে পর্যাপ্ত পানি পান না করলে, পায়খানা আরো শক্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাই সাথে পর্যাপ্ত পানির বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

৪. মলদ্বার পরিষ্কার ও শুকনো রাখা –

মলত্যাগের পর মলদ্বার শুকনো ও পরিছন্ন রাখতে হবে। তাছাড়া মলদ্বার আলতোভাবে হাতের আঙ্গুল দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে, কিন্তু অতিরিক্ত ঘষাঘষি করা যাবে না। ফলে জায়গাটি ইনফেকশন হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। এর ফলে এনাল ফিসার হলেও তা সেরে উঠার সম্ভবনা বেশি থাকে।

আরো পড়ুন: মহিলাদের পাইলস বা অর্শ্বরোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

এনাল ফিসার বা গেজ রোগ থেকে মুক্তির উপায়

১. যথা সময়ে মলত্যাগ করা –

যথাসময়ে মলত্যাগ করতে হবে। যদি পায়খানা জমিয়ে দেরী করে মলত্যাগ করা হয় তাহলে মল আরো শক্ত হয়ে যায়। এতে শক্ত মল পায়খানার রাস্তায় ক্ষত সারতে অনেক দেরী হয়ে যায়। তাই যথাসময়ে মলত্যাগ করা অভ্যাস করতে হবে। 

যদিও এনাল ফিসারের রোগীদের মলত্যাগের সময় প্রচন্ড যন্ত্রনা হয় তাই যথাসময়ে মলত্যাগে ভয় পায়, সেকারণে খাওয়া দাওয়ার মাধ্যমে মল নরম রাখতে হবে এবং ব্যথা কমানোর উপায়গুলোও মেনে চলা উচিত। 

২. এনাল ফিসার রোগীর জন্য কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার অত্যান্ত জরুরী। তাই কিছু নিয়ম অবশ্যই মেনে চলতে হবে। যেমন –

  • পর্যাপ্ত পরিমানে আঁশ বা ফাইবার জাতীয় খাবার খেতে হবে যেমন- ফলমূল, শাকসবজি, ডাল, লাল চাল, লাল আটা এধরণের খাবার। 
  • বিশেষজ্ঞরা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য দৈনিক ৩০ গ্রাম ফাইবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। 
  • তবে ফাইবার খাওয়ার পরিমান ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে। ফাইবারের সাথে পর্যাপ্ত পরিমান পানি না খেলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই পরিমিত পরিমান পানিও গ্রহণ করা খুব জরুরী।
  • সকালে নিয়মিত ইসবগুলের ভুসি খেলেও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
  • নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করতে পারেন।

৩. মলত্যাগের সময় জোরে চাপ না দেওয়া –

মলত্যাগের সময় অতি জোরে চাপ দেওয়া বা জোর করে মল বের করার ফলে পায়ুপথে প্রচন্ড চাপ পড়ে। এতে পায়ুপথ ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। তাই জোরে চাপ দিয়ে মলত্যাগ থেকে বিরত থাকতে হবে।

৪. দীর্ঘক্ষণ বসে মলত্যাগ না করা –

অনেকে মলত্যাগকালীন সময়ে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকেন বা যথাসময়ে উঠে আসে না। এটি এনাল ফিসার রোগীর জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে মলদ্বারের উপর অধিক চাপ পড়ে। এতে মলদ্বারের চামড়া ফেঁটে যাওয়ার বা রক্ত ক্ষরণের সম্ভাবনা থাকে। 

এনাল ফিসার হলে কি কি খাবার খেতে হবে ?

  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য দ্রবণীয় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, ফলমূল, শাকসবজি পর্যাপ্ত পরিমান খেতে হবে। এ ধরণের খাবার এনাল ফিসার তথা মলদ্বারের রোগের কষ্ট  লাঘবের জন্য খুব উপযোগী। তাছাড়া এ জাতীয়  খাবার গুলো অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
  • পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমান পানি শরীরকে ডিহাইড্রেশন মুক্ত রাখে ও মলকে স্বাভাবিক রাখে। 
  • রাজমা, কড়াইশুঁটি এবং ডাল জাতীয় শস্য এনাল ফিসার রোগীদের বেশ উপযোগী খাবার। 
  • ঢেঁকিতে ছাঁটা চাল এনাল ফিসার রোগীদের জন্য খুব উপকারী, হোল গ্রেন থেকে তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাবারেও ভালো ফল পাওয়া যায়। 

এনাল ফিসার হলে কি কি খাওয়া উচিত নয় ?

  • কম ফাইবার যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষ করে রিফাইনারিতে তৈরি করা দানা শস্য থেকে এনাল ফিসারের সমস্যা বাড়ার সম্ভবনা থাকে। 
  • দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারের পরিমানে কম খাওয়া উচিত । 
  • মাংস খাওয়া এনাল ফিসার রোগীদের জন্য ভালো নয়। বিশেষ করে বাজারের প্রক্রিয়াজাত করা মাংস খেলে এনাল ফিসারের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। 
  • ধুমপান বা মদ্যপান থেকে বিরত থাকতে হবে। 

এনাল ফিসার হলে কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন ?

মলদ্বারে কোন ধরণের ক্ষত দেখা দিলে দেরী না করে সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। কারণ এই ক্ষত থেকেই কিন্তু পরবর্তীতে রোগটি জটিল আকার ধারণ করে। তবে যে পদ্ধতিতে চিকিৎসা গ্রহণ করা হোক না, কেন তা অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে নিতে হবে। একটু অসচেতনতার কারণে কোন ধরণের অপচিকিৎসার সামিল না হয়ে অবশ্য সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। 

এনাল ফিসারের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

প্রচলিত বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় এর ভালো চিকিৎসা রয়েছে। রোগীর লক্ষণ সাদৃশ্যে এ মেডিসিন গুলো ব্যবহার করা হয়। লক্ষণ অনুসারে হোমিওপ্যাথিক যে মেডিসিনগুলো প্রয়োগ করা যায় তা হল –

বেলেডোনা (Belladonna)

মলদ্বারে ফোঁড়ার সৃষ্টির পর বেদনা, মলদ্বার লাল বর্ণ, ফোঁড়া স্থানে দপদপকর বেদনা এবং হুল ফোটানো বেদনা, প্রদাহ স্থান লাল,শক্ত, পেকে উঠে এ ধরনের লক্ষণগুলোতে বেলেডোনা প্রয়োগ করা যায়। বেলেডোনা ৩x শক্তি, ২/৩ ফোঁটা পানি মিশ্রিত করে দিনে ৪ বার।  

হিপার সালফার (Hepar Sulph)

মলদ্বারের ক্ষত স্থান খুব স্পর্শকাতর, হাত দিয়ে ছোঁয়াও যায় না। আক্রান্ত স্থান থেকে পনিরের মত পূঁজ পড়ে, জ্বালাপোড়া করে, খোঁচামারা বেদনা থাকে। শুরুর দিকে এ মেডিসিন প্রয়োগ করা গেলে ক্ষত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। 

হিপার সালফার/Hepar Sulph ২x/৩x  শক্তি দিনে ৩ বার। 

সাইলিসিয়া (Silicea)

ক্ষত থেকে বেদনাহীন অধিক পরিমানে পূঁজ পড়ে। রোগের পূরাতন অবস্থা অর্থাৎ দীর্ঘদিনের ক্ষত, নালী গা শুকানোর ক্ষেত্রে এই মেডিসিন ভালো কাজ করে। 

সাইলিসিয়া/Silicea  ৩০ শক্তি, দিনে ৩ বার।  

পিওনিয়া (Paeonia)

এটি এনাল ফিসারের অতি উৎকৃষ্ট মেডিসিন। শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাতে, পায়ে, পায়ের পাতা, আংগুলে মলদ্বারে চুলকানি, জ্বালাপোড়া করে। মাথা ও পায়ে ঝনঝন শব্দ অনূভব হয়। এই ধরণের লক্ষণ গুলোতে পিওনিয়া/Paeonia প্রয়োগ করা যায়।

পিওনিয়া/Paeonia ৩/৬  শক্তি ,  দিনে ৪ বার। 

ইস্কুলাস হিপ (Aesculus Hip)

গুহ্যদ্বারে শুষ্কতা ও তাপ অনুভব এবং মনে হয় যেন কতকগুলি ছোট ছোট কাঠি মলদ্বারে আছে। মলদ্বারে জ্বালাবোধ, সুচিবিদ্ধবৎ বেদনা, মলদ্বার চুলকাইতে থাকা, এ ধরণের লক্ষণগুলোতে ইস্কুলাস হিপ প্রয়োগ করা যায়। 

ইস্কুলাস হিপ/Aesculus Hip ৩/৬ শক্তি, ২/৩ ফোঁটা পানি মিশ্রিত করে দিনে ৩ বার। 

উপরোক্ত মেডিসিন ছাড়াও আরো বেশ কিছু হোমিও ঔষধ যেগুলো লক্ষণ সাদৃশে প্রয়োগ করা যায়। তবে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শে মেডিসনগুলো গ্রহণ করতে হবে। 

এনাল ফিসার ও পাইলস-এর মধ্যে পার্থক্য কি?

পাইলসের লক্ষণ এবং এনাল ফিসারের লক্ষণ গুলো কিছু কিছু ক্ষেত্রে মিল হলেও এ দুটি আলাদা রোগ যদিও দুটি রোগে মলদ্বারে চুলকানি হতে পারে সেই সাথে তাজা রক্ত যেতে পারে। তবে পাইলসের থেকেও এনাল ফিসারে রক্ত বেশী যায়। এনাল ফিসার এবং পাইলসের মধ্যে বিশেষ পাথর্ক্য গুলো হল-

পাইলসের ক্ষেত্রে মলদ্বারে নরম বল বা গোটার মত দেখা দেয়। বলগুলো প্রায় ক্ষেত্রে মলত্যাগের সময় বের হয়ে আসে। অনেক সময় বলগুলো নিজে থেকে ঢুকে যায় আবার ক্ষেত্রবিশেষ আঙ্গুলের সাহায্যে ঢুকিয়ে দিতে হয়। এবং মলদ্বার দিয়ে পিচ্ছিল শ্লেষ্মার মতো পদার্থ বের হয়। 

এনাল ফিসারের ক্ষেত্রে সাধারণত মলত্যাগের সময় প্রচন্ড ব্যথা হয় এবং টাটকা রক্ত যেতে দেখা যায়। কিন্তু পাইলসের ক্ষেত্রে এধরণের ব্যথা থাকে না।  

কখন এনাল ফিসার রোগীর অপারেশন প্রয়োজন?

এনাল ফিসার যখন কোনো ধরণের চিকিৎসায় সারে না তখন অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে। এই রোগে অবস্থার অবনতি হলে, সাধারণত সার্জারিকে সবচেয়ে উত্তম হিসেবে গণ্য করা হয়। এ ক্ষেত্রে ৯০% রোগী স্থায়ী সুফল লাভ করে। তবে এতে অপারেশন পরবর্তী বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়ার ঝুঁকি থাকে। 

এনাল ফিসার রোগের অপারেশন গুলো খুব একটা জটিল হয় না। সাধারণত রোগী সেদিনই বাড়ী ফিরে যেতে পারে। এ রোগের বেশ কয়েক ধরণের সার্জারী রয়েছে। তার মধ্যে বহুল প্রচলিত দুটি পদ্ধতি হলো—

১. ল্যাটারাল স্ফিংকটারেকটোমি

২. অ্যাডভান্সমেন্ট অ্যানাল ফ্ল্যাপ

এনাল ফিসারের অপারেশনে খরচ কেমন ?

খরচ নির্ভর করে রোগীর রোগের ধরণ এবং চিকিৎসক ও হাসপাতালের মানের উপর। তবে বাংলাদেশে ফিসার সার্জারিতে গড়ে  ৪৫০০০ – ৬০০০০ টাকা লাগে। এর কম বেশিও হতে পারে। যদি দেশের বাইরে সার্জারী করানো হয় সেক্ষেত্রে খরচ ভিন্ন। 

এনাল ফিসারের অপারেশন পরবর্তী সমস্যাগুলো কি কি ?

মলদ্বারের সার্জারীতে ক্ষত শুকাতে শরীরের অন্যান্য স্থানের তুলনায় বেশী সময় লাগে। কয়েক সপ্তাহ এমন কি কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে। তবে নিয়মিত পরিচর্যা ও পরিষ্কার রাখলে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। 

এনাল ফিসার থেকে কি ক্যান্সার হয় ?

গেজ রোগ বা এনাল ফিসার ও পাইলসের থেকে কখনোই ক্যানসার হয় না। কিন্তু ফিস্টুলা যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে তাহলে  সেক্ষেত্রে ক্যানসার হতে পারে। সেকারণে চিকিৎসকেরা ফিস্টুলার ক্ষেত্রে ১০০ ভাগ অস্ত্রোপচারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারের সাথে অ্যাসোসিয়েটেড পাইলস থাকতে পারে। কিন্তু এনাল ফিসার বা পাইলসের সমস্যা আছে তা ক্যানসার হয়ে যাবে এটি কখনোই সঠিক নয়। 

এনাল ফিসার একবার সুস্থ হওয়ার পর কি আবার হওয়ার সম্ভবনা থাকে ?

হ্যাঁ, রোগী সুস্থ হওয়ার পরও যদি অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস গড়ে তোলে সেক্ষেত্রে এনাল ফিসার বার বার দেখা দিতে পারে। তাই এ রোগে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস ও রুটিন মাফিক জীবনযাপন অধিক সচেতনতা প্রয়োজন। 

সার্জারির পর কি আবার অ্যানাল ফিসার হতে পারে ?

হ্যাঁ, সার্জারির পর যদি রোগী অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভাসের সঠিক নিয়মকানুন মেনে না চলেন বা সঠিক যত্ন না নেন তবে আবার এনাল ফিসার দেখা দিতে পারে। তবে এক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তির হার ১০% মাত্র।

0 comments
5 FacebookTwitterPinterestEmail
পায়ুপথের রোগ

এনাল ফিস্টুলা কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

by Dr. Baby Akter 05/07/2024
written by Dr. Baby Akter

মানুষের মলদ্বারের ভেতরে কতগুলো গ্রন্থি রয়েছে কোনো কারণে সেগুলোর সংক্রমণ হলে সেই জায়গায় ফোঁড়া তৈরি হয়। এই ফোঁড়া এক সময় ফেটে গিয়ে পায়ুপথের চারিদিকের, যে কোনো স্থানের একটি নালী বা ছিদ্র তৈরি করে বের হয়ে আসে এবং পুঁজ নিঃসরণ করে। ফলে রোগীর পায়ুপথে প্রচুর ব্যথা অনূভব করে, সারাক্ষন রোগী এক যন্ত্রণাদায়ক সময় পার করে। পূঁজ বের হওয়ার পর রোগীর যন্ত্রনা কিছুটা কমতে থাকে। মলদ্বারের বা পায়ুপথের চারপাশের এ ধরণের এক বা একাধিক নালী ফোঁড়া থেকে পূঁজ আসাকে ফিস্টুলা বা ভগন্দর বলা হয়। 

এ রোগটি মূলত মলদ্বারে বিশেষ সংক্রমণের ফলে উৎপত্তি হয়। তাছাড়া মলদ্বারে ক্যান্সার এবং বৃহদান্ত্রের প্রদাহজনিত রোগসহ আরও অনেক কারণেও ফিস্টুলা বা ভগন্দর হতে পারে। সাধারনত চিকিৎসা ছাড়া এরোগ ভালো হয় না।  অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফিস্টুলা বা ভগন্দর সারাতে সার্জারীর প্রয়োজন পড়ে।  

এনাল ফিস্টুলা কি কারণে হয় ?

সাধারণত মলদ্বারের সংক্রমের ফলে সৃষ্ট ফোঁড়া থেকে ফিস্টুলা বা ভগন্দর হয়ে থাকে। এছাড়াও আরও কিছু কারণে ফিস্টুলা দেখা দিতে পারে যেমন-

এইচআইভি (এইডস)/টিবি (যক্ষ্মা): এ ধরণের রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর ফিস্টুলা দেখা দেয়ার ঝুঁকি থাকে। 

ক্রোনস ডিজিজ: এটি একধরনের অন্ত্রের রোগ (IBD) যা পরিপাক নালীতে জ্বালাপোড়া করে এবং পেট ব্যথা, ডায়রিয়া, পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়া সহ আরও বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়। 

মলদ্বারের অপারেশন: মলদ্বারের চারপাশের কোথাও সার্জারী করা হলে সেখান থেকে নতুন নালী সৃষ্টি হয়ে এনাল ফিস্টুলা দেখা দিতে পারে। 

হাইড্রাডেনাইটিস সাপুরাটিভা: এটি এক ধরণের রোগ যা শরীরের বেশী ঘাম হওয়া অংশগুলোর চামড়ার মধ্যে কিছু ফোঁড়ার সৃষ্টি হয় ও চামড়া পূরু হয়ে দাগের মত দেখায়। 

ডাইভারটিকুলাইটিস: এটি এমন একটি রোগ যা পরিপাক নালীর শেষের অর্থাৎ বৃহদান্ত্রের কিছু স্থানে থলির মত হয়ে ফুলে সংক্রামিত হয়ে পড়ে।  

এছাড়া রেডিওথেরাপি, ট্রমা, যৌনরোগ, ক্যানসার এর মত রোগের কারণেও এনাল ফিস্টুলা দেখা দিতে পারে।

আরো পড়ুন: মহিলাদের পাইলস বা অর্শ্বরোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

ফিস্টুলা বা ভগন্দরের লক্ষণ –

এনাল ফিস্টুলার লক্ষণ সমুহ

এনাল ফিস্টুলার ক্ষেত্রে বেশ কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন-

  • সাধারণত সারাক্ষণ একটি টনটনে ব্যথা থাকে যা হাঁটাচলা করলে, বসলে, কাশি দিলে অথবা পায়খানা করার সময় ব্যথা বেড়ে গিয়ে পায়ুপথের চারপাশ থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ নির্গত হয়। 
  • পায়ুপথের চতুর্দিকের ফুলে লাল হয়ে যেতে পারে এবং ফোঁড়া হলে অনেক সময় জ্বরও আসতে পারে। 
  • মলের সাথে রক্ত ও পূজ বের হয়ে থাকে।
  • রোগী মলত্যাগের ক্ষেত্রে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে অর্থাৎপায়খানার চাপ আসলে তা বুঝে উঠার আগে পায়খানা হয়ে যায় বা মলত্যাগের চাপ বেশিক্ষণ নিতে পারে না।
  • কিছু কিছু ক্ষেত্রে মলদ্বারের পাশের নালীর মত ছিদ্রটি বাইরের থেকে দেখা যায়। তবে রোগীর ক্ষেত্রে দেখা সাধারণত সম্ভব হয় না। 

এনাল ফিস্টুলা হলে করণীয় কি?

ফিস্টুলার লক্ষণগুলো দেখা দিলেই দেরী না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ হবে। ডাক্তারকে উপসর্গগুলো ভালোভাবে বুঝিয়ে বলা উচিত। চিকিৎসক সেক্ষেত্রে পায়ুপথের সমস্যার সাথে অন্ত্র বা পরিপাকনালীর অনন্যা সমস্যা আছে কিনা নিশ্চিত করে থাকেন। 

মলদ্বারের ফিস্টুলার অবস্থা জানার জন্য চিকিৎসক পায়ুপথে আলতোভাবে আঙ্গুল ঢুকিয়ে  যাচাই করতে পারে। এটিকে ডিজিটাল রেকটাল এক্সামিনেশন (DRI) বলা হয়।

এই পরীক্ষার ফলে চিকিৎসক যদি এনাল ফিসারের আশঙ্কা করেন তাহলে এনাল ফিসারের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বা কোলোরেক্টাল সার্জন এর নিকট যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আরও কিছু  টেস্ট করে থাকেন এরপর নিশ্চিত হলে ফিস্টুলার সঠিক চিকিৎসা অথবা অস্ত্রোপচারের ব্যাবস্থা গ্রহণ করেন। 

এক্ষেত্রে যে টেস্ট বা পরীক্ষা নিরীক্ষা গুলো করা হয়ে থাকে তা হল –

  •  মলদ্বারে আঙ্গুল ঢুকিয়ে DRI করা হয় । 
  • প্রোক্টোস্কোপি করে থাকে যা পায়ুপথে নলের মত একটি বিশেষ যন্ত্র প্রবেশ করানো হয়। এই যন্ত্রের সাহায্যে এনাল ফিস্টুলার নালী আছে কিনা তা ভালোভাবে দেখে নিশ্চিত করা হয়।
  • এছাড়া এমআরআই, আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান, সিটি স্ক্যান এর মত পরীক্ষাও করা হতে পারে।
আরো পড়ুন: এনাল ফিসার কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

এনাল ফিস্টুলার চিকিৎসা-

ফিস্টুলা রোগীর জন্য প্রায় সব সময়ই সার্জারীর প্রয়োজন পড়ে। কারণ এ রোগ মেডিসিন দিয়ে কিছুটা সুস্থ হলেও অপারেশন ছাড়া কখনোই পুরোপুরি ভালো হয় না। এক্ষেত্রে যে সব সার্জারী গুলো করা হয়ে থাকে তা হল –

ফিস্টুলোটোমি: এটির মাধ্যমে মলদ্বারের নালী বা ছিদ্রের রাস্তাটি কেটে পূঁজ বের করে পরিষ্কার করা হয়। তারপর প্রয়োজন অনুসারে সেলাই অথবা সেলাই না করেও শুকাতে দেয়া হয়। সঠিকভাবে শুকিয়ে গেলে স্থানটি আগের মত স্বাভাবিক হয়ে যায়। 

সেটন পদ্ধতি: এই সেটন পদ্ধতিতে কয়েক সপ্তাহ মলদ্বারের ফিস্টুলার ভেতরে সেটন নামক বিশেষ এক ধরণের সুতা প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয়। সুতাগুলো ফিস্টুলা পুঁজগুলো শুষে নিয়ে স্থানটি শুকাতে সাহায্য করে। এভাবে সেটন পদ্ধতির মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ধাপে ফিস্টুলা সম্পর্ণরূপে সুস্থ করে তোলা হয়। 

অ্যাডভান্সমেন্ট এনাল ফ্ল্যাপ: এটির মাধ্যমে শরীরের অন্য যে কোন অংশ থেকে বিশেষ করে পায়ুপথের শেষ অংশ থেকে অল্প মাংস বা টিস্যু নিয়ে ফিস্টুলার রাস্তাটিতে এড করে দেয়া হয়। এ পদ্ধতিতে নতুন টিস্যু যোগ করার ফলে ফিস্টুলার অংশটিতে রক্ত চলাচল বেড়ে গিয়ে ফোঁড়া দ্রুত শুকিয়ে যায়। এর ফলে ফিস্টুলার পুরো অংশটি আর কেটে ফেলতে হয় না। 

‘লিফট’ পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে পায়ুপথের পেশিগুলো না কেটে শুধুমাত্র ফিস্টুলাটি সরিয়ে ফেলা হয়। 

এই পদ্ধতিগুলো ছাড়াও  বর্তমানে ফাইব্রিন গ্লু , লেজার এ ধরণের পদ্ধতিও ফিস্টুলার নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়। 

সাধারণত ফিস্টুলার সার্জারীর ক্ষেত্রে একদিনেই রোগী বাড়ী চলে যেতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে অপারেশনের পর কয়েকদিন হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন হতে পারে। ফিস্টুলার সার্জারীর প্রায় সবগুলো পদ্ধতিতে কিছু সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে। চিকিৎসক রোগীর জন্য সার্বিকভাবে উপযুক্ত পদ্ধতিটি গ্রহণ করে থাকেন। 

ফিস্টুলা সার্জারীর পর সাধারণত  যে ধরণের সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে –

ইনফেকশন: ফিস্টুলা সার্জারীর পর ইনফেকশন হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক খেলে তা সেরে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে হাসপাতালে থেকে চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। 

পায়খানার চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা: প্রায় সব ধরণের ফিস্টুলার চিকিৎসায় এ সমস্যাটি হতে পারে। তবে তা বেশিদিন স্থায়ী হয় না। নিজে থেকেই এ সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। 

ফিস্টুলা পুনরায় ফিরে আসা: সার্জারী করে নিরাময় করার পরও একই স্থানে আবার ফিস্টুলা হতে পারে। 

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
পায়ুপথের রোগ

পুরুষের পাইলসের কারণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা

by Dr. Baby Akter 26/12/2023
written by Dr. Baby Akter

পাইলস এর সমস্যায় মলদ্বারের ভিতরে বাইরের শিরাগুলিতে ফোলা, ব্যথা, চুলকানি এবং রক্তপাতের সৃষ্টি করে যা রোগীকে প্রচন্ড অস্বস্থি এবং যন্ত্রণার মধ্যে রাখে। এটি যে কোন পুরুষের হতে পারে, তবে ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।

যথা সময়ে  চিকিৎসা করা না হয় তবে অবস্থার অবনতি হতে পারে  ফোলা ,ব্যথা বৃদ্ধি পেয়ে আক্রান্ত স্থান থেকে রক্তপাতের সৃষ্টি করে মারাত্নক আকার ধারণ করতে পারে।

প্রচলিত বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতিতে পাইলসের চিকিৎসা করা যায় তবে সবচেয়ে উত্তম এবং নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা পদ্ধতি হল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি। অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের মাধ্যমে যদি রোগের সঠিক চিকিৎসা করানো যায় তবে পাইলসের স্থায়ী নিরাময় সম্ভব

পুরুষদের দুই ধরনের পাইলস বা অর্শ্বরোগ হয়ে থাকে অভ্যন্তরীণ পাইলস এবং বাহ্যিক পাইলস

অভ্যন্তরীণ পাইলস (Internal Hemorrhoids)

অভ্যন্তরীণ পাইলস/হেমোরয়েড মলদ্বারের ভিতরে হয়ে থাকে এবং ব্যথা ছাড়াই রক্তপাত হতে পারে। মলত্যাগের সময় আক্রান্ত স্থান মলদ্বার থেকে বেরিয়ে আসে ফলে অস্বস্তি বা প্রচন্ড জ্বালা সৃষ্টি করে।

বহিরাগত হেমোরয়েড (External Hemorrhoids)

বহিরাগত হেমোরয়েড মলদ্বারের বাইরে তীব্র ব্যথা, চুলকানি এবং অস্বস্তি সৃষ্টি করে। এতে অনেক ক্ষেত্রে মলত্যাগের সময রক্তপাতও হয়ে থাকে।

পুরুষের একই সাথে অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক উভয় ধরণের পাইলস বা হেমোরয়েড হতে পারে। এই কারণে পাইলসের  মারাত্নক আকার ধারণ করার আগে অধিক সতর্কতা প্রয়োজন। যেহেতু পাইলসের ধরণভেদে চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই পাইলসের সমস্যা অনূভব করলে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পুরুষদের পাইলসের লক্ষণ

সাধারণত, পুরুষদের পাইলস কিছুক্ষেত্রে গুরুতর আবার কিছুক্ষেত্রে নরমাল হয়ে থাকে। যেমন-

  • মলদ্বারে শিরাগুলি ফুলে যাওয়া চুলকানি এবং জ্বালাপোড়া।
  • হেমোরয়েডের শিরা ফেটে যাওয়ার ফলে মলদ্বারে ব্যথার সাথে মলত্যাগের সময় বা পরে রক্তপাত হতে পারে।
  • পাইলসের শিরাগুলির বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মলদ্বারের চারপাশে পিণ্ড বা ফোলা হতে পারে।
  • হেমোরয়েডের বা পাইলসের কারণে অসম্পূর্ণ মলত্যাগের অনুভূতি হতে পারে, যা মলের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধা সৃষ্টি করে।
  • মলদ্বার ও মলদ্বারের ফোলা শিরায় চাপের কারণে বসতে অস্বস্তি হতে পারে।
আরো পড়ুন: এনাল ফিসার কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

পুরুষদের পাইলসের কারণ

পুরুষদের পাইলসের সমস্যা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। কিন্তু মলদ্বারের রক্তনালী ও টিস্যুতে চাপ পড়লে হেমোরয়েড বা পাইলস সমস্যা সৃষ্টি হয়ে থাকে। যেমন-

কম ফাইবারযুক্ত খাদ্যাভাস : কম ফাইবারযুক্ত খাদ্য খাওয়ার ফলে মলকে শক্ত করে এবং মলত্যাগের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে মলত্যাগের সময় বেশি চাপ পড়ে। এতে মলদ্বার এবং মলদ্বারের শিরাগুলির উপর চাপ বাড়ায়।

মলত্যাগের সময় স্ট্রেনিং/চাপ : মলত্যাগের সময় খুব জোরে ধাক্কা দিলে মলদ্বার এবং মলদ্বারের শিরাগুলিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যার ফলে হেমোরয়েড এর সমস্যা সৃষ্টি হয়।

দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা : অনেক সময় বসে থাকা, বিশেষ করে শক্ত জায়গায়, পাইলস এর সমস্যা একটি অন্যতম কারণ।

ভারী জিনিস তোলা : যে সব পুরুষ নিয়মিত ভারী জিনিস তোলেন তাদেরও পাইলস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কারণ ভারী জিনিস তোলার স্ট্রেনের ফলে মলদ্বারের শিরা স্ফীত হয়ে উঠে।

বার্ধক্য : বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের টিস্যুগুলি দুর্বল হয়ে যায়, যার মধ্যে রয়েছে মলদ্বার এবং মলদ্বারের টিস্যু, যার ফলে মলদ্বারে পাইলস রোগের সৃষ্টি হয়।

পুরুষদের পাইলস বা অর্শ্বরোগ নির্ণয়

সাধারণত, একজন পুরুষ লক্ষণগুলির উপর ভিত্তি করে সহজেই সনাক্ত করতে পারেন পাইলস আছে কি না তা। যেমন মলদ্বারে ফোলা, রক্তপাত, ব্যথা এবং অস্বস্তি।

যদি এই লক্ষণগুলি বৃদ্ধি পায় তবে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত। পাইলস নির্ণয়ের জন্য ডাক্তার সাধারণত নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলি করবেন:

ডিজিটাল রেকটাল পরীক্ষা (Digital rectal examination) : 

রোগের তীব্রতা বোঝার জন্য ডাক্তার গ্লাভস পরে আঙুল ঢুকিয়ে লুব্রিকেট করবেন। তারপর, মলদ্বারের ভিতরে আঙুল ঢুকিয়ে ডিজিটাল রেকটাল পরীক্ষা করে থাকেন ।

অ্যানোস্কোপি(Anoscopy) :

মলদ্বারে পরীক্ষা করার জন্য একটি ছোট ক্যামেরা(অ্যানোস্কোপ) মলদ্বারে প্রবেশ করানো হয়।

কোলনোস্কোপি(Colonoscopy) : 

অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, লাল বা ফোলা টিস্যু, ঘা (আলসার) বা রক্তপাত পরীক্ষা করার জন্য কোলোনোস্কোপ করানো হয় (এটি দীর্ঘ, নমনীয়, আলোকিত টিউব)। ব্যবহার করে সম্পূর্ণ অন্ত্র পরীক্ষা করেন।

সিগমায়েডোস্কোপি (Sigmoidoscopy) :

এটি কোলন(Part of the colon) এবং মলদ্বারের নীচের অংশ(Lower part of the rectum) পরীক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়।

আরো পড়ুন: এনাল ফিস্টুলা কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

পুরুষদের পাইলসের কিছু ঘরোয়া প্রতিকার

পাইলস নিয়ন্ত্রণের কার্যকরী কৌশল হল ঘরোয়া প্রতিকার বা প্রাকৃতিক প্রতিকার। যা আপনি আপনার বাড়িতে সুবিধামত ব্যবহার করতে পারেন। যেমন –

সিটজ বাথ (Sitz Bath): 

এটি একটি থেরাপিউটিক কৌশল যেখানে একটি উষ্ণ/হালকা গরম পানিতে গোসলে শুয়ে থাকা যায়। এতে পেলভিক (pelvic area) এলাকায় চুলকানি এবং জ্বালা কমাতে সাহায্য করে। সিটজ স্নানে সোডিয়াম বাইকার্বোনেট বা ইপসম লবণ যোগ করলে অতিরিক্ত আরাম  পাওয়া যেতে পারে।

আইস প্যাক (Ice Pack): 

গুরুতর এবং বেদনাদায়ক পাইলস আরাম করতে, ফোলাভাব কমাতে ১০থেকে ১৫ মিনিটের জন্য আক্রান্ত স্থানে একটি বরফের প্যাক ব্যবহার করুন, তবে কোনও ক্ষতি এড়াতে এটি ত্বকে লাগানোর আগে এটি কাপড়ে মুড়ে নিন।

উইচ হ্যাজেল(Witch hazel):  

একটি তুলোর বলে অল্প পরিমাণে জাদুকরী হ্যাজেল নিয়ে  সরাসরি হেমোরয়েডের বা পাইলসের আক্রান্ত স্থানে উপর প্রয়োগ করতে পারেন। দিনে কয়েকবার আলতোভাবে আক্রান্ত স্থানে লাগান, বিশেষ করে মলত্যাগের পরে। এতে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া কমে যাবে।

অ্যালোভেরা তেল:

প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি পাইলসের চুলকানি এবং জ্বালাপোড়া কমায়। শুধু আক্রান্ত স্থানে অল্প পরিমাণে ঘৃতকুমারী তেল লাগান এবং আলতো করে ম্যাসাজ করুন।

নারকেল তেল:

এটি অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যের কারণে পাইলসের সমস্যা সমাধানে খুব কার্যকর। নারকেল তেলে খাবার রান্নাও করতে পারেন। এতে থাকা উপস্থিত উপাদানসমূহ হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

পুরুষদের পাইলস নিয়ন্ত্রণে খাদ্যভাসের পরিবর্তন করুন

পাইলস এর সমস্যা সমাধানে খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত জরুরী। তাই একজন পাইলসে আক্রন্ত রোগীর খাদ্যভাসের বিষয়ে অধিক সচতেন হতে হবে। যেমন-

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার:

উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া মলকে নরম করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে, যা হেমোরয়েড বা পাইলসকে নিরাময়ে সহায়তা করে। এই ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে গোটা শস্য, লেবু, ফল, শাকসবজি, বাদাম, বীজ এবং তুষ।

ভিটামিন সি:

এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে, প্রদাহ/ফোলা কমাতে পারে এবং রক্তনালীগুলিকে শক্তিশালী করতে পারে। ফলে, তা হেমোরয়েড বা পাইলস সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার, যেমন সাইট্রাস ফল, বেল মরিচ এবং ব্রকলি।

ফ্ল্যাভোনয়েডস(Flavonoids): 

ফ্ল্যাভোনয়েড সমৃদ্ধ খাবারে উদ্ভিদ যৌগ রয়েছে যা প্রদাহ কমাতে পারে এবং রক্তনালীগুলিকে শক্তিশালী করতে পারে, পাইলসের উপসর্গগুলি দূর করে। এই জাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে- সাইট্রাস ফল, বেরি এবং ডার্ক চকোলেট ।

প্রোবায়োটিকস(Probiotics):

খাদ্য তালিকায় দই অন্তর্ভুক্ত করুন। এটিতে ভাল ব্যাকটেরিয়া রয়েছে যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে এবং অন্ত্রের কার্যকলাপ  নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পাইলসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

পাইলসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে লাইফস্টাইলের পরিবর্তন করুন

লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে হেমোরয়েডের বা পাইলসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। এর মাধ্যমে সার্জারী  বা অস্ত্রোপচার ছাড়াই পাইলস বা অর্শ্বরোগের সমস্যা কার্যকরভাবে স্থায়ী নিরাময় করা যায়। যে পরিবর্তন করা জরুরী –

নিজেকে হাইড্রেটেড রাখুন:

পাইলসের সমস্যায় মলকে নরম করতে এবং হজমে সহায়তা করার জন্য হাইড্রেটেড থাকা খুব জরুরী, মল স্বাভাবিক ও নরম হওয়ার ফলে মলদ্বারের শিরাগুলির উপর চাপ এবং স্ট্রেন কমায়৷ এতে পাইলসের লক্ষণগুলো দ্রুত উপশম হয় এবং নিরাময় সম্ভব হয়। 

ব্যায়াম:

নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের রক্ত প্রবাহ সচল করে। এর ফলে মলদ্বারের শিরাগুলি সবল থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর করে, যা পাইলসের নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

রেড মিট সীমিত করুন:

লাল মাংস সহজে হজম হয় না এর ফলে পাইলসের সমস্যা বৃদ্ধি পায়, তাই এর পরিবর্তে অন্যান্য ধরণের প্রোটিন যেমন মুরগি, মাছ বা মটরশুটি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন:

হেমোরয়েডের বা পাইলসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতে প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলি এড়িয়ে চলতে হবে কারণ এতে উচ্চ মাত্রায় অস্বাস্থ্যকর চর্বি, লবণ এবং চিনি থাকে, যা প্রদাহ, হজমের সমস্যা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

আরো পড়ুন: মহিলাদের পাইলস বা অর্শ্বরোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

পাইলসের নন-সার্জিক্যাল( Non-surgical treatment ) চিকিৎসা

যদি ঘরোয়া প্রতিকার এবং মেডিসিনেও পাইলসের কোন সমাধান পাওয়া না যায়, তবে নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসা বিবেচনা করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে:

রাবার ব্যান্ড লিগেশন(Rubber band ligation) :

এই পদ্ধতিতে হেমোরয়েডের চারপাশে একটি রাবার ব্যান্ড স্থাপন করা হয়, যার ফলে টিস্যুগুলো মারা যায়। এর ফলে পাইলস নিরাময় হয়।

স্ক্লেরোথেরাপি(Sclerotherapy) :

স্ক্লেরোসেন্ট নামক একটি তরল উপাদান মলদ্বারে মধ্যে প্রবেশ করানো হয়, যা রক্তের সরবরাহ কমিয়ে দেয় এবং পাইলসকে সংকুচিত করে।

ইলেক্ট্রোথেরাপি(Electrotherapy): 

ইলেক্ট্রোথেরাপি(Electrotherapy) হল পাইলসকে সংকুচিত করতে একটি বৈদ্যুতিক প্রবাহ ব্যবহার করা হয়। 

ইনফ্রারেড জমাট বাঁধা :

এই পদ্ধতিটি স্ক্লেরোথেরাপির মতো পাইলস সংকুচিত করতে ইনফ্রারেড আলো ব্যবহার করে।

পুরুষদের পাইলস এর সার্জিক্যাল চিকিৎসা

যদি হেমোরয়েডের জন্য নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসা কাজ না করে, তাহলে অস্ত্রোপচারের সুপারিশ করা যায়। হেমোরয়েডের বা পাইলস চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের পদ্ধতি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

হেমোরয়েডেক্টমি (Hemorrhoidectomy) :

এটির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক হেমোরয়েডগুলিকে সরিয়ে দেয়া হয়। এর ফলে পাইলস এর অনেকটা স্থায়ী সমাধান করা যায়। 

স্ট্যাপলড হেমোরয়েডেক্টমি(Stapled Hemorrhoidectomy) : 

স্ট্যাপলিং এমন একটি যন্ত্র যা অভ্যন্তরীণ মলদ্বারে হেমোরয়েডগুলিকে সম্পূর্ণরূপে অপসারণ করে পাইলস এর নিরাময় করে। 

হেমোরয়েডাল আর্টারি লিগেশন (Hemorrhoidal artery ligation) : 

এটি দ্বারা ন্যূনতম আক্রমণাত্মক পদ্ধতিতে হেমোরয়েডের রক্ত ​​সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে সেগুলি সংকুচিত হয় এবং আক্ৰান্ত স্থান নিরাময় হয়ে যায়।

লেজার সার্জারি (Laser surgery) :

এতে হেমোরয়েডগুলিতে রক্ত ​​সরবরাহ বন্ধ করার জন্য একটি লেজার ব্যবহার করা হয়, যার ফলে সেগুলি সংকুচিত হয়। ফলে পাইলসের কার্যকর সমাধান সম্ভব হয়।

পুরুষদের পাইলসের সমস্যায় হোমিওপ্যাথি

প্রচলিত বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতিতে পাইলসের চিকিৎসা করা যায় তবে সবচেয়ে উত্তম এবং নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা পদ্ধতি হল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি। অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের মাধ্যমে যদি রোগের সঠিক চিকিৎসা করা যায় তবে পাইলসের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। পাইলসের লক্ষণভেদে যে মেডিসিনগুলো বিবেচনা করা যায় তা হল :

অ্যালো সোকোট্রিনা (Aloe socotrina ): যখন পাইলস মলদ্বারের বাইরে ছোট বলের আকারে থাকে তখন এটি ব্যবহার করা যায়।  অ্যালো সোকোট্রিনা বিরক্তিকর অন্ত্র বা আলসারেটিভ কোলাইটিসের সমস্যাও সমাধান করে। মলদ্বারে এবং শ্রোণী অঞ্চলে ঘা ব্যথা নিরাময়েও দারুণ কাজ করে। মলত্যাগের সময় জ্বালাপোড়ায় এই মেডিসিন ভালো কাজ করে। 

নাক্স ভমিকা (Nux Vomica): কারো যদি পাইলসের সাথে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে তাহলে Nux Vomica ভালো কাজ দেয়। অলস, অগোছালো, আরামপ্রিয় জীবনযাপন, দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা এবং অতিরিক্ত মশলাদার খাবার, ফাস্টফুড, অ্যালকোহল পান করা এই ধরণের জীবনাচরণে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে সৃষ্ট পাইলসের চিকিৎসায় নাক্স ভমিকা (Nux Vomica) খুব কার্যকরী।

হ্যামেলিস (Hamelis): মলত্যাগের সময় রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে হ্যামেলিস(Hamelis) ব্যবহৃত হয়। মলদ্বারে ব্যথাও এই ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এটি শিরায় রক্ত সঞ্চালন সবল করে পাইলসের নিয়ন্ত্রণে দারুণ ভূমিকা রাখে।

রতনহিয়া (Ratanhiya): প্রচণ্ড ব্যথার এবং রোগীর মলদ্বারে ছুরির মতো ভিতরে খোঁচা দেওয়া হয় অনুভূতি হয় , এই লক্ষণে এই মেডিসিন ভালো কাজ করে।

ইস্কিউলাস (Aesculus): যদি কোন রোগীর অর্শ্বরোগ সহ পিঠে ব্যথা থাকে তবে হোমিওপ্যাথিতে এটি খুব কার্যকরী ওষুধ।

ইগ্নেশিয়া (Ignatia): পাইলসের সাথে খিঁচুনি এবং মলদ্বারে ছুরিকাঘাতের ব্যথা এই রকম লক্ষণ থাকলে পাইলসের চিকিৎসায় এটি দারুণ কাজ করে।

গ্রাফাইটিস (Graphites): এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের পাশাপাশি পাইলসের জন্য উপযুক্ত ওষুধ। এতে রোগীর মল শক্ত, গিঁটযুক্ত এবং শ্লেষ্মা-ভরা মল থাকে। স্থুলতা, চর্ম ফাটা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে এমন রোগীদের জন্য এটি প্রধান ওষুধ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।

সালফার (Sulphur): এটি অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক অর্শ্বরোগের প্রধান লক্ষণগুলি উপশমে উত্তম কাজ করে যার মধ্যে রয়েছে মলদ্বারে চুলকানি, ফোলাভাব এবং ব্যথা।

ক্যালকেরিয়া (Calcarea): পায়ু অঞ্চলে পিঠে ব্যথা, চুলকানি এবং রক্তপাত সহ পাইলসের চিকিৎসায় খুব কার্যকরী। অভ্যন্তরীণ অর্শ্বরোগ যা স্যাক্রামে (Sacrum) ব্যথা সৃষ্টি করে এই ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যায়।

কস্টিকাম (Causticum): এটি পাইলসের চরম অবস্থায় চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয় যেখানে ব্যক্তি স্পর্শ সহ্য করতে পারে না।  

মিউরিয়াটিক অ্যাসিড (Muriatic Acid): মিউরিয়াটিক অ্যাসিড (Muriatic Acid) বড়, ফোলা, কালশিটে বা নীল হেমোরয়েডের বা পাইলসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

পুরুষদের পাইলস বা অর্শ্বরোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার

যেহেতু মানুষের জীবনাচরণ ও খাদ্যাভাসের উপর পাইলসের সমস্যা অনেকাংশে নির্ভর করে তাই পাইলস রোগের ক্ষেত্রে রোগ প্রতিকার ও প্রতিরোধের বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। পাইলস প্রতিরোধে যা যা করবেন –

উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাবার: 

ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য অন্ত্র ভালো রাখে ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, যা মলদ্বার এবং মলদ্বারের শিরাগুলির উপর চাপ কমায়। ফলে এটি সহজে পাইলস নিয়ন্ত্রণে রাখে।  

ওজন নিয়ন্ত্রণ: 

ডায়েট এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে পরিমিত ওজন বজায় রাখা মলদ্বার এবং মলদ্বারের শিরাগুলির উপর চাপ কমাতে সাহায্য করে যা পাইলসের ঝুঁকি কমায়।

ব্যায়াম: 

নিয়মিত ব্যায়াম কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে এবং রক্তের প্রবাহকে সবল করে, পাইলস নিয়ন্ত্রণে থাকে ।

মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া: 

মলত্যাগের সময় স্ট্রেন বা চাপ মলদ্বার এবং মলদ্বারের শিরাগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে হেমোরয়েড হতে পারে। মলত্যাগের সময় স্ট্রেন বা চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

ভারী জিনিস তোলা এড়িয়ে চলুন:

ভারী জিনিস তোলার ফলে মলদ্বার এবং মলদ্বারের শিরাগুলিকে প্রচুর চাপ সৃষ্টি করে, যার থেকে পাইলসের সমস্যা সৃষ্টি হয়। সঠিক উত্তোলন কৌশলগুলি ব্যবহার করা এবং খুব ভারী জিনিসগুলি উত্তোলন এড়ানো উচিত।

পানি পান করা:

পানি খাদ্য হজমে সহায়তা করে এবং শরীরকে হাইড্রেট রাখে যা পাইলস নিয়ন্ত্রণের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিমিত পরিমান পানি পান করা করতে হবে। 

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
মহিলাদের পাইলস বা অর্শ্বরোগ
পায়ুপথের রোগ

মহিলাদের পাইলস বা অর্শ্বরোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

by Dr. Baby Akter 20/12/2023
written by Dr. Baby Akter

পাইলস বা অর্শ্বরোগে মলদ্বার বা মলদ্বারের নীচের অংশের রক্তনালীগুলি ও পায়ূ টিস্যুগুলির উপর কোন কারণে জটিলতা সৃষ্টি হলে মলদ্বার অঞ্চলের চারপাশে চাপ বৃদ্ধি পায় ফলে তা প্রসারিত হয়ে ফুলে যায় এতে মলদ্বারে ব্যথা, চুলকানি, রক্তপাত এবং জ্বালা সৃষ্টি করে। এতে রোগী অধিক যন্ত্রনা ও অস্বস্তি অনুভব করে। 

প্রতিটি ব্যক্তির মধ্যে পাইলসের বা অর্শ্বরোগের সম্ভাবনা রয়েছে তা অবস্থার তীব্রতার উপর নির্ণয় করা হয়। তবে গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে পেলভিক রক্ত ​​প্রবাহ এবং চাপের কারণে অস্বস্তি, চুলকানি, ব্যথার জটিলতা বাড়তে পারে। সাধারণত গর্ভবতী মহিলাদের পাইলসের সমস্যা বেশি দেখা দিলেও ৪০ ঊর্ধ্বে মহিলাদের পাইলসের জটিলতা বেশী দেখা যায়। তাই মহিলাদের পাইলসের সমস্যার ক্ষেত্রে সচেতনতা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। 

যেহেতু দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্রনিক ডায়রিয়া এবং মলদ্বারে অতিরিক্ত চাপ পাইলসের অন্যতম কারণ। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভাসের পরিবর্তন আনা পাইলস নিয়ন্ত্রণের প্রথম শর্ত

মহিলাদের পাইলসের সমস্যা বা পাইলস রোগ দুই ধরণের হয় থাকে:

  • ইন্টারনাল পাইলস (Internal Hemorrhoids)
  • এক্সটার্নাল পাইলস (External Hemorrhoids)

মহিলাদের ইন্টারনাল পাইলস (Internal Hemorrhoids)

ভিতরের পাইলস (Internal hemorrhoids) এর ক্ষেত্রে লক্ষণ বা হেমোরয়েডগুলি মলদ্বারের মধ্যে থাকে সাধারণত দেখা যায় না। প্রায়শই ব্যথাহীন হয়, তবে মলত্যাগের সময় স্ট্রেন, রক্তপাত এবং জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে। 

মহিলাদের এক্সটার্নাল পাইলস (External Hemorrhoids)

মলদ্বারের বাইরের সমস্যাগুলোকে এক্সটার্নাল পাইলস বলা হয়। মলদ্বারের বাইরে অবস্থিত শিরাগুলির উপর চাপ সৃষ্টির ফলে শিরা ফুলে যাওয়া, রক্তপাত, ফাটল এবং চুলকানি হতে পারে। অনেক সময় রক্ত ​​জমাটও বাঁধতে পারে। এই বাহ্যিক হেমোরয়েডগুলি তীব্র ব্যথা, অস্বস্তি এবং ফোলাভাব সৃষ্টি করে যার কারণে এক্সটার্নাল বা বাইরের পাইলস অধিক যন্ত্রণাদায়ক হয়।  

মহিলাদের পাইলস বা আর্শ্বরোগের বিভিন্ন উপসর্গ অনুযায়ী  চারটি আলাদা (grades)গ্রেডে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে :

Grade 1

এই ধরনের পাইলস বা অর্শ্বরোগ মলদ্বারের ভিতরে থাকে। এগুলি সাধারণত ছোট হয় এবং কম ব্যথা বা প্রদাহ সৃষ্টি করে, প্রায়শই ব্যথাহীন থাকে। মহিলাদের মধ্যে এই ধরনের পাইলসের উপসর্গগুলিতে মলত্যাগের পরে সামান্য পরিমাণে রক্ত ​​দেখা যেতে পারে।

Grade 2

এটি গ্রেড 1-এর তুলনায় ফোলা বেশি প্রকট হয়ে থেকে পায়ুপথ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মলত্যাগের সময়, ফোলাটি বাইরের দিকে বেরিয়ে আসে যদিও তা মলত্যাগের পর ঢুকে যায়। 

Grade 3

এই গ্রেডে মলদ্বারের ভিতরে ফুলে যায়, যা মলত্যাগের সময় বাইরে চলে আসে দেখতে অনেকটা মাংস পিণ্ড এর মত হয়। এবং এটি  মলত্যাগের আঙ্গুলের ডগা ব্যবহার করে ভিতরে ঢুকিয়ে দিতে হয় বা ম্যানুয়াল রিপজিশনিং প্রয়োজন হয়। 

Grade 4

এই গ্রেডে পাইলসের সমস্যা সবচেয়ে ক্ষতিকর পর্যায়ে থাকে। যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাইরের দিকে ফুলে যায় এবং মলদ্বার থেকে বেরিয়ে আসে। এই অবস্থার সাথে রক্তপাত হতে পারে বা নাও হতে পারে এবং যদি জমাট বাঁধা হয় বা পায়ুপথে পাইলস বা অর্শ্বরোগ সংকুচিত হয়ে যায় তাহলে ব্যথা হতে পারে।

প্রল্যাপস পাইলস (Prolapse piles)

প্রল্যাপস পাইলস এর ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক হেমোরয়েডগুলি ফুলে গিয়ে মলদ্বারের বাইরে বেরিয়ে আসে। এর ফলে রোগীর প্রচন্ড অস্বস্তি হয় এবং রক্তপাতও হয়ে থাকে। 

মহিলাদের পাইলসের বা আর্শ্বরোগের লক্ষণসমূহ –

সাধারণত ৪০% পাইলসের রোগী কোন ব্যথাহীন এবং উপসর্গহীন অবস্থায় থাকে, আর বাকি ৬০% মহিলাদের মধ্যে পাইলসের বিভিন্ন লক্ষণ গুলো দেখা যায় যেমন –

  • মলদ্বারে ব্যথা, প্রদাহ, চুলকানি এবং অস্বস্তি।
  • মলদ্বারে ক্রমাগত পিণ্ডের মতো ফোলাভাব।
  • রক্তের মিশ্ৰিত মলত্যাগ করা।

মহিলাদের মধ্যে পাইলসের এই প্রাথমিক উপসর্গগুলি তুলনামূলকভাবে হালকা হয় তবে প্রাথমিক অবস্থা থেকে একজন ডাক্তারের পরামর্শে অনুসারে চিকিৎসা শুরু করা উচিত। অবস্থার অবনতি হলে লক্ষণগুলি তীব্র হতে পারে যেমনঃ 

  • মলদ্বারের চারপাশে সর্বদা ব্যথা, বসতে খুব অস্বস্তি লাগে।
  • মলত্যাগের সময় উজ্জ্বল লাল রক্ত বের হয়।
  • মলদ্বার ভিতরে এবং বাইরে মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি থাকে।
  • শ্লেষ্মা স্রাব, অন্তর্বাসে দাগ দেখা যায়।
  • টয়লেট ব্যবহারের পরেও মলত্যাগের প্রয়োজন অনুভব হয়।

মহিলাদের পাইলসের বা আর্শ্বরোগের  কারণ:

গর্ভাবস্থায়:

গর্ভাবস্থায় মহিলাদের মধ্যে পাইলস সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, যখন গর্ভের শিশু ৩৬ সপ্তাহের কাছাকাছি শ্রোণী গহ্বরে (Pelvic Cavity) নেমে আসে, তখন পেলভিক এলাকায় চাপ সৃষ্টি করে। এই চাপ মলদ্বার এবং মলদ্বার রক্তনালীগুলির বৃদ্ধি করে, যা আস্তে আস্তে পাইলসের সমস্যা সৃষ্টি করে। অনেক ক্ষেত্রে প্রসবের পরে তা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে যায়।

কোষ্ঠকাঠিন্য এবং খাদ্যাভাস: 

হরমোনের পরিবর্তনের কারণে গর্ভবতী মহিলারা কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত হন। খাদ্যাভাস, অপর্যাপ্ত ফাইবার, কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা মলদ্বারে চাপ সৃষ্টি করে এবং ফলে পাইলস রোগ সৃষ্টি হতে শুরু করে ।

দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা: 

পুরুষ এবং মহিলা উভয়েই কাজের প্রয়োজনে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করেন। এতে নিতম্বের অংশে  (Hip Area) চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে গ্লুটিয়াল পেশীগুলি (Gluteal Muscles) ছড়িয়ে পড়ে মলদ্বার এবং মলদ্বারের চারপাশে ছোট শিরাগুলি বড় হয়ে বেদনাদায়ক ফোলা তৈরি করে। এর থেকে পাইলসের সমস্যা সৃষ্টি হয়।

ভারী  উত্তোলন:

দৈনন্দিন জীবনে যদি নিয়মিত ভারী কিছু উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত থাকে তাহলে মলদ্বারের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে যার ফলে মলদ্বারের পেশী দুর্বল হয়ে পাইলসের জটিলতা তৈরী করে। 

বার্ধক্যজনিত কারণ:

৫০ বছরের বেশি বয়সী মহিলাদের মধ্যে বার্ধক্যজনিত কারণে পাইলস বা হেমোরয়েড এর সমস্যা বেশি দেখা যায়। দীর্ঘদিনের খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্য অচসেতনতা, অন্যান্য রোগের জটিলতা থেকে বার্ধক্যজনিত পাইলসের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। 

মহিলাদের পাইলস রোগ নির্ণয়-

সাধারণত মহিলাদের পাইলস রোগ নির্ণয় করার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উপর বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিৎ- 

  • রোগীর পাইলসের পারিবারিক ইতিহাস
  • মলের সাথে রক্ত বা শ্লেষ্মা উপস্থিতি থাকে কিনা। 
  • সাম্প্রতিক সময়ে রোগীর ওজন হ্রাস পাচ্ছে কিনা। 
  • মলত্যাগে পরিবর্তন হয় কিনা। 

চিকিৎসকরা, অভ্যন্তরীণ (Internal Hemorrhoids) পাইলসের জন্য, একটি ডিজিটাল রেকটাল পরীক্ষা (DRE) বা একটি প্রক্টোস্কোপ ব্যবহার থাকেন। তবে প্রয়োজন অনুসারে, মলদ্বারের ভিতর থেকে টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে থাকেন। এই ক্ষেত্রে পাইলসের লক্ষণ ও উপসর্গ পাচনতন্ত্রের (Digestive System) সমস্যা বা কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি রয়েছে কিনা সেটিও নির্ণয় করা যায়। 

মহিলাদের পাইলস রোগের চিকিৎসা –

মহিলাদের মধ্যে পাইলসের বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। তবে পাইলসের বেশ কিছু সমস্যা লাইফস্টাইল এবং খাদ্যাভাস পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাধান করা যায়। 

যেহেতু মলত্যাগের সময় কোষ্ঠকাঠিন্য এবং স্ট্রেনিং পাইলসের অন্যতম কারণ। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনধারায় পরিবর্তন আনা পাইলসের সমস্যা সমাধানের প্রথম শর্ত। মলত্যাগের সময় কোষ্ঠকাঠিন্য এবং স্ট্রেনিং পাইলসের অধিক জটিলতা সৃষ্টি করে, তাই খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আনাও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। ফল, শাকসবজি এবং সকালের নাস্তায় ব্রান-ভিত্তিক সিরিয়াল, উচ্চ ফাইবার যুক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে মলকে সহজ ও নরম করে যা অতিরিক্ত চাপ বা স্ট্রেনিং কমায়। পর্যাপ্ত হাইড্রেশন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার শরীরের সঠিক  ওজন বজায় রাখে ফলে পাইলস প্রতিরোধ ও প্রতিকারে করা সহজ হয়। 

হোমিওপ্যাথিক  চিকিৎসা –

প্রদাহ, ব্যথা এবং চুলকানি ব্যথা ও অস্বস্তি  লক্ষণ অনুসারে হোমিও মেডিসিন নির্ধারণ করা যায়। তবে রোগের স্থায়ী সমাধান পাওয়ার জন্য অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শে নিতে হবে। দীর্ঘদিন অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে তা মারাত্বক আকার ধারণ করে। এতে অপারেশন বা সার্জারীর প্রয়োজন পড়ে। 

লক্ষণ অনুসারে সাধারনত পাইলসের হোমিও মেডিসিন গুলো হল-

হ্যামেলিস (Hamelis)-

মহিলাদের পাইলসের রক্তপাত বন্ধ করতে ওষুধটি খুব উপকারী। হ্যামেলিস যে কোনও শিরাস্থ রক্তপাত নিরাময় করতে পারে। এছাড়াও রোগীর পাইলসের ব্যথায় ক্ষেত্রেও এটি সেবনে ভালো কাজ করে।

রতনহিয়া (Ratanhiya)-

এটি পাইলসের ব্যথা থেকে মুক্তির জন্য দারুণ ফল দেয়। পাইলস রোগে আক্রান্ত রোগী মল ছাড়ার সময় এবং এমনকি তার কয়েক ঘণ্টা পরও প্রচণ্ড ব্যথা এবং জ্বালাপোড়া অনুভব করেন। সেক্ষেত্রে রতনহিয়া খুব কার্যকরী। 

গ্রাফাইটস (Graphites)-

এটি কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পাইলস উভয়ই ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। যাদের শরীর স্থূল, ত্বক ফাটা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে গ্রাফাইটস অতি দ্রুত কাজ করে।

নাক্স ভমিকা (Nux Vomica)-

যারা দীর্ঘক্ষন বসে কাজ করে, অগোছালো, অলস জীবনযাপন করে, ভাজাপোড়া, মশলাদার খাবার, ফাস্টফুড গ্রহণ এবং অতিমাত্রায়  ধূমপায়ী এবং অ্যালকোহল পান করে তাদের পাইলসের সমস্যায় Nux Vomica একটি উপযুক্ত মেডিসিন। এটি রোগীর পাইলসের সমস্যার পাশাপাশি গ্যাস্টিকের ও হজমের জন্য ভালো কাজ করে। 

তবে একজন সিনিয়র হোমিও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নিলে সবচেয়ে উত্তম ফলাফল পাওয়া যাবে। 

মহিলাদের পাইলস দূর করার প্রাকৃতিক উপায় – 

দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে প্রাকৃতিক ভাবে মহিলাদের পাইলসের বেশির ভাগ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। যেমন-

  • আপনার খাদ্যতালিকায় উচ্চ ফাইভের যুক্ত খাবার, প্রচুর ফলমূল এবং তরল বা পানীয় রাখুন।
  • অতিরিক্ত ভাজা পোড়া, বেশি মসলাদার খাবার ও ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন। 
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন। 
  • গর্ভবস্থায় সচেতন থাকুন। 
  • জোলাপ এড়িয়ে চলুন।
  • ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে গরম পানির টবে বসুন।
  • দীর্ঘক্ষণ বসে থাকবেন না এবং ভারী কিছু উত্তোলন থেকে বিরত থাকুন।
  • প্রচুর পরিমানে পানি পান করুন। 
0 comments
9 FacebookTwitterPinterestEmail

Recent Posts

  • ইফতারের পর চা খেলে কি হয়
  • রমজানে পর্যাপ্ত না ঘুমালে কী হয়
  • মাথা ব্যথার কারন ও মুক্তির উপায়
  • এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 
  • এনাল ফিসার কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

Recent Comments

No comments to show.

আমাদের সম্পর্কে

banner

প্রকৃতির মাঝেই লুকিয়ে আছে নিরাময়ের সকল উপাদান। তাই সুস্থতা ও প্রশান্তির আরেক নাম প্রকৃতি। প্রকৃতির সাথে নিজেকে একাত্ম করুন, প্রাকৃতিক নিয়মেই আপনি সুস্থ থাকবেন প্রশান্ত থাকবেন। প্রকৃতির মাঝে ছড়িয়ে থাকা এই অসংখ্য উপাদান আর তার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সৃষ্টির আদি থেকে এখনো পর্যন্ত মানুষ সুস্থতার যে উপায়গুলি মানব কল্যানে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে সেসব তথ্য উপাত্তকে গুছিয়ে নতুন আঙ্গিকে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ

  • 1

    এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 

  • 2

    শীতকালীন বিভিন্ন রোগ এবং প্রাকৃতিক প্রতিকার

  • 3

    প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া উপায়ে বন্ধ্যাত্ব রোগ নিরাময় করুন

  • 4

    শারীরিক সুস্থতার জন্য শাক-সবজি খাওয়ার সঠিক নিয়ম

Back Next

প্রয়োজনীয় লিংক সমুহ

  • চিকিৎসার ইতিহাস ও গবেষণা
  • প্রসূতি এবং শিশু স্বাস্থ্য
  • গোপনীয়তার নীতি
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • Facebook
  • Twitter
  • Whatsapp

@2023 - All Right Reserved by MIL HOMEO


Back To Top
MIL HOMEO
  • মুল পাতা
  • প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য
    • আয়ুর্বেদ চিকিৎসা
    • ঘরোয়া চিকিৎসা
    • ভেষজ উপাদান
    • ভেষজ চিকিৎসা
  • রোগব্যাধি ও প্রতিকার
    • শারীরিক রোগ
      • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ
      • চর্মরোগ
        • আঁচিল বা তিল
      • জ্বর
        • টাইফয়েড জ্বর
        • ডেঙ্গু জ্বর
        • ম্যালেরিয়া
      • পায়ুপথের রোগ
      • কান পাকা রোগ
      • কৃমি রোগ
      • বন্ধ্যাত্ব রোগ
      • নাসা রোগ
      • শীতকালীন রোগব্যাধি
      • সংক্রামক রোগ
      • সাইনোসাইটিস
      • স্নায়ু রোগ
    • মনরোগ
    • শিশু রোগ
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • সুস্থ জীবনধারা
    • ক্ষতিকর অভ্যাস
    • খাদ্যাভ্যাস
    • তামাক ও মাদক বর্জন
    • পানীয় জল এবং হাইড্রেশন
    • ভালো ঘুমের অভ্যাস
    • রূপচর্চা ও চুলের যত্ন
    • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
    • স্বাস্থ্যকর শখ
  • ব্যায়াম ও ফিটনেস
    • ওজন প্রশিক্ষণ
    • ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা
    • ঘরে বসে ফিটনেস
    • বয়স্কদের ব্যায়াম
    • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
    • স্ট্রেচিং এবং মবিলিটি
  • মানসিক স্বাস্থ্য
    • অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা
    • আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে ভালোবাসা
    • ডিপ্রেশন ও প্রতিকার
    • মানসিক চাপ ও সমাধান
    • মেডিটেশন ও মননশীলতা
    • পরিবার ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য
  • খাদ্য ও পুষ্টি
    • আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
    • ওজন কমানোর খাদ্য পরিকল্পনা
    • ওজন বাড়ানোর পুষ্টি পরিকল্পনা
    • খাদ্য তালিকা এবং পরামর্শ
      • রোগের খাবার
    • পুষ্টিগুণ
      • শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
      • ফলের পুষ্টিগুণ
    • ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
    • স্বাস্থ্যকর রেসিপি
  • হোমিও চিকিৎসা