MIL HOMEO
প্রকৃতির সাথে থাকুন, সুস্থ থাকুন
  • মুল পাতা
  • প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য
    • আয়ুর্বেদ চিকিৎসা
    • ঘরোয়া চিকিৎসা
    • ভেষজ উপাদান
    • ভেষজ চিকিৎসা
  • রোগব্যাধি ও প্রতিকার
    • শারীরিক রোগ
      • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ
      • চর্মরোগ
        • আঁচিল বা তিল
      • জ্বর
        • টাইফয়েড জ্বর
        • ডেঙ্গু জ্বর
        • ম্যালেরিয়া
      • পায়ুপথের রোগ
      • কান পাকা রোগ
      • কৃমি রোগ
      • বন্ধ্যাত্ব রোগ
      • নাসা রোগ
      • শীতকালীন রোগব্যাধি
      • সংক্রামক রোগ
      • সাইনোসাইটিস
      • স্নায়ু রোগ
    • মনরোগ
    • শিশু রোগ
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • সুস্থ জীবনধারা
    • ক্ষতিকর অভ্যাস
    • খাদ্যাভ্যাস
    • তামাক ও মাদক বর্জন
    • পানীয় জল এবং হাইড্রেশন
    • ভালো ঘুমের অভ্যাস
    • রূপচর্চা ও চুলের যত্ন
    • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
    • স্বাস্থ্যকর শখ
  • ব্যায়াম ও ফিটনেস
    • ওজন প্রশিক্ষণ
    • ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা
    • ঘরে বসে ফিটনেস
    • বয়স্কদের ব্যায়াম
    • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
    • স্ট্রেচিং এবং মবিলিটি
  • মানসিক স্বাস্থ্য
    • অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা
    • আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে ভালোবাসা
    • ডিপ্রেশন ও প্রতিকার
    • মানসিক চাপ ও সমাধান
    • মেডিটেশন ও মননশীলতা
    • পরিবার ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য
  • খাদ্য ও পুষ্টি
    • আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
    • ওজন কমানোর খাদ্য পরিকল্পনা
    • ওজন বাড়ানোর পুষ্টি পরিকল্পনা
    • খাদ্য তালিকা এবং পরামর্শ
      • রোগের খাবার
    • পুষ্টিগুণ
      • শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
      • ফলের পুষ্টিগুণ
    • ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
    • স্বাস্থ্যকর রেসিপি
  • হোমিও চিকিৎসা

স্নায়ু রোগ

মাথা ব্যথা কেন হয় ও মুক্তির উপায়
স্নায়ু রোগ

মাথা ব্যথার কারন ও মুক্তির উপায়

by Dr. Baby Akter 04/12/2024
written by Dr. Baby Akter

মাথা ব্যথা এক গুরুতর সমস্যা। স্নায়ুরোগের মধ্যেও মাথাব্যথার হার সবচেয়ে বেশি। বর্তমান সময়ে প্রচুর মানুষ এই রোগে আক্রান্ত।  এ রোগের কারণে যে কোনো ব্যক্তির কার্যক্ষমতা ও কার্যকাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। ফলে ভুক্তভোগীরা পেশাগত, সামাজিক, পারিবারিক ও আর্থিক জীবনে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। বিশ্বের মোট ১৮-৬০ বছর বয়সী জনসংখ্যার প্রায় ৪৬ ভাগ প্রতিবছর মাথাব্যথায় একবার না একবার আক্রান্ত হয় এবং প্রতিবছর ২০%  শিশু ও কিশোর মাথাব্যথা রোগে ভুগে থাকে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন ধরনের মাথাব্যথায় বেশি কষ্ট পান বয়স্ক নারীরাই। 

মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হলো-অতিরিক্ত মানসিক চাপ, রোদ বা প্রচন্ড গরম আবহাওয়া, অধিক পরিশ্রম, ক্ষুধার্ত থাকা, অনিয়মিত ও অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন, অতি মাত্রায় চা ও কফি পান, মাদক সেবন, অতিরিক্ত ধূমপান ইত্যাদি। তাই এ ধরণের অভ্যাসের বা আচরণের পরিবর্তন করা ও পর্যাপ্ত ঘুম, মেডিটেশন, সুনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম, ইতিবাচক জীবনচর্চা ইত্যাদির মাধ্যমে মাথাব্যথা অনেকাংশে নিরাময় করা সম্ভব।

মাথা ব্যথা কেন হয়?

মাথা ব্যথা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। তবে ধরণ দেখে খুব বুঝে নেওয়া সম্ভব ঠিক কি কারণে মাথা ব্যথা করছে। মাথা ব্যথার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম দুটি কারণ হচ্ছে-মাইগ্রেন আর টেনশন। তা মধ্যে ৭০% রোগীর মাথা ব্যথার কারণ হলো টেনশন টাইপ হেডেক। এবং ১১% জন্য দায়ী মাইগ্রেন। অনিয়মিত ও অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন, মাদকাসক্তি, ধূমপান, মদ্যপান, রোদ বা অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া, ক্ষুধার্ত থাকা, অতিরিক্ত শারীরিক-মানসিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ ইত্যাদি কারণে মাথা ব্যথা হয়ে থাকে। সুতরাং মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে হলে সর্বপ্রথম এ ধরণের জীবনাচরণ বা অভ্যাসগুলো পরিহার করতে হবে। 

মাথাব্যথার প্রকারভেদ

মাথাব্যথা প্রধানত দুই প্রকার।

১. প্রাইমারি হেডেক (Primary Headache), যেমন- টেনশন টাইপ হেডেক, মাইগ্রেন, ক্লাস্টার হেডেক ইত্যাদি।

২. সেকেন্ডারি হেডেক (Secondary Headache), যেমন- মাথার আঘাতজনিত, গ্লুকোমার স্ট্রোক, মস্তিষ্কের টিউমার সাইনোসাইটিস, মাসটয়ডাইটিস ইত্যাদি।

টেনশন টাইপ হেডেক (Tension-Type Headaches)

প্রায় ৭০ ভাগ বয়স্ক মানুষ টেনশন টাইপ হেডেক ধরনের মাথাব্যথায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। এটি মাইগ্রেনের মতো হয়ে থাকে, এবং কৈশোর কাল থেকে শুরু হয়। নারীদের মধ্যে টেনশন টাইপ হেডেক বেশি দেখা যায়। সাধারণত মাথার মাংসপেশির সংকোচনের ফলে এই মাথাব্যথা হয়ে থাকে ।

টেনশন টাইপ হেডেকের লক্ষণ

  • মাথায় একটা চাপ চাপ ব্যথা অনুভূত হয়।
  • সাধারণত মাথাব্যথার সঙ্গে বমি ভাব বা বমি হয় না।
  • পুরো মাথায় ব্যথা হয়।
  • রোগী ব্যথা নিয়ে সব ধরনের কাজকর্ম করতে পারেন, কাজকর্ম চলাকালীন এ ব্যথা কম অনুভূত হয়। কাজ শেষে বিশ্রামে থাকলে ব্যথা বেড়ে যায়। তবে এই ব্যথা মাইগ্রেনের মতো ততটা তীব্র হয় না।
  • এই মাথাব্যথা সময়কাল কয়েক ঘণ্টাও হতে পারে আবার কয়েকদিন পর্যন্তও স্থায়ী হতে পারে। 
  • পারিবারিক বা পেশাগত বা মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তার ইত্যাদির সঙ্গে এই মাথাব্যথার সম্পর্ক আছে।

মাইগ্রেন (Migraine)

প্রায় ১১ শতাংশ বয়স্ক ব্যক্তিদের এই ধরণের মাথাব্যথা হয়ে থাকে। পুরুষদের থেকেও নারীদের মাইগ্রেনের আক্রান্তের হার বেশি। সাধারণত কিশোর বয়স থেকে এই মাইগ্রেনের ব্যথা দেখা দিতে শুরু করে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা ৪০-৫০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। 

মাইগ্রেনের লক্ষণ

  • মাইগ্রেনের অন্যতম লক্ষণ হল- মাথার যে কোনো এক পাশে ব্যথা হওয়া। অনেক সময় একবার এক পাশে ব্যথা উপশম হয়ে আবার অন্য পাশেও ব্যথা শুরু হতে পারে।
  • ব্যথা অত্যন্ত তীব্র হয় এবং এ সময় কোনো কাজ করা যায় না।
  • ৪ ঘণ্টা থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যথা স্থায়ী হতে পারে।
  • আলো বা শব্দে ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যায়।
  • রক্তনালি (ধমনি/শিরা) সংকোচন/প্রসারণ বা টনটন প্রকৃতির ব্যথা অনুভূত হয়।
  • ব্যথার সঙ্গে বমি ভাব বা বমি হতে পারে।
  • অন্ধকার ঘরে শুয়ে থাকলে ব্যথার তীব্রতা কমে।
  • রোগীর ব্যথা শুরুর আগে চোখের সামনে আঁকাবাঁকা লাইন, আলোর নাচানাচি ইত্যাদি দেখা। 

ক্লাস্টার হেডেক (Cluster Headaches)

অপেক্ষাকৃতভাবে ক্লাস্টার হেডেক কম দেখা যায়, মাত্র 0.১ ভাগ মানুষের এই ধরনের মাথাব্যথা হয়ে থাকে। এই ধরণের মাথা ব্যথা পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এটি পুরুষ : মহিলার আনুমানিক হার= ৬:১। সাধারণত ক্লাস্টার হেডেক ২০ বছর বয়সের পরে দেখা যায়।

ক্লাস্টার হেডেক লক্ষণ

  • ব্যথা অত্যন্ত তীব্র হয়।
  • ক্ষণস্থায়ী, তবে বারবার হয়।
  • চোখের চারপাশে বা পেছনে ব্যথা হয়।
  • দিনে কয়েকবার বা নিয়মিত একই সময়ে ব্যথা হয়ে থাকে। কয়েক সপ্তাহব্যাপী পর্যন্ত ব্যথা থাকতে পারে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর ব্যথা চলে যায় আবার কয়েক মাস বা বছর আবার একইভাবে ব্যথা শুরু হয়। 

সেকেন্ডারি হেডেক (Secondary Headache)

শারীরিক অসুস্থতা বা মস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগের কারণে এ ধরণের মাথাব্যথা হতে পারে। এ ধরণের মাথাব্যথাকে সেকেন্ডারি হেডেক বলা হয়ে থাকে। যেমন- সাইনোসাইটিস, মস্তিষ্কের টিউমার, রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক (এসএএইচ), মস্তিষ্কের আবরণে প্রদাহ (ভাইরাল, ব্যাকটেরিয়ার বা টিউমারফুলার মেনিনজাইটিস), টাইফয়েড, ভাইরাল, মাথায় আঘাতজনিত কারণ ইত্যাদি।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

সাধারণত অধিকাংশ মাথাব্যথার রোগীই ডাক্তারের কাছে যেতে চান না বা চিকিৎসা নেন না। নিজেই ফার্মেসিতে গিয়ে বেদনানাশক বিভিন্ন ঔষধ কিনে সেবন করেন। এক পরিসংখ্যান মতে,  যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এর মত দেশগুলোতেও মাইগ্রেনের রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছেন মাত্র ৫০ শতাংশ। 

দেখা গেছে, মাথা ব্যথার সেকেন্ডারি হেডেকের রোগীদের বিভিন্ন ধরণের শারীরিক সমস্যা যেমন -খিঁচুনি, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, অতিরিক্ত বমি, পা বা মুখ অবশ বা নিসাড় হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে যান। 

বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভুতপূর্ব সাফল্যের ফলে খুব সহজেই মাথাব্যথার কারণ নির্ণয় করা যায়। এমআরআই, সিটি স্ক্যান, পিইটি স্ক্যানের মাধ্যমে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের সুস্পষ্ট ইমেজ পাওয়া যায়। এতে মাথাব্যথার কারণ খুব সহজে উদঘাটন করা সম্ভব। মাথাব্যথার  কারণ বা ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা জন্য আগে রোগ নির্ণয় করা আবশ্যক। 

প্রচলিত বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতিতে মাথা ব্যথা নিরাময়ের চিকিৎসা করা যায়। তবে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। 

মাথা ব্যথার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা 

হোমিওপ্যাথিতে রোগের লক্ষণের সাদৃশ্য ঔষধ প্রয়োগর মাধ্যমে মাথা ব্যথার চিকিৎসা করা হয়। তাই লক্ষণভেদে ঔষধও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। মাথা ব্যথার লক্ষণ অনুসারে যে ঔষধগুলো প্রয়োগ করা যায় সেগুলো হলো-

বেলেডোনা (Belladonna)

মাথা ব্যথা থেকে মুক্তির জন্য এই ঔষধ ভালো কাজ করে। প্রাথমিকভাবে মাথা ব্যথা নিরাময়ের জন্য এটি খুবই কার্যকরী। সূর্যের প্রচণ্ড রোদে যাদের মাথা যন্ত্রণা বেড়ে যায় এবং ঠান্ডা লাগলে বা ভ্যাপসা ঠাণ্ডা গরমে এরকম মাথাব্যথা বেড়ে যায়। এ ধরণের লক্ষণের ক্ষেত্রে বেলেডোনা প্রয়োগ করা যায়। 

নাক্সভোমিকা (Nux-vomica)

গ্যাসট্রিকের সমস্যা, পাইলস ও কোষ্ঠকাঠিন্যে মাথাযন্ত্রণা করলে এই ঔষধ ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া অতিরিক্ত তেলমশলা জাতীয় খাবার গ্রহণ এবং অ্যালকোহলের সেবনের কারণে মাথা ব্যথা হলে নাক্সভোমিকা প্রয়োগে ভালো ফল পাওয়া যায়। 

স্পাইগেলিয়া (Spigelia)

মাথার বামদিকের বিশেষ করে মাইগ্রেনের ব্যথার ক্ষেত্রে স্পাইগেলিয়া প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত রোগীর বাঁ দিকের কিছু কিছু অংশ, কপাল এবং চোখে ব্যথা করে। 

স্যাঙ্গুইন্যারিয়া ক্যানাডেনসিস (Sanguinaria canadensis)

রোগীর মাথা ব্যথা ডানদিক থেকে ব্যথা শুরু হয়ে  ধীরে ধীরে মাথার পিছনে ছড়িয়ে পরে এবং ডানদিকের চোখে এটা স্থিত হয়। সকালবেলা বা দিনের বেলার মাথা ব্যথা নিরাময়েও এই  ঔষধ কাজ করে। মহিলাদের মেনোপজের পর যে মাথা ব্যথা হয়ে থাকে তাতেও স্যাঙ্গুইন্যারিয়া ক্যানাডেনসিস কার্যকরী। 

গ্লোনোনিয়াম (Glononium)

মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক রক্ত জমা হলে যে মাথা ব্যথার সৃষ্টি হয় তাতে গ্লোনোনিয়াম উত্তম কাজ করে। মাথা যন্ত্রনায় রোগী মনে করে মাথা ফেটে যাবে বা মাথাপুড়ে যাচ্ছে। কখনো কখনো রোগী মনে করে মাথা আকারে বেড়ে যাচ্ছে বা চোখের চারপাশে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অত্যাধিক তাপের ফলে মাথা ব্যথা করলেও গ্লোনোনিয়াম খুব কার্যকরী ঔষধ। 

তবে কখোনই নিজ দায়িত্বে ফার্মাসী থেকে ঔষধ কিনে খাওয়া নিরাপদ নয়। মাথা ব্যথার সমস্যার জন্য যদি হোমিও চিকিৎসা নিতে চান , সেক্ষেত্রে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথি  চিকিৎসকের নিকট শরণাপন্ন হবেন।। তিনি আপনার মাথাব্যথার কারণ নির্বাচন করে সঠিক ওষুধ দেবেন।

ওষুধের পাশাপাশি কিছু কিছু অভ্যাসও পরিবর্তন করতে হবে। অনিয়মিত ও অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন, অতি মাত্রায় চা ও কফি পান, মদ্যপান, মাদক সেবন, অতিরিক্ত ধূমপান, অতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম, ক্ষুধার্ত থাকা, রোদ বা অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া, যেকোনো ধরনের মানসিক চাপ ইত্যাদি মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। তাই এধরণের অভ্যাসের বা আচরণের পরিবর্তন ফলে মাথাব্যথা অনেকাংশে কমে আসবে।

একই সাথে  পর্যাপ্ত ঘুম,  মেডিটেশন , সুনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস,  শারীরিক ও মানসিক বিশ্রাম,  ইতিবাচক জীবনচর্চা  ইত্যাদি মাথাব্যথার প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail
স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার কারণ,প্রতিকার এবং চিকিৎসা
স্নায়ু রোগ

স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার কারণ, প্রতিকার এবং চিকিৎসা।

by Dr. Baby Akter 09/08/2023
written by Dr. Baby Akter

স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া কোন মানসিক রোগ নয় । এটি অ্যালঝেইমার ডিজিজ যা ডিমেনশিয়ার একটি সাধারণ রূপ , ব্রেনের ক্ষয়জনিত রোগ । এটি রোগীকে দৈনন্দিন কাজ করতে , বন্ধু-বান্ধব , আত্নীয়-স্বজনকে চিনতে এবং কোনো কথা বুঝতে বাধা দেয়। সাধারণত , প্রবীণদের ক্ষেত্রে এই রোগ বেশি দেখা যায় হঠাৎ করে কোন কথা মনে রাখতে পারছেন না । ফলে তার দৈনন্দিন জীবন অচল এবং অস্বাভাবিক হয়ে পড়।

মানসিক রোগ হলো সেটাকে বলা যেখানে মস্তিষ্কের কাঠামো (ব্রেন স্ট্রাকচার) স্বাভাবিক কিন্তু আচরণ অস্বাভাবিক থাকে। অ্যালঝেইমার ডিজিজ যা ব্রেনের ক্ষয়জনিত কারণে ব্যক্তির বুদ্ধি , স্মৃতি ও ব্যক্তিত্ব ধিরে ধীরে লোপ পায় ।

স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া বা আলঝেইমারস রোগের ইতিহাস

১৯৬০ সালে ডা. এলইস আলঝেইমারস রোগ সর্বপ্রথম এই রোগের গবেষণা করেন । আগস্তির দেতার নামের ব্যক্তির স্মৃতিগত দুর্বলতা ,কথা বলতে কষ্ট হওয়া , সঠিক শব্দটি স্মরণ করতে না পারা , খিটখিটে মেজাজ , রাগ ,অসহিষ্ণুতা, সন্দেহপ্রবণতা ইত্যাদি সমস্যায় ভুগছিলেন। দেতার এর মৃত্যুর পর তিনি দেখলেন যে , তার মস্তিষ্ক ছিল চুপসে যাওয়া ছোট আকারের স্নায়ুতন্ত্র গুলো স্নায়ুতন্তুগুলো এমাইলয়েড প্ল্যাক দ্বারা মারাত্মকভাবে আক্রান্ত আর অবশিষ্ট নিউরনগুলো নিউরোফিব্রিলারি ট্যাঙ্গেলে ভরপুর। 

পরবর্তীকালে ডা. এলইস আলঝেইমার নাম অনুসারে এই রোগের নামকরণ করা হয় আলঝেইমারস রোগ।

উন্নয়নশীল বিশ্বে ক্রমান্বয়ে গড় আয়ু বাড়ার পাশাপাশি এই রোগের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। ৬০ বছর বয়সের পর থেকে  আলঝেইমার হওয়ার আশঙ্কা দ্বিগুণ হতে থাকে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং নারীদের মধ্যে এর প্রকোপ বেশি।

স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার কারণ

চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, বংশ ও জিনগত,পরিবেশগত কারণ এবং জীবনযাপনের ধরন ইত্যাদি। আমাদের  মস্তিষ্কে নন-এনজাইমেটিক গ্লাইকেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অ্যাডভান্সড গ্লাইকেশন অ্যান্ড প্রডাক্ট জমা হওয়া। এগুলো নিউরন এবং সেগুলোর আন্তসংযোগ নষ্ট করে দেয়। ফলে বিশেষ ধরনের প্রোটিন মস্তিষ্কের কোষে জমা হয়ে ক্ষতি সাধন করে। গ্লুকোজ  এর পরিমাণ স্বাভাবিক থাকলে ধীরগতিতে এবং বেশি থাকলে দ্রুতগতিতে এসব পরিবর্তন ঘটতে থাকে। এতে ধীরে ধীরে ব্যক্তি আলঝেইমারস রোগে আক্রান্ত হয় ।

এ ছাড়াও আরো কিছু কারণ রয়েছে যেমন 

  • স্ট্রেস অথবা অ্যাংজাইটির কারণে শরীরের মতো মস্তিষ্কও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এতে ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে স্মৃতিশক্তি।
  • রাতে না ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে সেটি মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। এতে ধীরে ধীরে কমতে থাকে স্মৃতিশক্তি।
  • ভিটামিন বি ১ এবং বি ১২ এর অভাবে এমনটি হতে পারে।
  • মেনোপজের সময় হরমোনের পরিবর্তন হয়। এ সময়েও অনেকে ভুলে যাওয়ার রোগে ভুগতে পারেন।
  • দীর্ঘমেয়াদি ডিপ্রেসন বা হতাশার কারণে লোপ পেতে পারে স্মৃতি।
  • অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে কমতে পারে স্মৃতি ধারণ ক্ষমতা।
  •  মস্তিষ্কে আঘাত লাগলে  স্মৃতিশক্তি কমে যেতে বা স্মৃতি নষ্ট হয়ে যেতে পারে । 

 চিকিৎসা এবং প্রতিকার

 নানা রকম জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি একই সঙ্গে আলঝেইমারস রোগেও ভুগতে পারেন। কিছু ওষুধ রোগীর স্মৃতিশক্তি অল্প কিছুদিন ধরে রাখতে সাহায্য করে বটে, তবে সময়ের সঙ্গে কার্যকারিতা হ্রাস পায়। 

সেক্ষত্রে আমরা জীবনাচরণের ধরণ পরিবর্তনের মাধ্যমে  স্মৃতিশক্তি ধরে  রাখতে পারি।  যেমনঃ  

  • ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করলে দেহের পেশির সাথে সাথে মস্তিষ্কের আকারও বৃদ্ধি পায়। ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কের সিন্যাপসের সংখ্যা বাড়ে। এর ফলে মস্তিষ্কে নতুন নতুন কোষ তৈরি হয়। আর কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়ামের ফলে মস্তিষ্কে বেশি হারে অক্সিজেন এবং গ্লুকোজ সরবরাহ হয়। ফলে স্মৃতিশক্তি প্রখর থাকে। 
  • স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর  জন্য সঠিক খাবার গ্রহণ করুন। মস্তিষ্কের কোষ ফ্যাট অর্থাৎ স্নেহ পদার্থ দিয়ে তৈরি। তাই খাবার থেকে তেল-চর্বি একেবারে বিদায় না করাই ভাল। বাদাম, তেলের বীজ, মাছ ইত্যাদি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে জন্য ভাল। আর খাবার সময় একা একা না খাওয়াই ভাল। সবার সাথে বসে খাবার খেলে তা মস্তিষ্কের জন্য সুফল বয়ে আনে।
  • মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ মস্তিস্কের জন্য খুবই খারাপ তাই মস্তিষ্ককে অবসর দিয়ে, এবং নিজেকে মূলত: সুইচ অফ করে, আপনি আপনার মস্তিস্কের ভিন্ন একটি অংশকে ব্যায়াম করার সুযোগ করে দেয়া প্রয়োজন। এতে দেহের স্ট্রেস হরমোন কমাতে সাহায্য করবে।
  • সুরের মাধ্যমে জেগে ওঠে মস্তিষ্ক। বাড়ে মেধা। সঙ্গীত ডিমেনশিয়ার মত মানসিক অবস্থা ঠেকাতে বেশ কার্যকরী। তাই স্মৃতিশক্তি প্রখর রাখতে সুর এবং সঙ্গীতের মাঝে নিজেকে আবদ্ধ রাখুন।
  • দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার কম ঘুম হলে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। আর ১০ ঘণ্টার বেশি ঘুম হলে মস্তিষ্ক সজাগ হওয়ার সময় পায় না। দিনের শুরুর সাথে তাল মিলিয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠুন। এটি মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী এবং স্মৃতিশক্তিও ভালো রাখে।

স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার রোগের  ঘরোয়া চিকিৎসা

এছাড়াও আমরা দৈনন্দিন জীবনে নিমোক্ত উপায়ে ঘরোয়া চিকিৎসার মাধ্যমে  আলঝেইমার রোগ বা স্মৃতিশক্তি হ্রাসের চিকিৎসা করতে পারি। যেমনঃ  

  • ৭ দানা কাঁচা বাদাম সন্ধ্যাবেলায় কাচের  বাসনে ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে বাদামের লাল খোসা ছাড়িয়ে মিহি করে বেটে নিন. এই বাদাম বাটা ২৫০ গ্রাম দুধে দিয়ে দিন দুধটা দুই/তিন বার ফেঁপে উঠলে নামিয়ে ১ চামচ ঘি ২ চামচ  বা চিনি বা মিছিরি গুড দিয়ে ঠান্ডা করে নিন.খাওয়ার মতো গরম থাকা অবস্থায় সেবন করুন।এভাবে ১৫ থেকে ৪০ দিন নিয়মিত পান করুন। এটি স্মৃতিশক্তি বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকরী প্রাকৃতিক চিকিৎসা।
  • সকালে এই দুধ খাওয়ার পর দু’ঘন্টা অন্য কিছু খাওয়া বা পান বিরত থাকতে হবে ।
  • বাদামকে মিহি করে পিষে নিলে তা হজম করতেও সুবিধা হয় এবং অল্প বাদামেও কাজ হয়.

স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া বা আলঝেইমারস রোগীর জন্য পরামর্শ

অ্যালঝেইমার ডিজিজে  আক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্ক স্মৃতিশক্তি হারালেও অনুধাবনের শক্তি, ইগো, সম্মানবোধ এবং ব্যক্তিত্ব হারান না। তিনি কোনো অবহেলা, অযত্ন বা দুর্ব্যবহার আশা করেন না। নিজের অক্ষমতার জন্য তিনি উৎকণ্ঠিত, উদ্বিগ্ন থাকেন এবং অসহায় বোধ করেন। তাদের সঙ্গে বিনা কারণে দুর্ব্যবহার না করে প্রিয়জন ও আপন জনদের  বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে। ওষুধের পাশাপাশি সেবা ও পরিচর্যা, ভালোবাসা, পারিবারিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক ভাবে তাদেরকে সাহায্যের হাত বাডিয়ে দিতে হবে।

0 comments
0 FacebookTwitterPinterestEmail

Recent Posts

  • ইফতারের পর চা খেলে কি হয়
  • রমজানে পর্যাপ্ত না ঘুমালে কী হয়
  • মাথা ব্যথার কারন ও মুক্তির উপায়
  • এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 
  • এনাল ফিসার কি, কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

Recent Comments

No comments to show.

আমাদের সম্পর্কে

banner

প্রকৃতির মাঝেই লুকিয়ে আছে নিরাময়ের সকল উপাদান। তাই সুস্থতা ও প্রশান্তির আরেক নাম প্রকৃতি। প্রকৃতির সাথে নিজেকে একাত্ম করুন, প্রাকৃতিক নিয়মেই আপনি সুস্থ থাকবেন প্রশান্ত থাকবেন। প্রকৃতির মাঝে ছড়িয়ে থাকা এই অসংখ্য উপাদান আর তার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সৃষ্টির আদি থেকে এখনো পর্যন্ত মানুষ সুস্থতার যে উপায়গুলি মানব কল্যানে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে সেসব তথ্য উপাত্তকে গুছিয়ে নতুন আঙ্গিকে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

জনপ্রিয় পোষ্ট সমুহ

  • 1

    এমপক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও প্রতিকার 

  • 2

    শীতকালীন বিভিন্ন রোগ এবং প্রাকৃতিক প্রতিকার

  • 3

    প্রাকৃতিক বা ঘরোয়া উপায়ে বন্ধ্যাত্ব রোগ নিরাময় করুন

  • 4

    শারীরিক সুস্থতার জন্য শাক-সবজি খাওয়ার সঠিক নিয়ম

Back Next

প্রয়োজনীয় লিংক সমুহ

  • চিকিৎসার ইতিহাস ও গবেষণা
  • প্রসূতি এবং শিশু স্বাস্থ্য
  • গোপনীয়তার নীতি
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • Facebook
  • Twitter
  • Whatsapp

@2023 - All Right Reserved by MIL HOMEO


Back To Top
MIL HOMEO
  • মুল পাতা
  • প্রাকৃতিক স্বাস্থ্য
    • আয়ুর্বেদ চিকিৎসা
    • ঘরোয়া চিকিৎসা
    • ভেষজ উপাদান
    • ভেষজ চিকিৎসা
  • রোগব্যাধি ও প্রতিকার
    • শারীরিক রোগ
      • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ
      • চর্মরোগ
        • আঁচিল বা তিল
      • জ্বর
        • টাইফয়েড জ্বর
        • ডেঙ্গু জ্বর
        • ম্যালেরিয়া
      • পায়ুপথের রোগ
      • কান পাকা রোগ
      • কৃমি রোগ
      • বন্ধ্যাত্ব রোগ
      • নাসা রোগ
      • শীতকালীন রোগব্যাধি
      • সংক্রামক রোগ
      • সাইনোসাইটিস
      • স্নায়ু রোগ
    • মনরোগ
    • শিশু রোগ
  • স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • সুস্থ জীবনধারা
    • ক্ষতিকর অভ্যাস
    • খাদ্যাভ্যাস
    • তামাক ও মাদক বর্জন
    • পানীয় জল এবং হাইড্রেশন
    • ভালো ঘুমের অভ্যাস
    • রূপচর্চা ও চুলের যত্ন
    • স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
    • স্বাস্থ্যকর শখ
  • ব্যায়াম ও ফিটনেস
    • ওজন প্রশিক্ষণ
    • ওয়ার্কআউট পরিকল্পনা
    • ঘরে বসে ফিটনেস
    • বয়স্কদের ব্যায়াম
    • যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন
    • স্ট্রেচিং এবং মবিলিটি
  • মানসিক স্বাস্থ্য
    • অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা
    • আত্মবিশ্বাস ও নিজেকে ভালোবাসা
    • ডিপ্রেশন ও প্রতিকার
    • মানসিক চাপ ও সমাধান
    • মেডিটেশন ও মননশীলতা
    • পরিবার ও সামাজিক জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য
  • খাদ্য ও পুষ্টি
    • আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার
    • ওজন কমানোর খাদ্য পরিকল্পনা
    • ওজন বাড়ানোর পুষ্টি পরিকল্পনা
    • খাদ্য তালিকা এবং পরামর্শ
      • রোগের খাবার
    • পুষ্টিগুণ
      • শাক-সবজির পুষ্টিগুণ
      • ফলের পুষ্টিগুণ
    • ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ
    • স্বাস্থ্যকর রেসিপি
  • হোমিও চিকিৎসা