রমজানে পর্যাপ্ত না ঘুমালে কী হয়

by Dr. Baby Akter

ঘুম জরুরি কেন

ঘুম আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করে। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করে , আমাদের মেটাবলিজম সিস্টেমকে  স্বাভাবিক রাখে। তাছাড়া ঘুম হৃদ্‌রোগের রোগের ঝুঁকি কমায়। স্মৃতিশক্তি গুছিয়ে জড়ো করে রাখে। লং আর শর্ট টার্ম মেমোরি গুছিয়ে রাখে।  

আট ঘণ্টা ঘুম মস্তিষ্কের কার্যক্রমকে সবচেয়ে ভালো রাখে। তাই মন, মস্তিষ্ক এবং শারীরিকভাবে ফিট থাকতে হলে জীবনের মোট সময়ের তিন ভাগের একভাগ ঘুমের  প্রয়োজন। 

শরীর ও মনের সকল ফাংশন ঠিক রাখতে চাইলে একটা কোয়ালিটি লাইফের জন্য একজন মানুষের প্রতিদিন আট ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। 

বয়স ভেদে ঘুমের প্রয়োজনীতা 

মূলত বয়সভেদে ঘুমের পরিমান নির্ভর করে। যদিও বলা হয়ে থাকে দৈনিক আট ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে বয়সের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের পরামর্শপত্র অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের ৮-১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। 

৬-৯ বছর বয়সীদের দৈনিক থেকে ১১ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। তবে অনেক ক্ষেত্রে তাদের ৭-৮ ঘন্টা ঘুম হলেও চলে। 

বয়স ৪০ এর উপরে হলে কেউ কেউ  ছয় ঘণ্টা ঘুমিয়েও দিব্যি চলতে পারেন। তবে এর কম ঘুম হলে সেটা উদ্বেগজনক, ক্ষতিকর।  

রোজা রেখে পর্যাপ্ত না ঘুমালে কী হয়

রমজানে নামাজসহ  অন্যান্য ইবাদতের পরিমান বেড়ে যায় ও খাবার দাবারের রুটিনেও বিরাট পরিবর্তন আসে । সব মিলিয়ে ঘুমের সময়টা কিছুটা কমে যায়। ঘুম কম হলে কার্টিসল নামের একটা হরমোন নিঃসরণ হয়। এটা ত্বকের কোলাজেন ভেঙে ফেলে। 

ফলে ঘুমের অভাবে হার্ট অ্যাটাক, হার্টের অসুখ, অনিয়মিত হার্টবিট, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা হতে পারে।  কম ঘুমের কারণে আমাদের শরীরে অবসাদগ্রস্ততার বেড়ে যায়। 

স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ হারিয়ে ফেলা , স্মৃতি বিভ্রম হওয়া ,  ইনসোমনিয়া, হ্যালুসিনেশন , ভুলে যাওয়া রোগসহ নানা ধরনের জটিলতা হতে পারে। তাই রমজানে ঘুম ঠিক রাখতে আনুষঙ্গিক কাজকর্ম সীমিত রাখুন।

সময় বের করে দিনে অল্প ঘুমিয়ে নিন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম সময় ব্যয় করুন। শরীরে ক্লান্তি ভাব কমে আসবে। এতে ঘুমের জটিলতা কাটিয়ে রমজানে শরীর সতেজ ও সুস্থ থাকবে। 

You may also like

Leave a Comment