ইফতারের পর এক কাপ চায়েই নাকি পরম প্রশান্তি! ইফতারের পর যেন এককাপ না খেলেই নয়। তবে সেক্ষেত্রে একেক জনের চায়ের পছন্দ এক এক রকম। কারো দুধ চা কারো আবার মসলা চা। তবে যে চা-ই পান করেন না কেন ,অবশ্য আপনার স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে হবে।
তাই চায়ের ভালোমন্দ দিক সম্পর্কে জেনে আপনি নিশ্চয়ই খাবেন। যাতে চায়ের তেষ্টা মেটাতে গিয়ে রোজার সময় হিতে বিপরীত না হয়।
চা শরীর চাঙ্গা রাখে
ইফতারের পর শরীর ‘ছেড়ে দেওয়া’র মতো অনুভূতি হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার । সিয়াম সাধনার পর কর্মব্যস্ত দিনে ক্লান্তি আসতেই পারে। এসময় এককাপ চায়ে আয়েশি চুমুকে আপনার মন ও দেহ সতেজ এবং চাঙ্গা হয়ে উঠবে।
চায়ের ক্যাফেইন ক্লান্তি দূর করতে সহায়তা করে। যাদের ইফতারের পরও কাজ রয়ে যায় তাদের জন্য চা পান অবশ্য ইতিবাচক দিক। সেক্ষেত্রে আদা , তেজপাতা, দারুচিনি, লবঙ্গ প্রভৃতি দিয়ে, তাহলে আপনি দারুণ ফুরফুরে অনুভব করবেন।
যারা মসলা চা বানাতে বিরক্তিবোধ করেন তাদের জন্য অর্গানিক চা ভালো।
পরিপাক ও পুষ্টিগত দিক
খাবার খাওয়ার কমপক্ষে ২০ মিনিট পর পানি কিংবা পানিও খাবার খাওয়া উচিত। নাহলে পরিপাকে সমস্যা সৃষ্টি করে। তবে চায়ের ক্ষেত্রে সময় আরেকটু বাড়িয়ে নেওয়া উচিত।
কারণ, চায়ে থাকা ট্যানিন খাবার থেকে আয়রন শোষণ করতে বাধা দেয়। ইফতারের সময় ভাজাপোড়া বেশি খাওয়া হয় তাতে অ্যাসিডিটি বেড়ে যায়। তারপর দুধ চা খাওয়ার ফলে অ্যাসিডিটি বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যার তৈরি হতে পারে।
রমজানে চা পানে কিছু সতর্কতা
ইফতারের পর ঘন ঘন চা খেলে , প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। সে কারনে রমজান মাসে অনেকে পানিশূন্যতায় ভোগেন। তাই রোজা রেখে ইফতারের পর চা-কফি গ্রহণে কিছু সতর্কতা মেনে চলতে হবে।
চা ও ঘুম
রোজা রাখার পর রাতের ঘুম শরীরের জন্য খুব প্রয়োজনীয়। চায়ে থাকা ক্যাফেইন স্নায়ু উদ্দীপক। তাই চা খেলে আপনার ঘুমাতে সমস্যা হতেই পারে। রমজান মাসে তো আর ইফতারের পর ছাড়া চা খাওয়ার উপায় নেই। তবে সেটি যেন ইফতারের অনেকক্ষণ পরে না হয় বা খুব কড়া লিকারের না হয় এবং বেশ কয়েকবার ঘনঘন না হয়।
এই টুকু সাধারণ বিষয়ে নজর দিলে ইফতারের পর চা পান করা স্বাস্থ্যের জন্য তেমন কোন ক্ষতি নেই।