বুকের দুধ বা বোতলের দুধ পান করা শিশুদের অনেক সময় দুধ হজম হয় না, খাওয়া মাত্র বমি করে দেয়। তা স্বাস্থের জন্য মারাত্নক ঝুঁকিপূর্ণ। এতে তাদের পুষ্টির অভাব হয়ে স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যেতে পারে। কিছু ঘরোয়া চিকিৎসার মাধ্যমে সহজে শিশুর দুধ বদহজম এর এই সমস্যার প্রতিকার করা যায়।
যদি দুধ বদ হজমের পাশাপাশি অন্যান্য উপসর্গও লক্ষ্য করা যায় এবং ঘরোয়া প্রতিকার কোন কাজ না করে, তাহলে অবিলম্বে কোন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহন করুন।
শিশুর দুধ বদহজম সমস্যা প্রতিকারের ঘরোয়া পদ্ধতিসমুহ
- ২০০ গ্রাম দুধ গরম হওয়ার পর তাতে ২-৩ দিন বা ১ গ্রাম পরিমান পিপল বা পিপলু ফুটতে দিন। দুধ ফুটে উঠলে দানা গুলো তুলে ফেলে দিন। এই পিপলু ফুটন্ত দুধে দিলে দুধের দোষ নষ্ট করে দেয় এবং দুধ সুপ্রাচ্য হয়ে যায়। এতে দুধ হজম হওয়ার ফলে বাচ্চারা আর বমি করে না।
- বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর আগে মা নিজে এক গ্লাস পানি পান করে নেন তাহলে বাচ্চাদের দুধ সহজে হজম হয় ফলে মুহুর্তে পায়খানা বা বমি হয় না।
- মায়েদের কান্নাকাটি বা ক্রোধের সময় বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত নয়। এতে বাচ্চার দুধ হজমে সমস্যা হয়।
- ছোট পিপলু দুধে ফুটিয়ে ছেঁকে নিয়ে বাচ্চাদের খাওয়ালে বাচ্চাদের লিভার ও প্লীহা ভালো থাকে।
- প্রতিদিন কয়েক চামচ জিরা পানিতে ফুটিয়ে ছেঁকে নিয়ে শিশুকে খাওয়ালে অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বদ হজম থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। জিরার হজমে সাহায্য করে এবং অ্যাসিডিটি এবং গ্যাস হওয়ার সম্ভাবনাও হ্রাস করে।
- শিশুকে দুধ খাওয়ানোর আগে এক চামচ নারকেল তেল গরম পানির মিশিয়ে দিনে তিন বার খাওয়ান। এতে আপনার শিশুর দুধ বদ হজমের সমস্যা দূর হবে। নারকেল তেলের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
- এক কাপ দুধে আধ চামচ মৌরি মিশিয়ে ফোটালে দুধ সহজ প্রাচ্য ও হালকা হয়ে যায়।
- দুধে একটা এলাচ খোসা ও দানা আলাদা করে দিয়ে ফুটিয়ে নিলে দুধের দোষ নষ্ট হয়ে যায়।
- প্রতিদিন দুধের বদহজম হলে রোজ সকালে বিশুদ্ধ পানিতে পরিমান মত লবন আর লেবুর রস মিশিয়ে পান করালে দুধ বদ হজমের সমস্যা তাড়াতাড়ি দূর হয়ে যাবে।